banner

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 222 বার পঠিত

 

জামিনে মুক্ত হয়ে যা বললেন বিবি সাওদা

ভোলায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর আদালত থেকে তিনি জামিন পান।

তার পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট ফরিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান ও রহমাতুল্লাহ সেলিমসহ একদল আইনজীবী।

জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিবি সাওদা। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। যদি তারা জনগণের কথা না শোনে, তাহলে সেই সরকারের প্রয়োজন কী? সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে অসুস্থ সন্তানকে রেখে আমাকে দুই রাত কারাগারে থাকতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই অন্তত আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হোক। যেন আমরা আমাদের মতামত প্রকাশ করতে পারি। আমি দেশ ও জনগণের স্বার্থেই ফেসবুকে পোস্ট করেছি। কথা বলার কারণে যদি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর মুখ খুলবে না।”

বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি মানুষ চুপ থাকে, তাহলে এর অর্থ কী? আমাদের বাকস্বাধীনতা অন্তত কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।”

এর আগে তার গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদেও ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়। জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।

ভোলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিবি সাওদাকে ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

এদিকে দলের কর্মী জামিনে মুক্ত হওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, “সাওদাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার দেশজুড়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, যাতে কেউ সরকারের সমালোচনা না করে। তবে আমরা মনে করি, সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আদালত তাকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।”

Facebook Comments Box