banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 100 বার পঠিত

জকসুতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়া সেই শান্তা জয়ী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী শান্তা আক্তার। ভোটের দিন ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে হেনস্তা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমর্থনে তিনি বিজয়ী হন।

ভোটগ্রহণের দিন শান্তা আক্তার মাইক হাতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিলে ছাত্রদল সমর্থিত নেত্রী খাদিজাতুল কুবরা তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিনই ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন।

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে শান্তা আক্তার রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়ে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি আবারও ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিলে পুরো হলরুম মুখরিত হয়ে ওঠে।

জয়ী ঘোষণার পর শান্তা আক্তার আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“এই জয় শুধু আমার ব্যক্তিগত বিজয় নয়; এটি শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের বিশ্বাস, স্বপ্ন ও শেষ ইচ্ছার প্রতিফলন। নির্বাচনের আগে হাদি ভাই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন—‘শান্তা, জিতে আইতে হবে।’ সেই কথাই আমার লড়াইয়ের প্রধান প্রেরণা ছিল। এখন আমি কেবল তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে চাই—ভাই, আমি জিতে এসেছি।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের ঠিক আগে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি ভোট চাইতে পারেননি। তবুও শিক্ষার্থীরা তার আদর্শ ও বিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন।

জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শান্তা আক্তার শহীদ হাদির স্মরণে মুড়ি ও বাতাসা বিতরণ করেন।

শান্তা আক্তার জয়ের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,
“এই জয় আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করতে চাই। বিভাজন নয়, ঐক্যই হবে আমাদের পথ।”

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, কারিগরি জটিলতা ও দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও সব পক্ষের উপস্থিতিতে ওএমআর মেশিন ও হাতে গণনার সমন্বয়ে স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।

‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে যে শান্তা আক্তার একদিন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই স্লোগানই হয়ে উঠল তার বিজয়ের প্রতীক আর জকসু রাজনীতিতে এক আলোচিত অধ্যায়।

Facebook Comments Box