আপনি কি জানেন, শিল্প জগতের ইতিহাসে এক সময় নারীদের অবদান প্রায় অদৃশ্য ছিল? আর সেই অনুচ্চারিত কণ্ঠস্বরকে জায়গা করে দিতে এক নারী গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের প্রথম নারী শিল্পীদের নিবেদিত জাদুঘর—যুক্তরাষ্ট্রের National Museum of Women in the Arts।
২০০০ সালের পর সংস্কারের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া এই জাদুঘর আবার নতুনভাবে ফিরে আসে ২০২৩ সালে, এক চমৎকার প্রদর্শনীর মাধ্যমে—”The Sky’s the Limit”। এই শিরোনামের প্রদর্শনীটি চলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৩ জন নারী শিল্পীর ইনস্টলেশন আর্ট ও ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়।
এই জাদুঘরের পেছনে যার স্বপ্ন, সংগ্রাম ও শ্রম—তিনি Wilhelmina Cole Holladay। সত্তরের দশকে স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন জাদুঘর ভ্রমণের সময় তিনি বুঝতে পারেন, নারী শিল্পীদের শিল্পকর্ম সেখানে প্রায় অনুপস্থিত। ভিয়েনায় এক নারী শিল্পী Clara Peeters-এর একটি ছবি দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে-নারী শিল্পীরা কোথায়?
সেই প্রশ্নই তাকে নিয়ে আসে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে। ১৯৮০ সালের মধ্যে তিনি সংগ্রহ করেন প্রায় ৫০০টি শিল্পকর্ম, তৈরি করেন নারী শিল্পীদের জীবনী, ফটোগ্রাফ ও ক্যাটালগের বিশাল আর্কাইভ। এই সংগ্রহশালাকে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য তিনি সংগ্রহ করেন ২০ মিলিয়ন ডলার, এবং অবশেষে ১৯৮৭ সালের ৭ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী Barbara Bush উদ্বোধন করেন এই অসাধারণ জাদুঘর।
আজ এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ১ হাজার নারী শিল্পীর ৫,৫০০-এর বেশি শিল্পকর্ম। ৫০ জন কর্মী ও ২১ দেশের দাতা সংস্থার সহায়তায় জাদুঘরটি নারী শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে কাজ করে চলেছে।
এই জাদুঘর শুধু শিল্প সংরক্ষণের জায়গা নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ, এক সমতা প্রতিষ্ঠার চিত্রশালা।














