banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 276 বার পঠিত

 

ব্যাংক খাতে নারী কর্মী হ্রাস: ছয় মাসে কমেছে প্রায় ২ হাজার

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় দুই হাজার, যা মোটের ওপর প্রায় পাঁচ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৯ জন, যা এ বছরের জুন শেষে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৮২ জনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অফিস-পরবর্তী যাতায়াত সুবিধায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস-পরবর্তী যাতায়াত সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—গত বছরের শেষার্ধে যেখানে ৫২ শতাংশ নারী এই সুবিধা পেতেন, তা কমে বর্তমানে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা মাত্র ১৭ শতাংশ। বাকি ৮৩ শতাংশ পুরুষ কর্মী। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা যায়—সেখানে প্রতি পাঁচজন পুরুষ কর্মীর বিপরীতে নারী কর্মী প্রায় একজন।

নারী কর্মীদের পদোন্নতি ও কর্মমূল্যায়নে বৈষম্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটিকে কর্মমূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ ছাড়া কাজের পরিবেশ, ডে কেয়ার ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধার অভাবে অনেক নারী মাঝপথেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এক নারী কর্মকর্তা জানান, সন্তান প্রতিপালনের অসুবিধার কারণে গত পাঁচ বছরে তার পরিচিত কয়েকজন নারী সহকর্মী চাকরি ছেড়েছেন।
উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মীর উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর উচ্চপদে নারী অংশগ্রহণের হার ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে এই হার প্রায় ১৪ শতাংশ। আর বেসরকারি ব্যাংকে তা মাত্র ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে পরিচালনা পর্ষদে নারী সদস্যের হার সবচেয়ে বেশি বিদেশি ব্যাংকে (১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ), আর সবচেয়ে কম রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে (৪ শতাংশ)।
নারী কর্মীর সংখ্যার দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে। সেখানে কর্মরত নারী কর্মীর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে কর্মরত আছেন প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন নারী। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে কর্মরত নারী মাত্র এক হাজার ৩২ জন এবং বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে কর্মরত আছেন প্রায় ২ হাজার নারী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকটের কারণে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলো মনোযোগ দিতে পারছে না। অন্যদিকে, ইস্টার্ন ব্যাংকের নারী ব্যাংকিং প্রধান তানজেরি হক জানান, মধ্যবর্তী পর্যায়ে অনেক নারী পরিবার ও সন্তানের কারণে চাকরি ছেড়ে দেন, ফলে নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো নারী কর্মীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সার্বিকভাবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের ব্যাংক খাতে নারীর উপস্থিতি থাকলেও নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারা এখনো পিছিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিকতা পরিবর্তন এবং নারীবান্ধব নীতি কার্যকর না হলে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

Facebook Comments Box