banner

শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 76 বার পঠিত

 

সামাজিক সহযোগিতায় বাড়বে নারীর পেশাগত অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃত্বস্থানীয় নারীরা অংশগ্রহণ করেন। ‘গিভ টু গেইন: এমপাওয়ারিং উইমেন, এমপাওয়ারিং দ্য নেশন’ শীর্ষক এই আলোচনায় নারীর ক্ষমতায়ন, মেন্টরশিপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বাস্তব গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে—বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের বড় বাধা কেবল সম্পদের অভাব নয়, বরং সমন্বয়ের ঘাটতি।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাত পৃথকভাবে কাজ করলেও তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় খুব কম দেখা যায়। অথচ এই খাতগুলো একসঙ্গে কাজ করলে নারীদের জন্য মেন্টরশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন আলোচকরা। আইএসডির রোবোটিকস শিক্ষক আনা ইয়াং বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। তাদের ভুল করার সুযোগ দিতে হবে এবং ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, নইলে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রযুক্তিগত বৈষম্যের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মেয়েই এখনো মৌলিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সায়মা শওকত উল্লেখ করেন, একটি কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগের অভাব তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সীমাবদ্ধতা দূর না করলে নারীদের অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে থমকে যেতে পারে।

বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি আলোচনা হয়। বক্তারা মনে করেন, কেবল মুনাফা নয়—দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

নারীদের নেতৃত্বে পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীদের সংখ্যা এখনো কম। এর পেছনে রয়েছে সামাজিক বাধা, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং পর্যাপ্ত মেন্টরশিপের সংকট। অভিজ্ঞ নারী নেতাদের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গাইড করার উদ্যোগ বাড়ালে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মত দেন আলোচকরা।

গোলটেবিল বৈঠকের সারসংক্ষেপ ছিল একটাই-সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী মেন্টরশিপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

Facebook Comments Box