banner

মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 407 বার পঠিত

 

টঙ্গীর ড্রেনে পড়ে এক মায়ের মৃত্যু—দায় কার?

টঙ্গীর একটি খোলা ড্রেনে পড়ে মারা গেলেন এক কর্মজীবী মা। পানিতে দীর্ঘসময় ডুবে থাকায় তাঁর মরদেহ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল—নাক ছিল না, শরীর ফুলে চেনার উপযোগী না, আতর ও স্প্রে দিয়ে দুর্গন্ধ চাপা দিয়ে শেষবারের মতো তাকে দাফন করা হয় মাত্র অল্প সময় আগে।
দুই জমজ শিশুকে লাশের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি, তারা ভয় পাবে বলে। অথচ তারা শুধু একটাই প্রশ্ন —“মা কই?”
তাদের কান্না থামছে না, চোখে ঘুম নেই। মা ছাড়া এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতে তাদের ঠাঁই কোথায়, কে জানে?
ডিভোর্সড মা, একা হাতে সন্তানদের মানুষ করছিলেন। একটি কোম্পানিতে চাকরি করে কঠিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে। আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে একদিকে ঘরের এক কোণে বসে দুই শিশু কাঁদছে, অন্যদিকে পরিবারের কিছু সদস্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাঁর সামান্য স্বর্ণালঙ্কার আর সম্পদের হিসাব নিয়ে।
আর সিটি কর্পোরেশন?
যাদের গাফিলতিতে এক মায়ের মৃত্যু হলো—তারা এখনও কোনো সহানুভূতি দেখায়নি, পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। লাশ বুঝিয়ে দিয়ে যেন তাদের দায়িত্ব শেষ।
এই নিষ্ঠুর নিরবতা এবং দায়িত্বহীনতা শুধু এক পরিবার নয়, পুরো সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি—
এই দুই অনাথ শিশুর পুনর্বাসন ও শিক্ষা-ব্যবস্থার সরকার এবং সিটি কর্পোরেশনকে অবিলম্বে দায়িত্ব নিতে হবে।

মৃত্যুর জন্য দায়ী সিটি কর্পোরেশনের অবহেলার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঢাকাসহ দেশের সব খোলা ড্রেন ও ম্যানহোল দ্রুত সংস্কার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা হবে মানবিক দায়বদ্ধতার ন্যূনতম বহিঃপ্রকাশ।

অনাথ শিশু সন্তানদের আইনি সহায়তা ও মানসিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে, এবং এ ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি।

এটা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটা আমাদের অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। মৃত্যু হয়েছে একজন মায়ের, অনাথ হয়েছে দুটি শিশু—এই দায় সবার। রাষ্ট্র কিংবা কর্পোরেশন দায় এড়িয়ে গেলে, মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াই। সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, আর নিরাপদ শহর গড়ার দাবি জানাই।

Facebook Comments Box