



নিষ্পাপ শৈশবে- যখন উড়ে যাওয়া এরোপ্লেন দেখে পাইলট হতে ইচ্ছে করে, ফেরিওয়ালার ঝুড়িতে রঙবেরঙের পসরা দেখে পথে পথে ঘুরে ফেরি করতে ইচ্ছে করে, দাদার রেডিওর সমস্ত পার্টস খুলে- আর না লাগাতে পেরে স্টোর রুমে লুকিয়ে রেখে ভবিষৎ সায়েন্টিস্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে দুনিয়া জয়ের, স্কুল ম্যাগাজিনে নিজের প্রথম প্রকাশিত লেখা ভবিষৎ সাহিত্যিকের ক্ষুদে বুকটা ভরিয়ে তুলছে- সেই সময়ই কিছু শিশুকে মুখোমুখি হতে কুৎসিত অন্ধকারের, বিনা অপরাধে রঙিন নিষ্পাপ স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায় দুঃস্বপ্নের ভীড়ে, জীবনটা হয়ে ওঠে বিভীষিকা।
ক্লাস ওয়ান পড়ুয়া মেয়েটি টিচারের কাছে পড়তে যেতে চাচ্ছে না। তার অভিযোগ টিচার তাকে ব্যথা দেয়। বাবা-মা ধমক দিয়ে পাঠালেন। তারা বললেন, ‘এসব তোমার ফাঁকি দেওয়ার ছল!’ চোখ মুছে শিশুটি টিচারের কাছে পড়তে বসলো। সে জানে না কেন স্যার তাকে কিছু জায়গায় এভাবে ছোঁয়।
গৃহকর্ত্রীর দূর-সম্পর্কের ভাই এসেছে বাসায়। দুপুরবেলা তারই হেফাযতে দশ বছরের কাজের মেয়েটিকে রেখে গৃহকর্ত্রী গেছেন শপিংয়ে। …… লোকটা মেয়েটিকে হুমকি দিলো কাউকে কিছু বললে মেরে লাশ বানিয়ে ফেলবে।
সাত বছরের ফুটফুটে ছেলেটাও বুঝতে পারলো না চাচ্চু তার সাথে বারবার এমন করছে কেন। চাচ্চু বলেছে এটা একটা সিক্রেট মজার খেলা- কাউকে বলা যাবে না। কিন্তু তার খুব কষ্ট হচ্ছে, ব্যথা লাগছে। আম্মু-আব্বুকে কি তার বলা উচিত? যদি তারা বিশ্বাস না করে? ওকেই পঁচা ভাবে? আচ্ছা, চাচা তো খুব ভালো, তাকে কত কি মজার খেলনা দেয়- কত গল্প করে! বলে দিলে কি চাচা আর কখনো ওকে আদর করবে না? সে কীভাবে বলবে আম্মু-আব্বুকে?
মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে মায়াবতী কন্যাশিশুটি যখন বলে উঠলো গ্রামের বাড়ি বেড়াতে এসে তার সাথে কী নির্মম ঘটনাটা ঘটে গেছে, হতভম্ব মা মেয়ের চোখের জল মুছে বললেন, ‘চুপ করে থাকো, কাউকে বোলো না!’
কাকে আমরা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ বলছি?
চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ (CSA) কে বলা যায়, “the imposition of sexual acts, or acts with sexual overtones, by one or more persons on a child (under 18)”– Save the children, CSA Draft Policy.
• শিশুর গোপন অঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ,
• শিশুকে কারো গোপনাঙ্গ ধরতে বলা,
•penetration of a child’s mouth with a penis,
• শিশুর পর্ন ছবি তোলা,
• শিশুকে পর্নোগ্রাফি দেখানো এবং শিশুর সামনে নগ্ন হওয়া,
• শিশুদের পতিতাবৃত্তিতে ঢোকানো, বাল্যবিবাহ,
• শিশুর সাথে বয়স অনুপযোগী sexual behavior নিয়ে আলোচনা,
• শিশুকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করা (যা ছেলে বা মেয়ে শিশু যে কারো ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে)
ইত্যাদি। সুতরাং, কেবল ধর্ষণ নয়, শিশু-যৌননির্যাতন একটি ব্যাপক পরিসরের শব্দ।
শিশুর উপর প্রভাব-
মানসিক
বিষণ্নতা, সহিংস আচরণ, আত্মপীড়নমূলক কার্যকলাপ (নিজেকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া), আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ও হীনমন্যতা, দুঃস্বপ্ন, অসামাজিক আচরণ, সমবয়সীদের সাথে মিশতে না পারা, হঠাৎ হঠাৎ চমকে ওঠা, আত্মহত্যার প্রবণতা (কিশোর বয়েসীদের ক্ষেত্রে), স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে বাধা।
শারীরিক
শিশু গুরুতরভাবে আহত হতে পারে, কোন কোন ক্ষেত্রে চিরতরে প্রজনন ক্ষমতা হারাতে পারে, নিউরোল্যজিকাল ড্যামেজ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, রাতে বিছানা ভেজানো ইত্যাদি।
কিছু তথ্য-উপাত্ত-
১৯০টি দেশের উপাত্ত নিয়ে তৈরি এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের তরফ থেকে বলা হয়েছে বিশ্বে প্রতি দশ জনে একজন মেয়েশিশু ধর্ষিত অথবা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। WHO এর হিসেব মতে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।
ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ২০০৭ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতে ৫৩ভাগ শিশু শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।
ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স- নামে একটি বেসরকারি সংস্থার একজন কর্মকতা রোকসানা সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশের শতকরা নব্বইভাগ শিশু পারিবারিক গন্ডিতেই ধর্ষণ থেকে শুরু করে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শসহ কোন না কোন যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।’ ১৯৯৭ সালে তারা শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার ৫০ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেন, যার মধ্যে ৪৬ জনই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত মানুষদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ মাত্র ৪ জন শিশুর নির্যাতনকারী ছিলেন অপরিচিত ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়েসী ২৮৬ জন শিশু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯ ভাগ শিশু ধর্ষণের শিকার।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যে ৩৯৬ জন শিশু (অনূর্ধ্ব ১৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের কাউনসেলিংয়ের আওতায় আসে তাদের ৮৬ ছেলেশিশু। ছেলেশিশুরাও শংকার বাইরে নয়।
দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে এই নিয়ে এখনো সরকারীভাবে পূর্ণাঙ্গ কোনো সমীক্ষা করা হয় নি। সামান্য নথিভূক্ত তথ্য-উপাত্ত যা পাওয়া যায় তা মোটেই প্রকৃত অবস্থাকে প্রতিফলিত করছে না। কারণ, এ ঘটনাগুলোর অধিকাংশই হয় অভিভাবকদের অসচেতনতায় অজানা থেকে যায় অথবা লোকলজ্জার ভয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
কীভাবে একজন নির্যাতনকারীকে চিনবেন? কেন কিছু মানুষ- এই ঘৃণ্য আচরণটি করে?
বয়স, চেহারা, লিঙ্গ, পেশা ভেদে একজন শিশু-যৌননির্যাতনকারী যে কেউই হতে পারে। সুতরাং তাকে চেনা তত সহজ নয়। এরা শিশুদের সাথে খুব সহজে মিশে যেতে পারে। সাধারণত গল্প বলে ও উপহার দিয়ে প্রথমে এরা শিশুদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করে নেয়, এরপর নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করে। খুব পরিকল্পিতভাবে এগোয়।
আমরা পেডোফিলিয়ার কথা জানি। এটা একটা সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার। পেডোফিলিয়ার রোগীরা কেবল শিশুদের (যারা এখনো বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছোয় নি) প্রতি আসক্ত থাকে। কেন কিছু মানুষ- এই ঘৃণ্য আচরণটি করে- এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যেসব শিশু শৈশবে দীর্ঘসময় ধরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো এদের কেউ কেউ যৌবনে পেডোফাইলে পরিণত হয়।
পেডোফাইলদের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যেমনঃ এরা প্রধাণত হয় পুরুষ (তবে কদাচিৎ নারীও হতে পারে), সমকামীদের মধ্যেও পেডোফিলিয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে এদের তেমন সখ্য থাকে না বরং এদের সখ্য থাকে শিশুদের সাথে, এরা শিশুদের সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো আচরণ করে।
এখানে, স্মর্তব্য যে, সব পেডোফাইল শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন করে না এবং সব শিশু যৌন নির্যাতনকারীই পেডোফাইল নয়।
নির্যাতনকারী শিশুকে সাধারণত যে কথাগুলো বলে-
আপনার শিশুকে রক্ষার্থে আপনার করণীয়-
নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশুকে শেখান-
আপনার শিশুকে/ কিশোর সন্তানকে ধীরে ধীরে তার বয়স উপযোগী sexual education আপনাকেই দিতে হবে, নাহলে কেউ তাকে বিকৃত ধারণা দিয়ে তাকে নির্যাতন করার সুযোগ নিতে পারে। একদিনে সব শেখানোর চেষ্টা করবেন না।
১) শিশুকে তার প্রত্যেকটি গোপন অঙ্গের নাম জানান। কোন অঙ্গগুলো প্রকাশ করা যাবে কোনগুলো গোপন রাখতে হবে তার পুরোপুরি জ্ঞান তাকে দিতে হবে। আপনার শিশুকে বোঝান- কোনটি ‘ভালো আদর’ কোনটি ‘মন্দ আদর’। কেউ তাকে ‘ভালো আদর’ করলে কোন সমস্যা নেই। ‘মন্দ আদর’ করলেই সাথে সাথে বাবা/ মা/ বাসার বড় কাউকে জানাতে হবে।
২) তাকে দু’হাত ছড়িয়ে দাঁড়াতে বলুন। সে যাদের পছন্দ করবে না তাদেরকে যেন কখনো এই ত্রিভূজের মধ্যে আসতে না দেয়। (ছবিটি ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স এর ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।)
৩) তাকে আরো বলতে পারেন- তোমার শরীরের তিনটি জায়গা (নিচের ছবিতে চিহ্নিত) আছে, অনেক বড় বিপদ ঘটতে পারে যদি কেউ এগুলো মন্দভাবে ধরে। তাকে এ-ও বুঝিয়ে বলতে পারেন- কখনো কখনো গোসল করিয়ে দেয়ার সময় মা হয়তো ধরতে পারে। অসুখ হলে বাবামায়ের উপস্থিতিতে ডাক্তার ধরতে পারে। ‘ভালো আদর’ করার জন্য কখনো কেউ জড়িয়ে ধরতে পারে। কিন্তু তুমি যখনই বুঝবে কেউ ‘মন্দ আদর’ করবার জন্য ধরেছে তাকে জোরে ‘না’ বলতে হবে। যদি সে না শোনে তাহলে চিৎকার দিতে হবে, সে যে-ই হোক না কেন আর তাকে তুমি যতই ভালোবাসো না কেন। সেই জায়গা থেকে সরে নিরাপদ কোন জায়গায় চলে আসতে হবে। অবশ্যই মা কিংবা বাবা যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করো তাকে বলে দিতে হবে। (আইডিয়াটি ‘সত্যমেভ জয়তে’র চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ’ নিয়ে করা এপিসোডের ওয়ার্কশপ থেকে নেয়া হয়েছে।)
৪) আপনার শিশুকে শেখান- যে সিক্রেটের সাথে খারাপ কাজ জড়িয়ে থাকে সে ‘সিক্রেট’ বলে দিতে হয় নাহলে বিপদ হয়।
৫) তাকে বলুন, যারা ‘মন্দ আদর’/ ‘খারাপ আদর’ করবে তারা কখনো ভালো মানুষ নয়, তাদের ভালোবাসা যাবে না।
৬) অনলাইনে সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ নিয়ে শিশুদের উপযোগী ভালো ভালো সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপের ভিডিও পাবেন, শিশুকে সাথে নিয়ে সেগুলো দেখান। আপনার শহরে কোন ওয়ার্কশপ হলে সেগুলোতে শিশুকে নিয়ে যেতে পারেন।
আপনার শিশুর সবচেয়ে ভালো বন্ধু হন। যেন সে তার সব কথা আপনার সাথে নিঃসঙ্কোচে শেয়ার করতে পারে। তাকে একথা জানান যে, তাকে আপনি ভালোবাসেন ও বিশ্বাস করেন, আপনি সবসময় তাকে সাহায্য করবেন। শিশুর স্কুলের শিক্ষকদের সাথে পরিচিত হবেন। কোন শিক্ষক কেমন, কে তাকে আদর করে, তাকে কী কী দেয়, সে স্কুলে কী কী করে- গল্পচ্ছলে শিশুর কাছ থেকে জেনে নিন।
ধরুন, আপনার শিশু কারো দ্বারা সেক্সুয়ালি অ্যাবিউজড হলো, এখন আপনার করণীয় কী?
১) আপনার শিশু যদি কারো নামে আপনার কাছে নালিশ করে, শিশুকে বিশ্বাস করুন। শিশুরা সাধারণত এই ব্যাপারে মিথ্যা বলে না। আপনি অবিশ্বাস করলে ভবিষ্যতে হয়তো আর কখনোই শিশুটি আপনার সাথে শেয়ার করবে না।
২) আপনার শিশুকে এটা বুঝতে দেয়া যাবে না তার সাথে খুব ভয়ংকর কিছু ঘটে গেছে। আপনি আপনার শিশুর সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করুন, অস্থির হয়ে যাবেন না।
৩) নিয়মিত একজন ভালো শিশুমনোবিজ্ঞানীকে দিয়ে কাউনসেলিং করান।
৪) শিশুটি যদি খুব গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয় তাহলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন। কখনোই শিশুটিকে বকাবকি করা যাবে না। বরং তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যা হয়েছে তা কোনভাবেই তার অপরাধ নয়, অপরাধ ওই ব্যক্তির। ব্যাপারটি যদি আদালত পর্যন্ত যায়, বিশেষ ব্যবস্থায় মনোবিজ্ঞানীর মাধ্যমে শিশুর জবানবন্দী নিতে হবে, কখনোই শিশুকে জনসমক্ষে ‘তার সাথে কী হয়েছে’ এর বর্ণনা দিতে বলা যাবে না। এসব শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৫) ভিকটিম শিশুটি যদি খুব অল্প বয়েসী হয়- তাহলে হয়তো সে আপনাকে নির্যাতনকারীর কথা বলতে পারবে না। আপনাকে আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকে একাকী যার-তার কোলে দেবেন না। নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সাবধান হোন, প্রয়োজন হলে ডাক্তার দেখান। তবে এগুলো অন্য কারণেও হতে পারে।
• শিশুর গোপনাঙ্গে কোন ক্ষত বা অস্বাভাবিক ফোলা ভাব,
• মুখে ক্ষত,
• পেট খারাপ,
• খাওয়ায় অরুচি,
• বিশেষ কোন ব্যক্তিকে দেখে ভয় পাওয়া,
• হঠাৎ চমকে ওঠা ইত্যাদি।
নির্যাতনকারী কদাচিৎ অচেনা মানুষ হন, অধিকাংশ সময় সে নিকট বা দুরসম্পর্কের আত্মীয়, শিক্ষক, পরিবারের লোক, পারিবারিক বন্ধু, প্রতিবেশী, কাজের লোক ইত্যাদি হন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে- কেবল সন্দেহ করে অহেতুক কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না, এতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। আবার, নিশ্চিত হলে লজ্জায় চুপ করে থাকবেন না, সে আপনার যত ঘনিষ্ট বা সম্মানিত জনই হোক না কেন। পারিবারিকভাবে শালিস করা গেলে ভালো কিংবা আইনি সহায়তা নেবার প্রয়োজন হলে নিন।

আমরা তো এখন আধুনিকতার দোহাই দিয়ে অনেক বিকৃতিকেই স্বাভাবিকভাবে নেয়া শুরু করেছি। ভাবলে ভেতরটা হিম হয়ে আসে- একসময় হয়তো আমরা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ, পেডোফিলিয়া এবং ‘অজাচার’ (ইনসেস্ট) এর মতো জঘন্যতম বিকৃতিগুলোকেও স্বাভাবিক ভাবে নিতে শুরু করবো।
আপনার আমার নীরবতাই হাজারো শিশুর নির্যাতিত হওয়ার পথ সুগম করে দেবে। আসুন, এদের মুখোশ খুলে দিই সভ্য সমাজে, ধিক্কার দিই, কঠোর আইন প্রণয়ন করি, আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করি। সুস্থ-স্বাভাবিক-নিরাপদ শৈশব- প্রতিটি শিশুর অধিকার! আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠুক নিবিড় পবিত্রতায়… আল্লাহর কাছে সে দোয়া রইলো।
লেখায় ব্যবহৃত তথ্যের রেফারেন্স ও গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু লিঙ্ক:
১) শিশু যৌন নির্যাতনরোধে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ও সহায়তা কেন্দ্রসমূহ সম্পর্কে জানতে এই লেখাটি পড়ুন।
২) Child Sexual Abuse – উইকিপিডিয়া
৩) ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট
৪) যেভাবে একজন পেডোফাইলকে চিহ্নিত করবেন
৫)নিকটজনের কাছেই শিশুরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার (প্রথম আলো)
৬) নিজ ঘরেই যৌন নিপীড়নের শিকার বাংলাদেশের যে শিশু মেয়েরা (বিবিসি বাংলা)
৭) সত্যমেভ জয়তে’র পুরো এপিসোডটি
৮ ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ (সংশোধিত)
ফুটনোট[১]
সম্রাট বাবুরের আত্মজীবনী ‘বাবুরনামা’ পড়ছিলাম।ভাবি নি সেখানেও পেডোফাইলদের দেখা পেয়ে যাবো। বাবুর লিখেছেন, “এ কুৎসিত প্রথা দেশময় এভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো যে প্রত্যেক সমর্থ পুরুষই ছেলে রাখতো। এমন কি এরূপ ছেলে রাখাকে গর্বের কাজ মনে করা হতো এবং না রাখাকে লোকে অপৌরুষের চিহ্ন বলে বিবেচনা করতো।”
এমনকি, বাবুর নিজেও স্বীকার করেছেন এক কিশোরের প্রতি তার আসক্তির কথা। তবে তার ওই ‘আসক্তি’ কোনো ‘সম্পর্কে’ রূপান্তরিত হয় নি বলেই মনে হলো। তেমন কোন বর্ণনা নেই।
ফুটনোট[২]
হুমায়ূন আহমেদের ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ছবিতে আমরা শিশু-পতিতাদের কীভাবে ব্যবহার করা হতো দেখেছি। দেখেছি-ইমতিয়াজ আলীর ‘হাইওয়ে’ চলচ্চিত্রে , যেখানে নায়িকাটির শৈশবে তার ‘আঙ্কেল’ কর্তৃক শারীরিকভাবে বারবার লাঞ্ছিত হওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে, সেই যন্ত্রণা কীভাবে তাকে জীবনভর তাড়িত করেছে তাও দেখানো হয়েছে। অনেকদিন আগে দেখা আরো একটি চলচ্চিত্র ‘মিসটিক রিভার’ এ দেখেছিলাম পেডোফাইলরা কীভাবে শিশুদের ব্যবহার করে। ‘ফরেস্ট গাম্প’ মুভিতেও দেখা যায় শৈশবে মেয়েটি তার পিতার দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন শৈশবে তার চাচা ও মামা কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা।
ফুটনোট[৩]
আমাদের তথাকথিত আধুনিক পরিবারগুলোতে হরহামেশা রগরগে দৃশ্য সম্বলিত হিন্দি/ ইংরেজি চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও চলছে। শিশুর সামনেই। কেউ কিছু মনে করেন না। তো, যে পরিবার শিশুকে ইমপ্লিসিটলি এই শিক্ষাই দিচ্ছে- ‘এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার’ সে পরিবারের শিশুকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা খুবই সহজ। এমনও হতে পারে, শিশুটি পুরো ব্যাপারটাকে খুব স্বাভাবিকভাবে নেবে, পরিবারকে জানানোর প্রয়োজনও বোধ করবে না। নৈতিকতার শিক্ষা শিশু পরিবার থেকেই পাবে, না?
*****[পড়ার জন্য ধন্যবাদ। প্রাসঙ্গিক আলোচনা একান্তভাবে কাম্য। নিজে সচেতন হন, অপরকে সচেতন করুন। একমত হলে শেয়ার করুন।]*****
লিখেছেন-রাহনুমা সিদ্দিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

চারটি চাকা আর ইঞ্জিনের সমন্বয়ে গাড়ি হয়, তাতে চালকের বসার জায়গা হুইল এইসব জুড়ে দেয়ার পরও বহু কাজ বাকি থেকে যায়। অনেক সময় একটা গাড়ির যথাযথ দাম, চমৎকার ইঞ্জিন কিংবা মাইলেজ আর অন্যান্য জিনিস সুবিধাজনক হলেও শুধুই ‘দেখতে ভালো লাগছে না’ এজন্য একজন খদ্দের সে গাড়িটি কিনার আশা বাদ দেন।
মানুষ হিসেবে করণীয়র গন্ডি পেরিয়ে মানুষ যখনই আরও একটু গভীরে গিয়ে ভাবতে থাকে, আমি কে, কেন এসেছি আর কোথায় যাবো, ভাবনা বা যুক্তির সে জগতে তার লিঙ্গবিচারের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় তার বিশ্বাস, জীবনের লক্ষ্য এবং তার চারপাশের জগত।
নারী অধিকারের কথা আসতেই কেনই যেন সবাই দুইটি চরমপন্থার অনুসারী মানুষের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করে। একদল হলেন ইসলামিস্টরা, যাঁরা প্রায়শই কথা বলার সময় ভুলে যান , তাঁর এই কথাগুলো হয়ত এমন কোন বোন শুনছেন যিনি মুসলমান নন, অথবা যিনি মুসলমান হলেও তাঁর জীবনের সবগুলো প্যারামিটার ইসলামিক নয়। আর একদল হলেন নারীবাদী। এই শ্রেণীর বা এই শ্রেণীভুক্ত হতে চাওয়া মানুষ এমন বজ্রনির্ঘোষে মেয়েদের অধিকার বর্ণণা করেন, শুনতে থাকা মেয়েরা উজ্জীবিত হলেও বাস্তব জীবনে এসে সেসব ‘অধিকার’ প্রয়োগের জায়গা না দেখে ‘যাহা লাউ, তাহাই কদু’ নামক চক্রে ঘরতে থাকেন। আর পুরুষ শ্রোতা হলে তো কথাই নেই, নিজের আর সঙ্গের মহিলাদের কর্ণকুহরে সে ‘অধিকারময়’ লু হাওয়া ঢুকতে না দিয়ে কেটে পড়েন। কারণ, নারী অধিকারের শ্লোগানে কেবল নারীই মানুষ, পুরুষ তার প্রতিপক্ষ কোন এক অপ্রয়োজনীয় সৃষ্টি।
মজার ব্যপার হল, এই দুই দলের কোন দলই খুব স্পষ্ট করে একটা বিষয়ে কথা বলেন না। সেটা হল, নারীর ‘কর্তব্য’। বলেন নাকি? আসুন, আমরাও আলোচনা করি।
মোটাদাগে ভাগ করতে গেলে মানুষের জীবনের অনেকগুলো ভাগের মধ্যে কয়েকটাতেই মাত্র এইসব অধিকার-কর্তব্যের টানাপড়েন দেখা যায়। কি সেগুলো? প্রথমতই হল, অর্থনৈতিক কর্তব্য। এরপর আসে, সামাজিক কর্তব্য, পারিবারিক দায়িত্ব ইত্যাদি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলাম বা অন্য যে কোন ধর্মে নারীকে যে অধিকারই দেয়া হোক না কেন, আজকাল নারী অধিকার সংস্থা এমনকি রাষ্ট্র পর্যন্ত এ ব্যপারে বেশ সচেতন। ইসলাম যে অধিকার দিয়েছে, তাকে ‘কম’ মনে করে, অন্যান্য ধর্মে একেবারেই না দেয়া অধিকারকে পাশ কাটিয়ে নারী এখন তার ‘সমানাধিকার’ বুঝে নিতে রাষ্ট্রেরও সহায়তা নিয়ে চলেছে। কিভাবে? বিয়ের বেলায় মোহর বুঝে নেয়া, পিতার অবর্তমানে পিতার সম্পত্তিতে সমান হিস্যা ইত্যাদি। এমনকি অনাদিকাল থেকে চলে আসা পুরুষের একমাত্র অধিকার (!) যৌতুকেও বাগড়া এখন রাষ্ট্রের, নিলেই শাস্তি। বেশ! বিয়ের পর? দারা-পুত্র-পরিবারের চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয়, সকল প্রকার বৈধ-অবৈধ, ন্যায্য-অন্যায্য চাওয়াকে পাওয়ায় বানানোর সামাজিক দায়িত্ব কার? পুরুষের। বেশ! এমনকি, যদি স্ত্রী ঘরের রান্না করতে না চান, বাচ্চাদের দেখেশুনে মানুষ করার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর চব্বিশ ঘন্টা ব্যয় না করতে চান, তবে তার বিকল্প ব্যবস্থার জন্য ব্যয় করবে কে? পুরুষ। বেশ!! এ পর্যন্ত ঠিক আছে। ধর্ম বা মানবিকতার দৃষ্টিতে এইটুকু অধিকার খুব দোষের কিছু না।
না, আমি এই বিচারে যাবো না যে কয়টা মেয়ে এ অধিকারটুকু পাচ্ছে। যেহেতু এটি সংবিধানে লিখিত অধিকার, এর ওজন আছে এবং সেই ওজন রক্ষা করে তাকে বাস্তব রূপ দান রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। আজ না হোক, কাল এই অধিকার আদায় হবেই। সেই বিশ্বাস আমার আছে। তবে? নারী, যে অধিকারের দিক থেকে ‘সমঅধিকার’ পাচ্ছে, অন্তত সে ব্যবস্থা করতে সবাই আন্তরিক, কর্তব্যের বেলায় সে কেন ‘সমদায়িত্ববোধ’ অনুভব করবে না? যে নারী, সমাজের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য বাবা মা থেকে শুরু করে পাড়ার রিকশাওয়ালা পর্যন্ত বাড়তি কষ্ট করে, তার সেই ঋণ কে শোধ করবে? সেই দায়িত্ববোধ, এক কাঁড়ি গয়না পরে ঘন্টাচারেক ধরে ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফী’ তুলে, কিংবা নয় মাস সমাজের জন্য নতুন একজন সুনাগরিককে বহন করেই কি শেষ? কেন? কেন নয়? 
সোজা কথা একটাইঃ সমাজের প্রতি নারীর দায়িত্ব কি? আদর্শ অবস্থা ধরে নিই, নারী তার অধিকার বুঝে পাচ্ছে। মুসলিম হলে মুসলিম পারিবারিক আইনে ভাইয়ের অর্ধেক আর অন্য ধর্মের হলে, ধর্ম না দিলেও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ভাইয়ের সমান অংশ পাচ্ছে পিতার সম্পত্তিতে। আর মুসলিম হলে মাহর পাচ্ছে। তো, এই পরিমাণ সহায় সম্পদ অর্জনের পর রাষ্ট্র/ সমাজ /পরিবার বলছে, “নেও এইবার আলমারিতে তালা দেও। খুশী তো?”। ব্যাস, সমঅধিকারবাদীদের কাজ কিন্তু আর নাই। এইবার কে আছে, নারীকে কোন কাজ দেবেন? আপাতদৃষ্টিতে কেউই নাই। সুতরাং বৈভব দেখাতে এই মহিলারা বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে যান বেনারসী বা সাউথ কাতান পরে, বাচ্চাকে হরেক কোচিং এ দিয়ে আত্নতৃপ্তিতে ভুগতে থাকেন, অথবা গয়নার স্টাইল জানতে সিরিয়ালের শরণাপন্ন হন। একটা অংশ আছেন, ধর্মকর্মে মন দেন। বাচ্চাদের মানুষ করার সময়টুকু বাদে বাকিটা সময় দেন ইসলামকে জানতে। হায়! এই লাইটহাউসেরা যদি জানতেন, তাঁরই পাশের কোন এক অন্ধকারে হাতড়ে মরছে অন্য কোন নারী। জানেন কি? খুব কম!
আর পুরুষেরা? কামাই করেন উদয়াস্ত খেটে, বাসায় ফিরে পানের ওপর যথাস্থানে চুন দেখতে ভালোবাসেন। আর পার্টিতে গল্প করেন, “আপনার ভাবি, বুঝলেন না, মার্কেটে গেলে আমাকে কাঁদায় ছাড়ে। এতো কেনে তবু শেষ নাই। হে হে হে…” এই সমাজের সুবিধাভোগীদের কেউ স্মরণ করিয়ে দেন না, ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক অধিকার যেমন দিয়েছে, অলাভজনক সেবামূলক কাজের ভারও নারীকেই দিয়েছে। প্রমাণ চান? সন্তানকে লালন পালনের কাজ, বিনে পয়সায় স্তন্যদান কে করবে? দুই/আড়াই বছর পর্যন্ত? এরপর কে তার প্রাথমিক শিক্ষা দেবে? কি বলে আপনার জ্ঞান?
পুরুষের সাথে নারীর কাজের পার্থক্য মূলত দুইটি। এক, নারীর বাড়তি শারীরিক মানসিক যোগ্যতা। আর দুই, নারীকে অর্থোপার্জনের বাধ্যতামূলক কাজ করতে হবে না। তাই এই কাজ তিনি করতে পারবেন, ইচ্ছেমত, সানন্দে, অন্যদের স্বস্তি দিতে। এবার আসি আর একটু বড় প্রসঙ্গে, সমাজ বা রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কি করবে? জবাব হল, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষ যেমন সময়/সুযোগ/ইচ্ছেমতন পেশা বাছাই করে নেন, কোন পিছুটান ছাড়াই, নারীকে সে ব্যবস্থা করে দিবে। উদাহরণ দিই। গুলশান বনানী বলুন, কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ের কোন গ্রাম বলেন, সব জায়গায় একদুইজন মুচি থাকে, মাছওয়ালা থাকে, দর্জি থাকে, মুদি দোকানদার থাকেন। কয়জন থাকবে, সরকার সে সংখ্যা ঠিক করে দেন না, তবে কোন পুরুষ যখন সে পেশা বেছে নেয় বাকিরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ঈদ সামনে রেখে কাজের চাপ বাড়লে দর্জিবাড়ির ধান কেটে বাড়িতে আনতে গেরস্থবাড়ির পুরুষটিও হাত বাড়ান। অর্থাৎ এক্ষেত্রে শুধু নিজের লাভ না ভেবে সমাজের উন্নতির কথা ভাবে সবাই। কিন্তু নারীর কাজের বেলায় কি আমরা এমনভাবেই হাত বাড়াই?
আপনার আমার স্ত্রী-বোন-মা অসুস্থ হলে খুঁজেপেতে মহিলা ডাক্তার বের করি, আমার আত্নীয়াটির মানসিক আরামের কথা ভেবে, কিংবা মেয়ে সন্তানটির জন্য শিক্ষক হিসেবে কোন মহিলাকেই দেখতে চাই, প্রবাসী হলে চাই আমার আত্নীয়াটি ব্যাঙ্কে কোন মহিলা কর্মকর্তার সহায়তায় সঞ্চয়পত্র খুলুক বা সাহায্য নিক। কিন্তু সমাজের সদস্য হিসেবে, সে ডাক্তার মহিলাটিকে এক বেলা রেঁধে খাওয়াবার পরামর্শ দিই আমার আত্নীয়াদের? আমার মা বোনকে বলি প্রতিবেশী ডাক্তার বা শিক্ষিকা বা অন্য পেশায় নিয়োজিত মহিলাটির সন্তানকে নিজের সন্তানের মত দেখে রাখতে? যতক্ষণ না তিনি নিজে বাসায় ফিরে আসেন? তবে?
পুরুষের যেমন কাজের বৈচিত্র্য আছে, থাকাই দরকার, নারীরও তাই থাকা চাই। কাউকে যেমন হোমমেকার হতে হয়, বা হতে পারার যোগ্যতা দেয়া হয়েছে, কেউ পারেন, চাকুরীক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করে আরও দশজন নারীর জন্য অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যবস্থা করে দিতে। তবে, এজন্য পুরোটা সমাজকেই একত্র হতে হবে। আবার যারা ঘরে বসে কাজ করতে চান, তাঁরাও যেন কাজ করতে পারেন, এমন দরজাও খোলা থাকা দরকার। কে করবে এই কাজ? আপনি। আপনি পুরুষ না মহিলা, যা ই হোন, আপনিই শুরু করে দিতে পারেন।
আপনি যদি গ্রামে থাকেন, আপনার বাড়ির মেয়ে বউদের নিয়ে বসুন। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী সামষ্টিক কাজ ভাগ করে দিন। লেখাপড়া জানা বউটিকে বলুন, রান্নার কাজের সহায়তা করে বিকেল থাকতেই বাড়ির বাচ্চাদে রপড়ানো শুরু করতে। আর তার কিছু কাজ আপনারাই এগিয়ে দিতে পারেন। আর যদি শহরে থাকেন, আপনার এলাকার না পারেন, বিল্ডিং এর মেয়ে বউদের একত্র করুন। অযথা আত্নম্ভরিতা বা নাক উঁচু ভাবের খোলস ছেড়ে বের করে আনুন। যে তিনটি মহিলা কর্মজীবি, তাঁদের বাচ্চার দেখাশোনার জন্য আর এক দুইজন সমবয়সী বাচ্চাদের মা’কে অনুরোধ করুন, খানিকটা বেতনের আদানপ্রদানও হলে ক্ষতি নেই। অন্য দুই একজন রান্নাবিলাসীদের বলুন, সবার জন্য কম দামে বাড়িতে তৈরী খাবার বানিয়ে বিক্রী করতে। যেন, কর্মজীবি মা’টি কাজের তাড়ায় বাচ্চাদের কেনা খাবার খাওয়াতে গিয়ে ঠকে না যান।
এ তো গেলো, ক্ষুদ্র পর্যায়ে। চাইলে আর একটু দূরেও আপনি প্রসারিত করতে পারেন ইনসাফের হাত। মোটের ওপর কথা হল এই যে, যেহেতু মহিলাদের হাতে সংসার চালাবার ভার নেই, এমন কাজ তিনি করতেই পারেন যাতে অন্যদের উপকার হয়, আর তিনি চাইলে অন্তত সে উপকারের খরচটূকু তুলে নিতে পারেন। আর যে মা’কে অর্থোপার্জনের জন্য কাজ করতেই হয়, তিনি তো আরও সাহায্য পাবার দাবীদার। মূল লক্ষ্য হল, নিজেরা ভালো থাকা আর ভবিষ্যত প্রজন্মকে হাত-পা-মাথাওয়ালা ‘প্রাণী’ না বানিয়ে মানুষ বানানো।
মহিলারা যেইদিন নিজেদের এভাবে তুলে ধরতে পারবেন, সেদিন অবশ্য পুরুষের একটা কাজ কমে যাবে। কি? “আর বলবেন না ভাই, আটটা থেকে এগারোটা রিমোটটা পাই না, কিনেই ফেললাম একটা ট্যাব” গল্প করতে পাবেন না, অথবা বাজারে বাজারে ‘বিবির বিবি (bag bearer)’ হয়ে ঘুরতে হবে না আগের মত। ভাগ্যবান হলে, আপনার স্ত্রী-কণ্যা-বোন বা মা-ও হয়ে যেতে পারেন, মনের রঙ দেখানোর কারিগর। বাইরের রঙ কেনার ঝোঁকে আর সন্ধেগুলা খরচ করতে নাও রাজী হতে পারেন তিনি। কাজ বাড়বেও বৈকি, বাইরে যাবার সময় আপনার চশমাটি এগিয়ে দিতে যেমন আপনার স্ত্রী হাতের মশলা মুছে ছুটে আসেন, মাঝে সাঝে আপনিও দৌড়াতে হতে পারে স্ত্রীর আধখাওয়া চা নিয়ে।
তাতে কি? সুস্থ শরীর আর সুস্থ মনে বেড়ে উঠতে থাকা আপনার সন্তানদের মুখগুলো আপনাকে ভালোবাসার আধার বানিয়ে দিতেই পারে, না? ইচ্ছে করেই মুখ‘গুলো’ বললাম। হোক সে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কোন পেশার, আপনার স্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা পেলে হয়ত আপনার সন্তানটিকে একাকীত্বের ভয়াবহ যন্ত্রণা থেকে বাঁচিয়ে দিতে আপনারা দুজনেই একমত হয়ে যেতে পারেন, নয় কি?
লেখক- ব্লগার অর্ফিয়ুস

আমি বড় হয়েছি বাবা-মা এবং ছোট ভাইয়ের সঙ্গে, মেক্সিকোর ছোট একটা শহরে। আমাদের বাসা ছিল সমুদ্রের ধারেই। সারা দিন প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম, রাস্তায়-সাগর পাড়ে ফুটবল খেলতাম। এর চেয়ে ভালো শৈশব একজন শিশু আর কোথায় পাবে?
আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে, আমার নিজের কোনো রোল মডেল আছে কি না, বা অভিনেত্রী হিসেবে আমি কাউকে অনুসরণ করি কি না। জীবনের অনেকটুকু সময় আমি এর উত্তর নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু দেরিতে হলেও আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি, আমার পরিবারের সেই সব নারী যাঁরা প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সেটাকে বিকশিত করার সুযোগ পাননি, তাঁদের স্বপ্নগুলোকে পূর্ণতা দিতে পারেননি—তাঁরাই আমার জীবনের অনুপ্রেরণা।
আমার মাকে তাঁর স্বপ্নের পথ থেকে সরে আসতে হয়েছিল। তিনি একজন সংগীতশিল্পী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় সমাজে এটাকে ছোট করে দেখা হতো। তিনি নিজেকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতেন যে তাঁর হয়তো সেই যোগ্যতা নেই। সংগীতের সাধনা করার বদলে তিনি বিয়ে করলেন, তাঁর সন্তানেরা জন্ম নিল। এর অনেক বছর পরে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি আবার সংগীতের চর্চা শুরু করলেন এবং অসাধারণ সাফল্য পেলেন।
এরপর মা আমাদের শহরে গান শেখার স্কুল খুললেন। শিশুদের অপেরা শেখাতে শুরু করলেন, অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। মেক্সিকো সিটি থেকে ভালো শিক্ষক নিয়ে এলেন। তাঁদের অনেক ছাত্র এখন পেশাদার শিল্পী হিসেবে খ্যাতিমান হয়েছেন।
বাবা-মাকে দেখে আমি সব সময়ই মানুষকে সাহায্য করতে শিখেছি। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে নারীদের অধিকার রক্ষায় ‘চাইম ফর চেঞ্জ’ যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা তাঁদের কাছ থেকেই আমি পেয়েছি। পৃথিবীর যেখানে জনগণ নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সেখানে নারীরাই সবচেয়ে নিগৃহীত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা দেখতে পাব, সমগ্র আমেরিকাজুড়ে মানব পাচার একটি লাভজনক ব্যবসা। এখানে নারীরা এখনো পারিবারিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং তাঁদের সাহায্য করার জন্য পর্যাপ্ত বিচারিক ব্যবস্থা নেই।
আমার দাদি মারিয়া লিসা লোপেজ, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। একাধারে তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান কবি, গীতিকার, বিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ। ইতিহাস ও চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়েও তিনি অনেক কিছু জানতেন।
তিনি নিজেই বিউটি ক্রিম বানাতেন এবং বাজারজাত করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এসব তিনি করতেন তাঁর রান্নাঘরে। তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেকটুকুই এগিয়ে ছিলেন এবং যেকোনো কিছুই করতে পারতেন। কিন্তু সময়টা তখন ছিল ১৯৩০। তাই তাঁকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর স্বামীকে ত্যাগ করেন এবং মেক্সিকো সিটিতে চলে এসে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।
নিজেকে একজন মা ভাবতে আমি গর্ব বোধ করি। কিছু মানুষের জন্য মাতৃত্ব একটা কাজের বোঝা। কিন্তু আমার জন্য তা নয়, এটার কারণ হতে পারে আমি আমার মেয়ে ভ্যালেন্তিনা’কে পেয়েছি জীবনের ৪১তম বছরে এসে।

আমার অনেক বন্ধু, যাদের কোনো সন্তান নেই তারা বলে, আমার সঙ্গে থাকা অসম্ভব। কারণ, আমার সব কথাই মাতৃত্বকে কেন্দ্র করে। কিন্তু একজন মা হওয়া হাজারো কাজের চেয়ে ক্লান্তিকর। মা হওয়া ছাড়া আমি এখন কোনো কাজ করছি না। আমি এখন যে কাজটি করছি সেটি টাকার জন্য নয়। এটা মানুষ হিসেবে আমার নিজের উন্নতির জন্য।
আমি যখন অভিনয় শুরু করি, আমাকে বারবার বলা হয়েছিল, আমি যথেষ্ট ভালো না। কিন্তু আমি প্রতিবার নিজেকে বলেছি, আমাকে লেগে থাকতে হবে। আমি এখন বুঝতে পারি, আমার মা ও দাদির অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে কতটুকু সাহায্য করেছিল। ভ্যালেন্তিনাকেও আমি একইভাবে বড় করতে চাই। তার ওপরে আমি কোনো স্বপ্ন বা চাহিদা চাপিয়ে দিতে চাই না। আমি চাই, সে বড় স্বপ্ন দেখবে এবং নিজের যোগ্যতায় সেটা অর্জন করে নেবে।
একজন অভিনেত্রী হিসেবে, একজন মা হিসেবে আমি সব সময়ই সেরা কিছু করতে চেয়েছি। কারণ, আমি সেই সব মহান নারীকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে চেয়েছি, যাঁরা নিজেদের প্রতিভার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাননি।
আমি নিজেকে একজন নারীবাদী হিসেবে ভাবি। কারণ, আমি নারীদের ভালোবাসি এবং তাঁদের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। আমি চাই পৃথিবীটাকে নারীদের জন্য নিরাপদ করে গড়ে তুলতে। আমি নারীবাদী কারণ, বন্ধু হিসেবে, সহকর্মী হিসেবে আমি প্রতিদিনই নারীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছি। অনেক অসাধারণ নারী আমাকে আজকের আমি হিসেবে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান। ২৯ মার্চ, ২০১৩ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন মনীষ দাশ

দেড় মাস ধরে ভারতের আসাম রাজ্যের শিশু আশ্রমে আছে ছয় বছরের শিশু রনি। টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলে সে। ফিরতে চায় মায়ের কাছে। ছয় বছরের রনি কোনো নিয়ম বোঝে না। মাকে সে বলে, ‘মা মুই তোর কাছে যাইম, মোক বাড়িত নিয়া যাও।’
গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুসা ফেরুসা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রম থেকে স্থানীয় এক বাসিন্দার মাধ্যমে মুঠোফোনে মায়ের কাছে ফোন করেছে শিশুটি। ছেলের আকুতি শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। পাশেই ছিলেন রনির বাবা জয়নাল আবেদীন (৩০)। চোখের পানি মুছে বলেন, দেড় মাস ধরে ছেলেটা আসামের একটি আশ্রমে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই হামার ছাওয়াক আনি দেও। তানা হইলে ওর মাকে বাঁচানো যাবে না।’
রনি কীভাবে আসামের ওই আশ্রয়ে গেল, এ ব্যাপারে বাবা জয়নালের দেওয়া ভাষ্য, এলাকায় রিকশা চালাতেন তিনি। সংসারের অভাব লেগেই থাকত। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে এক দালালের মাধ্যমে অবৈধপথে ছয় মাসের শিশু রনিকে নিয়ে ভারতে চলে যান। দিল্লির ঝরঝর জেলার শনিপথ থানার খরগোদা গ্রামে দূর্গা নামের একটি ইটভাটায় স্বামী-স্ত্রী দুজনে কাজ শুরু করেন। সেখানে তাঁদের আরও দুটি মেয়ের জন্ম হয়। তাদের নাম জান্নাতী (৪) ও জেসমিন (দেড় বছর)। এর মধ্যে বড় হয়ে যায় রনি। রনিকে বাংলাদেশের স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ভাবেন তাঁরা।
ছেলেকে বাংলাদেশে পাঠাতে আবার দালালের কাছে যান জয়নাল। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত পারাপারের ভারতীয় দালাল মইনুদ্দিনের মাধ্যমে তিনি আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার টাকিমারী সীমান্ত দিয়ে রনিকে দেশে তার দাদা-দাদির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেন। গত ১১ এপ্রিল টাকিমারী সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা মইনুদ্দিন ও রনিকে ধরে ফেলে। মইনুদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। রনি বিএসএফের কাছে আটকা পড়ে।
জয়নালের তথ্যমতে, খবর পেয়ে রনির দাদা হজরত আলী কুড়িগ্রাম ৪৫ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধীন চৌদ্দকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে এ ঘটনার কথা জানান। বিজিবি আটক হওয়া রনিকে ফেরত চেয়ে টাকিমারী বিএসএফ ক্যাম্পে চিঠি পাঠায়। এ পর্যন্ত তিন দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু রনিকে ফেরত দেওয়া হয়নি। মাস খানেক আগে দেশে ফিরে এসেছেন রনির মা-বাবা।
এ ব্যাপারে রনির দাদা হজরত আলীর ভাষ্য, যখন জানতে পারেন বিএসএফ তাঁর নাতিকে নিয়ে গেছে, তখন চৌদ্দকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে ঘটনাটি জানান। সেখানে প্রথম পতাকা বৈঠক হয়। ওইদিন বিএসএফ তাঁকে বলেছে যে রনিকে ফেরত পেতে হলে তার বাবা-মাকে উপস্থিত হতে হবে। বিষয়টি জানার পর রনির মা-বাবা নানা কৌশলে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। বিএসএফের দাবি অনুযায়ী রনির মা-বাবাসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে তাঁরা দ্বিতীয় দফা পতাকা বৈঠকে যান। বৈঠকে বিএসএফ শিশুকে ফেরত না দিয়ে জানায়, রনির বাবা-মার রক্ত পরীক্ষার কাগজপত্র, জাতীয় ভোটার আইডি কার্ড, রনির ছবি ও জন্মনিবন্ধন কার্ড লাগবে। সেগুলো নিয়ে গেলে রনিকে ফেরত দেওয়া হবে।
তৃতীয় দফা পতাকা বৈঠকে সপরিবারে কাগজপত্রসহ গেলে টাকিমারী ক্যাম্পের বিএসএফ জানায়, রনি আসামের ধুবরীর একটি শিশু আশ্রমে আছে। তাঁকে পেতে হলে আরও ওপর মহলে যোগাযোগ করতে হবে।
রনির দাদা হজরত আলীর ভাষ্য, রনিকে ফেরত না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এ সময় আবু তালেব নামের এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে রনিকে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে। রনিকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চার দফায় ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
ফুলবাড়ী নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শান্তাদুল ইসলামের ভাষ্য, তিনি তৃতীয় দফা পতাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিএসএফের কাছে রনির বাবা-মা, দাদার রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন, ভোটার আইডি কার্ড, ছবি সবই দেওয়া হয়। কিন্তু রনিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে বিজিবির দইখাওয়া ক্যাম্পের হাবিলদার আলী আহম্মেদের ভাষ্য, শিশু রনিকে ফেরত চেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিন দফা পতাকা বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। শিশুটির বাবা-মা ও দাদার রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন, ছবি, ভোটার আইডি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিএসএফ শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। এখনো যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
সূত্র-প্রথম আলো।

ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানীর অন্যতম খ্যাতনামা বিদ্যালয় মোহাম্মপুর প্রিপারেটরি স্কুল ও কলেজ।
শনিবার সকাল থেকেই মোহাম্মপুরে বিদ্যালয়ের বালিকা শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন অভিভাবকরা। এ সময় বিদ্যালয়ের বালিকা শাখার ইংরেজি বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা জিন্নাতুননেছার পদত্যাগ দাবি করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তারা। উত্তেজিত অভিভাবকরা এ সময় বিদ্যালয়ের গেটের সামনে ও জানালায় ভাঙচুর করেন।
এদিকে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনও এসে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ম তামিম।
তিনি বলেন, ”গত ৫ মে প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে পাশের একটি নবনির্মিত ভবনের রুমে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করা হয় গত ৯ মে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ রকম একটি অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীর মা।”
ওই অভিযোগকে আমলে নিয়ে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। কমিটিকে বলা হয়েছিলো তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য। ওই অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিলো আজ (শনিবার)। কিন্তু বিশেষ কারণে তা জমা দেয়া হয়নি।’
কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের সময়সীমা আরও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। স্কুলের প্রতিটি টয়লেটের সামনে একজন করে আয়া নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ছাত্রীরা কোনো সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জানাতে পারবে। এছাড়া স্কুলের দুই জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান ম. তামিম।
এদিকে বিক্ষোভের সময় রুমের বাইরে ভাঙচুর করেন অভিভাবকরা। এ সময় বিদ্যালয়ের বালিকা বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা জিন্নাতুন্নেছার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অভিভাবকরা বলেন, তার দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এসব হয়েছে। অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন অভিভাবকরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিলো।



বাঙ্গালীর খাবার মানেই নানান পদের,নানান স্বাদের ছড়াছড়ি। বিভিন্ন মশলায়,বিভিন্ন রকম স্বাদে খাবার খাওয়া এবং তৈরীতে আমাদের আগ্রহের সীমা নেই। আর যেহেতু পহেলা বৈশাখের মতো সার্বজনীন উৎসবে আমাদের কে খেতে হয় সম্পূর্ণ দেশীয় স্বাদের খাবার এবং সেই খাবারটা যদি হয় ভিন্ন ভিন স্বাদের তবে আর মন্দ কি?
পহেলা বৈশাখে খাবারের আইটেমের প্রধান আকর্ষন থাকে ইলিশ মাছ। ষোলআনা বাঙ্গীলায়ান প্রকাশের কারণেই হোক,আর ঐতিহ্য পালনেই হোক,ইলিশ মাছের হরেক রকমের আইটেমের সাথে পান্তা ভাত মানেই উৎসব হবে আনন্দে পরিপূর্ণ।
তো চলুন আজ জেনে নেই,আসছে উৎসবে ইলিশের কি কি আইটেম তৈরী করে আমরা আমাদের উৎসব কে করতে পারি আনন্দে মুখর,
লবণ ইলিশের ভুনা
উপকরণ : লবণ ইলিশ ২/৪ টুকরা , পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল পরিমাণ মতো।
প্রস্তুত প্রণালি : লবণ ইলিশ ভালো করে বেটে নিন। বাটা ইলিশের সঙ্গে তেল বাদে সব উপকরণ ভালো করে মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে গরম করে মাখানো উপকরণ ছেড়ে দিন। ভালো করে কষানো হলে সামান্য পানি দিন। কিছুক্ষণ চুলায় বসিয়ে রাখুন। তেল উপরে উঠে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
ইলিশ মাছের ভর্তা

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, শুকনা মরিচ ২/৩টি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ ২/৩ টি।
প্রস্তুত প্রণালি : ইলিশ মাছ লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে কাঁটা ফেলে নিন। সিদ্ধ করা মাছের সঙ্গে হলুদ-মরিচ মেখে নিন। প্যানে তেল দিয়ে শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ ফালি, পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভাজুন। কাটা বাছা মাছ দিয়ে দিন। ভালো করে কষিয়ে সামান্য পানি দিন। তেলের ওপর উঠে এলে নামিয়ে পরিবশন করুন ।
ভাপানো ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, সরিষা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, কাঁচামরিচ ৬/৭ টি, তেল ১/২ কাপ, লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : একটি সসপ্যানে মাছ নিয়ে সব উপকরণ এক সঙ্গে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। একটি বড় কড়াইয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত গরম পানিতে সসপ্যানটি ঢেকে বাসিয়ে ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিন। ১০ মিনিট পর আস্তে করে মাছগুলো উল্টে দিন। আবার ১০ মিনিট পর নামিয়ে নিন। সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ইলিশের দোপেঁয়াজি

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল ১/২ কাপ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ ৪টি।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে হলুদ, মরিচ ও লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। প্যানে তেল দিয়ে মাছগুলো ছেড়ে দিন। কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
পাতলা ঝোলে ইলিশ

উপকরণ : ইলিশ মাছ ৮ টুকরা, পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ ৪/৫টি, তেল ৪ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : মাছ ধুয়ে সব উপকরণ মাখিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে (ঝোল পাতলা হবে, সে অনুযায়ী পানি দিতে হবে) চুলায় বসিয়ে দিন। নামানোর আগে কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
দই ইলিশ
উপকরণ : ইলিশ ১টা, সয়াবিন তেল হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ বাটা হাফ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি হাফ কাপ, হলুদ বাটা ২ চা চামচ, মরিচ বাটা ২ চা চামচ, ধনে বাটা ২ চা চামচ, ভাজা মসলা হাফ চা চামচ, আদার পাউডার হাফ চা চামচ, লবণ পরিমাণ মত।
প্রণালী : ইলিশ মাছের বড় টুকরা করে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ দিতে হবে। পেঁয়াজ একটু ভেজে সব মসলা ও পেঁয়াজ বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। অল্প পানি দিয়ে মাছের টুকরাগুলো বিছিয়ে দিন। কিছুক্ষণ কষিয়ে ১ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। তারপর দই দিয়ে ৩০ মিনিট রান্না করতে হবে। মাঝখানে ঢাকনা খুলে মাছ উল্টিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে নিন। টক দই হলে সামান্য চিনি দিন। মৃদু আঁচে রেখে ভুনা করে চুলা থেকে নামান।
কড়াই ইলিশ
উপকরণ: মাঝারি বা বড় ইলিশ মাছ ১টি, টমেটো ২টি, ক্যাপসিকাম ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, এলাচ ও লবঙ্গ তিনটি করে, তেজপাতা ১টি, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সয়াবিন তেল ৫ টেবিল চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি এক চিমটি, কাঁচা মরিচ কুচি ২-৩টি, পানি ২ কাপ।
প্রণালি: মাছ টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি করে নিন। শুকনা কড়াইয়ে ক্যাপসিকাম কুচি টেলে নিন। কড়াইয়ে ৪ টেবিল চামচ তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এতে এলাচ-লবঙ্গ-তেজপাতা দিন। কালোজিরা বাদে একে একে বাকি মসলাগুলোও দিয়ে কষিয়ে নিন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে একটু নাড়ুন। এবার এই মিশ্রণ ব্লেন্ডারে মিহি পেস্ট করে নিন। অন্য কড়াইয়ে বাকি তেল গরম করে কালোজিরা ফোড়ন দিন। এতে মসলার পেস্ট দিয়ে দিন। একটু কষিয়ে ২ কাপ পানি দিন। ঝোল ফুটলে মাছ বিছিয়ে দিয়ে লবণ ছিটিয়ে দিন। এক ঘণ্টা তাওয়ার ওপর দমে রেখে দিন। ঝোল মাখা মাখ হলে নামিয়ে একটু চিনি ছিটিয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।



বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের ৩০ শতাংশ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে বাসায় তৈরি খাবার থেকে। আমেরিকায় ৭ দশমিক ৬ কোটি মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ভুগে থাকেন, যাদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এর মধ্যে ৫ হাজার জন মৃত্যুমুখে পতিত হন।
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি বিজ্ঞানসম্মতভাবে খাদ্য নাড়াচাড়া করা, তৈরি করা এবং গুদামজাত করা, যাতে খাদ্যবাহিত কোনো রোগ সংক্রমণ হতে না পারে। এখানে বলে রাখা ভালো, খাদ্য গ্রহণে মানুষ থেকে মানুষের দেহে, পশু থেকে মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ হতে পারে এবং খাদ্যের মধ্যে পরজীবী জীবাণু ছত্রাক বংশ বৃদ্ধি করে মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যের মধ্যে বিশুদ্ধ পানিও অন্তর্ভুক্ত। সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যে কোনো দেশের একটি মৌলিক অঙ্গীকার। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যশস্য উৎপাদন, খাদ্যের লেভেলিং বা চিহ্নিতকরণ, খাবারের সঙ্গে এডিটিভ ও পেস্টিসাইড (কীটনাশক) ব্যবহার, খাবার গুদামজাতকরণ এবং বাজারে সরবরাহ ইত্যাদি সবকিছুকে বোঝায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুখাদ্যের পাঁচটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- ১. মানুষের মধ্যে, জীবজন্তুর মধ্যে, গৃহপালিত পশুর মধ্যে খাবারের সঙ্গে রোগ সংক্রমণকারী জীবাণু ছড়ানো বন্ধ করা। ২. কাঁচা ও সিদ্ধ করা খাবার আলাদা করা। যাতে সিদ্ধ করা খাবারে কোনো সংক্রামক জীবাণু না থাকে। ৩. খাবার সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে রান্না করা যাতে সব সংক্রমণ করা জীবাণু মরে যায়। ৪. খাদ্য সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। ৫. সুপেয় পানি ও কাঁচামাল নিরাপদ করার ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, তত্ত্বীয়ভাবে খাবারে বিষক্রিয়ার ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।
কী কী সংক্রমণকারী খাবার সংক্রমণ ঘটিয়ে রোগ সৃষ্টি করতে পারে
১. জীবাণু ঘটিত : ক) ক্লষ্টিডিয়াম বুটোলিনা (খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে মৃত্যু হতে পারে), খ) এসকেকোলাইরিশিয়া (ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি), গ) সালমোনেলা (টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড), ঘ) লিষ্টেরিয়া, ঙ) ভিব্রিও কলেরা (কলেরা তৈরি হতে পারে)।
২. ভাইরাস ঘটিত : ক) এনটেরে ভাইরাস (পাতলা পায়খানা), খ) হেপাটাইটিস এ (জন্ডিস, পাতলা পায়খানা), গ) রোটা ভাইরাস (বাচ্চাদের পাতলা পায়খানা), ঘ) নরওয়াক ভাইরাস (বয়স্কদের পাতলা পায়খানা)।
৩. পরজীবী ঘটিত : ক) এনটামোয়েবা হিস্টোলাইটিকা (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), খ) জিয়ারডিয়া (আমাশয়, পাতলা পায়খানা, বদহজম), গ) ক্রিপটোস্পোরি ডিয়োসিস।
৪. এলার্জিজনিত প্রদাহ : বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, বেগুন ইত্যাদি খাওয়ার কারণে।
খাদ্য নিরাপদ করার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার
প্রতিটি উন্নত দেশে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন- ফুড অ্যান্ড সেফটি অরগানাইজেশন, কাস্টমার-কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইন-কানুনসহ খাদ্য অধিদফতর, কৃষি, স্বাস্থ্য অধিদফতর ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান বছরে বিভিন্ন সময়ে সভায় বসে খাদ্য সঠিকভাবে উৎপন্ন হচ্ছে কি-না, জৈব-অজৈব রাসায়নিক সার যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর তা ব্যবহৃত হচ্ছে কি-না, ফসল তোলার পর খাদ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত বা গুদামজাত হচ্ছে কি-না, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বড় বড় মার্কেটে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি-না, সর্বোপরি প্রক্রিয়াজাত উৎপাদিত খাবারে সঠিক খাদ্য উপাদান আছে কি-না- তার লেবেল যুক্ত করা, উৎপাদনের তারিখ এবং শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা এবং কত তাপমাত্রায় সার সংরক্ষিত করতে হবে তার উল্লেখ করা- এ সবকিছুর তদারক করে। এগুলোর উল্লেখ থাকার পরই তা জনসাধারণের কাছে সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর ব্যত্যয় হলে অথবা কোনো খাবার গ্রহণের ফলে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে আক্রান্ত রোগীর সময়োপযোগী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সংক্রমিত খাবারটি বাজার থেকে তুলে নেয়া- এসব কাজও কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, সরকার, পেশাজীবী আইন প্রণেতা এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি বড় ধরনের ভূমিকা আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এ ধরনের তত্ত্বাবধায়ক অধিদফতরের সংখ্যা কম। যে কয়টি অধিদফতর আছে তাদের লোকবল অপ্রতুল। এ কারণে আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নিচে উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি এ বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা। ২. খাদ্য ও পানির মাধ্যমে কী কী রোগ সংক্রমণ হয় সে সম্পর্কে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে ডাক্তার, আইন প্রণেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সরকার ও পেশাজীবীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ। ৩. খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং সঠিক সময়ের জন্য সিদ্ধ করে খাওয়া। ৪. খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেয়া। ৫. যেসব রোগের টিকা আছে সেগুলোর জন্য প্রতিষেধক হিসেবে টিকা গ্রহণ করা।
এগুলো যথাযথভাবে পালন করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
অধ্যাপক ডা. মো. তাহমিনুর রহমান সজল : উপাধ্যক্ষ, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

ডিম এবং ক্যাস্টর অয়েল
চুলে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে পরে। তাই ব্যবহার করুন এ প্যাকটি। ১টি ডিমের কুসুম, ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ টেবিল চামচ মধু খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। ৩০ মিনিট পরে ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহারে এতে চুলে পুষ্টি পৌঁছাবে এবং চুলের রুক্ষতা দূর হবে।
কলা এবং মেয়নেজ
দুটি পাকা কলা বাটিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ২ টেবিল চামচ মেয়োনেজ এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন ভালো করে। এ মিশ্রণটি চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। এবং ভালো করে ধুয়ে নিন। কলা চুল নরম এবং উজ্জ্বল করে তুলবে। ২টি কলা নিয়ে পিষে নিন ভালো করে। এরপর এতে ১টি ডিমের কুসুম এবং ১ চা চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মেশান। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩০-৪০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে দ্রুত। এ প্যাকটি চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করবে এবং চুল পড়াও বন্ধ করবে।
৫/৬টি স্ট্রবেরি ধুয়ে ব্লেনডারে ব্লেন্ড করে নিন, চাইলে চামচ দিয়ে পিষে নিতে পারেন। এতে ১টি ডিমের কুসুম, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি পুরো চুলে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।



চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ ও সৃজনশীল ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে নির্মিত চলচ্চিত্রকে অবশ্যই সৃজনশীল ও শোভন হতে হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ প্রদান উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম। জনসাধারণের ওপর যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শিক্ষার প্রসার, মেধার চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জাতি গঠন এবং প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণেও চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী হাতিয়ার।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আপনাদের অনুসরণ করে। সুতরাং সমাজের অন্য মানুষের চেয়ে আপনাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি।
সম্প্রতি বেশ কিছু চলচ্চিত্র দেশে ও বিদেশে সাফল্য অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী এর প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটা বলা যায় যে আমাদের চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সভাপতিত্ব করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত¯সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসচিব মর্তুজা আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে ২৫টি বিভাগে মোট ২৮ জন অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩ দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় বিশিষ্ট অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গাজী রাকায়েত ও ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত মৃত্তিকা মায়া শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে সারাহ আফরিনের শুনতে কি পাও। মৃত্তিকা মায়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিতাস জিয়া। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে দুজন, মৃত্তিকা মায়ায় অভিনয়ের জন্য মৌসুমী এবং দেবদাস-এ অভিনয়ের জন্য শরমি মালা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী অপর্ণা, শ্রেষ্ঠ খলনায়ক মামুনুর রশিদ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা স্বচ্ছ, শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেত্রী সৈয়দা অহিদা সাবরিনা, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক এ কে আজাদ, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (পুরুষ) চন্দন সিনহা, শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী (নারী) রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন, শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল, শ্রেষ্ঠ সুরকার কৌশিক হোসেন তাপস, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ, শ্রেষ্ঠ নাট্যরচনা গাজী রাকায়েত, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা শরীফুল ইসলাম রাসেল, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম বাদল, শ্রেষ্ঠ শব্দ প্রকৌশলী কাজী সেলিম, শ্রেষ্ঠ কস্টিউম অ্যান্ড ডেকোরেশন ডিজাইনার ওহিদা মল্লিক এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান আলী বাদল।
প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


অপরাজিতা ডেস্কঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর ওয়াহিদা সিফাত (২৭) পাঁচ বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী নগরীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বেকার ছেলে আসিফকে। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যেতে থাকে আসিফ। ব্যবসা করার জন্য বাবার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে সিফাতকে প্রায় চাপ দিতো। এতে সিফাত রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন তার ওপর চলতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আর শেষ পর্যন্ত এ যৌতুকের কারণেই সিফাতকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
গতকাল সকালে নগরীর রাজপাড়া থানায় করা মামলায় এমনই অভিযোগ করেন ওয়াহিদা সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অপরাধে করা মামলায় সিফাতের স্বামী মো. আসিফসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলো সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলী।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনধারী সিফাত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরে চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার পল্লবীতে পিতার বাসায় যাওয়ার জন্য ২৯শে মার্চ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু ট্রেনের টিকিট কাটেন। হঠাৎ ওই দিন রাত সোয়া ১০টায় সিফাতের শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান মোবাইল ফোনে সিফাতের ভাই আসিফুল ইসলামকে জানান, সিফাত মুমূর্ষু অবস্থায় তার ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। এর ৫ মিনিট পর রমজান আবারও মোবাইল ফোনে জানান, সিফাত গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সে মারা গেছে।
সূত্র মতে, রোববার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতকে। তার দেড় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এদিকে হাসপাতালে সিফাতের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার থুঁতনির নিচে এক ইঞ্চি পরিমাণ লালচে জখম ছিল। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও সিফাতের মাথায় জখমের প্রমাণ মিলেছে। সিফাতের গ্রামের বাড়ি রংপুর। তার পিতা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক।
মামলায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বলেন, সিফাতের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি মোহাম্মদ হোসেন রমজানকে রাত ১২টার দিকে ফোন দেন। ফোনে রমজান জানান, সিফাতকে তার স্বামী মাঝে মধ্যে মারপিট করতো। তিনি তা মীমাংসা করে দিতেন। বৃহস্পতিবারও মারপিট করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৩০শে মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় পরিবারের লোকজন ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসেন। এ সময় তারা দেখেন সিফাতের মৃতদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। এ ছাড়া মাথার ডান দিকে চোখের পাশে রক্ত জমাট বাঁধা আছে।
মামলায় দাবি করা হয়, যৌতুরে জন্যই সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। এখন হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সিফাতের মৃত্যুর পরদিন আটক তার স্বামী আসিফকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নামে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসায় ঢুকে বিআরটিএ কর্মকর্তা শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী মণ্ডলকে (৩৫) কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। এ সময় শীতাংসু শেখর বিশ্বাস, বড়মেয়ে শ্রুতি বিশ্বাস (১৭) ও ছোট মেয়ে অত্রি বিশ্বাস (৯) আহত হন। তারা বর্তমানে মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। শীতাংসু শেখর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক এবং কৃষ্ণা কাবেরী মোহাম্মদপুর মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন।
নিহতের পারিবারিক একটি সূত্রের দাবি, শীতাংসু শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে খান জাকিরুল নামে এক ব্যবসায়ীর পূর্ব পরিচয় ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় কেক, ফল ও জুস নিয়ে শীতাংসুর মোহাম্মদপুরের বাসায় যায় জাকিরুল। শীতাংসুর পরিবারের সদস্যরা ফল ও জুস খাওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জাকিরুল তাদের হাত বেঁধে সবাইকে পেটান। মারধরের পর সে ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল।

বাংলাদেশে শিক্ষা, জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও নারী পরিবার বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে। অন্যদিকে নারী নির্যাতনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শ্রমের মূল্যায়ন, নারীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নারীর অধিকার অর্জনে যেতে হবে বহুদূর। নিতে হবে বিভিন্ন কৌশল।
গতকাল রোববার জেন্ডার ও উন্নয়নবিষয়ক ‘জেন্ডার, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় আলোচকেরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, নারীর অধিকার আদায়ে শুধু নারী চিৎকার করলেই হবে না, এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ, ইউএসএআইডি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, কেয়ারসহ বিভিন্ন সংস্থা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি পুরুষ। তবে আমি পুরুষের পক্ষে নই। আমি নারীর পক্ষে।’ এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান তানিয়া হক। সমাপনী অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো রওনক জাহান বলেন, কয়েক দিন আগেই জাতীয় সংসদের একজন পুরুষ সাংসদ পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। তার মানে নারীর অধিকার আদায়ে যেতে হবে আরও বহুদূর। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীর শ্রমের কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। নারীর কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নেই। আর এর ফলেই নারীর ওপর নির্যাতন কমছে না।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য থাকলে একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়া সম্ভব নয়। একইভাবে তা কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে দাবি করতে পারবে না। গোলটেবিল বৈঠকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশ ভালো ভালো নীতি ও আইন প্রণয়নের জন্য প্রশংসিত। তবে সেসব নীতি ও আইনের বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয় না। তিনি ১৯৯৭ সালের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিকে পরবর্তী ২০০৪ সালের সরকার কীভাবে গোপনে পরিবর্তন করে ফেলে, সে কথা উল্লেখ করেন। ১৯৯৭ সালের নীতিতে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর সম-অধিকারের কথা উল্লেখ থাকলেও ২০১১ সালের নীতিতে সে বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেনের আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর চাঁদনি জোসি, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাসকিয়া ই ওয়াইয়েরিঙ্গা, ভারতের জেন্ডারবিশেষজ্ঞ অমৃতা চাচসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজমা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


অর্ণবের বয়স নয় বছর। দিন দিন মোটা হয়ে যাচ্ছে। তার ওজন ৪৯ কেজি। ক্লাস ফোরে পড়ে। ক্লাসে সে সবার চেয়ে মোটা ও লম্বা, বাড়ন্ত শরীর। মাঝেমধ্যে এর জন্য বিব্রত হতে হয়। মা-বাবাও উদ্বিগ্ন। বুঝতে পারছেন না কী করবেন। এই যে বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেশি, এটাকে আমরা বলি ওবেসিটি বা স্থূলতা।
শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সন্তানের অস্বাভাবিক স্থূলতা কমাতে দায়িত্ব আছে আপনারও। এ নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
শিশুরা আজকাল খুব একটা খেলাধুলা ছোটাছুটির সুযোগ পায় না। বাড়িতে বসে ইন্টারনেট সার্ফ বা ভিডিও গেম খেলা বা টেলিভিশন দেখাটাই তাদের কাছে প্রধান আর্কষণ। এ রকম শারীরিক শ্রমহীন জীবনযাপনের জন্য বাচ্চার ওজন বাড়তে থাকে এবং ক্রমশ তারা ওবেসিটির দিকে এগোয়। টিভি দেখা বাচ্চাদের কাছে অ্যাডিকশনের মতো। খেলাধুলা ছেড়ে বাড়িতে বসে টিভি দেখতে বাচ্চারা বেশি পছন্দ করে। টিভি দেখতে দেখতে চিপস, চকলেট, পপকর্নের মতো মুখরোচক খাবার খাওয়া এখন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
একদিকে ক্যালরি গ্রহণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে খেলাধুলোর প্রতি অনীহা, সব মিলিয়ে ওজন দ্রুতহারে বাড়তে থাকে। বাচ্চাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারা কী খেতে ভালোবাসে, বেশিরভাগ বাচ্চাই উত্তর দেবে—চকলেট, কোল্ড ড্রিংক, আইসক্রিম, রোল, কেক, পেস্ট্রি। এক কথায় জাঙ্ক ফুড। এসব খাবারের মধ্যে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে যদি শিশুর ঘুমের পরিমাণ কম হয় তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওজন বাড়তে পারে ও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিণতিতে শিশুটি স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারে। ছোটবেলায় শিশুর কম ঘুম স্থূলতা ও চর্বি বাড়ার একটি প্রধান কারণ। তিনি জানান, শিশুর ওজনের ওপর ঘুমের কী প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত, ঘুমের পরিমাণ কম হলে ছোটবেলায় তা শিশুদের ওপর খারাপ প্রভাবই ফেলে।
এ ছাড়া, মাতৃদুগ্ধের চেয়ে কৌটার দুধে প্রোটিন অনেক বেশি থাকে। যেসব শিশুকে বোতলে করে কৌটার দুধ খাওয়ানো হয় তারা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, এসব শিশুর শরীরে মাত্রাতিরিক্ত মেদ জমতে থাকে এবং শৈশবেই তাদের স্থূলকায় হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। মায়ের দুধের গুরুত্বকেই ঊর্ধে তুলে ধরা হয় তাই। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং তাদের অস্বাভাবিক মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে শিশুদের ফর্মুলা দুধে প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
করণীয়
বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উত্সাহিত করুন। সুষম খাদ্যের ওপর নজর দিন। লক্ষ রাখবেন খাদ্যে যেন প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল পরিমাণমতো থাকে। কোনো কিছুরই আধিক্য যেন না থাকে, তা হলেই বাচ্চা ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। টিভি দেখতে দেখতে বাচ্চার চিপস, সফট ড্রিংক খাওয়ার অভ্যাসকে প্রশ্রয় দেবেন না। আউটডোর গেমস খেলতে বাচ্চাকে উত্সাহ দিন। বাড়িতে জাঙ্কফুড খাওয়ার অভ্যাস কমান।
বাচ্চাকে বাড়ির খাবার সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে খেতে দিন, যাতে বাইরের খাবারের প্রতি আর্কষণ কমে যায় । একটু বড় হয়ে শিশুরা কিছু কাজ বাসায় করতে পারে; যেমন—নিজের বই-খাতা, ব্যাগ, কাপড় গুছিয়ে রাখা, ঘর পরিষ্কার করা, বাসায় অন্যান্য কাজে মা-বাবাকে সাহায্য করা। কিন্তু আজকের শিশুরা এসব কাজে কোনো আগ্রহ দেখায় না। এমনকি নিজের কাজেও অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। শিশুর ওজন বেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে অনেক মা-বাবাই সচেতন নন।
সূত্র- ইত্তেফাক।


নারীর সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও বেদনার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রগুলো। এগুলো বানিয়েছেনও নারীরা। আর এসব চলচ্চিত্র নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবে থাকছে বাংলাদেশের পাঁচ নারী নির্মাতার তৈরি ছবি।
গতকাল শনিবার বিকেলে এই উৎসবের উদ্বোধনী দিনে দেখানো হয় সামিয়া জামান পরিচালিত আকাশ কত দূরে ছবিটি। সামিয়া জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো উৎসবের প্রথম দিন ছবিটি দেখানো হয়েছে, সেটা আমার জন্য আনন্দের ব্যাপার। আরও একবার দর্শকেরা ছবিটি দেেখছেন, এটা ভেবে ভালো লাগছে।’

উৎসবে দেখানো হবে মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত ফারজানা ববির প্রামাণ্যচিত্র বিষকাঁটা। ৪৩ বছরের দীর্ঘ নীরবতার পর এই প্রামাণ্যচিত্রে শোনা যাবে মুক্তিযুদ্ধের তিন বীরাঙ্গনার কণ্ঠস্বর। প্রামাণ্যচিত্রটি নিয়ে নির্মাতা ফারজানা ববি জানান, অন্য অনেকগুলো দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে ছবিটি দেখানো হবে, এটা একটা বড় ব্যাপার। এতে দেশগুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ সৃষ্টি হবে, সেটাই ইতিবাচক।
প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়েছেন নবীন নির্মাতা ইসমত জেরিন। তাঁর বানানো ছবি মনোফুল প্রথমবারের মতো একটি উৎসবে দেখানো হবে, এ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
ফাইট অ্যাসিড ভায়োলেন্স নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন শাহীদা আখতার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বেশ কয়েকটি স্থানে দেখানো হলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম দেখানো হচ্ছে।
উৎসবে দেখানো সব চলচ্চিত্রে নারীই মূল বিষয় হলেও একমাত্র ইয়াসমিন কবিরের শেষকৃত্য ছবিটি ভিন্ন। জাহাজভাঙা–শিল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রটি। উৎসবের ছবিগুলো দেখা যাবে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন ও মূল মিলনায়তনে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।
সূত্র- প্রথম আলো।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৫ এর প্রতিপাদ্য হলো “নারীর ক্ষমতায়ন, মানবতার উন্নয়ন: তৈরি করুন চিত্ররূপ” । আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইউএনডিপি ও ইউএসএআইডি এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে গতকাল ০৯ মার্চ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৯ জন অগ্রগামী নারীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।


ঘটনাটা ৩১ বছর আগের। এক তরুণী জীবিকার তাগিদে কাজ নেন পোশাক কারখানায়। মাননিয়ন্ত্রণকর্মী িহসেবে ৮০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু। কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় যেতেই নিজের ভেতরই যেন পরিবর্তনের ডাক পেলেন—এভাবে হবে না। এগোতে হলে শিখতে হবে মেশিনের কাজ। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ধরলেন মেশিন। কাজের দক্ষতায় পেতে থাকেন পদোন্নতি। এবার সচল হলো স্বপ্নও। পোক্ত হয়ে একসময় কাজ ছেড়ে নিজেই গড়লেন প্রতিষ্ঠান। শূন্য হাতে শুরু করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর নাম বেবি হাসান। বিএস অ্যাপারেল নামের একটি বায়িং হাউসের কর্ণধার তিনি।
নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন হয়েছেন বেবি হাসান। তাঁর অধীনেই কাজ করছেন প্রায় অর্ধশত কর্মী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানির কাজ করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। বছরে লেনদেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
সফল ব্যবসায়ী হবেন, এমন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মজীবন শুরু করেননি বেবি। অনেকের মতো তাঁরও শুরুটা জীবিকার তাগিদেই। এসএসসি পাস করার পর পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১৯৮১ সালে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। বিয়ের পরবর্তী বছর জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। স্বামীর আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে নিজেই চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে পরিবারের কেউ উৎসাহ না দেখালেও পরে অবশ্য মেনে নিয়েছেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পোশাক কারখানায় কাজ করেন বেবি। একসময় উৎপাদন পরিচালকের দায়িত্বও পান।
সে সময়গুলোর কথা উঠতেই বেবি হাসানের চেহারায় দৃঢ়তা। বললেন, ‘দিনে ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করতাম। সকাল আটটায় কাজ শুরু হতো, ফিরতাম রাত ১০টার দিকে। কোনো দিন কাজে অবহেলা করিনি। শুরুতে অনেক দূর যেতে হবে এমন লক্ষ্য ছিল না, তবে যখন কাজটাকে ভালোবেসে ফেললাম, তখন স্থির করলাম একটা পর্যায়ে যেতে হবে।’
নব্বইয়ে দশকের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠান বদলে একটি বায়িং হাউসে যোগ দেন বেবি। পাশাপাশি টুকটাক এ–সংক্রান্ত ব্যবসাও শুরু করেন। ২০০০ সালে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের একটি সংগঠনের সদস্য হন তিনি। হাতে তেমন নগদ টাকা ছিল না, তাই দ্বারস্থ হন ব্যাংকের। দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে হালিশহর কে ব্লকে ‘বিতনু’ নামের একটি বুটিকের শোরুম খোলেন। ওই বছরই চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইম্যান এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন (উই)। ওই সংগঠনের সদস্য হন বেবি। ২০০০ সালের শেষের দিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জন অংশ নেন কলকাতার একটি কুটিরশিল্প মেলায়। সেখানে গিয়েই চোখ খুলে যায় তাঁর। তিনি বলেন, ‘ওই মেলায় গিয়েই ব্যবসা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। কী করে জানি সেদিনই ব্যবসার পোকা ঢুকে যায় মাথায়। মনস্থির করি, আমাকে ব্যবসায় সফল হতে হবে।’
২০০২ সালে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি বায়িং হাউস দাঁড় করানো শুরু করেন। এরপর ২০০৯ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বিএস অ্যাপারেল নামের পৃথক বায়িং হাউস। বছর বছর এই প্রতিষ্ঠানের কলেবর বাড়ছে। মা বেবি হাসানের সঙ্গে ছেলে সালাহউদ্দিন চৌধুরীও সম্প্রতি ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন।
প্রায় শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে আসার কৃতিত্বের ভাগ বেবি হাসান দিতে চান আরও দুজন নারীকে। একজন তাঁর মা ফরিদা খাতুন, অন্যজন ব্যবসায়ী নেতা মনোয়ারা হাকিম আলী। ১৯৯৮ সালে অসুস্থতায় ভুগে বেবি হাসানের মা মারা যান। মেয়ের চূড়ান্ত সাফল্য মা দেখে যেতে পারেননি, এই কষ্টই এখন তাড়িয়ে বেড়ায় তাঁকে। বেবি হাসানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হলেও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে।
চাকরির পাশাপাশি সংসারের দেখভাল করতে হয়েছে। ফলে অবসর বলে কিছু ছিল না। কিন্তু তাতে দুঃখ নেই বেবির। তিনি বলেন, চাকরি বা ব্যবসা মেয়েদের জন্য খুব কঠিন, এমনটি কখনো মনে হয়নি। চেষ্টা থাকলে যেকোনো নারীই ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন।’ এসব কথা যখন বলছিলেন, তখন বেবির মুখে সাফল্যর তৃপ্তির হাসি। বললেন, ‘পরিচিত কোনো মেয়ে যখন চাকরি করার কথা বলেন, আমি তাঁদের উৎসাহ দিই ব্যবসা করো। কারণ, আমাদের একটাই লক্ষ্য, চাকরি করব না, চাকরি দেব।’
সূত্র- প্রথম আলো।


ফাতেমা মাহফুজঃ পত্রিকার ছোট একটা কলামে চোখ পড়লো। লেখা- “বিকল্প শিশুখাদ্য আইন- ফাঁকফোকরে কারণে প্রয়োগ হয় না। এদিকে ২০১৩ সালে শিশু খাদ্য আইন মতে- মাতৃদুগ্ধের বিকল্প শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিক্রির জন্য কোনো ধরণের সেমিনার সিম্পোজিয়াম করা যেমন নিষিদ্ধ তেমনি এ পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে শিশুদের নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা যাবে না”। যদিও যত্রতত্র এই আইন আমান্য হচ্ছে এবং শাস্তি প্রয়োগ হচ্ছে না।যেমন মার্কস ( মাতৃদুগ্ধের বিকল্প দুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী) শিশুদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে নিজের পণ্যের প্রচার করছে। এদিকে ডাক্তারসহ সচেতন মা-বাবা জানে শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। বোতলজাত দুধ শিশুর জন্য যেনো নিরব ঘাতক (স্লো পয়জন)। তাই শিশু জন্মের পর মা একেবারে অসুস্থ থাকলে, অন্য কোনো মহিলাকে দিয়ে হলেও সেই প্রয়োজনটা মেটানো পিতার কর্তব্য। এদিকে বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা শিশুকে বোতলজাত দুধ না দেয়ার কথা বললেও- সমাজে একটা কথা প্রচলিত যে- প্রথম ৪০ দিনের মধ্যে শিশুর মুখে বোতলের দুধ না দিলে সে আর বাইরের দুধ খেতে চাইবে না, কান্নাকাটি করবে, তাকে রেখে কাজে যাওয়া কিংবা কোনো প্রোগ্রামে যাওয়া যাবে না।
এসব কথার মধ্যে প্রথম যে ভুলটা হচ্ছে তাহলো- ৪০ দিনের মধ্যে শিশুর মুখে বোতলের দুধ না দিলে নয় বরং মায়ের দুধ ছয় মাস ঠিক মতো না খাওয়ালে শিশু বেশি কান্নাকাটি করে ও অধিক রোগে ভুগে। তাছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানো- মা এবং শিশু উভয়ের জন্য কতটা উপকারী এটা হয়ত ছোট একটি লেখায় শেষ হবে না, তবে সংক্ষেপে বলতে- এতে শিশুরা যেমন ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, অ্যালার্জি, নিয়োমনিয়া-ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্ত থাকে, তেমনি কান্নাকাটিও কম করে। অপরদিকে স্তন পান করানোর মাধ্যমে মা’র স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস সহ বিভিন্ন মেয়েলী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাছাড়া বুকের দুধ পান- গর্ভকালীন সময়কার মা’র বাড়তি ভরকে কমাতে এবং প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কারণ- প্রায় দুই বছর শিশুকে দুধ পান করানোর ব্যস্ততায় মা আরেকটা সন্তান নেয়ার চিন্তায় থাকেন না।সুতরাং মাতৃদুগ্ধের বিকল্পের প্রশ্নই উঠে না। তাছাড়া জানা দরকার- শিশু জন্মের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ ছাড়া আর কিছু তো খাওয়ানো দরকারই নেই। আর ছয় মাস পর মায়ের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাদ্যগুলো শিশুর জন্য সিদ্ধ করে খাওয়ালেই হবে- এতে শিশুর শারিরিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক হবে। (তথ্যসূত্রঃ বইটির নাম- Parent-child relations, written by Hisham Al Talib, Abdul Hamid Abu Sulaiman and Omar Altalib)
এবার আসি বাইরে যাওয়া তথা চাকরিতে যাওয়া প্রসঙ্গে- প্রথমত, আমরা জানি বিভিন্ন অফিসে মাতৃত্বকালীন ছুটি রয়েছে ছয় মাস।যদিও আমার কাছে ৬ মাসের ছুটিটা যেনো মা ও শিশু- উভয়ের সাথে বলতে গেলে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সাথে পরিহাস তুল্য। ছয় মাসের মধ্যে ছোট্ট শিশুটির মা’র প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। তাছাড়া শিশুর দুধ ছাড়তে সর্বোচ্চ দুই বছর লেগে যায়। সুতরাং, এবার আমি যদি বলি- মাতৃত্বকালীন ছুটি দুই বছর করা হোক- তবে স্বাভাবিকভাবেই চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এটাই বলবে- “দুই বছরের (!!!) জন্য একটা পদ খালি থাকবে? যেখানে বেকার সমস্যা বিদ্যমান”? তাই সুস্থ আগামী প্রজন্মের চিন্তায় ও মা’ হতে যাওয়া নারীরা যাতে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকে- তাই আমি মাতৃত্বকালীন ছুটির বিপক্ষে।বরং গর্ভধারণের শুরুতেই মা’র উচিত অফিস প্রধানকে নিজের অপারগতার কথা আগে থেকে জানানো- যাতে সঠিক সময়ে সেই পদের জন্য ভিন্ন কাউকে নেয়ার সার্কুলার দেয়া যায়। আর মা’ও যাতে চাকরি রক্ষার টেনশান ও প্রতিদিনকার বাড়তি পরিশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখতে পারে। পরবর্তীতে মা’র ইচ্ছা হলে চার বা পাঁচ বছর পর না হয় উপযুক্ত চাকরিতে ঢুকতে পারে। চার-পাঁচ বছর পর বললাম, কারণ একটা শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে প্রথম চার থেকে পাঁচ বছরেই আর এই সময়ে তার উপযুক্ত যত্নের প্রয়োজন। এদিকে মা’র এটা খেয়াল রাখা উচিত- চাকরি ছেড়ে দিলে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে নিজের পরিস্থিতি বুঝে ভালো আরেকটাও পাওয়া যেতে পারে তবে, গর্ভে আসা শিশুটির সঠিক যত্ন না নিলে সেই সুযোগ আর কখনো ফিরে আসবে না। আর অবশ্যই আমরা একটা মজবুত জাতিই কামনা করি।
এদিকে কর্মজীবী মহিলাদের যখন হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়- তখন লাইফ স্ট্যাইলে একটা পরিবর্তন আসে। এই মুহূর্তে স্বামীর উচিত স্ত্রীকে মানসিক সাপোর্ট দেয়া। এদিকে বিয়ের পরেও আর্থিক প্রয়োজনে যদি নারীকে বাধ্য হয়েই চাকরি করতে হয় তখন সন্তান নেয়ার এবং পরবর্তী কয়েক বছরগুলো যেসময় একটা শিশুকে সার্বক্ষণীক তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে মা’র প্রয়োজন হয়-সে সময়টাতে স্বামী যাতে স্ত্রীকে চাকরি করার জন্য চাপ না দেয়- সেই বোধটা স্বামীর মাথায় রাখা উচিত।আরেকটা বিষয় যেটা না বললেই নয়- আজকাল বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ খুলছে, অফিসে কর্মজীবী নারীদের শিশু দেখভালের জন্য। তবে এটা আমাদের নারীজাতির বুঝা উচিত- মা’র প্রয়োজন কখনো কাজের মেয়েকে দিয়ে হবে না। কারণ শিশুটি আপনার, কাজের মেয়ের নয়।
এবার কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানের জন্য যখন একটি মা’কে বিভিন্ন কিছু বিসর্জন দিতে হয়- হোক সেটা চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়া, কিংবা কোনো প্রোগ্রামে উপস্থিত না হতে পারা কিংবা যেমন এক পরিচিতের কাছে শুনেছি- বিদেশে পিএইচডি’র সব হয়ে গেছে অথচ দুই মাসের শিশুকে নিয়ে উনার পক্ষে যাওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে-ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের বিসর্জন একটা মা’কে দিতে হয়। আর এই বিসর্জনের ফলে যখন স্বামীর দিক থেকে সাপোর্ট না আসে কিংবা সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হতে হয় তখন নারী রেগে গিয়ে বলে- “সন্তান নিলে ইত্যাকার কষ্ট সহ্য করতে হয়, অথচ পুরুষকে সেটা করতে হয় না”। কিন্তু এসব কথার অর্থ অনেক সময় এমনটা হয়ে যায় যেনো-“ছেলেরা কেনো গর্ভ ধারণ করে না?” আর তখন যেনো প্রকৃতির ওপর এক হাত নেয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। আর এসব প্রশ্নগুলো একটা সময় সেই পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যখন আমাদের মুখ থেকে বের হয় –“আমি কেনো মেয়ে হলাম”? যেসব উক্তি বের হওয়া ঠিক না।
মূলত স্বামীর দিক থেকে অবহেলা, প্রতিষ্ঠিত নারী সংগঠন থেকে শুরু করে সমাজের সব জায়গায় মাতৃত্বকে ছোট করে দেখা এবং নিজেকে নিয়ে আমাদের অবহেলার কারণেই এসব উক্তি কিংবা রাগের বহিঃপ্রকাশ- হয়ে যায়। এটা সত্য, বর্তমান তথাকথিত আধুনিক সমাজে মাতৃত্বকে ছোট করে দেখা হচ্ছে, সন্তানকে বোঝা হিসাবে দেখা হচ্ছে, পরিবারের দিক থেকে সাপোর্ট নেই, স্বামীর দিক থেকে শিশুর দেখভালে সহায়তা নেই আর নারীবাদীরাও মাতৃত্ব নিয়ে কিছু বলেন না। দিন দিন আমাদেরকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলা হচ্ছে। আমরা আগামী প্রজন্ম নিয়ে ভাবছি না। পড়াশুনা শেষ করে একটা চাকরি ধরবো যেন এটাই হয়ে পড়ছে জীবনের লক্ষ্য। বার বার আমাদেরকে বলা হচ্ছে আর্থিক স্বাবলম্বি হওয়ার কথা। নিজের পায়ে দাঁড়ানো কিংবা কারো প্রতি নির্ভরশীল না হওয়া-সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু পুরুষদের আর্থিক দায়িত্বের কথা বলবে কে? শুধু একপক্ষীয় ভাবে নারীদের স্বাবলম্বি হওয়ার কথার ছলে পুরুষদের দায়িত্বকে শিথিল করার পাঁয়তারা চলছে কি? আজকাল এমনভাবে আর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলা হচ্ছে যেনো নিজের আর্থিক দায়িত্ব নেয়ার বোঝা আমাদের নিজেদেরই। উল্লেখ্য, আজকাল আর্থিক সঙ্কটের কারণে নারীরা চাকরি করছে না বরং বিয়ের পরেও অধিকাংশ নারী চাকরি করছে কারণ- সেটা না করলে সমাজে তাদেরকে হেয় করে দেখা হচ্ছে। এদিকে তাদেরকে বুঝানো হচ্ছে- “শিক্ষিত হয়ে তুমি চাকরি করছো না কেনো? সমাজের প্রতি তোমার কি দায়িত্ব নেই? তোমার পড়াকে কাজে লাগাও”। হ্যা, আমি তাদের কথার বিরোধীতা করছি না। সুযোগ হলে কাজে লাগাও, কিন্তু নিজের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে নয় বরং নিজের পড়াশুনার সাথে মিলে যায় এমন কিছু কাজে শখের বশে কিংবা অবসর সময়কে কাজে লাগানোর জন্য। লক্ষ্যণীয়, আজকাল একটা শিক্ষিত মা’কে তার সন্তান পড়ানোর দায়িত্বের কথা কেউ বলে না। তাই দেখা যায়- শিক্ষিত মা’র সন্তানেরা বাইরের প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ে, অথচ প্রশ্ন হলো – তাদের মা কি পারতো না নিজের সন্তানদের শিক্ষক হতে? আসলে নারীরা এমনটি করছে না, কারণ এমনটি করলে এই সমাজে মূল্য পাওয়া যায় না। এখানে পরিবার তুচ্ছ, বাইরের জগত মুখ্য।
আবার অনেক নারীদের মধ্যে এমন ধারণাও আছে বা তাদেরকে এমন ধারণা দেয়া হচ্ছে- “অনার্স, মাস্টার্স করে শুধু শিশুদের পড়ালে, তোমার পড়ার দাম থাকলো কই”? আমি আবারও বলছি সুযোগ পেলে নিজের পরিবারকে সামলে একটা নারী যদি বাইরে সময় দিতে পারে তাহলে ভালো, তবে নিজের ছোট ছোট সন্তানকে পড়ানোর ক্ষেত্রে কখনো হীনমন্যতায় ভোগা উচিত নয় বরং গৌরবের সাথে প্রচার করার উচিত- আমি আমার সন্তানদের শিক্ষিকা। তাছাড়া আপনি যত বেশি শিক্ষিত হবেন, আপনার পড়ানোর স্টাইল অন্য মা’দের থেকে ব্যতিক্রম ও সুন্দর হবে। সুতরাং, মা’দের উচিত নিজের সন্তানকে সময় দেয়া, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। আর হ্যা, সন্তানের ওপর যে শুধু মা’র দায়িত্ব তা নয়, বরং মা-বাবা উভয়ের উচিত সুষ্ঠভাবে সন্তানকে বেড়ে তোলা। আর যেসব বাবারা সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালন করেন না, তারা মূলত দায়িত্বহীন পুরুষেরই পরিচয় দেন।
এবার চাকরিদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাকালে আমরা দেখি-ওখানে অবিবাহিত বা সন্তান ছাড়া নারীর মূল্য বেশি। আর তাই এসব কোম্পানীর চাকরিতে যুক্ত থেকে, সমাজে সবার সামনে শিক্ষিত হওয়ার মূল্য দিতে (তা নাহলে কেউ দাম দিবে না) গিয়ে অনেক মেয়েরা বছরের পর বছর এসব কোম্পানীতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে তাদের বয়স হয়ে যায়, দিন দিন মানসিক ও দৈহিক চাহিদা ফুরিয়ে যেতে থাকে, কোনো ছেলের বিয়ের প্রস্তাব আসা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, বিপথে পা দেয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে, পরবর্তীতে অধিক বয়সে বিয়ে হওয়ার পর সন্তান নিতেও শারিরিক কষ্ট সহ্য করতে হয় মা’কে। তাই আমি মনে করি- আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের কর্মঘন্টায় পরিবর্তন আনা উচিত। যারা আর্থিক প্রয়োজনে বা শখের বসে বা অবসর সময়কে কাজে লাগাতে চাকরি করতে চায়, তারা বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, সন্তান থাকুক বা না থাকুক সেসব নারীর জন্য বিভিন্ন শিফটে কর্মসময় তিন বা চার ঘন্টা করা দরকার।এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে- তাহলে তো পুরুষেরা মাসে যত টাকা পাবে- আমরা তার চেয়ে কম পাবো। হ্যা, কম সময়, টাকা কম-তবে তাতে কি? পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব তো আমাদের ওপর নয়। নারীর মৌলিক চাহিদা পূর্ণ করার দায়িত্ব পুরুষের। তাছাড়া মাস শেষে একটা পুরুষ, হাত খরচের জন্য তার উপার্জনের ১০শতাংশও যদি স্ত্রীর হাতে দেয়- তাহলে আমার মনে হয় না- সেটা কোনো স্বামীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু প্রশ্ন হলো কত শতাংশ পুরুষ স্ত্রীর হাত খরচের খেয়াল রাখে? এদিকে দিন দিন নারীর ওপর আর্থিক দিক দিয়ে বাড়তি চাপ দেয়া হচ্ছে, অথচ নারীকে তার স্বামীর উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকার কথা বলা হচ্ছে না।তবে হ্যা, কোনো নারী যদি একান্তই সন্তুষ্ট থাকতে না পারে, তাহলে সে না হয় কয়েক ঘন্টার জন্য বাইরে চাকরি করুক। তার উপার্জিত টাকা নিজের একান্ত প্রয়োজনে আর অপচয় না করে বেঁচে যাওয়া টাকাগুলো ভালো কাজে খরচ করুক। এটাই হলো আর্থিক বোঝা না থাকায় নারীদের সুবিধা। উপার্জনের মতো কষ্টকর চিন্তা (যেটা ছেলেদের মাথায় থাকে) সেটা না থাকায়, মেয়েরা শখের বসে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করার, কিংবা সমাজ নিয়ে চিন্তা করার একটা উন্মুক্ত পরিবেশ পায়। যে বিষয়গুলো নিয়ে মেয়েদের ভাবা উচিত। এদিকে, কর্মঘন্টা কম হলে মেয়েরাই লাভবান হবে- এতে তারা বিয়ের আগে মা-বাবা ও বিয়ের পরে নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারবে। সুতরাং সব সময় নারীদের পারিবারিক দায়িত্বকে মূল্য দেয়া উচিত, পরিবারের কথা চিন্তা করে প্রয়োজন হলে চাকরি করা উচিত, তা নাহলে না। আর তাদের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত পরিবারের পুরুষদের, তাহলে হয়ত একটা পরিবার থেকে ভালো সন্তানের জন্ম হবে।
তাছাড়া, আজকাল নারীর মাতৃত্বকে পূর্ণ মর্যাদা না দেয়ার কারণেই নারীরা হতাশ হচ্ছে, সন্তান নিতে চাচ্ছে না। তাই তাদেরকে পরকালের শান্তির বার্তা পৌছানোর পাশাপাশি আমাদের উচিত পার্থিব স্বীকৃতি দেয়া।একটা বিষয় লক্ষ্য করে দেখুন- যখন আমরা মাতৃগর্ভ থেকে এই পৃথিবীতে আসি, সেই সময়ে আমরা কোথায় আছি- সেই জ্ঞানটাও থাকে না, কান্না ছাড়া কিছুই করতে পারি না, বলতে পারি না, চলতে পারি না- সেই সময় আমাদের মা আমাদের সব প্রয়োজন পূর্ন করে, কষ্ট সহ্য করে, রাতের পর রাত জেগে যেভাবে লালন-পালন করেছেন- সেটার প্রতিদান হয়ত সারা জীবন মা’কে কাঁধে নিয়ে ঘুরলেও শোধ হবে না। মা’র মর্যাদা হয়ত পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই মূল্যায়ন করা যাবে না, তাই আল্লাহও মা’কে দিয়েছেন পরকালীন এমন মর্যাদা যেটা উপলব্ধির বিষয়- তাদের জন্য যারা চিন্তা করে। মা’র পায়ের নিচে সন্তানের জন্নাত রেখেছেন- সেটার অর্থই হলো যাতে আমরা মা’র সাথে ভালো ব্যবহার করি। পৃথিবীতে হক আদায়ের ক্ষেত্রে বাবার চেয়ে মা’ কে তিন গুণ মর্যাদা দেয়া হয়েছে- কারণ মা শিশুকে গর্ভে ধারণ করে, বাবা নয়-তাই যারা বলেন- ‘ছেলেদের তো সেই কষ্ট সহ্য করতে হয় না’।দেখুন ছেলেদের সেই কষ্ট সহ্য করতে হয় না বলেই আল্লাহ কিভাবে সমতা করেছেন! কষ্ট আপনি সহ্য করছেন বলেই সেই কষ্টের জন্য আপনাকে আল্লাহ পুরুষের চেয়ে অধিক মূল্য দিয়েছেন। তাই কেউ কি কল্পনা করতে পারে- সেই আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদার মহত্ত্বের কথা? না, আজ আমরা সন্তানেরা এবং মা’রা সেই মর্যাদার মহিমা বুঝছে না। আজ অভিভাবক থেকে শুধু করে সন্তানরা যদি এই মর্যাদা বুঝতো- তাহলে শিশুর প্রতি অবহেলা না করে, তাকে বোতলজাত দুধ না খাইয়ে, সুষ্ঠভাবে লালন পালন করে বড় করতো। আর সন্তানেরাও অভিভাবকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতো যেমনটি আল্লাহ তা’য়ালা কু’রআনে বলেছেন-
“আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমার নিকটই ফিরে আসতে হবে” (সূরা লুকমান, আয়াত-১৪)
সুতরাং, আগামীতে সন্তানরা যখন অভিভাবকদের কষ্টের স্বীকৃতি দিবে- তখন মা-বাবারাও সন্তানকে নিয়ে গর্ব করতে পারবে। আর বলবে-আমরা এমন সন্তানদের পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি যারা সত্যের প্রতিনিধিত্ব করবে, সুন্দর জাতি গড়বে। সুতরাং তেমন জাতি গঠনে বর্তমান মা-বাবা আর আগামীতে যারা বা-বাবা হবেন- তাদেরকে এখন থেকেই চিন্তা করা উচিত।
মাতৃদুদ্ধ পান করানো নিয়ে লেখাটা শুরু করে যৌক্তিক কারণেই নারীদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে হলো।তবে মাতৃদুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার প্রসার ঘটনার জন্য ব্র্যাক এনজিওকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। বিভিন্ন জেলায় তারা ক্যাম্পিং করে মহিলাদেরকে তারা এ বিষয়ে সজাগ করছে, তবে পুরো বাংলাদেশের দায়িত্ব কি তাদের ওপর? বরং তাদের কাছ থেকে এখন আমাদের শিখা উচিত। মাতৃত্বের আধ্যাত্মিক স্বীকৃতির প্রচারণা সহ এবার আমাদের জাগতিক স্বীকৃতি দানের কথা ভাবতে হবে। মাতৃদুগ্ধ থেকে শুধু করে শিশু লালন পালন, সুষ্ঠ মাতৃত্ব-পিতৃত্বের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যেক চরিত্র যাতে তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, তাই তাদেরকে দায়িত্ব জ্ঞান দিতে হবে, লেখালেখি, সেমিনার, আলোচনা সভা, ক্যাম্পিং কিংবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। যাতে মানুষ পরিবারকে গুরুত্ব দিতে শিখে।তা নাহলে হয়ত ডে-কেয়ার’ হবে সন্তানের জায়গা আর পরবর্তীতে বৃদ্ধাশ্রম হবে বৃদ্ধ মা-বাবাদের ঠিকানা।

বন্ধু-বান্ধবের খোঁজ-খবর নেওয়া, নিজের খোঁজ দেওয়া, মনের মানুষের কাছে সেলফি পাঠানো, জন্মদিনের শুভেচ্ছা- সবই হচ্ছে এখন ফেসবুকে। তবে এখানেই যেন শেষ নয়। এখন কেনাকাটাও হচ্ছে ফেসবুকে। ফেসবুকও আমাদের অনলাইন কেনাকাটার অন্যতম অপশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এক্ষেত্রে প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছুটা সাবধানতা খুবই প্রয়োজন।
প্রথমেই আপনার ফেসবুক কেনাকাটা করার পেজগুলো সম্পর্কে খুব ভালো মতো ধারণা থাকতে হবে। আপনি যা কিনতে চান, যেসব পেজে তা বিক্রয় করা হয় সে ধরনের অনেকগুলো পেজ নিয়ে মোটামুটি একটি রিসার্চ করে ফেলুন। এতে আপনার পণ্যের মান, দাম এবং ধরণ সম্পর্কে ধারণা হবে। কোথায় কোন পোশাকের রেপ্লিকা বিক্রয় হয়, কোথায় আসলটি পাওয়া যায়, কোথায় কোন ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যাবে এসব ব্যাপারে আপনার ভাল ধারণা হয়ে যাবে যদি আপনি পেজগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। এক্ষেত্রে একদিন ঘাটাঘাটি করেই ক্ষান্ত দিলে হবে না, নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে।
রিভিউ
ভালো-মন্দ পেজ বোঝার আরেকটি ভালো উপায় হল পেজগুলোর রিভিউ দেখার। যারা এর আগে ওই পেজ থেকে কিনেছেন, তারা তাদের অভিজ্ঞতাটি লিখে রিভিউ দিয়ে থাকেন। রিভিউ দেখেও আপনি ধারণা নিতে পারবেন পেজটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা।
দ্বিতীয়ত, পণ্যের মাপ, মান নিয়ে ফোন করে পরিপূর্ণ তথ্য জেনে নিন। তবে এর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি পণ্যটি সত্যিই কিনতে চান কিনা। কিছু কিছু জিনিস সামনা সামনি দেখেই কেনা ভালো। কারণ অনেক জিনিস অনলাইনে ছবি দেখে যেমন মনে হবে বাস্তবে তেমনটা নাও হতে পারে। যেমন- জুতা, ফাউন্ডেশন, অলঙ্কার ইত্যাদি। তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি ডিটেইলস জেনে নিতে হবে।
তৃতীয়ত, পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতাটা অনেক বড় ব্যাপার। ক্যাশ অন ডেলিভারি সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা, কিন্তু দূরে বসে কেনাকাটা করলে অগ্রিম পেমেন্ট করতেই হয়। অধিকাংশ পেজে কেনাকাটা করার আগে ফুল পেমেন্ট বা পেজভেদে নির্দিষ্ট পারসেন্ট পর্যন্ত অগ্রিম পেমেন্ট করে অর্ডার কনফার্ম করতে হয়। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য “অর্ডার কনফার্ম হলো”, এই কথাটি মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে বা ফেসবুকের ইনবক্সে জানিয়ে দিতে বলবেন। তাহলে দুর্ভাগ্যবশত আপনি প্রতারনার শিকার হলেও ফোন বা ইনবক্সের মেসেজটি অন্তত প্রমাণ হিসেবে থাকবে। আপনার পার্সেলটি কীভাবে, কবে আসবে সেটি নিশ্চিত হয়ে নিন।
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কোন কোন পেজের পণ্য ডেলিভারির পিকআপ পয়েন্ট থাকে। সেক্ষেত্রে আপনার সুবিধামত তারিখ, সময় ও জায়গাটি জানিয়ে দিন।
সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন।



ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ফুড মার্ট’ সম্প্রতি অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি চালু করেছে। ফুড মার্ট থেকে অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারির পাশাপাশি গ্রাহকেরা অনলাইনে ভিসা ও মাস্টার কার্ড, ডিবিবিএল নেক্সাস কার্ড, বিকাশ, কিউ-ক্যাশ, আমেরিকান এক্সপ্রেস, জেসিবি, ডিসকভার এবং ম্যাস্ট্রো ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। খাবার বাসায় পৌঁছে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ফুড মার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ফুড মার্টের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ফুড মার্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজধানীর বনানী, গুলশান-১ ও ২, বারিধারা, মহাখালী, বসুন্ধরা, নিকেতন ও বনশ্রী এলাকার ২০০ রেস্টুরেন্ট। ধানমন্ডি, খিলগাঁও ও মিরপুরেও এখন থেকে ফুড মার্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দেওয়া যাবে এবং অনলাইনে বিল পরিশোধ করা যাবে।
ফুড মার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, গ্রাহকদের অনলাইনে খাবারের ফরমাশ দিয়ে অর্থ পরিশোধের ঝামেলা মেটাতে অনলাইন লেনদেন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।




ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামে মো. শাহিনের (৩৫) বিরুদ্ধে স্ত্রী রূপা বেগমকে (১৯) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শাহিন পলাতক।
নিহত গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে উপজেলার বালুখণ্ড গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে রূপা বেগমের সঙ্গে যন্ত্রাইল গ্রামের মৃত রহমান মেম্বারের ছেলে মো. শাহিনের বিয়ে হয়। গত সোমবার রাতে শাহিন রূপার মা রোখসানা বেগমকে মুঠোফোনে জানায়, রূপার মুঠোফোনে কে বা কারা ফোন দিয়েছিল। এ নিয়ে রূপার সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হলে সে রূপাকে মারধর করে। এ সময় রোখসানা বেগম রূপার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ‘কথা বলা যাবে না’ এবং ‘রূপাকে আমি মেরে ফেলব’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেয় শাহিন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহিন আবার রূপার মাকে মুঠোফোনে জানায়, সে রূপাকে মেরে ফেলেছে। এর পর থেকে শাহিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকে। রূপার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার জানান, ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রোখসানা বেগম বাদী হয়ে শাহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।



* আপেলে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। ১০০ গ্রামের তাজা ফল টুকরা মাত্রা ৫০ ক্যালরি প্রদান করে। আপেলে কোনো সম্পৃক্ত চর্বি বা কলস্টেরল থাকে না। তবুও এ ফল অন্ত্রে খাদ্য তালিকাগত এলডিএল বা খারাপ কলস্টেরল শোষণ প্রতিরোধে সাহায্য কমে। এটি খাদ্য তালিকাগত ফাইবার সমৃদ্ধ।
*আপেল অ্যান্টি-অক্সিজান্ট, ফ্লাভোনডিস এবং পলিফোনোলিসক্স সমৃদ্ধ। এসব উপাদানে শরীরের মৌলে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
* আপেল প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘বিটা-কেরোটিন’ সমৃদ্ধ। ভিটামিন ‘সি’ একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিজান্ট। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার শরীরের বিভিন্ন সংক্রামকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রো-প্রদাহজনক মৌলে ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
* আপেল থিয়ামিন এবং পাইরিডক্সিন হিসেবে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স এর ভালো উৎস। একসঙ্গে এ ভিটামিন শীরের ভেতর বিপাক এনজাইম হিসেবে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন কৃত্তিম ফাংশনে সাহায্য করে।
* আপেল সামান্য পরিমাণ খনিজ, যেমন- পটাসিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ। পটাসিয়াম শরীরের কোষ এবং তরল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা হার্ট রেট এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একইভাবে সোডিয়ামের খারাপ প্রভাব থেকেও রক্ষা করে।
নির্বাচন এবং সংরক্ষণ : সমৃদ্ধ গন্ধ, তাজা, উজ্জ্বল দৃঢ় গঠনের আপেল নির্বাচন করা ভালো। গায়ে দাগযুক্ত আপেল পরিহার করাই ভালো।
টাটকা আপেল সাধারণ তাপমাত্রায় সপ্তাহখানেক ভালো থাকে। তবে রেফ্রিজারেটরে রাখলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।
ব্যবহার : ভালো স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পেতে হলে আপেলের উপরের আবরণসহ খেতে হবে।
* আপেল কাটার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাদামি বর্ণ ধারণ করে। তাই কাটার পরপরই পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ধুয়ে নিন।
* আপেল ফলের জ্যাম, পিঠা এবং সালাদ তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

এখন অনেকের হাতে আধুনিক সুবিধার মুঠোফোন, যেগুলো স্মার্টফোন নামে পরিচিত। মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এতে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহারও বেড়েছে। এখন ইন্টারনেটে বাংলা যেমন লেখা যায় সহজেই, তেমনি স্মার্টফোনেও বাংলা লেখা ও পড়া দুটিই চলছে। ইচ্ছে হলে স্মার্টফোন থেকেই সম্পূর্ণ বাংলায় ফেসবুক, টুইটার কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা, হালনাগাদ তথ্য দেওয়া যায়। বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে কাজটি এখন সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড
স্মার্টফোনের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডচালিত প্রায় সব ধরনের যন্ত্রেই বাংলা লেখা যায়। বিশেষ করে নতুন স্মার্টফোনগুলোতে বাংলা ভাষা যন্ত্রের মধ্যে (বিল্ট-ইন) থাকায় লেখার সময় শুধু কি-বোর্ডটি বাংলায় পরিবর্তন করে নিলেই হয়। তবে সব স্মার্টফোনে এ সুবিধাটি নেই। হতাশ হওয়ার কারণও নেই অবশ্য। স্মার্টফোনে বাংলা লেখার জন্য জনপ্রিয় নানা ধরনের কি-বোর্ড অ্যাপ রয়েছে।
গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনা মূল্যেই এসব কি-বোর্ড নামিয়ে ব্যবহার করা যায় যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় কি-বোর্ড ‘রিদ্মিক’ (http://goo.gl/OWvLVo)। বিজ্ঞাপনমুক্ত এ কি-বোর্ডে রয়েছে ফোনেটিক, ইউনিজয়, ন্যাশনাল লে-আউটে বাংলা লেখার সুবিধা। বাংলা কিংবা ইংরেজি যেকোনো ভাষাতেই এটি ব্যবহার করা যায়। কি-বোর্ডটি নামিয়ে সেটিংস থেকে ‘রিদ্মিক’ নির্বাচন করে দিলেই এক কি-বোর্ডেই একাধিক লে-আউট ব্যবহার করে বাংলা লেখা যাবে।
আরেকটি কি-বোর্ড হচ্ছে মায়াবী (http://goo.gl/mkfSZh)। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ফোনেটিক লে-আউটে বাংলা লেখা যায়। এ কি-বোর্ড দিয়ে বাংলা কিংবা ইংরেজি দুই ভাষাতেই স্মার্টফোন ব্যবহার করা যায়।
শুধু কম্পিউটারেই নয় এবং স্মার্টফোনেও বাংলা লেখা যাবে বিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে। আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার বললেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত যে বিজয় লে-আউটে যেভাবে কম্পিউটারে লেখা হয়, সে একই ব্যবস্থায় স্মার্টফোনেও লেখা যাবে। এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে ব্যবহারকারীরা এখন চাইলে (http://bijoyekushe.net) ঠিকানা থেকে বিজয় কি-বোর্ড নামিয়ে স্মার্টফোনে ব্যবহার করতে পারবেন।’
আইওএস
অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ৮ সংস্করণে বাংলা যুক্ত হয়েছে। এতে চাইলে বাংলা ভাষা নির্বাচন করেই বাংলা লেখা যায়। অর্থাৎ ইংরেজি ছাড়াও এবারই প্রথম বাংলা ব্যবহার এবং বাংলা কি-বোর্ড যুক্ত হয়েছে আইওএসে। ফলে আইফোন ও আইপ্যাডে সহজেই বাংলা পাওয়া যাবে।
অ্যাপল স্টোর থেকে ‘রিদ্মিক’ (http://bit.ly/1DtHwMg) কি-বোর্ড নামিয়ে নিয়েও ব্যবহার করা যাবে।
আইওএস ৮ সংস্করণের আগে অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের কোনো ভাষা সমর্থন করত না। ফলে আগের আইওএস সংস্করণগুলোতে বাংলা লিখতে চাইলে অভ্রপ্যাড ব্যবহার করা যায়। আই অভ্র www.omicronlab.com/iavro.html) নামিয়ে বাংলা লিখে আইওএস ৮ সংস্করণের আগের সংস্করণগুলোতেও বাংলা লেখা যাবে।
উইন্ডোজ
চন্দ্রবিন্দু (http://bit.ly/1kZuLCs) বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য বাংলা লেখার অ্যাপ। উইন্ডোজ ফোনে ফোনেটিক লে-আউট অথবা ফিক্সড লে-আউট ব্যবহার করে বাংলা লেখা যায়।
ব্যবহার করার আগে ফোনেটিক লে-আউটের অভিজ্ঞতা না থাকলে এ অ্যাপ থেকেই লেখার পদ্ধতি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ফিক্সড লে-আউটের টেমপ্লেট দেখা যাবে ফিক্সড লে-আউট প্যাটার্ন তালিকায়।
ফায়ারফক্স
ফায়ারফক্স অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোনে বিল্ট-ইন রয়েছে দুটি বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট। অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গেই বাংলা দুটি কি-বোর্ড যুক্ত থাকার ফলে এ ফোনে নির্ধারিত কি-বোর্ড নির্বাচন করে বাংলা লেখা যায়।
সূত্র- প্রথম আলো।

ত্বক
স্ক্রাবার
একটি বাটিতে সমপরিমাণ কফি ও চিনি মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে লেবুর রস মেশান। কফি ও চিনি পুরোপুরি গলবে না। এবার এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। ম্যাসেজের পর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহারে ত্বকের মরা কোষ দূর হবে এবং ত্বকও সতেজ থাকবে।
ফেসপ্যাক
রাতে মধু ও কফির প্যাক ব্যবহার করলে সারা দিন ত্বক থাকবে সতেজ। ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ চা চামচ কফি বাটিতে নিয়ে ভালো করে মেশান। এবার মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। অল্প শুকানো থাকতেই ম্যাসাজ করে করে তুলে নিন। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
ফেসপ্যাক
তৈলাক্ত ও স্বাভাবিক ত্বক পরিষ্কার করতে ১ চা চামচ কোকোয়া পাউডার ও ১ চা চামচ কফি মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক ভেজা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
ফেসপ্যাক
শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে ১ টেবিল চামচ কফি এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার প্যাকটি মুখে লাগিয়ে রাখুন। যখন অল্প শুকিয়ে যাবে তখন আলতো করে ম্যাসাজ করে উঠিয়ে ফেলুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
ফেসিয়াল প্যাক
ত্বকের মরা কোষ ও ব্লাক হেইডস দূর করতে কফি ফেসিয়াল করতে পারেন। এক টেবিল চামচ কফির গুঁড়ো, ১ চা চামচ লবণ, ১ চা চামচ বাদামি চিনি, এক চা চামচ মধু ও একটি ডিম নিয়ে একত্রে নিয়ে ভালো করে মেশান। যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়, ততক্ষণ ফেটাতে থাকুন। এবার প্যাকটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। ততক্ষণে প্যাকটি অনেকটাই শুকিয়ে যাবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধয়ে ফেলুন।
চুল
হেয়ার প্যাক
মাথায় খুশকি হলে স্কাল্পে হালকা গরম তেল ম্যাসাজ করুন। এরপর অল্প গরম পানিতে ডিমের সাদা অংশ ও এক চামচ কফি মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট মেহেদির সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ও স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে খুশকি থাকবে না ও চুল সিল্কি হবে।
কন্ডিশনার
ঘরেই লেবুর রস ও কফি মিলিয়ে কন্ডিশনার বানিয়ে নিতে পারেন। এক গ্লাস গরম পানিতে হালকা করে কফির লিকার করে নিন। ঠাণ্ডা হলে এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মেশান। শ্যাম্পু করার পর চুলে এই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর পানি ব্যবহার না করে চুল শুকিয়ে ফেলুন। এতে চুল নরম ও সিল্কি হবে।
খেয়াল রাখুন
* কফির প্যাক যাতে চোখে বা মুখের ভেতর ঢুকে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখুন।
* কফি দিয়ে ত্বক বা চুলের চর্চা করার সময় কফির গুঁড়া ব্যবহার করুন।
সূত্র- কালের কন্ঠ।

ফেব্রুয়ারী মানেই উৎসব-আয়োজনের মাস। আর তারই ধারাবাহিকতায় পহেলা ফাল্গুন-ভালোবাসা দিবসের পর এবার আসছে ২১শে ফেব্রুয়ারী। প্রতিবছরই ২১শে ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে আয়োজন হয় নানা রকমের অনুষ্ঠান এবং ফ্যাশন হাউস গুলোও সেদিকে লক্ষ্য রেখে তৈরী করে ভাষা দিবসের ভিন্ন ধর্মী সব পোষাক।
অপরাজিতার আজকের আয়োজনে থাকছে ঢাকার উল্লেখযোগ্য কিছু ফ্যাশন হাউসের ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ঘিরে এবারের আয়োজন সমূহ…
ফড়িং
মহান একুশকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউস ফড়িং একুশের বিভিন্ন চিত্র নিয়ে বেশকিছু পোশাকে ডিজাইন করেছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টি-শার্ট ইত্যাদি পোশাকে রং ব্যবহার করা হয়েছে কালো, সাদা, ধূসর প্রভৃতি। এসব পোশাকে কাজ করা হয়েছে এমব্রয়ডারি, স্প্রে, ব্লক, অ্যাপ্লিক, হাতের কাজ প্রভৃতি। দামও নির্ধারণ করা হয়েছে সবধরনের ক্রেতাদের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে।

খাবারে মটরশুঁটি আমরা অনেকভাবেই ব্যবহার করি। বিরিয়ানী,তরকারী সহ বিভিন্ন রেসিপিতে ব্যবহার করা হয় মটরশুঁটি। যা খাদ্যের স্বাদ বাড়ায় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিরও যোগান দেয়। আজকে অপরাজিতার রেসিপিতে থাকছে,এই মটরশুঁটি দিয়ে কিভাবে তৈরী করা যায়,মজাদার সালাদ…
উপকরণ : মটরশুঁটি ১ কাপ,
শসা কুচি আধা কাপ,
টমেটো কুচি আধা কাপ,
পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ,
কাঁচামরিচ কুচি ২ চা চামচ,
কাজু বাদাম/চীনা বাদাম (আধা ভাঙা) আধা কাপ,
টমেটো সস আধা কাপ,
গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ,
ধনেপাতা কুচি সামান্য,
চিনি আধা চা চামচ,
লবণ স্বাদ মতো।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে মটরশুঁটি ফুটন্ত গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। একটি ডিশে সব উপকরণ সুন্দরভাবে মিশিয়ে মটরশুঁটি ও বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার সালাদ।


ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে হয়ে গেল নারী প্রযুক্তি সম্মেলন। এতে নারী নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেন দেশের প্রবীণ ও নবীন সফল নারীরা। বক্তারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প করেন। সেসব নিয়েই এই প্রতিবেদন।
আলোচকদের মধ্যে ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, অনলাইন ভিত্তিক নারী উদ্যোক্তা, আইনজীবী, মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তা ও আইটি ক্ষেত্রে কর্মরত সরকারের আমলাসহ অনেকে। শুরুতে সঞ্চালক সামিরা জুবেরী হিমিকা নবীনদের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশক ও ক্লিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক তারিন হোসেন মঞ্জু বলেন, ৬২ বছরের একটি পত্রিকাকে যখন আমি ‘ক্লিক ইত্তেফাক’ করে অনলাইনে নিয়ে আসতে চাই, তখন প্রথমেই আমাকে ‘না’ শুনতে হল। বলা হল এত পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী একটি পত্রিকাকে তুমি পারবে না ক্লিক করে অনলাইনে নিয়ে আসতে। আমি আমার লক্ষ্যে অবিচল ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল আমি পারবো। বিশ্বাসটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই আজ এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে টেক উইম্যানে এসে একথা বলতে পারছি। আমি শিখেছি চলার পথে ‘না’ আসবে। লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে ‘না’ কে প্রতিহত করতে হবে।
গ্রামীণফোনের ডিজিটাল সার্ভিসের সিনিয়র স্পেশালিস্ট শায়মা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধকতা থাকবে। কিন্তু লেগে থাকতে হবে। তাহলেই একদিন নতুন দিনের নতুন সকাল তোমাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকবে।
ফিউচার সলিউশন ফর বিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকা হাসান সেজুতি মনে করেন আমি কিছু করতে চাই। আমার একটা পরিচয় হবে এই স্বপ্নই সব বাধা পেছনে ফেলবে। বাকিরা বলেন, নিজের শিক্ষা আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম করার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কাজের ক্ষেত্রে নিজের মন কি বলে তা মেনে চলার ওপরও তারা জোর দেন। কাজের সাথে ভালবাসা জড়িয়ে থাকলেই সে কাজে সফলতা আসে।
বক্তারা বলেন, যখন যা করবো সেটাই আনন্দ নিয়ে করতে হবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শত ব্যস্ততার মধ্যে রান্না করতে পছন্দ করেন। তারা বলেন, রাতে গিয়ে যে দিন রান্না করি, সেটাই নতুন এক ভালোলাগা নিয়ে উপভোগ করি। বোরিং নেস জীবন থেকে ঝেরে ফেলতে হবে। করার জন্য কিছু করা জীবনে প্রবেশ করবে না বরং পেশাই পেসন, পেশাই তোমার পরিচয়।
মিস ম্যাচ বা এ কাজ আমার জন্য নয় এমন প্রশ্নের জবাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা বলেন, অনেকে পরিবারে আদি পেশা ছেড়ে নিজের নতুন পেশায় এসেছেন। তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন বলেই ভুল করেননি। বাবা-মা অনেক সময় নিজেদের পছন্দ মেয়েদের ওপর চালিয়ে দেন। তা থেকে তখনই বেরিয়ে আসা সম্ভব যখন আপনার আত্মবিশ্বাস থাকবে আপনি পারবেন। আর পারার জন্য নিজেকে যোগ্য করতে হবে। এই যুগের নারী কোনভাবেই প্রযুক্তি থেকে আলাদা নয় বরং যোগ্যতার বলেই প্রযুক্তি নির্ভর পেশায় তারা।
বক্তারা জানান, একটি মোবাইল ফোন দিয়ে আজ তারা যোগাযোগ করছে। কেনাকাটা করছে, ব্যাংকিং করছে, ছবি তুলছে, গান শুনছে, ছবি দেখছে, ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে ভালোমন্দ শেয়ার করছে। আবার বাড়িতে বসে অফিসের কাজও করছে। তাই তথ্য প্রযুক্তি নারীর জন্য আলাদা কোন বিষয় নয়। তবে সকল নারী এখনও সেভাবে এই বিশাল জগতে বিচরণ করতে পারছে না। যারা যত বেশি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হবে তারা তত বেশি আপডেটেট হবে।
মেয়েদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক অনন্য রহমান বলেন, ভুল থেকে শেখা আর পরিশ্রমই নারীকে তথ্য প্রযুক্তির কাজে সফল করতে পারে। এই ডায়নামিক তরুণরা আগামী দিনের দেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সূত্র- ইত্তেফাক।

‘উইমেন লিডারশিপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল শনিবার ভারতের মুম্বাইয়ে শুরু হওয়া ‘সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড উইমেন লিডারশিপ কংগ্রেস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড (ডব্লিউডব্লিউএলসিএ)-২০১৫’ সম্মেলনে তাকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্পিকার ‘কানেক্টিং মাইন্ডস, ক্রিয়েটিং দ্য ফিউচার’ শীর্ষক সেশনে বক্তৃতাকালে বলেন, সমগ্র বিশ্বে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যেসব চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, সেগুলো মোকাবিলা করে আগামীদিনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে নিতে নারী সমাজসহ সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আগামী দিনে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রে নারী-নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করে উন্নয়নের মূলধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জেন্ডার সমতা তৈরিপূর্বক সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোকেও কাজ করতে হবে।
ড. শিরীন আরও বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড উইমেন লিডারশিপ কংগ্রেস’ সমাজের প্রতিষ্ঠিত নারীদের জন্য একটি অনন্য ফোরাম। সকল ক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এই ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সূত্র- বাসস।

অভিনেত্রী ও নির্মাতা রুমানা রশীদ ঈশিতা প্রতি বছরই একটি নাটক অথবা টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। এ বছরও তিনি একটি নাটক নির্মাণ করছেন। নাটকের নাম ‘ফিরে এসো প্রেম’। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করছেন ঈশিতা নিজেই।
ঈশিতা জানান, সময়োপযোগী একটি গল্প নিয়ে নাটকটি নির্মিত হচ্ছে। নাটকে যারা কাজ করছেন বিশেষ করে লাক্সতারকা, ইমামি ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম, ভিট তারকারা বেশ ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে অভিনয় শেখার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা যদি ধৈর্য ধরে কাজ করে যায় তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।
এছাড়া আজিজুল হাকিম ভাই এবং মুনিরা ইউসুফ মেমী আপার অভিনয় নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দুজনই অসাধারণ অভিনয় করছেন। আমি চেষ্টা করছি ভালোভাবে কাজটি শেষ করার। আমার পুরো ইউনিটের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘ফিরে এসো প্রেম’ নাটকটি ভালোবাসা দিবসে সন্ধ্যা ৭.৫০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। ফিরে এসো প্রেম নাটকে আজিজুল হাকিম ও মুনিরনা ইউসুফ মেমী ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম আবুল কালাম আজাদ, লাক্স তারকা নাদিয়া, ভিট তারকা তন্বী ও নাফিজা।
![]()

অপরাজিতা ডেস্কঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে সম্প্রতি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেসি লবি ডিরেক্টর গোস্বামী বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশু চরম অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালন দিনে দিনে সহিংস-সন্ত্রাসী আকার ধারণ করছে। এই অবরোধ ও হরতালে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু মৃত্যুবরণ করছে। ৪ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে পেট্রলবোমা বিস্ফোরণ, আগুন ও সহিংসতায় নারী এবং শিশুসহ ৩৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নারী, শিশুসহ মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান প্রমুখ।

অপরাজিতা ডেস্কঃ দেশে কার্যরত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট খোলার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় স্বাক্ষরিত সার্কুলারে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট খোলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমুহের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে(যদি থাকে)নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ইউনিট শাখা পর্যায়ের এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিং করবে। এ ইউনিটে নারী কর্মকর্তা নিয়োজিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের সকল প্রকার সেবাদান, ঋণ বিতরণে উদোগী ভূমিকা পালন, এসএমই ঋণ বিতরণ ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন,নারী উদ্যোক্তাদের ক্লাস্টার খুঁজে বের করে তাদের ঋণ বিতরণ কর্মকাণ্ডে আনতে এ ইউনিট কাজ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে ইউনিট গঠন করে তা অবহিত করতে বলা হয়েছে।

সমাজের জন্য শিক্ষক হলেন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর,কিন্তু সেই মানুষটাই যখন নিজের ভেতরের পশুবৃত্তিকে ভিত্তি করে একটা শিশুর জীবন ধ্বংসের খেলায় নামেন তখন তো বলতেই হয়,রক্ষক হলে ভক্ষক! এমনই একজন ভক্ষকের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে রংপুরে!
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর বাদশাহ (৪৫) একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৬৩ শতাংশ জমি ওই শিশুর নামে লিখে দিয়ে তিনি ওই বিয়ে করেছেন।
বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর সরকারপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর বাদশাহ সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০০০ সালে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ও আরেক মেয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১২ সালে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন তিনি। এ জন্য তিনি মেয়েসহ তার মা-বাবাকে নানা প্রলোভন দেখান। কিন্তু বিয়ের ঘটনাটি এত দিন প্রতিবেশী কিংবা এলাকার কেউ জানতেন না।
মেয়েটির ভ্যানচালক বাবা বলেন, ‘বাবা মুই গিরব মানুষ। ওর অনেক ধন। পোরতোম মুই বেটিক বিয়াও দিবার চাও নাই। কিন্তু অয় বেটির পাচ ছাড়ে না। বেটির নামে ৬৩ শতক জমি লেকি দিয়া কোটোত জায়া চুপ করি বিয়াও করচে। এই কথা কাকো জানবার দেয় নাই।’
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি মেয়ের বাড়িতে জাহাঙ্গীরের অবাধ যাতায়াত ও মেয়েটিকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াত করায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। অবশেষে গত মঙ্গলবার মেয়ের বাবা বিয়ের কথা প্রতিবেশীদের কাছে স্বীকার করেন।
জানতে চাইলে শিক্ষক জাহাঙ্গীর বাদশাহ ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ভাই যা হওয়ার হয়েছে। দয়া করে পত্রিকায় এটা লিখবেন না। আমার চাকরির ক্ষতি হবে।’
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েটির ক্লাসে রোল ছিল এক। তবে বিয়ের পর সে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘সম্প্রতি জানতে পেরেছি মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু অভিযোগ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।’
ওই বিয়ে নিবন্ধন করেছেন কালুপাড়া ইউনিয়নের নিকাহনিবন্ধক নজরুল ইসলাম। জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অনেক আগের, এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না, খাতা দেখতে হবে।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহেদুল হক বলেন, ‘একজনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। তিনি একটি কেন, সাতটি বিয়ে করতে পারেন।’
তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বয়স ১০ বছর। কোনোভাবেই এ বয়সে ছাত্রীর বিয়ে হতে পারে না। তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরেই তদন্ত করতে শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও যাঁরা ওই বিয়ে পড়ানোর সাথে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র- প্রথম আলো

আজকাল অনেক উদ্যোক্তা কাজের অবস্থান থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও সফল ভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। তাদের বেশিরভাগের ‘অফিস’ হচ্ছে নিজের ঘরেই!বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে কিংবা প্রিয় কফি শপে!
সৌভাগ্যবশত বর্তমান প্রযুক্তি প্রত্যেককেই যার যার অবস্থান থেকে যেকোন জায়গার কাজ সম্পাদন করার সুযোগ দিচ্ছে আর তাই উদ্যোক্তারা পারছেন নিজেদের ঘর থেকেই অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে।যে কেউ ই ঘরে বসে অফিস করতে পারছে এটা শুনতে যতোটা সহজ শোনায় করতে কিন্তু ততোটা সহজ নয়!
প্রোটোকল স্কুল অফ প্লামবিচের ফাউন্ডার জ্যাকলিন হোয়াটমোর তার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে যেয়ে বলেন,১৯৯৮ সাল থেকে আমি আমার বিজনেস শুরু করেছি,তখন এই এখনকার মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ছিলো না,আমাকে অন্যান্যদের মতোই রোজ অফিস করতে হতো,ক্লায়েন্ট সার্ভিস দিতে হতো অফিসে বসেই।প্রায় ছয় বছর এভাবে কাজ করার পর আমি আমার অফিস স্থানান্তর করলাম আমার বাসায়। না এটা খুব সহজ সিদ্ধান্ত ছিলো না! তখন এভাবে অফিস করা কেউ শুরু করেনি,কিন্তু আমি একাই শুরু করেছিলাম নিজের প্রতি বিশ্বাস আর প্রযুক্তির উপকারিতা কে সঙ্গে নিয়ে! শুরুতে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিলো না,একা একা বাসায় অফিস করতে কার ভালো লাগে?! বাসার অফিসে আমি একা কাজ করি,আমার সার্কেলের সবাই অফিসে যেয়ে কাজ করে সুতরাং আমার জন্য এই পরিবেশটার সাথে মানিয়ে নেয়াটা সহজ ছিলো না বটে কিন্তু কিছু সময় পর,আমি অভ্যস্থ হতে লাগলাম আমার নতুন অফিসের সাথে! বেশ ক’বার রুটিন চেঞ্জ করতে হয়েছে আমাকে,কিন্তু ধীরে ধীরে এটা আমাকে বেনিফিট দিতে শুরু করে। আমার বিজনেস নেটওয়ার্ক তৈরী হয়,কাজের প্রসার বাড়তে থাকে এবং সেই সাথে অন্যান্য কাজ গুলো আমার জন্য সহজ হতে থাকে।
যারা বাসায় থেকে নিজের অফিস মেইনটেন করার কথা ভাবছেন বা করছেন সে ক্ষেত্রে কিছু টিপস তাদের সবাই কে মাথায় রাখা উচিত। যেমন,
১. নিয়মতি একটা অফিসে বসার জন্য সময় ঠিক করা এবং তা পালন করাঃ
বাসায় কাজের রকম হাজারো হোক,অফিসের কাজের জন্য প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিতে হবে। এবং সেই সময়টাতে শুধু মাত্র অফিসে কাজ গুলো করা হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখে যায়,অনেকেই সময় ঠিক করেন কিন্তু পরে তা এলোমেলো করে ফেলেন বাসার কাজের সাথে যেটা খুবই বাজে অভ্যাস!
অনেকের বাসায় ছোট বাচ্চা থাকে,যাদের কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটে আর সে সাথে বাসার অন্যান্য কাজ তো থাকেই কিন্তু নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল দেখতে চাইলে সব কিছুর মাঝেও অফিসের জন্য নির্দিষ্ট সময়টা ব্যবসার কাজেই লাগাতে হবে।
২.প্রতিদিনের কাজের প্ল্যান ও পদ্ধতি গুলো ঠিক করে নিতে হবেঃ
যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই পূর্ব পরিকল্পনা সময় বাঁচাতে সাহায্য করে। আর তাই বাসায় থেকে অফিস মেইনটেন করার ক্ষেত্রেও পূর্ব পরিকল্পনা,কাজের দিক ঠিক করে রাখা এবং কাজ গুলো দিন-সময় অনুযায়ী সাজিয়ে রাখাটা অফিস এবং বাসার কাজ দু’টো মেইনটেন করার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে।
তাই রান্না ঘরেই থাকুন কি অফিসে,সামনে রাখুন কাজের লিস্ট গুলো! প্রাইয়োরিটি বেসিসে কাজ গুলো শেষ করুন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
৩.নিজেকে পরিপাটি রাখুন হোক তা সামান্য কাজের বেলাতেওঃ
একটা প্রবাদ আছে,পোষাক বাড়ায় মনোবল। আর তাই বাসা হোক কি অফিস কাজের বেলায় নিজের পোষাকের দিকেও খেয়াল রাখুন। সব সময়,সব জায়গায় একই রকম পোষাক কাজের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঘরের কাজ আর অফিসের কাজের বেলায় চেষ্টা রাখবেন পোষাক টা যেনো ভিন্ন এবং আরামদায়ক হয়।
অফিসে ক্লায়েন্ট সার্ভিস দেবার সময়,কাস্টমার-বায়ারদের সাথে ডিল করার সময়ও মাথা রাখবেন,অফিসের পোষাক টা যেনো অফিসের মতোই হয়!
৪.কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুনঃ
চেষ্টা করবেন আপনার অফিস প্লেস টা যেনো আলাদা হয় আপনার বাসার অন্যান্য রুম থেকে। তাই কাজ করার জন্য বাছাই করবেন এমন একটি এরিয়া যেখানে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে সব কিছু ব্যালেন্স করতে সমস্যা না হয়।
কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য অফিসের ছোট থেকে বড় সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ হোক তা ফুলদানীর ফুল গুলোই! ঘরের কাজ করে,সংসার নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যখন আপনি অফিসে আসবেন তখন যেনো,নিজে থেকেই কাজ করার ইচ্ছে জাগে,সব কিছু কে এক পাশে রেখে নিজের বিজনেস কে ভাবতে ইচ্ছে করে!সে ক্ষেত্রে আপনার অফিসের পরিবেশটাই পারবে অনেকটা ভূমিকা রাখতে।
৫.বিরতি নিনঃ
প্রতিদিন বাসা-অফিসের কাজের ফাঁকে কিছু সময় বিরতি নিন। চেষ্টা করুন লাঞ্চটা অফিসের বাইরে পরিবারের সাথে করতে কিংবা বিকেলের চা টা বাগানে বা ছাদে বসে খেতে। এতে করে মানুসিক প্রশান্তি পাবেন,কাজে স্পিড আসবে। আর বাসায় থেকে অফিস করার যেমন অনেক উপকারীতা আছে তেমনি অপকারিতাও আছে!!
সব সময় বাসায় থাকার দরুন আপনার বডি ফিটনেস চেঞ্জ হতে পারে! কিন্তু জীবনের জন্য কাজের জন্য উপযুক্ত বডি ফিটনেস জরুরী। তাই নিয়ম করে ব্যায়াম অবশ্যই করবেন। এতে শরীর-মন দু’টোই সতেজ থাকবে।
৬.যথা সম্ভব মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ
বাসায় থেকে অফিস করাটা এক ধরনের কঠিন চ্যালেঞ্জ বটে! ঘরে বাচ্চাদের সামলানো,পারিবারক নানান ঝামেলা কে একপাশে রেখে মনোযোগের সাথে অফিস করাটা সব সময় সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে দুই জায়গাতেই আপনার মেজাজ কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এবং ঘরের চিন্তা-অনুভূতি গুলোকে এক পাশে রেখেই অফিস করতে হবে।
অফিসে যতোক্ষণ থাকবেন,সময় যেনো অপচয় না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। আর তাই অপ্রোয়োজনিয় মেইল আদান-প্রদান,সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত সময় দেয়া,ফোনে বেশি সময় কথা বলা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
সূত্র- একটি ইংরেজি সাময়িকি অবলম্বনে অনুবাদ করেছেন স্বপ্নকথা।

শুরু হয়েগিয়েছে ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস,সেই সাথে উৎসবের মাসও বটে। বাংলা মাসের ক্যালেন্ডার থেকে শীতের বিদায় ঘন্টা বেজে চলছে,শুরু হচ্ছে প্রকৃতিতে নতুন উৎসবের আমেজ। পহেলা ফাল্গুন এবং সেই সাথে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিবারের ন্যায় এবারো আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউস গুলো তৈরী করছে উৎসবীয় রঙের নানান ডিজাইনের পোষাক। ফাল্গুনের বাসন্তি উৎসব এবং ভালোবাসা দিবসের বর্ণিল আয়োজন কে ঘিরে কোন কোন ফ্যাশন হাউস কি কি ধরনের পোষাক তৈরী করছে তা নিয়ে অপরাজিতাবিডির এবারের আয়োজনে লিখেছেন স্বপ্নকথা…
ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই শুভেচ্ছা ও ভাববিনিময়ের দিন। এই দিনে ভালোবাসার মানুষটির সামনে নিজেকে কিভাবে সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় এ নিয়ে অনেকেই পড়েন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। কাপলদের সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য এড্রয়েট তৈরি করেছে নতুন ডিজাইনের পোশাক। এড্রয়েটের সব শোরুম থেকে একই দামে পোশাকগুলো ক্রয় করতে পারবেন।
ঋতুভিত্তিক পোশাক আয়োজনে ফ্যাশন হাউস রঙ রয়েছে এগিয়ে। তাই রঙ এর নতুন আয়োজনে বসন্ত উৎসব এবং ভালোবাসা দিবস কে সামনে রেখে পোশাকে এসেছে লাল,বাসন্তী ও হলুদ রঙের ছোঁয়া। তবে নতুন পাতার রং সবুজও এসেছে পোশাকের নকশায়। লাল-কমলা রঙও বাদ যায়নি। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া সবকিছুতেই যেন বসন্তের ফুলে ফুলে ভরে ওঠা প্রকৃতি। প্রকৃতির বিভিন্ন মোটিফ ব্যাবহারে প্রতিটি নকশায় বসন্তের প্রকৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসাবে এসেছে চুনোট, টাই-ডাই, ব্লক-স্প্রে, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিক, ভেজিটেবল রং, কারচুপি, হাত ও মেশিন এমব্রয়ডারি, এবং চুমকির কাজ।
রঙ এর এই বসন্ত আয়োজন পাওয়া যাবে আজগর স্কয়ার-সিলেট, দেশীদশ-আফমি প্লাজা-চট্টগ্রাম, বেইলী ফিয়েস্তা (৩য় তলা)-বেইলী রোড, দেশীদশ-বসুন্ধরা সিটি শপিং মল-পান্থপথ-ঢাকা, অরচার্ড পয়েন্ট-ধানমন্ডি, এডাপ্ট আমির কমপ্লেক্স-বারিধারা, রাইফেলস্ স্কয়ার-ধানমন্ডি, সানরাইজ প্লাজা-লালমাটিয়া, টুইন টাওয়ারস্ কনকর্ড শপিং কমপ্লেক্স-শান্তিনগর, সান্তনা মার্কেট- নারায়নগঞ্জ।
কে ক্র্যাফট
শীত শেষ না হতেই প্রকৃতিতে বসন্তের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে দেশের শীর্ষ ফ্যাশন হাউজগুলো আয়োজন করেছে বসন্তের নানা সম্ভার। বসন্ত উপলক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারো ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফট তাদের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবীর কালেকশনে নিয়ে এসেছে বৈচিত্র।
বাসন্তী, হলুদ আর সবুজের সংমিশ্রণে তাদের শাড়িগুলো সত্যিই আকর্ষনীয়। কটনের ওপর প্রিন্টের শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। আর স্কিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির হাফ সিল্ক শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে।হলুদের ওপর কারুকাজ করা কটনের সালোয়ার কামিজগুলো পাওয়া যাবে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। এমব্রয়ডারি ও স্কিন প্রিন্টের কটন সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাবে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে।ছেলেদের কটন লং পাঞ্জাবী ১২০০ থেকে ১৫০০ এবং এন্ডি লং পাঞ্জাবী ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।
ভালোবাসা দিবসের কাপ ফটোস্যুট আয়োজন
ওয়েডিং ডায়েরি
ওয়েডিং ডায়েরি দিচ্ছে যুগলদের জন্য ২০০০ ও ৫০০০ টাকায় ছবি তোলার সুযোগ। এ ছাড়া বিয়ের ছবি তোলাতেও ছাড় পেতে পারেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব সুযোগ থাকবে। ফেসবুক: www.weddingdiary.com.bd

* বেশিক্ষণ সিল্কের শাড়ি পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। একবার পানিতে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলুন।
* খুব জোরে কাপড় কাচবেন না। ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। শুকাতে দেয়ার সময় হালকা করে পানি ঝরিয়ে ছায়ায় শুকাতে দিন।
* সিল্কের শাড়ি বাড়িতে ইস্ত্রি করার চেষ্টা করুন। অথবা ভিজে থাকতে হাতের ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ইস্ত্রি করুন। খুব গরম করে ইস্ত্রি করবেন না। উল্টো দিক থেকে করতে পারলে ভালো। আঁচল ও পাড়ে ভারী নকশা থাকলে ওপরে নরম কাপড় রেখে উল্টো করে ইস্ত্রি করুন।
* সিল্কের শাড়ি পরে মেকআপ না করাই ভালো।
* প্লাস্টিকের প্যাকেটে সিল্কের শাড়ি রাখবেন না।
* মসলিনের কাপড়ে মুড়ে সিল্কের শাড়ি অন্ধকার জায়গায় রাখুন। কখনও ড্যাম্প জায়গায় শাড়ি স্টোর করবেন না।
* ভারী কাজ কিংবা এমব্রয়ডারি করা শাড়ি হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে ভাঁজ করে রাখুন।
* সিল্কের শাড়ির মধ্যে ন্যাপথলিন বল রাখবেন না। এতে শাড়ি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া কাপড়ে ন্যাপথলিনের গন্ধ রয়ে যাবে। তবে এর পরিবর্তে দারুচিনি, লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন।
* কড়া রোদে সিল্কের শাড়ি শুকাতে দেবেন না। কারণ এর ফলে রং হালকা হয়ে যাবে।
* শাড়িতে তেল মশলাযুক্ত দেয়া গ্রেভি বা তেলযুক্ত কোনো দাগ লেগে গেলে ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন। এরপর ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত পাউডার ঝেড়ে ফেলুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে পারিষ্কার করুন।

অপরাজিতা ডেস্কঃ আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক চৈতালী ত্রিপুরা।
চৈতালী ত্রিপুরা বলেন, ২০১৪ সালে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যাসহ আদিবাসী নারী ও শিশুদের ওপর মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫১টি এবং সমতল অঞ্চলে ২৪টি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্থ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন, নারী প্রগতি সংঘের সমন্বয়কারী দিলারা রেখা, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয় কমিটির সদস্য রাখিম্রং প্রমুখ।

নারীরা বসে নেই,এগিয়ে যাচ্ছে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গনে। মুসলিম নারীরা সচেতন হয়ে উঠছে তাদের হক বা অধিকার সম্পর্কে যা আল্লাহ স্বয়ং তাদের দিয়েছেন। তারা বুঝতে শিখছে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (স:) প্রবর্তিত এ হক কেড়ে নেবার অধিকার কারও নেই; নারীরাও আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত, ঠিক যেমনি পুরুষেরা।
আমি ‘শিখেছে’, ‘উঠেছে’- এ ক্রিয়াগুলো ব্যবহার না করে ‘শিখছে’, ‘উঠছে’ ক্রিয়াগুলো ব্যবহার করেছি। কারণ আমার মতে এখনো এ প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি কোনো একস্থানে আমরা অবস্থান করছি। পূর্ণতা অর্জন এখনও বেশ দূর। মুসলিম নারী জাগরণের, নারীর অবস্থান পরিবর্তনের এ জোয়ার পুরুষদের গায়েও লেগেছে। নারীদের প্রতি তাদের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গীর বেশ একটা পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা এ অবস্থাকে বলতে পারি একটা Transition Period।
এ অবস্থানে অধিকাংশ পুরুষের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায় একটি দ্বৈত চরিত্র। একদিকে নারী জাগরণের এ সময় তারা তাদের সঙ্গীনীকে কল্পনা করেন বিদুষী, শিক্ষিত, কর্মচঞ্চল, ও সচেতন এক নারী রূপে। অন্যদিকে তাদের মনের কোঠরে বাস করে তাদের শৈশবে দেখে আসা সেসব নারী চরিত্র যারা স্বামী সেবাকেই জীবনের একমাত্র কাজ ও লক্ষ্য মনে করতেন; স্বামী বা স্বামীপক্ষের সব অন্যায়, অত্যাচার, গঞ্জনা মুখবুজে সয়ে যেতেন, মুখে ‘রা’ টি করতেন না। তাদের মনে রয়ে গেছে সেই ‘বুক ফাটেতো মুখ ফোটেনা’ – গোছের নিরীহ বধূটি। অর্থাৎ তারা এর একাংশ আর ওর অপরাংশ মিলিয়ে অদ্ভুত এক কল্পিত নারী চরিত্র তৈরী করেন যা স্বভাবগতভাবেই পরস্পর বিপরীত। যে নারী সচেতন, যে নারী বহির্জগতের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস রাখেন, সে নারী নিজ স্বামীর অবহেলা-অসম্মানকে চিহ্নিত করতে অসমর্থ হবেন, বা বুঝতে পেরেও সমাজের রক্তচক্ষুর ভয়ে গুটিশুটি মেরে যাবেন এমনটা আশা করা যুক্তিহীন।
অনেককে দেখেছি বিয়ে করার সময় বুদ্ধিমতী, চৌকষ, যোগ্য মেয়ে খোঁজেন। কিন্তু বিয়ের পরে সেই বুদ্ধিমতী মেয়েটি যখন তাকে কোনো ব্যাপারে পরামর্শ দেয় তখন অন্যদের সম্মুখে সেই পরামর্শকে মেনে নেয়াকে কাপুরুষতা মনে করেন। ভাবেন –
স্ত্রীর কথা শুনলে অন্যরা কি মনে করবে ?
সবাই বলবে আমি স্ত্রীর কথায় উঠি-বসি।
ওরা বলবে আমি একটা স্ত্রৈণ।
অথচ এটা তো খুব স্বাভাবিক যে, যেকোনো শিক্ষিত বুদ্ধিমতী মেয়েই আশা করবে যে, তার স্বামী তার সঙ্গে পরামর্শ করবে, তার মতামতের গুরুত্ব দেবে। একদিকে বুদ্ধিমতী স্ত্রী চাওয়া অন্যদিকে স্ত্রীর মতামতকে (তা যতটা মানসম্মতই হোকনা কেন) মেনে নিলে মান যাবে এমনটা ভাবা পরস্পর বিরোধী মানসিকতারই লক্ষণ।
আমার ধারণা এই Transition Period এ অনেক পুরুষই আসলে কি চাইছেন এ ব্যাপারে নিজেরাই যথেষ্ট স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না বা একধরনের দোটানায় ভোগেন। একদিকে তারা আমাদের দেশের নারীদের অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইছেন, তাদেরকে সচেতন নারী রূপে দেখতে চাইছেন, আবার একই সাথে বাস্তব জীবনে নিজের ঘরের নারীটিকে নিজ অধিকার সম্পর্কে নীরব, নিশ্চুপ, বোধহীন দেখতে ভালবাসছেন। এ দ্বৈততার ফল খুব একটা সুখকর হয়না।
নারী স্বভাবতই ধৈর্যশীল। তবে ধৈর্য্য- সহিষ্ণুতা আর উপর্যুপরী অন্যায়-অবহেলা- অসম্মান চুপচাপ মেনা মেনে নেয়া এক কথা নয়। নারীর যেমন স্বামীর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরী, তেমনি স্ত্রীর সন্তুষ্টির প্রতিও স্বামীর লক্ষ্য রাখা জরুরী। স্ত্রীর অধিকার সচেতনতাকে ‘বিদ্রোহ’ হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে ‘স্ত্রীর আনুগত্য’ নয়, বরং স্বামী- স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতিই আমাদের পারিবারিক জীবনকে সফল করে তুলতে পারে।
লিখেছেন- কানিজ ফাতিমা নিপু। ক্যালগরি,কানাডা।

হঠাৎ লেখার গতি কমে গেলো জাফরের। হোঁচট খেয়ে খুঁড়িয়ে চলতে চলতে একসময় থেমে গেলো। চোখ তুলে দেখলো সুবহা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সুবহার কথাটা শুনে এত রেগে গিয়েছিল কেন সে? এমন তো নয় যে ফান বোঝে না! ভালোই বোঝে। কিন্তু তবুও সুবহার ফানটা নিতে পারেনি! কেন পারেনি? মানুষের মন আসলেই খুব বিচিত্র! কখনো কখনো অনেক বড় কিছুকেও হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়! আবার কখনো কখনো ছোট্ট একটা ধূলি কণাকেও ঝেড়ে ফেলে দিতে তৈরি থাকে না! কিন্তু যত যাই কিছু হোক না কেন মজা করারওএকটা লিমিটেশন থাকা উচিত! যে কোন সম্পর্কেকে সুন্দর ও গতিশীল রাখার জন্য লিমিটেশন জ্ঞানটা খুব জরুরি! প্রতিটা সম্পর্ক যেমন ভিন্ন, সম্পর্কেও মাঝে বিদ্যমান আদবও ভিন্ন। একটা সম্পর্ক যতই খোলামেলা বা উদার হোক না কেন তাতে বিদ্যমান আদবের বরখেলাপ করা অনুচিত! ইসলামও তো এমনটাই শিক্ষা দেয়! রসিকতার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই শরীয়তে। বরং উৎসাহিত করা হয়েছে। হযরত আলী (আ) বলেছেনঃ রাসূল (সা) যখনই তাঁর কোনো সহচরকে বিষন্ন বা মনমরা অবস্থায় দেখতেন, তখনই কৌতুক মজা করে তাকে প্রফুল্ল করে তুলতেন এবং বলতেনঃ নামাযের পর সবচেয়ে উত্তম আমল হলো মুমিনদের অন্তরকে প্রফুল্ল করা। অবশ্য এমনভাবে হতে হবে যেন তাতে গুনাহের লেশমাত্র না থাকে।
ইমাম হাসান (আ.) কে ইমাম আলী (আ) এক উপদেশ বাণীতে বলেছেনঃ “হে সন্তান আমার! সে-ই ইমানদার যে তার দিনরাতের সময়গুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেয়। একটি অংশকে কাজে লাগায় আধ্যাত্মিকতার চর্চা এবং আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার মধ্য দিয়ে। অপর একটি অংশকে কাজে লাগায় পার্থিব জগতের প্রয়োজনীয়তা ও জীবন জীবিকার চাহিদা মেটাতে। আর তৃতীয় অংশটিকে নির্দিষ্ট করে বৈধ এবং হালাল বিনোদন উপভোগ করার জন্যে।” তোমাকে বিয়ে করাই আমার ঠিক হয়নি” সুবহার বলা এই কথাটিতে কি রসিকতার মাঝে ফেলা যায় ? ঠিক বুঝতে পারছে না জাফর? সেকি ওভার রিঅ্যাক্ট করেছিল নাকি এই ধরণের কথা আসলেই বলা ঠিক না স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যেকে? জানে সুবহা ফান করেই কথাটা বলেছে! কিন্তু ফান করে কি এমন কথা বলা যায় যাতে অন্যের মনে কষ্ট হতে পারে? ফান মানুষ আসলে কেন করে?
ডায়েরী পাশে রেখে জাফর বলল, আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন মানুষ ফান কেন করে?
একটু ভেবে সুবহা বলল, আনন্দ পাবার জন্য।
শুধুই পাবার জন্য?
না দেবার জন্যও।
তাহলে নিশ্চয়ই ফান করে কাউকে এমন কথা বলা উচিত নয় যাতে সে কষ্ট পেতে পারে তাই না?
হুম… একদমই উচিত নয় এটা।
জাফর হেসে বলল, আমারো এমনটাই মনেহয়। যে কোন সম্পর্কেই ফান আসলে এমন হওয়া উচিত যাতে দুজনই আনন্দ পেতে পারে। অন্যেকে কষ্ট দেবার জন্য যা করা হয় সেটা কখনোই ফান হতে পারে না!
অন্যকে কষ্ট দেয়ার নিয়্যাতে আসলে ফান করাও হয় না সাধারণত।
কিন্তু অন্যেকে ক্ষেপানো, রাগানো না বিরক্ত করার নিয়্যাতে অবশ্যই করা হয়। আমার মতে এটাও ঠিক না! যখন দুজন মানুষ একই রকম নির্মল আনন্দ অনুভব ও উপভোগ করবে সেটাই হচ্ছে প্রকৃত অর্থে ফান! সেই হিসেবে ফানের প্রথম শর্ত হচ্ছে, দুজনের জন্যই সেটা উপভোগ্য হতে হবে। তাছাড়া ফান তো আমরা সাধারণত খুব কাছের মানুষদের সাথেই করি তাই না! যারা মনের খুব কাছের! আর এমন প্রিয় মানুষদেরকে কষ্ট দ্বারা লব্ধ কিছু কি আনন্দের উপকরণ হতে পারে? নাকি হওয়া উচিত?
ভেতরে চেপে রাখা লম্বা শ্বাসটা ধীরে ধীরে বের করে দিয়ে সুবহা বলল, কখনোই হওয়া উচিত নয়। আমি খুব দুঃখিত তোমাকে ঐ কথাটি বলার জন্য।
জাফর হেসে বলল, আমিও খুব দুঃখিত তোমার ফানকে ফান হিসেবে নিতে না পারার জন্য। সম্পর্কের বন্ধন আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে বলেই হয়তো আমি তোমার কাথাটিকে ফান হিসেবে নিতে পারিনি। এখন আমার একটা প্রশ্নের জবাব দেন দেখি!
সুবহা বললেন, জ্বি কি প্রশ্ন?
জাফর বলল, আপনি এত দূরে বসে আছেন কেন? আপনি যদি এত দূরেই বসে থাকবেন তাহলে কেবিন ভাড়া করার দরকার কি ছিল আমার? শুধু দুজনে মিলে এই ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা ও আয়োজন তো আমরা করেছিলাম জীবনের এই মূহুর্তগুলোর ভাঁজ থেকে শত সহস্র সুখানুভূতির শিহরণ, আনন্দানুভূতি আন্দোলন আর প্রেমানুভূতির বিচ্ছুরণ সমৃদ্ধ স্মৃতি সংগ্রহের জন্য। যেসব আমরা রেখে যাবো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। যা ওদের হৃদয়ে ঝরাবে তুমুল শ্রাবণের চাষবাস!
লাজুকতা জড়ানো হাসি ছড়িয়ে পড়লো সুবহার চেহারায়। জাফরের ঠোঁটের কোণেও ফুটে উঠলো ভালোবাসাময় হাসি। ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে দিলো সুবহার দিকে………
লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।




বাড়ির সবার সাথে ফোনে কথা বলা শেষ করে সহযাত্রীর দিকে তাকালো সুবহা। গভীর মনোযোগ দিয়ে লিখতে কি যেন। একদম মুখোমুখি বসেছে সে তাই দেখার উপায় নেই কি লিখছে উনি। এত মনোযোগ দিয়ে কি লিখছে? লেখা দেখতে ব্যর্থ হয়ে লেখকের দিকে তাকালো সুবহা! চেহারার মধ্যে কি অদ্ভুত আত্ম নিমগ্নতা ছড়িয়ে গিয়েছে মানুষটির! মুগ্ধ না হয়ে পারলো না। খুব ইচ্ছে করতে লাগলো পাশে গিয়ে বসতে। কিন্তু নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে সে। অকারণেই ঝগড়া বাঁধিয়েছে ট্রেনে উঠার পর। দুষ্টুমির ছলে ঝগড়া যে সিরিয়াস পর্যায়ে চলে যাবে মোটেই বুঝতে পারেনি। কথায় কথায় জাফরকে বলে ফেলেছিল তোমাকে বিয়ে করাই আমার ঠিক হয়নি। বাক্যেটি শোনা মাত্র দপ করে নিভে গিয়েছিল জাফরের চেহারার আলো। শক্ত হয়ে গিয়েছিল চোখ মুখ। সুবহা কিছু বলার আগেই কঠিন স্বরে জাফর বলেছিল, পুরো জার্নিতে তুমি আমার সাথে কোন কথা বলবে না। না আমি তোমাকে চিনি, না তুমি আমাকে চেনো। এরপর হাজারটা কথা বলেছে, অসংখ্যবার সরি বলেছে কিন্তু জাফরের মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করাতে পারেনি। এজন্যই ফোনে কথা বলে কান ঝালাপালা করে দেবার চেষ্টা করেছে। যাতে বিরক্ত হয়ে কিছু বলে জাফর। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বই পড়ছে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকছে, এখন লিখতে বসেছে। কিন্তু কথা তো দূরে থাক একটা শব্দ পর্যন্ত বের করছে না মুখ দিয়ে বান্দাহ। এত কঠোর মানুষ হয়? কিভাবে এই লোকের সাথে সারাজীবন কাটাবে ভেবে কিছুটা শঙ্কিত বোধ করলো সুবহা।
মা বড় ফ্লাক্সে করে চা/কফি দুটাই দিয়ে দিয়েছিলেন। নিজে চা নেবার সময় এক কাপ জাফরের সামনেও রাখলো। ওমা সাথে সাথে হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ নিলো জাফর। একেই মনেহয় বলে জাতে মাতাল তালে ঠিক। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে মোবাইল নিয়ে ম্যাসেজ করলো সুবহা। আচ্ছা আমরা কি অপরিচিতদের মত কথা বলতে পারি? সাথে সাথেই জবাব এলো, হুম! আনন্দে হুরররে… বলে চিৎকার দিতে ইচ্ছে করলেও চিৎকারটা গরম চায়ের সাথে গিলে ফেললো সুবহা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আচ্ছা তো আপনি লেখক?
চোখ তুলে তাকালো জাফর। মুখে হাসি টেনে বলল, শখের লেখক বলতে পারেন। জীবনে ঘটমান হৃদয়াস্পর্শিত কথাগুলোকে মনের সাথে সাথে ডায়েরীর পাতাতেও টুকে রাখার চেষ্টা করি।
সুবহা বলল, এর সার্থকতা কি?
সার্থকতা কি সেটা তো ভেবে দেখনি। তবে কখনো যদি মন ভুলে যায় কোন সুন্দর মুহুর্ত। ডায়েরীর পাতার ভাঁজ থেকে সেটিকে সযতনে তুলে নেয়া যাবে।
এটাই তাহলে আপনার লেখক হবার পেছনের কারণ?
ইন্টারভিউ নিচ্ছেন নাকি?
নাহয় হলোই ইন্টারভিউ!
আমার আসলে লাভ স্টোরি পড়ার হবি আছে।
তো? এরসাথে লেখার কি সম্পর্ক?
আমি প্রথম লাভ স্টোরি পড়েছিলাম যখন আমার বয়স সাড়ে সাত বছর।
সুবহা চোখ বড় বড় করে বলল, সত্যি?
অবশ্যই সত্যি। বানান করে করে পুরো লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম। এরপর থেকে নিয়মিত পড়তাম।
আপনার বাবা-মা ধোলাই দেয়নি?
উনারা আসলে বুঝতেনই না যে আমি কঠিন সব বই পড়তে পারছি। তাই উনাদের চোখের সামনে বসেই জীবনের প্রথম আট দশটা লাভ স্টোরি পড়ে ফেলেছিলাম।
সুবহা হাসতে হাসতে বলল, শুধুই কি পড়েছিলেন নাকি কিছু মিছু বুঝেও ছিলেন ?
জাফর ঠোঁট টিপে হাসি চেপে বলল, সিরিয়াসলি লাভ স্টোরি পড়া শুরু করেছিলাম হাই স্কুলে উঠার পর। তখন কিছু মিছু না বেশ ভালোই বুঝতাম। কিন্তু বেশির ভাগ লাভ স্টোরিই আমার পছন্দ হতো না। কিছু অংশ খুবই বাজে লাগতো। একটা লাভ স্টোরি খুব পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু শেষে গিয়ে নায়িকা মারা যায়। আমি এটা কিছুতেই মানতে পারছিলাম না। খুব কান্না করেছিলাম। একটা সময় মনে হলো যে, আমি বোকার মতো কান্না করছি কেন? তারচেয়ে গল্পের এন্ডিংটা বদলে দেই। সেদিন থেকে শুরু আমার গল্পের অপছন্দনীয় অংশগুলোকে নিজের মনের পছন্দ মত লেখার। এরপর থেকে যদি একটা লাইনও আমার অপছন্দ হতো কোন বইয়ের আমি সেটা কেটে দিয়ে নিজের পছন্দের লাইন বসিয়ে দিতাম নীচে।
সুবহা হেসে বলল, শুনতেই অদ্ভুত রকম ভালো লাগছে। আমিও ইনশাআল্লাহ ট্রাই করে দেখবো আপনার এই পদ্ধতি। আচ্ছা এখনো কি এমন কিছু করছেন? অপছন্দনীয় কিছু কেটে দিয়ে পছন্দনীয় কিছু বসিয়ে দিচ্ছেন সে জায়গায়।
জাফর সামান্য হাসলো। কোন জবাব না দিয়ে আবারো লেখার মাঝে মগ্ন হলো।
লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।

নাচের মুদ্রায়, কোরিওগ্রাফির ভঙ্গিমায় আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের বঞ্চনা, কষ্ট, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রামাণ্য নৃত্য প্রযোজনায়।
জার্মান শহর লুড্উইগ্সহাফেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রযোজনাটি ২ মাস ধরে সফর করে বিভিন্ন দেশে। গত এক বছর ধরে ঢাকাতেই চলেছে গবেষণা, নির্মাণ পরিকল্পনা ও মহড়া। ১২ জন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পীর অতি নিপুণ ও দক্ষ নৃত্য পরিবেশনার সাথে আরও ব্যবহূত হয়েছে আন্না সৌপের চলচ্চিত্র এবং হান্স নার্ভা’র সৃজনশীল সাউন্ড ট্র্যাক। এর নৃত্যশিল্পীরা হলেন মুনমুন আহমেদ, শাম্মি আক্তার, শারীন ফেরদৌস, মাসুম হোসেন, ঊমী আইরিন, মেলা লামিয়া, তৃনা মেহনাজ, হানিফ মোহম্মদ, টুমটুমি নুজাবা, বিশ্বজিত্ সরকার, শোমা শার্মীন ও লাবণ্য সুলতানা।


বার বার চেষ্টা করেও বইয়ের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না জাফর। চোখ চলে যাচ্ছে সামনের সীটে বসে থাকা তরুণীর উপর। ট্রেন ছাড়ার পর থেকে গত দেড় ঘন্টায় এক মূহুর্তেও জন্য কথা বলায় বিরতি দেয়নি মেয়েটি। ক্রমাগত একজনের পর আরেকজনের সাথে ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে। এই হাসছে, এই কাঁদছে, এই অভিমান করছে, শঙ্কিত হচ্ছে আবার পর মূহুর্তেই নিজেই কাউকে আশ্বস্ত করছে। চোখের সামনে এইসব কর্মকান্ড চলতে দেখলে বইয়ের দিকে মন দেয়াটা কষ্টকরই বটে। হাতের বই বন্ধ করে সীটে একটু হেলান দিয়ে বসে ভালো মত তাকালো জাফর মেয়েটির দিকে। খুবই সাধারণ একটি সুতির থ্রিপিস পড়েছে। দু’হাতে মেহেদির আল্পনা ছাড়া আর কোন গহনা বা প্রসাধনীর চিহ্ন চোখে পড়লো না কোথাও। তবে লাল টুকটুকে ওড়নাটা মাথায় তুলে দেয়ার কারণে নববধূর মত লাগছে মেয়েটিকে। কার সাথে যেন কথা বলতে বলতে হেসে ফেললো মেয়েটি। সাথে সাথে জাফরের মনেহলো এমন হাসি যাকে আল্লাহ দিয়েছেন কোন কৃত্রিম প্রসাধনীর প্রয়োজন তার নেই! চোখাচোখি হলে ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসির রেখে ফুটে উঠেই আবার মিলিয়ে গেলো মেয়েটির মুখে। জাফরও চোখ ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের তাকালো। ছুটে চলছে ট্রেন গন্তব্য পানে! দৃষ্টি বাইরে থাকলেও কি এত তার সহযাত্রীনি কথা বলছে সেটা শোনার চেষ্টা করলো জাফর।
শোন নিয়মিত মেডিসিন নিতে যেন ভুল না হয়। মেডিসিন নেয়ার পর আমাকে ম্যাসেজ লিখে জানিয়ে দেবে মেডিসিন নিয়েছো। আর কোন কাজেই যেন অনিয়ম না হয় বলে দিচ্ছি। উল্টো পাল্টা হলে কিন্তু আমি ফিরে এসে তোমাকে কঠিন শাস্তি দেব সেটাও বলে রাখছি। আরেকটা কথা মার দিকেও কিন্তু খেয়াল রাখবে। দুজন মিলে কান্নাকাটি করবে না একদম। যদি আমি টের পাই তোমরা কান্না করেছো! তাহলে কিন্তু আমিও কান্না করবো বলে রাখছি। বলো তুমি চাও আমি কান্না করি? হুম! এমন আমিও চাই না তোমরা দুজন কান্না করো বুঝেছো?! আর তুমি এতক্ষণ ওয়াশরুমে কি করছিলে? যদি আমার সেলফোনের চার্জ শেষ হয়ে যেত তাহলে তোমার সাথে কথা বলতাম কিভাবে? সময়ের মূল্য ওয়াশরুমে গিয়ে ভুলে গেলে চলবে? আবার হাসো কেন তুমি? সেলফোনের চার্জ নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না। আমি তিনটা মোবাইল ভর্তি করে চার্জ নিয়ে এসেছি। একটার চার্জ শেষ হলে আরেকটা দিয়ে কথা বললো। জাফরের একবার ইচ্ছে হলো বলে, তিনটা মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নেই। আমার কাছে যেটা আছে সেটা লোন দিতে কোনই আপত্তি নেই আমার। কিন্তু ইচ্ছেটা গোপন করে আবারো কথা শোনাতে মন দিলো। এখনো বাবাকে ধমকাচ্ছে তার সহযাত্রীনি কেন ওয়াশরুমে এতক্ষণ ছিল। বলে দিচ্ছে সর্বোচ্চ বিশ মিনিট থাকা যাবে ওয়াশরুমে।
কেমন যেন একটা সুখ সুখ আবেশ ছেয়ে গেলো জাফরের মনের মাঝে। সব মেয়েরাই কি এমন অদ্ভুত রকমের আদুরে হয়?! আল্লাহ চাইলে তার নিজের যদি কখনো মেয়ে হয় সে কি এই সহযাত্রীনির মতোই আদুরে হবে? সে ওয়াশরুমে কতক্ষণ থাকবে সেটাও নির্ধারণ করে দেবে?!
চলবে…
লিখেছেন- ডা.আফরোজা হাসান। সাইকোলজিস্ট,মাদ্রিদ,স্পেন।



অপরাজিতা ডেস্কঃ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিংয়ে অবদান রাখায় ১০ নারীকে সংবর্ধনা দিয়েছে । বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং জগতে নারীদের অবস্থান প্রায় ৯% যার মধ্যে সম্ভাবনাময়ী এবং প্রতিষ্ঠিত এই দশ টি মুখ। অপরাজিতাবিডির আজকের সংখ্যায় আজ আমরা জানবো তাদের সম্পর্কে ,তাদের কাজ সম্পর্কে এবং এই পেশায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে …
তানিয়া তাহমিনা
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (এআইইউবি) কম্পিউটার বিজ্ঞানে এমএসসি করছেন তানিয়া। বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে যুক্ত হন অনলাইন মার্কেট প্লেসে। কাজ শুরু করেন এসইও নিয়ে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ক্লায়েন্ট পান। এখন কাজ করছেন এইচটিএমএল কোডিং নিয়ে। মাসে আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আরো ভালো করতে শিখছেন গ্রাফিকস, জাভাস্ক্রিপট, পিএইচপি। চাকরি করার কোনো ইচ্ছাই নেই। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন তানিয়া। প্রতিষ্ঠা করতে চান একটি আউটসোর্সিং ফার্ম।



যা লাগবে : চিকেন কিমা ২৫ গ্রাম, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি ৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, বাঁশের কাঠি কয়েকটি, তেল পরিমাণমতো, বেবিকর্ণ ছোট ছোট টুকরা করা আধা কাপ, ব্রকলি অল্প সিদ্ধ করা ছোট ছোট টুকরা আধা কাপ, গাজর ছোট ছোট টুকরা ৮-১০টি, সয়াসস ১ চা চামচ, সস ১ টেবিল চামচ।
যেভাবে করবেন : চিকেন কিমার সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ মাখিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গোল গোল করে অল্প সিদ্ধ করে নিন। চিকেন বলের সঙ্গে সব সবজি, লবণ, সস, সয়াসস মাখিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এরপর লাঠিতে পর্যায়ক্রমে গেঁথে নিন। প্যানে অল্প তেল দিন। সব শাসলিকগুলো ভেজে তুলুন। পরিবেশন করুন সাজিয়ে।
ডিমের রুটি রোল
যা লাগবে : আটা ২০০ গ্রাম, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, ডিম ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ চা চামচ। পেঁয়াজ কুচি ১ চা চামচ, তেল পরিমাণমতো, সস ১ টেবিল চামচ, পানি পরিমাণমতো।
যেভাবে করবেন : আটার সঙেগ স্বাদ অনুযায়ী লবণ এবং পানি দিয়ে ভাল করে মাীখয়ে ডো তৈরি করুন। গোল গোল করে রুটির মত বেলে তাওয়াতে সেকে নিন। ডিমের সঙ্গে লবণ পেঁয়াচ মিশিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে রাখুন। তেল গরম করুন। এতে ফেটানো ডিম দিয়ে ওমলেট তৈরি করে নামিয়ে ফেলুন। তৈরি করা রুটির মাঝখানে ওমলেট ও সস দিন। এরপর রোলের মত করে মাঝখান দিয়ে কেটে পরিবেশন করুন।





কেস হিস্ট্রি-এক
দশ বছরের মার্জিয়া প্রতিবছর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করছে। লেখাপড়ায় ভালো, তাই সবার কাছে যথেষ্ট আদর-স্নেহ পায়। কিন্তু এ বছর বার্ষিক পরীক্ষার আগে হঠাৎ করে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর পড়াশোনা হচ্ছে না। শারীরিক অবস্থার কারণে প্রথম স্থান ধরে রাখা নিয়ে মার্জিয়া ভীষণভাবে চিন্তিত। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। ডাক্তার জানালেন, তাঁর কনভার্সন ডিসঅর্ডার হয়েছে।
কেস হিস্ট্রি-দুই
সিলভিয়া ১৪ বছরের প্রাণবন্ত মেয়ে। হঠাৎ তার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে হাতে-পায়ে শক্তি পাচ্ছে না। তাকেও ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হলো। মার্জিয়ার মতো সিলভিয়ারও শারীরিক পরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা পড়েনি। তবে ডাক্তার জানালেন, এটি কনভার্সন ডিসঅর্ডার। ডাক্তারের পরামর্শে তাকে সাইকোথেরাপির জন্য আনা হলে কয়েক সপ্তাহের সাইকোথেরাপি শেষে সিলভিয়া সম্পূর্ণ ভালো হয়ে ওঠে।
অনেক শিশু মার্জিয়া ও সিলভিয়ার মতো বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে কনভার্সন ডিসঅর্ডারে ভুগছে। যথেষ্ট সচেতনতার অভাবে তাঁরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে তাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাবে পরবর্তী জীবনেও নানা ধরনের শারীরিক ও আবেগীয় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কনভার্সন ডিসঅর্ডার সম্পর্কে সচেতন হলে শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। জেনে নিই কনভার্সন ডিসঅর্ডার বিষয়ে।
লক্ষণ
কনভার্সন ডিসঅর্ডারের উপসর্গ দেখলে মনে হবে, নিউরোলজিক্যাল কোনো সমস্যা হয়েছে। হয় সে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সংবেদন করতে পারছে না, নয়তো শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াতে পারছে না বা শক্তি পাচ্ছে না। আবার খিঁচুনি বা সংজ্ঞা হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয় কনভার্সন ডিসঅর্ডারে। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সংবেদন করতে না পারার মধ্যে রয়েছে-চোখে দেখতে না পাওয়া বা ঝাপসা দেখা, কানে না শোনা, ত্বকে স্পর্শের অনুভূতি না পাওয়া বা কম বা বেশি পাওয়া, শরীরে কোনো অংশে ব্যথা অনুভব করা ইত্যাদি।
ক্রিয়াগত বা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে-সম্পূর্ণ বা আংশিক প্যারালাইসিসের মতো উপসর্গগুলো, লেখার সময় হাত কাঁপা বা আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া, কোনো মাংসপেশির স্পন্দন, খিঁচুনি, হাঁটতে অসুবিধা, বাকশক্তি কাজ না করা বা ফিসফিস করে কথা বলা, মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি।
কেন হয়
মানসিক কোনো চাপ বা দ্বন্দ্ব প্রকাশ করতে বা সেগুলো দূর করতে না পারলে মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যখন এই মানসিক প্রতিক্রিয়াগুলো প্রকাশও করতে পারে না আবার সহ্যও করতে পারে না, তখন শারীরিক লক্ষণ হিসেবে সেগুলো প্রকাশ পায়। এটিকেই কনভার্সন ডিসঅর্ডার বলে। শিশুরা তাদের আবেগ-অনুভূতি ও মতামত প্রকাশ করতে না পারায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা দেয়। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কনভার্সন ডিসঅর্ডারে বেশি আক্রান্ত হয়।
বিশ্লেষণ
মার্জিয়ার মনের ভেতরে প্রথম স্থান হারানোর তীব্র ভয় জন্ম নেয়। কিন্তু মার্জিয়া ভয়টি স্বীকার করে না। কারণ সে প্রথম স্থান পাবে না, তা ভাবতেও পারে না। সে মনে করে, প্রথম স্থান না পেলে পরিবারে তাঁর কোনো গুরুত্ব থাকবে না। ভয়টি স্বীকার না করায় সে তা প্রকাশও করতে পারে না। মনের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব একাকী সামলাতে না পেরে শারীরিক উপসর্গ হিসেবে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তবে এর কিছুই তাঁর সচেতন মন জানে না। অর্থাৎ সে এগুলো ইচ্ছা করে করছে না।
চিকিৎসা
শারীরিক কারণ খুঁজে না পেয়ে অনেকে মনে করেন, এটি জিন-ভূতের আছর। ফলে শিশুটির ওপর কবিরাজি চিকিৎসা চলে। যা কখনো কখনো রোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বা নতুন কোনো রোগের সৃষ্টি করে। অথচ কনভার্সন ডিসঅর্ডারের প্রধান চিকিৎসা হলো সাইকোথেরাপি। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ওষুধের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। সাইকোথেরাপিতে বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর বা শিশুর ভেতরের না-বলা কথাগুলো অত্যন্ত দক্ষতা ও যত্নের সঙ্গে শোনা হয়। শিশু বা কিশোরীটির অন্তর্দ্বন্দ্বগুলো নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয় ও তা নিরসন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়। সাইকোথেরাপিতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শিশুটির প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পেইনগুলো খুঁজে বের করেন এবং সেগুলো কমানোর জন্য মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এভাবে শিশুটির সঙ্গে সরাসরি ও মা-বাবার মাধ্যমে দেওয়া চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
লেখক- তানজির আহমেদ তুষার। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সহকারী অধ্যাপক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


১০বছর বয়সী মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন বই পড়তে ভালোবাসে। কিন্তু কতটা?!
২০১৪সালে ফেইথ এর পড়া বইয়ের সংখ্যা সর্বমোট ৯৪২টা! এবং গড়ে প্রতিদিন আর পড়া বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ৪৬৪ পৃষ্ঠার মতো! যা সত্যিই কৃতিত্বপূর্ণ কাজ!
যেখানে মানুষ ছোট থেকে বড় হতে হতে পড়ুয়া বইয়ের সংখ্যা হয়তো হয় এতোটা,সেখানে মাত্র এক বছরেই ফেইথ পড়ে শেষ করেছে এমন অস্বাভাবিক সংখ্যার বই!অবাককর ব্যাপার ই বটে! মজার ব্যাপার হলো,এতো এতো বই পড়ার পর এই ক্ষুদে বইয়ের পোকা এখন আর একলা একলা পড়তে পছন্দ করে না। আর তাই সে এখন বই পড়ে তার মতোই আরো কিছু বই পোকার সাথে।
ফেইথের এমন পড়ুয়া অভ্যাস কিন্তু একদিনে হয় নি। ফেইথের মা মিসেস জ্যাকসন এর ভাষ্যমতে, ‘ ফেইথ যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে,তখন সে রিডিং পড়তে খুব ইতস্তত বোধ করতো,এবং সহজে সে পড়তে চাইতো না।’ ফেইথ এর এই সমস্যা দূর করার জন্য মিঃ এবং মিসেস জ্যাকসন মিলে ঘর ভর্তি স্কুলের বই এর বদলে যখন যে ধরনের বই পড়তে ফেইথ পছন্দ করে সেই সেই বই গুলো আনতে শুরু করলেন। আর সব সময় খেয়াল রাখতেন,যে কোন মূল্যে যেনো ফেইথ বই পড়তে বিরক্ত না হয়। যদি স্কুলের বই ভালো না লাগে তাহলে গল্পের বই পড়বে,গল্পের বই ভালো না লাগলে ফিকশন পড়বে,না হলে কমিকস পড়বে,ম্যাগাজিন পড়বে এই চিন্তা মাথায় রেখে তারা নানান রকমের বই দিয়ে তারা ফেইথের জন্য লাইব্রেরি সাজিয়েছেন। আর এই লাইব্রেরি ই তৈরী করেছে আজকের এই ‘বই পড়ুয়া ফেইথ’ কে।
ফেইথ যখন ধীরে ধীরে বই পড়ায় অভ্যস্থ হয়ে গেলো,তখন থেকে সে বাছাই করতে শুরু করলো কি কি ধরনের এবং কার কার লেখা বই তার ভালো লাগে। ফেইথের বাবা-মা,তার সেই লিস্ট দেখে আর জন্য দুর্লভ থেকে শুরু করে সর্বশেষ পর্যন্ত সব রকমের কালেকশন লাইব্রেরীতে এনে রাখতেন এবং বিভিন্ন অকেশনে সুযোগ বুঝে মেয়েকে তার প্রিয় প্রিয় লেখকদের সাথে সাক্ষাৎ করাতে নিয়ে যেতেন,যাতে করে আরো বেশি বেশি বই পড়তে এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরী করতে ফেইথ সাহায্য ও উৎসাহ পায়।
ফেইথের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং এই ছোট্ট বয়সেই জ্ঞানের পারদর্শীতায় মুগ্ধ হয়ে ফেইথ এর প্রিয় রাইটার হলি ওয়েব তার একটা বই উৎসর্গ করেন ফেইথ কে। বইটির নাম হচ্ছে, ‘দ্যা ফরগটেন পাপ্পি’। প্রিয় লেখকের কাছ থেকে এমন অনাকাংখিত আর অসাধারন উপহার পেয়ে ফেইথ অসম্ভব খুশী হয়।
বই পড়ার সংখ্যা যতো বাড়ছে দিনে দিনে ফেইথ ততোই কনফিউসড হচ্ছে,আসলে তার প্রিয় লেখক কে!! এবং সে এখন এই প্রশ্নের জবাব দিতে খুবই হিমশিম খায়! সেই সাথে আজকাল তো ফেইথ বিছানায় যেয়ে ঘুমাতেও ভুলে যায়,দেখা যায় বই পড়তে পড়তে সে চেয়ারেই বা বইয়ের স্তুপে ঘুমিয়ে গেছে!
বই মানুষের জীবন কে আলোকিত করে,মানুষকে আর জন্য সঠিক পথ খুঁজতে এবং সে পথে চলতে সাহায্য করে। এ কথাটার একটা উজ্জ্বল প্রমাণ হচ্ছে আজকের ছোট্ট মেয়ে ফেইথ জ্যাকসন। যে মেয়েটি ছোট্ট বেলায় রিডিং পড়তে চাইতো না আর আজ সে এক দিনেই ৫০০ এর কাছাকাছি বই পড়ছে এবং সে আফসোস করে যে সে এখনো ১০০০ পৃষ্ঠা করে একদিনে বই পড়তে শিখেনি তাই!!
ফেইথের বাবা-মা মেয়েকে বই পড়তে শিখিয়েছেন আর এই অভ্যাস ফেইথ কে শিখিয়েছে জীবনে অনেক অনেক বড় হবার ইচ্ছে থাকতে হবে আর থাকতে হবে উপযুক্ত পরিকল্পনা। আর তাই ফেইথ যতই পড়ুক না কেন,জীবনে বড় হবার জন্য যা যা গুণ অর্জন করা দরকার তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে সে ভুলে না।
যার ফলাফল স্বরুপ,ক্লাসে ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি সাঁতারে,কারাতে এবং ম্যাথমেটিকস চর্চাত ফেইথ এর অবস্থান প্রথম সারিতে। সেই সাথে ফেইথ খুব পছন্দ করে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। বিশেষ করে ছোট ভাই-বোন এলসা,জেমস,কর্ম্যাক এর সাথে গল্প করতে,তাদের কে বই পড়ে শুনাতে খুব ভালোবাসে।
এতো এতো বই পড়ুয়া মেয়েটি একদিন নিশ্চয়ই ভালো লেখক হবে,এমন চিন্তা অন্যরা করলেই এখন পর্যন্ত ফেইথ কেবল পড়তেই ভালোবাসে! কিন্তু বড়দের প্রত্যাশা আর উৎসাহ-সহযোগিতা থাকলে মনে হয় না খুব বেশিদিন সময় লাগবে এই ক্ষুদে পড়ুয়ার মেধা সারা বিশ্বকে নত্নুন প্রতিভাবান লেখক-বিজ্ঞানী আর সমাজ নির্মানের কারিগর উপহার দিতে।
সূত্র- ম্যানচেষ্টার ইভেনিং নিউজ। অনুবাদ করেছেন স্বপ্নকথা।

প্রাকৃতিক ঋতু পরিবর্তনে আমাদের দেশে এখন শীতকাল। শীতের সময়ের সব চেয়ে বড় উপহার মনে হয় টাটকা পুষ্টিকর সব সবজি। কিন্তু আমাদের অনেকের বাড়িতেই যত উৎসাহ নিয়ে সবজি কেনা হয় সেভাবে আগ্রহ করে খাওয়া আর হয় না। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সবজি খেতে না চাইলে একটু অন্যভাবে চেষ্টা করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারেন। খুবসহজে টেবিলে ভিন্ন স্বাধ যোগ করতে রান্না করতে পারেন চিকেন ভেজিটেবল বিরিয়ানি।

উপরকণ : পোলাও এর চাল আধা কেজি, ফুলকপি ১টি, গাজর কুঁচি ১ কাপ, আলু কিউব করে কাটা ১ কাপ, বরবটি কুঁচি ১কাপ, মটরশুঁটি ১ কাপ, মুরগির মাংস কিউব ২ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৬টি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া সামান্য, জয়ফল ও ছোট এলাচ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাজু বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ ঘি বা তেল পরিমাণমতো, লবণ ও পানি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রাণালী : প্রথমে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ ভেজে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। সবজিগুলো ধুয়ে সেদ্ধ করে নিয়ে মসলায় মাংস দিয়ে নেড়ে কিছুক্ষণ পর সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন।
এবার আলাদা পাত্রে পোলাও রান্না করুন। কিছু পোলাও তুলে রেখে মাংসসহ সবজিগুলো কয়েক ধাপ সাজিয়ে ওপরে পোলাও দিয়ে পাত্রে ঢাকনা দিয়ে চুলার আচ কমিয়ে ১৫ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল দারুন মজার পুষ্টিকর ডিস চিকেন ভেজিটেবল বিরিয়ানি।
রেসিপি- মেহরিন কুইন।

ফেনীতে শারমিন নামে নয় বছরের এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মোহনা আক্তার প্রিয়া (২৬) নামে ওই গৃহবধূকে আটক করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। আটক গৃহবধূ মোহনা আক্তার প্রিয়া ফেনী শহরের পেট্রোবাংলা এলাকার মাহি হাউজের রানার স্ত্রী।

আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেয়েদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাড়ি বসে বড়লোক’। চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়ে দেশের ৬৪ জেলা ও ২৭৬ উপজেলায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস। প্রশিক্ষণে প্রতিটি উপজেলার ৪৫ জন করে মোট বার হাজার চারশ বিশ জনকে দুই দিনের বেসিক প্রশিক্ষণ ও এদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রতি জেলার ৩৫ জনকে প্রদান করা হবে অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ।
টিএমএসএস-এর পরিচালক ও কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট নিগার সুলতানা বলেন, ‘সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’ আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘মেয়েদের আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করতে চাই। সে লক্ষ্যেই এটি একটি পাইলট কর্মসূচি। এর সাফল্যের উপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করব।’


নারী অধিকার রক্ষায় পুরুষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে গত বুধবার থেকে জেন্ডার সাম্যবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্থার সদর দপ্তরে ‘বারবারশপ কনফারেন্স’ নামে এ সম্মেলনের আয়োজক আইসল্যান্ড। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে এবং ব্যাপকতর সাম্য প্রতিষ্ঠায় পুরুষের করণীয় নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সম্মেলন এরই মধ্যে ‘বিতর্কিত’ তকমা অর্জন করেছে। শুরুতে শুধু পুরুষদের নিয়ে সম্মেলন করার কথা ভেবেছিল আইসল্যান্ড, পরে তীব্র সমালোচনার মুখে কয়েকটি অধিবেশনে নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জাতিসংঘে আইসল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গ্রেতা গুন্নার্সদত্রির বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এ বিষয়টিতে পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জেন্ডার সাম্যবিষয়ক যেকোনো সম্মেলনে আপনি দেখবেন অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগই নারী। মূল বিষয়টি নারীকে বাদ দেওয়া নয় বরং পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা।’ পুরুষদের সহজে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এ সম্মেলনের আয়োজন।
জাতিসংঘের মতো একটি সংস্থাতেও মোট ১৯৩ সদস্যের মধ্যে পুরুষ প্রতিনিধিত্ব করে ১৬০টি দেশের। গত বছর ব্রিটিশ অভিনেত্রী ইমা টমসন ‘হি ফর শি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, জেন্ডার নিয়ে গতানুগতিক ধারণা থেকে বের হয়ে পুরুষদেরও কথা বলতে হবে। সম্মেলনে ইমার এই প্রচারের ওপরও আলো ফেলা হবে। সম্মেলনের গতকালের অধিবেশনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূতরা তাঁদের সরকারের পক্ষ থেকে জেন্ডার ইস্যুদের পুরুষদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। গুন্নার্সদত্রির বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’
বেইজিং নারী সম্মেলনের ২০ বছর পূর্তির প্রস্তুতির মধ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করল জাতিসংঘ। এই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ জেন্ডার বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বজুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতি টানার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া পুরুষদের সংগঠন হোয়াইট রিবন ক্যাম্পেইনের পরিচালক টড মিনেরসন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জেন্ডার সাম্য নিয়ে কাজ করার বিষয়টি আরো একটু এগিয়ে দেবে এই সম্মেলন। সম্মেলনে মিনারসনের ‘হোয়াট মেকস আ ম্যান’ নামের একটি কর্মশালায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এ অধিবেশনে নারীরাও যোগ দেবেন। ইউরোপের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের দেশ আইসল্যান্ড বিশ্ব জেন্ডার ব্যবধান সূচকেও কমের দিক থেকে প্রথম। এই ধারাক্রমে পরের দেশগুলো হলো ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক। এ সূচকে জার্মানির অবস্থান ১২তম, যুক্তরাষ্ট্র ২০তম, যুক্তরাজ্য ২৬তম। সর্বশেষ ইয়েমেন (১৪২)।
সূত্র : এএফপি

গত শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা পেয়েছিল ভোটাধিকার। কর্ম ও পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা থেকে এখনো অনেক দেশেই বঞ্চিত তারা। তবে সুযোগ পেলে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে কার্পণ্য করছে না নারীরা। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১৯টি দেশের কর্তৃত্ব এখন তাদের হাতে। গৌরবের বিষয়, এ তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশেরও।
সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নারী নির্বাচিত হওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে ক্রোয়েশিয়াতে। দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিতারোভিচ হচ্ছেন দ্বিতীয় নারী প্রেসিডেন্ট, যিনি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ তালিকায় সর্বপ্রথম নাম নিকারাগুয়ার ভিয়োনেতা বামেরো। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের মধ্যে যে দেশগুলোর সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান নারী সেগুলো হলো জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, লাইবেরিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নরওয়ে, স্কটল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, মাল্টা, পোল্যান্ড, কসোভো, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া।
এর মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দু’জন ই পর পর তিনবার সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক ছিলেন বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর আর্জেন্টিনার ইসাবেলা মার্তিনেজ ছিলেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
সূত্র : বিবিসি।

অপরাজিতা ডেস্কঃ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চিত্রকড়া এলাকায় গত সোমবার রাতে যৌতুকের জন্য স্ত্রী সীমা আক্তারকে (২২) স্বামী শাহীন শেখ শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী শাহীনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার নিহত সীমার মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর লৌহজং উপজেলার কলমা এলাকার প্রয়াত মোখলেস মিয়ার মেয়ে সীমা আক্তারের সঙ্গে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চিত্রকড়া এলাকার এসহাক শেখের ছেলে শাহীন শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীকে কয়েক দফা যৌতুকের টাকা দেওয়া হয়। সম্প্রতি স্বামীর বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এই টাকা না দেওয়ায় তারা সীমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। ঘটনার দিন গত সোমবার রাতে শাহীন শেখ তাঁর স্ত্রী সীমাকে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাঁকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ জানায়, শাহীনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
টঙ্গিবাড়ী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাহীনের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে। এর আগে আমরা বলতে পারব না যে শাহীন তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছে। এখন তাঁকে কেবল সন্দেহ করা হচ্ছে।’

ক্রোয়েশিয়ার নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অবশেষে বিরোধী প্রার্থী কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল কিতারোভিচের (৪৬) মূল নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের রুগ্ণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা।
গত রবিবার ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন যে ফলাফল ঘোষণা করে তাতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ন্যাটো কর্মকর্তা কিতারোভিচ ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মধ্য বামপন্থী আইভো জোসিপোভিচ পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।
জাগরেভ সদর দপ্তরে জোসিপোভিচ (৫৭) সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নাটকীয় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কিতারোভিচ নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।’
এদিকে কিতারোভিচ রাজধানীতে উৎফুল্ল সমর্থকদের উদ্দেশে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি কারো কাছে শুনতে চাই না যে ক্রোয়েশিয়া সমৃদ্ধ ও সম্পদশালী হবে না। বরং আমি সবাইকে, বিশেষ করে যারা আমাকে ভোট দেয়নি তাদের প্রতিও ক্রোয়েশিয়ার উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
যুগোশ্লাভিয়া থেকে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট হলেন কিতারোভিচ।
দুই সপ্তাহ আগে দেশটিতে প্রথম দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দেয় যা প্রথম দফার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি।
সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার দুই দিন পর গত শুক্রবার বিকেলে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করা হয়েছে।
স্কুলছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজদ্দিন মাতুব্বরপাড়ার রাসেল মোল্যা (১৯) কয়েক মাস ধরে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বুধবার সকালে রাসেলদের বাড়ির কাছে ওই ছাত্রী তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাসেল ঘরে ডেকে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেয়। জানালে তাকে বিয়ে করবে না বলে জানায় রাসেল। মেয়েটি বাড়ি ফিরেই সবার কাছে ঘটনা খুলে বললে তার বাবা বিষয়টি প্রথমে রাসেলের পরিবার, পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। রাসেলের পরিবার বিয়ের পরিবর্তে কিছু টাকা নিয়ে আপসের প্রস্তাব দেয়। আর স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্যরা মীমাংসার কথা বলেন। এতে তাঁদের আইনগত পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা। পরে শুক্রবার বিকেলে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শুনেছি ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। দুই পক্ষই গরিব। আমরা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল বাসার মোল্যা জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত রাসেল পলাতক।
লাশ উদ্ধার
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গতকাল মিম আক্তার শিউলি (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা। ঢাকায় মায়ের সঙ্গে সে বসবাস করত। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এজন্য গর্ভাবস্থায় মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ খাবার খেতে হবে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ মেয়েরা কম বয়সে গর্ভধারণ করে এবং প্রায় সবাই অপুষ্টির শিকার হয়। এর ফলে অপুষ্ট সন্তান জন্মগ্রহণ করে বা কখনও কখনও মহিলারা মৃত সন্তানও প্রসব করে।
গর্ভকালীন সেবা
* গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত কমপক্ষে এক মুঠ বেশি খাবার খেতে হবে।
* মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলিজা, ঘন ডাল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ও মৌসুমি দেশী ফল খেতে হবে। রান্নায় যথেষ্ট পরিমাণ তেল ব্যবহার করতে হবে।
* গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন রাতের খাবারের পরপরই ১টি করে আয়রন ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় তিন মাসের পর থেকে প্রতিদিন (সকালে এবং দুপুরে) ২টি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম (দুপুরে খাবারের পর ২ ঘণ্টা এবং রাতে ৮ ঘণ্টা) নিতে হবে।
* গর্ভবতী মহিলাকে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে হবে, এতে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে
* ভারী কাজ (যেমন : টিউবওয়েল চাপা, ধান ভানা, ভারী জিনিস তোলা, অতিরিক্ত/ভারী কাপড় ধোয়া) থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কষ্টকর পরিশ্রম বর্জন করতে হবে।
* আয়োডিন যুক্ত লবণ খেতে হবে
* প্রথম তিন মাসের পর প্রয়োজনে ১টি কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেতে হবে
* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে
গর্ভকালীন যত্ন
গর্ভাবস্থায় অন্তত চারবার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে (মায়ের ওজন, রক্তস্বল্পতা, রক্তচাপ, গর্ভে শিশুর অবস্থান পরীক্ষা করা)
* ১ম স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ১৬ সপ্তাহে (৪ মাস)
* ২য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ২৪-২৮ সপ্তাহে (৬-৭ মাস)
* ৩য় স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩২ সপ্তাহে (৮ মাস)
* ৪র্থ স্বাস্থ্য পরীক্ষা = ৩৬ সপ্তাহে (৯ মাস)
* রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
যদি আপনি কোনো টিটি টিকা না দিয়ে থাকেন তাহলে টিকা শুরু করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় ৫ মাস পর ২টি টিটি টিকা নিতে হবে, সিডিউল অনুযায়ী বাকি টিকাগুলো নিতে হবে।
দীর্ঘস্থায়ী ইমিউনিটির জন্য ৫টি টিটি টিকার নির্ধারিত সময়সূচি :
১ম ডোজ (TT1) : ১৫ বছর বয়সে অথবা প্রসব পূর্ববর্তী প্রথম ভিজিটে
২য় ডোজ (TT2) : ১ম ডোজ নেয়ার অন্তত ১ মাস (৪ সপ্তাহ) পর
৩য় ডোজ (TT3) : ২য় ডোজ নেয়ার অন্তত ৬ মাস পর
৪র্থ ডোজ (TT4) : ৩য় ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর
৫ম ডোজ (TT5) : ৪র্থ ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ১ বছর পর
গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ
* শিশু ও কিশোরী বয়সে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে এবং রক্তস্বল্পতায় ভোগা
* কিশোরী বা অল্প বয়সে গর্ভধারণ করা
* ঘন ঘন সন্তান ধারণ করা
* গর্ভাবস্থায় কম খাদ্য গ্রহণ ও সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা
* গর্ভকালীন সময়ে রক্তস্বল্পতায় ভোগা
* বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ও কৃমিতে আক্রান্ত হওয়া
* শারীরিক পরিশ্রম বেশি করা ও মানসিক উদ্বেগ থাকা
* খাদ্য সংক্রান্ত কুসংস্কার ও পরিবারে অসম খাদ্য বণ্টন
প্রসূতিকালীন পরিচর্যা ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি
প্রসবোত্তর সেবা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অংশ। প্রসবের পর থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ‘প্রসবোত্তর কাল’ বলা হয়। এ সময় মায়ের বিশেষ সেবা প্রয়োজন। কারণ এই সময় শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের শরীরের ক্ষয় হয়।
শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান মায়ের দুধে বিদ্যমান; যা শিশু মায়ের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এজন্য এ অবস্থায় মায়ের শরীর সুস্থ রাখার জন্য সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার এবং বাড়তি যত্নের প্রয়োজন।
প্রসব পরবর্তী যত্ন
প্রত্যেক বার খাবারের সময় প্রসূতি মাকে স্বাভাবিকের তুলনায় কমপক্ষে ২ মুঠ বেশি পরিমাণে খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত খাবার শিশুর জন্য মায়ের দুধ তৈরি করতে সহায়তা করে এবং মায়ের নিজের শরীরের ঘাটতি পূরণ করে
* দুগ্ধদানকারী মাকে সব ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ (আয়রন, ভিটামিন-এ, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) খাবার খেতে হবে
* দুগ্ধদানকারী মায়ের কাজে পরিবারের সব সদস্যকে সহযোগিতা করতে হবে
* গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবারের সবার (স্বামী, শাশুড়ি) করণীয় :
* গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের জন্য গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে সেবা কেন্দ্রে যাওয়া এবং আয়রন ফলিক এসিড খাওয়ার জন্য গর্ভবতী মহিলাকে মনে করিয়ে দেয়া
* গর্ভবতী মহিলা/দুগ্ধদানকারী মাকে অতিরিক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করা
* ঘরের দৈনন্দিন টুকিটাকি কাজে গর্ভবতী মহিলাকে সাহায্য করে তার কাজের বোঝা কমানো
* হাসপাতালে প্রসব করানোর বিষয়ে গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* হাসপাতালে প্রসবের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া
* জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়ানোর জন্য গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা করা
* মা শিশুকে যথেষ্ট সময় নিয়ে দুধ খাওয়াতে পারে তার জন্য দুগ্ধদানকারী মাকে সুযোগ করে দেয়া
গর্ভবতী মহিলার ৫টি বিপদ চিহ্ন
একজন গর্ভবতী নারীর যে কোনো সময় যে কোনো বিপদ দেখা দিতে পারে। পরিবারের সবার গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে এবং যে কোনো একটি দেখা দেয়া মাত্র তাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
* রক্তক্ষরণ* প্রচণ্ড জ্বর*তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখে ঝাপসা দেখা* খিঁচুনি* অনেকক্ষণ ধরে প্রসব বেদনা/বিলম্বিত প্রসব (১২ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে থাকলে)
প্রসবকালীন বিপদ লক্ষণ
* প্রসবের সময় মাথা ব্যতীত অন্য কোনো অঙ্গ বের হয়ে আসা
* বিলম্বিত প্রসব
* অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
* খিঁচুনি
* গর্ভফুল বের হতে বিলম্ব হওয়া ।

সেই ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি ভারোত্তোলন খেলছেন মোল্লা সাবিরা। ২০০২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতে আসছেন দেশসেরা এ মহিলা ভারোত্তোলক। শুধু দেশেই নয়, ২০০৫ সালে জর্ডানের আম্মানে এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে রুপা জিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু সাবিরার। মাঝে অনেক বছর কেটেছে। আন্তর্জাতিক অনেক আসরেই অংশ নিয়েছেন। ঝুলিতে জমা পড়েছে অনেক পদক। এবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত কাতার দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল কাপ ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৫৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে রুপা জেতেন মোল্লা সাবিরা সুলতানা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত এ ভারোত্তোলক বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কারণেই মেয়েরা ভারোত্তোলনে এগিয়ে আসছে না। কারণ ভারোত্তোলন খেলতে যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, তা জেলাগুলোতে নেই। বাহিনীগুলোতে কারিগরি সুবিধাগুলো থাকায় ভারোত্তোলনে জেলাগুলোর চেয়ে সার্ভিসেস দলগুলোর মেয়েরাই বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন। এর কোনো বিকল্প নেই।’
কাতারে ১৭তম ইয়ুথ এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে অংশ নিয়ে রুপা জেতেন উদীয়মান ভারোত্তোলক জোহরা আক্তার রেশমা। এর আগে ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৪৪ কেজি ওজন শ্রেণীতে ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক জেতেন তিনি। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়াতেও একই ওজন শ্রেণীতে কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের ইয়ুথ বিভাগে রুপা জেতেন রেশমা। তিনি বলেন, ‘বিদেশে পদক জেতার আনন্দই আলাদা। এ নিয়ে তৃতীয়বার বিদেশের মাটিতে পদক জিতেছি। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে খেলতে চাই।’ একই স্বপ্ন এশিয়ান অ্যান্ড আরব ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় ৬৩ কেজিতে ব্রোঞ্জজয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্তরও। তার কথায়, ‘আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতা। ফেডারেশন সহযোগিতা করলে সে লক্ষ্যেই আমি খেলে যেতে চাই।’ ২০১১ সালে ভারোত্তোলনে আসা সিমান্ত বলেন, ‘২০১২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় কমনওয়েলথ ভারোত্তোলনের জুনিয়রে রুপা ও ইয়ুথ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। ভবিষ্যতে অলিম্পিকে পদক জেতাই আমার লক্ষ্য।’ তবে রেশমা ও সিমান্তের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মনে করেন মোল্লা সাবিরা। তার কথায়, ‘দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের মধ্যে থাকলে অনেককিছুই সম্ভব। অলিম্পিকে পদক জয় খুব কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। এজন্য একজন ভারোত্তোলককে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ বছরের কঠোর অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হবে। সাধনা করতে হবে। আমি মনে করি, রেশমা ও সিমান্তের সেই সুযোগ রয়েছে। তাদের বয়স কম। তারা দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের সুযোগ পেলে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।’

প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতা থেকে হ্যারি পটারখ্যাত অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন ‘হি ফর শি’ নামের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেল। তিনি বলেছেন,
‘আমি যত বেশি ফেমিনিজম বা নারীবাদ নিয়ে কথা বলি, তত বেশি বুঝতে পারি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীর অধিকারের লড়াইকে পুরুষবিদ্বেষী ভাবা হয়। আমি একটা কথাই বিশ্বাস করি, সব ধরনের বিদ্বেষ রুখতে হবে। নারী ও পুরুষের সম–অধিকার ও সমান সুযোগই নারীবাদের ভাবাদর্শ।’
৫০ থেকে ৬০ বছর আগে কাউকে ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে জানতে পারলে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষজন আঁতকে উঠত। নুরজাহান বোসের আগুনমুখার মেয়ে বইটিতে এ রকম উল্লেখ আছে যে একটা বাড়িতে এক কমিউনিস্ট এসেছেন জানতে পেরে কেউ আর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে রাজি নয়। ইদানীং আবার উল্টোটাও দেখা যায়, কোনো কট্টর মৌলবাদী বেড়াতে আসবে জানতে পেরে সে বাড়ির আধুনিক ছেলেমেয়েরা আগেভাগেই কেটে পড়ে। ‘নারীবাদী’ শব্দটাও অনেকের কাছে ও রকমই ভীতিপ্রদ। যেন নারীবাদী মানেই তসলিমা নাসরিন।
নারীবাদী মানেই পুরুষবিদ্বেষী। অনেক প্রগতিশীল পুরুষও নারীবাদীদের এড়িয়ে চলেন, আর যেসব পুরুষ নারীবাদী, তাঁদের পৌরুষ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। আবার এমনও অনেক নারীবাদী নারী-পুরুষ আছেন, যাঁরা কেবল তাত্ত্বিক নারীবাদিত্বের বড়াই করেন কিন্তু ব্যবহারিক জীবনাচরণে নারীকে দেখেন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিতে। অল্প কিছুসংখ্যক ঠিকই বোঝেন যে নারীবাদীরা যেসব যুক্তিতে সমতার কথা বলে, তার ষোলো আনাই সঠিক, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মতো সৎ সাহস তাদের নেই বলে তারা মুখ বুঝে থাকে। কিন্তু এ কথা তো ঠিক যে নারী যেমনভাবে নারীর কথা বলতে পারবেন, পুরুষ তা পারবেন না। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো যেখানে পুরুষপ্রাধান্য, সেখানে খামোখা শত্রু বাড়িয়ে লাভ কী?
একসময় উইড (উইমেন ইন ডেভেলপমেন্ট) বেশ সরব ভূমিকা পালন করলেও পরবর্তী সময়ে গ্যাড (জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অধিক জনপ্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। জেন্ডার উন্নয়নে নারী-পুরুষ উভয়ের কথাই বলা হয়। তার পরও জেন্ডার পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞদের (নারীই এসব পদে বেশি বহাল আছেন) নারীবাদীরূপেই বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিবের কাছে এক নারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁর পদোন্নতির কথা বলতে গেলে সচিব ‘নারীর ক্ষমতায়ন?’ বলে এমন অবজ্ঞামিশ্রিত এক হাসি দিলেন যে সে নারী দ্বিতীয়বার আর অনুরোধের সাহস করলেন না। অথচ সে নারী কর্মকর্তার চেয়ে পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ একজন পুরুষ কর্মকর্তা কেবল সরকারদলীয় বিবেচনায় বছরের পর বছর পদোন্নতির সুবিধা ভোগ করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়ন যেখানে এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির একটি, সেখানে নারীদের তাঁদের ন্যায্য পাওনাটার জন্যও লড়াই করতে হচ্ছে। তাহলে ক্ষমতায়নের আগে দরকার সমতায়ন?
নারীরা যেমন নারীশক্তির মাহাত্ম্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত, পৃথিবীতে পুরুষদের বিজয়গাথা নিয়েও পুরুষেরা গর্বিত। যেসব নারী জানেন পুরুষের গৌরবগাথা ভুলে থাকার বিষয় নয় এবং যেসব পুরুষ জানেন নারীর শক্তিও কালে কালে আলোকবর্তিকা হয়ে দেখা দিয়েছে, কেবল তাঁরাই একত্রে অভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। একে অন্যের সুকৃতি ও পথচলাকে শ্রদ্ধা করতে না পারলে বাহ্যিক ইতিবাচকতা অন্তর্গত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তেমন উল্লেখযোগ্য ছাপ রেখে যেতে পারবে না। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর শেষ প্রশ্ন উপন্যাসে শতাধিক বছর আগেও যা বলে গেছেন, আজকের দিনেও তা আমরা অনেককেই বলতে শুনি না। উপন্যাসের নায়িকা কমল বলছেন, ‘মানুষ তো কেবল নরও নয় নারীও নয়—এ দুয়ে মিলেই তবে সে এক।’
সহমর্মী পুরুষেরা নারীদের শক্তি। তাদের ভালো দিকগুলোকে উদ্ভাসিত না করে কেবল খারাপ দিকগুলো নিয়ে আক্রমণ করে গেলে সমব্যথিতা হারানোর ভয় থাকে। পুরুষতন্ত্র অবশ্যই বর্জনীয়, তা বলে পুরুষমাত্রই পুরুষতান্ত্রিক নন, অন্যদিকে নারীজীবনের বঞ্চনা ও নির্যাতনের মধ্যে কাল কাটিয়েও সব নারীই নারীবাদী নন। শাশুড়ি, ননদ, জা যখন নিপীড়ক ও হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন জেন্ডারকানারা বলেন, ‘এত যে পুরুষতন্ত্র পুরুষতন্ত্র বলে যুদ্ধ ঘোষণা করা, এরা তবে কারা?’ তাঁরা আসলে নারী হলেও পুরুষতন্ত্রেরই ধ্বজাধারী। পুরুষতন্ত্র হচ্ছে পুরুষ কর্তৃত্বের একটি নীতি, যে নীতি তার সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নারীকে নিপীড়ন করে। আজ নারীবাদী হিসেবে যাঁরা বিশ্বে খ্যাতি বা অপবাদ কুড়াচ্ছেন, তাঁরাও কম দুঃখে নারীবাদী হননি। নারীবাদের ধারণা, নারীর ওপর নিপীড়ন ও তা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত মতের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তবে প্রণোদনায় হোক বা নগরায়ণ-শিল্পায়ন অথবা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের জয়জয়কারেই হোক, দুটির বেশি সন্তান নিতে চাইছেন না মা-বাবারা। উন্নত বিশ্বে তো শিক্ষা ও পেশাকে অগ্রাধিকারে রেখে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। এতে ছোট পরিবারগুলোর মধ্যে মেয়েসন্তান ও ছেলেসন্তানের সঙ্গে আচরণে বৈষম্য কমে আসছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরাই বৃদ্ধ বয়সের মা-বাবার দেখাশোনা-সেবাযত্ন করেন বলে মেয়েদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগও আছে। অনেক নারী নিজের বা তাঁর মায়ের জীবনের অবহেলা-নিপীড়নের কথা চিন্তা করে বা সমাজে নারীর দুঃসহ অবস্থান দেখে নিজের সন্তানদের মধ্যে কন্যাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সার্বিকভাবে এ চিত্র যদিও নগণ্য, তবু কারও প্রতি বৈষম্যই কাম্য হওয়া উচিত নয়।
এমা ওয়াটসন বাস্তবিকই বলেছেন, ‘আমাদের এমন মানুষই দরকার বেশি করে, যারাই পৃথিবীতে সম–অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। লিঙ্গভিত্তিক সম–অধিকার প্রতিষ্ঠাই নারীবাদের মূল লক্ষ্য। নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধারণ মানুষ পুরুষবিদ্বেষী হিসেবে দেখে থাকেন। শুধু নারীদের একার পক্ষে অধিকারের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়। পুরুষদেরও নারীর সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পুরুষেরাও নানা কারণে অধিকারবঞ্চিত। নানা কারণে নারীর মতো পুরুষেরাও নির্যাতনের শিকার। আমরা একজন আরেকজনের জন্য দাঁড়িয়ে বৈষম্য বিলোপ করার চেষ্টা করতে পারি।’
হ্যারি পটার–এর সেই ছোট্ট মেয়েটি, যিনি এখন জাতিসংঘের নারী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন, সেই মেয়েটিকে আমাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেওয়ার জন্য অজস্র ধন্যবাদ।
লেখা– উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।

রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের দুই নারী সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নয়জন। আজ রোববার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মতিঝিল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপনের ভাষ্য, ফকিরাপুল মোড়ে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত অবস্থায় পুলিশের ১১ জন নারী সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল মনিরা আক্তার (২২) ও আকলিমা বেগম (২২) মারা যান।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ফরিদা, লিলি, সোহাগা, ইয়াসমিন, সীমা, শাহনাজ, আলফা, লিজা ও সালমা। তাঁদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা সবাই কনস্টেবল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১-এর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, নিহত মনিরা ও আকলিমার লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
সূত্র- প্রথম আলো।


গাজীপুরে এক গৃহবধূকে শনিবার সকালে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘটনা ধামাচপা দিতে লাশে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ গৃহবধূর স্বামীসহ দু’জনকে আটক করেছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় গতকাল শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় সানিয়া আকতার (৫) নামের একটি শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন।
একটি বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সানিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মালিয়ায়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন: শিশুটির মা খালেদা আকতার (৩০) ও ভাই আসিফ (৮) এবং প্রতিবেশী মুসলিম বেগম (৪৫) ও বেবী আকতার (৩০)। তাঁদের মধ্যে খালেদা আকতার ও আসিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের বিনিনিহারা বোর্ড অফিসের সামনের কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। কনেপক্ষের আত্মীয় খালেদা আকতারসহ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বেলা দুইটার দিকে কমিউনিটি সেন্টার থেকে ১০০ গজ দূরে চট্টগ্রামগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে সানিয়া আকতার ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিকসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফিকুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপরাজিতা ডেস্কঃ পোষাক হিসেবে ‘কেপ কোট’ বেশ প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি ডিজাইন। আগের দিনে রাজকীয় এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের জন্য এই ‘কেপ কোট’ পোষাক প্রচলিত ছিলো। বৃটেন ইউরোপ সহ পাশ্চাত্যের দেশ গুলোর রাজ পরিবার এবং অভিজাত পরিবার গুলোতে এখনো ‘কেপ কোট’ বেশ জনপ্রিয়। অনেকের ই ধারণা এটি শীতের পোষাক,কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনের ঐতিহ্য বলে,’কেপ কোট’ মূলত সব সময় ই পড়ার জন্য। শুধু স্টাইল টা পরিবর্তন করতে হয় এই যা!
দক্ষিণ এশিয়ার অভিজাত পরিবার গুলোতে ও মেয়েদের পোষাক হিসেবে ‘কেপ কোট’ প্রাচীন কাল থেকেই জনপ্রিয়। এমনকি তৎকালীন বাংলা প্রদেশের নবাব পত্নীগণ সহ জমিদার বাড়ির মেয়েরাও শাড়ির সাথে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ‘কেপ কোট’ পড়তেন। নাটোরের রাণী ভবানী সহ বাংলার উল্লেখযোগ্য অভিজাত পরিবারের মেয়েরা শাড়ির সাথে ‘কেপ কোট’ পড়তেন।
কালক্রমে এই পোষাকটি অনেকটাই অ-প্রচলিত হয়ে গেলেও বর্তমানে তা আবারো ফিরে এসেছে। আর তাই ফ্যাশন জগতে এবং বর্তমান সময়ে ‘কেপ কোটের’ চাহিদা এখন অনেক বাড়ছে। সেই সাথে এসেছে ‘কেপ কোটের’ নানান রকম ডিজাইন। কথা হলো ডিজাইনার রুপো শামসের সঙ্গে। এই শীতে লেইস এবং ভেলভেটের তৈরি কামিজ, কেপ কোটের ট্রেন্ড চলছে বলে জানালেন তিনি। শাড়ি, কামিজ ও কেপ কোটে ঐতিহ্যবাহী জারদৌসি, জাল কাজ, স্ট্যাম্পড এমব্রয়ডারির কাজ চলছে। নকশায় ব্যবহৃত হচ্ছে পাথর, চুমকি, মুক্তা, আইলেট লেইস ও ক্রুশকাটার লেইস। কাশ্মীরি ও পার্শিয়ান এমব্রয়ডারির নকশা কেবল শালে নয়, নজর কাড়ছে পোশাকেও।
রুপো বলেন, কেপ কোট আন্তর্জাতিক ফ্যাশনেও এখন বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এটি ফিউশনের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। চাপা প্যান্ট এবং ঢিলেঢালা গারারার সঙ্গে তো বটেই, এমনকি চাইলে শাড়ি বা কামিজের সঙ্গেও এটি অনায়াসে পরা যেতে পারে। এটি ভিক্টোরিয়ান যুগে যেমন চলেছে, তেমনি চলেছে রাবীন্দ্রিক যুগেও। নাটোরের রানী ভবানী থেকে শুরু করে ঢাকার নবাববাড়ির মেয়েদের গায়েও চড়েছে এই কেপ কোট। সেই ফ্যাশন এখন আবার ফিরে এসেছে।
কেপ কোট সাধারন সব ধরনের পোষাকের সাথেই পড়া যায়। লন কামিজ থেকে শুরু করে আনারকলি স্যূট এমনকি ল্যাহেঙ্গার সাথেও পড়া যায়। কোন পার্টিতে পড়ার ক্ষেত্রে ‘কেপ কোটের’ ডিজাইন টা আরেকটু গর্জিয়াস হতে পারে।
শাড়ি বা ড্রেসের কালারের সাথে ম্যাচ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কালারের হতে পারে। ভেলভেট কাপড়ের সাথে কালার ফুল লেস বসানো যেতে পারে। এবং এক্ষেত্রে লেসের কালার টা শাড়ি বা ড্রেসের কালারের সাথে ম্যাচ হতে পারে।
শাড়ির সাথে কেপ কোট পড়লে গলায় কোন ভারি গহনা না পড়াই ভালো,এক্ষেত্রে কানে পড়া যেতে পারে বড় বা ছোট সাইজের কালারফুল টব। যেহেতু কেপ কোট ফুলহাতা পড়া হয়,সেক্ষেত্রে হাতে চূড়ির চাইতে বড় সাইজের আংটি ভালো মানাবে আর সাথে আকর্ষনিয় পার্স।
ডিজাইনার ল্যাহেঙ্গা বা আনারকলি ডিজাইনের সাথে কেপ কোট একটা বাড়তি সৌন্দর্য্য বহন করে। বর্তমান সময়ের তরুনীরা তাই ড্রেসের কারুকার্যের সাথে সাথে কেপ কোট ও চান আকর্ষনীয়। যারা হিজাব পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য কেপ কোট খুবই মানানসই একটি পোষাক।
বলা হয়,হাল ফ্যাশনের যুগে কোন কিছুই পুরনো নয়,আর যদি তা পুরনো হয় তবে ধরে নিতে হবে খুব শীঘ্রই পুরনো ফিরে আসবে নতুন আঙ্গিকে!
লেখা- স্বপ্নকথা।

* কেক তৈরির বাটার ঠিকমতো বিট হয়েছে কিনা বুঝতে হলে ১ ফোঁটা পানি বাটারের উপরে ছেড়ে দিন। যদি পানির ফোঁটা ওপরে ভেসে ওঠে তাহলে বুঝবেন বিট করা ঠিক হয়েছে।
* বাচ্চারা ফল খেতে চায় না। তাই বাড়িতে ফ্রুট কেক বানাতে পারেন। এতে করে শীতকালের বিভিন্ন ফল মিশিয়ে কেক তৈরি করতে পারেন।
* অনেক সময় কেক তৈরি করার পর বেকিং টিনের মধ্যে কেক আটকে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই সুতির নরম কাপড় গরম পানিতে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ ট্রের নিচে রাখুন। খুব সহজেই কেক প্যানের মধ্যে থেকে উঠে আসবে।
* অনেক সময় ফল কেটে রাখলে কালো হয়ে যায়। তখন কেকের সঙ্গে ফল মিশলে রঙটা ঠিক বোঝা যায় না। তাই ফল কাটার পর সামান্য লেবুর রস দিয়ে রাখলে রং নষ্ট হবে না।
* কেকে খেজুরও মেশানো হয়। কিন্তু ছুরি দিয়ে খেজুর কাটতে অসুবিধা হয়। ছুরিতে মাখন লাগিয়ে খেজুর কাটুন। কাটতে সুবিধা হবে।
* সবুজ এলাচি- খোসা কেক তৈরির বাটারের সঙ্গে বিট করতে পারেন। এতে দারুণ ফ্লেভার হবে কেকটিতে।
* অনেক সময় কেকে ব্যবহার করা ময়দা আঠালো হয়ে যায়। তাই কেক তৈরি করার সময় অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিলে আর আঠালো হবে না।
* মনে রাখবেন জেলাটিনের সঙ্গে কখনও আনারস ব্যবহার করবেন না। তাহলে কেকে জেলাটিন সহজে সেট করতে পারবেন না।
* কেক ডেকোরেশনের সময় জেলি ও বাটারের সঙ্গে বাদাম ও আখরোট মিশিয়ে নিয়ে ডেকোরেশন করুন। এতে কেক দেখতে সুন্দর ও লোভনীয় লাগবে।
* সবশেষে কেক তৈরি হয়েছে কিনা বুঝতে হলে টুথপিক ব্যবহার করতে পারেন। টুথপিকের বদলে শুকনো স্প্যাগাটি ব্যবহার করতে পারেন।
লিখেছেন- হাবীবা বেগম

বর্তমান বিশ্বের ব্যবসা জগতের অন্যতম নারীমুখ অ্যান মুর মনে করেন, ”একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না এবং প্রতিটা সফলতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে উপযুক্ত পরিকল্পনা। আর তাই কর্মজীবনের শুরুটা যেভাবেই হোক না কেন,নিজের সঠিক পরিকল্পনাই পারে ব্যক্তিকে তার কাংখিত সফলতা এনে দিতে। ”
বিশ্ব বিখ্যাত মিডিয়া কোম্পানী টাইম ইঙ্ক ডট কম এর প্রথম মহিলা সিইও এবং চেয়ারম্যান অ্যান মুর এর কর্মজীবন শুরু হয়েছিলো হার্ভার্ড থেকে এমবিএ শেষ করে ১৯৭৮ সালে ‘টাইম ইঙ্ক ডট কম’ এ একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস্ট হিসেবে। দীর্ঘ ৩৫বছরের কর্মজীবনে পরিশ্রমী,প্রচন্ড আগ্রহী এবং সফল পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে অ্যান মুরের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ১৯৯১সালে তিনি ‘পিপল’স ম্যাগাজিনের’ প্রকাশক হিসেবে আত্নপ্রাকাশ করেন,১৯৯৩ সালে তাকে নাম দেয়া হয় ‘পিপল’স প্রেসিডেন্ট’,এরপর ২০০১ সালে তিনি টাইম ইঙ্ক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।
ছাত্রজীবন থেকেই অ্যান ‘টাইম ইঙ্ক’ ম্যাগাজিনের নিয়মিত পাঠক ছিলেন,এবং তিনি তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে। আর তাই অনেক ভালো ভালো অফার থাকা স্বত্বেও ‘টাইম ইঙ্ক’ থেকে অফার পাওয়া মাত্রই তুলনামূলক কম স্যালারী হওয়া স্বত্ত্বেও জয়েন করে ফেলেন এবং কর্মজীবনের পুরো সময়টা তিনি এখানেই ব্যয় করেন।
অ্যান এর এই রকম সিদ্ধান্তে তখন তার বন্ধুরা যথেষ্ট অবাক হয়েছিলো!কেউ কেউ তো তাকে ‘বোকা’ ‘পাগল’ ভেবেই বসেছিলো! কিন্তু অ্যান সব রকমের মন্তব্য কে এক পাশে রেখে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যাওয়ায় মনোযোগী ছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন,তার পরিকল্পনা আর টিকে থাকার আগ্রহ তাকে নিয়ে গিয়েছে সফলতার শীর্ষে।
অ্যান মুর ২০০২ সালের জুলাই মাসে ‘টাইম ইঙ্ক’ এর ইতিহাসে প্রথম মহিলা সিইও হিসেবে জয়েন করেন, কৃতিত্বের সাথে দীর্ঘ সময় সিইও এবং ‘টাইম ইঙ্ক ডট কম’ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ সাল পর্যন্ত।
বিখ্যাত ‘ফরচুন ম্যাগাজিন’ মোট দশবার অ্যান মুর কে ‘আমেরিকার পাওয়ার ফুল বিজনেস উইমেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং ‘ফোর্বস ম্যাগাজিনে’ এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০০জন ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে অ্যান মুর একজন।
অ্যান মুর এর খুব বিখ্যাত একটি উক্তি যা তিনি প্রায় প্রোগ্রামেই বলে থাকেন আর তা হলো,’ তোমার জীবন নিয়ে অবশ্যই তোমার কোন পরিকল্পনা থাকতে হবে,তোমার সম্পূর্ণ জীবনের জন্য তুমি,একমাত্র তুমিই রেসপন্সিবল বা দায়ী।’
২০১০ সালে চাকরী জীবন থেকে অবসর নেবার পর অ্যান নিজেকে বললেন নেলসন ম্যান্ডেলার সেই বিখ্যাত স্টেটমেন্ট ‘No is a complete sentence’ । এবং প্রায় ৪বছর অ্যান মুর সময় কাটালেন তার সম্পূর্ণ জীবনের অর্জন,অপ্রাপ্তি নিয়ে গবেষনা করেন,দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি গুলো নিয়ে। অ্যান তার সেই অবসর সময়েই পরিকল্পনা নিলেন,এমন কিছু করার যা তার বাকী জীবনের কর্মক্ষম সময়কে উজ্জ্বল করবে এবং তার মৃত্যুর পরেও টিকে থাকবে সগৌরবে।
আর তার ই ধারাবাহিকতায় তিনি শুরু করলেন তার নিজস্ব উদ্যোগে ‘দ্যা কিউরেটোর গ্যালারী’। সেই সাথে একজন সফল সিইও এরপর নিজের নামের সাথে যুক্ত করলেন একজন সফল ‘উদ্যোক্তা’ উপাধি। খুব শীঘ্রই ‘কিউরেটোর গ্যালারী’ সানফ্রান্সিসকোর পর নিউ ইয়র্কে শুরু করতে যাচ্ছে তাদের ‘আর্ট কালেকশন সেন্টার’। নিজের ছেলেকে সাথে নিয়ে শুরু করা অ্যান মুরের ‘কিউরেটোর গ্যালারী’ লক্ষ্য হচ্ছে,এমন কিছু ছবি বা শিল্পকর্মের আত্নপ্রকাশ করানো যা তৈরী করতে নতুন উদ্দ্যোম এবং এগিয়ে যাবার প্রত্যাশা,সেই সাথে সফল শিল্প কর্ম গুলো কে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া।
মার্কিন বিজনেস কমিউনিটি অ্যান মুর এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিজনেস আর শিল্প জগতে নতুন দ্বার উন্মোচনের সূচনা হিসেবে প্রত্যাশা করছেন। একজন ‘উইমেন এন্টারপ্রেনার বা নারী উদ্যোক্তা’ হিসেবে আত্নপ্রকাশের পর অ্যান মুর মনে করেন, ‘কোন কিছু করার পরিকল্পনা যদি থাকে,তাহলে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য খুব সময়ের প্রয়োজন কখনোই হয় না। দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং টিকে থাকার আগ্রহ আর জানা থাকতে হবে,সময়ের সাথে নিজের ব্যবসা কে এগিয়ে নেবার কৌশল।’
সূত্র- ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনকে দেয়া অ্যান মুর এর একটি সাক্ষাৎকার। সম্পাদনা করেছেন, স্বপ্নকথা।