banner

মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: March 31, 2026

 

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি পেলেন জাবির ফারিয়া

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) Geography and Environment বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারিয়া রহমান ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের University of Toledo-তে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির Geography and Planning Department-এ Geography and Planning বিষয়ে পিএইচডি করবেন তিনি। Graduate Assistantship-এর আওতায় তাঁর এই পিএইচডি প্রোগ্রামের অর্থায়ন হবে।

ফারিয়া রহমান ঐশীর একাডেমিক ফলাফলও বেশ ভালো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে তিনি ৩.৭৫ এবং মাস্টার্সে ৩.৯২ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Geography and Environment বিভাগের Spatial Analysis Lab-এ Assistant Researcher হিসেবে কাজ করেছেন ফারিয়া। গবেষণার পাশাপাশি এ পর্যন্ত তাঁর তিনটি গবেষণাপত্র, দুটি কনফারেন্স পেপার এবং দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। একটি বইয়েও অবদান রেখেছেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার আবেদনের জন্য ফারিয়া রহমান ঐশীর IELTS স্কোর ছিল ৬.৫।
গবেষণা ও একাডেমিক কাজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে Geography Debating Club-এর বিতার্কিক হিসেবে কাজ করেন।
এবং Geography and Environment Alumni Association-এর Student Member ছিলেন।

নিজের পিএইচডিতে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ফারিয়া রহমান ঐশী বলেন, আবেদন করার সময় তিনি বিশ্বাস করতেন- কেউ যদি গবেষণার প্রতি সত্যিকার অর্থে আগ্রহী হন, গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কীভাবে করতে হয় তা শেখার আগ্রহ রাখেন এবং সে কাজে নিজেকে নিবেদিত করতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে শুধু টেস্ট স্কোর, সিজিপিএ কিংবা আগের অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাই একজন শিক্ষার্থীর জন্য সঠিক সুযোগ তৈরি করে দেয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Geography and Environment বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ফারিয়া রহমান ঐশীর এই অর্জন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে যুক্ত থাকা এবং নিজের দক্ষতা বিকাশের গুরুত্ব তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।

 

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: দুই বছরে প্রত্যাশা- প্রাপ্তি ও আগামীর বাংলাদেশ

​আজ ৫ আগস্ট, ২০২৬। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর।
প্রায় ১৬ বছরের জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা এক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন কেবল একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ দীর্ঘ এই সময়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভকে দলীয়করণ করে এক নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বলয় তৈরি করা হয়েছিল।
গণতন্ত্রের মোড়কে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং বিরোধী মত দমনের এক ভয়ের সংস্কৃতি বা ‘কালচার অব ফিয়ার’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সমাজে।
২০১৪ সালের ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’, ২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়।
গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালার ভয়াবহতা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছিল।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো অবর্ণনীয় নির্যাতন এবং হাজারো মিথ্যা মামলা সমাজে এক চাপা ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা কেবল একটি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায় ছিল।

​সেই স্ফুলিঙ্গের দেখা মেলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই, একটি সাধারণ ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা।
সরকারি চাকরিতে মেধার অবমূল্যায়ন মেনে নিতে না পেরে তারা কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের প্রবল ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করলেও, ২৪ সালের জুনে হাইকোর্টের এক রায়ে পুনরায় ৫৬ শতাংশ কোটা বহাল করা হয়।
শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করলেও রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের এই ন্যায্য দাবিকে তাচ্ছিল্যভরে(রাজাকারের নাতিপুতি বলে) প্রত্যাখ্যান করে।
শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের।
রক্তাক্ত হয় ক্যাম্পাস। আর এই রক্তপাতই কোটা সংস্কারের দাবিকে একটি সর্বাত্মক সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত করে।

​শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মুখে পড়ে, তখন রাজপথের স্লোগানগুলোও বদলে যায়। ‘কোটা না মেধা? মেধা! মেধা!’, ‘তুমি কে আমি কে,রাজাকার রাজাকার।কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার!’ থেকে রাজপথ প্রকম্পিত হতে থাকে ‘দফা এক, দাবি এক, হাসিনা সরকারের পতন!’ স্লোগানে।
পুলিশের নির্বিচার গুলিতে যখন একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে, তখন শিক্ষক, শ্রমজীবী, অভিভাবকসহ সাধারণ জনতা নেমে আসে রাস্তায়।
৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা এক দফা দাবি ঘোষণা করেন।
সরকার পতনের এই চূড়ান্ত ধাপে এসে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করে, স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না। ক্যালেন্ডারের পাতা আটকে যায় ‘৩৬ জুলাই’- এ এসে।

​অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। সকাল থেকেই দেশজুড়ে এক থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
জারি করা কারফিউ এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে লাখ লাখ মানুষ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে থাকে।
মৃত্যুর ভয়কে জয় করে ছাত্র-জনতার এই ঢল যখন গণভবনের দিকে এগোতে থাকে, তখন স্বৈরশাসকের দীর্ঘদিনের সাজানো তাসের ঘর ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ছোট বোনকে নিয়ে সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। দুপুরের পর সেনাপ্রধানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে গণভবন, সংসদ ভবন থেকে শুরু করে রাজপথ -সবখানে নেমে আসে মানুষের ঢল।
১৬ বছরের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর মুক্ত বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নেয় বাংলাদেশ।
অনেকে রাস্তায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ে শুকরিয়া আদায় করেন।

খেয়াল করে দেখলে ​এই বিজয়ের মূল্য অনেক চড়া। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষ শহীদ হন এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। শত শত মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারান, পঙ্গুত্ববরণ করেন অসংখ্য তরুণ।
এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। আলোচিত ৬টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এসেছে, যা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত।
স্বৈরশাসনের পতনের পর একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জমে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল,যা এখনো থমকে আছে রাজনীতির যাঁতাকলে।

​প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি ও বর্তমান বাস্তবতা-
গত দুই বছরের পথচলায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মেলালে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ভয়হীন একটি সমাজ গঠন। মানুষ এখন নির্ভয়ে কথা বলতে পারছে, গুম হওয়ার আতঙ্ক আর নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হওয়াটাও বড় একটি অর্জন।

​তবে প্রত্যাশার পারদ অনুযায়ী প্রাপ্তির খাতায় আক্ষেপ আর অপূর্ণতার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ ও হতাশাজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। সমাজে খুন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ অহরহ ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থা এখনো শোচনীয়, যার সুযোগে সারা দেশে চাঁদাবাজি চলছে দেদারসে।
এর পাশাপাশি জনজীবনের সবচেয়ে বড় নাভিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম এখন লাগামছাড়া।
তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন এবং অর্থনীতিকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যে দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, সেই ক্যাম্পাসগুলোতেও এখন নতুন করে দলীয়করণের নগ্ন রূপ দৃশ্যমান হচ্ছে। সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, চরম জনদুর্ভোগ কমানো এবং এই নৈরাজ্য রোধে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কোনো লক্ষণীয় বা কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।ইভেন গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারেও সরকার বেশ গড়িমসি করছে।

আমাদের একমাত্র আশা- আকাঙ্ক্ষা যে সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জুলাই এসেছে তা যেন সমূলে ধ্বংস না হয়। ​তাহলে জুলাই আবারও আসবে,জুলাই শেষ হবেনা।

আগামীর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা,একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের পেটের ক্ষুধা নিবারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না।
চব্বিশের এই আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সেজন্য রাষ্ট্রকাঠামোর প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

গাজায় স্বামীহারা ১৬ হাজার নারীর বেঁচে থাকার লড়াই

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার নারী স্বামী হারিয়েছেন।
এর ফলে গাজার প্রতি সাতটি পরিবারের মধ্যে অন্তত একটির প্রধান এখন একজন নারী। ধ্বংসস্তূপ, স্বজন হারানোর বেদনা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নারীদের জীবন এখন কেবলই টিকে থাকার অবিরাম সংগ্রাম।

​গাজার আল-আমাল শরণার্থীশিবিরের একটি তাঁবুতে বাস করেন ৩৯ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের জননী ওলা সালেহ।
গত আগস্ট মাসে পরিবারের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে তাঁর ৪৩ বছর বয়সী স্বামী আব্দুল জলিল নিহত হন।
স্বামীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, স্নাইপারের গুলিতে নাকি ড্রোনের হামলায় তা আজও জানেন না তিনি।
স্বামী হারানোর পর সন্তানদের নিয়ে দেইর আল-বালাহতে একাই লড়ছেন ওলা।
তিনি বলেন, “প্রতিটি দিন আগের চেয়ে কঠিন মনে হয়। শূন্যতার পাশাপাশি প্রতিদিন দায়িত্ব বেড়েই চলেছে।”

​তবে এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও একটু শান্তির খোঁজ পেতে ওলা প্রতিদিন সকালে পাঁচ মিনিট হেঁটে ছুটে যান ‘কালেকটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টস’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত নারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে।
মধ্য গাজার আল-ফারাহ স্কুলে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রে নারীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, দলগত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

​কেন্দ্রটির মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়কারী আলা দাউদের ভাষ্যমতে ”শুরুতে ৬০ জন নারী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৫ ছাড়িয়েছে।
এখানে শুধু মানসিক সহায়তাই দেওয়া হয় না বরং অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক চাপ এবং প্রতিকূল পরিবেশে সন্তান বড় করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।”
নারীরা এখানে এসে নিজেদের না-বলা কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটি নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছেন।
গাজার উত্তর দিকসহ আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

​এই সহায়তা কেন্দ্রে শুধু তরুণীরাই নন, আসেন প্রবীণরাও। ৬৩ বছর বয়সী সুয়াদ আল-ঘারাবালি তাঁদেরই একজন। শুজাইয়া এলাকায় বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর তিনিও এখন দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নিয়েছেন।
আলাদা দুটি বিমান হামলায় ২৪ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হারিয়েছেন এই বয়োজ্যেষ্ঠ নারী। নিজের বুকফাটা আর্তনাদ বুকে চেপে রেখেও তিনি আট সন্তান বড় করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে নতুন মায়েদের নানা পরামর্শ দেন।
সুয়াদের মতে, এই কেন্দ্রগুলো নারীদের একে অপরের থেকে শেখার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।

​যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নারীরা এখন ভুক্তভোগীর পাশাপাশি এক একজন অঘোষিত যোদ্ধা।
চরম দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও সীমাহীন মানসিক চাপের মধ্যেও পরিবারগুলোকে পরম মমতায় আগলে রেখে এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা যেন নারীরাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।