banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

বৈবাহিক সমস্যা ও কোরআনের সমাধান -৫


কানিজ ফাতিমা


সূরা নিসার ৩৪-৩৫ নং আয়াতকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ও সমস্যার সমাধান ও তাদের পুনঃসম্পর্ক স্থাপনের জন্য দু’টি পন্থার কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে-

প্রথম পন্থা হল: যখন স্বামীর এই তিনটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে তখন স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই নিজ নিজ পরিবার থেকে একজন করে মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই নিজেরা মিটিয়ে ফেলবে। এই পদক্ষেপটি স্বামী গ্রহণ করবেন এবং তিনি তিনটি পর্যায়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবেন–

০১। স্ত্রীকে মৌখিকভাবে বোঝানো
০২। তার থেকে বিছানা পৃথক করা
০৩। সবশেষে দারাবা করা

দ্বিতীয় পন্থা হল: যখন স্বামীর এই তিনটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে তখন স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই নিজ নিজ পরিবার থেকে একজন করে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবেন, যারা তাদের সম্পর্কের তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে, তাদেরকে উপদেশ দেবে।

“যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আংশকা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব কিছু অবহিত।” (সূরা নিসা- আয়াত ৩৫)

আল কোরআনের এই সব কটি উপদেশেরই মূল উদ্দেশ্য হল: কার্যকরীভাবে গঠনমূলক পন্থায় স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। কাজেই যখন স্ত্রী (স্বামী বা সংসারের প্রতি) প্রকাশ্য অবজ্ঞা, উপেক্ষা বা অবহেলা প্রদর্শন করে(নুশূজ) তখন আল কোরআন স্বামীকে আদেশ করেছে স্ত্রীকে উপদেশ দিতে, অনুরোধ ও অনুনয় করতে এবং প্রয়োজনে ভৎর্সনা করতে। এর মাধ্যমে সে তার কথা ও চিন্তাগুলো স্ত্রীকে বলতে ও বোঝাতে পারবে। এ যোগাযোগের মাধ্যমে দু’জনের ভেতরকার পার্থক্যগুলো সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে, সম্ভাব্য সমাধানগুলো বের হয়ে আসবে। এভাবে ন্যায়সঙ্গতভাবে বৈবাহিক সমস্যায় বা বিবাদে সমাধানের জন্য প্রাথমিক পন্থা হিসেবে আলোচনা করা, মতামতের আদান প্রদান করা ও উপদেশ দেয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এবং এর মাধ্যমে স্ত্রীর মধ্যে বিবেক ও যুক্তিবোধ বা কান্ডজ্ঞান জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
যদি স্ত্রীর তার নিজের অজ্ঞতা বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার কারণে এ ধরনের উপদেশে কোন কর্ণপাত না করে, তখন স্বামীটিকে আর এক ধাপ সামনে আগাতে হবে। এমতাবস্থায় তার উচিত হবে স্ত্রীর সঙ্গে একই বিছানায় না থেকে বরং পৃথক বিছানায় শোয়া। অর্থাৎ বিছানা পৃথক করা। এটা এজন্য করা দরকার যাতে স্ত্রী পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনে সক্ষম হয়। স্ত্রী যাতে এমনটা ভাবতে না পারে যে, স্ত্রীর প্রতি দুর্বলতা বা তাকে কাছে পাবার আকর্ষণের স্বামীটি তার এরূপ অবহেলা, অবজ্ঞা ও ঔদ্ধত্যর্পর্ণ আচরণকে মেনে নেবে। বরং স্ত্রীর প্রতি এ অবহেলা বা আগ্রহের অভাব দেখালে স্ত্রীর সেই ভুল ধারণা ভাঙ্গবে এবং সে সমস্যার গভীরতা ও এর পরিণামের ভয়াবহতা উপলদ্ধি করতে পারবে। এর ফলে স্ত্রীও একটি সুযোগ পাবে তার এরূপ অবহেলা ও বিরোধী প্রতিকূল আচরণ পরিত্যাগ করার ও পুরো ব্যাপারটি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করার। সে বুঝতে পারবে যে, সে একটি সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে; তাকে এ বিবাদ মীমাংসা করে পুনরায় ভালবাসা ও সহানুভূতির সম্পর্ক তৈরির একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু স্ত্রী যদি এটা উপলদ্ধি না করতে পারে এবং একগুয়েমিভাবে তার আগের আচরণে বহাল থাকে, তবে এতে কোন সন্দেহ থাকে না যে, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্নতার চিহ্ন পরিবারটির ভাগ্যের দিগন্তে উঁকি দিয়েছে।
এমনই এক কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি অপরিহার্য প্রশ্ন হল: দুই পরিবারের মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্য চাওয়ার পূর্বে এমন কি করা যেতে পারে, যাতে স্বামী ও স্ত্রী তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে যে কঠিন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তা সঠিকভাবে উপলদ্ধি করতে পারে এবং বিবাহ ভেঙ্গে যাবার পূর্বেই তারা এ ভয়াবহতা পরিমাপ করতে পারে? আল কোরআন সূরা নিসায় এ প্রশ্নের যে জবাব দিয়েছে, তাহল দারাবা।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, দারাবার সঠিক ব্যাখ্যা কি? এজন্য প্রেক্ষাপটটি মনে রাখতে হবে। এখানে প্রেক্ষাপটটি এমন যে, দু’জন বিবাদমান বা সমস্যা আক্রান্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনঃসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, স্বামীটি শান্তি স্থাপনের ও বনিবনার জন্য মৌখিকভাবে প্রচেষ্টা করেছেন, বিছানা আলাদা করার মাধ্যমে নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ‘দারাবার’ ব্যাখ্যা কি হতে পারে সেটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে দারাবার অর্থ কি ‘আঘাত করা’, ‘শারীরিক শাস্তি প্রদান’ হবে যা কষ্ট, ব্যথা ও অপমানের জন্ম দেয়? যদি তাই হয় তবে এরুপ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বশ্যতা স্বীকার বা দমনের উদ্দেশ্য কি? শারীরিক আঘাত বা অপমানের মাধ্যমে দমন কি ভালবাসা বা আনুগত্য তৈরীতে সহায়ক হয়? বা এর মাধ্যমে কি একটি পারিবারিক সম্পর্ক ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়? ইসলাম যেখানে স্বামীর নির্যাতনমূলক আচরণের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে বৈবাহিক সম্পর্ক অবসানের সিন্ধান্ত নেবার অধিকার দিয়েছে সেখানে এরুপ দমন কি স্ত্রীকে আরও বেশি সেদিকে (তালাক বা খুলা ) ঠেলে দিবে না? আর যদি তাই হয়, তবে কি এক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ, দমন বা আঘাতের কোন সুযোগ রয়েছে, যা পরিবারকে পুনঃগঠনের পরিবর্তে বরং ভাঙ্গার দিকে আরও ঠেলে দেবে?
কাজেই দারাবা ক্রিয়াটির অর্থ যদি শারীরিক বা মানসিক আঘাত না হয় (স্বামীরা স্ত্রীদের প্রতি তাদের নির্দয় ব্যবহারের পক্ষের যুক্তি হিসেবে কোরআনের এই শব্দটির অর্থকে এভাবে ভুলভাবে ব্যবহার করেন) তবে এর অর্থ কি হতে পারে? দ্রুত মন্তব্য বা উপসংহারে না গিয়ে এই ব্যাপারটিকে বিস্তারিতভাবে এবং বিভিন্ন আঙ্গিকে এর অর্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। কোরআন দারাবাকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা, দয়া ও অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়। অর্থাৎ দারাবা একটি মাধ্যম, যাতে তাদের মধ্যে ভালবাসা, দয়া ও অন্তরঙ্গতা ও ঘনিষ্ঠতা পুনঃ স্থাপিত হয় এবং বিয়ের উদ্দেশ্য পূরণ হয়। কোরআন দারাবাকে এ উদ্ধেশ্য পূরনের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সুপারিশ করেনি। এরপরও আর একটি ধাপ রয়েছে। তাহল- স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা। এথেকেও বোঝা যাচ্ছে দারাবার উদ্ধেশ্য ভালবাসা, দয়া ও ঘনিষ্ঠতা স্থাপন। সন্ত্রাস, আঘাত বা ব্যথার পক্ষে কোন অজুহাতকেই সমর্থন না করে, তবে এই ক্রিয়াটির সঠিক ব্যাখ্যা কি হতে পারে?
দারাবা ক্রিয়াটি আল কোরআনে সকর্মক ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন “আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন।” (১৬:৭৫)
আবার এটি অকর্মক ক্রিয়া হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে- “তোমরা যখন যমীনে সফরে বের হও” (৪:১০১)
এক্ষেত্রে একটি সহযোগী অব্যয় ক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
দারাবা সম্পর্কে ধারণা করা বা সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে ভুল অর্থ নেবার সুযোগ রাখা ঠিক নয় এবং এই ধরনের অপব্যবহার বা এর দ্বারা অসদাচরণের কোন সুযোগ রাখাও ঠিক নয়। এরুপ সতর্কতা শরীয়াহর প্রকৃত উদ্দেশ্য ভালবাসা, দয়া ও সম্মান হবে পরিবারের ভিত্তি এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল। কাজেই আমি পুরো ব্যাপারটিকে এর ভিতরেও পুনর্বার নতুনভাবে চিন্তা করেছি। এক্ষেত্রে আল্লাহর বাণীর শাশ্বত চরিত্রকে সামনে রেখেছি, ধর্মীয় আদর্শকে বোঝার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব এবং নিয়মতান্ত্রিক বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনায় রেখেছি। যার ফলে আমি কোরআনে দারাবা শব্দের ভিন্ন অর্থ এবং এর উৎপত্তিকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কেননা কোরআনকে কোরআন দিয়েই ব্যাখ্যা করা সর্বাপেক্ষা উত্তম উপায়। কোরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা এই আল্লাহর বাণী কোরআন দিয়ে এবং শরীয়াহ্র সাধারণ মাকাসিদ বা উদ্দেশ্য দ্বারা এর সামঞ্জস্য বিধান সম্ভব।

চলবে…

পর্ব-৪

 

‘ধর্ষণের শিকার’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নারী খেলোয়াড়!


নারী সংবাদ


নারী ভারোত্তোলককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের অফিস সহকারী সোহাগ আলীর বিরুদ্ধে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো ভবনে ১৩ সেপ্টেম্বরের দিকে ঘটনাটি ঘটে তবে গতকাল সোমবার ফেডারেশনে এসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন ওই নারী খেলোয়াড়ের পরিবার।

জাতীয় ক্লাব ভারোত্তলনে সোনাজয়ী এই নারী ভারোত্তোলক ঘটনার পর থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি এখন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ঘটনাটি মুলত গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো ভবনের চতুর্থ তলায় ধর্ষণের শিকার হন। ১৫ সেপ্টেম্বর খেলা ছিল। যার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর অনুশীলনের জন্য ডেকে আনা হয়। দেখানো হয়েছিল চাকরির লোভও। ফলে পুরোনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চারতলায় ডেকে এনে রুম লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে রুমে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে কর্মচারী মালেক ও আরেকজন নারী ভারোত্তোলক।

খেলা থাকলে ঢাকার বাইরে থেকে আসা খেলোয়াড়েরা সাধারণত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অবস্থান করে থাকেন। সেই নারী ভারোত্তোলক গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে অবস্থান করছিলেন।

এত বড় ঘটনার পরও নারী ভারোত্তোলকের পরিবার কেন মামলা করেনি? এর কারণ সম্পর্কে মেয়ের মা বলেন, ‘মামলা হলে বাড়িতে থানা-পুলিশ যাবে। গ্রামে মুখ দেখানো যাবে না। এ ছাড়া টাকা-পয়সার ব্যাপার তো আছেই।’

ফেডারেশনে এসে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। ফেডারেশনের সহসভাপতি উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন