চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় ভোলায় বিবি সাওদা (যিনি সাওদা সুমি নামেও পরিচিত) নামের এক নারী জামায়াতকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল গভীর রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নিজ বাসা থেকে ৩৭ বছর বয়সী এই নারীকে তুলে নেয় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পরবর্তীতে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবি সাওদার তিন বছর বয়সী একজন বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যার মাতৃস্নেহ ও পরিচর্যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই বিষয়টি সামনে আসায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আকস্মিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পুলিশের এই আচরণকে ‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদীরা সব যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পাশাপাশি, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে পূর্ববর্তী স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দেশের মানুষ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রত্যাশা করেছিল, ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে মধ্যরাতে একজন সম্মানিত নারীকে তুলে নেওয়ার এই ঘটনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এছাড়া ভোলা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে এবং দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারের নীতি বা ভুলত্রুটির গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার দায়ে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। এর পাশাপাশি, রাষ্ট্রদ্রোহী বা গুরুতর কোনো ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া, কেবল একটি ফেসবুক পোস্টের জেরে একজন তিন বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।
অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এমন একটি পদক্ষেপ কেবল ওই শিশু ও মায়ের প্রতি অমানবিকই নয়, বরং সমাজে ভিন্নমত দমনের একটি ভীতিকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যা সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য কখনোই কাম্য হতে পারে না।














