banner

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

আল্লাহ তাআলা যেভাবে নিজের পরিচয় দেন

আল্লাহ তাআলা এক ও একক। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনিই ইবাদাতের উপযুক্ত একমাত্র উপাসক। সমগ্র সৃষ্টিই তার দাসত্ব করবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাওহিদের এ বাণী প্রচার শুরু করেন, তখন কুরাইশরাসহ ইসলাম বিদ্বেষীরা তাঁর নিকট তাঁর রবের গুণাবলী এবং বংশধারা জানতে চায়। তখন আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন-

‘আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র আল্লাহ তাআলাই; তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই; তিনিই পরম দয়াময়; অনন্ত অসীম করুণাময়।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৬৩)

পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা রিসালাতের প্রমাণ উপস্থাপন করছেন। সেখানে আলোচনা হয়েছে যে কারণে মানুষ অভিশপ্ত। রিসালাত অস্বীকার করলে তাঁর মৃত্যুও হবে কুফরি মৃত্যু। আল্লাহ তাআলা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। যা আগের আয়াতে আলোচিত হয়েছে।

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের ভ্রান্ত ও অমূলক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আয়াতটি নাজিলের কারণ উল্লেখ করে আল্লামা বাগভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘কুরাইশ পৌত্তলিকরা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বললো- ‘হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার প্রতিপালকের গুণাবলী বর্ণনা করুন।’ তখন তাদের এ প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত এবং সুরা ইখলাছ নাজিল করেন।

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা একত্ববাদের কথা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন- হে মানব জাতি! তোমাদের মা’বুদ বা উপাস্য এক; তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনিই তোমাদের স্রষ্টা, পালনকর্তা; তিনিই তোমাদের ভাগ্যনিয়ন্তা; তিনিই সত্ত্বাধিকারী; তিনি এক ও অদ্বিতীয়।

আল্লাহ তাআলার উপরোক্ত কথাগুলো মূলবিষয় হলো- শুধু তাঁর সমীপেই মাথা নত করে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। ইবাদাত করতে হবে শুধুমাত্র তারই। চাওয়া-পাওয়া, আশা-ভরসা করতে হবে তারই ওপর।

আল্লাহ তাআলা এতই দয়াবান এবং পরম করুণাময় যে, তিনি তাঁর অসংখ্য নিয়ামাত তাঁর আনুগত্যকারী, ইবাদাতকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসাকারীর জন্য দিয়ে থাকেন।

পরিশেষে…
এ আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বান্দার নিকট তাঁর পরিচয় এবং গুণের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, সৃষ্টি জগতের ঈমানদার, বেঈমান, মুশরিক, পৌত্তলিক, ইয়াহুদি এবং নাসারাসহ সকল ধর্মানুসারীর নিকট  তিনি তাঁর পরিচয় ও গুণের বর্ণনা পেশ করেছেন। সুতরাং ইবাদাত করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার। তবেই পরকালে চিরস্থায়ী জীবনের নাজাত লাভ সম্ভব।

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর অটল ও অবিচল থেকে তাঁর পরিচয় ও গুণাবলী মানুষের নিকট পৌছে দেয়ার তাওফিক দান করুন। পরকালীন জীবনের সফলতা লাভ করার তাওফিক নসিব করুন। আমিন।

 

বাংলাদেশি বিজ্ঞাপনে কলকাতার নায়িকা কৌশানী

কলকাতার চলচ্চিত্রে এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা কৌশানী মুখার্জি। ওপার বাংলার সেরা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে গেল বছর রাজা চন্দ পরিচালিত ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’ ছবি দিয়ে তার অভিষেক। বনি চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেছেন টোল পড়া হাসির এই মিষ্টি নায়িকা।

সেই ছবির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় কৌশানী তার দ্বিতীয় ছবিতেই চমক দেখিয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, দেব, রুদ্রনীল, নুসরাত, মিমির মতো এক ঝাঁক তারকার সঙ্গে ছবিতে কাজ করে। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘কেলোর কীর্তি’ নামের সেই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় নায়ক অঙ্কুশের বিপরীতে। সুপারহিট এই ছবি দিয়ে কৌশানী বনে গেছেন সুপারস্টার!

তারকালোকের সেই ঝলকানি সীমান্ত পেরিয়ে এসে দোলা দিয়েছে বাংলাদেশেও। এখানের বাংলা ছবির দর্শকদের মনেও কৌশানী নতুন ভালোবাসার নাম। স্বভাবতই বলা যায়, তিনি এখন দুই বাংলার ক্রেজ।

সেই কৌশানী এবার বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য দারুণ এক চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন টিভির পর্দায়। দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রাণ বেভারেজ লিমিটেডের নতুন পণ্য ‘কালার্স লেমন’র বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে এই নায়িকাকে। গেল ২৯ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাজধানী গুলশানে অবস্থিত পুলিশ প্লাজাতে টিভিসিটির বিজ্ঞাপনে অংশ নেন কৌশানী। জিঙ্গেলভিত্তিক এই বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন হাসান তৌফিক অংকুর।

এই বিজ্ঞাপনে কাজ করা প্রসঙ্গে কৌশানী বলেন, ‘প্রাণ ইন্ডিয়াতে খুবই জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মডেল হওয়াটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য দারুণ এক সংযোজন। কড় ব্র্যান্ড, বড় পরিসরের কাজ। ভালো লাগছে। আমি শুনেছি এই টিভিসিটি বাংলা ও হিন্দিতে নির্মিত হবে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হবে। একটি কাজ দিয়ে অনেক দর্শকের সামনে যাওয়ার সুযোগ হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপন। এ ধরনের প্রোডাক্টগুলো সাধারণত তরুণ-তরুণীদেরকেই বেশি আকৃষ্ট করে। তাই এই বিজ্ঞাপনে একটা প্রাণবন্ত বিষয়ের উপস্থাপনা থাকছে। আর প্রাণ কালার্স লেমনের স্লোগান ‘কালার ইউর লাইফ’কে মাথায় রেখে টিভিসিটি নির্মাণ হচ্ছে। অনেক এনজয় করে কাজ করেছি। এখানে নির্মাতা অংকুর থেকে শুরু করে তার টিমের প্রত্যেকেই খুব হেল্পফুল। আর আলাদা করে বলতে হয়, এই পণ্যটির ব্র্যান্ড ম্যানেজার রবিন ভাই (এমডি. আশফাকুর রহমান) নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। আশা করছি উপভোগ করার মতো একটি বিজ্ঞাপন আসতে যাচ্ছে। যা সত্যি মনকে রঙিন করে দেবে।’

বিজ্ঞাপনটি সম্পর্কে  প্রাণ বেভারেজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রাণ কালার্স লেমনের প্রথম বিজ্ঞাপন হতে যাচ্ছে এটি। খুব ভালো একটি কনসেপ্ট নিয়ে কাজ হয়েছে। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে। আর কৌশানীকে অভিনন্দন জানাই আমাদের পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে।’

প্রাণ বেভারেজ লিমিটেডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার আশফাকুর রহমান বলেন, ‘প্রাণ কালার লেমন একটি কালারফুল প্রোডাক্ট। কোনো রকম টিভিসা বা প্রচারণা ছাড়াই পণ্যটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই এবার আমরা ভাবছি এর প্রচারে মনযোগ দিতে। আর এর বিজ্ঞাপন ভাবনার শুরু থেকেই আমরা কালারফুল একটি উপস্থাপন রাখতে চেয়েছিলাম। সেই ভাবনা থেকেই কৌশানীকে নিয়ে কাজ করা। সে এখন দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জীবনের অনেক মুহূর্ত থাকে যেগুলো ছোট ছোট আনন্দে মুখর। সেইসব আনন্দদের সেলিব্রেট করতেই প্রাণ কালার লেমন চাই- এমন একটি ভাবনা থেকে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হয়েছে। শিগগিরই এটি প্রচারে আসবে।’

বিজ্ঞাপন ভাবনা নিয়ে নির্মাতা অংকুর বলেন, ‘বেশ কালারফুল একটি কাজ করা হলো। প্রোডাক্ট, কৌশানী এবং বিজ্ঞাপনের কনসেপ্ট- সবখানেই রঙ আর তারুণ্যের ছোঁয়া আছে। আশা করছি প্রচারে এলে সবার ভালো লাগবে এটি।’

এদিকে এই বিজ্ঞাপনে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এলেন কৌশানী। প্রথম বাংলাদেশ দেখার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। বাংলাদেশ আমার বাপ-ঠাকুর দা’র পূর্বসূরীদের দেশ। এখানে আমারো অনেক আবেগ থেকে যায়। বাবা ও ঠাকুর দা’র মুখে মুখে এই দেশের অনেক গল্প শুনেছি কিন্তু কখনো আসা হয়নি। খুব সুন্দর। খুব সবুজ। আর খুব বেশি ভালো মানুষের বাস এখানে। মাত্র দুইদিন থেকেই সেটি উপলব্দি করে গেলাম। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে এসে মনে হচ্ছে না বিদেশে এসছি। সবই একরকম। ভাষাটাও। কিছু পার্থক্য আছে সেগুলো হুট করে চোখে পড়ে না। আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে আমার প্রথম ছবিটি বাংলাদেশের মানুষ নানা উপায়ে দেখেছেন। আর দ্বিতীয় ছবি ‘কেলোর কীর্তি’ ছবিটি এখানকার হলে মুক্তি পেয়েছিলো। বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে এখানে ছবিটি। চলচ্চিত্রের প্রতি ঢাকার মানুষদের ভালোবাসার গল্প আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

কৌশানী বলে গেলেন, সুযোগ হলে বাংলাদেশে বারবার আসতে চান তিনি। কাজ করতে চান এখানেও।

 

কখন বুঝবেন আপনার নতুন চাকরি খোঁজা উচিৎ?

‘চাকরি আর করব না, ছেড়ে দেব’ প্রায়ই এমনটা মনে হয় না এমন চাকরিজীবী খুব কমই পাওয়া যাবে। এমন ভাবনা হয়তা সবার মাথায়ই আসে কিন্তু কাজটা করা এত সহজ নয়। অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত। কিন্তু কখনো কখনো এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিন, কখন চাকরি ছাড়ার ভাবনাটি একেবারে অযৌক্তিক নয়, বরং সঠিক।
যখন আপনার কোম্পানি ধ্বংসের মুখে
আপনার কোম্পানি যদি ক্রমাগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে তখন তার প্রভাব পড়ে আপনার নিজ জীবনে। মাসের বেতন মাসে না পেলে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। কিভাবে সামলাবেন সব খরচ সেই ভাবনা রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। এমন চাকরি বদলে ফেলা খুব জরুরি। নতুন চাকরি খুঁজুন। যত আবেগের সম্পর্কই থাক না কেন বর্তমান চাকরিটির সাথে, বাস্তববাদী হন এবং কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলুন।
 
ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ
আপনি নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারে অনেক উন্নতি করতে চান? অনেক সময় চাকরি বদলই হয়ে দাঁড়ায় তার একমাত্র পন্থা। আরও ভাল কোম্পানিতে ভাল পদে যদি চাকরির সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই লুফে নিন অফারটি। দেরি করবেন না। তবে আপনার কোম্পানির চেয়ে নিম্নস্তরের কোম্পানি ভাল বেতন দিলেও যাবেন কিনা সেটা ভেবে দেখুন।
কাজটির প্রতি আপনার কোন আগ্রহ নেই
ভাল বেতন এবং সামাজিক মর্যাদার চাকরিটিও আপনার মনমত না হতে পারে। হয়ত আপনি কাজে তেমন আগ্রহই পাচ্ছেন না। আপনি একদম ভিন্ন ধারার কাজ করতে ভালবাসেন হয়ত। একজন সৃজনশীল মানুষ একঘেয়ে চাকরি করতে গেলে হাপিয়ে ওঠেন। আবার সিরিয়াস ধরণের মানুষেরা ক্যাজুয়াল স্টাইলের কাজ করতে অপছন্দ করেন। আপনার চাকরিটি যদি আপনার প্যাশনের সাথে না যায় তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত বদলে ফেলুন।
অবমূল্যায়ণ
আপনার অফিসে যদি প্রতিনিয়ত আপনাকে অবমূল্যায়ণ করা হয় তাহলে এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, পরিশ্রম মূল্যায়ণ দাবি করে। আপনি অনেক কাজ করলেন কিন্তু দিনশেষে প্রশংসা তো পেলেনই না বরং বিভিন্নভাবে অপমান করা হল আপনাকে। এটা আপনার আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করবে। দ্রুত ছেড়ে দিন এমন চাকরি।
যেখানে মেধার ব্যবহার হয় না
আপনি এমন কোন চাকরি করছেন যেখানে আপনার মেধার ব্যবহার হচ্ছে না একদমই? জীবন একটাই। সময় নষ্ট না করে একে কাজে লাগান। এমন কাজ খুঁজে নিন যেখানে আপনার দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশী কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। এমন কাজ আপনাকে পরিশ্রান্ত করবে না। আপনাকে করবে আরও শক্তিশালী।
 
লিখেছেন
আফসানা সুমী

 

সহজেই রাঁধুন তেহারি

তেহারি একটি জনপ্রিয় খাবার। বিশেষ করে গরুর মাংস যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে তেহারির গুরুত্বই আলাদা। অতিথি আপ্যায়ন, উৎসব-পার্বনে তেহারি না হলে যেন আয়োজন অপূর্ণ থেকে যায়। চাইলে আপনি নিজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন এই সুস্বাদু খাবারটি। চলুন শিখে নেই-

উপকরণ : গরুর মাংস- ১ কেজি, পোলাওয়ের চাল- ১ কেজি, পেঁয়াজ বাটা- ১/২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি- ১/২ কাপ বেরেস্তা করার জন্য, আদা বাটা- ২ চা চামচ, রসুন বাটা- ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া- ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া- ১/২ চা চামচ, ধনে গুঁড়া- ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ- ৪/৫ টি করে, তেজপাতা- ২ টা, লবণ- সাদ মতো, কাঁচামরিচ – ৬/৭ টি, তেল- ২০০ মি.লি., ঘি- ৩ চা চামচ, গরম পানি- ৬ কাপ, নতুন আলু- ৭/৮টা, জাফরানি রঙ কয়েক ফোটা।

প্রণালি : মাংস ছোট সাইজে কেটে নিন। ধুয়ে ভালো করে পানি ঝড়িয়ে নিন। আলু সিদ্ধ করে জাফরানি রঙ ও সামান্য লবণ ছিটিয়ে তেলে ভেজে নিন। হাড়িতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভেজে বেরেস্তা করে তুলে নিন। সব বাটা মশলা কষিয়ে মাংস দিন। লবণ দিন। মাংস নরম হলে ও পানি শুকিয়ে গেলে নামাতে হবে। আলাদা পানি দেয়ার দরকার নেই। ভালো করে কষানো হলে মশলা থেকে মাংস আলাদা করে তুলে নিন। এবার সেই পাত্রে আস্ত গরম মশলা দিন ও ধুয়ে রাখা পোলাওর চাল দিন। ৩-৪ মিনিট ভেজে গরম পানি দিন। নেড়েচেড়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে গেলে তুলে রাখা মাংস, আলু, কাচামরিচ, বেরেস্তা দিন। এরপর ২০ মিনিট দমে রেখে দিন। নামাবার সময় ঘি ছড়িয়ে দিন।

 

পেটের মেদ কমাবে যে পানীয়

পেটের বাড়তি মেদ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। আর এই মেদ কমাতে থাকে নানারকম প্রচেষ্টা। ব্যায়াম কিংবা ডায়েট- কতরকম কসরতই না করতে হয়! তবে কষ্টের দিন শেষ, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন একটি পানীয় আর কমিয়ে ফেলুন পেটের মেদ। এই পানীয় পেটের মেদ কমানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। চলুন জেনে নিই কীভাবে তৈরি করবেন-

উপকরণ
১টি শসা, এক মুঠো পার্সলে অথবা ধনেপাতা, ১টি লেবু, ১ টেবিল চামচ আদা কুচি, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জুস বা অ্যালোভেরা জেল, ১/২ গ্লাস পানি

যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে শসা, ধনেপাতা, আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। তারপর এতে অ্যালোভেরা জেল, পানি দিয়ে আবার ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। খুব বেশি পাতলা না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। এটি প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পান করুন। এই পানীয়টি সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজে রাখুন।

 

নানা স্টাইলের কুর্তি

নিজেকে নতুন ভাবে নানা সাজে সাজাতে সবাই পছন্দ করে। আর এসব সাজের মধ্যে বর্তমানে কুর্তির চলন বেশি। বিশেষ করে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই আছে কুর্তির নাম। গরমে হোক বা শীত সব সময় সব জায়গাতে আপানাকে কুর্তিতে মানিয়ে যাবে। চলুন হাল ফ্যাশনের কিছু কুর্তি সম্পর্কে জেনে আসি।

আনারকলি
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন, এই কুর্তিতে নিজের লুকসে পাবেন সৌন্দর্যের দারুণ প্রকাশ। বাড়ির কোনও অনুষ্ঠান হোক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি, মাতাবে আনারকলি কুর্তি।

টেইল কাট
টেইল কাট কুর্তিতে আছে ওয়েস্টার্ন লুকস। সামনের দিকটি শর্ট ও পিছনের দিকে লম্বা এই কুর্তিতে আপনাকে সুন্দর মানবে।

অঙ্গরাখা কুর্তি
পুরোনো দিনের সেই টিউনিকের স্টাইলের এই কুর্তি আপনার মধ্যে ট্র্যাডিশনাল লুকস্ ফুটে উঠবে।

ফ্লারেড কুর্তি
পার্টিতে সকলের নজর তবে আপনার দিকেই থাকবে। এই স্টাইলের কুর্তিতে আপনাকে যেমন সুন্দরী দেখাবে, তেমনই আভিজাত্যের প্রকাশ পাবে।

ট্রাইল কাট
এই স্টাইলের কুর্তির ফ্যাশনে সবার মাঝে আপনাকে আকর্ষণীয় দেখাবে। কুর্তির উপরের দিকটা প্রিন্টেড ও নীচের দিকটা এক কালারের এই কুর্তি আপনাকে দেবে সুন্দর লুকস।

এ-লাইন কুর্তি
অল্পবয়সিদের জন্য এই স্টাইলের কুর্তি সুন্দর একটি পোশাক। হাঁটু বা গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা কুর্তিতে আপনি যেকোনও পার্টিতে নিজেকে সুন্দর সাজে তুলে ধরতে পারবেন।

লম্বা স্ট্রেইট
পা পর্যন্ত লম্বা কুর্তি এখন ফ্যাশনে রয়েছে। পার্টিতেও পরতে পারেন এই কুর্তি। তবে এই স্টাইলের কুর্তি স্লিভলেসই ভালো মানায়।

প্রিন্টেট কুর্তি
জীবনকে রঙিন করে তুলতে পরতে পারেন প্রিন্টেট কুর্তি। কোনও বাড়তি সাজগোজের প্রয়োজন হবে না। রঙের খেলাই যথেষ্ট নিজেকে সুন্দর সাজে তুলে ধরার জন্য।

শার্ট স্টাইল
ভারতীয় কুর্তি ও ওয়েস্টার্ন শার্টের কম্বিনেশনের এই কুর্তি আপনাকে দেবে স্মার্ট লুকস। অফিস হোক বা পার্টি, যে কোনও জায়গায় এই পোশাকে আপনাকে সুন্দর দেখাবে।

কাফতান স্টাইল
ওয়েস্টার্ন স্টাইলের এই কুর্তি পার্টির জন্য একদম পারফেক্ট। এই স্টাইলের কুর্তি আপনাকে দেবে গর্জিয়াস লুকস।

 

ভারতীয় কমিক বুকের সুপারহিরো এসিডদগ্ধা নারী

‘প্রিয়া’স শক্তি’ কমিক বুকটি ভারতের অন্যতম উদ্দীপ্ত রিয়ালিটি কমিক বুক হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে যখন এটি ২০১৪ সালের জুন মাসে ভারতের প্রথম নারী সুপারহিরোকে উপস্থাপন করে। এখন এর দ্বিতীয় সংস্করণ, ‘প্রিয়া’স মিরর’ বের হতে যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র, প্রিয়া একজন এসিড হামলার শিকার নারী এবং এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তিনি টিকে আছেন।

৩৬ পৃষ্ঠার এই গ্রাফিক উপন্যাসের গল্পটি হচ্ছে প্রিয়াকে নিয়ে যিনি একজন গণধর্ষণের শিকার এবং পরবর্তীতে এসিড হামলার শিকার হন। এগুলো মোকাবেলা করেও তিনি বেঁচে থাকেন এবং পরবর্তীতে লড়াই করেন অপদেবতা ‘অহংকার’ এর সাথে। এই বইটি মোট পাঁচটি ভাষায় মুদ্রিত হবেঃ ইংরেজি, হিন্দি, পর্তুগীজ, স্প্যানিশ এবং ইতালিয়ান।

নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রিয়া’স মিরর প্রথম চালানো হবে এবং পরবর্তীতে মুম্বাই কমিক কনে এটি থাকবে।

 

বাড়ির ছাদে শামীম আরার স্বপ্নের বাগান

সবুজের ছোঁয়া পেতে কার না মন চায়। কিন্তু নগরের যান্ত্রিক জীবনে সবুজ প্রকৃতির দেখা মেলা যেখানে খুবই কঠিন, সেখানে গাছপালা তো দূরের কথা, আলো বাতাসেরও যেন বড় অভাব দেখা দেয়। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলে শহর জীবনের ছোট বাসা-বাড়িতেও যে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। সেটাই বাস্তবে প্রমাণ করলেন রাজশাহী শহরের গৃহবধূ শামীম আরা। নিজের ইচ্ছা শক্তি আর বৃক্ষপ্রেমের তাগিদে তিনি বাড়ির ছাদ গড়ে তুলেছেন এক সবুজের সমারোহ। সেখানে পায়ের নিচে নরম ঘাসের স্পর্শ না পেলেও হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় বৃক্ষরাজির সবুজ পাতা।

শহরের জীবনে সবুজের ছোঁয়া পেতে রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান এলাকার বৃক্ষপ্রেমী শামীম আরা ২০১১ সালের শেষের দিকে বাড়ির ছাদে বাগান তৈরি শুরু করেছিলেন। মাত্র কয়েক বছর পেরুতেই সেই শামীম আরাই হয়ে উঠেছেন ছাদে বাগান করার রোল মডেল। পেয়েছেন বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন ক্যাটাগরীতে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জাতীয় পুরস্কার ২০১৫’।

শামীম আরার বাগানে কী নেই; তার বাগানে ফলজ, বনজ, ভেজষ বা ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী, দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় গাছ, বিরল জাতীয় গাছ ও সবজিতে ভরপুর তার  বাগান। ফলজ গাছের মধ্যে সংগ্রহে আছে, জিনিয়া পাম, থাইল্যান্ডের জাম, লটকন, শসা জামরুল, এলাচি লেবু, কলা, আম, পেঁপে, গৌড়মতি আম, সফেদা, মরিচ, কাগজি লেবু, মিষ্টি জলপাই, বাতাবি লেবু, মিষ্টি চেরি ফল, নাশপাতি, আতা, বিভিন্ন ধরনের পেয়ারা, কমলা, পাকিস্তানি মালটা, কামরাঙ্গা, কতবেল, ড্রাগন, মিষ্টি তেঁতুল, থাইড্রপ আম, তেঁতুল, কালো পাতার বাক বক্স আম, কলা, থাই জাম, দেশি জাম, করমচা, বিদেশি বেল, বেদেনা, চেরি ফল, সফেদা, সাজনে গাছ, থাইল্যান্ডের বাতাবি লেবু, সুদানের আতা, আপেল, অভিসারিকা আম, সুইট লেমন, থাই কাঁঠাল, বাউকুল, অরুনা (আম)।

মসলা জাতীয় গাছের মধ্যে আছে অল স্পাইস, তেজপাতা, দারুচিনি, গোলাপজামন, ধনে পাতাসহ আরও অনেককিছু।

শোভাবর্ধনকারী গাছগুলোর মধ্যে আছে নীল অপরাজিতাসহ বিভিন্ন রঙের অপরাজিতা, ফায়ার বল, বিভিন্ন ধরনের জবা, অ্যাডেনিয়াম, এলামুন্ডা, ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির গোলাপ, লাইলী-মজনু, বিভিন্ন ধরনের পাতা বাহার, সাইকাস, অ্যারোমেটিক জুঁই, টগর, কামিনী, মধুমালতি, মাধবিলতা, বিভিন্ন ধরনের অর্কিড, ক্যাকটাস, বেগুনিয়াসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ প্রজাতির ফুল। বর্তমানে তাদের বাগানের গাছগুলোতে মালটা, ড্রাগন, করমচা, পেয়ার, বেদেনাসহ বেশ কিছু ফল ধরে আছে। ফুটে আছে অনেক ফুল। শীতকালে এ পুরো ছাদই যেনো ফুলময় হয়ে ওঠে।

বাগানে বিকেল থেকেই শুরু হয় নানান পাখির আনাগোনা। সবুজ ঘেরা প্রকৃতিতে পাখিদের মিষ্টি নানান শব্দ যেনো মন ভরিয়ে দেয়।

শামীম আরা পেশায় গৃহিনী। তার স্বামী সেহাবউদ্দীন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। শামীম আরার এসব কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। গাছপালা আর প্রকৃতির প্রতি তার ভালবাসা থেকেই অনেকটা শখের বশেই বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন বাগানটি। পুরো বাড়িটিই যেন সবুজের সমারোহ।

শামীম আরা জানান, ছোটবেলা থেকেই উদ্ভিদের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। সে থেকে শখ। বিয়ের পর থেকেই ছাদে গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। নিজের প্রচেষ্টা আর স্বামীর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় বাড়ির ছাদে বাগানের সূচনা। উদ্ভিদ দিয়ে ছাদকে আরও মনোরম ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নগরে জীবনে সবুজের ছোঁয়া একেবারে নেই বললেই চলে। অথচ এই যান্ত্রিক শহরে সবুজ প্রকৃতি খুবই জরুরি। সব সময় মনে এমনটা অনুভব করি।’

শামীম আরার স্বামী সেহাব উদ্দীন জানান, স্ত্রী বাড়ির কাজের ফাঁকে বাগানের প্রতি চরম আগ্রহ। তাই বিভিন্ন নার্সারি থেকে গাছ সংগ্রহ করে ছাদে বাগান তৈরির চেষ্টা চালান। খুব যুত্ন সহকারে গাছের পরিচর্যা করেন। আমিও তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে থাকি। ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে মাটির পাওয়ার বিষয়টি বেশ সমস্যা দেখা যায়। পদ্মা নদীর পলি মাটি সংগ্রহ করা হয়। সেই মাটির সঙ্গে গোবরসার, মিশ্র সার যোগ করা হয়। এরপরে সেগুলোতে গাছ লাগানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর খানিকটা চেষ্টা থাকলে আপনিও গড়ে তুলতে পারেন চমৎকার একটি বাগান। যখন ফুল-ফলে আপনার বাগান ভরে উঠবে, তখন আপনার মনও স্বর্গীয় প্রশান্তিতে ভরে যাবে।’

 

খাদিজাদের বাড়িতে লজিং থাকতো বদরুল

সিলেট শহরতলির হাউসা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে ৫ বছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম।

ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলায় কলেজছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটনার আগে ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ‘জাঙ্গাইল সফির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে’ গিয়ে খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করে বখাটে বদরুল। এ কারণে খাদিজার স্বজনরা তাকে ধরে গণপিটুনিও দিয়েছিলেন।

তখন বদরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে খাদিজার পরিবারের লোকজনসহ এলাকার বেশ কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করে।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে খাদিজাদের বাড়ি লজিংমাস্টার হিসেবে থাকতো বদরুল। এরপর থেকে সে খাদিজাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তার আচরণের কারণে তাকে লজিংমাস্টার থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপরও মেয়েটির পিছু ছাড়েনি বখাটে বদরুল। সর্বশেষ তার প্রেমে সাড়া না দেয়ায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে পৈশাচিক কায়দায় কুপিয়ে আহত করে।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তির পর বিভিন্ন সময় খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বদরুল। খাদিজা গত সোমবার এমসি কলেজ কেন্দ্রে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর কলেজের পুকুর পাড়ে বদরুল তাকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

বদরুলের সহপাঠীরা জানান, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তার সহপাঠীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স বেশ আগেই শেষ হয়েছে। তবে সে এখনো কোর্স শেষ করতে পারেনি। বদরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

মহানগর পুলিশের শাহপরান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল মুন্সি জানান, হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন আটক বদরুল। খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে টানাপড়েন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হামলা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি পাসের ছাত্রী খাদিজা। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম (২৭)।

তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুনাইঘাতি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। বদরুল বর্তমানে শাবির শাহপরান হলে থেকে লেখাপড়া করতেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেন। তাকেও ওসমানী হাসপাতালে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।