banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 238 বার পঠিত

 

যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের বিচার দাবিতে দেশজুড়ে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে নারী যৌন হয়রানির ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নারী হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আয়োজনে বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ধর্ষণের শিকার নারীদেরই দায়ী করা হয়, যা ভুক্তভোগীর প্রতি চরম অন্যায় ও অপমানজনক।
বক্তারা আরও বলেন, “যে সরকারের প্রতি জনগণ আশা রেখেছিল নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সেই সরকারই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রশাসন অনেক সময় ধর্ষণের মামলা রুজুতে গড়িমসি করে, এমনকি ভিক্টিমের বয়স বাড়িয়ে ঘটনা আড়াল করারও চেষ্টা চলে।”

একই দিন বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, রাবি শাখা।
ছাত্রী সংস্থার নবনির্বাচিত সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ফাতেমাতুস সানিহা বলেন, “দেশে চলতি বছর ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি। কালিয়াকৈরের ১৩ বছরের মাদরাসাছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায়ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।”
রাবি শাখার সহ-নেত্রী সাইফুন নাশীদা বলেন, “ধর্ষকের কোনো ধর্ম নেই। অপরাধী যখন ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করতে চায়, তখন সেটি সমাজের নৈতিক পতনের প্রতিফলন।”

পরদিন মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, চবি শাখা।
শাখার সেক্রেটারি ও চাকসুর ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপা বলেন, “রাষ্ট্রের নীরবতা ও সামাজিক উদাসীনতাই নারী নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির মূল কারণ। আমরা কেবল প্রতিবাদ জানাতে নয়, প্রতিকার ও জবাবদিহিতার দাবি নিয়েই আজকে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “নারী নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
চবি শাখার প্রচার সম্পাদক উমাইমা শিবলী রিমা বলেন, “২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ২৭ হাজারেরও বেশি নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮১ জন নারী। কিন্তু এসব ঘটনার অধিকাংশই বিচারহীন রয়ে গেছে।”

অন্যদিকে সংগঠনের প্রতিনিধি তাওফিকা রহমান বলেন, “কালিয়াকৈরের ঘটনায় পুলিশের বিবৃতি বিভ্রান্তিকর। ১৩ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক কোনোভাবেই ‘প্রেমের সম্পর্ক’ হতে পারে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী এটি স্পষ্ট ধর্ষণ।”

তিনটি শাখার মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করা, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা সমাজে নৈতিক ও মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

নারী_নিরাপত্তা

#যৌনহয়রানি #ধর্ষণবিরোধীপ্রতিবাদ #ইসলামীছাত্রীসংস্থা

ঢাবি #রাবি #চবি

#কালিয়াকৈরধর্ষণ #বিচারচাই
#রাষ্ট্রের_জবাবদিহিতা

Facebook Comments Box