banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

দেশে বছরে জরায়ু ক্যান্সারে মারা যায় প্রায় ১১ হাজার নারী


নারী সংবাদ


বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১১ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আর এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় পাঁচ কোটি নারী। এর মধ্যে নিরক্ষর ও যৌনকর্মীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি পরিচালিত একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশের চারটি জেলায় সহস্রাধিক নারী ও যৌনকর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশ করেছে একদল জরায়ু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
গবেষণার ফলাফলে প্রকাশ- অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, বাল্যবিবাহ, ধূমপান বা তামাক সেবন, অধিক সন্তান প্রসবসহ সাতটি কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়ে থাকে। তবে, সঠিক সময়ে জরায়ু ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্ণয় করতে পারলে তা নিরাময়যোগ্য।
গবেষক দলের প্রধান ছিলেন স্কয়ার হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুলতানা রাজিয়া বেগম। তার সহযোগীরা হলেন- ডা. নাসিমা শাহীন, ডা. সামছুন্নাহার, ডা. সোনিয়া পারভীন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান ও ড. তৌহিদুল ইসলাম।
সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে এশিয়া-ওশেনিয়া রিসার্চ অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘জেনিটাল ইনফেকশেন অ্যান্ড নিওপাশিয়া’ বিষয়ের ওপর ষষ্ঠ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের জরায়ু ক্যান্সারের ওপর এ গবেষণাটি পোস্টার আকারে প্রদর্শন করা হয়। সম্মেলনে প্রদর্শিত এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৫টি অংশগ্রহণকারী দলের ৩৫টি পোস্টারের মধ্যে বাংলাদেশি গবেষকদের এই পোস্টারটি প্রথম স্থান লাভ করে।
প্রজনন শিক্ষা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে সঠিক নীতিমালার অভাবে দিন-দিন জরায়ু ক্যান্সার মারাত্মক আকার ধারণ করছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এটি মহামারী আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক ড. মোজাহিদ উদ্দিন আহমেদ।
ড. মোজাহিদ বলেন, খাগড়াছড়ি, জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার প্রায় সহস্রাধিক নারী ও যৌনকর্মীদের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রায় ১১ শতাংশ গ্রামীণ নারী এবং ৩১ শতাংশ যৌনকর্মী জরায়ু ক্যান্সার সৃষ্টিকারী প্যাপিলোমা ভাইরাস বহন করে।
ভাইরাস বহনকারী এসব নারীদের আপাত দৃষ্টিতে দেখতে সুস্থ মনে হলেও যেকোন সময় তারা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। অনিয়মিত ও অধিক সময় ধরে রক্তস্রাব, কারণ ছাড়াই জরায়ু থেকে রক্তপাত, সঙ্গমের সময় রক্তপাত, তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। এর যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তিনি জানান, জরায়ু ক্যান্সারের মূল সাতটি কারণ হলোÑ অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, বাল্যবিবাহ, অধিক সন্তান প্রসব, ধুমপান বা তামাক সেবন, ঘন ঘন সন্তান প্রসব, স্বেচ্ছায় গর্ভপাত এবং প্রজনন শিক্ষার অভাব। তবে, যেসব পুরুষ একাধিক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তিনি বাহক হিসেবে প্যাপিলোমা ভাইরাস অন্য নারীর দেহে ছড়াতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে ওই পুরুষও লিঙ্গ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন।
ড. মোজাহিদ আরো জানান, জরায়ু ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার যা নিরাময়যোগ্য। যখন সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তখনই এর উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময় করা সম্ভব। এছাড়া, প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বছরে একবার জরায়ু পরীক্ষার মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করে এ রোগের হাত থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা রাজিয়া বেগম বলেন, বাংলাদেশের নারীদের আক্রমণকারী ১০ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে জরায়ুর ক্যান্সার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা শতকরা ১৯ দশমিক ২ ভাগ। অনেক নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। অথচ তার পরিবার জানেন না তিনি কি কারণে মারা যাচ্ছেন।
লজ্জাবশত অনেক নারীই জরায়ু ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো লুকিয়ে রাখেন, পরীক্ষা করতে চান না। ফলে তারা ধীরে-ধীরে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যৌন ও প্রজনন শিক্ষা এবং সচেতনতাই পারে জরায়ু ক্যান্সার থেকে মুক্তি দিতে। সে ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, গ্রামে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্যাম্পেইন করা গেলে এ রোগ থেকে দেশের নারী সমাজকে পরিত্রাণ দেওয়া সম্ভব বলে জানান ডা. সুলতানা রাজিয়া।
সুত্রঃ বাসস।

 

নিরালাপুঞ্জী।


ফাতিমা খান


শহর থেকে দূরে পাহাড়ের উপর ছিমছাম ছোট্ট একটা গ্রাম বলা যায়। যদিও এখানকার সরল মানুষগুলোর ধারণা তারা কোন গ্রামেও থাকে না আর শহর থেকে অনেক দূরেও তাদের আবাস না, এর থেকেও প্রত্যান্ত অঞ্চলে মানুষজন আছে এবং থাকছে। তারা আছে তো বেশ! আমার ‘সোয়ামী’ ডাক্তার সাহেব গিয়েছিলেন সরকারী সফরে আর আমি গিয়েছিলাম ওদের দেখতে।

গ্রামটার একদম শেষ মাথায় ঘন জংগল। আকাশ ছুঁইছুঁই করা বেশ কিছু গাছ, কিছু নিরপরাধ গুল্ম আর কিছু নামহীন ফুলের ঝোপঝাড়, এগুলোই জংগলের শোভা। সবুজ ঘাস আর ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদগুলো জংগলের ঘনত্ব বাড়িয়েছে দিগুণ। কম প্রস্থের মেঠো পথগুলোর দুপাশে বিশাল বিশাল খাদ। কিনারে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আমার গা শিয়রে উঠেছিল। খাদের শেষ আমি দেখতে পাইনি। অথচ কেবল হাটতে শেখা গ্যাদা বাচ্চাগুলো দিব্যি কিনার দিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। আমি যখন খাদের তলানি খুঁজতে ব্যস্ত তখন ৪/৫ বছরের এক খোকা খাদের গা ঘেঁষে বেড়ে উঠা এক সুঠাম গাছের দুর্বল বাহুতে দিব্যি দোলা খেতে খেতে আমাকে একটা ভেংচি কাটল। এই বাচ্চাগুলো বড় হলে ওদের ঝুলিতে জমে থাকবে অনেক দূরন্ত, দুঃসাহসী স্মৃতি। আমি ওদের সামনে সত্যি এক আনাড়ি !

দুইপাশে সারি সারি মাটির ঘর। এদের বাসিন্দাদের বেশীরভাগই পান শ্রমিক, নয়ত পান ব্যবসায়ী ।ওরা থাকে এসব মাটির ঘরে। অনেকেই খাসিয়া দলের না, জীবিকার সন্ধানে এখান ওখান থেকে আসা মানুষ।

ওদের দলনেতাকে ওরা মন্ত্রী বলে। মন্ত্রী আর তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িগুলো শুধু আধুনিক মানের, পাকা বিল্ডিং পরিপাটি।

পুরাটাই জংগল এলাকা বলে সাপের ভয়ও আছে এখানে। বর্ষাকালে সাপের আনাগোনা বেশী, শীতকালে যে একদম নাই, এমনটাও না। শেয়াল, বনবিড়াল, হাতি, সজারু, বানর, অন্যান্য বন্য প্রানীগুলোর সাথে এখানকার মানুষ ভালই ভাব জমিয়ে রেখেছে।

নিরালাপুঞ্জীর মানুষগুলো মূলত খাসিয়া উপজাতির। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার বর্ডার এর থেকে শুধু ২ কিলো মিটার দক্ষিণপূর্ব দিকে পাহাড় আর সবুজ দিয়ে ঘেরা এই নিরালাপুঞ্জী। এখানকার মানুষগুলোর নিজস্ব ভাষা, পোষাক আর সংস্কৃতি আছে। কোন এক সময় তাদের অবস্থা যেমনই থাকুক না কেন দিনকে দিন তারা উন্নতি করে চলেছে, এর পেছনের একমাত্র রহস্য তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। দলনেতা বা মন্ত্রীর সাথে কথা বলে জানলাম, তার ছেলেমেয়েরা প্রতিবেশী দেশ ভারতে লেখাপড়া করছে।

চলতে চলতে আমার সাথে এসেছিল ওই মাটির বাড়িগুলোর কোন একটা বাড়ির বউ। সে খাসিয়া নয়, বাড়ি কুমিল্লা। শ্বশুর শাশুড়ি বাবা মা সবাইকে নিয়েই সে এক কক্ষের মাটির ঘরটায় থাকে। বয়স পচিশ হবে, চোখ জোড়া কোটরে ঢুকানো, হাসতে গেলে চোয়ালের হাড় খানিকটা নড়ে চড়ে উঠে, অবয়বে বোঝা যায় অপুষ্টে বেড়ে উঠা শরীর।

এই ফ্যাকাশে হাসিখুশী মেয়েটাকেই জিজ্ঞেস করলাম,

“আচ্ছা, তোমাদের এখানে সাপ আসে না? “

“আসে, তয় কিছু করে না। লাডি নিয়া দৌড়াইলে উলটা ওরাই ভয় পায়। আপনি যান ম্যাডাম। সাপ আপনারে ধরব না। ”
এই অভয়বাণীতে সান্তণা পেলাম বটে, কিন্তু ভয় দূর হল না একটুও। সাপ তো সাপই, সে আবার কিছু না করে কেমনে? বুঝলাম তারা নিতান্ত প্রাকৃতিক জীবনযাপন করছে।

প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা এই মানুষগুলো প্রকৃতির অতিচেনা আপনজন। সময় বা পরিস্থিতি বিশেষ কখনও লাঠি তুলে নেয়া প্রয়োজন হলেও কারণ বিনা তারা একান্ত পড়শী। দিনশেষে সন্ধ্যা নামছিল, এখানেও আলোর পর আধার আসে, রাতের পরে দিন। মনে হয়েছিল মাটির দেশে সবুজের আবেশে মাটির ঘরগুলোতে চাইনিজ পুতুলের মত মাটির মানুষগুলোই বসবাস করে।

 

নারীদের ঝগড়ায় সংঘর্ষ, নিহত ১


নারী সংবাদ


সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় নারীদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সাইফুল মহেশপুর গ্রামের সোনা মিয়া তালুকদারের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শনিবার সকাল ৭টার দিকে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মিষ্টার মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তারের ঝগড়া হয়। এরই জেরে সাইফুল ও মিষ্টার মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল অচেতন হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। স্থানীয় লোকজন সাইফুলকে উদ্ধার করে জয়শ্রী বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সেখানে ওই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।। সুত্র:সমকাল।

 

“হারমোনিয়াম”


মোঃ দেলোয়ার হোসেন


পাত্রপক্ষ ও কন্যাপক্ষের মধ্যে ঘটকালির কাজটি সারলেন আমার দূরসম্পর্কের এক মুরুব্বি দুলাভাই l মুরুব্বি বললাম এই কারণে যে , দুলাভাইয়ের বড়ো ছেলে আমার চেয়েও বয়সে কিছুদিনের বড়ো ! কথাবার্তা মোটামুটি পাকাপাকি হবার পরেও দুলাভাই কন্যাপক্ষের কানে আমার বিষয়ে অতিরিক্ত একটি বিশেষণ লাগিয়ে দিলেন, “ ছেলে সারাদিন মাথায় টুপী পরে থাকে!” কন্যার পিতা জানতে চাইলেন….
: ছেলে কি মাদ্রাসা লাইনে লেখাপড়া করেছে ?
: না , জেনারেল লাইনে পড়েছে !
: ছেলের মাথায় কি টাক আছে?
: না তা নয় !
: তাহলে?
: ছেলে কিছুটা “হুজুর” টাইপের !
: আলহামদুলিল্লাহ ! ভালো খবর ! তাহলে ছেলে মেয়ে উভয়ের দেখা সাক্ষাৎ ও সম্মতিক্রমে কথাবার্তা ফাইনাল হয়ে যাক !
একদিন শুভ ক্ষনে আমাদের বিয়ের সানাই বাজলো ! মধ্যবিত্তের সাদামাঠা বিয়ে ! মনের মধ্যে একরাশ আনন্দ অনুভূতি নিয়ে বিয়ে শেষে বৌ সহ বাড়ি ফিরলাম !
কয়েকদিন পর যাওয়া হলো বৌকে নিয়ে শশুর বাড়ি ! যথারীতি গিন্নীর কামরাই এখন রূপান্তর হলো আমাদের দুজনের ঘুমঘর হিসেবে ! মাঝারি সাইজের রুম ! খাট ড্রেসিংটেবিল , বসার জন্য দুটি চেয়ার আর একটি স্টিলের আলমারি l পরদিন সকাল বেলা আবিষ্কার করলাম , স্টিলের আলমারির উপরে সুন্দর করে কাপড়ে মোড়ানো একটি চারকোনা সাইজের বস্তু ! গিন্নী কে জিজ্ঞাসা করলাম ……
: আলমারির উপর কাপড়ে মোড়ানো বস্তুটি কি ?
: হারমোনিয়াম !
: কে বাজায় ?
: এখন কেউ বাজায় না ! শখ করে কিনে রেখে দেওয়া হয়েছে !
: তুমি বাজাতে পারো নাকি ?
: একটু একটু পারি !
: আমাকে একটু বাজিয়ে শোনাও তো ! গানও গাইতে পারো নাকি ?
: অল্প অল্প পারি !
: বাহ ! বেশতো ! চলো তবে হয়ে যাক একটা “সংগীত সকাল !”
: আমার লজ্জা লাগছে ! বাসায় যখন কেউ থাকবেনা তখন শোনাবো !
: বেশ ! তবে সেই কথায় রইলো !
টুকটাক প্রশ্ন করে জানতে পারলাম , গিন্নী বাসায় একজন মহিলা উস্তাদ রেখে হারমোনিয়াম বাজানো ও গান শিখতো ! নিতান্তই শখের বশে শেখা ! প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকার সময় বিয়ে হয়ে গেলো ! সেই সাথে ইতি ঘটলো সংগীত সাধনার ! ঢাকা শহরে তাঁর জন্ম , পড়াশোনা ও বেড়ে উঠার সুবাদে খুব সহজেই সে এই ধরণের সুযোগ করে নিতে পেরেছিলো !
অন্যদিকে আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা পল্লীগ্রামে ! তবে ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল দুর্বার আকর্ষণ ! রেডিও, টেপরেকর্ডার নিয়মিত শোনা হতো ! আর বিশেষ করে বয়াতীদের পালাগানের ছিলাম পাগল ভক্ত ! গ্রামে উৎসব উপলক্ষে মাঝে মাঝে আয়োজন করা হতো বিখ্যাত গাতকদের নিয়ে সারারাত ব্যাপী গানের আসর ! তাঁদের ইনস্ট্যান্ট বানানো ছন্দ ও অন্তমিল দিয়ে , কখনো কবিতা আবার কখনো গানের মাধ্যমে সব শ্রেণীর শ্রোতাদেরকে গভীর রাত পর্যন্ত মোহাবিষ্ট করে রাখতো! আমি তন্ময় হয়ে শুনতাম আর ভাবতাম, এভাবে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গেয়ে গেয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারলে মন্দ হতো না !
যাই হউক, সেদিন বিকেলেই সুযোগ হাতের নাগালে, বাসার মুরুব্বিরা কি একটা কাজে সবাই বাইরে! আর দুয়েকজন পিচ্চিপাচ্চা, ওরা হিসেবের মধ্যে পড়েনা ! গিন্নীর রুমের দরজা বন্ধ করে আয়োজন করা হলো “ একক সংগীত বিকাল”! শ্রোতা আমি একাই ! শিল্পীকে উৎসাহ দিয়ে বললাম ,
: শুরু করো ! শ্রোতা হিসেবে আমি একাই তিনশো !
: প্রথম কোন গানটা শুনতে চাও?
: যেটা জীবনে প্রথম শিখিছিলে, সেটা দিয়েই শুরু করো !
: আচ্ছা ! ঠিক আছে !
মাত্র কয়েকদিন হলো বিয়ে হয়েছে ! এখনো কথা বলার মধ্যেও জড়তা কাটেনি ! চলাফেরায় কেমন একটা লাজরাঙ্গা ভাব ! গিন্নি গাওয়া শুরু করলো আর আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লিখা সেই বিখ্যাত গানটি …
“ফুলে ফুলে ঢ’লে ঢ’লে বহে কি’বা মৃদু বায় ।।
তটিণী-র হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায় ।
পিক কি’বা কুঞ্জে কুঞ্জে ।।
কুউহু কুউহু কুউহু গায়,
কি জানি কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায় ।”
আমি তন্ময় হয়ে শুনছি ! মোটামোটি মিষ্টি গানের গলা ! গানের সাথে সুর মিলিয়ে বাজছে হারমোনিয়াম ! গান শেষ হওয়ার পর বললাম….
“ অসাধারণ গেয়েছো তুমি ! আমি মুগ্ধ !”
আমার কথা শুনে আনন্দে তাঁর চোখে পানি এসে গেলো ! ধরা গলায় বললো ,
: তোমার পছন্দ হয়েছে ?
: খুব পছন্দ হয়েছে ! আরও একটা শোনাও !
সে আবার গান ধরলো ! এবার নজরুল গীতি ! কিন্তু আগের মতো সাবলীল ভাবে আর গাইতে পারছে না ! আবেগে গলা বসে যাচ্ছে ! চোখ থেকে নেমে আসছে আনন্দ অশ্রুধারা ! আমি মিটিমিটি হাসছি ! বললাম…
: থাম! আর কষ্ট করে গাইতে হবে না ! যা গেয়েছো , মনের ভিতর বসে গেছে ! সারা জীবন মনে রাখার জন্য যথেষ্ট !
: এখন থেকে আমি শুধু তোমার জন্যই গাইবো ! আমার গান তোমার ভালো লেগেছে এটাই আমার পরম পাওয়া ! আমার গান শেখা সার্থক হলো ! দোআ করো , আমি যেন কথা রাখতে পারি !মাথায় হাত বুলিয়ে অন্তর থেকে দোআ করে দিলাম !
হঠাৎ মাথায় একটা খেয়াল উদয় হলো ! আরে! আমিতো অনেক দিন থেকে মনের ভিতর সযতনে লালিত ইচ্ছা এখনই পূরণ করতে পারি ! সাহস করে বলেই ফেললাম গিন্নীকে …
: এখন আমি একটা গান গাইতে চাই, তুমি আমার গানের সাথে সুর মিলিয়ে হারমোনিয়াম বাজাবে !
: বলো কি ? তুমিও গাইতে পারো নাকি ?
: যেমন পারি তেমনি গাইবো ! অডিশন তো দিচ্ছি না ! শুনে শুনে অনেক গান আমার মুখস্ত করা আছে !
গিন্নীর পরিচিত গানের মধ্যে থেকেই একটা গাইতে শুরু করলাম ! গলায় তেমন জোর পাচ্ছিলাম না ! মনে হচ্ছে গলার ভিতরটা ছোট হয়ে আসছে ! হারমোনিয়াম সুর মতোই বাজছে, কিন্তু গানের সুর পিছলে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে!আমিও নাছোড় বান্দার মতো দাঁতমুখ খিঁচে সুরকে টেনে আনার চেষ্টা করছি হারমোনিয়ামের দিকে !
গিন্নী বেশীক্ষন নিজেকে স্থির রাখতে পারলোনা ! হাসি চাপতে না পেরে হারমোনিয়াম রেখেই দিলো দৌড় ! এক দৌড়ে ঘরের বাইরে! আর আমি শরমে বিছানার উপর চ্যাগায়ে পরে রইলাম আধা ঘণ্ট, আধা বেহুশের মতো!সেটাই ছিল হারমোনিয়ামের সুরের সাথে আমার গান গাওয়ার প্রথম ও শেষ অপচেষ্টা !
বেশ কয়েক বছর পরের কথা ! জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাইরে চলে আসা হলো ! কিছুদিন পর গিন্নিও চলে আসলো আমার কাছে ! গিন্নীর সাধের হারমোনিয়াম অতিরিক্ত ওজনের কারণে সাথে আনা গেলো না! তাঁর খুব মন খারাপ হলো ! এতদিনের প্রিয় জিনিস রেখে আসতে হচ্ছে ! আমি সান্তনা দিয়ে বললাম “ মন খারাপ করোনা ! তোমাকে একটা সুন্দর দেখে পিয়ানো কিনে দেবো!” আর মনে মনে ভাবলাম , এইবার আমার সংগীত সাধনা ঠেকায় কে? বাসায় পিয়ানো থাকলে গিন্নীর কাছ থেকেই বাজানো শিখতে পারবো ! এরপর নিজের গানে নিজেই বাজাবো !
গিন্নী আসার পর আবার নতুন করে শুরু হলো আমাদের টুনাটুনির সংসার ! হাইস্পিড ইন্টারনেটের কল্যানে সারা দুনিয়ার গানের গ্যাং চলে আসলো হাতের মুঠোয়! আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ ! গিন্নী সারাদিন বাসায় থাকার ফলে You tube দেখে নিত্য নতুন গানের খবর মাথার ভিতর টুকে রাখে ! রাতে আমি বাসায় ফিরলে শুরু হয় সংগীতের সংবাদ প্রবাহ ! কান ঝালাপালা অবস্থা!
এর কিছুদিন পর আমাদের সংসারে নতুন অতিথি আগমনের বার্তায় দুজনের মনেই আনন্দের জোয়ার বইতে লাগলো ! ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন , সে কন্যা সন্তানের মা হতে চলেছে ! খুশিতে তখন আমার আবার আধপাগল অবস্থা ! আমি পরামর্শ দিলাম…
:You Tube এ খালি গানবাজনা আর নাচানাচি দেখোনা ! কন্যা তো পেটের ভিতরেই লাফালাফি শুরু করবে ! অনেক সুন্দর সুন্দর ইসলামিক আলোচনা আছে ! বাদ্যবাজনা ও অশ্লীলতামুক্ত সংগীত আছে ! মাঝে মাঝে ওগুলোও দেখো!
: আমি দেখি একটু একটু ! তুমি যখন বলছো আরো সময় নিয়ে দেখবো !
: তোমার জন্য একটি পিয়ানো কিনে আনি ?
: আর কিছুদিন যাক ! এই মুহূর্তে এসব ভালো লাগবে না !
: সব সময় হাসি খুশি থেকো !বাচ্চাও হাসতে হাসতে দুনিয়ায় চলে আসবে !
সেই বছরের রমজান মাস চলে আসলো ! তখনও আমাদের কন্যার পৃথিবীতে আসার সময় হয়নি ! পবিত্র রমজানের রোজার শুরুতে গিন্নী সদর্পে ঘোষণা দিলো ,
: এই মাসে আমরা কোনো গানবাজনা ও নাচানাচির অনুষ্ঠান দেখবোনা ! ওয়াজ মাহফিল ও হামদ-নাত শুনবো ! বেশীবেশী কোরআন তিলাওয়াত করবো ! অনাগত সন্তানের জন্য এটা হবে শান্তি ও রহমত স্বরূপ!
: আলহামদুলিল্লাহ ! অতি উত্তম প্রস্তাব !আমি আছি তোমার সাথে !
দুই সদস্য বিশিষ্ট সংসদে পূর্ণ ভোটে বিলটি পাশ হয়ে গেলো ! আর আমরা দুজন নিয়মিত তাফসীর মাহফিল, ইসলামিক গানের অনুষ্ঠান দেখা শুরু করলাম ! আমার চেয়ে গিন্নী অধিক সময় নিয়ে দেখার কারণে , সে এসব অনুষ্ঠানের ভক্ত শ্রোতায় পরিণত হলো এবং ঈদের পরেও সেই ধরণের অনুষ্ঠান উপভোগ করা পুরু দমে চলতে থাকলো ! আর আমার পিয়ানো কিনার ও বাজানো শিখার স্বপ্ন ধীরে ধীরে মাঠে মারা যাওয়ার উপক্রম হলো !
একসময় ঘর আলো করে আমাদের সন্তান পৃথিবীর বুকে পা রাখলো এবং দেখতে দেখতে পার হলো একটি বছর ! এখন মধুর সুরে বাবা,মা, দাদা , নানা , মামা শব্দগুলি স্পষ্ট উচ্চারণ করে ! আরও বিচিত্র চিৎকার ও চেঁচামেচিতে সারাদিন ঘরবাড়ি মুখরিত করে রাখে, যার বেশীরভাগ শব্দই বুঝা যায় না ! মায়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেও এই বয়সেই ইসলামী সংগীতের ভক্তে পরিণত হলো ! ভক্ত বললাম এই কারণে যে , খাওয়ার সময় ইসলামী গান না শুনলে সে খেতে চায়না!কান্নার সময় তাঁর কানের কাছে এই ধরণের গানের কলি গাইলে , সাথে সাথে কান্না বন্ধ করে দেয় ! এমনকি ঘুম পাড়ানোর সময়ও তাঁর কানের কাছে মিনমিন করে গাইতে হয় !
এই দেশে বাচ্চা জন্মের পর হতে চারবছর বয়স পর্যন্ত একজন “ চাইল্ড কেয়ার “ নার্স নিয়মিত রুটিন মাফিক বাচ্চাকে দেখাশুনা করেন ও স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি , টিকা , খাবারদাবার , মানসিক বিকাশ ইত্যাদির বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে থাকেন ! এখন যেহেতু বাচ্চা কথা বলা শুরু করেছে , তাই নার্স পরামর্শ দিলো বেবি কে মিউজিক্যাল টাইপ কোনো খেলনা কিনে দিতে ! আমি ভাবলাম এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না ! গিন্নিকে বললাম…
: নার্স বলেছে , বাচ্চাকে পিয়ানো টাইপ খেলনা কিনে দিতে !
: তাহলে তো কিনতেই হবে ! ছোটোখাটো ও হালকা দেখে একটা নিয়ে আসো !
আমি বেছে বেছে মাঝারি টাইপ একটা কিনে ফেললাম ! বাচ্চা সেটা দুই হাতে তুলতে পারেনা ! তাতে কি? দুই হাতে অনবরত টিপে বিভিন্ন ধরণের সুর বাঁজিয়ে কান তছনছ করে দেয় ! এরমাঝে একদিন গিন্নীকে বলেই ফেললাম আমার পিয়ানো শিখার ইচ্ছার কথা ! গিন্নী বললো…
: দেখ , আমি আর এসব বাজাতে চাই না ! আমি চাইনা তুমিও এসব শিখো !
: কেন ?
: আমি কয়দিন আগে এক হুজুরের ওয়াজে শুনেছি , অনর্থক গানবাজনায় মেতে থাকলে পাপ হয় ! গানের সাথে যদি বাদ্যবাজনা ও পর্দাহীন মহিলাদের ভিডিও থাকে তবে পাপের পরিমান আরও বেড়ে যায় ! এসো আমরা এসব পরিত্যাগ করি ! ভালো কিছু শুনি ও দেখি !
: সেইটা আবার কেমন ?
: ঐ সমস্ত গান আমরা শুনতে পারি, যাতে আল্লাহর তাওহীদের কথা আছে অথবা রাসূলের সা. মহব্বত ও তার শামায়েল আছে অথবা যাতে চরিত্রকে দৃঢ় করতে উদ্ধুদ্ধ করা হয়।
: আর ?
: সেই সমস্ত গান, কবিতা ও শুনা যেতে পারে, যা শুনে মুসলিমদের একে অন্যের প্রতি মহব্বত ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয় !
: আর ?
: সেই সব গীত বা সংগীতও উপভোগ করা যেতে পারে, যাতে ইসলামের মৌলিক নীতি বা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । অথবা এই জাতীয় অন্যান্য কথা বা আলোচনা শোনা যেতে পারে যা সমাজকে আহবান করে দ্বীনি আমলের দিকে কিংবা উত্তম চরিত্র গঠনের দিকে !
: তুমি তো দেখি পুরা মহিলা হুজুর হয়ে গেছ !
: এসব মানতে পারলে , আমরা দুনিয়াতে পাপমুক্ত থাকবো এবং আখেরাতেও লাভবান হবো ! চলো আমরা নিয়ত করি মেনে চলার ! দুজনে একসাথে চেষ্টা করলে আশাকরি পারবো ইন্শাআল্লাহ !
: ইন্শাআল্লাহ ! নিয়ত করলাম !
এরপর আমরা খুব বেছে বেছে অনুষ্ঠান দেখি ও গান শুনি ! আর পিয়ানো টা শুধু ব্যবহার হতে থাকলো বাচ্চার খেলনা হিসেবেই ! আমাদের এক ছোট্ট কন্যা, ইচ্ছামতো পিয়ানোর কি বোর্ড চেপে পোঁ পোঁ আওয়াজ তুলে ! আর মনের সুখে গলা দিয়ে আওয়াজ করে , আয়ি-আয়ি- আয়ি -আ-আ-আ ! আমি আর গিন্নী তাঁর কান্ড দেখে মনের সুখে হাসি !
আর হাঁ ! গিন্নি যে আমাকে কথা দিয়েছিলো , সে , আমি ছাড়া আর কারো সামনে গান গাইবে না , সে এখন পর্যন্ত সেকথা রেখেছে ! তারপর থেকে, সে আর কারো সামনে গান গায়নি ! এমনকি তার ভাইবোন অথবা কোনো বান্ধবীর সামনেও না !

 

তবুও শহর


জিনাত তাসনিম


নিশুতি রাতেও নিশ্চুপ হয়না যে শহর
পিচ্ ঢালা পথগুলো সাক্ষী হয়ে যায়
কত ঘটনা আর অঘটনের।
কত শতবার লালে লাল হয়
কোনো স্বপ্নচারী মানুষের অন্তিম
গোধূলির শবযাত্রা ভীড়ে।
ডাস্টবিনের ফ্যালনার বুকে
জীবনের আকুতি জানায়
হতভাগা নবজাতকের কান্না।
তবু নতুন নতুন স্বপ্নেরা জন্মে
পরগাছা মানবের এ শহরে
মুয়াজ্জিনের আহবানে আসে নতুন ভোর
বাড়ে আরো কিছু স্বপ্নালু মুখ।

 

বিয়ের মেহেদীর রং হাতেই লাশ হলেন লতিফা


নারী সংবাদ


যশোরের চৌগাছায় মেহেদীর রং হাতে নিয়েই লাশ হলেন লতিফা খাতুন (২০) নামে এক নববধূ। বিয়ের মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। লতিফার পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাঁচ বাড়ীয়া গ্রামে।

এ ঘটনায় লতিফার বড় ভাই ইনতাজ আলী বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর উপজেলার জামিরা গ্রামের ওয়াজেদ আলীর কন্যা লতিফা খাতুনকে (২০) পাশের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে রাজু আহমেদের সাথে বিয়ে হয়। ২৩ ডিসেম্বর রাতে তার শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরে লতিফার লাশ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এ খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ তার লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহে পাঠায়।

লতিফার বড় ভাই ইনতাজ আলী বলেন, বিয়ের পর থেকেই ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মোটা অংকের যৌতুকের টাকা দাবি করা হয়। আমরা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা আমার ফুলের মতো ছোট বোনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার রাত থেকেই রাজুর পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।

এদিকে ময়না তদন্ত শেষে চৌগাছা উপজেলার জামিরা গ্রামে বাপের বাড়ি লতিফার দাফন করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী অফিসার মহেশপুর থানার এস আই শামীম হোসেন বলেন, লাশের ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে পেলেই বলা যাবে এটা হত্যা, না আত্মহত্যা।

এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম বলেন, আমরা মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লতিফার বড় ভাই ইনতাজ আলী বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সুত্রঃ নয়াদিগন্ত।

 

বুক রিভিউ – ‘সফলদের স্বপ্নগাথা’


মেহেদী আরিফ


বইয়ের নামঃ সফলদের স্বপ্নগাথা
সম্পাদকঃ ফিরোজ জামান চৌধুরী
ধরনঃ অনুপ্রেরণামূলক।
প্রকাশনীঃ অন্বেষা।
পৃষ্ঠাঃ ১৬০।
সফলতার নেপথ্যে নানা কথা থাকে, ঘটনা থাকে, থাকে নানা দুর্ঘটনাও। সফলতা এসে গেলে ভিতরের কথাগুলি বের হয়ে আসে, যেমনভাবে বের হয়ে আসে গর্ত থেকে সাপ। ফিরোজ জামান চৌধুরী সম্পাদিত “সফলদের স্বপ্নগাথা” একটি স্বপ্ন জাগানো বই, জেগে থাকার বই, সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে উপরে ওঠার বই। প্রথিতযশা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, লেখক, রাষ্ট্রনায়ক, মানবাধিকার কর্মী, সংগীতশিল্পী, চলচ্চিত্রশিল্পী, সংগীতশিল্পী ও খেলোয়াড়দের জীবনের সফলতার বয়ান হল এই বইটি।
মাত্র বিশ বছর বয়সে ফেসবুক নামক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম চালু করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেন বিস্ময়কর যুবক মার্ক জাকারবার্গ। হার্ভার্ডের পড়াশুনা না চুকিয়েই ফেসবুকে ডুব দেন এই তরুণ। তিনি একাডেমিক পড়াশুনা শিকেয় তুলে নেমে পড়েন ফেসবুক নামক ওয়েবসাইটের উন্নয়ন সাধনে। ঈর্ষণীয়ভাবে সফলতার প্রদীপ শিখার দেখা পান তিনি। বর্তমানে ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ফেসবুক চালান, নিজেদের মতামত শেয়ার করেন, পুরনো বন্ধুদের খুঁজে ফেরেন, বাইরের রাজ্যের সাথে ভিতরের রাজ্যের মেলবন্ধন ঘটান। এর নেপথ্যে জাকারবার্গ। ২০১১ সালে ফোর্বস সাময়িকী ঘোষিত ৩০-এর কম বয়সী সফল ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি আছেন। জাকারবার্গ মনে করেন, কাজ করা ও শেখার সময়ে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাঝে শেখার মাত্রা বাড়ে। আর শেখার মাত্রা বাড়লে সফলতা তো হাতের মুঠোয় চলে আসে।
বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো অ্যাপল কম্পিউটারের স্রষ্টা স্টিভ জবস উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাতে কি! সফলতার দ্বারে তিনি ঠিকই ভিড়িয়েছিলেন তরী। এই মহারথী ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে পাঁচ সেন্ট করে উপার্জন করে খাবার কিনে খেতেন। বন্ধুদের কক্ষের মেঝেতে ঘুমাতেন। শুধু কি এখানেই শেষ? না, এখানে শেষ না। তিনি প্রতি রোববার রাতে সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতেন একবেলা ভাল খাবারের আশায়। নিজের প্রতিষ্ঠিত অ্যাপল কোম্পানি থেকে তিনি বিতাড়িত হয়েছিলেন। তাঁর সফলতার নেপথ্যে বিতাড়িত হওয়ার ঘটনার মূল্যমান অনেক। স্টিভ জবস প্রত্যেক দিনকে মনে করতেন জীবনের শেষ দিন। এভাবে তিনি তাঁর কাজ সম্পাদন করেছেন। প্রতিদিন তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতেন আজ তিনি যা যা করছেন মরে যাওয়ার আগে কি তাই তাই তিনি করতেন?
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিলগেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার ৩৩ বছর পর তিনি সেখানে ফিরে আসেন শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনের বক্তা হয়ে। জীবনের নানা চড়াইউতরাই পেরিয়ে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছেন এই মানবতাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মী হওয়ার জন্য আহবান করেছিলেন সমাবর্তনের বক্তৃতায়। সাথে সাথে বড় ধরনের বৈষম্য নিয়ে সবাইকে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলেন।
ইন্টারনেটের জগতে সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে কে না চেনে! ল্যারি পেইজ হলেন এই সার্চ ইঞ্জিনের উদ্ভাবক। তিনি মনে করেন, মূল রাস্তায় থেকে কাজ করার মাঝে সফলতা আসে। আরো মনে করেন, স্বপ্নের মাঝে বেঁচে থাকে কোনো মানুষকে আলাদা করার ক্ষমতা।
ইয়াহু’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরি ইয়াং-এর সফলতার নেপথ্যে পরিশ্রমকে দাঁড় করিয়েছেন। ম্যালকম গডওয়েলের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হলে ওই বিষয়ে অন্তত ১০ বছর অথবা ১০ হাজার ঘন্টা সময় দিতে হবে।’ ঘর থেকে বেরিয়ে বিশ্বকে দেখার উদাত্ত আহবান জেরি ইয়াং-এর। মনীষী অগাস্টিন বলেছেন, ‘পৃথিবী হলো একটা বিশাল বই, আর যারা পৃথিবী ঘুরে দেখেনি, তারা এই বইয়ের শুধু একটা পাতা পড়েছে।’ জেরি ইয়াং ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন , ‘জীবনের পথে যাদের পাশে পেয়েছ তাদের কখনো ভুলে যেও না।’
উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি স্যাঙ্গার অর্থপূর্ণ জীবনের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন সারাজীবন মানুষের ভাবা উচিত তার প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কি কি করা উচিত তা সম্পর্কে। সততার উপর বেঁচে থাকা কঠিন তারপরও তিনি সৎভাবে বেঁচে থাকার উপর জোর দেন। তিনি মনে করেন সৎভাবে বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে মানুষ অর্থপূর্ণ জীবনে অভ্যস্ত হয়।
ডেল ইনকের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল মনে করেন, সফলতার সবচেয়ে বড় নিয়ামক হল কৌতুহল। কৌতুহল মানুষকে চারপাশের মানুষকে জানতে, বুঝতে সহায়তা করে। জগৎটাকে বোঝার জন্য তিনি যেমন বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছেন, একইসাথে তিনি ওয়েবসাইট দেখতে বলেছেন, সাথে সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার উন্নয়ন ঘটাতে বলেছেন।
ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ মনে করেন যে, সফলতা পেতে মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করতে হবে, আকাঙ্ক্ষার শূন্য পূরণ করতে হবে। তিনি আরো মনে করেন যে, জীবনের নানাবিধ মোড় আমাদের সম্ভাবনা তৈরি করে ও এগিয়ে নিয়ে যায়।
পাঠক মাত্রই হ্যারি পটার সিরিজের নামের সাথে পরিচিত। সারা বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জে কে রাউলিংয়ের সফলতার পেছনে প্রধান কারণ হল তাঁর নিজেকে চেনার বিশাল ক্ষমতা। তাঁর কল্পনা করার ক্ষমতাও ছিল খুবই প্রখর যা তাকে হ্যারি পটার সিরিজ লেখার নেপথ্যে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
বর্তমান সময়ে ভারতের অন্যতম সেরা লেখক চেতন ভগত মনে করেন, সফলতার জন্য সিরিয়াস হওয়া নয়, দরকার সিনসিয়ার হওয়ার। প্রথম বই প্রকাশের জন্য নয়জন প্রকাশকের কাছে গিয়ে তিনি না শুনেছিলেন। নয় জন প্রকাশকই তাঁর লেখাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবুও তিনি থেমে থাকেন নি। নিজের কাজ করে গেছেন খুব দৃঢ়তার সাথে। তিনি মনে করেন, আগে নিজেকে ভালবাসতে হয়, তারপর অন্যকে।
১৯৯৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মার্কিন মহিলা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক টনি মরিসন মনে করেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অতীতের প্রয়োজন রয়েছে। বিপর্যস্ত বসুন্ধরাকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য তিনি বিনীতভাবে অনুরোধ করেছেন। তিনি মনে করেন, আত্মতৃপ্তি মাঝেমাঝে মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে তা যদি কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আসে তবে তাতে ক্ষতি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের লেখক, বক্তা ও সাংবাদিক ডেভিড শেংক মনে করেন, জিন, জ্ঞান-বুদ্ধি বা প্রতিভা নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছে তা ভুল। তিনি মনে করেন, সবার জিনেই আছে সুপ্ত প্রতিভা। সেই প্রতিভার স্ফূরণ ঘটানোর জন্য প্রয়োজন তীব্র ইচ্ছা, মনঃসংযোগ ও অবিরত অনুশীলন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে হয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। বেনজির মনে করতেন, যে সফল হয় এবং যে হেরে যায়, তাদের মধ্যে মূল পার্থক্যের জায়গা হল, কে তার সফলতা কিংবা বিফলতাকে কতটুকু গ্রহণ করতে পারে ও সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে।
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মনে করেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের আঙ্গিকে কোন মানুষকে বিচার করা ঠিক না। সবাইকে সমান দেখার মাঝেই লুকিয়ে থাকে গণতন্ত্রের বীজ।
মিসাইল ম্যান নামে পরিচিত আধুনিক ভারতের রূপকার এ পি জে আবদুল কালাম স্বপ্ন, দৃঢ় সংকল্প, জ্ঞানচর্চা, কঠোর পরিশ্রম ও নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে জীবনের সফলতার সবচেয়ে বড় উপকরণ মনে করেন।
‘Change we need’ স্লোগানকে ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসেছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা শিক্ষাকে রাষ্ট্র বা সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে সেরা নিয়ামক মনে করেন।
‘মাদিবা’ নামে পরিচিত বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা উদ্ভাবনের দিকে নজর দেয়ার জন্য তরুণদেরকে আহবান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন দরিদ্রতাকে জয়লাভ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারপর জয় করা অশিক্ষা ও অজ্ঞানতা।
এ বইটিতে অংসান সুচি, শিরিন এবাদি, কফি আনান, বান কি মুন, আল গোর, প্রিন্সেস ডায়ানা, শাকিরা, মাইকেল জ্যাকসন, বন জোভি, ড্যানিয়েল রাডক্লিফ, টম হ্যাঙ্কস, শোয়ার্জনেগার, জেমস ক্যামেরন, অমিতাভ বচ্চন, রোয়ান সেবাস্টাইন অ্যাটকিনসন ( মি. বিন), বিশ্বনাথন আনন্দ, ব্রায়ান লারা ও শচীন টেন্ডুলকরের জীবনের সাফল্যগাথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বইটি তরুণদের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার এক চমৎকার উৎস।।

 

যৌতুক না পেয়ে নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যা


নারী সংবাদ


মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পয়সা গ্রামে যৌতুকের টাকা না পেয়ে নববধূ মিনারা আক্তার রুমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘাতক স্বামী ইলিয়াছ খান তার বসতঘরে রুমাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে অভিযোগ গৃহবধূর পরিবারের। এদিকে ঘটনার পরপরই গৃহবধূর লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে রেখেই স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়িসহ বাড়ির লোকজন আত্মগোপনে চলে গেছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই মিজানুর রহমান তালুকদার লৌহজং থানায় অভিযোগ দাখিল করে। গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগে জানা যায, এক বছর আগে উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের মৃত সুরুজ তালুকদারের মেয়ে মিনারা আক্তার রুমাকে বিয়ে করে পয়সা গ্রামের আলাউদ্দিন খানের ছেলে ইলিয়াছ খান। বিয়ের সময় ভাই মিজানুর রহমান সাধ্যমতো দাবি পূরণ করলেও যৌতুকের টাকার দাবিতে রুমাকে নির্যাতন শুরু করে। মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইলে রুমা টাকার জন্য ইলিয়াছ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কথা জানালে কষ্ট হলেও টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন মিজানুর। এর মধ্যে সন্ধ্যার আগে রুমা অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার খবর পেয়ে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকাতে দেখেন মিজানুর। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রুমার মৃত্যু হয়েছে।

রুমার পরিবারের অভিযোগ, গত এক বছরে রুমাকে তার স্বামী ইলিয়াছসহ সবাই মিলে একাধিকবার নির্যাতন করেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ পারিবারিক সালিশ বৈঠকে রুমার ছোট ভাই বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পর দাবি করা টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও যৌতুকলোভী ইলিয়াছ রুমাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে অসুস্থ হওয়ার কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রুমার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে স্বামী ইলিয়াছ খান, শ্বশুর আলাউদ্দিন ও শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা-ঢাকা দেয়।

লৌহজং থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত করতে বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই মিজানুর রহমান তালুকদারের দাখিল করা অভিযোগ মামলায় নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সুত্রঃ সমকাল।

 

সন্তানকে ইতিবাচক মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চান? জেনে নিন ৫ টি কৌশল


প্যারেন্টিং


১.নানান পরিবেশ দেখে

বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করার জন্য বাচ্চাকে হসপিটাল, বস্তি, এতিমখানাসহ নানান জায়গায় নিয়ে যান। এবং শিশুদের প্রতিটি পরিবেশকে ইতিবাচক দিক তুলে ধরুন। অভিনব সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে হবে। আর জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতাকে বাচ্চার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।

২. বাচ্চাকে প্রশ্ন করুন এবং বই দিন

শিক্ষার মূল বিষয়টা হল জানার আগ্রহ।
বাচ্চাকে জিজ্ঞাস করুন তার কাছে ইতিবাচক আর নেতিবাচক দিক কোনগুল। সেখানে ভুল থাকলে তা বুঝে কৌশলে তা ইতিবাচক দিক তুলে ধরুন।
ধৈর্য না হারিয়ে বুদ্ধি বিকাশের জন্য ‘বই’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চার শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বেশী প্রশংসা করতে হবে।

৩. গুরু জনের সাহচর্য

বাচ্চাদেরকে শিক্ষক, দাদা-দাদী, বাবা-মা সহ গুরুজনদের সাথে যোগাযোগ গতি বিকশির করুন। ওকে শিখতে সাহায্য করুন একা একা। চলতি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক জ্ঞান নয় বরং গ্রেড বাড়াতে সহযোগিতা করে তাই এর মাঝে ইতিবাচক ভাবে গড়ে তুলতে, তাদের সেই বিশেষ চাহিদা পূরণে বাবা-মাকে শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করতে হবে।

৪. বাইরে খেলতে দিন নিয়মিত

মাঠে বাচ্চাদের খেলতে নিয়ে যান। নানান বয়সের নানান পরিবারের বাচ্চাদের সাথে খেলতে ও মিশতে উৎসাহ দিন। বাসায় এসে বাচ্চার সাথে কথা বলুন ইতিবাচক মনোভাব জাগ্রত করে।

৫. কথা বলুন বাচ্চার সাথে

বাচ্চার সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য বাচ্চার সাথে খোলামেলা কথা বলার বিকল্প নেই। তার ইতিবাচক, নেতিবাচক, আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, ভাল, মন্দ সব ধরনের বিষয় কথা বলার জন্য মা- বাবা বা কাছের কাউকে সঙ্গী হতে হবে। এর ফলে বাচ্চার চিন্তা ধারা সম্পর্কে ক্লিয়ার একটি ধারণা পাওয়া যাবে। এতে বাচ্চাকে সহযোগিতা করা সহজ হবে।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজকুমারী কোথায়?


নারী সংবাদ


নিখোঁজ হয়েছেন বা হারিয়ে গেছেন বলে ভাবা হয় এমন একজন আরব রাজকুমারীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ লতিফার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দূতকে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজকুমারীর নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত ‘মিথ্যা’ প্রচারণার জবাব দেওয়া হয়েছে তাতে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রাজকুমারী শেখ লতিফা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক হাই কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সঙ্গে বসে আছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সন্ধ্যায় তারা দু’জন একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এমন একটি মুহূর্তের ছবি সেটি, আর তাদের দু’জনের সম্মতির ভিত্তিতে সেটি প্রকাশ করা হয়েছে। রাজকুমারী শেখ লতিফা নিজ দেশে প্রয়োজনীয় সেবা ও সমর্থন পাচ্ছেন বলে ম্যারি রবিনসনের দুবাই সফরের সময় তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।” তবে, এই বিবৃতির ব্যাপারে জাতিসংঘ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দুবাই’র শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম গত মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ৩৩ বছর বয়সী রাজকুমারী মার্চে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ফরাসী গোয়েন্দা হার্ভি হুবার্টের সহায়তায় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজকুমারীকে ভারতের কাছে এক ইয়ট থেকে ধরে জোর করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মিঃ হুবার্ট ওই ইয়টের মালিক, তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজকুমারী অন্য দেশে অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় চাইবার পরেও তাকে জোর করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে নিখোঁজ হবার পর শেখ লতিফা ইউটিউবে এক ভিডিও পোস্টে জানিয়েছিলেন, তিনি দুবাই থেকে পালাচ্ছেন, কারণ সেখানে তিনি পরিবারের হাতে নানা দুর্ব্যবহারের শিকার এবং তার ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ঐ ভিডিও পোস্টে শেখ লতিফা জানিয়েছিলেন, তার বাবা হচ্ছেন দুবাইর শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং মা আলজিরিয়ান হুরিয়া আহমেদ।
সুত্রঃ বিবিসি।

 

ড্রাইভার


জাহেদ উদ্দীন মোহাম্মদ


আজ দিনটা খারাপ যাবে, নিশ্চিত। অফিস হতে বের হবার সময়, বড় স্যারের সাথে একদফা গরম-গরম হয়ে গেছে।
ভীষণ বিরক্তিতে রমিজ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল। কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরলো। গাড়ির কাগজপত্র নেয়া হয়নি। স্যারের রুমে ঢুকতে আর ইচ্ছে করছে না। পিয়ন কামাল ভাইকে কাগজ আনতে পাঠালো।
-কি ব্যাপার, কামাল?
-গাড়ির কাগজ নিতে এলাম,স্যার।
-রমিজ কোথায়?
-অফিসের ফোর্চের নীচে গাড়িতে।
-আচ্ছা, যাও।
স্কুল ডিউটিতে গিয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। স্যারের মেয়ে মিমি ক্লাস থ্রিতে পড়ে। মেয়েটা এমন মোলায়েম স্বরে চাচ্চু ডাকে, মনটা এমনিতে ভালো হয়ে যায়। কোন কোন সময় মনে হয়, এ যেন সাক্ষাৎ ফেরেশতা!
-চাচ্চু, এসেছ? আমি ঐ সিঁড়িতে উঠে, কতক্ষণ ধরে ডাকছি! সেই খেয়াল আছে?
-সরি মা, ভুল হয়ে গেছে । আর হবে না।
-সরি বললেই হলো! তুমি সবসময় এইরকম করো। দাও, এবার চকলেটগুলো দাও।
-আচ্ছা মা, দিচ্ছি দিচ্ছি। তুমি চোখ বড় বড় করে এভাবে তাকিয়ো না। আমি ভয় পাই, মা।
মেয়েটি ফিক করে হেসে ফেলেল। সামনের দুটি দাঁত নেই, হাসলে আরো মায়াবতী লাগে।
রমিজ শার্টের বুক পকেট হাতড়িয়ে চকলেট বের করে হাতে দিলো।
-কি চাচ্চু, চকলেট দু’টো কেন? আমি এখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি। তোমার মনে থাকে না, কেন?
-সরি মা, সরি।
রমিজ পকেট উল্টিয়ে আরো একটা চকলেট মিমির হাতে দিল। রমিজে সাথে মিমির শর্ত হলো, ক্লাস যত চকলেট তত।
প্রতিদিন স্কুল শেষে এই চকলেট তার চাই। তারপর ১৫কিমি পথ পাড়ি দিতে দিতে দু’জন মিলে রাজ্যের কথার ঝাঁপি খুলে বসে।
-জানো চাচ্চু, আমাদের ক্লাসে দুটো ভুত আছে। যারা বেশি কিউট তাদেরকে ওরা চিমটি কাটে।
-কি বলো! সত্যি? তুমি দেখেছ?
– আমি দেখিনি। আজ শ্রাবন্তীকে চিমটি কাটলো। ও চিৎকার দেয়ার পর পর পালিয়ে গেলো। ও অনেক কিউট তো, তাই। সবাই ওকে “কিউটের ডিব্বা” বলে ডাকে।
-ও হ্যা, আমাদের অঙ্ক স্যারের বিয়ে হবে। আমাকে বলেছে, তোমাকেও নিয়ে যেতে। দাওয়াত করেছে। তুমি যাবে?
-তোমার চ্যার আমাকে দাওয়াত করেছে। চত্যি বলছো?
মিমি ছোটকালে স’কে উচ্চারণ করতো ‘চ’। তখন আধো আধো আদুরে কথাগুলো শুনতে খুব ভালো লাগত। রমিজ প্রশ্নটা করে মুখ ফিরিয়ে চুপচাপ হাসতে লাগলো।
-চাচ্চু, ভালো হবে না বলছি। একদম ভালো হবে না।
মিমি চোখ বড় বড় করে রমিজের দিকে কটমট করে তাকালো।
কিছুই হয়নি এমন ভাব নিয়ে রমিজ বলল,
-কেন মা? কি হয়েছে?
– কি হয়েছে বুঝনি? আর একবার বললে, একদম আড়ি দিয়ে দেব। তুমি আমাকে টিজ করছো কেন?
-আমি? কি করলাম আবার? বলেই এবার হো হো করে হাসতে লাগলো।
-সরি মা, সরি। ভুল হয়ে গেছে, মা। আর হবে না। এবার মাফ করে দাও। কেমন?
– তুমি প্রত্যেকদিন ভুল করবে। আর বলবে- সরি! এই সরিকে কাছে পেলে আমি…..।
মিমির চোখমুখের এই ভাবটা রমিজের খুব ভালো লাগে। নিজের মেয়েটার কথা মনে পড়ে। মেয়েটা এখন বড় হয়ে গেছে। ছোটকালে সে ছিল এমন আদুরে আর বাবা-পাগলী।
রমিজ ড্রাইভারের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। বিয়ে দিয়েছেন। পরিবার নিয়ে ঢাকা থাকে। ছেলে অফিসে গেলে, ছেলের বৌ বাসায় একা একা থাকে। ছেলের বাসায় ফিরতে কখনো কখনো রাত হয়ে যায়। বৌমা একা থাকতে খুব ভয় পায়, তাই বড়টা ছোটভাইকে ঢাকা নিয়ে গেছে। ওখানে কলেজে পড়ে।
মেয়েটা চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। ইকোনমিক্স সেকেন্ড ইয়ার। মেয়েটার জন্য বুকে তার বড় মায়া। এক একটা বছর যায় আর মেয়েটার জন্য বুক ধকধক করে উঠে।
মনে হয়, মেয়েটা বড় হচ্ছে মানে শ্বশুর বাড়ির দিকে এক’পা এক’পা করে এগোচ্ছে। এইসব ভাবতে ভাবতে রমিজ কখন যে অফিস ক্যাম্পাসে পৌছে গেছে, খেয়াল করেনি।
মিমির “চাচ্চু- চাচ্চু” ডাকে সম্বিত ফিরে এলো। অনেকক্ষণ চুপচাপ দেখে মিমি বলল,
– বকা দিয়েছি, তাই রাগ করেছ, চাচ্চু? আমি আড়ি দিইনি তো!
-না, মা। রাগ করিনি। মা’র সাথে কি ছেলে রাগ কর‍তে পারে? এসো মা, তোমাকে নামিয়ে দিই।
মিমিকে পাজাকোলা করে বাসায় নামিয়ে দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে চলে এলো।
মেয়েটা আজকাল রমিজকে বেশি কেয়ার করছে। মিমির কান্ডকীর্তি দেখে, কয়েকদিন যাবত মনে একটা প্রশ্ন কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে,
-আচ্ছা, প্রতিটি মেয়ে কি অন্য মেয়ের বাবার না বলা বেদন বুঝতে পারে?
-কি জানি। হবে হয়তো।
ছেলেমেয়েদের ছাড়া রমিজের বাসা এখন নিসঙ্গতায় ভুগছে। ছোট ছেলের পোষা গিরিবাজ কবুতরের বাকবাকুম ডাক কিংবা লাভ বার্ডগুলোর কিচিরমিচির শব্দে বেঁচে আছে রমিজের বৌ।
কিন্তু আজকাল রমিজ বড় একলা লাগে। মেয়ের শূন্য খাটপালং এর দিকে তাকালে বুকে কেমন করে উঠে।
বাপ-পাগলী মেয়েটা জন্য রমিজের মন হুহু করে। যতক্ষণ মিমির সাথে থাকে, ততক্ষণ মনে হয় নিজের মেয়েটার কাছে আছে।
এখন তার সকল আদর-মায়া-মমতা যেন মিমিকে ঘিরে।
এখন তার দৃঢ় বিশ্বাস, দুনিয়াতে মেয়েরা অন্য মেয়ের বাবার মনটাও বুঝতে পারে। হয়তো মিমিও পেরেছে।
রমিজের চাকরি পঁয়ত্রিশ বছর চলছে। কত স্যার এলো গেলো। কত জনের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে আনা-নেয়া করলো। কিন্তু মিমির মতো কেউ তার মনে দাগ কাটেনি। মনে নানা রকম কত কত ভাবনাচিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। রমিজ মনে মনে যুক্তি খাড়া করে,
-তখন তাঁর ছেলেমেয়েরা কাছে ছিল। অফিস শেষে সবাই তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়তো। সারাদিনের ক্লান্তি নাশ হয়ে যেত। তাই হবে হয়তো।
কয়েক মাস আগে মিমির এক ঘটনা রমিজকে একদম কাঁদিয়ে ছাড়লো। তখন মিমির অর্ধবাষিকী পরীক্ষা শুরু হলো। ম্যাডাম অসুস্থ। তাই রমিজকে বলল,
-রমিজ, আমি তো যেতে পারছি না। ভাই, তুমি আমার মেয়েকে একটু দেখো।
মিমিকে রমিজ স্কুলের গেটে ঢুকিয়ে দিয়ে যেই ফিরে আসছে। ওমনি পিছন হতে ডাক। পিছন ফিরতেই দেখে চাচ্চু, চাচ্চু, বলতে বলতে মিমি দৌড়ে আসছে।
বিপদের আচঁ পেয়ে রমিজ দৌড়ে গেল।
মিমি কাছে এসে টুপ করে তাঁকে কদমবুচি করলো। কপালে একটা চুমু দিতে দিতে বলল,
-চাচ্চু, আমি পরীক্ষা দিতে গেলে সবসময় মাকে সালাম করি আর কপালে চুমু দিই। আজ মা আসেনি, তাই তোমাকে দিলাম। দোয়া করিও। কেমন।
মিমি এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে পরীক্ষা হলের দিকে দৌড় দিল।
রমিজের মুখে হঠাৎ কোন কথা সরে না। চোখ ছলছল করে উঠে। এত ছোট্ট একটা মেয়ে,এটা কি করলো!!!
অদৃশ্য এক আহবানে তাঁর দু’হাত যেন আকাশের দিকে উঠে গেলো।
-খোদা, এই পঁয়ত্রিশ বছরের ড্রাইভারের চাকরিতে কত তুচ্ছতাচ্ছিল্য পেয়েছি! তুমি আজ যে সম্মান আমায় দিলে, তুমি তাঁর হেফাজত করো, তুমি তাঁর হেফাজত করো। আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন।
রমিজের এই আকুল মুনাজাতে চারপাশে জড়ো হওয়া ফেরেশতারা কেবল আমিন-আমিন বলছিল।
কেউ শুনেনি, শুধু রমিজ শুনেছে।
অদৃশ্য ফেরেশতাদের কেউ দেখেনি, শুধু রমিজ দেখেছে।

ছবি সূত্র: ইন্টারনেট।

 

নির্যাতিত নারী, শিশুদের সেবায় ওসিসি


নারী সংবাদ


দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। সমাজে নারী-পুরুষ সমানাধিকার ভোগ করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা সেটা ভোগ করতে পারছেনা। হচ্ছে নানাভাবে নির্যাতিত। নারীদের পাশাপাশি শিশুরাও বিভিন্নভাবে হচ্ছে নির্যাতিত। শিশুরাও হচ্ছে মানুষরূপী পিশাচদের লালসার শিকার। সরকোরের স্বদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় আর্থিক সংকট কিংবা নানাবিধ কারণে সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন থামানো যাচ্ছেনা। তবে নির্যাতিত এ সব নারী ও শিশুদের সাহায্যার্থে সরকার গঠন করেছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)। যেখানে সমাজের নির্যাতিত নারী ও শিশুরা সেবা পেয়ে থাকে।
দেশে অনেক জায়গায়ই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। যেমন সিলেটের ঝুমকা (ছদ্ম নাম)। বয়স মাত্র আট বছর। এই আট বছর বয়সী এই শিশু ঝুমকাকে ধর্ষণ করেছে তারই গৃহ শিক্ষক নামের নরপশু তেইশ বছর বয়সী কাউসার। সকাল বেলা নাস্তা দিতে গিয়ে কাউসারের ধর্ষণের শিকার হয় ঝুমকা। পরে ঝুমকা তার মাকে সব ঘটনা জানালে তার মা জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম কাউসারকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে ঝুমকা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। ঝুমকার মায়ের একটাই দাবী-দোষী কাউসারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
২০১১ সালের ৫ আগস্ট রাহেলার সাথে ৪৫,০০০ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় আকমলের সাথে। বিয়ের সময় মেয়ে জামাইকে নগদ ৩০,০০০ টাকাসহ ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্র যৌতুক দেয় রাহেলার বাবা। দু’জনই ঢাকায় গার্মেন্টস কর্মী। প্রথম সন্তানের জন্মের পর রাহেলা চাকরী ছেড়ে দেয় এবং পরে আকমল তাকে সন্তানসহ বাড়ী পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু কয়েক মাস পরই আকমল ব্যবসা করার জন্য রাহলোর বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবী করে। কিন্তু রাহেলার গরীব বাবা টাকা দিতে না পারায় আকমল আর তার মা মিলে শুরু করে রাহেলার উপর অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাহেলা মামলা করে স্বামীর বিরুদ্ধে। এরপর তার দুই মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ী চলে আসে রাহেলা। এরই মধ্যে রাহেলার অনুপস্থিতিতে আরেকটি বিয়ে করে আকমল।
এ ঘটনা জানতে পেরে আকমল আবার তার স্বামীর গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে জানতে চায়। এ সময় আকমল তাকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিবে বলে জানায়। কিন্তু রাহেলা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আকমল আর শাশুড়ি তার উপর আবার শুরু করে নির্যাতন। এসময় তার আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং তার ভাইকে খবর দেয়। ভাই এসে রাহেলাকে উদ্ধার করে এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করে।
পরে রাহেলা স্থানীয় এক থানায় স্বামী আকমলের বিরুদ্ধে আরো একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন হলেও অভিযুক্ত আসামী পলাতক রয়েছে।
এ পর্যন্ত সাতটি বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে এবং ফরিদপুরে ওসিসি স্থাপন করা হয়েছে। ‘মাল্টি সেক্টোরাল প্রোগ্রাম অন ভায়োল্যান্স এগেইনস্ট ওমেন’ এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এইসব সেন্টারে মূলত মহিলা ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ আইনি ও পুলিশি সহায়তা, ডিএনএ পরীক্ষা, মানসিক কাউন্সেলিং, আশ্রয় এবং সমাজে পুনর্বাসনের সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রকল্পটি বাংলাদেশ এবং ডেনমার্কের সরকারের সহযোগিতায় মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার চালু করেছে যার মাধ্যমে নিপীড়িত নারীদের কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়।
যেসব নারীরা হতাশার মধ্যে ভুগছে অথবা আত্মহত্যা করতে চাইছে, উদ্বিগ্ন অথবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সেসব নারীরা এখান হতে কাউন্সেলিং সেবা নিতে পারেন।
এছাড়াও যেসব মহিলা ও শিশু যারা নির্যাতনের শিকার তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার লক্ষ্যে সরকার চালু করেছেন জাতীয় হেল্প সেন্টার। নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও শিশুরা সরাসরি টোল ফ্রি ১০৯২১ এই নাম্বারে কল করে যেকোন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
ওসিসি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সমন্বয়ক ড. বিলকিস বেগম বলেন ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর হতে অনেক নারী এবং শিশু এই সেন্টার হতে সেবা গ্রহণ করেছেন। তাদের অধিকাংশই এসেছেন তাদের কোন না কোন অত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে। এদের অনেকেই পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে চাইত না ভয়ে।
তিনি বলেন, মহিলা ও শিশুদের সেবা দিতে সরকার সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৬০টি ওসিসি স্থাপন করেছে। যার মধ্যে ৪০ টি জেলা সদর হাসপাতালে এবং বাকী ২০ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
তিনি বলেন, ওসিসি সেলের কার্যক্রম চালু হয় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। আর ওএসসি সেল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও শিশুদের দ্রুত বিচার পেতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও যেসব নারী ও শিশু শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার, যৌন নির্যাতনের শিকার, অগ্নিদগ্ধ এবং এসিড নিক্ষেপের শিকার হওয়াদের নিয়ে কাজ করে ওসিসি সেল।
ওসিস’র প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, অধিকাংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন মূলত পরিবারে অশান্তি, পূর্ব শত্রুতা, জমি-জমা বিরোধ এবং যৌতুকের কারণে।
বাসস/ইউনিসেফ ফিচার/ফই/স্বব/০৯২০/আহো/-ওজি

 

ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় যুবক গ্রেফতার


নারী সংবাদ


রাজারহাটে মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক এক দাখিল পরীক্ষার্থী অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ৩০ নভেম্বর নিজ বাড়ি থেকে ওই ছাত্রী অপহরণের শিকার হয়। ওই ছাত্রী জেডিসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটিরত উপজেলার পূর্ব বালাকান্দি দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শিক্ষক নুরন্নবী সরকারের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর থেকে এক সন্তানের জনক নুরন্নবী ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে নুরন্নবী তার সহযোগীসহ অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ গত শনিবার রাতে অপহরণকারী নুরন্নবীর ছোট ভাই নুর আলমকে গ্রেফতার করে। তবে ঘটনার ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও অপহৃত ছাত্রী ও অপহরণকারীর সন্ধান পায়নি পুলিশ।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, অপহৃতাকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। সুত্র: সমকাল।

 

খেলনার বদলে শিশুর মোবাইল চাই!


নজরুল ইসলাম টিপু


শিশুর সারাদিনের কর্মব্যস্ততার প্রতি নজর রাখুন। দেখবেন সে পুরোদিন কাজ করে চলেছে। এটা হাত থেকে খসিয়ে নিলেন তো অন্যতা হাতে নিচ্ছে! আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, একজন সুস্থ-সামর্থ্য মানুষ একটি প্রাণ চঞ্চল শিশুর মত অনবরত কাজ করতে পারবে না…………
মানব শিশু দুনিয়াতে আসার কিছুদিন পরেই সে বুঝতে শিখে যে, তাকে সর্বত্র অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তখন সে খুশিতে আপ্লুত হয়। একপর্যায়ে দেখে, খাদ্য ও খেলনা সামগ্রীর ক্ষেত্রে সে অগ্রাধিকার পেলেও, কিছু ব্যাপারে তাকে সে অধিকার দেওয়া হয় না। বড়দের টস-লাইট, মোবাইল, ছুরি, দা, বটি ধরতে গেলে তাকে বারণ করা হয়। অথচ এটা ধরে দেখা ও কাজে লাগাতে তারও মন চায়। এটা আদায় করতে পরিস্থিতি অনুসারে সে দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে চায়। একটি হল জেদ করা অন্যটি হল আবদার করা। জেদের বিষয়টিতে পরে আসা হবে। তবে বেশীর ভাগ শিশুই কিন্তু আবদার করে।
শিশুর দুটি পদ্ধতির মধ্যে, আবদার করার পদ্ধতিটি হল মানবিয় পদ্ধতি। এটা শিশু জীবনের বড় ইতিবাচক দিক। সে ভালবাসা অর্জন করেই জিনিষটি হস্তগত করতে চায়। তখন সে বলতে থাকবে, “আমি তোমাদের ছোট না! তুমি আমার আপু না”! ইত্যাদি। এখানে সে স্বার্থ অর্জনের জন্য ভালবাসাকেই পূঁজি বানাতে চায়। দেখা যায় বড় জনেরা এই ধরনের আদরণীয় আবদারে ছাড় দিয়ে জিনিষটা কিছুক্ষণের জন্য হলেও তাকে দেয়। এখান থেকেই শুরু হয় শিশুর প্রথম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ। সে বুদ্ধি খাটিয়ে জিনিষ হস্তগত করার মানবিয় একটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করল।
কিছুদিনের মধ্যেই শিশু একটি পরিবর্তন বুঝতে পারে। সে দেখতে পায়, সর্বত্র ছোট বলে বাহানা দিলেও, কিছু জিনিষ হস্তগত হয়না! সে সব জিনিস শুধুমাত্র বড়দের জন্যই নির্ধারিত। সেই পরিস্থিতিতে শিশু ভিন্নভাবে ভাবতে শিখে। তখন সে বড় হবার ভাব নেয় এবং বড়দের আচরণ গুলো অবিকল অনুসরণ, অনুকরণ করে। বড়দের জুতো, স্যান্ডেল, চশমা, বস্ত্র পরিধানের কসরত করে। এটার মাধ্যমে সে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, সে এখন বড় হচ্ছে। অতঃপর সে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিষে হাত দিতে চাইবে। যখন বলা হবে তুমি এখনও ছোট, বড় হলেই এসব ধরা যাবে। শিশু তৎক্ষণাৎ বলে দিবে আমিতো বড় হয়েছি। ঐ যে স্যান্ডেল পড়া হল, চশমা লাগানো হল এসব তো বড় হবারই আলামত। শিশুর এই চরিত্রও মানবীয় গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
আমি-আপনি হয়ত এসব কে তামাশা মনে করছি। সে কিন্তু প্রতিটা ধাপকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে। তার মনের আয়নায় ধাপে ধাপে বহু স্বপ্ন গেঁথে পথ পরিক্রমায় ব্যস্ত। কোন একদিন দিয়াশলাই দিয়ে, মোমবাতি ধরানো হয়েছিল। এই স্মৃতিই তাকে পেরেশান করে ছাড়ছে। সে দিয়াশলাই আর মোমবাতির সন্ধানেই ব্যস্ত। সে তার মনের কথা বড়দের বুঝাতে পারছে না। এজন্য অগণিত চিন্তা ও কাজ তাকে সারাদিন কর্মব্যস্ত করে রাখছে। পাখির প্রয়োজনীয় লাফালাফি দেখে মানুষ নাচ বিবেচনা করে আনন্দ পায়। সেভাবে শিশুর এই সমস্ত অপ্রয়োজনীয় কাজকে খেলনা মনে করে; মা-বাবা, দাদা-দাদী আনন্দ পায়। কিন্তু চিন্তাশীল মানুষ দেখতে পায়, শিশু সারাদিন ভেবে চলেছে, কিভাবে নিজেকে বড় হিসেবে জাহির করা যায়, কিভাবে বড় হওয়া যায়।
শিশুর সারাদিনের কর্মব্যস্ততার প্রতি নজর রাখুন। দেখবেন সে পুরোদিন কাজ করে চলেছে। এটা হাত থেকে খসিয়ে নিলেন তো অন্যতা হাতে নিচ্ছে! আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, একজন সুস্থ-সামর্থ্য মানুষ একটি প্রাণ চঞ্চল শিশুর মত অনবরত কাজ করতে পারবে না! তার অবিরাম কাজের প্রেরণা, নতুন নতুন ইচ্ছা তাকে বড়দের হয়ে কাজ করতে আরো উদ্যমী করে তুলে। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে, যখনই তার কাঙ্ক্ষিত জিনিষ পেতে বাধা প্রাপ্ত হবে তখনই সে উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হবে। একটি শিশুর উত্তেজনা ও ক্ষিপ্রতা দুটোই উপরোক্ত জিনিষের আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকে। বাচ্চা দিনে দিনে উত্তেজিত হতে থাকলে এক পর্যায়ে এটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন সে জানতে শিখে, আবদার করলে যা পাওয়া যায় না; রুক্ষ ও বাজে আচরণ করলে তা সহজে পাওয়া যায়। শিশুর এই চরিত্র পিতা-মাতা কিংবা তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।
শিশুদের সঙ্গ দিলে রুক্ষ খাসিয়ত কম হয় কিংবা হয়ই না। অনেক শিশু এমনিতেই শান্ত থাকে, কর্মে দক্ষ হয়; যাদের ঘরে বেকার দাদা-দাদী থাকে! তারা শিশুদের অদৃশ্যমান অভাব পূরণে অনেক কাজে আসে। যদিও অধুনা অনেক পিতা-মাতা বুঝতে পারে না দাদা-দাদীর উপকারিতা কি? ওদিকে শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য অকাতরে টাকা খরচ করে নিজেরা সুখে থাকার জন্য। শিশুদের এই চিন্তার খোরাক জোগাতে কোম্পানিগুলো, শিশুদের চেনা-জানা জিনিষের বাহারি পণ্য নিয়ে বাজার সয়লাব করে দিচ্ছে। সে সব বস্তুর অনুকরণে প্লাস্টিক সামগ্রীর বিশাল খেলনা বাজার আজ দুনিয়া জোড়া বিস্তৃত হচ্ছে।
অনেক পিতা-মাতা হয়ত আশা করে এসব খেলার সামগ্রী সন্তানের মনোবৃত্তি গঠনে সহায়ক হবে। শিশুর চাহিদা সৃষ্টি কিংবা আবদার হবার আগেই তাদের খেলনা সামগ্রী কিনে দিচ্ছে। শিশুর আগ্রহ আছে কিনা সে বিবেচনাও তারা করছে না। কিন্তু দেখা গেছে প্রচুর খেলার সামগ্রীর বিপরীতে শিশু একটি মোবাইলের জন্য অনেক বেশী আগ্রহী হচ্ছে। এটা জন্য জেদ করা হচ্ছে, সাময়িক সমস্যা দূর করার নিমিত্তে মা-বাবা তার ইচ্ছা পূরণ করছে। এটাতেই শিশুর অভ্যাস বদলাচ্ছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জেদি শিশু পিতা-মাতার ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই হয়। শিশুরা বড়দের অনুসরণ করে দেখতে পায়, সবাই মোবাইল নিয়েই বেশী আগ্রহী, তাই তারাও সেটা হাতে নিয়ে দেখতে ও খেলতে চায়! তাকে মূল্যায়ন না করলেই বিপত্তির শুরু হয়।
শিশুকে যদি যথাযথ সঙ্গ দেওয়া হয় এবং সে দেখে, তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, দা, বটি, থালা-বাসন, মাস্তুল, পেরেক, করাত, পানের বাটি, হামান-দিস্তা দিয়ে একটা সময় পার করছে, তাহলে সেও সে সব সামগ্রীর প্রতি আকৃষ্ট হবে। দাদা-দাদীর সঙ্গ পেলে, শিশুরা কিছুটা হলেও ভিন্ন মাত্রার সঙ্গী পেত। যদিও বর্তমানের গৃহীনীরা দাদা-দাদীকে উপদ্রব কিংবা ঘরের চাকরানীর বিকল্প মনে করে। তাই দিনের একটি বিরাট সময় শিশুরা সঙ্গ বিহীন থাকে। আমরা যেভাবে লুডুর মত তুচ্ছ খেলা খেলতেও দু’জনের সান্নিধ্য চাই, সেভাবে শিশুরাও বড়দের সঙ্গ এবং জীবনোপকরণ দুটোকে একসাথে পেতে আশা করে। এর একটির অভাবেই শিশু একমুখো, জেদি ও বদমেজাজি হয়ে বেড়ে উঠবে। এটা প্রতিকারে তাকে যত টাকার খেলনাই সরবরাহ হউক না কেন, কোন কাজেই আসবেনা।

 

শিশুর পুষ্টিতে বুকের দুধের বিকল্প নেই


নারী সংবাদ


আজকের শিশুই আগামীর ভবিষ্যত। সুতরাং সুন্দর আগামীর জন্য প্রতিটি শিশুকে হড়ে তুলতে হবে স্বযতেœ। জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিটি শিশুকে দিতে হবে সুষম খাদ্য। তবে বিশেষ করে জন্মের পর পরই প্রতিটি শিশুর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মায়ের বুকের দুধ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ অনেকেই সমাজের নারীরাও ব্যস্ত। তাদেরকেও অনেককেই অফিস কিংবা কর্ম ক্ষেত্রে যেতে হয়। যে কারণে অনেক মা-ই সন্তানকে ঠিক মত বুকের দুধ দিতে পারেন না, নির্ভর করতে হয় বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কৌটা কিংবা প্যাকেট দধের ওপড়। তাদেরই একজন নাইমা খাতুন। একটি বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা। দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে থাকেন তাই ‘পুষ্টি নিশ্চিত’ করতে পাঁচ মাসের ছেলেকে গুঁড়োদুধ খাওয়ান নাজমা। বাচ্চাকে যে ব্র্যান্ডের দুধ তিনি খাওয়ান, সেটির নাম নেসলে ল্যাক্টোজেন-১। এর প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে ‘জন্ম থেকে দেয়া যায়’! প্লাস্টিকের যে ফিডারে করে নাইমার বাচ্চা দুধ খায়- সেটির গায়ে বড় করে লেখা ‘ফর এ্যাঞ্জেল’ (দেবশিশুর জন্য)! এমন চটকদার বিজ্ঞাপন এবং ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে নাজমার মতো অনেক অভিভাবকই তাদের আদরের সন্তানদের মুখে তুলে দিচ্ছেন বিকল্প শিশুখাদ্য। বাড়ছে গুঁড়োদুধ খাওয়া শিশুর সংখ্যা। অথচ এই শিশুরা ভুগছে অপুষ্টিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমছে তাদের। আর অভিভাবকদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে এ সংক্রান্ত আইনকেও ‘বুড়ো আঙ্গুল’ দেখাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে শিশুদের জন্য কৌটা বা প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধ, অন্যান্য খাদ্য ও সরঞ্জামাদির প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপন বা প্রচারের ক্ষেত্রে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । ২০১৩ সালের এ সংক্রান্ত আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, প্যাকেট ও কৌটাজাত পণ্যের গায়ে লেখা থাকতে হবে ‘শিশুর জন্য মায়ের দুধের সমতুল্য বা শ্রেষ্ঠতর কোন খাদ্য নেই।’ আরও লেখা থাকতে হবে ‘এই (কৌটা/প্যাকেট) খাদ্য সম্পূূর্ণ রোগজীবাণুমুক্ত নয়। এটা খেলে শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আছে।’ বিকল্প শিশুখাদ্য বিপণন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দেশনা। তবে রাজধানীর বিভিন্ন সাধারণ দোকান ও সুপার শপে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বিকল্প শিশু খাদ্য ও সরঞ্জামের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতারা এসব নির্দেশনা মানছেন না। এ বিষয়ক আইন সম্পর্কেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেউ তেমন কিছু জানেন না। শিশু স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর আইনটির প্রচার বিষয়েও নেই কোন সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগ। তাই ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য বিক্রয় ও বিপণন’ নামের এ আইন যেন অনেকটা কাগজেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর হয়ে গেলেও বিকল্প শিশুখাদ্য আইনের তেমন প্রচার নেই। তাই না জেনেই দোকানে এসব গুঁড়োদুধ ও অন্যান্য খাদ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন সাধারণ দোকানীরা। একই সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন সুপার শপে। শিশুর মা-বাবাসহ অভিভাবকরাও মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে এসব খাদ্যের বিষয়ে সচেতন নন। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, জন্মের পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য শ্রেষ্ঠ পুষ্টিকর খাদ্য। বিকল্প হিসেবে গুঁড়ে াদুধ শিশুর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ দুধ নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়, শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। বাজারে সাধারণত দুই ধরনের বিকল্প শিশুখাদ্য পাওয়া যায়। একটি শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য ‘বিশেষ ফর্মুলায়’ তৈরি গুঁড়োদুধ। অন্যটি ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার হিসেবে দেয়া ‘ফর্মুলা ফুড’।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমনিতে যে কোন খাদ্যে পুষ্টিগুণ থাকলে তা মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে। কিন্তু দুই বছর পর্যন্ত বাচ্চার বিকাশের জন্য বিকল্প শিশুখাদ্যের কোন গুরুত্ব নেই। এজন্য মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। মায়ের বুকের দুধে যে পুষ্টি আছে, এর কাছাকাছি পুষ্টি অন্য কোন খাবারে নেই। তবে মায়ের অসুস্থতা বা মা এমন কোন ওষুধ খাচ্ছেন, যাতে শিশুকে বুকের দুধ দেয়া যাবে না- এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
জন্মের পর শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে সারাবিশ্বে। ১৯৮১ সালে জেনেভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মায়ের দুধের বিকল্প খাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা তৈরি করে, যা ‘ইন্টারন্যাশনাল কোড অব মার্কেটিং অব ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউটস’ নামে পরিচিত। সেই নীতিমালার আলোকে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্য (বিপণনের নীতিমালা) আইন’ প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর আইনটি সংশোধন করা হয়। পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিকল্প খাদ্যের বিপণন নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে আইনে।
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) নিজস্ব উদ্যোগ এবং সরকারের সহযোগিতা নিয়ে বিকল্প শিশুখাদ্যের বিপণন কার্যক্রম তদারক করে থাকে। বিবিএফের চেয়ারপার্সন ডাঃ এস কে রায় বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ শিশু জন্মায়। তাই বছর ঘুরতেই দুই বছর বয়সী বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লাখ। এই বিপুল সংখ্যক শিশুর প্রত্যেককে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকদেরই এ বিষয়ে অসচেতনতা রয়েছে। তাছাড়া আইনের প্রচার ও সচেতনতা কার্যক্রম লোকবল ও অর্থ বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে। সরকার বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ সংক্রান্ত প্রচার বাড়ানোর জন্য বিবিএফ এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান পাঁচ বছর মেয়াদী একটি কর্মকৌশল তৈরি করছে বলে জানান তিনি। সুত্রঃ বাসস।

 

প্রতিবেশিনী….৬


আফরোজা হাসান


“একরাশ অভিযোগ ভরা কন্ঠে কাঠকে উদ্দেশ্যে করে পেরেক বলল, তুমি আমাকে অনেক ব্যথা দিচ্ছো, আমাকে আহত করছো। জবাবে পেরেক বলল, তুমি যদি আমার মাথায় হাতুড়ির আঘাত দেখতে তবে আমাকে ক্ষমা করতে।” রুপক হলেও এই উক্তিটিতে পেরেক আর কাঠের কথোপকথনটুকু ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। অনেক সময়ই প্রিয়জন, কাছের বা দূরের কারো কথা, কাজ ও আচরণ আমাদেরকে কষ্ট দেয়, ব্যথিত করে। তাদের উপর অভিযোগ, অভিমান করার আগে একবার অন্তত তাদের পরিস্থিতি দেখা ও বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আমার অভিজ্ঞতা বলে সম্পর্ক কাছের হোক কিংবা দূরের কাউকে কোন ব্যাপারে দোষারোপ কিংবা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করার আগে একবার অন্তত তার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এই চেষ্টা বেশিরভাগ সময়ই সম্পর্কের মাঝে অকারণ কিংবা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারণে দুরুত্ব ও তিক্ততা তৈরির পথকে রুদ্ধ করে। তোমার কি মনেহয়?

আমার মনেহয় আপনি সারাক্ষণ আমাকে অনুসরণ করেন, চোখে চোখে রাখেন।

মাহামের জবাব শুনে হেসে ফেললো আয়ান। হাসতে হাসতে বলল, মেয়েদের এই আরেক সমস্যা। হাজবেন্ড চোখ না রাখলে অভিযোগের শেষ থাকে না। আবার চোখে চোখে রাখলেও সীমাহীন বিরক্তির উদ্রেক হয়।

ভারসাম্য বলেও তো জগতে একটা জিনিস আছে। মধ্যমাবস্থা যাকে বলে। ছেলেদেরও আরেক সমস্যা হলো তাদের মাঝে এই মধ্যমাবস্থা নেই। কেউ কেউ আছে বৌয়ের দিকে চোখ ই রাখেনা। আর কেউ কেউ চোখ মোটে সরায় ই না।

তাহলে এখন করণীয় কি?

করণীয় হচ্ছে চোখ রাখতে হবে, পলক ফেলতে হবে এবং ভাবুক চোখ আকাশ-বাতাস, চাঁদ-তারা, ফুল-পাখী ইত্যাদিও দেখতে হবে।

কিন্তু কেউ কেউ যদি আকাশ-বাতাস, চাঁদ-তারা, ফুল-পাখী সবকিছুই তার স্ত্রীর ভেতর দেখতে পায়। তাহলে?

হেসে ফেললো মাহাম। জবাব না দিয়ে হাসতে হাসতে রান্নাঘরে রওনা দিলো।রান্নাঘরে ঢুকে বাটিতে অনেকগুলো পেঁয়াজ মাঝখান থেকে কেটে ভিজিয়ে রাখা দেখে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তার পেছন পেছন এসে রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়ানো আয়ানের দিকে তাকালো।

রান্নাঘরের ভেততে ঢুকতে ঢুকতে আয়ান বলল, অনেক করেছি কিন্তু আর সম্ভব না পেঁয়াজের সাথে তোমাকে শেয়ার করা।

মানে?

মানে আমার জীবনের সবচেয়ে বিমুগ্ধকর মূহুর্তগুলোর একটি যখন আমার ভালোবাসাকে তোমার চোখে প্রাপ্তির অশ্রু রুপে ঝরতে দেখি। তোমাকে কাঁদাতে চাই না কখনোই। কিন্তু যখন আমার কোন কথা বা কাজের ফলশ্রুতিতে তোমার চোখে আনন্দাশ্রু দেখি তখন নিজের প্রাপ্তির ভান্ডারকে আরো সমৃদ্ধ মনেহয়। তোমার চোখের আনন্দাশ্রু শুধু আমার একার। এতে আর কারো কোন অধিকার নেই।

মাহাম হেসে বলল, কিন্তু এরসাথে পেঁয়াজের কি সম্পর্ক?

সম্পর্ক হচ্ছে প্রায় দিনই আমরা দুজন গল্প করতে করতে রান্না করি। তুমি তখন মোটেই ব্যথিত থাকো না। বরং অনেক আনন্দে থাকো। সেইসব আনন্দের মূহুর্তে তোমার চোখ থেকে অশ্রু আমার কারণে ঝরে না। ঝরে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে। এটা আমার পক্ষে কিছুতেই মেনে নেয়া সম্ভব না। আমার অধিকারহরণের শাস্তি স্বরুপ তাই মাথা কেটে দুই ফালি করে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে পেঁয়াজকে।

মাঝেমাঝে কিছু কর্মকাণ্ড দেখলে তোমাকে ছোট্ট বাবু মনেহয়। হাসতে হাসতে বললো মাহাম।

মাহামকে কাছে টেনে নিতে নিতে আয়ান বলল, যেসব কর্মকাণ্ড দেখতে আমার বৌ মন খারাপ ভাব ছেড়ে এমন মনের আনন্দে হাসবে। সেসব কর্মকাণ্ড করার জন্য ছোট্ট বাবু হতে আমার কোন আপত্তি নেই।

শাবাবের বাসা থেকে আসার পর থেকেই দেখছি নানান কথা বলে তুমি মন ভালো করার চেষ্টা করছো। আমার মন খারাপ কে বললো?

সে কি তুমি জানো না কে বলেছে? মাহামের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বিস্ময় মাখা কন্ঠে উল্টো প্রশ্ন করলো আয়ান।

শাবাব বলেছে? কিন্তু বাবা মামণির কথা ভেবে হঠাৎ আমার খুব মনখারাপ লাগছে সেকথা তো শাবাবকে বলিনি আমি। বললে শাবাবেরও মন খারাপ হতো।

আমাকেও শাবাব বলেনি।

তাহলে?

তুমি আর আমি ছাড়াও এই ফ্ল্যাটে যার অস্তিত্ব বিদ্যমান সে বলেছে।

তুমি আর আমি ছাড়া এই ফ্ল্যাটে তো আর কেউই থাকে না।

থাকে থাকে। তুমি হয়তো খেয়াল করোনি।

থাকে? কে থাকে? আমি খেয়াল করিনি মানে? আমার অজ্ঞাতে আমার বাসায় কেউ কিভাবে থাকবে? বিস্মিত কন্ঠে প্রশ্ন করলো মাহাম।

তোমার অজ্ঞাতে তোমার বাসায় কারো থাকাটা অসম্ভব হলেও, সে সম্ভব করে নিয়েছে।

কিন্তু সে কে?

তোমার আচরণ।

এতক্ষণের বিস্ময়, উত্তেজনা মূহুর্তেই মিলিয়ে গেলো মাহামের। হেসে ফেললো। আয়ানও হেসে বলল, কি তুমি আর আমি ছাড়া তার আলাদা অস্তিত্ব নিয়ে এখন নিশ্চয়ই আর দ্বিমত নেই?

দ্বিমতের তো প্রশ্নই আসে না। একইসাথে তোমার রসবোধের অস্তিত্বেও দ্বিমত নেই।

দাম্পত্য জীবনে রসবোধের প্রয়োজনীয়তা কিন্তু অপরিসীম। অনেক কঠিন বিষয়কেও রসে কোট করে সহজ করে তোলা যায়। এটাও একটা আর্ট। লাল মোহন মিষ্টির কথাই ধরো। তেলে ভাজার পর কেমন কালচে আর শক্ত থাকে। অথচ রসে দেয়া মাত্রই কি চমৎকার নরম ও সুস্বাদু হয়ে যায়। দেখতেও কত লোভনীয় লাগে। শুকনো, বিমর্ষ সম্পর্ককেও এমন ভালোবাসা, সমঝদারির রসে ভিজিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।

আমার বাবা এই শিল্পে খুবই দক্ষ একজন শিল্পী। এই শিল্পে আমার গুরু কিংবা আইডলও বলতে পারো।

সেজন্যই মনেহয় বাবার ছেলেও মাশাআল্লাহ বিরাট দক্ষ এই শিল্পে। হাসতে হাসতে বললো মাহাম।

আয়ানও হেসে বলল, মার রাগ, বিরক্তি, ক্লান্তিকর মূহুর্তগুলোকে বাবা এত চমৎকার করে রাঙিয়ে দিতেন। সেসব দেখে তখন থেকেই আমার শখ ছিল আমিও ওমন সঙ্গী হবো আমার স্ত্রীর তরে।

সন্তানদের উপর বাবা-মার দাম্পত্যজীবনের প্রভাব অনেক বেশি তাই না? সুখী, সমঝদার দম্পতিদের সন্তানরা স্বভাবগত ভাবেই অনেক সমঝদার, হাসিখুশি হয়। অন্যকে সম্মান দিতে জানে, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা নিয়ে পাশে এসে দাঁড়াতে জানে অসহায় মূহুর্তে। ভালোবাসতে জানে ভালোবাসার মতো করে। অপরদিকে বাবা-মার নিত্য কলহ দেখতে দেখতে যেসব ছেলেমেয়েরা বড় হয়, তারা নিজেদের অজান্তেই ঐ সমস্ত নেতিবাচক গুণ নিজ চরিত্রে ধারণ করে ফেলে। নাজমুল ভাইয়ের সাথে মনেহয় এমনটাই ঘটেছে। ইলমা একদিন বলেছিল ওর শ্বশুর নাকি এখনো সামান্য কারণেই ওর শ্বাশুড়ির গায়ে হাত তোলেন। নাজমুল ভাই বাবা-মায়ের এসব দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখতে দেখতেই বড় হয়েছে। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা, অসম্মানজনক কথা বলা, মানুষের সামনে স্ত্রীকে হেয় করা ইত্যাদি তাই স্বাভাবিক অবস্থায় উনার কাছে খারাপ কিছু মনেহলেও, রাগের সময় খুব স্বাভাবিক ভাবে নিজেই এই কাজগুলো করতে পারে।

তুমি এখনো ইলমা আর নাজমুলকে নিয়েই ভাবছো? কারো সমস্যা শুনে নিজেই যদি মন খারাপের চাদর জড়িয়ে বসে যাও, তাহলে সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে কি করে? আগামীকাল তো ইনশাআল্লাহ দেখা হচ্ছেই আমাদের সবার। তখন আলোচনা করা যাবে এই বিষয়ে। এখন তাই ইলমা আর নাজমুলের ভাবনা ছেড়ে এমন কিছু ভাবো যাতে তোমার মনে ভালো লাগা গুঞ্জন তুলবে। অনেকদিন তোমার গল্প লেখার বিষয়ে কিছুই বলছো না। নাকি অবসর অন্য কোন ভালো লাগা খুঁজে নিয়েছে লেখালেখির বদলে?

মাহাম হেসে বলল, না অন্য কোন ভালো লাগা খুঁজে নেয়নি অবসর। তাছাড়া নিজের ভাবনাদের শব্দের ফ্রেমে বেঁধে রাখাটা আমার কোন শখ কিংবা শুধুই ভালো লাগা না। লিখতে আমি ভালোবাসি। ঠিক যেমন করে বৃষ্টি ভালোবাসি, জোছনা ভালোবাসি, প্রকৃতির সান্নিধ্য ভালোবাসি। তবে আমিও অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম নতুন কোন গল্প লেখার কথা। জীবনের গল্প। পরিবারের গল্প। পরিবারের সাথে জড়িয়ে থাকা মায়াময় বন্ধনের গল্প। সেইসব মায়াবী বন্ধনের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ঢেউ, চড়াই-উৎরাই, আশা-নিরাশা, তিক্ততা-মিষ্টতার গল্প। যে গল্পে থাকবে জীবনের সমস্ত রঙ, রুপ, আলো-ছায়ায় সংমিশ্রণ। যে গল্প চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, সরলতা, কোমলতা, স্বিগ্ধতায় ফুল ফোটাবে মন বাগিচায়। যে গল্প অজানতেই ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলবে এক চিলতে হাসি, কখনো ঝরে পড়বে দু’ফোঁটা অশ্রু রূপে। অমাবস্যার ঘোর আঁধার পেরিয়ে, সুবহে সাদিকের সন্ধানে অক্লান্ত পথ চলে সুহাসিনী ভোরের স্বপ্ন দেখাবে যে গল্প। যে গল্প আশা জাগানিয়া গান শুনিয়ে উন্মুক্ত করবে রুদ্ধ মনের আলোকিত বাতায়ন।

তাহলে আর দেরি কেন যতদ্রুত সম্ভব শুরু করে দাও তোমার গল্প লেখা।

ইনশাআল্লাহ শুরু করবো। কিন্তু তারআগে আগামীকাল মেহমান আপ্যায়নের আয়োজন শুরু করি। শাবাবের বাসা থেকে ফোন দিয়েছিলাম ইলমাকে। বলেছে রাত পোহালেই নাকি হাজির হয়ে যাবে। সকালের নাস্তা করবে আমাদের সাথে, দুপুরে খাবে, বিকেলে আবারো নাস্তা করবে, এরপর রাতের খাবার খেয়ে তবেই যাবে। অবশ্য বিকেলের নাস্তা আর রাতের খাবারের আয়োজন শাবাব আর আরিফী ভাইয়া করবে বলেছে। আমাদেরকে শুধু সকাল আর দুপুরের আয়োজন করতে হবে।

ঠিকআছে। চলো তোমাকে সাহায্য করি।

এরপর দুজন মিলে গল্প করতে করতে মেহমান আপ্যায়নের আয়োজনে মনোযোগ দিলো।

পর্ব-৫

 

ফেসবুকে ভিডিও দেখে নির্যাতিত শিশু উদ্ধার গৃহকর্ত্রী গ্রেফতার


নারী সংবাদ


ফেসবুকে আছমা নামে ১২ বছরের নির্যাতিত এক শিশুর ভিডিও পোস্ট করেন এক ব্যক্তি। ভিডিওতে শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ওপর গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নজরে আসে। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মধ্য বাসাবো থেকে শিশু আছমাকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয় গৃহকর্ত্রী সেলিনা আক্তার শিলাকে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, মধ্য বাসাবোর ১৬৯/১ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় সেলিনা আক্তার শিলার বাসায় দেড় বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল আছমা। বাসার সব কাজ করলেও প্রায় প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো। বেধড়ক পেটানো হতো সামান্য ভুল-ভ্রান্তির কারণে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারান্দার গ্রিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আছমা। সে বলছে, গৃহকর্ত্রী তার গলা টিপে ধরে গলা কেটে হত্যা করে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। শিলার স্বামী চাঁদপুর আদালতের ক্রিমিনাল ল’ইয়ার। আছমার বাড়ি ময়মনসিংহে বলে জানা গেছে।

সবুজবাগ থানার ওসি আবদুল কুদ্দুস ফকির সমকালকে বলেন, নির্যাতিত শিশুটিকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় শিশুটির ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শুক্রবার সেই মামলায় গৃহকর্ত্রী শিলাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সুত্র : সমকাল।

 

অজ্ঞাত মহিলার গলাকাটা লাশ উদ্ধার


নারী সংবাদ


নওগাঁর আত্রাইয়ে একটি ডোবা থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত মহিলার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে বড়কালিকাপুর তিন নাম্বার সুইটগেটের নিচে ডোবা থেকে মহিলার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সকালে এলাকার লোকজন মহিলার লাশটি ডোবার পানিতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

আত্রাই থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মহিলার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুত্রঃ নয়াদিগন্ত।

 

শিশুর মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব


নারী সংবাদ


ছোট্ট সুমনের আজ অনেক মন খারাপ। স্কুলে অনুষ্ঠান চলছে, কিন্তু তার যাওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষক স্বয়ং তাকে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন। খুব সুন্দর গান গাইতে পারে বলে অনুষ্ঠানের তার বেশ কয়েকটি গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা চান না সে গান করুক। তাদের এক কথা- ছেলে পড়ালেখা করে বড় হয়ে ভালো চাকরি করবে। ছোট থেকেই গান বাজনা করে বখে যাবে, তা তারা কোনো ভাবেই হতে দেবেন না।
বাবা-মায়ের এমন ভাবনা থেকেই, ছোট্ট সুমনের মতামত গুরুত্ব পায় না! কিন্তু বাবা-মাকে সুমন কোনোভাবেই বোঝাতে পারে না যে তারও ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলতে একটা বিষয় আছে। কিন্তু বাবা- মাকে অনেক বলার পরও কোন লাভ হয়নি। উল্টো মার খেতে হয়েছে। এসবের কারণে পড়াশোনাতেও মন বসাতে পারে না সুমন। তার কিচ্ছু ভালো লাগে না!
আমাদের সমাজের অনেক শিশুর মধ্যেই রয়েছে সুমনের মত এমন মনে কষ্ট। পড়াশোনার বাইরেও যে বিশেষ গুণাবলীর দ্বারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় তা অনেক মা-বাবাই মেনে নিতে চান না। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে সমাজ বিজ্ঞানী ও নীতি-নির্ধারকেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সামাজিক বিকাশে ও সমাজের অমূল পরিবর্তন এবং উন্নতিতে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ সকলের মতামতসহ পূর্ণ অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজের সকলের মতো শিশুদেরও সমাজে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, রয়েছে অধিকার।
শিশুদের অংশগ্রহণের বিশেষ কয়েকটি অধিকারের মধ্যে রয়েছে অন্যের সঙ্গে অবাধে মেলামেশার অধিকার, তথ্য ও ধারণা চাইবার, গ্রহণ করার ও প্রকাশের অধিকার এবং মতামতের মূল্য পাবার অধিকার।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ধারা- ১২’তে শিশুদের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত সব বিষয়ের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে অবাধে মত প্রকাশের অধিকার দেয়া হয়েছে। সমগ্র বিশ্বের সাথে সাথে আমাদের দেশও এই অধিকার বাস্তবে রূপদানে উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুদিন আগেও তেমন অনুকূলে ছিল না।
এব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “অধিকাংশ স্বল্প শিক্ষিত কিংবা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত পরিবারগুলোয় প্রায় ক্ষেত্রেই শিশুদের অপরিণত হিসাবে মনে করে, তাদের মতামতকে খুবই কম গুরুত্ব দেয়া হয় অথবা আদৌ দেওয়া হয় না। শিশুরা তাদের মা-বাবা বা অভিভাবকের হেফাজতে থাকে এবং তারাই তার পক্ষে অধিকাংশ সিদ্ধান্তু গ্রহণ করেন। যা একেবারেই ঠিক নয়। ”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার ধরন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসস্থান বা কি ধরনের জীবন ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে সচরাচর তা নির্ধারণ করেন মা-বাবা বা অভিভাবক। অবশ্য শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্ত্ব শ্রেণী বা উচ্চ শ্রেণীর পরিবারে এর কিছুটা ব্যাতিক্রম লক্ষ্য করা যায়।”
সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূলে এসেছে।
শিশুদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রধান যে দিক, তা হলো সমাজের সকলের মাঝে এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। পরিবারের ভেতর অভিভাবকেরা যদি তার শিশু সন্তানটির মতামত বিবেচনায় নেয় এবং শিশুটি যদি বুঝতে পারে সংসারে তারও মতামতের একটি স্থান আছে, গুরুত্ব আছে তবে সেই শিশুটি পরবর্তিতে হয় বিচক্ষণ। তার চারিত্রিক গঠন ও মেধা বিকাশের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
দেখা যায়, পরবর্তীতে সে একজন দায়িত্ববান মানুষ হিসাবে সমাজে আত্মপ্রকাশ করে। শিশুর মত প্রকাশের স্বাধীনতা শুধুমাত্র শিশুর মেধার বিকাশ বা তার অধিকারের স্বার্থেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজ সংসার সর্বোপরি দেশও এর ফলে ভবিষ্যতে লাভ করে মেধাবী, দায়িত্বশীল এবং উদার মনোভাবাপন্ন একটি উন্নত জাতি।
কিন্তু শিশুটির মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুন্ন হলে এক সময় দেখা যায় যে সে তার অনাগ্রহের ফলে একজন স্বল্প শিক্ষিত, অদক্ষ ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সমাজে আত্মপ্রকাশ করে বা আদৌ সে এগুলোর কোনোটাই হয় না।
কাজেই শিশুদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার খর্ব না করে বরং তাদের মতামত প্রকাশে উৎসাহ দান এবং মতামতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে অভিভাবকসহ সমাজের সকলের আন্তরিক হওয়া একান্ত দরকার।

সুত্র: বাসস (খালিদ বিন আনিস)।

 

বাল্য বিয়ে রোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োগ


নারীকুল

সংবাদ


বাল্য বিয়ের কারণ, প্রতিকার ও করণীয় বিষয়ের আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বাল্য বিয়ে রোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা প্রয়োজন। আজ বুধবার জেলা ব্র্যাক অফিসে ফোকাসড গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) আয়োজন করা হয়।
জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মো: আকতারুল ইসলাম বাল্য বিয়ের কারণ, প্রতিকার ও করণীয় বিষয়ক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা সুলতানা, সাংবাদিক শাহাদুল ইসলাম সাজু, এ্যাড: আরাফাত রহমান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উমা রানী দাস, একতা মা ও শিশু কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নিলুফা জহুর লিলি, তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেব, সদর থানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল বাশার মন্ডল, মোহাম্মাদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, পারুলিয়া মসজিদের ঈমাম লুৎফর রহমান, তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসনুভা, নিকাহ রেজিষ্টার একরামুল হক ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
বাল্য বিয়ের কারণ, প্রতিকার ও করণীয় বিষয়ের আলোচনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সজাগ থাকার আহবান জানান।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা সুলতানা বলেন, বাল্য বিয়ে রোধে সরকার নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোরী ক্লাব গঠন কার্যক্রম চলছে এ ক্লাব বাল্য বিয়ে রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সুত্র: বাসস

 

শীতে মজাদার নাস্তার রেসিপি


ঘরকন্যা


চিকেন নাগেটস

উপকরণ
১. আধা কেজি মুরগির হাড় ছাড়া মাংস (কিমা নিতে পারলে ভালো হয়),
২. ৬ পিস পাউরুটি,
৩. ১ টি পেঁয়াজ,
৪. ২ টি ডিম,
৫. ১ কাপ ব্রেড ক্রাম্ব ( না থাকলে বিস্কিটের গুঁড়া বা কর্নফ্লেক্সের গুঁড়া),
৬. ১ কাপ ময়দা,
৭. স্বাদমতো লবণ,
৮. ১ চা চামচ আদা বাটা,
৯. ১/৪ কাপ পানি,
১০. ১/৪ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া।

প্রণালী

  • প্রথমে গ্রাইন্ডারে পাউরুটি ও মুরগির মাংস একসাথে দিয়ে কিমার মতো তৈরি করে ফেলুন বা গ্রাইন্ড করে নিন।
  • এরপর মাংসের মিশ্রনে ১ টি ডিম, আদা, গোলমরিচ গুঁড়া, পেঁয়াজ বাটা ও লবণ দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। মিশ্রন যদি অনেক নরম হয় তাহলে সামান্য ময়দা দিয়ে ভালো করে মেখে ছোটো ছোটো অংশে ভাগ করে নাগেটসের আকার দিন।
  • একটি ডিমে পানি দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এরপর প্রতিটি নাগেটস ডিমে ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বের উপরে গড়িয়ে আলাদা করে রাখুন।
  • একটি প্যানে ডুবো তেলে ভাজার জন্য তেল গরম করে নিন এবং নাগেটস তেলে ছেড়ে লালচে করে ভেজে তুলে নিন। যদি স্বাস্থ্যকর ভাবে খেতে চান তাহলে নাগেটসগুলো একটি বেকিং ট্রে তে সাজিয়ে উপরে সামান্য তেল ব্রাশ করে ২৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে লালচে হয়ে উঠা পর্যন্ত বেক করে নিন।

পরিবেশন
প্লেটে পরিবেশন করুন খুব সহজে তৈরি করা দারুণ সুস্বাদু এই ‘চিকেন নাগেটস’।

মাছের চপ

উপকরণ
১. যেকোনো মাছ (ভেটকি, রুই বা ইলিশ) পাঁচছয়টি বড় টুকরা,
২. আলু মাঝারি ৩টি,
৩. একটি বড় পাউরুটির টুকরা,
৪. পেঁয়াজ মিহিকুচি আধা কাপ,
৫. আদাবাটা ১ চা-চামচ,
৬. রসুনবাটা ১ চা-চামচ,
৭. কাঁচামরিচ-কুচি ১ টেবিল-চামচ,
৮. মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ,
৯. হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ,
১০. ধনিয়াগুঁড়া ১ চা-চামচ,
১১. ভাজা জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ,
১২. লবণ স্বাদমতো,
১৩. তেল ভাজার জন্য।

প্রণালি

  • মাছের টুকরাগুলো ভাপে সেদ্ধ করে কাঁটা বেছে নিতে হবে।
  • সেদ্ধআলু ভালোভাবে চটকে নিন।
  • এবার পাউরুটি পানিতে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিতে হবে।
  • তারপর মাছ, আলু, রুটি খুব ভালো করে মেখে নিতে হবে। একে একে তেল বাদে সব উপকরণ খুব ভালো করে মিশিয়ে হাতে পছন্দ মতো আকার দিন।
  • এবার গরম তেলে চপগুলো ছেড়ে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে হবে। হালকা বাদামী রঙ আসলে নামিয়ে নিলেই হল।

পরিবেশন
বাদামী রঙ আসলে নামিয়ে পরিবেশন করুন সস, কাচা মরিচ আর পিয়াজের সঙ্গে। মনে রাখবেন, খেতে মাছের চপের জুড়ি নেই।

সুত্রঃ বাংলাদেশি রেসিপি

 

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন


নারীর জন্য আইন


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল. বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা।
বাংলাদেশে ৪৬ জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এখন ৫৪টি৷ প্রতিটি জেলায় একটি করে ট্রাইব্যুনাল থাকার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি৷ আর এই ৫৪টি ট্রাইব্যুনাল এখন মামলা জটের কবলে৷ যেহেতু নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। সংবিধানের ২৬ নং ধারার ১, ২, ৩ ও ৪ নিম্নে আলোচনা করা হল:

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
২৬৷ (১) এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের জন্য প্রত্যেক জেলা সদরে একটি করিয়া ট্রাইব্যুনাল থাকিবে এবং প্রয়োজনে সরকার উক্ত জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করিতে পারিবে; এইরূপ ট্রাইব্যুনাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে৷

(২) একজন বিচারক সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে এবং সরকার জেলা ও দায়রা জজগণের মধ্য হইতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করিবে৷

(৩) সরকার, প্রয়োজনবোধে, কোন জেলা ও দায়রা জজকে তাহার দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবে৷

(৪) এই ধারায় জেলা জজ ও দায়রা জজ বলিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত জেলা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজও অন্তর্ভুক্ত৷

সুত্র:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,
bdlaws.minlaw.gov.bd

 

মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে মারধর, খুন্তির ছ্যাঁকা


নারী সংবাদ


নারীঘটিত অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ও যৌতুকের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা না দেওয়ায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ষষ্টি গ্রামের তিন সন্তানের জননী শিউলী আক্তার নেহাকে মারধর ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শিউলী এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে ষষ্টি গ্রামের খেরু শিকদারের ছেলে আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে শিউলি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিউলীকে নির্যাতন করে আসছিল স্বামী ও তার পরিবার। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে স্বামী ও স্বামীর পরিবারের অন্যরা মিলে শিউলীকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে শিউলীর দু’হাতে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয় তারা।

এ ছাড়া স্বামীর নারীঘটিত নানা বিষয়ের প্রতিবাদ করার কারণে তাকে মারধর করে আসছিল কুদ্দুস। তিন সন্তানের ভরণ-পোষণও ঠিকমতো দিচ্ছে না বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন শিউলী।

শিউলী জানান, ঘটনার দিন তার স্বামী ও তার দুই ভাই, শাশুড়ি, ভাইয়ের স্ত্রীসহ ৭ জন তার ওপর হামলা চালায়। স্বামীর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক হিসেবে টাকাগুলো তার বাবার বাড়ি থেকে আনতে চাপ প্রয়োগ করে। যৌতুকের টাকা দিতে পারবে না বলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে বেদম প্রহারের পাশাপাশি গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এতে তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে তার বাবার বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

শিউলীর বোন নাসরিন আক্তার জানান, নির্যাতনের পর শিউলীকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ডাক্তারের পরামর্শে মানিকগঞ্জ থেকে সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন বোনের স্বামী ও তার পরিবার তাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন বলে জানান তিনি।

মানিকগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, ওই রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে খুন্তি আগুনে পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তলপেট ও শরীরে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

হরিরামপুর থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, শনিবার এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

যৌতুক ও স্বামীর অপকর্মের প্রতিবাদ
মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে মারধর, খুন্তির ছ্যাঁকা সুত্রঃ সমকাল

 

ভাল প্যারেন্টিং এর জন্য ৫টি টিপস


প্যারেন্টিং


প্যারেন্টিং হচ্ছে শিশুর শারীরিক, জ্ঞানীয়, বুদ্ধি ও আবেগকের যথাযথ বিকাশের মাধ্যম, যে যে বয়স সেই বয়স অনুযায়ী সঠিকভাবে প্রকাশ করছে কিনা, সঠিক আবেগ নিয়ে বড় হচ্ছে কিনা, তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হচ্ছে কিনা সে বিষয়গুলো প্রতি খেয়াল রাখা এবং পরিচর্যা করা। মুলত কঠিন ধৈর্য ও পরিশ্রমের অপর নাম হল গুড প্যারেন্টিং।

১. মডেলিং (Modeling)
শিশুর আচরণ নির্ভর করে সে যে পরিবেশে বড় হয়, বাস করে, যাদের সাথে থাকে এবং মেলামেশা করে। সুতরাং মডেলিং হল এগুলোর ওপর এবং শিশুর চারপাশের মানুষেরা হল মডেল।

২. অফুরন্ত ভালবাসা (Loving)
শিশুকে অপরিসীম ভালোবাসার মতো এত চমৎকার আর দ্বিতীয় কোন বিষয় আর নেই শিশু শিক্ষায় সব কিছুই ভালবাসা আর যত্নে হলেই শিশু সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে।

৩. ইতিবাচক প্যারেন্টিং (Positive parenting)
শিশুর প্রতি সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মনোভাব নিয়ে আগলে রাখা দরকার। কারণ শিশুর আত্মসম্মানবোধের জন্ম হয় ইতিবাচক ধারণা থেকেই। ইতিবাচকতা শিশুর মননের পরিচর্যা ভুমিকা রাখে।

৪.যোগাযোগ কার্যকর হওয়া (Communicating)
শিশুর ভাল-মন্দে কোন একটা আলোচনায় যোগ দিতে গেলে আগে শোন দরকার। হুট করে কোন মন্তব্য করা বোকামির কাজ। মূল বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করা। তারপর শিশুর মনোভাব বুঝে কথা বলার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা।

৫. দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতি খেয়াল রাখা (Keeping Perspective)
সন্তানের ভাল-মন্দে পাশে থাকা এবং খেয়াল রাখা। বকা-ঝকা নয় বরং শিশুদেরকে আনন্দের মাঝে রাখা দরকার। কোনো কাজে বাধা না দিয়ে বা কোন কাজ খুবই জোর করে শিশুকে করতে বাধ্য না করে ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি খেয়াল রাখা

ভাল প্যারেন্টিং বলতে আসলে বুঝায়, বাচ্চার প্রতিটি পদক্ষেপ সজাগভাবে পর্যবেক্ষন এবং তার সব রকম উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
সুত্রঃ Parenting For Brain.

 

রৌমারীতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারল স্বামী ও সতিন


নারী সংবাদ


রৌমারীতে স্বামী ও সতিনের বিরুদ্ধে সখিতন ওরফে জোসনা নামে এক গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী ও সতিন দু’জনই পলাতক। শনিবার রাতে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামে শনিবার রাতে সখিতন ওরফে জোসনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তার শরীরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। পরে আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বিশ্বাস জানান, নিহত জোসনা বেগমের শরীরের ৮৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তারা শনিবার রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেছিলেন; কিন্তু রোগীর আত্মীয়-স্বজন তাকে নিয়ে যাননি।

জোসনার বোন তারাবানু বলেন, সতিনের ঘরে থাকতে না পেরে তার বোন জোসনা ঢাকায় একটি গার্মেন্টে চাকরি করছিলেন। স্বামী সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে তাকে ফুসলিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে নিয়ে আসে। জোসনা বাড়িতে এলে তার কাছে টাকা চায় সাইফুল ও তার ছোট স্ত্রী মুনিকা। তার বোন টাকা দিতে না চাওয়ায় শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে সাইফুল ইসলাম ও সতিন মুনিকা মিলে তার বোনের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) শহীদ সরোওয়ার্দী জানান, ওই গৃহবধূর গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সুত্র: ইত্তেফাক।

 

অধ্যাপিকা চেমন আরা


অপরাজিতা


অধ্যাপিকা চেমন আরা সুসাহিত্যিক, ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ সমাজসেবক, সুগৃহিণী, আদর্শ মা,নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীণ পাঞ্জেরী। এ সমস্ত বিশেষণই তাকে বিশেষায়িত করা যায়। তিনি ৪৭ এর ভারত বিভাগ দেখেছেন, ৫২ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ‘৭০ এর নির্বাচন আর ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এ সমস্ত ঘটনার দীপ্যমান স্বাক্ষী হয়ে রয়েছেন।

জন্ম পরিচয়: অধ্যাপিকা চেমন আরা ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত এবং ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রসারে তাদের পরিবারটি উনিশ শতকে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। তার পূর্ব পুরুষ সুফি, পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা মওলানা আবুল হাসান। এবং তার পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী বংশ পরস্পরায় ধর্মীয় সামাজিক ও শিক্ষা জগতে অনন্য গৌরবের অধিকারী। তার পিতা এ.এস. এম. মোফাখখার ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতা হাইকোর্টের কতিপয় মুসলিম আইনজীবিদের অন্যতম। তিনি রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী ছিলেন। পিতামাতার পাঁচ পুত্র ও চার কন্যার মাঝে অধ্যাপিকা চেমন আরা তৃতীয়। মা দোরদানা খাতুন ও দাদী আছফা খাতুনের স্নেহ আর তত্ত্বাবধানেই ধর্মীয় পরিবেশ ও শিক্ষিত পারিবারিক ঐতিহ্যে তার শৈশব অতিবাহিত হয়েছে।

অপরাজিতা: আপনার শৈশবের দিনগুলো কি এখনও আপনাকে নাড়া দিয়ে যায়? কেমন কেটেছে আপনার শৈশব?
চেমন আরা: অবশ্যই! এক কথায় বলা যায় আমি তো রাজকীয়ভাবে আমার শৈশবকে উপভোগ করেছি। আমাদের ছেলেবেলা ধর্মীয় পরিবেশে লেখাপড়ার পরিবেশে, সাংস্কৃতিক পরিম-লে কেটেছে। ধর্মীয় গোড়ামী বা কুসংস্কার ছিলো না। আমরা প্রতিদিন ভোরে উঠে নামাজ পড়ে আমপড়া পড়তে বসতাম। এরপর গোসল করতে পুকুরে যেতাম। সেখানে ছেলে মেয়েদের আলাদা ঘাট ছিলো। দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষে আমরা একটু ঘুমিয়ে নিতাম। তারপর বিকালের অবসরে বাড়ির আঙ্গিনায় মা, দাদীর সাথে সবজি বাগানের পরিচর্যা করতাম। তখন একটা বিষয় এমন ছিলো যে, আমরা ছোটরা সবসময় বড়দের সম্মান করতাম। তাদের অবধি হব এটাই ভাবাই যেতো না।

অপরাজিতা: তখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপট আর আজকের প্রেক্ষাপটকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ণ করবেন?
চেমন আরা : সেকালের আর একালের সামাজিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে অনেক বেশি পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করি। আমার সময়টায় ভাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা, পাড়া-পড়শীর অভিভাবক সূলভ ব্যবহার ইত্যাদি সব ছিলো। আর এখন আমরা পাশের ফ্ল্যাটে কে আছে তাই জানি না। সামান্য স্বার্থের কারণে হত্যা, খুন, অনৈতিকতা ইত্যাদির যেন সঅয়লাব শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সময় ছোটদের প্রতি স্নেহ, আদর, শাসন যেমন ছিলো তেমন আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা বড়দেরকে তাদের সমান আর মর্যাদার আসনে বসিয়ে রাখতাম। এক কথায় বলা যায় এখন যেমন ঐশী তৈরি হচ্ছে তশ ঐশী তৈরির হওয়ার মতো কোন পরিবেশেই ছিলো না। শান্তি,স্থিতি আর নিরাপত্তা ছিলো। ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা ছিলো।

অপরাজিতা: ‘চল্লিশের দশকে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে হিন্দু মেয়েরা ছিলো এগিয়ে আর মুসলিম মেয়েরা পিছিয়ে’ এ বিষয়টি আপনি কেমন দেখছেন?
চমেন আরা : আমি ম্রেট্রিক পাশ কোন দেখি নাই। হ্যা বিষয়টি এমনই ছিলো। হিন্দু মেয়েরা দল বেঁধে স্কুলে যেত। মুসলিম মেয়েরা শুধু চিঠি পড়ে আর আরবী কোরআন শরীফ পড়া এতটুকুই শিখতো। ওরা বাহে নামা নামক একটি বই পড়তো কিন্তু আমাদের পরিবারে মেয়েদের শিক্ষিত হওয়া উচিত এই দৃষ্টিভঙ্গিই ছিলো। আমায় বাবা সবসময় বলতেন তোমরা কি করছো। পড়ালেখা শিখছো না কেন?
হিন্দু মেয়েরা বড় এগিয়ে যাচ্ছে। তোমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। তবে তখন মুসলিম মেয়েদেরকেও যে লেখাপড়া শিখে এগিয়ে যেতে হবে এ উপলব্ধিটা সবার মধ্যে সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো।
চেমন আরার শিক্ষাজীবন : অধ্যাপিকা চেমন আরার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি মা দোরদানা খাতুন ও দাদি আছফা খাতুনের কাছে। তিনি ১৯৪১ সালে চট্টগ্রাম শহরের গুল-এজার বেগম স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে ঐতিহ্যবাহী কামরুন্নেসা উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৫৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অনার্স ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে বি.এ অনার্স এবং পরের বছর এম. এ পাশ করেন।
অধ্যাপিকা চেমন আরা যখন ইডেনে আই.এ পড়ছিলেন তখনই সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

অপরাজিতা: ভাষা আন্দোলনে আপনার অংশগ্রহণটা কিভাবে হয়েছিলো।
চেমন আরা : আমি তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমসহ তমুদ্দন মজলিশের অন্যান্য কর্মীর সাথে পরিচিত হই এবং এ সংগঠনের কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ি। মূলতঃ আমার বাবার সুবাদেই । কারণ ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তৎকালিন সরকার সংখ্যারিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বাংলাকে অগ্রাহ্য করে উর্দূকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রচেষ্টা চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন অধ্যাপক আবুল কাশেম সমমনা তরুন যুবকদের সংগঠিত তরে ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশের পক্ষ থেকে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দূ না বাংলা’ শীর্ষক ১৮ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম প্রকাশ করেন ভাষা আন্দোলনের মুখপাত্র ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’। তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী হওয়ায় বিভিন্ন পরামর্শের জন্য আমার আব্বার কাছে যেতেন। সে থেকেই তার আন্দোলনের সম্পৃক্ত হওয়া। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করায় দাবীতে তমদ্দুন মজলিশের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ সেমিনার, সাহিত্য সভায় যোগদান করা, বাংলা ভাষার জন্য পোস্টার লেখা সেগুলো স্কুল কলেজের দেওয়ালে লাগানো, প্রচার পত্র বিলি করা ইত্যাদি আমরা স্কুলে থাকা অবস্থায় করেছি। তারপর যখন ইডেনে ভর্তি হলাম অর্থাৎ ৫১-৫২ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ বাকি। বিশেষ করে একুশ ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে শহীদ আবুল বরকতের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যে মিছিল বের করেন অন্যান্য ছাত্রীদের সাথে আমিও যে মিছিলে ছিলাম। একুশে ফেব্রুয়ারী আমতলায় ছাত্রসভা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে যে মিছিল হয় সেই মিছিলেও আমি অন্যান্যদের সাথে ছিলাম।

অপরাজিতা: ভাষা আন্দোলনের প্রাপ্তি কতটা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
চেমন আরা : ভাষা আন্দোলনেরে পথ ধরেই তো স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং আজকের বাংলাদেশ। তবে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা যে তমদ্দুন সংস্কৃতির প্রসার চেয়েছিলাম তা অর্জিত হয়নি। মাঝে মাঝে দেশের সংস্কৃতি, মানুষের ভাব বোধের অবস্থা দেখে অপসংস্কৃতির সয়লাব হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে হিন্দি প্রীতি দেখে সত্যিই খুব কষ্ট হয়। তখন মনে হয়, আমরাতো আমাদের ঐতিহ্য সংস্কতিকে হারাতে চাইনি বলেইতো ভাষা আন্দোলন করেছিলাম। আমরা কি আমাদের নতুন প্রজন্মকে এ কথা বুঝাতে ব্যার্থ হলাম।

কর্মজীবন : অধ্যাপিকা চেমন আরা শুধু একজন ভাষা সৈনিকই ছিলেন না। দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে শিক্ষার আলো বিস্তার করে গেছেন। তিনি ১৯৫৯ সালে নারায়নগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন। সে বছরই বাদশা মিয়া চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামে প্রথম মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৯-৬১ সালে চেমন আরা আন্দরকিল্লাস্থ  মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির স্কুলে প্রাতঃকালীন শিফ্টে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করেন। ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইডেন কলেজে আসেন। পরে সহকারী অধ্যাপক পদে ১৯৬৭-৬৮ আবার চট্টগ্রামে সরকারী কলেজে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে আবার ইডেন এ আসেন এবং অধ্যাপনার পাশাপাশি নতুন হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবেও কাজ করেন। এ দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ ১২ বছর অর্থাৎ ৮২ সাল পর্যন্ত। তিনি ৮২-৮৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং ১৯৯৩ সালে তীতুমীর কলেজ ঢাকা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অপরাজিতা: ইডেন কলেজে আপনার যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে সে বিশেষ করে হোস্টেল সুপারেন্টন হিসাবে আপনার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জানতে চাই।
চেমন আরা : আমি ইডেনে নতুন হোস্টেলের সুপার ছিলাম। চেষ্টা করেছি ছাত্রীদের ভালো রাখতে। ওদেরকে নানা রকম সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করাতে। হোস্টেলে মেয়েদেরকে নিয়ে সাপ্তাহিক ইসলামী আলোচনা হতো। এছাড়াও আমি যখন চট্টগ্রামে ছিলাম সেখানেও মহিলা কলেজে ‘ইসলামী পাঠচক্র’ চালু করেছিলাম। সেই পাঠচক্রে মুসলিম মহিয়সীদের কর্মজীবনের উপর ধারাবাহিক আলোচনা হতো।
ইডেনে হোস্টেল যে ইসলামী আলোচনা অনুষ্ঠান হতো ‘মহিলা মজলিস’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো। আমি চেষ্টা করেছি তাদেরকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করার।

অপরাজিতা: আপনার সাহিত্য হাতেখড়ি কবে থেকে? এক্ষেত্রে আপনার পথ চলাÑ
চেমন আরা : মূলতঃ আমার পিতা-পিতামহ ও স্বামী উভয়দিক থেকেই আমি সাহিত্যে উত্তরাধিকার লাভ করেছিলাম বলা যায়। যখন আমি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তখন ‘সাপ্তাহিক সৈনিকে’ আমার প্রথম গল্প ছাপা হয়। এরপর থেকে সাপ্তাহিক সৈনিকে নিয়মিত লেখা শুরু করি। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘কহিনূর’ পত্রিকায় ‘নাসরিন’ ছদ্মনামে লিখতাম। এছাড়াও কলিকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকায় এবং বিভিন্ন দৈনিকে নিয়মিত লেখতে থাকি। সে থেকেই এ অঙ্গনে পথ চলা। এ পর্যন্ত আমার প্রকাশিত বইগুলো হলো।

১. হৃদয় নামের সরোবর
২. ঘরে ফেরা
৩. হজ্জ ও ওমরার স্মৃতি
৪. কান্না হাসির এই মেলায়
৫. স্বাগত ভাবনা
৬. নিরুদ্দেশের অভিযাত্রী
৭. সত্তরের সিড়িতে দাড়িয়ে।

এছাড়াও সম্পাদন করেছি এ ‘অনন্য জীবন সঠিক  (এ.এস.এম মোফাখখার) ইয়াদগারে বখতিয়ার। সহজ মিলাদ পাঠ শাহেদ আলী ৫টি স্মারক গ্রন্থ।

এখনও অপ্রকাশিত গল্প ও কবিতার বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪টি। মূলত গল্প, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, স্মৃতি কথাই আমার লেখার মূল বিষয়বস্তু।

অপরাজিতা: পারিবারিক জীবনের চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে সন্তান, সাহিত্য আর কর্মজীবন সব কিছুর সমন্বয় কিভাবে করছেন?
চেমন আরা : ১৯৫০ সালে তখন আমি দশম শ্রেণির ছাত্রী, সেই সময় সাপ্তাহিক সৈনিকে প্রকাশিত আমার লেখা পছন্দ করে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন শাহেদ আলী এবং বিয়েও হয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট সাহিত্যিক শাহেদ আলী সাহেবের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সাহিত্যাঙ্গনে আমার পথ চলা আরো সংহত হয়েছে এবং ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার সম্পৃক্ততা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং এ আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে আমি নিজেকে তৈরি করে নেই। তার সাথে ৪১ বছরের আমায় বিবাহিত জীবনের নানান সমস্যা ঘাত-প্রতিঘাত দুজনে মিলেই সামলিয়েছি। আমার তিন ছেলে তিন মেয়ে। আলহামদুলিল্লাহ ছেলে মেয়েরা সবাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

স্বীকৃত ও সম্মননা : অধ্যাপিকা চেমন আরা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান, শিক্ষকতা, সাহিত্য, সেবা, সামাজিক সাংস্কৃতিক চর্চা এবং অবহেলিত নারী ও শিশুদের জীবন মান উন্নয়নে অবদানের জন্য

১. ২০০৪ সালে মহিলা সাংবাদিক ফোরাম
২. ২০০৪ সালে ফুলের মেলা জাতীয় শিশু সংগঠন পুরস্কার
৩. ২০০৬ সালে কিশোর কণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার
৪. ২০০৭ সালে চিল্ড্রেন অ্যান্ড উইমেন ভিশন ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক।
৫. ২০০৮ সালে নবীন কর্ণ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পুরস্কার
৬. ২০০৮ সালে জালালাবাদ ফাউন্ডেশন কর্তৃক হাসান রাজা পুরস্কার সম্মাননা।
৭. ২০০৯ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী স্বর্ণপদক
৮. ২০১১ সালে ভাষা আন্দোলনে অসামান্য অবদানের জন্য চট্রগ্রামের কৃতি সন্তান হিসাবে চট্টগ্রামে সমিতি থেকে সম্মাননা।
৯. ২০০৯ সালে রুরাল জার্নালিস্ট ফোরাম পুরস্কার
১০. ২০১২ সাপ্তাহিক সমধারা থেকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা।
১১. ২০১২ সালে ফুলকুঁড়ি ও ঝিঁঙ্গেফুল শাখা শ্রেষ্ঠ মা সম্মাননা।
১২. চিলড্রেন অ্যান্ড ওমেন ভিশন থেকে বিজয় দিবস সম্মাননা।

অপরাজিতা : আজকের বাংলাদেশ মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
চেমন আরা : আজকের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম ঐতিহ্য সংস্কৃতি অবহেলায়, অযতেœ রয়েছে। আমরা যে ঐতিহ্যে বড় হয়েছি, নতুন প্রজন্মের কাছে তা একেবারেই অচেনা। রাষ্ট্রীয়ভাবে এর কোন পৃষ্টপোষকতা করা হচ্ছে না বরং নতুন নতুন উৎসব যেগুলোর সাথে আমাদের সংস্কৃতি ভাববোধের কোন সম্পর্ক নেই তার প্রসার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইদানিং শোনা যাচ্ছে ‘ধর্ম যার উৎসব সবার’ এটা তো ইসলামী সংস্কৃতি  এবং তাওহীদের বিশ্বাসের পরিপন্থী। থার্টি ফাস্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখের নামে যে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে এতে করে ইসলামের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি বলব পরিকল্পিতভাবে ইসলামকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। হিন্দী সিরিয়াল, মুভি, এপার বাংলা ওপার বাংলার সংস্কৃতির আদান প্রাদন ইত্যাদি সমস্ত কিছুই তাওহীদের পরিপন্থী। অথচ আমাদের মুসলমানদের মূলভিত্তিই তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইদানিং বিজ্ঞাপনগুলো মিউজিক শোগুলো যেভাবে আমাদের তরুনদেরকে ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছে তাতে করে আমি সন্দিহান। এরা বড় হয়ে ইসলামকে কেমনভাবে জানাবে। এ অবস্থা থেকে তো এদেরকে বের করে আনতে হবে।

সমাজকর্ম : অধ্যাপিকা চেমন আরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যে সমস্ত কাজ করেছেন যেগুলো হলো।

১. ১৯৫৪ সালে ডানপন্থী ছাত্রীদের সমন্বয়ে ফরমান উল্লাহ খানের তত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রী পরিষদ’ গঠন করেন। এখানে তিনি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
২. ১৯৬৩ সালে শিশু কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন এবং এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে ‘সবুজ সেনা’ গঠন করেন এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এ সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন।
৩. চট্টগ্রাম মহিলা কলেজে ‘ইসলামী পাঠচক্র‘ নামে মহিলাদের জন্য একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠ করেন। এখানে ইসলামী দর্শণ, মানবতাবোধ, হযরত খাদিজা (রাঃ), হযরত ফাতেমা (রাঃ)সহ মুসলিম মহিলাদের কর্মজীবন ধারাবাহিভাবে আলোচনা হতো।
৪. তিনি অবসরে যাবার পর ইসলাম প্রিয় মহিলাদের নিয়ে ‘নারী’ অধিকার আন্দোলন সনামে একটি সংগঠন গঠিত হলে তিনি যেখানে সভানেত্রী নির্বাচিত হন। সূচনালগ্ন থেকে তিনি এ সংগঠনের চেয়ারপার্সন।
৫. ১৯৮৭ সালে কথাশিল্পী শাহেদ আলী, ড. কাজী দীন মুহাম্মদ. ড. শমশের আলী, জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এবং অনেক প্রাজ্ঞজনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় একটি স্কুল ‘তামরিন’ প্রতিষ্ঠিত হলে চেমন আরা এই স্কুলের পরিচালনার ভার নেন।

অপরাজিতা: জীবনের এই শেষ বেলায় এসেও আপনি জাতিগঠনের কাছে নিয়োজিত রয়েছেন কোন উপলব্ধি থেকে?
চেমন আরা : আমি মনে করি সমাজের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। আমি যতটুকু জানি, উপলব্ধি করি তা যেন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। আমার দ্বারা যদি একজনও উপকৃত হন তাহলেই আমি স্বার্থক । আলহামদুলিল্লাহ  কলেজে অধ্যাপনা কালীন সময়ে আল্লাহ আমাকে এ সূযোগ করে দিয়েছেন আমি হাজার হাজার ছাত্রীদের মাঝে আমার আদর্শ, মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছি। যখনই যে ধরনের কাজের সূযোগ পেয়েছি আমি আন্তরিকতার সাথে তা করার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময়ই চাই ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্য রক্ষায় আজীবন কাজ করে যাব। আপনারা দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন। আমীন॥

 

সুন্দর কথা হল ‘শিল্প’


মেইক ইউরসেলফ


পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা শুধু সুন্দর কথার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান নিমিষেই করে ফেলেন। কথা বলার ধরনের সাথে কথা বলার কিছু কৌশলও রয়েছে।

১. পরিস্থিতি বুঝে কথা
বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে ভাব প্রকাশের সৌন্দর্য হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে কথা বলা।
ফলে মানুষ অপর মানুষের অনুভূতির সাথে একাত্মতা অনুভব করে।

২. শান্তভাবে কথা বলুন
শান্তভাবে কথা বলতে দেখলে তাকে ফলো করতে পারেন। কেউ যদি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করে তবে তাকে অনুসরণ করা যেতে পারে।

৩. অধিক কথা না বলা
আলোচনায় যোগ দিতে গেলে মনে রাখবেন অধিক কথা বলার দরকার নেই। মূল বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করে কথা বলুন।

৪. ক্ষমা প্রার্থনা করুন
হুট করে কোন মন্তব্য করে বসলে সুন্দর ভাবে ক্ষমা চেয়ে নিন।

৫. অর্থহীন কথা পরিহার করুন
খুব ভালো মনের মানুষ, আবার দেখতেও সুন্দর কিন্তু অর্থহীন কথা পরিহার না করতে পারলে, তিনি ভাল কথা বললেও কেউই শুনতে আগ্রহী হবে না।

৬. মার্জিতস্বরে কথা বলা
মনে রাখুন, নিজের চেষ্টা এবং সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চলায় যথেষ্ট। উপস্থাপন আরও চমকপ্রদ করতে মার্জিতস্বরে কথা বলা খুবই দরকার।

৭. শুধু নিজে কথা না বলা
শুধু নিজে কথা বলতে গিয়ে মূল বিষয় থেকে অনেকে সরে পড়ে। তা শ্রোতার কাছে অস্বস্তিকর। কারণ তারা তাদের মূল্যবান সময় গল্পে নষ্ট করতে চান না।

৮. কথা বলতে সুযোগ দিন
অন্যের কথার মাঝে কথা বলাটা অনেকেই পছন্দ করে না। সুতরাং কেউ কথা বললে তাকে বলার সুযোগ দিন।

৯. শ্রোতা বুঝার মত স্পষ্ট কথা বলুন
মূল বিষয় থেকে সরে পড়ে। তখন শ্রোতারা খুব বিরক্তবোধ করে। কারণ তারা তাদের মূল্যবান সময় গল্পে নষ্ট করতে চান না।

মুখের বুলি যদি হয় তিক্ত তাহলে জয়ের পরিবর্তে বিপর্যয়ই নেমে আসবে। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘কথা’, এবং বর্তমানে সফলতা অর্জনের একটি বড় হাতিয়ার। আর সুন্দর করে কথা বলা এক ধরনের আর্ট।

 

বাংলাদেশি নারী হত্যায় মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


নারী সংবাদ


দুই বছরের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি নাজমা খানমকে হত্যার দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সেখানকার একটি আদালত। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মার্কিন যুবকের নাম ইয়োনাতান গেলভেজ-ম্যারিন (২৫)। এই রায়ের ফলে তার ২৫ বছর কারাভোগ করতে হবে। গত ১১ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের জজ মাইকেল বি এলোইস এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন।

২০১৬ সালের ৩১ অগাস্ট রাত ৯টার দিকে নিউ ইয়কেআ কুইন্সে নরম্যাল রোডের বাড়ির সামনেই দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন ৬০ বছর বয়সী নাজমা। সঙ্গে সঙ্গে নাজমাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ঘটনার তিনদিন পর ঘাতক ইয়োনাতান গেলভেজ-ম্যারিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন জানান, অন্ধকারে হত্যাকারী ইয়োনাতান নাজমার কাছে যা আছে সব দিয়ে দিতে বলে। নাজমা খানম তা দিতে অস্বীকার করলেই তাকে বুকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি বলেন, অসহায় একজন নারীকে এভাবে হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনা দ্বিতীয়টি হতে পারে না। এজন্য ঘাতককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই আদালতে গত ২৬ অক্টোবর এই ঘাতককে সেকেন্ড ডিগ্রির মার্ডার, ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং বেআইনি অস্ত্র বহনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় সপ্তাহব্যাপী জুরি ট্রায়ালের পর।

তিন সন্তানের জননী নাজমার এক সন্তান নিউ ইয়র্কে থাকেন। অন্য দুই ছেলে-মেয়ে থাকেন বাংলাদেশে। শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা নাজমা বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ডিভি লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা। তার স্বামীও শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। সুত্র: ইত্তেফাক

 

“কৃষ্ণচূড়ার কিশোরী জীবন”


আবু হেনা মোস্তফা কামাল পিন্টু


কৃষ্ণচূড়া গাছ কতদিন বাঁচে? যতটা দিন তাতে কুঠারাঘাত না পড়ে? যে কিশোরী জীবন দেখেছে কৃষ্ণচূড়ার লালে, ফাগুন চিনেছে কৃষ্ণচূড়ার জাগরনে এবং সেই দেখা আর চেনা বয়ে চলেছে গোটা জীবনভর, কৃষ্ণচূড়ারা কি ঐ কিশোরীর জীবনেও বাঁচে না! জীবনকালব্যাপী বাঁচে না! কষ্টে উঁকি দেয়, সুখে দোলা দেয়, স্বস্তিতে দেয় উদাস! প্রথম যেদিন কৃষ্ণচূড়ার লালে অবাক হয় কিশোরী সেই মুহূর্তটি, সেই স্থানটিও কি বাঁচতে থাকে না কিশোরীর জীবনভর? হোক সে মাঠের ধার বদলে পাকা রাস্তা, হোক সে খালের উপরের সাঁকোটি আজ কালভার্টের চেহারায়, থাকলোই বা সে কিশোরী আজ শত ক্রোশ দূরের কংক্রিটের রাস্তার পাশে ন্যাড়া কৃষ্ণচূড়ার দিকে তাকিয়ে.. তবুও আমি নিশ্চিত, সে কিশোরী সেখানে থাকে না; যেখানে সে থাকছে।
এ তো এক অনাদিকালীন অদৃশ্য মনোদূর্ঘটনা। বারবার জিদ আর আবেগের সংঘর্ষ। কৃষ্ণচূড়া ভূপাতিত সেই কবে! জানতেও পারেনি কিশোরী। যখন কিশোরী সংসারে ঢোকার ক’বছর পর নিঃশ্বাস নিতে কৈশোরে ফিরেছিল..। বাস থেকে নেমে ভ্যানে করে পা ঝুলিয়ে মন দুলিয়ে বাড়িতে পৌঁছেই সোজা গিয়ে মাঠের ধারে, খালের পাড়ে। ঘাড় উঁচিয়ে, বাঁকিয়ে বিভিন্ন উপায়ে নোনতা স্বাদের হাহাকার আর ঘন নিঃশ্বাসের পতন নিয়েও খুঁজে কৃষ্ণচূড়াকে পায়নি। খুব মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছিল এই ভেবে যে, কিশোরীবেলাটা কি তবে তার সত্যিই হারিয়ে গেছে? প্রশ্নটা কাকে যে করতে পারা যাবে সে উত্তরও পায় না। বিষন্ন মনে ভাবে কালই শহরে ফিরে যাবে সে। সংসারে ঢুকে যাবে। তাহলে আর কোনো প্রশ্নই জন্মাবে না মাথায় মনে।
গ্রীষ্মের দুপুরে উঁচুতলার জানালার শার্সির ভেতর দিয়ে চোখ ছড়িয়ে দেবে দূরের কোনো শহুরে কৃষ্ণচূড়ায়; ধুলোয় যেখানে লাল কিছুটা বয়সী, ফিকে আর ক্লান্ত। উদাস হবে, আনমন হবে, বুকের ভেতর ঢেউ জাগলে কিছুটা কেঁদেও নেবে। কেউ তো আর দেখছে নাহ্! কিন্তু কোনদিন আর গ্রামে ফিরে গিয়ে কৈশোরের কৃষ্ণচূড়াটিকে খুঁজবে না। স্থিরসংকল্প করে। শুধু কোথায় কোন্ স্থানটিতে সে দাঁড়িয়ে ছিল সেই স্থানটিকে স্মরণের আবরণে যত্নে ঢেকে রাখবে। কোন্ টানে আর গ্রামে ফিরবে সে! কৈশোরের কৃষ্ণচূড়া, যে তাকে অপার মায়ায় রঙ চিনিয়েছিল, যে লালের সাথে মিলেমিশে নিজের রক্তলাল বয়ঃসন্ধি বুঝতে শিখিয়েছিল, সে কৃষ্ণচূড়া আজ আর নেই, সাথে তার কৈশোরবেলাটাও নেই। সব হারিয়ে গেছে!
তবুও কিশোরী কোনো এক অদৃশ্য সামর্থ্যে কল্পলোকে ভাসতে থাকে। ডোবে গহীন ঘোরের অতলে। মানষচোখে স্পষ্টতই দৃশ্যমান কৃষ্ণচূড়া। মূল থেকে শরীর বেয়ে প্রতিটি ডালপালা, পাতার শেষ প্রান্ত অবধি চাহনির ভ্রমন..। টের পেতে থাকে কিশোরী… বুকের ভেতর কালভার্টটি নিমিষেই বিলীন; দিব্যি সাঁকো পার হয়ে পৌঁছে গেছে কৈশোরে.. কৃষ্ণচূড়াটি জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছে, আকাশে ছোপ ছোপ রক্ত বিছিয়ে, অসংখ্য আগুন ছেয়ে আছে আকাশ জুড়ে..। প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া কিশোরীর দিকে হাত বাঁড়িয়ে কাছে ডাকছে আর বলে চলেছে, “ও মেয়ে, আলতা নেবে গো আলতা…”
ঝরঝর করে গড়িয়ে নামা নোনতা চোখের জল মুছতে আঁচল তোলে কিশোরী। ওদিকে উনুনে চাপানো প্রেশার কুকারের সিটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে।

 

স্ত্রীর অপমানের প্রতিশোধে লাঞ্চিত স্বামী, অতঃপর গলায় ফাঁস


নারী সংবাদ


ঢাকার শহরতলী আশুলিয়ায় টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক তৈরীর কারখানায় নারী পোশাক শ্রমিক সাবিনা খাতুন মীম (২০) তার স্বামীকে ফোন করায় কর্মকর্তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। বিষয়টি ওই নারী পোশাক শ্রমিকের স্বামী অনিক মিয়া জানতে পেরে কারখানায় গিয়ে এর প্রতিবাদ করে। পরে কারখানার ৫ কর্মকর্তা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে বাসায় গিয়ে সে লজ্জায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ওই কারখানার ৫ কর্মকতার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং ৩২) দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আশুলিয়ার সাধুপাড়া টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় আসামীরা হলো- টর্ক ফ্যাশন লিঃ এর এ্যাডমিন অফিসার পিন্টু (৫০), সহকারি এ্যাডমিন অফিসার রুবেল, ফ্লোর ইনচার্জ হারুন (৪৫), সুপারভাইজার পারভেজ এবং অপারেটর রাকিব (২৫)।

নিহত অনিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন আড়াইসিদা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে এবং সে স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার মনিরের ভাড়া বাড়িতে থেকে রং মিস্ত্রীর কাজ করতো। তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার টর্ক ফ্যাশন লিঃ কারখানার অপারেটর পদে চাকুরী করে।

নিহত অনিকের স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় তার স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলেন। বিষয়টি কারখনার এ্যাডমিন অফিসার পিন্টুসহ পারভেজ, রুবেল, রাকিব ও হারুন দেখতে পেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় মোবাইলে তার স্বামী গালিগালজ শুনতে পান। পরে অনিক কারখানার গেইটে স্ত্রীকে আনতে যায়। এসময় কারখানার ওই কর্মকর্তারা অনিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং হুমকি দেয়।

এতে অনিক অপমানিত হয়ে বাসায় ফিরে যায়। এরপর আবার দুপুর ১টায় পূণরায় তাকে আনতে যায় অনিক। বিষয়টি ওই কর্মকর্তারা জানতে পেরে আবারও তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে অনিক বাসায় গিয়ে ঘরের আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে তুরাগ থানা এলাকার ইষ্ট ওয়েষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনায় বুধবার রাতেই আশুলিয়া থানায় ওই কারখানার ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় থানায় হত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

বিয়ে বৈধ হবার শর্তাবলী


কানিজ ফাতিমা


একটি বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য যেসব শর্তাবলী পূরণ হওয়া বাধ্যতামূলক- তা নিয়েই সামনের আলোচনা। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে কেবল একজন নারী ও একজন পুরুষের একত্রে বসবাসের জন্য অর্থনৈতিক ও দৈহিক সুব্যবস্থাযুক্ত নয় (Financila and physical arrangement) বরং এটি আল্লাহর দেয়া একটি নেয়ামত, যার মাধ্যমে মানুষ সুখ ও স্বস্তি লাভ করে, জীবনকে উপভোগ করে এবং নিজের বংশধারা অব্যাহত রাখে। বিয়ের শর্তের ব্যাপারে আমাদের সমাজে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যা দূরীভূত হলে জীবন সহজ ও সুন্দর হতো। অনেকে বিয়েতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বা মহাভোজের (Grand feast) আয়োজনকে বিয়ের জন্য অপরিহার্য মনে করে। আবার ভারী স্বর্ণের অলংকার আদান প্রদান না করলে বিয়েটা যেন ঠিক সামাজিক বৈধতা পায় না। এগুলো একেবারেই ভুল ধারণা। এর ফলে পাত্র, পাত্রের পরিবার এবং পাত্রীর অভিভাবকের উপরে একটি বড় খরচের বোঝা এসে পড়ে- যা বিবাহকে কঠিন করে তোলে। এ খরচের কথা চিন্তা করে অনেক মুসলিম যুবাই বিয়ের ব্যাপারে পিছপা হন এবং পাত্রীর পরিবারও কঠিন আর্থিক সমস্যায় নিপতিত হয়। অথচ ইসলামে বিবাহকে যতটা সম্ভব সহজ করতে বলা হয়েছে।মহাভোজ, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বা ভারী স্বর্ণালংকার কোনটিই বিবাহ বৈধ করার শর্ত নয়। বিশেষতঃ স্বর্ণালংকারের দাম যেভাবে বেড়েই চলছে তাতে অধিক পরিমাণ স্বর্ণ দেয়া বর, বরপ, পাত্রী, এমনকি দেশের অর্থনীতি কোনটির জন্যই কল্যাণকর নয়। ভারী অলংকার কিনতে বর বা বরপরে একবারে মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয় (কিস্তিতে অলংকার কেনার রেওয়াজ যেহেতু নেই)। পাত্রীর জন্যও এটা ততটা লাভজনক নয়। কারণ স্বর্ণালংকার কেনার টাকাটা তার মোহরানার উসুল হিসেবে ধরা হয়। এটি স্বর্ণ হিসেবে আলমারীতে থাকার চেয়ে ক্যাশ হিসেবে ব্যাংকে থাকার সুবিধাটা বেশী। প্রয়োজনে এটাকে কাজে লাগানো সহজ হয়। অনেকে বলতে পারেন স্বর্ণ বিক্রি করে ক্যাশ পাওয়া সম্ভব। বাস্তবে এটা সত্যিই সহজ নয়। স্বর্ণ বিক্রিতে বর বা বরপরে আপত্তি থাকতে পারে। এটা বিক্রি করা ঝামেলাপূর্ণ। তাছাড়া বিক্রির সময় স্বর্ণের খাদ বাবদ মূল স্বর্ণ থেকে অনেকটা বাদ দেয়া হয়। ফলে মূল্য অনেক কম পাওয়া যায়। উপরন্তু ছিনতাই বা চুরি হওয়ার ভয়তো রয়েছেই। বর্তমানে কিছুদিন পরপরই গহনার ফ্যাশন বা ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। সেেেত্র বাজারে অনেক ধরনের অলংকার পাওয়া যায় যেমন ইমিটিশন, সিটি গোল্ড ইত্যাদি। এর ডিজাইন বাহারী, রঙ টেকসই, খরচও কম। অনায়াসে এক দেড় বছর চালানো যায়, তাই ফ্যাশন সচেতনদের জন্য এটাই উত্তম পন্থা। আমরা জানি স্বর্ণের যাকাত দিতে হয়। যেসব নারীদের নিজেদের উপার্জন নেই তারা এ ব্যাপারটিতে এক ধরনের দোটানায় ভোগেন। যেমন- স্বর্ণেল মালিক তার স্বামী নন। তাই যাকাত দিতে তিনি বাধ্য নন। স্বর্ণের মালিক হিসেবে যাকাত ঐ মহিলার উপর ফরজ (অনেক আলেমদের মতে)। অথচ যাকাত দেয়ার মতো ক্যাশ তার নেই। সেক্ষেত্রে হয় ঐ স্বর্ণ বি ক্রি করে ঐ স্বর্ণের যাকাত দিতে হবে নতুবা স্বামীর নিকট থেকে অর্থ নিয়ে যাকাত দিতে হবে। এ সমস্যার সব থেকে সহজ সমাধান স্বর্ণ কমিয়ে সাড়ে সাত ভরির নীচে নামিয়ে আনা। এটা আপনার সমস্যাকে যেমন হাল্ক করে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও পজিটিভ ভূমিকা রাখে। কারণ স্বর্ণটা স্থবির অবস্থায় আপনার আলমারিতে পরে থাকা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। এটা লিকুইড করলে তা কোন না কোন উপায়ে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের কাজে আসে। আর মুসলমান হিসেবে আমাদের সেটাই করা উচিত যেটা আমাদের জন্য সহজ কিন্তু অধিক কল্যাণকর। এবার দেখা যাক একটি বিবাহ বৈধ হবার শর্তগুলো কী কী- বিয়ে মূলত একটি সামাজিক চুক্তি। ইসলামী বিধান অনুযায়ী নিুলিখিত শর্তসমূহ বিয়ের বৈধতার জন্য অপরিহার্য – ১. পাত্র ও পাত্রীর পূর্ণ সম্মতি : বিয়েতে পাত্র ও পাত্রীর পূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি প্রয়োজন যা ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) এর মাধ্যমে গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত পাত্র প্রস্তাব করে ও পাত্রী কবুল করে। তবে পাত্রীর প্রস্তাব করা ও পাত্রের গ্রহণ বা বর্জন করার নীতিও ইসলামে স্বীকৃত। দ্রষ্টব্য বুখারী, কিতাবুন নিকাহ। অনেক আলেম মনে করেন পাত্রী পরে অভিবাবকের সম্মতিও বিবাহ বৈধতার শর্ত। তবে অনেক আলেম ভিন্নমত পোষণ করেন। যেমন আবু হানিফার মতে সাবালক নারীর ক্ষেত্রে তার মতই যথেষ্ট, অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ সাবালক নারীর অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত তার নিজের সম্মতিতে বিবাহ বৈধ হবে। ২. স্বামী : বিবাহ দু’জন নির্ভরযোগ্য স্বামী থাকতে হবে। ৩. . প্রচার : স্কলাররা এ ব্যাপারে একমত যে বিয়ের ব্যাপারটি গোপন রাখা ঠিক নয় বরং সেটিকে সমাজে প্রচার (Publicize) করা জরুরী। এজন্য বর (বা বর প) তার সামর্থ্য অনুযায়ী ভোজের ব্যবস্থা করবে। আগেই বলা হয়েছে যে, বড় ভোজের আয়োজন করা বাধ্যতামূলক নয়। বড় বা ছোট ভোজ এ ব্যাপারে ইসলাম কোন বাধ্য-বাধকতা দেয় নি। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ভোজকেই (কৃপণতা বা বিলাসিতা দু’ই ইসলাম অপছন্দ করে) ইসলাম উৎসাহিত করে। এখানে উল্লেখ্য আমাদের সমাজে বেশীর ভাগ সেক্ষেত্রে পাত্রী পরে ওপর বড় ভোজ আয়োজনের দায়িত্ব বেশী থাকে। অথচ ইসলাম ভোজ আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে বরপকে। তবে পাত্রী প যদি স্বেচ্ছায় সামর্থ্য অনুযায়ী ভোজের আয়োজন করে তাতে দোষের কিছু নেই। পাত্র পরে উচিত হবে না পাত্রী পরে উপরে এ ভোজ আয়োজনের জন্য প্রত্য বা পরো চাপ প্রয়োগ করা। আমাদের দেশে অনেকেই বরযাত্রীর নাম করে একটি বড় সংখ্যা পাত্রীপরে উপর চাপিয়ে দেন। ৪. দেনমোহর : আর একট গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো দেনমোহর (Bridal gift)। এটি আদায় করা প্রতিটি স্বামীর জন্য ফরজ, তা মিলনের পূর্বে হোক বা পরেই হোক। এক্ষেত্রে স্বামীর উচিত তার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা সম্ভব দ্রুত দেনমোহর আদায় করায় সচেষ্ট হওয়া। অনেকে মনে করেন কেবল তালাক হলেই মোহর দিতে হয়। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। দেনমোহর বিয়ে বৈধতার একটি শর্ত। কাজেই বিয়ের সময়ই দেনমোহর ফরজ হয়ে যায়। এবার জানা যাক বিয়ের সময় একজন ইমাম বা কাজীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কাজী বা ইমামের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। উপরোক্ত চারটি শর্ত পূরণ হলেই ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হয়ে যাবে। তবে বিয়ে পড়ানোর জন্য (Solemnize) বিয়ে পড়ানোর অনুমতি প্রাপ্ত (Authorized) কেউ উপস্থিত থাকা উচিত। যেমন আমাদের দেশে রেজিষ্টার্ড কাজী। এবার আলোচনা করবো আইনগত ব্যাপারটি নিয়ে। উল্লিখিত চারটি শর্ত পূরণের মাধ্যমে বিয়ে ধর্মীয় বৈধতা পেয়েও আইনগত বৈধতা পাবার জন্য দেশীয় আইন মতে কিছু কাগজপত্র (Legal paper) তৈরী করা বাধ্যতামূলক। এটা না করা হলে বিবাহের েেত্র কোন সমস্যা দেখা দিলে (Event to dispute) তার আইনী সমাধান পাবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের চাহিদা কাবিন করা ও বিবাহ রেজিস্ট্রি করা আইনগত বাধ্যতামূলক যাতে মোহরানা ও অন্যান্য শর্তাবলী উল্লেখ থাকে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ আইনী কাগজপত্র বাধ্যতামূলক না হলেও বর্তমানে আলেম সমাজ এ ব্যাপারে একমত যে এটা প্রতিটা মুসলমানের করা কর্তব্য।

 

এসিড দগ্ধ নারীদের অনন্য উদ্যোগ ‘প্রেসার গার্মেন্টস’


মোঃ মাহদী-আল-মুহতাসিম নিবিড়


বাংলাদেশে এসিড-হামলার শিকার নারীর সংখ্যা কম নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তাদের জন্য খুব কষ্টের। কিন্তু এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হবার পরও জীবনযুদ্ধে বিজয়ী ক’জন নারী নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন, তেমনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে এসিড-আক্রান্তদের জন্য প্রেসার গার্মেন্টস তৈরি করছেন পাঁচ এসিডদগ্ধ নারী।
প্রেসার গার্মেন্টস হল লায়েক্রা নামক বিশেষ ধরনের কাপড়ের তৈরি পোশাক, যা রোগীর শরীরের মাপ অনুযায়ী বানানো হয়। এটি আক্রান্ত স্থানে সার্বক্ষণিকভাবে একই পরিমাণে চাপ দিতে পারে, যে ক্ষত তৈরি হয় তার বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। কোলাজেন ফাইবার, যা শরীরের এক প্রকার তন্তু-জাতীয় প্রোটিন, দগ্ধ স্থানের স্কার ফুলিয়ে তোলে। প্রেসার গার্মেন্টসের চাপের কারণে কোলাজেন সমান থাকে। অর্ডার অনুযায়ী প্রত্যেক অঙ্গের জন্য আলাদাভাবে এগুলো বানানো হয়।
বর্তমানে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চলছে এই পোশাক তৈরির কাজ।
মিরপুর চৌদ্দতে অবস্থিত এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ান প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে প্রেসার গার্মেন্টস তৈরির প্রশিক্ষণ নেন দুই এসিডদগ্ধ- আয়েশা বেগম ও রহিমা আকতার ডলি। পরে প্রশিক্ষণ নেন শামীমা আকতার, তসলিমা আকতার, নার্গিস আকতার রানু ও রোকসানা পারভীন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ফাউন্ডেশন থেকে তারা মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। এদের মধ্যে রহিমা ডলি এখন বিদেশে আছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনে আকারভেদে এসব গার্মেন্টস ৮০০ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকার প্রেসার গার্মেন্টস বিক্রি হয় এই তিন ইউনিট থেকে।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানালেন, “২০০২ সালের আগে যখন প্রেসার গার্মেন্টস ছিল না, অপারেশনের পর শুধু মলম ও মেডিসিন ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকতে হত। যার ফলে রোগীদের শরীর চুলকাত, ফোসকা পড়ে যেত, ফুলে যেত চামড়া। সার্জারির পর যে চামড়া লাগানো হয় সেটি যেন ফুলে না যায় সেজন্য প্রেসার গার্মেন্টস ব্যবহার করা হয়। আর যদি ফুলেও যায়, পরে যেন চামড়া আবার মসৃণ হয়ে ওঠে।”
২০ শয্যার এ হাসপাতালে ৭ জন ডাক্তার রয়েছেন। বিনা খরচে নারীসহ সহিংসতার শিকার দগ্ধ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন এখান থেকে। বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থের সঙ্কুলান হয় বলে জানান ওয়াহিদ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে নারীদের প্রেসার গার্মেন্টস বিক্রির জন্য রুম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে রোকসানা ও তাসলিমা নিজেদের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করছেন। রোকসানা বলেন, “একসময় আমিও এমন রোগী ছিলাম। এখন আমি কাজটা শিখে নিজে করছি। অন্যরা আমার তৈরি জিনিস পরছে।”
এ কাজে গত বছর থেকে যুক্ত হন শামীমা। নওগাঁর পতœীতলা থানার চকদুরগা গ্রামের শামীমা ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর স্বপ্ন দেখছিলেন সেনাবাহিনীতে চাকরি করার। বিয়ের পর পড়াশুনা করতে দেবে এমন শর্তে ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পড়ার সুযোগ না-দেওয়া নিয়ে একদিন ঝগড়ার পর ঘুমন্ত শামীমাকে এসিডে ঝলসে দেয় স্বামী।
শামীমা বলেন, “২০১২ সালে বিয়ের ছ’মাস পর এ দুর্ঘটনার শিকার হলে এখানে চিকিৎসা নিই। তখন আয়েশা আপার বানানো প্রেসার গার্মেন্টস পরেছিলাম। গত বছর থেকে আমিও এটি তৈরি করছি। মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করি।”
স্বাবলম্বী শামীমা এখন ¯œাতক পর্যায়ে পড়াশুনা করছেন।
২০০২ সাল থেকে এ পেশায় যুক্ত চট্টগ্রামের আয়েশা জানান, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০০০ সালে যখন তিনি এসিডে ঝলসে যান তখন প্রেসার গার্মেন্টস ছিল না। বছরের পর বছর ভুগতে হয়েছিল তাকে।
“আমার চামড়ার অনেক জায়গায় কুঁচকে আছে, সেটা থাকত না। চৌদ্দটা অপারেশন করতে হয়েছে, সেটারও দরকার হত না। সমাজে সবসময় মেয়েদের দায়ী করা হয়। তাই যখন ওদের কথা শুনি, তখন নিজের কথা মনে পড়ে। আমিও তো ওদের মতো ছিলাম।”
২০০৬ সালে বিয়ের পর এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। মেয়েটি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর তিন বছরের ছেলে মায়ের সঙ্গে তার কর্মক্ষেত্রে আসে।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সাল থেকে দেশে ৩৩৮৬টি এসিড-হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ১৫টি এসিড-হামলার বিষয়ে জেনেছেন।
ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুমাইয়া নূরের মতে, এসিডে ওদের শরীরের নানা অঙ্গ ঝলসে গেলেও এরা পরাজয় মেনে না নিয়ে বাঁচতে শিখছেন।
ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হওয়া এই পাঁচ নারী ছাড়াও আরও ১৭ জন নানা কাজ শিখে স্বাবলম্বী হয়ে উঠে এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

সুত্র: বাসস।

 

মানসিক উদ্বিগ্নতা সারিয়ে তুলতে পারে দাদা দাদী


নারী সংবাদ


মানসিক বিকাশে সাহায্য করে পিতা-মাতামহ। শিশু-কিশোর বা তরুণ তরুণীর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা বা উদ্বিগ্নতা দেখা দিলে, সেটা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে দাদা-দাদী বা নানা-নানী।
এ কারণে শিশু বা অল্পবয়সীদের মধ্যে এমন সমস্যা দেখা দিলে তাদের দাদা-দাদীর সংস্পর্শে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
টেলিফোন হেল্প-লাইন পরিষেবা চাইল্ড-লাইনের প্রতিষ্ঠাতা ডেইম এস্থার রান্টজেন বলেছেন, “যৌথ পরিবারের ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এবং নিকটবর্তী আত্মীয় স্বজনের সাহচর্যের অভাবে কারণে শিশুদের বেড়ে ওঠা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তার মতে, শিশুদের, তাদের পিতামহ ও মাতামহদের সঙ্গে দেখা করার আইনগত অধিকার দেয়া উচিত। যেটা কি-না ফ্রান্সে আছে।
তিনি বলেন, অনেক বাবা-মা এতোটাই ব্যস্ত থাকেন যে তারা শিশুদের মানসিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।
আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকানো যায়
চাইল্ড-লাইন পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থা এনএসপিসিসির হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে শিশুদের উদ্বেগ কাটাতে সহযোগিতার চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভূগছে এমন তরুণদের জন্য গত দুই বছরে ২১ হাজারেরও বেশি সেবা দিয়েছে।
তারা মূলত টেলিফোনের মাধ্যমে আক্রান্তের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করে যা প্রাথমিক অবস্থায় অনেককেই আত্মহত্যা থেকেও ফিরিয়ে আনতে পেরেছে।
এ থেকে আন্দাজ করা যায় যে, একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গেও মন খুলে কথা বলতে পারার সুযোগ কতোটা সহায়ক হতে পারে। আর সেই মানুষটা যদি পরিবারের কাছের মানুষ হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

মানসিক উদ্বিগ্নতা কাটাতে, বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে পিতা-মাতামহ।
আরও পড়তে পারেন:
ছাত্রীদের কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা হবে ভিকারুননিসা স্কুলে
বাংলাদেশে বাড়ছে নারী প্রধান পরিবার
‘জন্মের পরপরই মেয়ে বদলে ছেলে নিয়ে আসতে বলছিল সবাই’
পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা
প্রতিনিয়ত মানসিক উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে সেক্ষেত্রে এ ধরণের হেল্প-লাইন পরিসেবা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ডেম এস্থার। এক্ষেত্রে তিনি পরিবারের ভূমিকাকে সবচেয়ে বড় করে দেখছেন।
ডেম এস্থার বলেছেন, “যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন আমি যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছিলাম। আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না, সেটা নিয়ে হয়তো পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলতাম। সেই সুযোগটা আমার ছিল।”
তাই পরিবারগুলোর আসলে বোঝা উচিত যে পরিবারের শিশু বা তরুণ সদস্যদের যথেষ্ট মানসিক সহায়তা দেয়ার মতো অবস্থা তাদের রয়েছে কিনা।
যদি না থাকে তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

অল্পবয়সীদের মানসিক সুস্থতার জন্য দাদা- দাদীর সঙ্গে দেখা করাটাকে অধিকার হিসেবে দেখতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা।
সহায়ক ভূমিকা পালন
“মানুষ সারা দিন ব্যস্ত থাকে – অনেকেই দুই থেকে তিনটা চাকরি করে থাকেন, অথবা তারা যেখানে কাজ করছেন সেখানে হয়তো তার পরিবার থাকে না। আবার অনেককেই চাকরির কারণে পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। এমন নানা কারণে দিন দিন পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
আবার ছোট পরিবারগুলোর সদস্যরাও সময় দিতে না পারার কারণে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে।
ডেইম এস্থারের মতে, আজকাল বড় পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং পরিবার একীভূত রাখাটাকে এখন আর কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেনা।
অথচ এটা সত্যি যে, শিশুদের মানসিক বিকাশে বা উদ্বিগ্নতা কাটাতে এই বড় পরিবারের কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “যে পরিবারের শিশুরা দাদা- দাদী বা নানা-নানীর সংস্পর্শে বেড়ে ওঠে তারা বুঝতে শেখে যে জীবনকে তারা যতোটা জটিল ভাবে, জীবন এতোটা খারাপ না।” মাতামহ ও পিতামহের সংস্পর্শে শিশু বুঝতে শেখে যে জীবন এতোটা খারাপ না।

আবারও যোগাযোগ স্থাপন
বর্তমান পরিস্থিতিতে নবীনদের মানসিক সুস্থতার জন্য দাদা- দাদী বা নানা-নানীর সঙ্গে দেখা করাটাকে অধিকার হিসেবে দেখতে চাইছেন ডেম এস্থার।
তিনি বলেন, “আমাদের এখন প্রত্যেক শিশুকে তাদের পিতামহ বা মাতামহের সাথে যোগাযোগ রাখার অধিকার দিতে হবে, যেটা কিনা ফ্রান্সে আছে।”
ডেম এস্থার এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে দিন দিন বাড়তে থাকা পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে ওই শিশুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের পিতা-মাতামহের অনেক সময় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
তবে ফ্রান্সের মতো দেশে, সবারই তাদের মাতামহ- পিতামহের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে।

ফ্রান্সে সবার তাদের মাতামহ- পিতামহদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে। এবং এই নিয়ম যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন ডেম এস্থার।
তিনি বলেন, “ডিউক অব ক্যামব্রিজ এবং ডিউক অফ সাসেক্সসহ উচ্চ মার্গীয় ব্যক্তিরাও এই সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন। পরিবারের বিচ্ছিন্নতা রোধ, সেইসঙ্গে নবীনদের মানসিক উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে উঠতে খোলামেলা কথাবার্তার ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।”
ডেইম এস্থারের মতে পরিবারের কেউ যদি মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভোগে, এবং দ্রুত যদি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে যে কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার দেখা দিতে পারে।

সুত্র: বিবিসি

 

মাজার ব্যথায় অত্যাধুনিক ম্যানুয়াল চিকিৎসা


প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার


যেকোন অসুস্থ্যতাই আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় সুস্থ থাকাটা কত জরুরী শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গের সুস্থতার উপর নির্ভর করে আমাদের ভাল থাকা।এদের কোনটিতে একটু সমস্যা দিলেই ঘটে নানা বিপত্তি। জীবনটাই হয়ে উঠে দুর্বিসহ। আর যদি হয় ব্যথা জনিত অসুস্থতা তবে তা আমাদেরকে ফেলে দেয় রীতিমত দুর্ভাবনায়। তবে সমস্যা যাই আসুক চেষ্টা আর সঠিক পথ জানা থাকলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খুব সহজেই। সুপ্রিয় পাঠক, আজকের আমার এই লেখা আশা করি কিছুটা হলেও আপনাদের উপকারে আসবে।
মতি লাল সাহা। বয়স ৩৭ বৎসর। এসেছিলেন আমার কাছে তাঁর- মাজাব্যথার চিকিৎসার জন্য। তিনি গত আগষ্ট ২০১৪ সাল থেকে মাজার ব্যথায় ভুগছেন। ব্যথা হলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করে থাকেন। কখনও একটু ভাল থাকেন আবার কখনও ব্যথা বেড়ে যায়। এ ভাবে পার হয়েছে জীবনের বেশ কিছূ মুল্যবান সময়। এখন আর বেশিক্ষন টেবিলে বসে বা সামনে ঝুঁকে কাজ করতে পারছেন না। আর সে জন্য তিনি গত জীবনের মেধাবী-পদবী যেন হারাতে বসেছে। আমি যখন তাঁর সংগে রোগের ইতিহাসের কথা জিজ্ঞাসা করছিলাম, এক পর্যায় তিনি বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। কারন বসে থাকার জন্য তাঁর ব্যথা তীব্রতর হচ্ছে। এমআরআই এবং এক্স-রে রিপোর্টে বলা হয়েছে কোন হাঁড় এবং ডিক্স এ কোন অসুস্থতা নেই। কিন্তু মতি লাল সাহার ফিজিক্যাল পরীক্ষা করে দেখা গেল তাঁর কোমরের লংগীসিমাস ও স্পাইনালিস মাসেল-লাম্বার রিজিওনে প্রচন্ড ব্যথা ও টেনডার এবং পেটের নিচের মাসেল ও দূর্বল। এই মাংসগুলো আমাদের শরীরের পেছনের দিকে মাজায় বা কোমরে এবং পেঁট, লোয়ার লাম্বার ও ফিমারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। মি. মতি লাল-এর ঐ মাংসগুলোর শক্তি কমে গেছে। সে কারনে বসে কাজ করার সময়, সামনের দিকে তিনি যখন ঝুঁকেন, তখন তাঁর ঐ মাংস গুলো তাঁর শরীরের(মাথা, ঘাড়, বুক এবং মাজা) ওজন ধরে রাখতে পারে না। চিকিৎসা শুরু করার পূর্বেই সঠিক ফিজিক্যাল ইক্সামিনেশন করে অসুস্থ স্ট্রাকচার বের করতে হবে অর্থাৎ ফাইন্ড দ্যা সিক স্ট্রাকচার এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। মি. মতি লাল-এর চিকিৎসার জন্য তাঁর অসুস্থ সফ্ট টিসু বা মাংসগুলোর মোবালাইজেশন, স্পাইনের রেন্জ বাড়ানোর জন্য বায়োমেকানিকস অনুযায়ী সঠিক ব্যায়াম, আলট্রা সাউন্ডথেরাপি এবং অবশ্যই কাইনিসিওলজী বেজ্ড এক্সারসাইজ দরকার। এই চিকিৎসার সাথে অবশ্যই অত্যাধুনিক লো-লেভেল লেজার থেরাপি দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে। তাঁর পর আর যেন ব্যাথা না হয় সে জন্য প্রতিরোধ মুলক ব্যায়াম(স্ট্রেনথেসিং, স্ট্রেচিং ও স্ট্রাবিলাইজেশন) অবশ্যই করতে হবে।
আমি মনে করি সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁর ব্যথা ভাল হবেই ইন-শাহ-আল্লাহ। আর যেন ব্যাথা না হয় সে জন্য প্রতিরোধ মুলক ফিজিওথেরাপি নিতেই হবে। প্রতিদিন ৮-৯ ঘন্টা ঘুমাবেন। প্রচুর পানি খাবেন। বসা, দাঁড়ানো, ঁহাটা ও জিনিস উত্তলনের সময় মেরুদন্ডের সঠিক ভঙ্গি মেনে চলুন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে ব্যাকপেইন চিকিৎসার জন্য আমার অত্যাধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সঠিক যায়গায় স্থান করে নিয়েছে এভাবেই তার নিজেস্ব প্রযুক্তি ও সঠিক ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে। কোমর ব্যথার চিকিৎসার জন্য আর বিদেশ নয় দেশেই এখন বিশ্বমানের অত্যাধুনিক চিকিৎসা আমরা দিয়ে আসছি। সুতরাং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করুন। মাজা ব্যথার কষ্ট মুক্ত থাকার জন্য আমার অপারেশন বিহীন সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন পৃথীবির উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন গবেষনায় বলা হয়েছে শিড়দাঁড়ার চিকিৎসার জন্য নন-অপারেটিভ ম্যানুয়াল ও মোবালাজেশন চিকিৎসা অত্যাধিক কার্যকর। আমি আমার এই লেখার মাধ্যেমে অসুস্থ জনগণের জন্য সামান্য হলেও ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি যে, আপনি আপনার মাজার কষ্টে জন্য কি করবেন। মেরুদন্ডের সঠিক চিকিৎসা নিন, সুস্থ জীবন-যাপন করুন।
——————–
ব্যাকপেইন বিশেষজ্ঞ
লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
পান্থপথ, ঢাকা।
সুত্র: ইবনে সিনা হেলথ ম্যাগাজিন।

 

গজারিয়ায় যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধূ


নারী সংবাদ


মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগাচর গ্রামে যৌতুক না পেয়ে মারধর করায় বিষপানে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এক বছর আগে টেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গ্রাম পুলিশের সদস্য নাসিমা বেগমের মেয়ে স্বর্ণার সঙ্গে পাশের বাড়ির সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে সুমনের পরিবার।

নাসিমা অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ আগে যৌতুকের ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পাঁচ হাজার টাকা কম দেওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্বামী সুমন গত বোববার স্বর্ণাকে মারধর করে।

এই অপমান সইতে না পেরে স্বর্ণা গতকাল দুপুরে হোসেন্দী বাজারে গিয়ে বিষপানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে অচেতন অবস্থায় গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই স্বর্ণার মৃত্যু হয়।
সুত্র: সমকাল

 

প্যারেন্টিং প্ল্যান


কানিজ ফাতিমা


একটি শিশুর ভালোভাবে গড়ে উঠার প্রয়োজন শুধুমাত্র বাবা-মায়ের মানসিক শান্তি আর পরিবারের সুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজ এবং সভ্যতারও মূল ভিত্তি। পূর্বের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারনের গুরুত্ব এবং পিতামাতাদের যেসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পূর্ব থেকেই সতর্ক থাকতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। এই অধ্যায়ে আমরা কিছু বহুল প্রচলিত ভুলধারনা তুলে ধরবো, সেই সাথে এমন কিছু “ফাঁদ” নিয়েও আলোচনা করব যেগুলোতে পিতামাতারা সহজেই পরতে পারেন। এখানে আরো থাকবে কিভাবে এ ফাঁদগুলো এড়িয়ে চলা যায় সে বিষয়ে আলোচনা । সবশেষে থাকবে প্রচলিত কিছু জনশ্রুতি (Myth) এবং তার খন্ডন । এসব ভুল ধারনাগুলো তুলে ধরার কারন হচ্ছে, প্যারেন্টিংএ কি কি বাধা আসতে পারে তা সম্পর্কে পিতা-মাতাদের সচেতনত করা । কারণ প্যারেন্টিং এর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগে থেকেই ভালো ধারণা ছাড়া একটি ভালো প্যারেন্টিং প্ল্যান কখনোই সম্ভব হয়না।

প্রচলিত ভ্রান্তি দূর করা ও গুপ্ত ফাঁদগুলো সম্পর্কে সচেতন করা

উত্তারিধকারসূত্রে প্রাপ্ত প্যারেন্টিং পদ্ধতিগুলোর অন্ধ অনুসরন

অনেকসময়ই আমরা আমাদের আচরণগত অভ্যাসগুলো আমাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে অর্জন করি। এইগুলো যে সবসময় কার্যকর বা সর্বোত্তম তা কিন্তু নয়। বরং অনেক সময়ই দেখা যায় এদের অনেকগুলোই ঠিক যুগোপযোগী নয়, এমনকি কোনো কোনটি অনেকক্ষেত্রে ক্ষতিকরও বটে। একজন মা বলেছিলেন, “যে মুহূর্তে আমি গর্ভবতী হলাম, সে মুহূর্ত থেকে আমি আমার মা এর মত হয়ে গেলাম ”। কিছু মা-বাবা, বিনয় আর কৃতজ্ঞতা থেকে ঘোষণা করে দেন যে তাদের বাবা-মা তাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে বড় করেছেন। একথা সত্যি যে, আমাদের সবারই আমাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনেক বেশি আদর-ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু তাদের সবারই যে ইতিবাচক প্যারেন্টিং সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান বা দক্ষতা ছিল- তা কিন্তু বলা যাবে না।

অপরের অন্ধ অনুকরন

অন্য কোনো পিতা-মাতার পুরোপুরি অন্ধ অনুকরন প্যারেন্টিং এর সঠিক পদ্ধতি হতে পারেনা। মনে রাখতে হবে প্রতিটি শিশুরই নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব থাকে যা অন্য বাচ্চার থেকে ভিন্ন । তাই এক বাচ্চার জন্য যা ভালো তা অন্য বাচ্চার জন্য ভালো নাও হতে পারে। মা-বাবার উচিত তাদের সন্তানকে ভালো ভাবে জানা ও সেই সন্তানের জন্য কোনটা ভালো তা খুঁজে বের করা। অন্য পিতা-মাতাদের পরামর্শ নেয়া অবশ্যই জরুরী তবে এ সময় মনে রাখতে হবে যে প্যারেন্টিং এর বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে , ক্ষেত্র বিশেষে এসব পদ্ধতির কার্যকারীতা পরিবির্তিত হয়, অর্থাত একেক ক্ষেত্রে একেক পদ্ধতি বেশী কার্যকর। যেমন, অনেক পিতামাতা সন্তানদের সাথে বেশ নমনীয় আর উদার থাকেন, আবার কেউ হয়তো সন্তানদের বেলায় কঠোরতা অবলম্বন করতে পছন্দ করেন।

প্রতি পদক্ষেপেই নতুন চমক

“ নতুন বাবারা দ্রুতই বুঝে যান যে সন্তান মানুষ করা কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ক্রমাগত উদ্ভাবনের এক মরীয়া প্রয়াস। ” (Bill Cosby,, অভিনেতা)
“প্যারেন্টিং এমন বিষয় যে আমরা শিখে নিয়ে তারপর শুরু করি, বরং এটা শুরু হওয়ার করতে করতে শিখি” (ELKIND,১৯৯৫)

সন্তানের মাধ্যমে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার পূর্ণতা

সন্তানের মাধ্যমে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ আমাদের সমাজে খুবই প্রচলিত একটি ভুল প্যারেন্টিং আচরন। এমন অনেক বাবা-মাই আছেন যারা নিজেদের সন্তানদের মাধ্যমে নিজেদের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরন করার চেষ্টা করেন। এমনকি অনেক সময় সন্তানের ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রতি তোয়াক্কা না করেই তাদের উপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেন। যেমন, আমরা অনেককে দেখি নিজেরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি; ফলে সেই অপূর্ণতা থেকে সন্তানদের বাধ্য করেন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। আমাদের মনে রাখা উচিত, সন্তান কখনোই বাবা-মার সংযোজন নয়।

সন্তানদের নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা অনিচ্ছা রয়েছে।

বাবা-মায়েরা অনেক সময় সন্তানদের নিজেদের একটি বর্ধিত অংশ ভাবতে পছন্দ করেন। তাই তারা নিজেদের অপূর্ণতা গুলো সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান, নিজেদের ভুলগুলো সন্তানদের মাধ্যমে শুধরে নিতে চান, এমনকি তাদের নিজেদের বাবা-মায়ের প্রতি করা অতীতের ভুলগুলোও নিজের সন্তানের মাধ্যমে শুধরাতে চান। যদি কোনো বাবা-মা খেলাধুলায় নিজের আকাঙ্খানুযায়ী ভাল না করতে পারেন, তারা চান তাদের সন্তানরা চ্যাম্পিয়ন হোক। যদি তারা অংক বা বিজ্ঞানে খারাপ করে থাকেন, তারা চান তাদের সন্তান আইন্সটাইন হোক। কেউ যদি রাজনীতিতে সফলতা না পান, তবে তারা চান তাদের সন্তান বড় রাজনীতিবিদ হোক । কিন্তু বাবা-মায়ের মনে রাখতে হবে, মাতৃত্ব বা পিতৃত্ব কখনোই দ্বিতীয় শৈশব নয়, আর সন্তানও মা-বাবার ক্ষুদ্র সংস্করণ নয়। জীবনের শুরু থেকেই সন্তানদের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব রয়েছে এবং তাদের সেই ব্যক্তি স্বাতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

পিতৃত্ব-মাতৃত্বের দ্বায়িত্বভার অন্যের কাঁধে অর্পন করা

অনেকে মনে করেন যে প্যারেন্টিং এর দায়িত্ব মা কিংবা বাবা একজনের পক্ষে পালন করা সম্ভব। সত্যিকার অর্থে, বাম হাত যেমন ডান হাতের বিকল্প হতে পারেনা আর ডান হাত যেমন বাম হাতের দায়িত্ব নিতে পারেনা, তেমনি মা বা বাবা কেউই একজন আরেকজনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন না। একটি সন্তানের বেড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মা দু’জনেরই নির্দিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দাদা-দাদী, নানা-নানী, অন্য কোনো আত্বীয়, বেবি সিটার বা কাজের বুয়া কেউই কখনোই বাবা-মায়ের স্থলাভিসিক্ত হতে পারেননা। তারা বাবা -মায়ের সাহায্যকারী হতে পারেন ঠিকই কিন্তু কখনোই মা-বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিকল্প হতে পারেননা।

শিশুকে শুধুমাত্র যুক্তি দিয়ে বুঝানোকেই যথেষ্ট মনে করা

সন্তান ও পিতামাতার সম্পর্ক শুধুমাত্র যুক্তি নির্ভর সরল সমীকরণ নয়। মা-বাবা আর সন্তানের মধ্যে সম্পর্ক একমাত্র যুক্তির উপর ভিত্তি করে হয়না, এই সমীকরণে অভ্যাস, আবেগ-অনুভুতিরও স্থান রয়েছে। যেমন ধরুন, কোনো মা-বাবা যদি সন্তানকে ফলমূল বা শাক-সবজি খেতে উদ্বুব্ধ করতে চান তাহলে, “খাও, এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তোমার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর মিনারেল এই খাবারে রয়েছে” – এরকম যুক্তি দিলেই কাজ হয়ে যাবে এমনটা না, এক্ষেত্রে ভালবাসা-আবেগ ইত্যাদিরও প্রয়োগ করে তাকে বোঝাতে হবে । মনে রাখতে হবে যে যুক্তির প্রয়োজন রয়েছে ঠিকই, কিন্তু শধুমাত্র যুক্তিই যথেষ্ট নয়।

 

মগবাজারে বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার


নারী সংবাদ


রাজধানীর মগবাজারে একজন সরকারি কর্মকর্তার বাসায় নিপা (১৪) নামে এক গৃহকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ গ্রিনওয়ে এলাকার একটি বাসার বাথরুম থেকে ওই গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
হাতিরঝিল থানার ওসি আবু মো: ফজলুল করিম জানান, মগবাজারে একজন সরকারি কর্মকর্তার বাসার বাথরুম থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, গৃহকর্মী নিপা গলায় কাপড় পেঁচিয়ে বাথরুমের ঝরনার পাইপের সাথে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকে। তবে সে আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যাকাণ্ড তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে গৃহকর্তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে পুলিশ। একটি সূত্র জানিয়েছে, গৃহকর্মী নিপার গৃহকর্তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। সুত্র:নয়াদিগন্ত।

 

প্রতিবেশিনী…৫


আফরোজা হাসান


বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকা মাহামের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেললো আয়ান। ইচ্ছে করেই খানিকটা লম্বা ও শব্দ করে দীর্ঘশ্বাসটা ফেললো যাতে মাহামের ধ্যানভঙ্গ হয়। কিন্তু তাতেও ধ্যানমগ্নতায় বিন্দুমাত্র বিঘ্ন না ঘটলো না। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বইয়ের সাথে এমন বন্ধনে জুড়েছে যে বইয়ের ঘটনাপ্রবাহের রেশ ফুটে উঠছে চেহারা জুড়ে। কাজ করতে করতে অনেকক্ষণ থেকেই মাহামের চেহারার বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি খেয়াল করছিল আয়ান। সাথে সাথে আরেকটা জিনিসও খেয়াল করলো আজ আবারো। কোন কিছুতেই মাহামের কোন অভিযোগ নেই। বাসায় ফিরতে দেরি হবে বলে যাবার পর যেমন হাসিমুখে অভ্যার্থনা জানায়, না বলে দেরি করে ফিরলেও একইরকম হাসিমাখা চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। এই যেমন আজ বাসায় ফিরেই ঘোষণা দিয়েছিল অনেক কাজ সাথে করে নিয়ে এসেছে। এখন সেসব করতে হবে। তাদের বাইরে যাবার প্ল্যান ছিল। আয়ান ভেবেছিল সামান্য হলেও মনখারাপ করবে মাহাম। কিন্তু হাসি মুখে চা-নাস্তা দিয়ে চুপচাপ বই নিয়ে পাশে বসে গিয়েছে। কোন অভিযোগ নেই, অভিমান নেই। ভালো লাগে, খুব বেশি ভালো লাগে যে কোন পরিস্থিতিতেই মাহামের সাপোর্টিভ আচরণ। কিন্তু মাঝে মধ্যে কেমন যেন পানসা পানসাও মনেহয়। দাম্পত্যজীবনে অল্পস্বল্প অভিযোগ, অনুযোগ, অভিমান থাকাটা মন্দ না। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করা, স্পেস দেয়ার অর্থ এমনটা আবার নয় যাইকিছু করা হবে চুপচাপ মেনে নিতে হবে সর্বদাই। মেনে নেবার সাথে সাথে পরস্পরের তরে মানিয়ে চলার অপশনও রাখা উচিত। গিট তখনই মজবুত হয় যখন দুইপাশ থেকে টানা হয়। সম্পর্কের বন্ধনের মজবুতির জন্যও উভয় পক্ষেরই সরব অংশগ্রহণ জরুরি। একজনের নিশ্চুপ স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজ বন্ধনের প্রাণচাঞ্চল্য, উচ্ছ্বলতা হ্রাস করে দিতে পারে। এই ব্যাপারটা নিয়ে অতি দ্রুত কথা বলতে হবে মাহামের সাথে। আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, তারপর..

গভীর মনযোগ সহকারে আয়ানের আনা নতুন বইটা পড়ছিল মাহাম। ‘তারপর’ শব্দটা কানে আসতেই বই থেকে চোখ তুলে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, তারপর কি?

আয়ান হেসে বলল, তোমাদের দুই বোনের প্রতিবেশিনী প্রতিবেশিনী খেলা শেষ তাহলে? আমি কিন্তু বেশ উপভোগ করছিলাম তোমাদের দুজনের প্রতিবেশিনী মূলক কর্মকান্ড।

মাহাম হেসে বলল, এই কথা যদি শাবাবের কানে যায় নির্ঘাৎ আবারো বোন থেকে প্রতিবেশিনীতে রুপান্তরিত হয়ে যাবে। তবে আমিও কিন্তু বেশ এনজয় করেছি। শাবাবের সাথে হাসি-আনন্দের ছলে প্রতিবেশীর হক আদায় সহ ইত্যাদি সবকিছু খেয়াল রাখতে যেয়ে একটা পরিকল্পনাও নিয়েছি গত কয়েকদিনে। তোমার সাথে শেয়ার করবো করবো করেও করা হয়ে ওঠেনি।

এখন করে ফেলো শেয়ার তোমার পরিকল্পনা।

মাহাম হেসে বলল, শাবাবের স্বভাব তো তোমার জানাই আছে। মানুষ সামাজিক জীব। একা একা বাস করতে পারে না। এর জীবন্ত উদাহরণ হচ্ছে শাবাব। আমাদের এপার্টমেন্টের প্রায় সব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সাথেই কম বেশি পরিচয়, যোগাযোগ, যাতায়াত আছে শাবাবের। ওর সাথে সাথে আমারও সৌজন্যমূলক পরিচয়, দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা হয়েছে, হয় অনেকের সাথেই। মানুষের দোষ অনুসন্ধানের অভ্যাস আমার নেই। সবার মধ্যে থেকে ভালো কিছু খুঁজে নেবার চেষ্টাই করি সবসময়। কিন্তু না চাইতেও অনেকের মাঝেই কিছু না কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। আমি কি দু’একটা উদাহরণ দেবো তোমার বোঝার সুবিধার্থে?

আয়ান হেসে বলল, হ্যা দাও।

যেমন, এক বোন আছেন সারাক্ষণ ই বাচ্চাদেরকে অকারণ শাসন-শোষণের মধ্যে রাখেন। উনার বাচ্চাদেরকে দেখলেই বোঝা যায় মাকে প্রচন্ড ভয় পায়। বাবা-মা সন্তানের তরে প্রশান্তির অপর নাম। বাবা-মাকে দেখে যদি সন্তানরা আতঙ্কিত বোধ করে তাহলে কোথায় যাবে প্রশান্তির সন্ধানে? তাছাড়া বাবা-মার সাথে সন্তানদের সুন্দর সম্পর্কের উপর নির্ভর করে সন্তানদের সুন্দর আগামী। কিন্তু ঐ বোনটি হয়তো না বুঝেই কিংবা সন্তানদের কল্ল্যাণের নিয়্যাতে নিজের অজান্তেই উনার সন্তানদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ব্যহত করছেন চরমভাবে। আরেকজন মাকে দেখেছি একেবারেই উদাসীন বাচ্চার ব্যাপারে। প্রায়ই দেখি উনার বারো বছর বয়সী মেয়েটাকে বাসায় একা রেখেই এদিক ওদিক চলে যান। উনার বাসায় আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা খুব। এমন না যে সবাইকেই অবিশ্বাস করতে হবে। কিন্তু সচেতন থাকাটাও জরুরি বাচ্চার ব্যাপারে। আমার মনে হয়েছে এই দুই বোনকে হেলদি প্যারেন্টিং সম্পর্কে বুঝিয়ে বলাটাও প্রতিবেশীর হকের মধ্যে পরে। ছোট্ট একটা ছেলে আছে আরেক বোনের। দেখা হলেই বাচ্চাকে বলে আন্টিকে হ্যালো বলো। শুনলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদেরকে সালামের অভ্যাস করতে হয়। যে শিক্ষাটা পরিবার থেকে পাচ্ছে না বাচ্চাটা। তারপর আমাদের মতোই নিউলি ম্যারেড এক ক্যাপল আছে। মাঝে মাঝেই মেয়েটাকে দেখি বারান্দায় বসে উদাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ওকে সুখী দাম্পত্য জীবনের টুকটাক টিপস দেয়াটাও নিজের দায়িত্ব বলে মনেহয়।

আচ্ছা।

আচ্ছা মানে কি?

আচ্ছা মানে হচ্ছে, আমরা তাহলে নিউলি ম্যারেড ক্যাপল?

মাহাম হেসে বলল, কেন মনে নেই বুঝি?

কিভাবে থাকবে বলো? মনে থাকার মতো কিছু তো আমার নিউলি ম্যারেড ওয়াইফ করে না।

যেমন?

যেমন, কোন ব্যাপারে কোন আবদার নেই, কোন বিষয়ে কোন অভিমান নেই, অভিযোগ নেই। হাজবেন্ডের ব্যস্ততাকে বিশেষ করে বাসায় এসে কাজ করাকে মেয়েরা নাকি সতীনের মতো ভাবে। কিন্তু আমার নিউলি ম্যারেড ওয়াইফ তো তার হাজবেন্ডের কাজকে নিজের সখী ভেবে নিশ্চিন্তে তার পাশে বসে লাভস্টোরি পড়ছে।

মাহাম হাসতে হাসতে বলল, আসলেই যে যা পায় তা চায় না। যা পায় না সেটা নিয়েই আপসোস, আহাজারি করে। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ বড়ই অতৃপ্ত প্রাণী। কোন অবস্থাতেই মানুষ তৃপ্ত হতে পারে না সম্পূর্ণ রূপে। একটা যাওয়া পূরণ হতে না হতেই আর না পাওয়ার হিসাব কষতে শুরু করে আবারো অপ্রাপ্তিতে গা ভাসায়।

হুম, সেটা ঠিকআছে। কিন্তু তোমার আমার মধ্যে হঠাৎ করে পুরো মনুষ্যজাতি চলে এলো কেন?

উপযুক্ত কারণেই এসেছে।

যেমন?

যেমন, আজ সকালেও ইলমা ফোন করে কান্নাকাটি করেছে কিছুক্ষণ। ওর হাজবেন্ড গতরাতে আবারো ওর গায়ে হাত তুলেছে। কারণ সেই একটাই। দেরি করে বাসায় ফিরেছে কেন এই প্রশ্ন করা মাত্রই ইলমার হাজবেন্ড রেগে গিয়েছে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গায়ে হাত তুলেছে। ইলমা খুব ভালো করেই জানে ওর হাজবেন্ড দেরি করে ফিরেছো কেন? ফোন দিয়েছিলাম রিসিব করোনি কেন? ম্যাসেজের জবাব দাওনি কেন? আমাকে সময় দাও না। ইত্যাদি ধরণের অভিযোগ পছন্দ করে না। বিয়ের পর থেকেই এই একটা ব্যাপারে ওদের ঝগড়াঝাঁটি লেগেই আছে। এখন তো ঝগড়া গায়ে হাত তোলার পর্যায়েও চলে গিয়েছে। দুজন তো চাইলেই পারে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সরে এই সমস্যাটার সমাধান করতে। কিন্তু তারচেয়ে ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি ওদের কাছে সহজ। অথচ দেখো মানুষ হিসেবে কিন্তু ইলমা, নাজমুল ভাই দুজনই ভালো। একজন অভিযোগ করা ছাড়তে পারছে না, অন্যজন অভিযোগ শোনা মাত্র মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। শুধুমাত্র এই একটা কারণে নিত্য দ্বন্দ্ব লেগেই আছে দুজনের মধ্যে। মানুষ কেন এমন অবুঝের মতো আচরণ করে সত্যিই আমার বুঝে আসে না। যাকে ভালোবাসার দাবী করে তাকে আঘাত কিভাবে করে? যার সাথে জীবনের সুখ-দুঃখ বাঁধা তার অপছন্দীয় একটা কাজ বর্জন করতে এত কিসের আপত্তি? কতবার বলেছি ইলমাকে যেহেতু পছন্দ করে না প্রশ্ন করো না। কখনো যদি প্রশ্ন নাও করে তখন গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। এতে আরো বেশি রেগে যায় ওর হাজবেন্ড।

আয়ান হেসে বলল, সারাদিন পর বাইরে থেকে ফিরে বৌয়ের ভোঁতা মুখ দেখলে রাগ করাটা স্বাভাবিক। অবশ্য ঘরে ফিরে যাতে বৌয়ের হাসিমুখের দেখা মেলে সেজন্যও ভূমিকা থাকা জরুরি। যাইহোক, এখন মানুষের কথা থাক।

মোটেই না। এই ব্যাপারেও আমি কথা বলতে চাচ্ছিলাম। আমাদের দুই ব্লিডিং পরেই থাকে ইলমারা। তারমানে ওরাও আমাদের প্রতিবেশি। শুধু আমি একা একা প্রতিবেশির হক আদায় করবো তাতো হবে না। তোমাকেও আদায় করতে হবে প্রতিবেশির হক।

ছিঃ মাহাম এসব তুমি কি বলছো? তুমি আর আমি বুঝি আলাদা? আমি করি আর তুমি করো একই কথা।

মাহাম হেসে ফেলে বলল, জ্বিনা মোটেই এক কথা না। আগামীকাল ছুটি। আমি ইলমা আর নাজমুল ভাইকে দাওয়াত দিয়েছি। ইলমাকে বুঝিয়ে বলে আমি আমার হক আদায় করবো। নাজমুল ভাইয়ের সাথে কথা বলে প্রতিবেশির হক আদায়ের দায়িত্ব তোমার।

আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে তুমি কোথায় যাচ্ছো?

দুপুরে যা রান্না করেছিলাম আমার প্রতিবেশিনী ভগ্নী তার দুই বান্ধবী নিয়ে এসে খেয়ে দেয়ে হাঁড়িপাতিল ধুয়ে রেখে গিয়েছে। রাতের রান্না করতে হবে এখন।

তারচেয়ে চলো এক কাজ করি। তোমার প্রতিবেশিনী ভগ্নীকেও সুযোগ দেই প্রতিবেশির হক আদায়ের। ওদের দরজা নক করে বলবো, আমাদের ঘরে রান্না করা কোন খাবার নেই। অভুক্ত প্রতিবেশিদের রেখে আপনারা মজাদার খাবার খেয়ে গোনাহগার হবেন সেটা আমরা চাই না। তাই আপনাদের বাসায় দাওয়াত খাওয়ার মাধ্যমে আপনাদেরকে নেকী অর্জনের সুযোগ করে দিতে চলে এসেছি আমরা দুজন।

হেসে ফেললো মাহাম। হাসিতে যোগ দিলো আয়ানও। হাসতে হাসতে দুজন রওনা দিলো শাবাব আর আরিফীর বাসায়।

পর্ব-৪

 

কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা’ কর্নার


নারী সংবাদ


ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রায়পুরা গ্রামের দশ বছর বয়সী রুবায়েত হোসেন প্রায়ই অসুস্থ থাকে। মূলত কিছুদিন পরপরই সে ডায়রিয়া আর জ্বরেও ভোগে। যার ফলে প্রতি মাসেই স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে হয় তাকে।
একই এলাকার নবম শ্রেণীর ছাত্রী সালমা বেগম। মেয়েটি সব সময় ক্লাসের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কখনোই স্কুলে সে অনুপস্থিত থাকতো না। কিন্তু গত কয়েক দিন যাবত সে স্কুলে আসছে না। কারণ প্রথমবারের মত পিরিয়ড হয়েছে তার। খবর পেয়ে স্থানীয় এক নারী এনজিও কর্মী দেখা করতে যায় তার সাথে। ওই এনজিও কর্মী সালমাকে নিয়ে আসেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। সেখান হতে সালমাকে দেওয়া হয় পিরিয়ডকালীন পরিচর্যার পরামর্শ এবং কিছু আয়রন ট্যাবলেট।
বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অন্যান্য সব খাতের মতই স্বাস্থ্য সেবাও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। আর সরকারের এ সকল উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)।
স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ভোলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা।
ফলে এ অঞ্চলের সকল স্তরের কিশোর-কিশোরীরা এসব কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এসে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা, বাল্য বিয়ের কুফল, পুষ্টি, আয়রন ট্যাবলেট খাবার নিয়ম, পিরিয়ডকালীন পরিচর্যা, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয় সেবা পেয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে ভোলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার একেবারে গ্রাম পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীরা। আর এ কেন্দ্র পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
সালমা বলে, পিরিয়ড হওয়ার পর আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম আমার খুব বড় কোন অসুখ হয়েছে। ভয়ে মাকেও কিছু বলতে পারিনি। নোংরা কাপড় ব্যবহার করতাম। এরফলে আমি আরো অসুস্থ হয়ে যাই। পরে এই সেবা কেন্দ্রর কিশোরী কর্নারে গিয়ে পিরিয়ডকালীন সময়ের পরিচর্যা এবং করণীয় সম্পর্কে জেনে অনেকটা হাল্কা হলাম।
সালমার বান্ধবী ফিরোজা আক্তারও জানায়, তার অভিব্যক্তি। ফিরোজা বলে, প্রথমবার যখন পিরিয়ড হয় তখন আমি ভেবেছিলাম আমার অনেক বড় কোন অসুখ হয়েছে। আমি হয়ত আর বেশি দিন বাঁচব না। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে বাড়ীর পাশের এক বড় আপাকে সব জানালে তিনি আমাকে এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের কিশোরী কর্ণারে নিয়ে আসেন। এখন আমি নিয়মিতই এখানে আসি। আবার কেউ সমস্যায় পড়লে তাকেও এখানে নিয়ে আসি পরামর্শের জন্য।
অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রফিক উদ্দিন বলে, আমি প্রায় সময় ডায়রিয়াতে ভুগতাম। মাসে একবার দু’বার আমার ডায়রিয়া হত। পরে এক বন্ধু আমাকে এই সেবা কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এখান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য পরামর্শ পাওয়ার পর থেকে আমি অনেকটা সুস্থ। এখন আমি খাওয়ার আগে এবং পরে ভালো করে হাত ধুঁেয় নিই। এছাড়াও অন্যান্য কাজ করার পরেও আমি হাত ধুঁেয় নিই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা রাহেলা বেগম জানান, আগে সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে কিশোরীদের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে গেছে কয়েক গুন। মূলত এই কেন্দ্রে কিশোরী কর্নার হওয়ায় তাদের সেবা নেয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
এখানে কিশোর-কিশোরীদের আমরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়ে যেমন স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বয়:সন্ধিকালে করনীয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়াও কিশোরীদের স্যানিটারি প্যাডের ব্যাবহার, বয়ঃসন্ধি সময়ের খাবার-দাবার, বয়ঃসন্ধিকালসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এই সেবা কেন্দ্রের সাথে জড়িত স্থানীয় এক ক্লিনিকের ডা. সাইদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিশোরী কর্নার হওয়ায় কিশোরীরা এখানে নিয়মিত সেবা নিচ্ছে। ফলে এলাকায় অসুস্থ কিশোর-কিশোরীর হার কমে যাচ্ছে।

সুত্রঃ বাসস

 

মুরগির গোস্তের রেসিপি


রেসিপি


মুরগির মাংসের সাদা ভুনা

যা যা লাগবে:
মুরগির মাংস ১/২ কেজি
টকদই ১/২ কাপ
পেঁয়াজ কুচি ৩টি
পেঁয়াজ বেরেস্তা ৩ টেবিল চামচ
আদ বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
জিরা গুড়া ১ চা চামচ
গোলমরিচ গুড়া ১ চা চামচ
লবণ স্বাদমত, চিনি স্বাদমত
টেস্টিং সল্ট ১/২ চা চামচ
তেজপাতা ১টি
কাঁচামরিচ ১২টি
সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ

রান্নার প্রক্রিয়া:

প্রথমে মুরগির মাংস, টকদই, অর্ধেকটা পেঁয়াজ কুচি, আদ বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুড়া, গোলমরিচ গুড়া, লবণ ভালভাবে মেখে আধাঘন্টা মেরিনেট করে রাখতে হবে। এবার তেল গরম করে বাকি পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিতে হবে। এবার মেরিনেট করা মাংস কড়াতে ঢেলে একটু ভেজে ঢেকে দিতে হবে পানি বের হবার জন্য।

মুরগির মাংসের টিক্কা

যা যা লাগবে:
মুরগির মাংসের কিমা ২ কাপ,
পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ,
কাঁচা মরিচ ৩টি,
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ,
আদা বাটা ২ টেবিল চামচ,
সয়াবিন তেল ১ কাপের চার ভাগের এক ভাগ,
ঘি ৩ টেবিল চামচ, টকদই আধা কাপ,
পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ,
গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ,
কাজু ও পোস্ত বাটা একসঙ্গে মিলিয়ে ৩ টেবিল চামচ,
লবণ পরিমাণমতো।

রান্নার প্রক্রিয়া:

১. মুরগির কিমা, লবণ, আদা বাটা দিয়ে একসঙ্গে মেখে ছোট ছোট মার্বেলের মতো বল করে ২০ মিনিট রেখে দিন।
২. এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, আদা বাটা, কাজু ও পোস্ত বাটা দিয়ে মসলা ভুনে বলগুলো দিন। সঙ্গে দই দিয়ে কষান। পানি দেওয়া যাবে না।
৩. ঘন হয়ে এলে কাঁচা মরিচ, ঘি, গরম মসলা গুঁড়া ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মাংস কষে যখন পানি কমে আসবে তখন ৬-৭টি মরিচ ফালি দিয়ে আর একটু কষাতে হবে। পুরোপুরি কষান হয়ে গেলে পরিমাণমত পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাংস হয়ে আসলে তাতে বেরেস্তা, বাকি মরিচ ফালি, টেস্টিং সল্ট ও চিনি দিয়ে নেড়ে আর দুই মিনিট রান্না করে চুলা নিবিয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে আরো ১৫ মিনিট। এরপর পরিবেশনের জন্য তৈরি মজাদার মুরগির মাংসের সাদা ভুনা।

 

নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ ‘ভাঙ্গুড়া’


নারী সংবাদ


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির একছাত্রীর শ্নীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী এক সন্তানের জনক মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে তানজুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ওই ছাত্রীর পরিবার ও নৈশপ্রহরীর পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা দেনদরবারও হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা মায়া জানান, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী সবার আগে বিদ্যালয়ে আসে। তখন নৈশপ্রহরী শরিফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের টেবিল পরিস্কার করতে বলে। এ সময় ছাত্রী তার কথামতো কয়েকটি টেবিল পরিস্কার করে। শেষে শ্রেণিকক্ষের পাশে একা পেয়ে শরিফুল তার শ্নীলতাহানির চেষ্টা করে। ছাত্রী ছাড়া পেয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শরিফুল তার হাতে পাঁচ টাকা দিয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করে। কিন্তু সে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনার বিষয়ে খুলে বলে। তার মা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে ঘটনা জানিয়ে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ নিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার গোপনে দফায় দফায় চলে দেনদরবার। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হাই বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার এটিও সোলিম হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ ম জাহাঙ্গীর জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ইউএনও মো. মাছুদুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্রঃ সমকাল।

 

ওরা কেন এতো অভিমানী হয়ে উঠছে


ডা. কবীর জুয়েল


অরিত্রী আর ফিরে আসবে না, ওর জন্য আমাদের অফুরান ভালোবাসা রইলো,আমরা আর দ্বিতীয় কোন অরিত্রী-র এমন অকাল প্রস্থান চাইনে, তবে ——-
এ দায় কি শুধু শিক্ষকদের??????
আমাদের চিন্তার খোরাক আরো বিস্তৃত হওয়া উচিৎ—
১)অরিত্রী-রা কেন এতো অভিমানী হয়ে যাচ্ছে?
২)কেন এমন হঠকারিতা ওদের মনে বাসা বাঁধবে?
৩)কেন আড়ালে আবডালে থেকে ওরা নিজের মতো করে জীবন-কে পরিচালনা করছে?
৪)একটি টিন এজ মেয়ে কেন স্মার্ট ফোনাসক্ত হবে?
৫)একটি নামি দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে-র ছাত্রী হয়ে কেন সে পরীক্ষায় অসদোপায় অবলম্বন করলো,তার পাঠদানে ও তা গ্রহণে কি কোন ঘাটতি ছিলো?
এ জন্য শিক্ষক,সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও সর্বোপরি
অভিভাবকদের কি ভূমিকা রয়েছে?
৬)বিদ্যালয়-কলেজ গুলোর পরিচালনা কমিটি গুলো কি যথার্থ যোগ্য সৎ লোক দিয়ে গঠিত হচ্ছে?
৭)আমাদের শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বেড়ে ওঠা-র প্রকৃয়া-টি কতোটুকু বিজ্ঞানসম্মত? এ নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের করনীয় কি?
আরো বিস্তর সুদূর প্রসারী ভাবনা প্রয়োজন।
ঘটনা একটা ঘটে গেলে সবাই অনেক সমীকরন দাঁড় করাতে চেষ্টা করেন,নানা বক্তৃতা,বিবৃতি আসতে থাকে,
কিন্তু দুদিন পর পূর্বাপর অবস্থা বিরাজ করে,এজন্য-ই
অরিত্র বিষয়ক ঘটনাগুলো-র পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে(১লা ডিসেম্বর’১৮) ফরাসী পার্লামেন্ট আইন করেছে, শিশু কিশোরী-দের ওপর পিতামাতা বা শিক্ষকরা মৃদূ নির্যাতন( Smacking)-ও করতে পারবেনা,এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে-ই বেশ কিছু কঠোর আইন রয়েছে যা শিশু-কিশোরদের বাসা ও বিদ্যালয়ে সম সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে বটে,অতি উৎসাহীরা আমাদের দেশেও এমন আইনের প্রয়োগ চাইবে,মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কোন দেশে আবার এমন আইন নেই,কারণ
এর উল্টো চিত্র-ও রয়েছে।
আমাদের এখনো আইন প্রনয়নের কথা ভাবার দরকার নেই,দু-একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতীত আমাদের সমাজে অন্তত নিজ বাবা মা-কে নিরাপদ ভাবা-ই যায়।
আমাদের শিক্ষকরাও সহানুভূতিশীল,কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতে কি করনীয়,এর ফলশ্রুতিতে (After Effect) কি হতে পারে তা কেবল মানসিক সাস্থ্য বিষয়ে
জ্ঞাত-রাই অগ্রিম অনুধাবন করতে পারে,এ ক্ষেত্রে হাই কোর্টের আদেশ-টি প্রনিধান যোগ্য, ছাত্র শিক্ষক সকলকে মানসিক সাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে,প্রয়োজনে এমন পরিস্থিতিতে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা ও চাপ নিবারণকারী ঔষধ দিতে হতে পারে।
সে বিষয়ে সকল শিক্ষক অবগত নাও থাকতে পারে,তাই শিক্ষকদের দিকে সমসরে অংগুলি নির্দেশ
আমাদের শিশুদের প্রতি স্কুল টিচার-দের নির্মোহ করে তুলবে,তারা ন্যুনতম শাসন করতেও কুন্ঠা বোধ করবে। আকাশ সংস্কৃতির বহুল প্রসার ও দ্রুত নগরায়নে অভিভাবকদের জীবন যাত্রায় ব্যস্ততা বেড়েছে এবং কিশোর কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা ( Adolescent Crisis)ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাবা মায়ের সাথে সখ্যতা কমে যাওয়ায়,নিজ কক্ষে স্মার্টফোন কেন্দ্রীক জীবনাচারে ওরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে যা এই বয়সের সাভাবিক মনোবিকাশে বিরুপ প্রভাব ফেলছে,ওরা ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক ও আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছে,সেই সাথে Observational learning -এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের অসামঞ্জস্য পূর্ণ
আচারে অভ্যস্ত হচ্ছে।
জীবনে পরাজয়ের গ্লানী সইবার ক্ষমতা অর্জন করতে শিখতে হবে,সময় সুযোগ এলে আবার বিজয়ী হয়ে সেই পরাজয়ের গ্লানি ঘুচাতে হবে।
ফ্রান্স কি আইন পাশ করলো, আমেরিকা কি বললো,
বৃটেন কি শিশুদের বিষয়ে কি উপদেশ দিলো, তা আমি পুরোপুরি মানতে নারাজ,ওদের সমাজ ব্যবস্থা ও আর্থ সামাজিক সংস্কৃতি পরিবেশ ওদের এগুলো করতে বাধ্য করছে, আমাদের বাবা মা আমদের Smacking করেছে,আমরা কি উচ্ছন্নে গেছি, মনে হয় এখনো যাইনি, যা হোক তবে Smacking(চাপড়ানো/প্রহার)-এর একটা মাত্রা থাকতে হবে, অহেতুক কারনে অকারণে বকা ঝকা, ছিদ্রান্নেসী হয়ে বাচ্চাকে বা ছাত্র-ছাত্রীকে প্রতিপক্ষ ভাবা কক্ষনো ভালো ফল দেবেনা, নিজের রুটিন একটু বদলে নিন ‘বাচর্চা’ করুন, শব্দটি নতুন মনে হচ্ছে তাই-না আসলে আমি বোঝাতে চাচ্ছি নিজের ঔরসজাত বাচ্চাকে নিয়ে একটু চর্চা করুন, ওকে নিয়ে বাদাম চিবোতে চিবোতে পার্কে বৈকালীক ভ্রমন কাম ব্যায়ামটা সেরে ফেলুন, ওকে নিয়ে তানপুরায় নতুন সুর তুলুন,ওকে নিয়ে শখের সপিংটা সেরে আসতে পারেন। লক্ষ্য রাখুন-কোন ভাবেই সে যেন ঘরকুনো হয়ে ‘Device Centric’ না হয়ে ওঠে।
আর শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ একই – আমাদের সন্তান , আপনাদের হাতে সঁপে দিয়ে আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে চাই, আমদের সন্তানকে আপনার অনুগত
শিষ্য করে বন্ধু করে নিন,ওর কষ্ট, দুঃখ গুলো বোঝার চেষ্টা করুন, আমাদের জানান। একজন দরদি শিক্ষক অনেক আপন হতে পারেন, আমি নিজে দেশে বিদেশে শিক্ষকতা করে এতোটুকু অন্তত বুঝতে পেরেছি,ওরা বাবা মা-এর সাথে যা আলোচনা করতে দিধা করে তা আমাদের সাথে নি:সংকোচে করে থাকে,হয়তো একজন মনোবিদ হওয়াতে আমার এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা একটু বেশী,তবে একজন সহানুভূতিশীল শিক্ষক ( Empathic Teacher) হলে আপনিও অরিত্রীদের আরো আপন করে নিয়ে হদয়ের ক্ষতগুলো
মুছে দিতে পারবেন,তাহলে কোন অরিত্রী-ই আর আমদের ফাঁকি দিয়ে এভাবে চলে যেতে চাইবে না।

 

একদিন তো চলে যাব, পরের ঘরনী হব – ২


রেহনুমা বিনত আনিস


এমন কেন হয়? এর কয়েকটি কারণ চোখে পড়ে। আবারও বলছি, আমি কেবল শিক্ষিত শ্রেণীর কথাই বলছি এবং খুব মোটা দাগে আলোচনা করছি।

১/ স্ত্রীর ত্রুটি – বাবামায়ের আদরে আহ্লাদে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে প্রায়ই বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ফলে সে একটি নতুন পরিবেশে এসে নতুন নিয়মনীতি বুঝে উঠতে অনেক সময় নিতে পারে। এর মাঝে ঘটতে পারে নানান ত্রুটিবিচ্যূতি। দক্ষতার অভাব থাকতে পারে, থাকতে পারে অভিজ্ঞতার অভাব। পরিপক্কতার অভাবে কথাবার্তায় বেহিসাবী হতে পারে, হতে পারে আহ্লাদী কিংবা অভিযোগপ্রবণ। যত্নের মাঝে বড় হওয়া মেয়েটি অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমসিম খেতে পারে, সব দিক সামলে ওঠা কঠিন হতে পারে। সন্তান নিয়ে রাত জাগা, খাওয়া ঘুমের অভাবে, কিংবা শারীরিক অসুস্থতার অভাবে হতে পারে খিটখিটে। কিন্তু যত কিছুই হোক, না থাকুক তার প্রতি ভালোবাসা, অন্তত মানবিকতার খাতিরে কি তার সাথে উপরোক্ত আচরণ করা যায়? অপরদিকে টেলিভিশনের কল্যাণে আমাদের নারীজাতির মাঝে জ্ঞানতৃষ্ণা এমনভাবে হ্রাস পাচ্ছে যে তারা নিজেদের মূল্যায়ন করার কোন উপায়ই রাখছেনা। ভালো পোষাক, ভালো সজ্জা সবই বাইরের জন্য বরাদ্দ। অথচ ঘরের পুরুষটি তাকে অরিজিনাল রূপেই দেখে। তবে এই সজ্জা কার জন্য? বরং একটি মেয়ের নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয় যাতে তার স্বামী তাকে সম্মান করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়।

২/ স্বামীর ত্রুটি – অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলেরা বিয়ে করার জন্য উদগ্রীব থাকে কিন্তু প্রস্তুত থাকেনা। ‘বিয়ে’ শব্দটি শোনার সাথে সাথে তারা টেকনিকালারে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মেয়েটি দেখতে কতখানি সুন্দরী হবে, সে কতখানি বাধ্য অনুগত হবে, সে কি কি রান্না করে খাওয়াবে, সে ত্যাগের মহিমায় কতখানি উদ্বুদ্ধ হবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি জিনিস তাদের মাথায়ই আসেনা। রক্তমাংসে গড়া মেয়েটি যখন তার জীবনে পদার্পণ করবে সে ঠিক স্বপ্নের মেয়েটির মত হবেনা – সে সারাক্ষণ সেজেগুজে বসে থাকলে ঘরের কাজকর্ম করবে কে? সে সারাক্ষণ স্বামীর সাথে বসে গল্প করলে বাকীদের প্রতি দায়িত্ব পালন হবে কিভাবে? এসব কাজ করতে গিয়ে তার ঘাম হবে, চেহারা চুলে ক্লান্তির ছাপ পড়বে, মেজাজ খিটখিটে হবে, মাঝে মাঝে সে অসুস্থ হবে। কিন্তু এই বাস্তবতার জন্য স্বামীটি প্রস্তুত থাকেনা মোটেই। ফলে এক সময় সেই কাঙ্খিত স্ত্রীটিকে স্বামীটির আর ভালো লাগেনা। অথচ এই সমস্ত কিছু মেয়েটি করে তার স্বামীর জন্যই! অপরদিকে পুরুষরা ভুলে যায় তারা সমাজ সংসার এবং বিশ্বাসী হলে তাদের প্রভুকে সাক্ষী রেখে মেয়েটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং, ভালোমন্দ সর্বাবস্থায় মেয়েটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। এই দায়িত্বটিকে নেহাৎ ছেলেখেলা হিসেবে দেখার কোন উপায় নেই। বিয়ে মানে শুধু নিজের চাহিদা এবং প্রাপ্তির হিসেব করা নয়, অপরের চাহিদা এবং প্রাপ্তির হিসেব কষাও বিয়ের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

৩/ জবাবদিহিতার অনুভূতির অভাব – আল্লাহ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কটিকে পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। পোশাক যেমন আমাদের বাইরের আবহাওয়ার বৈরীতা থেকে সংরক্ষণ করে, এই দুইজন সঙ্গী পরস্পরকে সকলপ্রকার অন্যায়, অনাচার, অবিচার, বিপদাপদ, স্খলন কিংবা সমালোচনা থেকে দূরে রাখবে; পরস্পরকে সুন্দর এবং সত্যের পথে অগ্রসর হতে সহযোগিতা করবে; দু’জনে মিলে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। আল্লাহ পুরুষদের তাদের গৃহস্থিত নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন। কিন্তু স্বামী যদি নিজেই আক্রমনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন তখন কেবল স্ত্রীর জন্যই নয়, সন্তানদের জন্যও একটি আতঙ্কজনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই ধরনের পুরুষদের সংখ্যাধিক্য কয়েকটি ইঙ্গিত বহন করে। প্রথমত, এটি আমাদের প্রভুর সামনে আমাদের জবাবদিহিতার সম্পর্কে ধারণার অভাব অথবা অসচেতনতা প্রকাশ করে। নারীরা যা করে তার জন্য নারীরা জবাবদিহি করবে, কিন্তু পুরুষরা যা করবে অথবা করতে ব্যার্থ হবে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে তাদেরই। দ্বিতীয়ত, আমরা ভুলে যাচ্ছি, আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষরাই জানেন আমরা প্রকৃতপক্ষে কতখানি ভালো বা মন্দ, আল্লাহ আখিরাতে এদের কাছেই সাক্ষ্য নেবেন আমাদের ব্যাপারে; সুতরাং ফেসবুকে কিংবা অনুষ্ঠানে কিংবা দাওয়াতে কেউ আমাদের কথা শুনে আমাদের ব্যাপারে কি ভাবল তাতে কিছু যায় আসেনা, আমি যখন বাসায় ফিরি তখন আমাকে দেখে আমার স্ত্রী পুত্র কন্যা খুশি হয় না আতঙ্কিত হয় সেটাই আমার পরিচয়। তৃতীয়ত, আমাদের জ্ঞানের অভাব আমাদের মাঝে এমন এক শ্রেনীর সৃষ্টি করছে যারা পোশাকী আচরণ সম্পর্কে যতখানি সচেতন, ভেতরকার পবিত্রতা সম্পর্কে ততখানি সচেতন নন। একসময় পারিবারিক এবং সামাজিক বন্ধনগুলো এমন ছিলো যে স্বামীস্ত্রীর মাঝে সমস্যা দেখলে আত্মীয়পরিজন বন্ধুবান্ধবরা হস্তক্ষেপ করে এর সমাধান করে দিতেন। বর্তমান যুগে ‘প্রাইভেসী’ এবং ‘পার্সোনাল’ জাতীয় কতগুলো শব্দ, যেগুলোর অর্থ সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে ব্যাক্তির নিজের ধারণাও খুব একটা স্পষ্ট নয়, ব্যাক্তির স্বেচ্ছাচারীতাকে দিয়ে দিচ্ছে সীমাহীন স্বাধীনতা। ঐশী জবাবদিহিতার পাশাপাশি সামাজিক জবাবদিহিতার ধারণাটিও হয়ে যাচ্ছে বিলুপ্ত।

তবে সব কথারই একটা শেষ কথা থাকে। একটু ধৈর্য্য ধরে শেষ কথাটি শুনুন। আমার মা এক অসাধারন সুন্দরী মহিলা যার মনে আজীবন দুঃখ তার মেয়েটি কিভাবে দেখতে এত খারাপ হোল। মাদ্রাজে আমাদের প্রতিবেশীনি এক প্রফেসর ছিলেন, অসাধারন এক ভালোমানুষ, কিন্তু দেখতে আমার মায়ের ভাষায় ‘গোরিলার মত’। এই কথা শুনে বাবা ভীষণ রাগ করল, ‘আমার মেয়ে দেখতে যেমনই হোক, আমার চোখে সে রাজকন্যা। তিনিও তাঁর বাবামায়ের চোখে রাজকন্যা। তাঁর অসাধারন সুপুরুষ ডাক্তার স্বামী যেমন তাঁকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন, আমি চাই কোন একদিন আমার মেয়েটিরও এমন এক স্বামী হবে যে তাকে মূল্যায়ন করবে, মর্যাদা দেবে’।

ভেবে দেখুন, আপনার কাছেও আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ আপনার মেয়েটি যে একটু আদর পাবার জন্য কাতর হয়, একটু ভালোবাসা পাবার জন্য আপনার ঘরটিকে জান্নাত বানিয়ে রাখে এবং যে আদতেই হবে আপনার জান্নাতে যাবার উসিলা। ভাবুন তো আপনার এই মেয়েটিকে কেউ কথায় কষ্ট দিচ্ছে কিংবা অত্যাচার করছে! আমার তো লিখতে গিয়েই আমার মেয়ের কথা ভেবে দু’চোখে নদী প্রবাহিত হচ্ছে! আপনি আজ আপনার স্ত্রীর সাথে যে আচরণ করছেন সেটি সযত্নে সংরক্ষিত হচ্ছে এমন এক খাতায়, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও যে খাতার অস্তিত্ব বিলীন হবেনা। সে কথা পরে হবে। কিন্তু আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার আজকের আচরন যদি আপনার প্রভু আপনার প্রানাধিক প্রিয় কন্যার জীবনে প্রতিফলিত করেন, আপনি সহ্য করতে পারবেন তো? পারবেন না, কিছুতেই পারবেন না। সেদিনের কথা ভেবে, আগামীবার যখন স্ত্রীর কোন কথায় কিংবা আচরনে ধৈর্য্যহারা হয়ে যাবেন, তখন আপনার প্রভুর বিচারকে ভয় করুন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। মানুষের সামনে ভালো হবার পরিবর্তে আপনার প্রভুর সামনে উত্তম চরিত্রের পরিচয় উপস্থাপন করুন। আপনার সংসারটিকে পরিণত করা অথবা তাতে আগুন জ্বালানোর সিদ্ধান্ত আপনারই হাতে।

পর্ব-১

 

সচেতনতায় কমছে কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানি


নারী সংবাদ


সাভারের এক জুতার কারখানায় কাজ নেয় একুশ বছর বয়সী রুমা আক্তার। মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মারা যাওয়ার পর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। তাই পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে পড়ালেখার ইতি টেনে হাল ধরতে হয় সংসারের। কাজ শুরুর দুই মাসের মাথায় তার সেকশনের ম্যানেজার বারবার কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করে রুমাকে রুমে ডেকে নিয়ে যেত। প্রথম প্রথম ভালো আচরণ করলেও পরে নানা ধরনের প্রস্তাব দিতে থাকে ম্যানেজার। প্রথম কয়েকদিন মুখ বুঁজে সহ্য করলেও এক সময় প্রতিবাদ করে বসেন রুমা। সরাসরি ফ্লোর লিডারকে জানায় ঘটনা। ফ্লোর লিডার জানায় কারখানার জেনারেল ম্যানেজারকে। দু’দিনের আল্টিমেটাম দেন তিনি। দু’দিনের মধ্যে যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে কাজ বন্ধ করে রাস্তায় অবরোধের পাশাপাশি আদালতে মামলা করারও হুমকি দেন ফ্লোর লিডার তাহমিনা হক।
অবস্থা বেগতিক দেখে পরদিনই কারখানার পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চাকরি হারায় ওই ম্যানেজার।
তবে দেশের সব কারখানার সকল নারী কর্মীরা রুমার মত অত সাহসী নয়। মুখ বুঁজে সহ্য করেন পুরুষ সহকর্মীদের নির্যাতন। অনেকে আবার সহ্য করতে না পেরে চাকরিও ছেড়ে দেন।
সুমাইয়া তাদের মতই একজন নারী। কাজ করেন নারায়ণগঞ্জ শিল্প এলাকার একটি পোশাক কারখানায়। কাজ শুরু করার এক বছর পর তার সেকশনের ম্যানেজার হিসেবে নতুন চাকরিতে যোগ দেন এক পুরুষ। নাম মো. জুবায়ের। একমাসের মাথায় নজর পড়ে সুমাইয়ার উপর। এরপর থেকেই স্বামী পরিত্যাক্তা সুমাইয়াকে নানা ইঙ্গিত দিতে থাকে জুবায়ের। কাজে-অকাজে রুমে ডেকে নিয়ে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও পরে কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকেন সুমাইয়া। কিন্তু তারপরও পিছু ছাড়েনি জুবায়ের।
সুমাইয়া বলেন, অনেকবার ভেবেছি চাকরি ছেড়ে দিব। আর তখনই আমার দুই সন্তানের মুখ ভেসে উঠে চোখে। এই কারখানায় বেতন একটু বেশি আর নিয়মিত তা পাওয়া যায়। ফলে চাকরিও ছাড়তে পারছি না। তাই মুখ বুজে এখানে পড়ে আছি।
শ্রমিক নেতা সোহেলুর রহমান বলেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি করার নির্দেশনা রয়েছে আদালতের। কিন্তু অনেক কারখানা তা মানছে না। আবার মালিক পক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। তাই অধিকাংশ কারখানায় নারী নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা ছিল একসময়। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে।
এখন অনেক নারী শ্রমিক নিজেরাই প্রতিবাদ করেন। তাদের প্রতিবাদের কারণে অনেক পুরুষ কর্মীর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বর্তমান সময়ে। যা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ভাবাই যেত না।
কর্মজীবী নারী’র করা ‘এস্টেট অব রাইটস ইমপ্লিমেন্টেশন অব উইম্যান রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়াকার্স’ শীর্ষক এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পোশাক তৈরি কারখানাগুলোতে শতকরা ১৩ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার।
মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মনোয়ারা বলেন, কারখানাগুলো যদি আদালতের দেওয়া গাইডলাইন মেনে চলত তবে যৌন হয়রানী অনেকাংশে কমে যেত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনেক কারখানা এই গাইডলাইন মেনে চলে না। আবার অনেকে এ বিষয়ে কিছু জানেও না। তিনি আদালতের এই গাইডলাইন মেনে চলার জন্য এবং এ বিষয়ে কারখানার মালিকদের জানানোর জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির করার দাবী জানান। এই কমিটি সম্পূর্ণ বিষয়টি মনিটর করবে। যদি কোন কারখানা এই গাইডলাইন না মানে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবী জানান এডভোকেট মনোয়ারা। সুত্র: বাসস

 

একদিন তো চলে যাব, পরের ঘরনী হব -১


রেহনুমা বিনত আনিস


ছোটবেলায় টিভিতে একটা গান প্রায়ই শুনতে পেতামঃ
একদিন তো চলে যাব, পরের ঘরনী হব,
আঁচলে বাঁধতে পারবিনা।
ও মা তোর পায়ে পড়ি, দুষ্টুমী যদি করি,
কখনো মা তুই রাগ করিসনা, মা তুই রাগ করিসনা!
তখন গানটার মর্ম বুঝতাম না। মনে হত একটি মেয়ে মায়ের আঁচলের ছায়াতলে থেকেও মায়ের রাগের ভয়ে এত কাতর হবে কেন? মেয়েরা কেন এতটা আবেগপ্রবণ? ওরা কেন বোঝেনা এই আবেগ তাদের কতখানি দুর্বল করে ফেলে, ভীত করে রাখে?
এখন বয়স বেড়েছে, আজকাল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অভিজ্ঞতার ঝুলিটার ভারও কিছুটা অনুভব করি। ইদানিং একটি সমস্যা প্রায়ই আমার কাছে আসছে যেটি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চায়না, লোকলজ্জার ভয়ে। অথচ লজ্জা যাদের পাওয়া উচিত তারা সমাজে ভদ্রলোক হিসাবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান। এই সমস্যা দেশী বিদেশী, মুসলিম অমুসলিম, নামাজী বেনামাজী অনিয়মিত, বিবাহিত প্রাক্তন-বিবাহিত অবিবাহিত সকল শ্রেনীর মাঝেই দেখা যায়। সমস্যাটা মূলত মানবিকতার বিপর্যয়ের ফল। কিন্তু সমস্যাটা জাবাবদিহিতার অভাবের ফসলও বটে।
সময়ের পরিক্রমায় বাবামায়ের আদরে আহ্লাদে লালিত পালিত কন্যাটি এক সময় তাদের ছেড়ে ‘পরের’ ঘরনী হয়। হৃত স্বজনদের স্থলে ‘পর’কে আপন করে নেয়ার সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়। অনেক সময়ই এই ‘পর’রা আপন হতে নারাজ থাকেন। কিন্তু যে মানুষটাকে কেন্দ্র করে এই প্রচেষ্টা, সে যখন মেয়েটিকে মূল্যায়ন করেনা, তাকে বোঝার চেষ্টা করেনা, এমনকি তাকে কষ্ট দিতেও কুণ্ঠিত হয়না তখন মেয়েটির আসলেই মনে হয়, ‘হে ধরণী, তুমি দ্বিধা হও, আমি তোমাতে প্রবেশ করি’।
যে সমস্যাগুলো কানে আসছে বা চোখে দেখেছি সেগুলো খুব মোটা দাগে নিম্নরূপ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আমি এখানে মূলত শিক্ষিত শ্রেণীর কথা বলছিঃ

১/ গালি

যে মেয়েটি স্ত্রী হয়ে আসে সে তো আর ফেরেস্তা নয়! মানুষ হিসেবে তার দোষত্রুটি রয়েছে, স্বামীর মেজাজ খারাপ হতেই পারে, সে অবস্থায় ধৈর্য্য হারিয়ে বকা দেয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গালি দেয়া, যে গালি শুরুই হয় ‘বেশ্যা’ অর্থসূচক শব্দাবলী দিয়ে! যে মেয়েটি বাবামায়ের কাছে রাজকন্যার মর্যাদা পেয়ে বড় হয়েছে, পেয়েছে সর্বোচ্চ শিক্ষা এবং আদবকায়দার প্রশিক্ষণ, তার কাছে এই শব্দগুলো শোনা মৃত্যুর চাইতেও কঠিন যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এই ধরণের শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বামীরা কি ধরণের রুচিবোধের পরিচয় দিচ্ছেন? তারা মর্যাদা চান, কিন্তু মর্যাদা দিতে নারাজ। স্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করতে গিয়ে তারা নিজেরা যে স্ত্রীর দৃষ্টিতে নিজেদের কোথায় নামিয়ে নিচ্ছেন তা কি তারা ভেবে দেখেন না?

২/ অশালীন মন্তব্য

স্ত্রীর ওপর অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে নানারকম অশালীন মন্তব্যের মাধ্যমে। এর মধ্যে স্ত্রীর চেহারা সুরত, স্বভাব, আচরণ, চরিত্র, কর্মপদ্ধতি কোনকিছুরই সমালোচনা বাদ পড়েনা। সময় সময় এই সমালোচনা তার পরিবার পর্যন্ত গড়ায়। অধিকাংশ মেয়েরা এর প্রতিবাদ পর্যন্ত করার সাহস পায়না। কারণ তখন এর সাথে যোগ হবে প্রথম কিংবা তৃতীয় সমস্যাটি। একজন স্বামী যদি স্ত্রীর দোষত্রুটি উদ্ঘাটন করতে শুরু করেন, মানুষ হিসেবে তার পরিপূর্ণতার অভাবকে মেনে নিতে নারাজ হোন, এই কারণে মেয়েটির পরিবারকে দায়ী করেন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে – তিনি নিজে কি ত্রুটিমুক্ত, নিখুঁত? যে স্ত্রীকে তিনি ‘লিবাস’ হয়ে রক্ষা করার ওয়াদা দিয়ে বিয়ে করে এনেছেন, যে মেয়েটি তাকে বিশ্বাস করে নিজের ঘর ছেড়ে এসেছে, তাকে যখন স্বামী খোলা বাজারের পণ্যের মত সমালোচনা করেন তখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, তার ত্রুটিবিচ্যূতি বিশ্লেষণ করতে বসলে তার অবস্থান কোথায় পাওয়া যাবে?

৩/ গায় হাত উঠানো

যাকে মেয়েটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশ্বস্ত মনে করে বাবামা তাদের মমতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা কন্যাকে অর্পন করেন, তাকে যখন রক্ষক নিজেই আক্রমন করে বসে তখন মেয়েটি কোথায় যাবে, কি করবে বলতে পারেন? বিশেষ করে শিক্ষিত পরিবারের মেয়েরা এতটা মায়াময় পরিবেশে বড় হয় যেখানে বাবামা তাদের গায় ফুলের টোকাটিও লাগতে দেন না। সেখান থেকে এসে, যার জন্য আসা, তার কাছে এমন আচরণ পেয়ে মেয়েটির কাছে জীবন যে কি পরিমাণ বিষাক্ত মনে হয় বলাই বাহুল্য।

৪/  স্ত্রীর সুবিধা অসুবিধা না বোঝা

উপরোক্ত স্বামীরা সমাজে আশ্চর্যরকম শিক্ষিত, ভদ্র, শালীন, সামাজিক, সংবেদশীল, সাহায্যপরায়ন এবং অসংখ্য গুনের আধার হিসেবে পরিচিত। এদের মাঝে নারীজাতির প্রতি সম্মানবোধ এবং সহানুভূতি প্রবল। এমনকি সিনেমার নায়িকার কল্পিত দুঃখ দেখে তাদের দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা নেমে আসে। কিন্তু নিজের ঘরের রানী করে আনা মেয়েটির প্রতি তাদের সহানুভূতির অদ্ভুতরকম অভাব। যে মেয়েটি তার পরিবার পরিজন ফেলে এসে স্বামীর পরিবার পরিজনের পরিচর্যা করে, তার সংসার সাজায়, তার সন্তান ধারণ করে, তার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করে, তার সন্তানদের প্রতিপালন করে, তার ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুঃখ বেদনা কিছুই স্বামীটিকে স্পর্শ করেনা! তিনি যা পান তা নিজের অধিকার মনে করেন, তাতে কোন একদিন কিছু একটা ঘাটতি হলে অভিযোগ করেন, মেজাজ খারাপ হলে প্রথম তিনটির যেকোন একটি বা কয়েকটির অবতারণা ঘটে – অথচ তিনি কখনোই ভেবে দেখেন না তার কি পরিমাণ ত্রুটি বিচ্যুতি অভাব অভিযোগকে সঙ্গী করে মেয়েটি তার সাথে সংসার করে যাচ্ছে। প্রায়ই স্বামীরা অন্যের স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকেন, সাথে নিজের স্ত্রীর সমালোচনা। অথচ সেই ভদ্রমহিলার স্বামীর কি অবস্থা তা তিনিই জানেন!

চলবে….

 

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় নারী চিকিৎসক নিহত


নারী সংবাদ


রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্তার জাহান রুমা (২৮) নামে এক নারী চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোর ৫টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভোর সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত আক্তার জাহান চট্টগ্রামের হালিশর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আক্তারুজ্জামান। তিনি চট্টগ্রাম ওসমানীনগরে একটি চু হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, রাজধানীর একটি চু হাসপাতালে পরীক্ষা দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে এসেছিলেন আক্তার জাহান রুমা।

গতকাল সকালে মহাখালী থেকে সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস সিএনজিকে ধাক্কা দিলে সেটি রাস্তায় উল্টে পড়ে। এ ঘটনায় নারী চিকিৎসক আক্তার জাহান গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন এ সময় ওই নারী চিকিৎসককে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় সিএনজি চালকও আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় একটি হসপিটালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সুত্র: নয়াদিগন্ত

 

নারীর অধিকারে যত আইন


নারীর জন্য আইন


রাষ্ট্রে নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো রূপ বৈষম্য নেই। আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান অধিকারী। প্রতিটি রাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব আইন রয়েছে।
তবুও অনেক আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক নারী বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অধিকার আদায়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন নারীরা।

আশির দশকের নারী আইন:
নারী নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আশির দশকের শুরুর দিকে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দমনে ১৯৮৩ সালে এ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু নারী নির্যাতন বন্ধে এ আইন খুব বেশি কার্যকর হচ্ছিল না।

নম্বই দশকের নারী আইন:
আশির দশকের আইনে কাজ না হওয়ায় আরো কঠোর আইন তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরে ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন পাস করা হয়। এ আইন পাসের পর নারী নির্যাতন কিছুটা বন্ধ হয়।

বিংশ শতকের নারীর আইন:
তবে পরে আইনটি বাতিলক্রমে ২০০০ সালে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়। আইনটিকে আরো শক্তিশালী করতে ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া এসিড-সন্ত্রাস দমন আইন ২০০২ ও যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন ১৯৮০, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ প্রভৃতি আইন রয়েছে।
এ ছাড়া নারীনীতিসহ কিছু নীতি ও আইন আছে, যেখানে পরোক্ষভাবে নারীর অধিকার ও স্বার্থকে রক্ষা করা হয়েছে।

দেশে প্রথমবার নারীনীতি আইন প্রণয়ন করা হয় ১৯৯৭ সালে, এরপর ২০০৪ ও ২০০৮ সালে তা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে পুনরায় নারীনীতি প্রণয়ন করা হয়।

নারীর তালাকের বিধান:
এ ছাড়া পুরুষকে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন না থাকলেও মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ মোতাবেক নারীদের বিবাহবিচ্ছেদেরও অধিকার দেওয়া হয়। পারিবারিক আইনে নারীর অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। কিন্তু সামাজিকভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকায় নারী তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংবিধান এবং আইনে থাকলেও নারীর প্রতি বৈষম্য বিরাজ করছে সমাজের সর্বক্ষেত্রেই।

নারীর অধিকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মানুষের মানসিকতা। পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারলে সমাজে নারীদের অধিকার সহজেই প্রতিষ্ঠা পাবে।

 

ভিকারুন নেসা নূন স্কুলের ছাত্রীর আত্মহত্যা


নারী সংবাদ


ভিকারুন নিসা নূন অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী (১৫) আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের সামনে তার বাবা ও মাকে স্কুলশিক্ষক বকাঝকা করার কারণেই অরিত্রি আত্মহত্যা করেছে।
অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিনগর এলাকার একটি বাসার সাত তলায় ভাড়া থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। তিনি বলেন, গতকাল সকালে পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে যায় অরিত্রি। কিন্তু তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় স্কুলকর্তৃপক্ষ অরিত্রির বাবা মাকে স্কুলে যেতে বলেন। খবর পেয়ে বাবা মা দুজনই স্কুলে যায়। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দেয়, অরিত্রি পরীক্ষায় মোবাইল দিয়ে নকল করছিল। তাকে স্কুল থেকে টিসি দেয়া হয়েছে। তখন অরিত্রির বাবা মা স্কুলের শিক্ষকদের কাছে অনেক অনুরোধ করেন তাকে টিসি না দেযার জন্য। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কথা না শুনে অরিত্রিকে স্কুলে রাখা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
অরিত্রির বাবার আরো জানান, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে আমি বাসায় চলে আসি। তাদেরকে বাসায় রেখে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে তদবির শুরু করি। হঠাৎ বাসা থেকে ফোন আসে, অরিত্রি ঘরের দরজা খুলছে না। পরে দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত অরিত্রির বাবার অভিযোগ অরিত্রিকে যদি টিসি না দিয়ে আরেকবার সুযোগ দেয়া হতো তাহলে হয়তো তার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতো না। মেয়ের সামনে তাকে ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করেন শিক্ষক। তা হয়তো মেয়ে সহ্য করতে পারেনি। এসব তথ্য জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সাব ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া।
সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

“আর নয় হতাশা”


নিশাত জাহান নিশা


কেন যেন দিন দিন হতাশা বেরেই যাচ্ছে, জীবনের সব প্রাপ্তি কেন জানি বিস্বাদ লাগে। আপনি হতাশায় আছেন এর কারণ এই না যে আপনার অনেক দুঃখ আছে। এর কারণ হল আপনি নিজেকে একজন দুঃখী মানুষ ভাবছেন। আপনি আসলে আপনার ব্রেইনে বিষয় বা ঘটনা গুলো এভাবেই প্রোগ্রামিং করে রেখেছেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছে, আমাদের আবেগ ও আচরণের ধরন নির্ধারিত হয়, জীবন সম্পর্কে কী ধরণের চিন্তা আমরা মনের ভেতরে গড়ে তুলেছি সেটার উপর। (এটা কে schema বলে)

যে ঘটনা আপনার সাথে ঘটে গেছে একই ঘটনা ঘটে যাওয়া আরেকজন মানুষকে দেখবেন তার reaction or response দুটো’ই ভিন্ন কেননা সেই মানুষটি অন্যভাবে সব কিছু তার ব্রেইনে প্রোগ্রামিং করেছেন, তার schema ভিন্ন।

আপনি যতবেশি বিষণ্ণতায় ডুবে যাচ্ছেন ততবেশি নেতিবাচক চিন্তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপনার মস্তিস্কের ভেতরে ঘুরপাক খেতে থাকবে। একটি সময় বিষয় গুলো আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করবেন এবং আরও বেশি বিষণ্ণতায় ডুবে যাবেন।
আর তখন আপনি চাইলেই সব কিছু ইতিবাচক ভাবে ভাবতে পারছেন না কেননা ততক্ষনে আপনার চারপাশ সম্পর্কে, নিজের অথবা নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার Negative Core Belief তৈরি হয়ে গিয়েছে। তখন আপনার ব্রেইনে কতগুলো Irrational Belief যা কিনা chain আকারে আপনাকে সব কিছুতে ই নেতিবাচক অনুভূতি দিবে, সুখের স্বাদ ভুলিয়ে দিবে, সব কিছুই দুঃখকর/ হতাশা আর বিষণ্ণ লাগবে।

তাই প্রথমেই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করুন। বেশিরভাগ মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে অন্যদের বিশ্বাসের কথা চিন্তা করে। অন্যদের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের positive দিক গুলো র প্রতি আলোকপাত করুন, confidence বাড়বে; নিজের achievement গুলো কে count করুন Self Esteem boost up হবে।

মনে রাখবেন, আপনি জীবনে সুখি হবেন না দুঃখি হবেন এই responsibility আপনার নিজের’ই নিতে হবে।

আমাদের জীবনের স্বপ্ন কী , জানতে চাইলে অনায়শে কত কথা বলি কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা কী কী করেছি , জানতে চাইলে আমরা চুপ করে থাকছি। ব্যাপারটি কী পরস্পর বিরোধী হয়ে গেল না ?

আপনি নিজেকে যেভাবে সময় দিবেন সময়ও আপনাকে ঠিক সেরকম একটি জীবন দেবে।

আপনি যদি পৃথিবীর সব চেয়ে সুখি মানুষটিকে দেখতে চান সেটি আপনি, যদি পৃথিবীর সব চাইতে বিপর্যস্ত মানুষটিকে দেখতে চান তাহলে সেটি ও আপনি। আপনি নিজেকে যে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন আপনি আসলে তাই।
ধন্যবাদ।

Nishat Jahan Nisha
Assistant Clinical Psychologist.
Dept. Of Clinical Psychology
MPhil Part -1.

 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের স্কুল সংখ্যা বাড়ানো দরকার


নারী সংবাদ


বার বছর বয়সী রাইয়ান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। খুব আবেগ নিয়ে দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে আছে বই। চোখে কোন আলো নেই। আর দশটি বাচ্চার মত সাধারণ নয় সে। প্রতিটি দিন তার শুরু হয় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আর নতুন নতুন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে।
পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশে প্রায় পঞ্চাশ হাজার শিশু রয়েছে যাদের চোখে কোন ধরনের আলো নেই। আবার তাদের অধিকাংশই খুবই গরীব ঘরের সন্তান। আর এ ধরনের বাচ্চাদের জন্য খুব অল্প সংখ্যক বিশেষ স্কুল রয়েছে যেখান হতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আর অধিকাংশ পরিবারের কাছে সরকার পরিচালিত এসব বিশেষ স্কুলই একমাত্র জায়গা যেখান হতে তাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
কিন্তু এসব বিশেষ স্কুলের অধিকাংশই অপর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় বই এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে প্রাইমারী স্তরের পরে আর শিক্ষা প্রদান করতে পারে না।
এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের জন্য বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের জন্য ব্যাপ্টিষ্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুল বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্ত সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং ক্রিস্টোফেল ব্লাইন্ডেন মিশন (সিবিএম)-জার্মানীর সহযোগীতায় কাজ করে যাচ্ছে যাতে করে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়।
১৯৭৭ সালে মিরপুরে পাঁচ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ে শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ব্যাপটিষ্ট সংঘ স্কুলের। পরে ১৯৮৩ সালের ২৩ জানুয়ারী ১০০-আসনের ছাত্রী হোস্টেল সহ স্কুলটি তার নিজস্ব জায়গায় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে স্কুলটিতে ২৭০ জন পড়ালেখা করছে যার মধ্যে ৩৫ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ে শিশু।
স্কুলের অধ্যক্ষ মমতাজ বৈরাগী বলেন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়ে শিশুদের উন্নত শিক্ষা প্রদান করা এবং তারা যেন তাদের আশপাশের সকল পরিস্থিতি বুঝতে পারে। যাতে করে তারা তাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে এবং নিজের পরিবার ও সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
তিনি বলেন, সঠিক যতœ এবং উৎসাহ পেলেই এ ধরনের শিশুরা ভালভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং পরিবার ও সমাজে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাপ্টিষ্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং স্বাভাবিক বাচ্চাদের শিক্ষা প্রদান করছে। স্বাভাবিক বাচ্চারা এই স্কুলে প্রথম শেণী হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পায়। আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চারা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে।’
মমতাজ বৈরাগী বলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েরা সবাই এই স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবে।
স্কুলের উপাধক্ষ্য রুথ মিত্র বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য এটিই একমাত্র আবাসিক স্কুল। এই স্কুলের আবাসিক হোস্টেলে ১০০-জন ছাত্রীর জন্য আসন রয়েছে। যারা মূলত অত্যন্ত দরিদ্র এবং অনগ্রসর পরিবারের সন্তান… তাদের এই হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। হোস্টেলে অবস্থান করা ছাত্রীদের জন্য ফ্রি থাকা, খাওয়া, কাপড়, চিকিৎসা এবং তাদের সকল নিত্য প্রয়োজনের ব্যবস্থা স্কুল কর্তৃপক্ষ করে থাকে।’
তিনি জানান, ২০০৭ সালের জানুয়ারী হতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন বাচ্চাদের জন্য যৌথ পড়াশোনার ব্যবস্থা চালূ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এসময় স্কুলের নাম বদলিয়ে রাখা হয় ব্যাপ্টিষ্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুল (বিএমআইএস)। আর স্কুল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সংঘের স্যোশাল হেলথ এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (শেড) বোর্ড।
বিএমআইএস’র রয়েছে নিজস্ব ব্রেইলিং প্রেস যেখান হতে প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারী লেভেলের সকল ব্রেইলিং পদ্ধতির বই ছাপানো হয়। এখান হতে বই সংগ্রহ করে বাইরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চারাও। এসব বই মূলত বিনা খরচে দেশের সকল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাচ্চারা সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশ ভিজুয়্যালি ইমপায়ার্ড পিপলস সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভূইঁয়া বলেন বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য মাত্র সাতটি বিশেষ প্রাইমারী স্কুল রয়েছে।
তিনি বলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপকরণ অত্যন্ত ব্যয় বহুল। যার ফলে অনেক বাচ্চাই শিক্ষা হতে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও অভিভাবকদের রয়েছে সচেতনতার অভাব।
ব্লাইন্ড এডুকেশন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইযেশন, সাইটসেভার্স ইন্টারন্যাশনাল, বিভিআইপিএস, চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের সর্বোত্তম শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
সুতরাং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে দেশে স্কুল সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াত হবে। তাদেরকে যথাযথ শিক্ষার সুযোগ দিয়ে সমাজের মূল সামিল করতে হবে। তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে সমাজেরই অংশ হিসেবে। উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে তারাও সমাজে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা আজকাল প্রতিবন্ধীরা ব্যবসা, চাকুরির পাশাপাশি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেরর অংশ। শেষ কথা হলো দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।
সুত্র: বাসস।

 

লামায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং, যুবকের ৪ মাসের জেল


নারী সংবাদ


লামায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করার অপরাধে এক যুবককে ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার রাতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-এ-জান্নাত রুমি এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডিত যুবকের নাম আজিজুল হাকিম সুমন। তিনি লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। শনিবার সকালে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই স্কুলছাত্রীকে ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে রাস্তাঘাটে নানাভাবে বিরক্ত করা এবং মোবাইল ফোনে বিরক্ত করে আসছিল। স্কুলছাত্রী ও তার বাবা বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সকালে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. খালেদ মোশারফ অভিযুক্ত যুবককে পৌরসভার চেয়ারম্যান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শুক্রবার রাত ৭টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-এ-জান্নাত রুমি বখাটে যুবক আজিজুল হাকিম সুমনকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ সময় দণ্ডিত যুবকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

লামা থানা উপ-পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডিত যুবককে শনিবার সকালেই বান্দরবান জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
সুত্র:কালের কন্ঠ।

 

কিভাবে স্মার্ট হবেন?


মেইক ইউরসেলফ


চিরস্থায়ী স্মার্টনেসের জন্য নিয়মিত কিছু কাজ করা দরকার। আপনার শার্ট-প্যান্ট নিয়ে ভাববেন না। কেবল খেয়াল রাখুন এগুলো পরিস্কার কিনা, ইস্ত্রি করা কিনা, ব্যাস। চুল নিয়ে কখনোই বেশি দুশ্চিন্তা করবেন না যেমন আছে থাকতে দিন।

১. জ্ঞান অর্জন করা
প্রচুর পড়াশোনা করেন, দেখেন, শোনেন। দরকারি বিষয়গুলো পড়ার সাথে সাথেই একটু করে লিখে রাখেন। স্মার্ট হওয়ার প্রথম শর্ত হলো আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পোশাক আশাক সুন্দর করেই যে আপনি স্মার্ট হবেন তা হবে না।

২.কথা বলা
গুছিয়ে কথা বলা; উপস্থিত বুদ্ধি; পরিষ্কার পরিছন্ন উপস্থাপনা। বেশি বকবক করবেন না, বেশি করে লোকজনের কথাবার্তা শোনেন। এর মধ্যে থেকে ভালো জিনিসগুলো নেয়ার চেস্টা করেন।

৩. খারাপ আচরণ করবেন না
মাথাটাকে সবসময় ঠান্ডা রাখুন, ফ্রেশ রাখুন। বাসার কাজের লোক হোক অথবা অফিসের বস কখনোই কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।

৪. কাজের লিস্ট করুন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলোকে সুন্দর করে লিখে রাখেন।স্টুডেন্ট, চাকরিজীবী, বেকার আপনি যেই হন, আপনার কাজের একটা লিস্ট তৈরি করেন।

৫. বুদ্ধির খেলা খেলুন
বুদ্ধির খেলা খেলেন, পাজল গেম হতে পারে, দাবা, শব্দজট অথবা আপনার পছন্দসই কিছু একটা।

৬. বন্ধু নির্বাচন
স্মার্ট হওয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে ভালো বন্ধু নির্বাচন। হাজার হাজার বন্ধু থাকার চেয়ে পাঁচ জন বিবেকবান, বুদ্ধিমান, শিক্ষিত বন্ধু থাকা লক্ষগুণ ভালো, এদেরকে আপনার একদিনেই জোগার করতে হবে তা না, জীবনে চলারপথে এরকম পাঁচজন মানুষ আপনি চিন্তাভাবনা করে বেঁছে নেন।

৭. পর্যাপ্ত ঘুমান
যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমান। প্রতিদিন ভালো ঘুম হওয়াটা জরুরি।

যে কোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়া এবং নিজের আশে পাশের সম্পর্কে ভালো জানা শোনা থাকা স্মার্ট হওয়ার কিছু অন্যতম দিক। এই সব দিক গুলো নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

 

সিংড়ায় বৃদ্ধা মাকে বাড়িছাড়া করল ছেলে


নারী সংবাদ


‘বৃদ্ধা হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ! আমার ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি বড় অসহায়। জায়গা-জমি সব লিখে দিয়েছি। ঘর-বাড়ি সব কিছু নিয়ে মুখে লাথি মেরে ফেলে দিল। পেটের ছেলে এই ভাবে মারবে মেনে নেয়া যায় না। আমার বাপ, মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন কেউই নেই। তাই বিচারের আশায় এই থানার সামনে সকাল থেকে বসে আছি।’ বলছিলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার কুষাবাড়ী গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা রহিমা বেওয়া।

নিতান্ত অসহায়ভাবে শুক্রবার সকাল থেকে নাটোরের সিংড়া থানার সামনে বসেছিলেন তিনি। শুক্রবার দুপুর ১২টায় থানার সামনে বসে থাকার সময় এই প্রতিবেদককে কাতর কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রহিমা বেওয়া।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কুষাবাড়ী গ্রামের মৃত হুসেন প্রামাণিকের স্ত্রী রহিমা বেওয়া প্রায় ১০ বছর পূর্বে তার স্বামীকে হারিয়ে বিধবা হন। এরপর তিনি তার ৭ ছেলেমেয়ের পরিবারের সাথে জীবনযাপন করতে থাকেন।

সম্প্রতি মেজ ছেলে বেল্লাল হোসেনকে জমি-জমা ও ঘর-বাড়ি লিখে দেন। শুক্রবার সকাল ৭টায় ছেলের কাছে টাকা চাইলে মায়ের মুখে লাথি মেরে ফেলে দেয় ছেলে বেল্লাল হোসেন। গ্রাম্য প্রধানদের সামনেই বৃদ্ধা মাকে করা হয় উপর্যপরি মারপিট।

এদিকে থানার সামনে মাটিতে বসে একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মহিলাকে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিংড়া উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় বিষয়টি সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে অবগত করা হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিংড়া উপজেলার সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে ফেলে দেয়া দুঃখজনক বিষয়। ওই বৃদ্ধা মহিলাকে সহযোগিতা করার জন্য মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা পাশে রয়েছেন।

সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, কোনো ছেলে তার মায়ের মুখে লাথি মেরে ফেলে দেয়ার ঘটনাটি একটি অমানবিক বিষয়। ছেলে বেল্লাল হোসেনকে আটক করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সুত্র: নয়াদিগন্ত।