banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 288 বার পঠিত

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন পোশাকবিধি: পেশাদার পরিবেশ গড়তে ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি তাদের সব স্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন একটি পোশাকবিধি জারি করেছে, যার লক্ষ্য হলো একটি শালীন, পেশাদার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। গত ২১ জুলাই ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয় এবং ২৪ জুলাই তা দেশের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরে পাঠানো হয়।

নতুন পোশাকবিধিতে নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকের ধরন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ধরনের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনার কথাও বলা হয়েছে।

পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) শার্ট—হোক তা হাফ বা ফুলহাতা—ও ফরমাল প্যান্ট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকতে হবে ফরমাল জুতা বা স্যান্ডেল। জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরিহারের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলোকে পেশাদার পোশাকের পরিসরে আনা হচ্ছে না।

নারী কর্মীদের জন্য নির্দেশনা আরও বিস্তৃত। তাঁদের শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ ও ওড়না বা অন্য কোনো শালীন, পেশাদার পোশাক পরতে বলা হয়েছে। এসব পোশাক হতে হবে সাদামাটা ও সংযত রঙের। হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে তা হতে হবে অনাড়ম্বর ও আনুষ্ঠানিক রূপের।
স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছোট হাতার ও ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক (শর্ট স্লিভ ও শর্ট লেংথ ড্রেস) এবং লেগিংস।

নতুন পোশাকবিধির পাশাপাশি নারী কর্মীদের প্রতি আচরণ এবং দাপ্তরিক পরিবেশ সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনাও সংযুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩–এর ৩৯ ধারার আলোকে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ গঠিত কমিটিতে পাঠাতে হবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আগে থেকেই বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সততা, সময়ানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য প্রতিটি বিভাগ, ইউনিট বা দপ্তরে একজন করে মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্দেশনা অমান্য করলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কাউকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়নি, বরং হিজাব পরার সুযোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য যোগদানকারী কিছু কর্মীর পোশাক নিয়ে অনেক সময় সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। আবার পুরুষদের মধ্যে অনেকে টি-শার্ট, জিন্স কিংবা গ্যাবার্ডিন পরে অফিসে আসেন। এ কারণেই সবাইকে একক ও পেশাদার পোশাকধারায় আনতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ শুধু একটি পোশাকবিধি জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও নৈতিক বার্তা বহন করে।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শালীনতা, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এই সিদ্ধান্তের মূলভিত্তি। পোশাক যেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, তেমনই কর্মপরিবেশের উপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে পোশাক নিয়ে কর্মক্ষেত্রে অহেতুক দৃষ্টি বা মন্তব্যের সুযোগ রোধ করা একটি প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য।
অপরদিকে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও এখানে সম্মান জানানো হয়েছে—যেমন হিজাব পরাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা, সৌজন্য ও শালীনতার একটি নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।

Facebook Comments Box