banner

মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 19 বার পঠিত

 

গাজায় স্বামীহারা ১৬ হাজার নারীর বেঁচে থাকার লড়াই

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার নারী স্বামী হারিয়েছেন।
এর ফলে গাজার প্রতি সাতটি পরিবারের মধ্যে অন্তত একটির প্রধান এখন একজন নারী। ধ্বংসস্তূপ, স্বজন হারানোর বেদনা আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নারীদের জীবন এখন কেবলই টিকে থাকার অবিরাম সংগ্রাম।

​গাজার আল-আমাল শরণার্থীশিবিরের একটি তাঁবুতে বাস করেন ৩৯ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের জননী ওলা সালেহ।
গত আগস্ট মাসে পরিবারের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে তাঁর ৪৩ বছর বয়সী স্বামী আব্দুল জলিল নিহত হন।
স্বামীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, স্নাইপারের গুলিতে নাকি ড্রোনের হামলায় তা আজও জানেন না তিনি।
স্বামী হারানোর পর সন্তানদের নিয়ে দেইর আল-বালাহতে একাই লড়ছেন ওলা।
তিনি বলেন, “প্রতিটি দিন আগের চেয়ে কঠিন মনে হয়। শূন্যতার পাশাপাশি প্রতিদিন দায়িত্ব বেড়েই চলেছে।”

​তবে এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও একটু শান্তির খোঁজ পেতে ওলা প্রতিদিন সকালে পাঁচ মিনিট হেঁটে ছুটে যান ‘কালেকটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টস’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত নারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে।
মধ্য গাজার আল-ফারাহ স্কুলে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রে নারীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, দলগত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

​কেন্দ্রটির মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়কারী আলা দাউদের ভাষ্যমতে ”শুরুতে ৬০ জন নারী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৫ ছাড়িয়েছে।
এখানে শুধু মানসিক সহায়তাই দেওয়া হয় না বরং অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক চাপ এবং প্রতিকূল পরিবেশে সন্তান বড় করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়।”
নারীরা এখানে এসে নিজেদের না-বলা কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটি নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছেন।
গাজার উত্তর দিকসহ আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

​এই সহায়তা কেন্দ্রে শুধু তরুণীরাই নন, আসেন প্রবীণরাও। ৬৩ বছর বয়সী সুয়াদ আল-ঘারাবালি তাঁদেরই একজন। শুজাইয়া এলাকায় বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর তিনিও এখন দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নিয়েছেন।
আলাদা দুটি বিমান হামলায় ২৪ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হারিয়েছেন এই বয়োজ্যেষ্ঠ নারী। নিজের বুকফাটা আর্তনাদ বুকে চেপে রেখেও তিনি আট সন্তান বড় করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে নতুন মায়েদের নানা পরামর্শ দেন।
সুয়াদের মতে, এই কেন্দ্রগুলো নারীদের একে অপরের থেকে শেখার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।

​যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নারীরা এখন ভুক্তভোগীর পাশাপাশি এক একজন অঘোষিত যোদ্ধা।
চরম দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও সীমাহীন মানসিক চাপের মধ্যেও পরিবারগুলোকে পরম মমতায় আগলে রেখে এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা যেন নারীরাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

Facebook Comments Box