banner

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 680 বার পঠিত

 

হার্ট অ্যাটাক কেন হয়?

হৃদপিণ্ডের একটি রোগ হার্ট অ্যাটাক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম হল মায়কার্ডিয়াল ইনফার্কশন। ছোট্ট করে একে বলা হয় এমআই। হার্টে রক্ত বহনকারী ধমণীগুলো সরু হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। হার্টের কোষ গুলো মরে যায়। এই পরিস্থিতির নাম ইশকেমিয়া। ইশকেমিয়া হলে বুকে তীব্র চাপ ও ব্যথা অনুভুত হয়। তখন এই সমস্যাটিকে বলে এনজাইনা পেক্টোরিস বা বুকে ব্যথা। যদি ইশকেমিয়া চলতেই থাকে তবে হার্টের কোষ গুলো একসময় মারা যায়। এই অবস্থাটি হার্ট অ্যাটাক হিসেবে পরিচিত।

ইশকেমিয়া হলে রোগীর বুকের বাম দিকে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। অনেকে আবার বুকের ওপর ভীষণ ভারী কিছু চেপে রাখার মতো অনুভব করেন। ব্যথার তীব্রতা বুকে বেশি থাকলেও এটা বুক থেকে গলা, গাল, মাড়ি, কান, বাম হাত এবং আশেপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে রেফার্ড পেইন বলা হয়। বুকের ব্যথা ১ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এই ব্যথা কখনই ৩০ সেকেন্ড সময়ের কম নয়, আবার ১৫ মিনিটের বেশিও নয়। এনজাইনা বা ব্যথা শুরু হয় সাধারণত কোনো পরিশ্রমের কাজ করার সময়- যেমন দৌড়ানো বা জোরে হাঁটা ইত্যাদি। তবে পেট ভরে খাবার খাওয়া, যৌনক্রিয়া এমনকি হঠাৎ রেগে যাওয়া বা উত্তেজিত হলেও এনজাইনা শুরু হয়ে যেতে পারে। ব্যথার সঙ্গে রোগীর অন্য উপসর্গ যেমন শ্বাসকষ্ট, পেট ফাপা লাগা, অস্থির লাগা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদিও থাকতে পারে। পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

শতকরা  ৮৫ ভাগ হার্ট অ্যাটাক বয়সের কারণে হয়ে থাকে। পুরুষের প্রথম হার্ট অ্যাটাকের জন্য গড় বয়স ৬৬ এবং নারীদের ৭০। তবে, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের বয়স ৫৫ থেকে শুরু হয় এবং বয়স ৬৫ থেকে নারী ও পুরুষ যেকোনো সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও অনেক কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে-

– রক্তের কলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে।

– অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস থাকলে।

– অতিরিক্ত তেল এবং চর্বিযুক্ত খাবার খেলে।

– হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।

– স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন থাকলে।

– অতিরিক্ত মদ্যপান, ধুমপান এবং শারীরিক পরিশ্রম না করা।

– বংশগত এবং অতিরিক্ত কোকেন জাতীয় ওষুধ খাওয়া এই রোগের কারণ হতে পারে।

বুকের ব্যথার কারণ হিসেবে এনজাইনা বা এমআই সন্দেহ হলে প্রথম একটি ১২ লিডের ইসিজি করানো লাগতে পারে। ব্যথার শুরুর দিকে ইসিজির রিপোর্ট স্বাভাবিক আসতে পারে। সঠিক তথ্য জানতে পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকবার ইসিজি করতে হয়। এরপরও যদি কোনো ত্রুটি ধরা না পড়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নিশ্চিত করেন। এছাড়াও প্রয়োজনে আরও অনেক পরীক্ষা করতে হতে পারে।

করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ এর চিকিৎসা অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট) এর তত্ত্বাবধানে করা উচিৎ। কারণ, কেবল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই রোগীর সঠিক অবস্থা বিবেচনা করে আদর্শ চিকিৎসা দিতে পারেন।

Facebook Comments Box