banner

রবিবার, ১৪ Jun ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 14 বার পঠিত

 

‘শ্রম নয়, শিক্ষা চাই; শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই’—বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন ও দেশিক পাঠশালার যৌথ উদ্যোগে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান

“শ্রম নয়, শিক্ষা চাই; শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই”—এই প্রতিপাদ্য ও স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ১০:৩০ টায় ‘নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এবং ‘দেশিক পাঠশালা’-এর সহযোগিতায় পাঠশালার প্রাঙ্গণে এই যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আফিফা মুশতারী সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সঞ্চালনা করেন।

দেশিক পাঠশালার এক শিক্ষার্থীর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বাগত ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মমতাজ মাননান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন-শিশুদের অধিকার আদায়ে নারীরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি শিশুই দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা এই শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে এনে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা জোগাতে চাই।”

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী সুফিয়া জামাল। তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “তোমাদের জীবনে এখন অনেক দুঃখ, কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু এই কষ্ট দূর করতে হলে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে।” একই সাথে তিনি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক কামরুন্নেসা মাকসুদা। তিনি দেশিক পাঠশালার পথচলার প্রতিবন্ধকতা ও সফলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “দেশিক পাঠশালার পথচলাটা সহজ ছিল না। তবে আপনাদের সবার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় আজ পাঠশালাটি বাচ্চাদের নিয়ে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।” এই যাত্রায় যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের সকলের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর পাঠশালার সুবিধাবঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একক ও দলীয়ভাবে গান, কবিতা এবং ছড়া আবৃত্তি করে তাদের সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটায়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক বক্তব্য। এই বক্তব্যে শিশু শ্রমের কুফল ও আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি নাঈমা মোয়াজ্জম। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন-বাংলাদেশ সরকার শিশু শ্রম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছেন, যেখানে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ভারী কাজের উল্লেখ করে বলা হয়েছে—এই কাজগুলো শিশুদের দিয়ে কোনোভাবেই করানো যাবে না। সামান‍্য কিছু তাৎক্ষণিক অর্থের জন্য শিশুদেরকে শ্রমে না পাঠিয়ে স্কুলে লেখাপড়ার জন্য পাঠান। কষ্ট ও আর্থিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে গেলেই সন্তানদের দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব।”

আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিশেষ শপথবাক্য পাঠ করান অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা ও সংগঠনের সহ-সভাপতি আফিফা মুশতারী। শপথে শিশুরা কখনো শিক্ষা থেকে দূরে না যাওয়ার, বড় হয়ে মা-বাবার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করার এবং নিজেদের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দীপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
শপথ গ্রহণ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে শিশুদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী এবং হালকা নাস্তা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে দেশিক পাঠশালার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা পারভীন (সামিনা বেগম)তাঁর পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চমৎকার এই শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য এবং শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন’কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
পরিশেষে, নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার উপস্থিত সকল অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন
মোবাইল নম্বর: [01998421855]

Facebook Comments Box