banner

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: August 18, 2026

 

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি: কতটা নিরাপদ আমাদের নারীরা?

‘যৌন হয়রানি’ বা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট শব্দটা শুনলেই আমাদের মাথায় আসে গায়ে হাত দেওয়া বা সরাসরি কোনো খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার কথা।
কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এর রূপ সবসময় এত স্পষ্ট থাকে না।
অনেক সময় খুব সাধারণ কথাবার্তা, কলিগদের অহেতুক আড্ডা বা “আরে, জাস্ট মজা করছিলাম” এমন কথার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর মানসিক ও যৌন নিপীড়ন।

নারীরা যখন নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে অফিসে একটা ভালো পজিশনে যান, তখন তাঁকে শুধু কাজের চাপই সামলাতে হয় না, লড়তে হয় বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষের সাথেও।
তার উপর যদি দেখতে সুন্দর ও স্মার্ট হন, তবে যেন ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
সব অর্জনকে ‘বসের সুনজর’ বা অনৈতিক সুবিধার ফল বলে চালিয়ে দেওয়ার একটা জঘন্য প্রবণতা আমাদের সমাজে বিরাজমান।

আবার ​অফিসে হয়রানির ধরণেরও যেন নানান রূপ।
যেমন ধরুন, কোনো নারী কর্মীর শরীর বা পোশাক নিয়ে ক্রমাগত অস্বস্তিকর মন্তব্য করা, তিনি আগ্রহী না হওয়ার পরও বারবার বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া বা গভীর রাতে অযথা মেসেজ পাঠানো। আবার অনেক সময় বস বা সিনিয়ররা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। সরাসরি কিছু না বলেও এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেন, যেখানে বোঝানো হয় যে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হলে প্রমোশন বা ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া সহজ হবে।

​আর এই ধরনের প্রস্তাবে রাজি না হলে শুরু হয় আরেক মানসিক অত্যাচার।
যাকে বলা যায় নীরব হয়রানি। হঠাৎ করেই হয়তো তার প্রমোশন আটকে যায়, ভালো প্রজেক্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা তাকে নিয়ে অফিসে বাজে গুজব ছড়ানো হয়। আবার সব হয়রানি যে সরাসরি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হয় তাও কিন্তু নয়।
“মেয়েদের দিয়ে এসব কঠিন কাজ হবে না” বা “এত ক্যারিয়ার গড়ে কী হবে, বিয়ে করে সংসার করো” নারী হওয়ার কারণে বারবার এমন কথা বলে ছোট করাটাও এক ধরনের মানসিক হয়রানি।

​এই হয়রানিগুলো যে শুধু অফিসের ডেস্কেই সীমাবদ্ধ থাকেনা।
অফিস পার্টি, অ্যানুয়াল ডিনার, ক্লায়েন্ট মিটিং বা কলিগদের আড্ডায় সুযোগ বুঝে গায়ের কাছে আসা বা জোর করে জড়িয়ে ধরার মতো ঘটনাও ঘটে।
তবে সবচেয়ে ভয়ের জায়গা হলো আমাদের আশেপাশের সেই মুখোশধারী মানুষগুলো। সারাদিন যে কলিগের সাথে ভাই বা বন্ধুর মতো কাজ করা হচ্ছে, দেখা যায় তারাই হয়তো রাতে কোনো গ্রুপ চ্যাটে নারী সহকর্মীর শরীর নিয়ে নোংরা আলোচনায় মেতে ওঠে।
এই ‘ভদ্রলোক’ কলিগরা সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে।

​আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে স্বনির্ভর হওয়াটা মেয়েদের জন্য কোনো শখ নয়, বরং বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকে বাধ্য হয়েই কর্পোরেট জব সহ নানান পেশায় নিয়োজিত।
আর তাই, চাকরি হারানোর ভয়ে কিংবা সমাজের নোংরা কথার ভয়ে অসংখ্য নারী মুখ বুজে এই যন্ত্রণা সহ্য করে যান।

কিন্তু এই নীরবতা ভাঙার সময় এখনই।
​কর্মক্ষেত্রে কোন আচরণটা অনাকাঙ্ক্ষিত, তা বুঝতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তুলতে হবে।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু নারীর একার দায়িত্ব নয়, পুরুষ সহকর্মীদেরও উচিত এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা।
কারণ, আজ যে ঘটনাটি অন্য নারীর সাথে ঘটছে, কাল তা আপনার কাছের মানুষ- মা,বোন, মেয়ে বা স্ত্রী যে কারো সাথেও হতে পারে।

তাই আসুন, সচেতন হই এবং নারীদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলি।