banner

সোমবার, ২০ Jul ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: March 31, 2026

 

গাজায় নারী-শিশু হত্যায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী ও শিশুরা। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও প্রাণহানি থামেনি; বরং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, প্রতিদিনই নতুন করে নারী ও শিশুর মৃত্যু, আহত হওয়া এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন। ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রধান সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন,
“গাযায় আগের সংঘাতগুলোর চেয়ে (সর্বশেষ যুদ্ধে) অনেক বেশি নারী ও মেয়ে নিহত হয়েছে৷ তারাও ছিলেন স্বতন্ত্র ব্যক্তি, তাদের জীবনেও স্বপ্ন ছিল৷”

সংস্থাটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পরও সহিংসতা থামেনি। নারী ও শিশুদের হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সব ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু নিজ বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের বড় অংশ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।

শিশুদের পরিস্থিতিও সমান উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ছয় মাসেই অন্তত ২১৪ জন শিশু নিহত হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের ঘটনাগুলোও সেই চিত্রকেই স্পষ্ট করে। ১৭ জুলাই গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজারে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি “সশস্ত্র গোষ্ঠীকে” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল; তবে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে। হামাস এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

একই দিনে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একটি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া আজ-জাওয়াইদা, আল-সাওয়ারহা, গাজা সিটি এবং খান ইউনিসেও পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন নিহত ও আহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধীন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। কমিশনের মতে, হাজারো শিশুর মৃত্যু, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি এবং হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে এসব হামলা ফিলিস্তিনি সমাজের ভবিষ্যৎকে দুর্বল করার একটি সচেতন কৌশলের অংশ হতে পারে।

কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, কোয়াডকপ্টার ড্রোন, স্নাইপার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করে বহু শিশুকে হত্যা বা আহত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, বিশেষ করে নবজাতক ও শিশু হাসপাতালগুলোতে হামলার ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং খাদ্য সংকটকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তদন্ত কমিশন আরও বলেছে, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি শিশুরা গ্রেপ্তার, নির্যাতন, অমানবিক আচরণ এবং যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং নিয়মিত সামরিক অভিযানের কারণে একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ হাজার ২৮০ জনেরও বেশি শিশু। জাতিসংঘ এই হতাহতের পরিসংখ্যানকে সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যদিও এ মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

প্রতিদিনের হামলা, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট এবং চিকিৎসাসেবার ভাঙন -সব মিলিয়ে গাজার নারী ও শিশুরা আজ বিশ্বের অন্যতম গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও প্রাণহানি অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলাই এখন সবচেয়ে জরুরি; অন্যথায় গাজার একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের ভার বহন করতে বাধ্য হবে।

তথ্যসূত্র:
জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা (UN Women)
ইউনিসেফ (UNICEF)
রয়টার্স
বিবিসি

 

স্মৃতি অম্লান: জুলাই অভ্যুত্থানের ১০ নারী শহীদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রদের পাশাপাশি প্রায় সব শ্রেণীর নারীরাও ছিলেন আন্দোলনের সামনের সারিতে।
কেউ মিছিলে অংশ নিয়েছেন, কেউ আহতদের সেবা দিয়েছেন, কেউ প্রতিবাদকে সংগঠিত করেছেন, আবার কেউ ঘরের বারান্দা বা ছাদে দাঁড়িয়েই সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোতে প্রাণ হারানো নারী শহীদদের জীবনগল্প শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারও প্রতীক।

শহীদদের মধ্যে ছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সী নাঈমা সুলতানা। রাজধানীর উত্তরায় বসবাসকারী এই স্কুলছাত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদী পোস্টারও তৈরি করেন।
১৯ জুলাই বাসার বারান্দা থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ আক্রমণ চালালে,ওই পরিস্থিতি ফোনের ক্যামরায় ধারণ করার সময় পুলিশ তার দিকে গুলি ছুড়লে, মাথার একপাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে মগজ ছিটিয়ে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে সে শুধু একটাই শব্দ করতে পেরেছিল, ‘মা…আ…!’
পরিবারের স্বপ্ন ছিল তিনি বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি ছিল মাত্র সাড়ে ছয় বছরের রিয়া গোপের মৃত্যু। নারায়ণগঞ্জে বাসার ছাদে খেলতে গিয়ে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় শিশুটি। কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা যায়। আন্দোলনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; তবু সহিংসতার নির্মম শিকার হয় একটি নিষ্পাপ শিশু।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নাফিসা হোসেন মারওয়া আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন কর্মসূচিতে যোগ দিতেন এবং পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্টের কর্মসূচিতেও অংশ নেন। সাভারে মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

নারায়ণগঞ্জের সুমাইয়া আক্তার ছিলেন এক নবজাতক সন্তানের মা। বাসার পাশের সড়কে সংঘর্ষের শব্দ শুনে বারান্দায় গেলে গুলি এসে তার মাথায় লাগে। হাসপাতালে নেওয়া হলেও তআর বাঁচানো যায়নি তাকে। তার মৃত্যুর পর অল্পবয়সী সন্তানটি এখন নানীর কাছে বড় হচ্ছে।

৫৭ বছর বয়সী শাহিনূর বেগম জীবিকার তাগিদে মাছের ব্যবসা করতেন এবং অসুস্থ স্বামীর সংসার চালাতেন।২২জুলাই সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুতে পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

মোসাম্মত লিজা জীবিকার জন্য ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাও গ্রহণ করছিলেন।
সংঘর্ষের সময় ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের পরিস্থিতি দেখার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। পরিবারের আশা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে তিনি গ্রামে ফিরে নতুন জীবন শুরু করবেন।

নোয়াখালীর নাছিমা আক্তার বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকায় ভাইয়ের বাসায়।
সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে ছাদে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার সময় একই ঘটনায় তিনি ও তার ভাতিজা গুলিবিদ্ধ হন। ভাতিজা বেঁচে ফিরলেও নাছিমা আর ফিরতে পারেননি।

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা কলেজছাত্রী রিতা আক্তার।
দরিদ্র পরিবারের একমাত্র বড় আশা ভরসা।
৫ আগস্টের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
রিতা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে চলে যান মার্চ-টু-ঢাকা কর্মসূচিতে যোগ দিতে। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন মেয়ে নেই। খুঁজতে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের খোঁজ না পেয়ে মেডিকেল কলেজগুলোর মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেল দৌঁড়াদৌঁড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে মেয়ের মরদেহ পান। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করতে পারেন তিনি।
তার মৃত্যুতে একটি পরিবারের বহু বছরের স্বপ্নও থেমে যায়।

প্রায় ৬০ বছর বয়সী মায়া ইসলাম নাতিকে নিরাপদে ঘরে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন।
একই গুলি নাতির মাথার তালু ভেদ করে দাদির তলপেটে আঘাত করে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মায়া ইসলাম।
আর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শিশুটির চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্যের ব্যাপারে এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুর। 

অনার্সপড়ুয়া মেহেরুন নেছা তানহা শুরুতে আন্দোলনে সক্রিয় না থাকলেও এক আত্মীয় নিহত হওয়ার পর প্রতিবাদে যুক্ত হন।
৫ আগস্ট বাসায় ফেরার পর জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন।
নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করতেন এবং পরিবারের জন্য ছিল তার অনেক স্বপ্ন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো এই দশ নারী ভিন্ন ভিন্ন বয়স, পেশা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করেন।
কেউ ছিলেন শিক্ষার্থী, কেউ গৃহিণী, কেউ কর্মজীবী নারী, কেউ আবার শিশু। কিন্তু তাদের সবার জীবনের শেষ অধ্যায় একই সুতোয় বাঁধা।
তাদের অসমাপ্ত স্বপ্ন, ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের আত্মদান ন্যায়, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার জন্য অবিচল থাকার প্রেরণা হয়ে থাকবে।