banner

শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: March 31, 2026

 

কেরালায় মুসলিম লীগের প্রথম নারী বিধায়ক, রাজনীতিতে বদলের ইঙ্গিত

২০২৬ সালের কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ মুসলিম আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া।
বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা আসনে জয়ী হয়ে তিনি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই জয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলীয় ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনে তাহিলিয়া সিপিআই(এম)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা ও এলডিএফ কনভেনর টি.পি. রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেন।
তিনি মোট ৮১ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে প্রায় ৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের নির্বাচনে একই আসনে রামকৃষ্ণন ২২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এবারের ফলাফল বাম জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল মালাবার অঞ্চলে ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি মুসলিম তরুণীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন আশা জাগিয়েছে। আইইউএমএল অতীতে খুব কম নারী প্রার্থী দিয়েছে, এবং ২০২৬ সালের আগে মনোনয়ন পাওয়া দুই নারী প্রার্থীই নির্বাচনে পরাজিত হন। সেই প্রেক্ষাপটে তাহিলিয়ার জয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ছাত্ররাজনীতি থেকেই তাহিলিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১২ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত এই তরুণী পরবর্তীতে কোঝিকোড সিটি করপোরেশনের কুট্টিচিরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষাজীবনে তাহিলিয়া কোঝিকোড সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতক এবং ত্রিশূরের সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি কোঝিকোড জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সক্রিয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় তাহিলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন। প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের জীবিকা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে জনসমর্থন অর্জন করেন।

তবে এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তাহিলিয়া সাইবার হামলা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হন।
বিশেষ করে হিজাব পরিহিত মুসলিম নারী হিসেবে তার সক্ষমতা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। তবুও তিনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দৃঢ়তার সঙ্গে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যান।

তাহিলিয়ার এই জয় কেরালার রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
বামদের শক্ত ঘাঁটিতে এই ফলাফল ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং নারী নেতৃত্বের পথকে আরও উন্মুক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।