banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

পোস্টটি 172 বার পঠিত

 

কন্যাসন্তান জান্নাত লাভের সোপান

আজকের সমাজে কন্যাসন্তান নিয়ে কমন যেই চিত্র দেখা যায়। একদিকে উচ্চশিক্ষিত পরিবারেও মেয়ে সন্তান হওয়ায় নিরাশা—অন্যদিকে ইসলাম যাকে বলে ‘আল্লাহর রহমত’। আমাদের আশেপাশে এখনো অনেক পরিবারে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে মুখ কালো হয়ে যায়, আত্মীয়স্বজন নীরব হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে ‘পরের সম্পত্তি’ বলে মেয়ে সন্তানকে অবহেলা করে। অথচ ইসলাম এমন আচরণ কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং কন্যাসন্তানকে বেহেশতের চাবিকাঠি হিসেবে দেখায়।

জাহেলি মানসিকতা এখনো আমাদের মাঝে বেঁচে আছে
ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে এতটাই ঘৃণার চোখে দেখা হতো যে, অনেকে লোকলজ্জায় নিজের মেয়েকে জীবন্ত কবর দিতো। সেই বর্বরতা আমরা আজ আর করি না ঠিকই, কিন্তু মানসিকতার জায়গায় আমরা কি খুব বেশি বদলেছি?

“আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে রাগে-ক্ষোভে ভরে যায়।”
— [সুরা নাহল: ৫৮]
এ আয়াতে বর্ণিত মানসিকতা কি আজও কিছু পরিবারে আমরা দেখি না?

আল্লাহর দেওয়া প্রথম পরিচয়—’কন্যা’
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন:

“তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন…”
— [সুরা আশ-শুরা: ৪৯-৫০]

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আল্লাহ প্রথমেই কন্যাসন্তানের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয়—কন্যা সন্তান কোনোভাবেই ছোট নয়, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য দান।

কন্যাসন্তান—জান্নাত লাভের সিঁড়ি
আজ যারা ভাবে “মেয়ে সন্তান মানে দায়”, তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে:

“যার কন্যাসন্তান হয় এবং সে তাদের লালন-পালন করে, কষ্ট না দেয়, মেয়েদের কারণে অসন্তুষ্ট হয় না—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
— [মুসনাদে আহমদ]

আর তিনটি কন্যাসন্তানের প্রতিপালনের কথা তো আছেই, এমনকি দুইটি মেয়ে লালন-পালন করলেও জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি।
(সহিহ মুসলিম ও শুআবুল ইমান)

আজকের বাস্তবতা: কন্যা মানে কষ্ট না, বরং করুণা
আমাদের সমাজে এখনো অনেক বাবা-মা কন্যাকে ‘পরের ঘরের মানুষ’ ভাবেন। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, বিপদের সময় সবচেয়ে বেশি পাশে থাকে মেয়েই। ছেলে হয়তো নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু মেয়ে ফোন করে, খোঁজ নেয়, টাকা পাঠায়, বাবা-মায়ের জন্য ডাক্তারের সিরিয়াল নেয়,এরকম আরো অনেককিছু যা হয়তো ছেলে সন্তানরা করেনা বা করতে পারেনা।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:

“যে কন্যাসন্তানের প্রতি দয়া করে, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন।”
— [আবু দাউদ]

পিতা-মাতার সৌভাগ্যের চিহ্ন কন্যাসন্তান
সাহাবি ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.) বলেন:

“কন্যাসন্তান মা-বাবার সৌভাগ্যের প্রতীক।”
কারণ আল্লাহ নিজেই বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা প্রথমে কন্যা দেন—এটি সৌভাগ্যের ইঙ্গিত।

কন্যাসন্তান মানে রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য

“যে ধৈর্যের সঙ্গে কন্যাসন্তান লালন-পালন করে, কিয়ামতের দিন সে আমার খুব কাছে থাকবে।”
— [সহিহ মুসলিম]
নবীজির কাছাকাছি জান্নাতে থাকার চেয়ে বড় আশীর্বাদ একজন মুমিনের জন্য আর কী হতে পারে?

দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, আখিরাত গড়ুন
একজন মুসলমানের জন্য সন্তানের লিঙ্গ নয়, তার আমল ও প্রতিপালনই গুরুত্বপূর্ণ। কন্যাসন্তান কোনো ‘দায়’ নয়—এটা আখিরাতে আপনার জান্নাত লাভের অন্যতম সুযোগ। আল্লাহ তাআলার দেওয়া প্রতিটি সন্তানই পরীক্ষা ও নেয়ামত। তাই আসুন, কন্যাসন্তানকে সম্মান দিই, ভালোবাসি এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিই।

Facebook Comments Box