banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 148 বার পঠিত

 

রোবি তে নিকাব খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে অনুষ্ঠিত এক মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ভাইভা রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এক্সটার্নাল পরীক্ষক তাকে মুখ খুলতে বলেছিলেন। শিক্ষার্থী জানিয়েছিলেন, তিনি নিকাব খুলতে পারবেন না এবং এটি তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। এরপর পরীক্ষক বলেন, “এটা কোনো নিয়ম না, এটা অভদ্রতা।” উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকও একই রকম মন্তব্য করেন। এক শিক্ষক বলেন, “তুমি তো চাকরি করতে চাইবে? এভাবে গেলে চাকরি দেবে?” আরেকজন বলেন, “এখানে আসার আগে প্রিপারেশন নিতে হবে, নিয়ম মানতে হবে।”

শিক্ষার্থী জানান, তিনি নিকাব খুলতে অস্বীকার করলে পরীক্ষক বিদেশি শিক্ষার্থীদের উদাহরণ দেন এবং বলেন, “তুর্কি, ইরানি, আফগান মেয়েরা কি ইসলাম মানে না? ওরা কি এভাবে থাকে?” এছাড়া, রুম থেকে বের হওয়ার সময় সতর্ক করা হয় যে, পরের বার এভাবে আসবেন না। একই সঙ্গে, একজন শিক্ষক হুমকি দেন যে, তার এই ড্রেসকোডের কারণে ‘শূন্য নম্বর’ দেওয়া হতে পারে।

পরে জানা যায়, ভাইভা শুরুর আগে সেমিনার রুমে মেয়েদের বলা হয়েছিল, কেউ যেন নিকাব পরে ভাইভা রুমে প্রবেশ না করে। তারপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিকাব পরে প্রবেশ করলে তাদের নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়। যিনি নিকাব খুলতে বাধ্য করেছেন, তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক্সটার্নাল পরীক্ষক নুরুল কাউয়ুম।এ সময় রুমে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেননি। হুমকি দেওয়ার দায়িত্ব মূলত বিভাগের শিক্ষক ইউসুফের।

উল্লেখ্য, ভাইভা বোর্ডে কোনো নারী শিক্ষক ছিলেন না, সব শিক্ষকই পুরুষ ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই ও ভাইভা পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী শিক্ষক রাখা উচিত, যাতে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ না করা যায়।

এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

Facebook Comments Box