banner

মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 444 বার পঠিত

 

ভাল থাকাটাও এক ধরনের বিজ্ঞান -জানুন উপেক্ষিত খনিজের কথা

ঘুম থেকে উঠেই শরীরে ক্লান্তির ছাপ। মন ভার, অথচ কোনো দৃশ্যমান কারণ নেই। মাথা যেন কুয়াশায় ঢাকা, মেজাজ খিটখিটে, আর দিনটা শুরুই হলো এক রকম খারাপ লাগা নিয়ে। আপনি ভাবছেন, ঘুম তো ঠিকঠাকই হলো! তবে এই অস্বস্তি, মনমরা ভাব, শরীরের অলসতা— সবকিছুর পেছনে হয়তো লুকিয়ে আছে একটিমাত্র খনিজের ঘাটতি। এই খনিজ শরীরের গভীরে নীরব এক সৈনিক— প্রতিদিন লড়াই করে চলেছে আমাদের মেজাজ, পেশি, এমনকি হৃদয়ের সুস্থতার জন্য। নাম তার: ম্যাগনেশিয়াম।

সোডিয়াম বা ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ আমাদের চেনা নাম। কিন্তু ম্যাগনেশিয়ামের কথা খুব কমই শোনা যায়, অথচ শরীরচর্চা হোক বা হরমোনের ভারসাম্য, এমনকি মন ভাল রাখার ক্ষেত্রেও এই খনিজের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে নারীদের শরীরে হাড় ও পেশির গঠনে ম্যাগনেশিয়াম এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শুধু তাই নয়, মাসিকচক্র স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনজনিত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণেও এর অবদান উল্লেখযোগ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, এমনকি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। শরীরচর্চার সময় পেশিতে টান ধরা বা রাতের ঘুমের সময়ে হঠাৎ পায়ের পেশিতে ব্যথা— এর পেছনেও রয়েছে এই খনিজের ঘাটতি। আরও আশ্চর্যের বিষয়, শরীরে ভিটামিন ডি যতই থাকুক, যদি ম্যাগনেশিয়াম না থাকে, তবে তা কার্যকর হয় না বললেই চলে।

অতিরিক্ত মেদ ঝরানো যেমন কঠিন কাজ, তেমনি ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে তা সহজ হতে পারে। এই খনিজ হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে, শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বাড়ায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়, আবার প্রয়োজনীয় পুষ্টিও মেলে।

ভয়ের কিছু নেই। এই প্রয়োজনীয় খনিজ পাওয়া যায় অনেক পরিচিত খাবারে, যেগুলো আপনার দৈনন্দিন রসনার অংশ হতে পারে অনায়াসেই।

সবুজ শাকসবজি: বিশেষত পালংশাক— একটি শক্তিশালী ম্যাগনেশিয়াম উৎস। এক কাপ রান্না করা পালংয়ে মিলবে প্রায় ৭৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম।

বীজ ও বাদাম: কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ, কাজুবাদাম— এদের প্রত্যেকটিই ম্যাগনেশিয়ামে পরিপূর্ণ। আধা কাপ কুমড়োর বীজে প্রায় ১৫০ মিলিগ্রাম, চিয়া বীজে ১১১ মিলিগ্রাম, আর কাজুবাদামে মিলবে ৭৮ মিলিগ্রামের মতো।

দানাশস্য: ডালিয়া, কিনোয়া, ওটস— এগুলোর মধ্যেও রয়েছে এই খনিজ। ভাতের বদলে মাঝে মাঝে এই দানাশস্যগুলি খেলে পেট ভরবে, পুষ্টিও মিলবে, আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ফলমূল: কলা ও পেঁপে— এই সাধারণ ফলগুলিও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ। একটি মাঝারি কলায় আছে প্রায় ৩২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম। সকালে এক গ্লাস কলার স্মুদি কিংবা পেঁপের স্যালাড— হতে পারে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি শুরু।

দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও দইয়ের মধ্যেও রয়েছে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম। দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান হজম শক্তি বাড়ায় এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকলে শরীর-মন দুটোই ভাল থাকে।

শেষ কথা
ভাল থাকাটা শুধু মানসিক মনোভাব নয়, এটা শারীরিক সুসমঞ্জস্যের ফলও বটে। অল্পতে মেজাজ হারানো, ক্লান্ত লাগা, বা একটানা মন খারাপ থাকা— এসবের পেছনে কারণ খুঁজতে গেলে আপনি হয়তো মনস্তত্ত্ব ঘাঁটবেন। কিন্তু একবার খাবারের তালিকায় চোখ রাখলে বোঝা যাবে, হয়তো শরীরই তার প্রয়োজনীয় উপাদান ঠিকমতো পাচ্ছে না।

তাই প্রতিদিনের পাতে কিছু সামান্য পরিবর্তন এনে, এই নীরব পরিশ্রমী খনিজটিকে জায়গা দিন।

Facebook Comments Box