banner

মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 885 বার পঠিত

 

গরম কিংবা বর্ষায় টিউনিক

এখন ফ্যাশন মানেই ফিউশন। দেশি এবং পাশ্চাত্যের মিশেল রয়েছে বেশিরভাগ পোশাকে। সেই ধারায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের টপস, টিউনিক, শার্ট, স্কার্ট। আর এগুলো মধ্যে টিউনিক অন্যতম।

কাঁধ থেকে দেহের মধ্যভাগের নিচ পর্যন্ত কিংবা হাঁটু সমান লম্বা এই পোশাকের প্রচলন হয়ত এসেছে প্রাচীন রোম থেকে।

পোশাকবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘টিউনিক’ শব্দটা এসেছে রোমান ‘টিউনিকা’ থেকে। সেই সময় রোমান নাগরিকরা সাধারণত উৎসবে ই পোশাক পরতো।

শুধু রোমনরা নয়, প্রাচীন গ্রিসেও টিউনিক ঘরানার পোশাকের প্রচলন ছিল। পরে এই পোশাক মধ্যযুগ পার করে বর্তমান যুগে এসেও ঠেকেছে।

পাশ্চাত্যে প্রথম দিকে এই ধরনের পোশাক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য পরার প্রচলন ছিল। পরে সেটা সাধারণ মানুষের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। আর এই উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টিউনিক ধাঁচের পোশাকের যে প্রচলন আছে সেটা ‘কুর্তা’ নামেই পরিচিত।

টিউনিক সাধারণত একটু পাতলা ধরনের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই গরমে যেমন পরতে আরাম তেমনি বর্ষায় ভিজলেও শুকায় তাড়াতাড়ি। বৃষ্টি আর স্যাঁতস্যাঁতে গরম আবহাওয়ায় পোশাক ব্যবহারে আরামের কথা বিবেচনা করে বেছে নেওয়া যায় সুতি কাপড়, সিল্ক, মসলিন, এন্ডি সিল্ক, জয়শ্রী, এন্ডি কটন, জর্জেট, শিফনসহ অন্যান্য আরামদায়ক কাপড়। কারচুপি, এম্ব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, স্টিচিং নকশা উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলে।

হাল ফ্যাশনে টিউনিক সম্পর্কে দেশীয় ব্র্যান্ড ‘লা রিভ’য়ের জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার বিপ্লব বিপ্রদাস বলেন, “আসলে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের সঙ্গে দেশি ঘরানার ফিউশন করে কিছু টপসের ডিজাইনকেই আমরা টিউনিক বলে থাকি। কুর্তি এবং টিউনিকের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। কুর্তি হল কামিজেরই একটি আলাদা স্টাইল। সেক্ষেত্রে টিউনিক টপস এবং দেশি স্টাইলের ফিউশন। আসলে দেশীয়ভাব বজায় রেখে ওয়েস্টার্ন পোশাকের ধাঁচে তৈরি করা হয় এখানকার টিউনিক।”

কিশোরি এবং তরুণিদের মধ্যেই এই পোশাক বেশি জনপ্রিয়। জিন্স বা পালাজ্জোর সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। চাইলে স্কার্ট বা ধুতি-পায়জামার সঙ্গে মিলিয়ে পরা যায়। ফ্যাশনে ভিন্নতার জন্যই নতুন প্রজন্মের কাছে টিউনিক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া যেকোনো পরিবেশের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। বিপ্লব বলেন, “মূলত নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই টিউনিক ডিজাইন করা হয়। তবে নিজের সঙ্গে মানিয়ে যেকোনো বয়সি নারীরাই টিউনিক পরতে পারেন।”

“টিউনিকের ডিজাইনে ভিন্নতা আনার স্বাধীনতা রয়েছে। কাপড়ের ধরণ বুঝে চাইলেই মন মতো ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা পায়। টিউনিকের নিচের অংশ, গলার স্টাইল, হাতা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নতুনত্ব আনার সুযোগ রয়েছে। হাল ফ্যাশনে মূলত টিউনিকের কাট এবং হাতার স্টাইলে ভিন্নতা আনা হচ্ছে। আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে মূলত পোশাকের কাপড় বাছাই করা হয়।” বললেন বিপ্লব।

তিনি আরও বলেন, “এখন বৃষ্টির কারণে জর্জেট, ভিসকস এবং সিল্ক কাপড় বেছে নেওয়া হচ্ছে টিউনিক তৈরিতে। তবে গরমের মৌসুমে সুতি কাপড়ের তৈরি টিউনিক বেছে নিতে হবে। তাছাড়া ভিসকসের সঙ্গে সুতি বা সিল্কের সঙ্গে সুতির মিশেল কাপড়গুলোও উঠে এসেছে পছন্দের তালিকায়।”

“প্রতিদিনের পোশাক হিসেবে টিউনিক বেশ মানানসই। তাছাড়া স্টাইলের পাশাপাশি পোশাকটি বেশ আরামদায়কও বটে তাই অনেকেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই ফিউশন পোশাকট।” মতামত দিলেন এই ডিজাইনার।

যেকোনো পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক গঠন এবং পোশাকটি পরে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন সেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। আর সব কিছু মিলে যদি যায় তবে যেকোনো পোশাকে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

Facebook Comments Box