শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

 

ভালবাসা দিবসে ‘বন্ধু নির্বাচন’ (কাছে আসার গল্প)

রায়হান শরীফ


লিমা কলেজে এসেই আজ শরীফকে খুঁজছে। না,আজ শুধু নয় প্রতিদিনই তো খোঁজে। তবে আজ খোঁজার কারণটা আলাদা, অনেকটা পাগলের মত হন্যে হয়ে খুঁজছে।

সহপাঠি একজন বললো তাকে বটগাছের তলায় একা বসে থাকতে দেখেছে। হু একাই তো বসে থাকবে। তার কি অন্য কোনো বন্ধু আছে যে তার সাথে ঘুরবে?

আনমনে এসব ভাবছে, লিমা?

আসসালামু আলাইকুম..
শরীফ চমকে উঠেছে লিমাকে দেখে,,,,
অমাবস্যার রাতে যদি চাঁদ দেখত হয়তো এতটা চমকে উঠত না শরীফ। লিমাকে আজ প্রথম দেখছে তা ত নয়! লিমার আচরণ ও গায়ে পরা জামা কাপড়ের ধরণ দেখেই শরীফ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

যে মেয়ে জিন্সপ্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ছাড়া কখনো জামা পড়েনি। তার আজ এত পরিবর্তন?

আজ লিমা অতি সাধারণ একটা জামা পড়েছে। ওড়না দিয়ে মুখের চারিপাশ ডেকে রেখেছে। তবে মুখটাই শুধু খোলা। আবার মুখে সালাম? জীবনে কখনো তার মা-বাবাকে সালাম দিয়েছে বলে শরীফের বিশ্বাস হয় না। শরীফ এতক্ষণ পাথরের মত তাকিয়েই ছিল। লিমা তার বাহুতে মৃদু আঘাত করায় তার ঘোর কাটলো।

কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
আমাকে কি নতুন দেখছিস নাকি? গত তিন বছর তো একইসাথে ক্লাস করছি কখনো চোখে চোখ রেখে কথা বলিস না
আজ কি হয়েছে?

নাহ্! কিছু না। বস। কেমন আছিস বলল, শরীফ বললো!
লিমা বলল, আমি তোর গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসতে পারি?

অন্যদিন হলে শরীফ না বলে পাঁচ হাত দূরে সরে যেত। কিন্তু আজ কেন জানি লিমাকে দেখতেই মায়া হচ্ছে। লিমার মুখের দিকে তাকিয়ে বড্ড বেশি অসহায় লাগছে। লিমার মুখটা কেমন যেন মলিন হয়ে গেছে, মুখে কিছুই বললো না শরীফ, শুধু হ্যাঁ সুচক মাথা নেড়ে গেল!

একটু পরে শরীফ জিজ্ঞেস করলো তুই এই দুইদিন কোথায় ছিলি? তোকে দুইদিনব্যাপী ক্যাম্পসে না দেখে কালকে তোর মেসের ওই দিকে গিয়েছিলাম। তোদের মেসের দিকে তো কখনো যায়নি। আর যাবই বা কেন? ছাত্রীদের মেসেতো যাওয়া নিষেধ।

তাহু (সহপাঠি তাহমিনা) বললো তুই ঘুমাচ্ছিস, তাই চলে আসলাম।
আর তোর ফোনটাও বন্ধ। কেন ছিল?

১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টায় যে ফোন দিলি তার পর তো তোর কোন খবর নেই।
প্রতিদিন তো সকাল ৭ টা বাজতে না বাজতেই ফোন না ধরা পর্যন্ত দিতেই থাকিস। তোর জ্বালায় ফজরের পর সকালে একটু ঘুমাতে পারি না। অবশ্যই এই দুই দিন শান্তিতে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি। তবে তোর কলকে খুব মিস করেছি! ওই দিন পার্টিতে গিয়েছিস তাই না?

=এই লিমা, আমার কথা তোর কানে যায় না!

আর রায়হান(সহপাঠি) তাকেও ওই দিনের পর এই দুই দিন দেখছি না। বলতে পারিস ও কোথায়? তুই তো বেশির ভাগ সময় ওর সাথেই থাকিস!

=কিরে কথা কস না কেন! লিমা এতক্ষণ কিছু শুনছে নাকি আবার চোখে ঘুম চলে আসছে ওর।

লিমার, রায়হানের নাম শোনা মাত্র বুকের ভেতরটা কেমন জানি করে মোচড় দিয়ে উঠল। তাৎক্ষণিক শরীফের গা থেকে মাথাটা সরিয়ে নিল।

লিমার মুখটা হঠাৎ কেমন জানি ফ্যাকাসে হয়ে গেল, চাঁদের মত মুখটা কেমন অন্ধকারে চেয়ে গেল। চোখ কেমন ছল ছল করে উঠলো, এই বুঝি পানি গড়িয়ে পড়ল কিছুই বলছে না লিমা।

মনে পড়লো ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার কথা। ভালোবাসা দিবসে পার্টিতে গিয়ে ছিলো রায়হানের সাথে।

আনন্দে মেতে উঠেছিলো লিমা,রায়হান সহ হাজারো তরুণ-তরুণী, কিছু ড্রিংক্স না হলে তো পার্টিতে আবার আনন্দ মাটি।

রায়হান-লিমা পার্টি শেষে বাসায় ফিরতে বের হল।

লিমার মাথাটা কেমন যেন ধরেছে বেশ।

রায়হানকে বলতেই সে বললো, চল আমার বাসায়, তা ছাড়া এত রাতে তো তোর মেসের গেটও খুলবে না।

লিমারও মাথা ব্যাথার জন্য বেশি কিছু না বলে রায়হানের গাড়িতে সে উঠে বসল রায়হান পাশে। মাথার ব্যাথাটা এতই বেশি করছে যে, বাসায় কে আছে কি নাই তা দেখার সময়ও ছিল না লিমার।

রায়হান রুম দেখিয়ে দিয়ে অন্য রুমে যেতেই লিমা ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল হল, লিমা তার বিবস্ত্র শরীরটা দেখে বুঝতে বাকী রইলো না ওর কাল রাতে কি ঘটে ছিল তার সাথে? কেনই বা কাল রাতে লিমার মাথা ব্যাথা করলো? সেতো এই প্রথম ড্রিংক্স নেয়নি! কত হাজার বার সে ড্রিংক্স নিয়েছে নিজেরও হিসেব নেই। কাল রাতে রায়হান যে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে তা এখন পরিষ্কার।

লিমা রুম থেকে বেরিয়ে সামনের রুমে এসে এক মহিলার দেখতে পেল। এর আগে কখনো আসেনি তাই কাউকে চিনে না সে।

লিমা বললো, আপনি রায়হানের কে?
মহিলাটি বললো, আমি রায়হানের মা।

সকালে উঠেই কোথায় যেন গেল বললো কি যেন কাজ আছে কয়দিন পর ফিরবে বন্ধুদের সাথে গেল।

আসো নাস্তা করে নাও!!
লিমা বললো না,আমারো কাজ আছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

অন্য একদিন, এই বলেই চলে আসলো,
রুমে এসে কত যে কেঁদেছে লিমা। আর ভেবেছে বন্ধুত্বের দাম এইভাবেই দিলো রায়হান? আমার সরলতা নিয়ে খেলা করেছে রায়হান। কেন?

বিষ খেতে চেয়েছিলো লিমা, গলায় ফাঁসিও দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারেনি।সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েগুলো তা পারে না হয়ত!

=কিরে কথা বলিসনা কেন??

শরীফের কথায় লিমার স্বরণ এলো সে শরীফের পাশে বসে আছে, না কিছুই বললোনা সে।
সে ভাবছে তার সাথে যা ঘটেছে তাকি তার “নিয়তি না পাপের ফল”?

=শরীফের দিকে না তাকিয়ে শুধু বললো, চল!! ভালো লাগছে না আজ। তোর হাতটা ধরে হাটতে পারি?

দুই জনে উঠে ক্যান্টিনের দিকে হাটতে লাগলো হাতে হাত রেখে। লিমার মনে হচ্ছে এটাই বিশ্বাসের হাত, বন্ধুত্বের হাত এটাই। ভুল করেছি, বড্ড বেশি ভুল করেছি জীবনে। বন্ধু নির্বাচনে বড় বেশি ভুল হয়ে গেছে!

যে ভুলের জন্য কোনো দিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না লিমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর