রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা আক্তার (৮) নামের দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশী এক যুবকের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মূল আসামি সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রামিসা মিরপুরের ‘পপুলার মডেল হাই স্কুল’-এর দ্বিতীয় শ্রেণীর রোল নম্বর এক (১)ধারী শিক্ষার্থী ছিল। প্লে-গ্রুপ ও কেজিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার পর প্রথম শ্রেণীতে সে প্রথম স্থান অর্জন করে। পড়ালেখায় অত্যন্ত মেধাবী রামিসার অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে রামিসা নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা পারভীন আক্তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের বাইরে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান। ভেতর থেকে রামিসার চিৎকার শুনতে পেয়ে পারভীন আক্তার দরজায় অনবরত ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ মেলেনি।
পরে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ঘরের ভেতরে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন উপস্থিত ছিলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথা বিচ্ছিন্ন দেহ এবং বাথরুমের একটি বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দরজা না খুলে ভেতর থেকে সোহেলকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর বিভাগীয় পুলিশ। পরবর্তীতে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন—উভয়কেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রামিসার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার বিদ্যালয় পপুলার মডেল হাই স্কুলে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা ও শোক। রামিসার শ্রেণী শিক্ষক মাহবুবুল হাকিম বলেন:
“রামিসা প্রতিদিন ক্লাসের ১০ মিনিট আগেই স্কুলে চলে আসত। মঙ্গলবার ও আসেনি দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে শুনলাম ওকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রামিসাকে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
নিহত রামিসার বাসায় এখনো থরে থরে সাজানো রয়েছে তার কৃতিত্বের স্মারক ও একাডেমিক ট্রফিগুলো। কিন্তু যে মেধাবী শিশুটি এই ট্রফিগুলো অর্জন করেছিল, সে আজ আর বেঁচে নেই। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।


