banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 221 বার পঠিত

 

ডাচ সংসদে ফিলিস্তিন প্রশ্নে প্রতীকী প্রতিবাদ

নেদারল্যান্ডসের সংসদ সম্প্রতি এক ভিন্নধর্মী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। বাজেট আলোচনার দিনে সংসদ সদস্য এস্তের উওয়্যান্ড (Esther Ouwehand), যিনি দেশটির Party for the Animals (Partij voor de Dieren – PvdD) দলের নেতা, সংসদীয় বিতর্কে বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর পোশাককে কেন্দ্র করে সংসদে দেখা দেয় বিতর্ক, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠে।

ঘটনার শুরু হয় যখন এস্তের উওয়্যান্ড সংসদ অধিবেশনে হাজির হন এমন একটি শার্ট পরে, যেটি দেখতে অনেকটা ফিলিস্তিনের পতাকার মতো। শার্টের লাল, সবুজ, কালো ও সাদা রং ফিলিস্তিনি পতাকার প্রতীকী ছাপ বহন করছিল। অধিবেশনের সভাপতি ও কিছু সংসদ সদস্য আপত্তি জানান যে সংসদে নিরপেক্ষ পোশাক পরিধান করা আবশ্যক, এবং তাঁর এই শার্টকে “রাজনৈতিক প্রতীকী পোশাক” বলে অভিহিত করেন।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাঁকে সরাসরি পোশাক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংসদে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নিয়মের কথা উল্লেখ করে স্পিকার তাঁকে ওই শার্ট খুলে ফেলার আহ্বান জানান। ফলে এস্তের কিছু সময়ের জন্য সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন নতুন এক শার্ট পরে। এই শার্টে আঁকা ছিল তরমুজের ছবি ও বীজের ছাপ। এই পছন্দ নিছক কাকতালীয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তরমুজ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ, ফিলিস্তিনের পতাকার মতোই তরমুজের লাল, সবুজ, কালো ও সাদা রঙ মিলে এক অর্থবহ প্রতীক তৈরি করে। ইসরায়েলি সেন্সরশিপ ও নিষেধাজ্ঞার সময়েও ফিলিস্তিনিরা পতাকা ব্যবহার করতে না পারলেও তরমুজকে শিল্প, কার্টুন ও পোশাকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

এস্তের উওয়্যান্ডের এই কৌশল সংসদকক্ষের ভেতর ও বাইরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি শুধু পোশাকের মাধ্যমে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন—“প্রতীকী প্রতিবাদকে দমন করা যায় না, তা অন্যভাবে ফিরে আসে।”

ডাচ সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি নৈতিক সাহস দেখিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, সংসদে রাজনৈতিক প্রতীকী পোশাক পরিধান করা শোভনীয় নয়। তবে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো—একটি সাধারণ শার্ট এবং তরমুজের ছবিই ফিলিস্তিনের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Facebook Comments Box