banner

শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: March 2026

 

চসিক পদকপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের সুরের জাদুকর বুলবুল আখতার

​কর্ণফুলীর ঢেউ আর পাহাড়ের সবুজে ঘেরা চট্টগ্রামের বাতাসে কান পাতলেই যেন এক সুমধুর কণ্ঠের মায়াজাল শোনা যায়। দীর্ঘ ৫৬টি বছর ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর মাটির ঘ্রাণ যিনি পরম মমতায় নিজের কণ্ঠে তুলে এনেছেন, তিনি আমাদের সকলের প্রিয় শিল্পী বুলবুল আখতার।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের ‘সম্রাজ্ঞী’ খ্যাত এই জীবন্ত কিংবদন্তি কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি যেন এই অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির এক চলমান আর্কাইভ।
সুরের প্রতি তাঁর এই আজন্ম নিবেদনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি ভূষিত হয়েছেন ‘চসিক স্বাধীনতা সম্মাননা পদক-২০২৬’-এ, যা তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত করেছে এক নতুন পালক।

​কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই সুরকন্যার রক্তেই যেন মিশে ছিল সাগরের গর্জন আর সুরের মূর্ছনা।
শৈশব থেকেই চট্টগ্রামের নিজস্ব ভাষার গানগুলোকে তিনি কণ্ঠে ধারণ করেছেন পরম আদরে।
সেই যে শুরু, এরপর গত সাড়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মাইজভাণ্ডারী, মরমী এবং আঞ্চালিক গানের সুরে সুরে তিনি মাতিয়ে রেখেছেন দেশ-বিদেশের লাখো শ্রোতাকে।
বয়সের গণ্ডি ষাট পেরোলেও, স্টেজে উঠলে তাঁর কণ্ঠের সেই আদি অকৃত্রিম মাধুর্য আর গানের প্রতি উন্মাদনা আজো এতটুকু ম্লান হতে দেখা যায় না।

​১৯৭৮ সালে খ্যাতিমান রশিদ কাওয়ালের সঙ্গে জীবনের গাঁটছড়া বাঁধলেও, বুলবুল আখতারের সংগীত সাধনায় কখনো ছেদ পড়েনি। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া “অ হালা চাঁন গলার মালা”, “যাতন যারে ভালা লাগে”, “ফুলের হরা” কিংবা “বাঁকখালীর মাঝি ও ভাই সোনাদিয়া বাসা”-র মতো কালজয়ী গানগুলো শুনলে আজও শ্রোতারা ফিরে যান সোনালি অতীতে। আশির দশকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ‘আহমদ কবির আজাদ–বুলবুল আখতার’ জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আক্ষরিক অর্থেই আকাশচুম্বী, যা তখনকার বিখ্যাত ‘শ্যাম–শেফালী’ জুটির সঙ্গেই কেবল তুলনীয়।
দীর্ঘ এই অবিশ্রান্ত ক্যারিয়ারে তাঁর রেকর্ডকৃত অডিও ক্যাসেটের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি, যা যেকোনো লোকশিল্পীর জন্যই এক অসামান্য মাইলফলক।

​এত খ্যাতি আর অর্জনের পরও সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা একেবারেই নিখাদ।
সম্প্রতি চসিক আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের সময় তাঁর সহজ-সরল স্বীকারোক্তিই বলে দেয় শেকড়ের প্রতি তাঁর তীব্র টান “পুরস্কারের আশায় নয়, চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসাই আমার গান গাওয়ার মূল অনুপ্রেরণা।”

ডিজিটাল এই যুগেও বুলবুল আখতারের কণ্ঠে যখন আঞ্চলিক গানের সুর বেজে ওঠে, তখন চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যেন প্রাণ ফিরে পায়। আধুনিকতার ডামাডোলে চট্টগ্রামের নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে সযত্নে আগলে রাখা এই সুরকন্যা আমাদের লোকজ ভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন।

 

বাংলাদেশের ঐতিহ্যও সংস্কৃতি

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই সোনার বাংলা সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলায় শ্যামলিমা, এর নান্দনিক রূপ বিশ্বের অনেক বড় বড় ঐতিহাসিক এবং মনীষীদের দৃষ্টি কেড়েছিল!
ইবনে বতুতা থেকে শুরু করে হেন কোন পর্যটক নেই যে – এই বাংলার রূপবৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়নি !

খোলাফায়ে রাশেদার যুগে অনেক মুসলিম ধর্ম প্রচারক ইসলাম প্রচার করতে এসে এই দেশেই বসতি স্থাপন করে এদেশেই বসবাস করে গেছেন আমৃত্যু !
মোঘল আমলে বাদশা আকবর এই বাংলার সন তারিখের প্রবর্তন করেন,[ আরবি মাসের তারিখের সাথে মিল রেখে!
যাই হোক – আমাদের কৃষক সমাজের কাছে এই “বাংলা সন” খুবই সমাদৃত হয় !
তারা বাংলা মাসের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতেন তাদের ফসলাদি রোপণ বপন এবং ঘরে তোলার ব্যাপারে!
আমাদের শৈশবে অর্থাৎ পঞ্চাশ-ষাটের দশকে আমরা গ্রাম বাংলায় বৈশাখের তান্ডবের শুরুতেই বছরের শুরু অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ এবং চৈত্রের শেষ দিনকে বলা হয় “চৈত্র সংক্রান্তি ” ; দিনটি ছিল – কৃষকদের , ব্যবসায়ীদের হালখাতার নবায়ন করার দিন ! চৈত্র সংক্রান্তির রাত থেকেই দেখা যেত তার তোড়জোড় !
সে রাতেই ব্যবসায়ীরা দোকানপাটে তাদের লাল রঙের মলাটের একটা লম্বা হালখাতা( হিসাবের খাতা) তারা নতুন করে আবার সংযোজন করতেন সারা বছরের জন্য! পুরনো হালখাতার হিসাবের পাট চুকিয়ে অর্থাৎ বন্ধ করে নতুন হালখাতায় তারা বছরের শুরুতে হিসাব রাখা শুরু করতেন পহেলা বৈশাখ থেকেই ! সেই সময় দেখেছি অনেক দোকানে একটু বাতাসা খাওয়ায়ে মিষ্টিমুখ করতেন, আর কেউ আবার একটু মিষ্টি পান সুপারি খাওয়ায়ে তাদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতেন, পারস্পরিক হাসি ঠাট্টার ভিতর দিয়ে!
গ্রামে খালা, মামী, দাদি চাচিদের দেখেছি- তারা বিভিন্ন রকমের শাক সংগ্রহ করতেন ক্ষেত থেকে , বাড়ির আঙ্গিনার আশ পাশ থেকে ! চৈত্র সংক্রান্তিতে । তারা এই শাক সংগ্রহ করে নানান উপাদান দিয়ে অনেক মুখরোচক করে রান্না করতেন এবং সেটা ‘বউ-ক্ষুদা’ বা নতুন বোরো ধানের মিষ্টি চালের ভাত দিয়ে খুব মজা করে খেতেন। কেউ আবার কিছু পিঠা তৈরি করে খাওয়াতেন, খেতেন!
বৎসরের শুরুর যে একটা সুন্দর আমেজ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ।
কারণ – সব কৃষক পরিবারগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিম্ন মধ্যবিত্ত অস্বচ্ছল পরিবারই ছিল তারা ! কেউ এমন ছিল না যে , চাইলেই ইলিশ মাছ কিনতে পারতেন । পান্তা ইলিশের কোন প্রচলনই সে সময় ছিল না !
খুব বেশি যে স্বচ্ছল পরিবারের ছিল না তারা। ” নুন আনতে পান্তা ফুরায় ” মতো যাদের অবস্থা – তারা সখ করেও পান্তা ইলিশ খেতে পারতেন না ! এটা বিশ শতকের বানানো সংস্কৃতি ।

মোটামুটি সাংস্কৃতিক রূপ মানুষের ছিল, সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি ।
সেই সময় গ্রামে বটতলায় বা হাটের জায়গায় মেলা হতো এটা – অনেক পুরনো ঐতিহ্য!
আমরা ও ছোট্ট বেলায় – আব্বা , মামা ভাইদের হাত ধরে মেলায় গিয়েছি ।
শহর থেকে গ্রামে মামার বাড়ি বেড়াতে যেতাম মেলা দেখার জন্য।
” মামার বাড়ির আবদার ” প্রবাদ বাক্যটি
আমাদের জন্য ছিল আক্ষরিক অর্থে এবং বাস্তবতায় সত্য !
মামা তো আমাদের আবদার রক্ষার্থে সকাল থেকেই আয়োজনের লেগে থাকতেন । সেটা দেখে আম্মা আবার একটু আপত্তি করতেন যে – “এরা শহর থেকে আসছে, বুঝবে না কিছু , কখন কোথায় হারিয়ে যাবে , ভাইজান তুমি সামলাতে পারবে না !”
মামা জোড়ালোভাবে আম্মার কথা নাকচ করে দিয়ে বলতেন – ” তুই চিন্তা করিছ না, আমি লোকজন জোগাড় করছি না ! ওদেরকে সবাই দেইখ্যা রাখব ! “
আল্লাহ্ ভরসা!
হ্যাঁ , মামা – বড় একটা বস্তা , দু তিনটা মুড়ির টিন , একজন মজুরের মাথায় দুটা বাঁশের তৈরি (পাতি) ঝাঁকা ইত্যাদি সরঞ্জাম নিয়ে ছাতা নিয়ে ভাগ্নে ,ভাগনীদের হাতে ধরে গ্রামের আইল ধরে হাঁটা শুরু করতেন ।
আমরাও অনভ্যস্ত পায়ে আইল ধরে হাঁটতে গিয়ে কতবার যে পাশের ক্ষেতে পড়ে যেতাম ! আমাদের পড়ে যাওয়া দেখে গ্রামের ভাই বোনেরা তো হেসেই কুটি কুটি হতো !

যাহোক- মেলার কিছুটা দূর থেকেই শুনতে পেতাম মেলার হৈ চৈ আর শোরগোলের গমগম আওয়াজ-
[ ] অনেক দূর থেকেই শোনা যেত ক্যাঁচ ক্যাঁচ, ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ আওয়াজ ! অর্থাৎ সেটা ছিল “চরক গাছ ” এর আওয়াজ! “চরক গাছ “গ্রাম দেশের ভাষা এটা! অর্থাৎ চরকি – গ্রাম্য “চরকি-দোলা” !
[ ] তখন তো কোন মোটর বা মেশিন ছিল না! তাই হাত দিয়ে সেটাকে চালিয়ে দেয়া হতো! অর্থাৎ টেনে টেনে একটার পর একটা ঘুরাতে হতো।
[ ] এরপর শোনা যেত ভেপু বা বাঁশের বাঁশির আওয়াজ ! মেলায় আসতো প্রচুর বাঁশের কারুকার্য খচিত জিনিসপত্র!
[ ] সবাই বাঁশি কিনে বাঁশিতে ফু দিয়ে বাজাতে শুরু করতো!
মেলার কোন এক কোণে দেখা যেত যে গানের আসর বসেছে! ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, একতারা দোতারা এই সমস্ত বাদ্যযন্ত্র দিয়ে তারা জারি ,সারি গান গাইতো!
হ্যাঁ মেলায় বিক্রি হতো নানান ধরনের খাবারের জিনিস – মুড়ি মুড়কী , মুড়ালি , কদমা, চিনির তৈরি হাতি ঘোড়া, বাঘ ভাল্লুক ,নানান ধরনের ছোট্ট ছোট্ট জিনিস তৈরি করত চিনি দিয়ে! সেগুলো খেতে হতো বিন্নি ধানের খই দিয়ে ! বিন্নি ধানের খই ওখানে কিনতে পাওয়া যায় এখান থেকেই কিনে নিতাম আমরা শহরের জন্য।
এজন্যই মামা বস্তা নিতেন সাথে। মুড়ির টিন ভর্তি করে – বিন্নী ধানের খই , মুড়কি, মুড়ালী, বাতাসা ইত্যাদি কিনে টিন ভর্তি করে নিতেন ।
এরপর আমাদের সখ ছিল মাটির পুতুলের । বিভিন্ন রকমের রঙিন নানান ধরনের খেলনা , বাঁশি ! তারপরে কাগজের তৈরি পাখা, তালপাতার নানা রংয়ের পাখা ইত্যাদি নানা ধরনের জিনিস!
‘মামা বাড়ির আবদার’ কাকে বলে! মামা অতি উৎসাহের সাথে সবই কিনে দিতে থাকতেন ! বড় হয়ে বুঝেছিলাম সেটাই হলো ” ” মামার বাড়ির আবদার !”
যাহোক – সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে হবে, কারণ তখন তো আর গ্রামের লাইট ছিল না বা কোন রকমের লাইটের ব্যবস্থাও ছিল না যার জন্য অন্ধকার নামার আগেই আমরা বাড়ি ফিরে আসতাম হেঁটে ! কারণ তেমন কোন বাহন ছিল না গ্রামে।

সারা বাংলাদেশ জুড়েই গ্রামে এই ধরনের মেলা হতো ! কোন জায়গায় দুদিন কোন জায়গায় ৩ দিন কোন জায়গায় সপ্তাহব্যাপী চলতো এই মেলা ! এগুলো আমরা আরো অন্যান্য জায়গায় ও দেখেছি । যেখানে আমরা থাকতাম মফস্বল শহরে, তার আশে পাশে গ্রামে হতো এই বৈশাখী মেলা মেলা! ( (ভৈরববাজারের কমলাপুর গ্রামে এই মেলায় গিয়েছি) !
ঢাকা শহরে ও এই বৈশাখী মেলার কথা শুনেছি- চকবাজার, নবাবগঞ্জ, লালবাগ হোসনী দালান ইত্যাদি জায়গাতে!

রামপুরায় তখনো টি ভি সেন্টার শুরু হয়নি, তার সামনের বড় রাস্তাটি তখন মাটির রাস্তা ছিল । সে সময়টাতে রামপুরা ব্রিজ যেখানে আছে, সেটা ছিল ‘বালু নদী’র উপরে ! নদীটা একটু বড় ছিল , বনশ্রী নগরী তৈরি করতে গিয়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নদীটাকে ছোট করে ফেলা হয়! এখন যা আছে তার চাইতে আরো বেশ কিছুটা বড় ছিল নদীটি! সেই সময় নদীর পাড়ে ব্রিজের আশেপাশেই এই বৈশাখী মেলা হতো ! “রমনা বাগান ” বা
পার্কেও এই মেলা বসতো !
এই ছিল “পহেলা বৈশাখে”র “বৈশাখী মেলার” ইতিকথা। এছাড়া অনেকেই হয়তো আরো অনেক রকমের জানেন সেটাও যদি পারেন শেয়ার করবেন!
তবে –
আমাদের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিতে
“মঙ্গল শোভাযাত্রা ” বলে আমরা আমাদের জন্ম থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত কিছুই দেখিনি। এগুলো কোন কুচক্রী মহলের বানানো সংস্কৃতি!
আসল কথা – তখন কোন শোভাযাত্রা তো দূরের কথা, শোভাযাত্রা বলে কোন মিছিল বা কোন পদযাত্রাই ছিল না!

*যেটা ছিল ,সেটা হলো – “হালখাতা “।

এই ব্যবসায়ীরা তাদের “হালখাতা” নিয়েই ব্যস্ত থাকতো ! সেই লাল কাপড়ে মলাটে মোড়ানো – সেই হালখাতা এখনো আছে ! এখনো তারা এটাকে ব্যবহার করছেন , বাঙালিদের
এটা একটা ঐতিহ্যগত দিক !

কিন্তু এছাড়া – এই পান্তা- ইলিশ খাওয়া, লাল রঙের শাড়ি পরা বা লাল টিপ পরার রীতিনীতি বলত তো কিছুই ছিল না বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে!

আগেই বলেছি – বাঙালি মুসলমানদের বিশেষ করে কৃষক সমাজে – আসলেই তারা খুব একটা স্বচ্ছল পরিবার ছিল না! যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি নিয়ে খুব মাতামাতি করবে বা কিছুটা অতিরিক্ত খরচের যে বোঝা সে বোঝা বহন করবে !

আমরা এখন থেকে সতর্কতার সাথে – ঐ সব ধার করা সংস্কৃতি বাদ দিয়ে চলবো। চৌর্য্যবৃত্তির কায়দায় অন্য দেশের , অন্য ধর্মের কোন সংস্কৃতিকে আর ধারণ করব না! আসুন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের সংস্কৃতির লালন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই।
আসুন – আমরাও আমাদের প্রিয় জন্মভূমি , প্রিয় মাতৃভূমির ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করি , লালন করি। বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দেই আমাদের ঐতিহ্যকে এবং ইতিহাসকে , জানানোর জন্য।

 

সন্তানকে গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানোর সঠিক বয়স

শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা এখন একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু অনেক অভিভাবক এখনও দ্বিধায় থাকেন—শিশুকে কি খুব ছোট বয়সেই শরীর সম্পর্কে শেখানো উচিত? লজ্জা, অস্বস্তি কিংবা ‘এখনো সময় হয়নি’—এই ভাবনা থেকে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান। অথচ বাস্তবতা বলছে, এই শিক্ষা যত আগে শুরু করা যায়, শিশুর জন্য ততই নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর বয়স যখন ২ থেকে ৩ বছর, তখন থেকেই খুব সহজ ভাষায় তার শরীর সম্পর্কে ধারণা দেওয়া উচিত। এই বয়সেই শিশুরা নিজের শরীর চিনতে শেখে এবং কোনটি ভালো লাগে, কোনটি অস্বস্তিকর—সে অনুভূতিগুলো বুঝতে শুরু করে। তাই এটি হলো নিরাপত্তাবোধ গড়ে তোলার প্রাথমিক সময়।

তবে শেখানোর পদ্ধতি অবশ্যই বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে হবে। ২–৩ বছর বয়সে শিশুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঠিক নাম শেখানো জরুরি। একই সঙ্গে গোপনাঙ্গ সম্পর্কে সহজভাবে বোঝাতে হবে—যে অংশগুলো অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।

৪–৫ বছর বয়সে শিশুকে ভালো ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বোঝানো উচিত। তাকে জানাতে হবে—যে স্পর্শে সে স্বস্তি বোধ করে, সেটি ভালো; আর যেটি তাকে অস্বস্তি বা ভয় দেয়, সেটি খারাপ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুকে ‘না’ বলার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।

৬ বছর বা তার বেশি বয়সে শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো যেতে পারে। যেমন—কেউ যদি কোনো বিষয় গোপন রাখতে বলে, সেটি মানতে হবে না। বরং যেকোনো অস্বাভাবিক ঘটনা বিশ্বস্ত বড়দের জানানো জরুরি। এতে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং সে নিজেকে রক্ষা করতে শেখে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শিক্ষা একদিনে শেষ করার মতো নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে গল্প, উদাহরণ এবং খোলামেলা কথোপকথনের মাধ্যমে শিশুকে সচেতন করে তুলতে হয়। ভয় নয়, বরং নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করাই এখানে মূল লক্ষ্য—যাতে শিশু বুঝতে পারে, তার শরীর তার নিজের এবং সে সবসময় সুরক্ষিত থাকার অধিকার রাখে।

 

বাংলাদেশে কৃষিতে নারীর উত্থান ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের কৃষি খাত বহুদিন ধরেই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতের ভেতরে একটি নীরব পরিবর্তন ঘটছে—নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। একসময় কৃষিকে পুরুষনির্ভর পেশা হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবতা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করা থেকে শুরু করে উৎপাদন-পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরণ—সব ক্ষেত্রেই নারীরা দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছেন।

বর্তমান পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কৃষিতে নারীর উপস্থিতি এখন আর প্রান্তিক নয়, বরং কেন্দ্রীয়। কর্মক্ষম নারীদের একটি বড় অংশ সরাসরি কৃষিকাজে যুক্ত, যা পুরুষের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, কৃষি খাতের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা এখন অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে ফসল সংগ্রহ, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর। কাজের সন্ধানে বা উন্নত জীবনের আশায় অনেক পুরুষ শহরে বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামের কৃষিকাজ পরিচালনার দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ওপর এসে পড়ছে। তারা শুধু শ্রমিক হিসেবে নয়, বরং সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবেও ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। গবাদিপশু পালন, সবজি উৎপাদন এবং স্থানীয় বীজ সংরক্ষণে নারীদের নেতৃত্ব এখন সুস্পষ্ট।

তবে এই অগ্রগতির পেছনে বাস্তবতা পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো জমির মালিকানা। অধিকাংশ নারী কৃষিকাজে যুক্ত থাকলেও তাদের নামে জমির মালিকানা খুবই সীমিত। এর ফলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক’ হিসেবে স্বীকৃতি পান না এবং ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকেন। বাস্তবতা হচ্ছে—যে কাজ তারা করছেন, সেই কাজের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।

অর্থায়নের ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে। জমি বা সম্পত্তি না থাকায় তারা জামানত দিতে পারেন না, ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন ব্যবস্থায়। আধুনিক প্রযুক্তি বা উন্নত বীজ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় তাদের উৎপাদনশীলতা সীমিত থেকে যায়। ফলে তারা কঠোর পরিশ্রম করেও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারেন না—এটা একটা বাস্তব এবং অস্বস্তিকর সত্য।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও লিঙ্গবৈষম্য স্পষ্ট। কৃষি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারীরা তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ পান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রযুক্তি নারীদের কাজ সহজ করছে, বিশেষ করে পশুখাদ্য প্রস্তুত, শস্য সংরক্ষণ এবং শুকানোর ক্ষেত্রে। এই ধরনের প্রযুক্তি সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বাড়তে পারে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। বর্তমানে অনেক নারী কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমেও যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু এখানে একটা বড় সমস্যা হলো—এই শিক্ষিত জনশক্তিকে মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অর্থাৎ, সম্ভাবনা আছে, কিন্তু ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো—সমাধান কী?
প্রথমত, জমির মালিকানায় নারীর অধিকার নিশ্চিত না করলে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসবে না। এটি শুধু সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয় নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।
দ্বিতীয়ত, নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই উৎপাদন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
তৃতীয়ত, কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নারীদের নাগালের মধ্যে আনতে হবে—শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে।

সবশেষে, একটা বিষয় পরিষ্কার —নারীর এই অংশগ্রহণকে “সহায়তা” হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলাতে হবে। তারা এখন কৃষির প্রধান চালিকাশক্তির একটি অংশ। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
যদি নীতি, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন—এই তিনটি জায়গায় সঠিক সমন্বয় করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি খাত শুধু টিকে থাকবে না, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
তাই কৃষিতে নারীর উত্থান কোনো সাময়িক প্রবণতা নয়—এটি একটি স্থায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা দরকার। এটাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ক্ষতি বাংলাদেশেরই

 

পহেলা বৈশাখ: সংস্কৃতি নাকি নৈতিক অবক্ষয়ের উৎসব?

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, যা প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উদযাপিত হয়।ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে।

পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয় এবং একে ঘিরে ব্যাপক উৎসব, শোভাযাত্রা, মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। “বাঙালির প্রাণের উৎসব” হিসেবে এর পরিচিতি থাকলেও, এই উদযাপনের প্রকৃতি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এর সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ খুব কমই দেখা যায়।

ইতিহাস ও উৎপত্তি
বাংলা সনের সূচনা ঘটে মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর-এর শাসনামলে। ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
এই বাংলা সন মূলত হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি ও সৌর বছরের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ প্রশাসনিক—কৃষকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব আদায় সহজ করা।

পরবর্তীকালে, বিশেষ করে ১৯৬০-এর দশক থেকে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থানের সময় পহেলা বৈশাখ নতুন সাংস্কৃতিক তাৎপর্য পায়। ১৯৬৭ সালে ছায়ানট প্রথমবারের মতো রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে, যা আজকের আধুনিক উদযাপনের অন্যতম ভিত্তি।

এছাড়া, ১৯৮৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট “মঙ্গল শোভাযাত্রা” শুরু করে, যা পরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এটিকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অর্থাৎ, আজকের যে জাঁকজমকপূর্ণ পহেলা বৈশাখ, তার বড় অংশই গত কয়েক দশকের নির্মাণ,যা প্রাচীন ঐতিহ্যের সরাসরি ধারাবাহিকতা নয়।

আধুনিক উদযাপন: সামাজিক বাস্তবতা

বর্তমানে পহেলা বৈশাখ শহরকেন্দ্রিক বৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে। শোভাযাত্রা, সংগীতানুষ্ঠান, মেলা, ফ্যাশননির্ভর আয়োজন এবং গণসমাগম এই দিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তবে এখানে বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে এই উৎসবের নামে এমন পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে শালীনতা, ব্যক্তিগত সীমা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিড়, অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা এবং প্রদর্শনমূলক আচরণ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রামীণ ও পারিবারিক পর্যায়ে এখনও অনেকেই সংযতভাবে দিনটি পালন করেন—যেখানে আত্মীয়তা, ঐতিহ্য এবং সরল আনন্দই প্রধান। এই দ্বৈত বাস্তবতা না বুঝলে পুরো বিশ্লেষণই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

সংস্কৃতি বনাম নৈতিকতা এবং ইসলাম

সংস্কৃতি একটি সমাজের জীবনধারা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। তবে সংস্কৃতি কখনোই নৈতিকতার ঊর্ধ্বে নয়। সমাজবিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনো সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তার ওপর।

যদি কোনো সামাজিক চর্চা মানুষের শালীনতা, পারিবারিক বন্ধন বা নৈতিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা সংস্কৃতির নামে বৈধতা পেলেও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
সুতরাং, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ক্ষেত্রেও কোন বিষয়গুলো ঐতিহ্যের অংশ এবং কোনগুলো নতুন সংযোজন—এই পার্থক্য নির্ণয় করা জরুরি।

অপরদিকে ইসলামে উৎসব ও আনন্দের ধারণা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়নি; বরং তা নির্দিষ্ট সীমা ও নীতিমালার মধ্যে আবদ্ধ। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনো সামাজিক দিন পালন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য; বরং মূল প্রশ্ন হলো—যেকোনো সামাজিক কার্যক্রমকে বিচার করা হয় তার বিষয়বস্তু ও প্রভাবের ভিত্তিতে।
যদি কোনো অনুষ্ঠানে অশালীনতা, শালীনতার লঙ্ঘন, অনৈতিক আচরণ বা ধর্মীয় সীমা অতিক্রমের প্রবণতা থাকে, তাহলে তা ইসলামসম্মত নয়। কুরআনে অশ্লীলতার কাছেও না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা শুধু কাজ নয়, সেই কাজের দিকে নিয়ে যায় এমন পরিবেশ থেকেও বিরত থাকার কথা বলে।

এছাড়া নারী-পুরুষের সম্পর্ক, পোশাক ও আচরণ সম্পর্কেও ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই পহেলা বৈশাখের মতো কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে এসব নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে তা ধর্মীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও বাঙালিত্বের ভারসাম্য

সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যেকোনো উৎসব বা গণআয়োজন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। কোনো নির্দিষ্ট উপলক্ষে যদি বারবার নিয়ন্ত্রণহীনতা, অতিরঞ্জিত বিনোদন বা শালীনতার সীমা লঙ্ঘনের পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা ধীরে ধীরে সমাজে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এর ফলে নতুন প্রজন্ম সেই আচরণকেই গ্রহণযোগ্য মনে করে এবং সামাজিক মানদণ্ড ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হতে থাকে।
তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, কোনো উৎসব একমাত্রিক নয়; এর মধ্যে যেমন সম্প্রীতি, আনন্দ ও ঐতিহ্যচর্চার মতো ইতিবাচক দিক থাকে, তেমনি কিছু নেতিবাচক প্রবণতাও থাকতে পারে।
দায়িত্বশীল সমাজের কাজ হলো সচেতনভাবে এই দুইয়ের পার্থক্য নির্ণয় করে ইতিবাচক দিকগুলো সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর উপাদানগুলো সংশোধন করা।

অন্যদিকে, বাঙালিত্বের প্রশ্নেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। পহেলা বৈশাখকে অনেক সময় বাঙালি পরিচয়ের অপরিহার্য অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে একটি জাতিগত পরিচয় গড়ে ওঠে ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, আচার-অনুষ্ঠান ও জীবনধারার সমন্বয়ে। কোনো নির্দিষ্ট উৎসব পালন করা বা না করার মাধ্যমে কারো বাঙালিত্ব নির্ধারিত হয় না।
বরং একজন সচেতন ব্যক্তি তার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এমন উপাদানগুলো গ্রহণ করতে পারে, যা তার নৈতিক ও বিশ্বাসগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক ভিত্তি প্রশাসনিক আর আধুনিক রূপ মূলত গত কয়েক দশকের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নির্মাণ।
ফলে এটিকে “চিরন্তন ঐতিহ্য” হিসেবে দেখানো পুরোপুরি সঠিক নয়।

এখন বাস্তব প্রশ্ন হলো, আমরা আসলে কী উদযাপন করছি?
ঐতিহ্য, নাকি তার পরিবর্তিত আর বিকৃত সংস্করণ?

অতএব, প্রয়োজন অন্ধ সমর্থন বা অন্ধ বিরোধিতা না করে, বরং সচেতনভাবে ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা।
কোন দিকগুলো ঐতিহ্যের অংশ, কোনগুলো আধুনিক সংযোজন, এবং কোনগুলো নৈতিকতা এবং ধর্মীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ—এই পার্থক্য বোঝা জরুরি।

একজন সচেতন মানুষ হিসেবে দায়িত্ব হলো নিজের মূল্যবোধ, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কারণ একটি দিনের উদযাপন সাময়িক হলেও, তার প্রভাব ব্যক্তিজীবন ও সমাজে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

 

গাজার অকুতোভয় শিশু সাংবাদিক সুমাইয়া উইশাহ

​যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। চারদিকে কেবল ধ্বংসস্তূপ আর বোমার শব্দ। এর মাঝেই ভারী ‘PRESS’ লেখা নীল ভেস্ট আর হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে আছে এক ছোট্ট মেয়ে। সে অন্য শিশুদের মতো কোনো খেলায় মেতে নেই; বরং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বের কাছে তুলে ধরছে যুদ্ধের এক ভয়ংকর বাস্তবতাকে।
​তার নাম সুমাইয়া উইশাহ। বয়স মাত্র ১১ বছর। গাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাটই এখন তার কাজের জায়গা। শুরুতে তার বাবা, মুহাম্মদ উইশাহ এবং তার মা তাকে এই চরম বিপদে পা বাড়াতে নিষেধ করেছিলেন। কারণ সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তারা পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
কিন্তু সুমাইয়ার প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সত্য জানানোর জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের।

​গাজা যুদ্ধে তার ভূমিকা

যুদ্ধের ভয়াবহতায় যখন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরাও হিমশিম খাচ্ছেন, তখন সুমাইয়া হাতে তুলে নিয়েছে মাইক্রোফোন। সে ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে, কিংবা খাবার ও ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরছে। আল-জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার এই সাহসী উপস্থিতির খবর প্রচারিত হয়েছে।

অনুপ্রেরণা

এত ছোট বয়সে সাংবাদিকতায় আসার পেছনে সুমাইয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলেন শিরিন আবু আকলেহ।
শিরিন আবু আকলেহ আল-জাজিরার একজন প্রখ্যাত ও সাহসী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ছিলেন, যিনি ২০২২ সালে জেনিনে সংবাদ সংগ্রহের সময় নিহত হন। শিরিনের সাহস আর সত্য প্রকাশের নির্ভীকতা সুমাইয়াকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
সে চায় শিরিনের মতোই গাজার প্রকৃত অবস্থা ও শিশুদের কষ্ট সারা বিশ্বকে জানাতে।

​প্রভাব ও বৈশ্বিক মনোযোগ

সুমাইয়ার এই অকুতোভয় সাংবাদিকতা খুব দ্রুতই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববাসীর মনে এক গভীর মানবিক ছাপ ফেলেছে।
তার ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
তার পাশাপাশি আরও দেখা যায় গাজার সবচেয়ে কনিষ্ঠ সাংবাদিক ৯ বছর বয়সী লামা আবু জামুস নামের আরেক শিশুও কাজ করছে।

​ঝুঁকি ও বাস্তবতা

কিন্তু এই অসামান্য উপাখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মর্মান্তিক কঠিন বাস্তবতা।
একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে একজন ১১ বছরের শিশুর সংবাদ সংগ্রহ করা কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই অনুমেয়।
তার এই কঠিন যাত্রায় গতকাল যুক্ত হয়েছে এক চরম আঘাত – জানা গেছে, একটি ড্রোন হামলায় সুমাইয়ার বাবা মুহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছে।
চোখের সামনে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নিজের বাবাকে হারানোর এই তীব্র শোক সুমাইয়ার জন্য এক অকল্পনীয় মানসিক ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
শিশুরা যেখানে স্কুলে থাকার কথা, নিরাপদে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানে তাদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
একটি শিশুর কাঁধে যুদ্ধের খবর জানানোর এই দায়িত্ব আসলে আমাদের মানবিক ব্যর্থতারই প্রমাণ।

​সুমাইয়া উইশাহ কেবল একজন শিশু সাংবাদিক নয়, সে গাজার হারিয়ে যাওয়া শৈশব এবং সীমাহীন ত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক। বাবার মৃত্যুর মতো চরম আঘাতের পরও তার এই টিকে থাকার লড়াই আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের নির্মমতা, সত্য তুলে ধরার অদম্য সাহস এবং সংবাদমাধ্যমের অসীম শক্তির কথা।

 

উত্তাল নদী পেরিয়ে জীবনের আলো—চরের মায়েদের ভরসা ফাতিমা রিমা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল—চরকাজল ও চরবিশ্বাস। চারদিকে নদী, মাঝখানে অনিশ্চিত জীবনযাত্রা। এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই হাজারো প্রসূতি মায়ের কাছে একটিই নাম এখন আশার আলো—ফাতিমা আক্তার রিমা।

ডিপ্লোমা চিকিৎসক রিমা যেন শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মী নন, বরং এক নির্ভরতার প্রতীক। গত দুই বছরে তিনি ২৪৩টি নিরাপদ নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন। যেখানে চিকিৎসা সুবিধা দুর্লভ, সেখানে এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি জীবনের গল্প, বেঁচে থাকার গল্প।

দরিদ্র পরিবারের অনেক মায়ের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন মানেই অতিরিক্ত খরচ আর শারীরিক কষ্ট। সেই বাস্তবতায় রিমা আক্তার নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন এক আশীর্বাদ। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, “তার হাতে যেন আল্লাহর রহমত আছে।” তবে রিমার কাছে এটি কোনো অলৌকিকতা নয়—এটি তার নিষ্ঠা, দক্ষতা আর মানবিকতার ফল।

দিন-রাতের কোনো হিসাব নেই তার। কাঁচা মেঠোপথ, কাদামাটি, অন্ধকার রাত কিংবা ঝড়-বৃষ্টি—সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি ছুটে যান প্রসব বেদনায় কাতর নারীদের কাছে। একটি ফোন কলই যথেষ্ট—তিনি রওনা দেন। কখনো গভীর রাতে, কখনো উত্তাল আবহাওয়ায়। পৌঁছে যান ঠিকই, কারণ তিনি জানেন—তার পৌঁছানো মানেই একটি নতুন জীবনের নিরাপদ আগমন।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় আট কিলোমিটার নদীপথ। ট্রলার বা লঞ্চে যেতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা, আর বিকেল ৫টার পর বন্ধ হয়ে যায় নৌযান চলাচল। ঝড়-বৃষ্টির দিনে সেই পথ যেন মৃত্যুঝুঁকির সমান। ফলে জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই চরাঞ্চলে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা। হাতে গোনা কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী থাকলেও নারী চিকিৎসকের অভাব প্রকট। ফলে প্রসবকালীন ঝুঁকি সবসময়ই তাড়া করে মায়েদের। অনেক সময় হাসপাতালের পথে যাওয়ার আগেই ঝরে যায় দুইটি জীবন—মা ও নবজাতক।

এই কঠিন বাস্তবতায় রিমা আক্তারের কাজ যেন এক নিঃশব্দ বিপ্লব। গত এক বছরে তার করানো নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে কোনো মা বা নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি—যা এই অঞ্চলের জন্য এক বিরল সাফল্য। নামমাত্র খরচে, ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—মানবিকতা থাকলে সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

রিমা আক্তারের এই পথচলা শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প। দুর্গম চরের অসহায় মায়েদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দেখিয়েছেন—একজন মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টাই বদলে দিতে পারে বহু মানুষের জীবন।

আজ চরকাজল ও চরবিশ্বাসের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন—তিনি ভরসা, তিনি সাহস, তিনি নিরাপদ মাতৃত্বের আরেক নাম।

 

জামিনে মুক্ত হয়ে যা বললেন বিবি সাওদা

ভোলায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর আদালত থেকে তিনি জামিন পান।

তার পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট ফরিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান ও রহমাতুল্লাহ সেলিমসহ একদল আইনজীবী।

জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিবি সাওদা। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। যদি তারা জনগণের কথা না শোনে, তাহলে সেই সরকারের প্রয়োজন কী? সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে অসুস্থ সন্তানকে রেখে আমাকে দুই রাত কারাগারে থাকতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই অন্তত আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। যেন আমরা আমাদের মতামত প্রকাশ করতে পারি। আমি দেশ ও জনগণের স্বার্থেই ফেসবুকে পোস্ট করেছি। কথা বলার কারণে যদি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর মুখ খুলবে না।”

বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি মানুষ চুপ থাকে, তাহলে এর অর্থ কী? আমাদের বাকস্বাধীনতা অন্তত কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।”

এর আগে তার গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদেও ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়। জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।

ভোলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিবি সাওদাকে ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

এদিকে দলের কর্মী জামিনে মুক্ত হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, “সাওদাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার দেশজুড়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, যাতে কেউ সরকারের সমালোচনা না করে। তবে আমরা মনে করি, সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আদালত তাকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।”

 

ভোলায় জামায়াতকর্মী সাওদা গ্রেপ্তার: বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় ভোলায় বিবি সাওদা (যিনি সাওদা সুমি নামেও পরিচিত) নামের এক নারী জামায়াতকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল গভীর রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নিজ বাসা থেকে ৩৭ বছর বয়সী এই নারীকে তুলে নেয় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পরবর্তীতে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবি সাওদার তিন বছর বয়সী একজন বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যার মাতৃস্নেহ ও পরিচর্যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই বিষয়টি সামনে আসায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

​এই আকস্মিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পুলিশের এই আচরণকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদীরা সব যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পাশাপাশি, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে পূর্ববর্তী স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দেশের মানুষ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রত্যাশা করেছিল, ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে মধ্যরাতে একজন সম্মানিত নারীকে তুলে নেওয়ার এই ঘটনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এছাড়া ভোলা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারের নীতি বা ভুলত্রুটির গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার দায়ে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। এর পাশাপাশি, রাষ্ট্রদ্রোহী বা গুরুতর কোনো ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া, কেবল একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে একজন তিন বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।
অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এমন একটি পদক্ষেপ কেবল ওই শিশু ও মায়ের প্রতি অমানবিকই নয়, বরং সমাজে ভিন্নমত দমনের একটি ভীতিকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য কখনোই কাম্য হতে পারে না।

 

সকালে উল্টো হাঁটা: শরীর-মনের উপকার

(দিনের শুরুতে ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন)

দিনের শুরুতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড উল্টো দিকে হাঁটা—শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য কার্যকর একটি ব্যায়াম হতে পারে। সাধারণ হাঁটার বিপরীতে এই অভ্যাস শরীরকে নতুনভাবে সক্রিয় করে এবং মস্তিষ্ককে বাড়তি কাজ করতে বাধ্য করে।

উল্টো হাঁটার সময় ভারসাম্য রক্ষা করতে বেশি মনোযোগ দিতে হয়, ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়ে। একই সঙ্গে পায়ের এমন কিছু পেশি সক্রিয় হয়, যা স্বাভাবিক হাঁটায় কম ব্যবহৃত হয়। এতে শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা উন্নত হতে পারে।

এছাড়া, এটি এক ধরনের ‘ব্রেন ট্রেনিং’ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত করলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক তীক্ষ্ণতা বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি স্ট্রেস কমাতেও সহায়ক, কারণ মন নতুন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তবে ঝুঁকিও আছে—হোঁচট খাওয়া, পড়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরা। তাই সবসময় খোলা ও নিরাপদ জায়গায়, ধীরে শুরু করে সময় বাড়ানো উচিত।

 

সিমরিন লুবাবার বাগদান: ইসলাম, আইন ও সমাজ কী বলে?

সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিমরিন লুবাবার বাগদানের খবর দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে তার বাগদান সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনি ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। ফলে এটি একটি বৃহত্তর বিতর্ককে সামনে এনেছে—বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম, রাষ্ট্রীয় আইন এবং সমাজ—এই তিনটির অবস্থান কী?

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত, যার উদ্দেশ্য কেবল বৈধ সম্পর্ক স্থাপন নয়; বরং মানসিক প্রশান্তি, নৈতিক সংযম এবং একটি সুস্থ পরিবার গঠন। কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে “মাওয়াদ্দাহ ও রহমাহ”—অর্থাৎ ভালোবাসা ও দয়ার বন্ধন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলাম বিয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করেনি। বরং গুরুত্ব দিয়েছে “সামর্থ্য” বা সক্ষমতার ওপর। হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে।
এখানে সামর্থ্য বলতে বোঝানো হয়েছে শারীরিক সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষমতা, স্ত্রী বা পরিবারের ভরণপোষণের যোগ্যতা এবং মানসিক পরিপক্কতা।

ইসলামি ফিকহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু বালেগ হওয়াই বিয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। একজন ব্যক্তির ওপর পারিবারিক দায়িত্ব অর্পণ করার মতো মানসিক স্থিতি এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। অনেক আলেম এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, বিয়ের মাধ্যমে যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সৃষ্টি হয়, তা পালনে অক্ষম হলে সেই বিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয় না, বরং পারিবারিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে বললেও তা কখনোই অপরিপক্ক অবস্থায় চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের আইন এ বিষয়ে সুস্পষ্ট এবং কঠোর। “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭” অনুযায়ী, মেয়েদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বয়সের নিচে বিয়ে সম্পন্ন করা আইনত অপরাধ এবং এতে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক, কাজী বা অন্য যে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যদিও আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের অনুমোদনের একটি ধারা রয়েছে, বাস্তবে এটি খুব সীমিত এবং বিতর্কিতভাবে প্রয়োগ হয়। ফলে সাধারণ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের আগে বিয়ে আইনি ঝুঁকিপূর্ণ এবং দণ্ডনীয়।তবে বাগদানের ক্ষেত্রে এধরনের কোনো আইনি ধরাবাধা নেই।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি কাজ করে—অনেকে মনে করেন, ইসলাম অনুমতি দিলে রাষ্ট্রীয় আইন উপেক্ষা করা যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। ইসলাম নিজেই সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আইন মানার ওপর গুরুত্ব দেয়, যতক্ষণ না তা সরাসরি শরিয়াহর বিরুদ্ধে যায়। বাংলাদেশের নির্ধারিত বয়সসীমা মূলত সমাজের সুরক্ষা, বিশেষ করে কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও যৌক্তিক।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে কম বয়সে বিয়ে হলে তা “বাল্যবিবাহ” হিসেবে সমালোচিত হয়, অন্যদিকে একটু দেরিতে বিয়ে করলে বিশেষ করে মেয়েদের নানা ধরনের সামাজিক চাপ ও কটূক্তির মুখে পড়তে হয়।
এই দ্বিমুখী মানসিকতা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
কিন্তু বাস্তব প্রস্তুতি যেমন আর্থিক স্থিতি, মানসিক পরিপক্কতা বা দাম্পত্য জীবনের দক্ষতা—এই বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে খুব কমই আলোচনা হয়।

অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাজীবনের ব্যাঘাত, আর্থিক নির্ভরতা, মানসিক অস্থিরতা এবং দাম্পত্য জীবনে সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি। বিশেষ করে বর্তমান যুগে, যেখানে একটি পরিবার পরিচালনা করতে আর্থিক পরিকল্পনা, মানসিক পরিপক্কতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রয়োজন, সেখানে অপরিণত বয়সে এই দায়িত্ব নেওয়া অনেক সময় বাস্তবসম্মত হয় না। আবার অতিরিক্ত দেরিতে বিয়ের ক্ষেত্রেও সামাজিক চাপ, সম্পর্কের জটিলতা এবং নৈতিক চ্যালেঞ্জের মতো বিষয়গুলো সামনে আসে।

সামাজিক বাস্তবতায় অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অল্প বয়সে বিয়ে করেও সফল জীবন গড়া সম্ভব। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এর উদাহরণ রয়েছে। যেমন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অল্প বয়সে বিবাহিত জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিন্তু এখানে একটা জিনিস পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে—এই উদাহরণগুলো ব্যতিক্রম (exception), নিয়ম (rule) নয়। বাস্তবতা হলো, অতীতে সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক সাপোর্ট সিস্টেম এবং জীবনযাত্রার ধরন বর্তমান সময়ের তুলনায় ভিন্ন ছিল। তখন পরিবারগুলো বড় ছিল, দায়িত্ব ভাগাভাগি হতো, এবং নারীদের জন্য ক্যারিয়ার গঠনের চাপও তুলনামূলক কম ছিল। ফলে অল্প বয়সে বিয়ের পরও অনেক ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক টিকে যেত এবং ব্যক্তি পরবর্তীতে অন্য ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারতেন।

বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন একটি পরিবার পরিচালনা করতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানসিক পরিপক্কতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাজীবন, ক্যারিয়ার গঠন এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে অল্প বয়সে বিয়ে অনেক ক্ষেত্রে চাপ, নির্ভরতা এবং অসম্পূর্ণ প্রস্তুতির কারণে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে, কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক সাপোর্ট, আর্থিক স্থিতি এবং ব্যক্তিগত পরিপক্কতা থাকলে অল্প বয়সে বিয়েও সফল হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো—এই শর্তগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে।

সিমরিন লুবাবার বাগদানের ঘটনাটি বর্তমানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একটি সামাজিক প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লুবাবর পারিবারিক সাপোর্ট আর্থিক সক্ষমতা সবার জন্য উদাহরণ হতে পারে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছোট বয়সে বিয়ের পর পড়াশোনা চালানো অনেকক্ষেত্রেই সহজ না। শ্বশুরবাড়ির সাপোর্টের অভাবে অল্প বয়সেই অনেক মেয়েকে বহন করতে হয় শারীরিক ও মানসিক চাপের ভার। তাদের কাছে বিয়ে কোনো ফ্যান্টাসি না বরং হয়ে উঠে কঠিন বাস্তবতা।

অল্প বয়সে বিয়ে হোক বা দেরিতে, দুটাই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যেটা একজনের কাছে চয়েজ, সেটা আরেকজনের জীবনে হয়ে ওঠে থেমে যাওয়া স্বপ্নের গল্প, বাস্তবতার কাছে হার মানা।

তবে কারো যদি ছোট বয়সে বিয়ে করার মতো ফ্যামিলি সাপোর্ট আর অনুকূল পরিস্থিতি থাকে এবং সে ভালো থাকতে পারে, তাহলে সেটাও তার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু এই ব্যতিক্রমকে সবার জন্য স্ট্যান্ডার্ড বানানো কতটা যৌক্তিক? এদেশের নারীদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের আগে নিজেকে তৈরি করে নেওয়াটা যেমন জরুরি তেমনি একজন পুরুষের আর্থিক ও মানসিকভাবে একটি মেয়ের দায়িত্ব নেবার যোগ্যতা তৈরী হওয়া আরো বেশী জরুরী।

বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম, আইন এবং সমাজ—এই তিনটি দৃষ্টিকোণকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা জরুরি। ইসলাম আমাদের সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ শেখায়, আইন আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, আর সমাজ আমাদের বাস্তব প্রেক্ষাপট তৈরি করে। এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই একটি সুস্থ, স্থিতিশীল এবং কল্যাণকর দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।