শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং, ,

 

ভাষা হোক শুদ্ধ

ডা.সাকলায়েন রাসেল


বসন্ত নেমেছিল আজ আমার রুমে..নীলার আগমনে..দরজা ঠেলে ধরে মুচকি হাসি..চোখে স্নিগ্ধতা!
ঠোট নড়ে উঠল..স্পষ্ট শোনা গেল না..তবে বোঝা গেল!
ঠোটের তুলিতে লেখাটা বুঝে নিলাম-আসতে পারি?
আমার অভিব্যক্তিতেও একই প্রকাশ..মুচকি হাসিটার আকার বেড়ে গেল..হুম, আসতে পারেন!
নীলার বাসন্তি প্রবেশ..বারবার বাসন্তি বলার কারণ এই একটাই..থ্রি পিসের পুরোটাই বাসন্তি রঙের! ওড়নাটা উলটা ইউ আকারে গলা পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ।জংলি ছাপা। চুলগুলো মোটা হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে পিছনে টেনে রাখা। চোখ কাজলে হাইলাইট করা।
নীলাকে দেখলে হঠাৎ করে মহাসুন্দরী মনে হবেনা..আমারো মনে হয়নি..সময় সেটা ডিমান্ডও করছিল না..তবে আমার এটা সহজাত অভ্যাস..চেম্বারে রোগী কিংবা রোগীর লোক ঢোকামাত্র আমি সেকেন্ডেরও কম সময়ে তার আউটলুক দেখে নেই..বোঝার চেষ্টা করি এ্যাটিচুড কেমন..সামাজিক অবস্থা কেমন..কিংবা মানসিকতা কেমন!
বেশিরভাগ সময় মিলে যায়..এই মিলে যাওয়ায় অনেক সুবিধা..আপনি দ্রুতই রোগীর সাথে একটা সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন..আত্মীক সম্পর্ক! আর চিকিৎসা মানে কাগজ কলম প্রেসক্রিপশন নয়, নয় অপারেশন টেবিলে ছুরি কাঁচির কারসাজি!
চিকিৎসা একটা প্যাকেজ! এই প্যাকেজের নায়ক রোগী, ডিরেক্টর চিকিৎসক। আর রোগীর লোক পার্শ্ব অভিনেতা। কারো পারফরমেন্স একটু খারাপ হওয়া মানেই নায়কের কষ্ট, ডিরেক্টরের ব্যর্থতা! আমি তাই ভাসকুলারের চেয়ারে বসেও সাইকিয়াট্রিস্ট হওয়ার চেষ্টা করি।
কী আছে রোগীর মনে? মানুষটাই বা কেমন? কতটুকু ধারণক্ষমতা আছে তার-আমাকে বোঝার, আমার চিকিৎসা বোঝার! চিকিৎসা একটা গাইড লাইন, এই গাইড লাইন হওয়া উচিত রোগী নামক ছাত্রের অন্তরের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী! এই ক্যাপাসিটি জানতে হলে খুব দ্রুত রোগীর অনুভুতি পড়ে নিতে হয়। যে অনুভুতি লেখা থাকে তার পোশাকে,চলনে, অভিব্যাক্তিতে, ভাষায়!

আমিও পড়ে নিলাম নীলাকে..একটা সৌন্দর্য আছে তার চোখে মুখে..খুব চেনা সৌন্দর্য! স্নিগ্ধ সুন্দর..পোশাকের পরিপাটি রুপ নজরকে আহত করতে যথেষ্ট! আমি আহত না হলেও আকৃষ্ট হলাম..মুগ্ধ হলাম নীলাতে!
নীলার চোখেও আড়ষ্টতা! টানা টানা ঐ চোখগুলোর ভাষা বোঝা গেল না! অগ্যতা শব্দের কোলে আশ্রয় নিলাম!
-আপনি নীলা?
নীলার শব্দহীন.. মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিল সে নীলা। কৈশরের আভা ছড়িয়ে পড়ল তার অভিব্যক্তিতে!
বয়সের দিকে তাকালাম, ১৯!
-কী সমস্যা নিয়ে এসেছেন!
মুখ খুলল নীলা..আমি অস্থির! স্নিগ্ধ সুন্দর এমন মানুষের দেহে কী এমন রোগ লুকিয়ে আছে! যার স্মার্টনেস অলরেডি আঁচড় কেটে মনের আংগিনায় তার কন্ঠটাই বা কেমন! প্রকাশের ভংগিমায় বা কেমন!
আমি নীরব, শান্ত স্থীর শ্রোতা হয়ে গেলাম!
‘ অ স্যার, আমার পায়ের রগগুলা ক্যামন জানি ফুইল্যা ফুইল্যা গেছে! মাঝেমধ্যে জম্মের চুলকায়!’

আমি বাকরুদ্ধ!
নীলার সব স্মার্টনেস যেন পুড়ে গেল ভাষার অনলে!
———
মেকআপ মুখের সৌন্দর্য বাড়ায়! ভাষা পুরো মানুষটার!
‘ভাষা হোক উম্মুক্ত-অভ্র’
অফটপিক-ভাষা হোক শুদ্ধ!

অথচ বেশিরভাগ শিক্ষক ও মা বাবা…শিশুকে স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জনবর্ণ শেখান ভুলভাবে!
——-
আসছে
‘অফটপিক’!
এবারের গ্রন্থমেলার ৪৫১ নং স্টল, আইডিয়া প্রকাশনে!
অফটপিক-যাপিত জীবনের বাঁকে অযত্নে পড়ে থাকা অবহেলিত চিন্তার শব্দরূপ!

সহকারী অধ্যাপক, ভাসকুলার সার্জারী
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক, বারডেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরও খবর