banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

ফ্রিতে ২ লাখ টাকার আইটি কোর্স, কোর্স শেষে চাকরির নিশ্চয়তা

দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশন ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ) আবারও তাদের ৭০তম আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে।

এই প্রোগ্রামের আওতায় নন-আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের স্নাতক বা সমমানের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সাড়ে আট মাসের আইটি প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। পুরো কোর্সটির মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা, তবে এটি সম্পূর্ণ ফ্রি স্কলারশিপে করানো হবে।

কোর্স শেষে সফল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দেশ-বিদেশে চাকরির সুযোগ। ইতিমধ্যে এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ৯২% শিক্ষার্থী সফলভাবে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ এখন পর্যন্ত ১৭,০০০+ আইটি প্রফেশনাল তৈরি করেছে, যারা কাজ করছেন বিশ্বের ৩,২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে।

প্রোগ্রামটির অধীনে বর্তমানে ১৩টি আইটি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এগুলো সাজানো হয়েছে আধুনিক চাকরির বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী, যাতে কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা সরাসরি পেশাজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।

প্রার্থীকে স্নাতক, ফাজিল, মাস্টার্স, কামিল পাস বা অধ্যয়নরত হতে হবে।
এছাড়া চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিকস, সিভিল, আর্কিটেকচার, সার্ভে বা কনস্ট্রাকশন) পাসরাও আবেদন করতে পারবেন।
বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর।
তবে, আগের কোনো রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।

ভর্তি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।
লিখিত পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্ন থাকবে।
প্রতি রাউন্ডে মোট ১৬৫টি আসন নির্ধারিত রয়েছে।
ডিপ্লোমাধারী প্রার্থীদের জন্য কোর্সগুলো শুধু ঢাকায় পরিচালিত হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ নভেম্বর ২০২৫
বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে ভিজিট করুন:
https://apply.isdb-bisew.info/

 

ভিলেজ ইমপাওয়ারমেন্ট: শীর্ষ ৫০ নারী নেত্রীর তালিকায় শিফা

বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এক গর্বের সংবাদ—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিতা বিনতে আজাদ শিফা স্থান করে নিয়েছেন রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর অধীন প্রতিষ্ঠান ‘অবনিন্সক টেক একাডেমি’ কর্তৃক নির্বাচিত বিশ্বের শীর্ষ ৫০ নারী নেত্রীর তালিকায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত আবেদনকারীর মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তার পূর্ববর্তী কর্ম-অভিজ্ঞতা, গবেষণাকর্ম এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শিফার জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সমাজসেবার প্রতি গভীর ভালোবাসা, যা তিনি শিখেছেন বাবা-মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, মানুষের উপকারে আসাটাই জীবনের প্রকৃত অর্থ। সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি বুঝতে পারেন—সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা যদি ডায়নামিক হতে পারে, তাদের সামনে অফুরন্ত সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে যুক্ত করেন নানা স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে। তার এই অদম্য প্রচেষ্টা তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল’-এর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রকল্পে লিড প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করার সুযোগ এনে দেয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে শিফা উপলব্ধি করেন—বাংলাদেশের অনেক তরুণ মেধাবী হলেও সঠিকভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়ে। ঢাকা শহরে পড়াশোনার সময় তিনি দেখেছেন, যোগাযোগ দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী তাদের যোগ্যতার যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। এই সমস্যার সমাধান নিয়েই জন্ম নেয় তার উদ্যোগ ‘ভিলেজ ইমপাওয়ারমেন্ট’। তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতা ও সফট স্কিল উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
শিফার স্বপ্ন, ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা। তার বিশ্বাস, একজন মানুষ যদি নিজের সফট স্কিল গুণাবলিগুলো উন্নত করতে পারে, তবে সে নিজের জীবনের পথ নিজেই তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।

শিফার সাফল্যের পেছনে তার পরিবারের অবদান অপরিসীম। বাবা ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ এবং মা সোহরাত বেগম ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। সততা, নিষ্ঠা, নীতিনিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের যে শিক্ষা তিনি তাদের কাছ থেকে পেয়েছেন, সেটিই তাকে জীবনের প্রতিটি বাঁকে শক্তি জুগিয়েছে। বাবা-মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসাই তার এগিয়ে চলার সবচেয়ে দৃঢ় ভিত্তি।

রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা শিফার জীবনে এনেছে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি দেখেছেন—পৃথিবীতে অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন, যারা একে অপরের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করেন। শিফা বলেন, “দেশের বাইরে আমি মানেই বাংলাদেশ। আমাকে দেখে অনেকেই বাংলাদেশকে চিনেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।” তার এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ।
যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের জন্য শিফার বার্তা অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক।
তার মতে, নারীদের জন্য আজকের যুগে সুযোগের দ্বার অনেক উন্মুক্ত। ঘরে বসেই ইংরেজি শেখা, নতুন ভাষা বা কোডিং শেখার মতো দক্ষতা অর্জন এখন অনেক সহজ। তিনি বলেন, “আপনাকে আপনার লক্ষ্য জানতে হবে। যদি আপনার লক্ষ্য বড় হয়, তবে ছোট ছোট বাধা খুব সহজেই পেরিয়ে যাওয়া যায়।”

শিফার এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয় থাকলে যেকোনো স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব। ‘ভিলেজ ইমপাওয়ারমেন্ট’-এর মাধ্যমে তিনি যে পরিবর্তনের বীজ বপন করেছেন, তা একদিন আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ তরুণ প্রজন্মে রূপ নেবে—যারা নিজের জীবন বদলে দিতে পারবে, আর সেইসঙ্গে বদলে দেবে পুরো সমাজকেও।

 

জকসু নির্বাচনে লড়বেন ১৫ মাসের কারাবন্দী সেই খাদিজা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বহুল আলোচিত শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আওয়ামী দুঃশাসনের সময় প্রায় ১৫ মাস কারাভোগ করা এই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি জকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কোন প্যানেল বা পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। খুব শিগগিরই জানাব।”

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ইচ্ছা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানান খাদিজা। তিনি বলেন, “প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, ক্যান্টিন ও ছাত্রী হলে খাবারের মান উন্নয়ন, এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা—এসব বিষয় থাকবে আমার অগ্রাধিকারে।”

শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়েও পরিকল্পনা জানিয়ে খাদিজা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী টিউশন করাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন। আমি চাই, তারা যেন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পারেন। পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালে জবি শিক্ষার্থীরা যাতে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, সেজন্যও ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।”

নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা টেনে খাদিজা বলেন, “আমার মতো যেন আর কোনো শিক্ষার্থী বিনা বিচারে জেল না খাটে—এটাই আমার অন্যতম অঙ্গীকার। সর্বোপরি আমি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

খাদিজাতুল কুবরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রচার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে এ মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় ১৫ মাস কারাভোগ করেন।

বর্তমানে মুক্ত জীবনেই নতুন পথচলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খাদিজা—এবার ছাত্র রাজনীতির ময়দান হোক শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের।