banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

সন্তানের আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে কী করবেন?

বেশির ভাগ অভিভাবকই হয়তো এমন অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়েন-আগে যে সন্তান মা বাবাকে চোখে হারাতো, হঠাৎ একসময় তার মাঝেই দেখা দেয় অস্বাভাবিক রাগ, জেদ কিংবা অবাধ্যতা। অনেক মা বলেন, “আমার ছেলে/মেয়ে হঠাৎ বদলে গেছে।” এমন পরিবর্তন নিছক মুডের ওঠানামা নয়, বরং এটি হতে পারে গভীর মানসিক সংকেত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে কিশোর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ১৪% মানসিক সমস্যায় ভুগছে। অথচ এই অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশে, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা অনেক কম। ফলে খুব স্বাভাবিক পরিবর্তনও অনেক সময় বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

একটি ছোট্ট গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। তিনা (ছদ্মনাম), বয়স বারো। আগে মা ছাড়া চলত না, মায়ের পেছনেই ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াত। কিন্তু এখন তার চেহারাতেই বিরক্তি, কথা বললেই মুখ গোমড়া, রাগারাগি। মা জানালেন, কিছুদিন আগে তিনার ছোট ভাই জন্মেছে। এরপর থেকেই এমন আচরণ দেখা দিয়েছে। আদর, ভালোবাসা, খেলনা—সব দিয়েও যেন মন গলানো যাচ্ছে না। বরং দিন দিন সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তন দেখে অনেক অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েন—“আমার সন্তান কেন এমন করছে?”

এখানে বিষয়টা বোঝা জরুরি। প্রথমেই যে ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে, তা হলো—শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন কোনো একক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে থাকে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক কারণ। ছোট ভাই জন্মের পর তিনার ভেতরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা মনোবিদ্যার ভাষায় ‘সিবলিং রাইভালরি’। অর্থাৎ, আগে সে যে গুরুত্ব পেত, এখন সেটি হঠাৎ হারিয়ে গেছে বলে তার মনে হচ্ছে। এতে করে তার মধ্যে অনিরাপত্তা, মনোযোগের ক্ষুধা এবং অভিমান তৈরি হয়েছে, যা বাইরে রাগ বা অবাধ্যতার রূপে প্রকাশ পাচ্ছে।

একজন শিশুর জন্য মা–ই তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। জন্মের পর থেকেই শিশুর যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ হয় মায়ের হাত ধরে। তাই মায়ের সঙ্গে তার যে আবেগগত বন্ধন তৈরি হয়, সেটি অন্য কারো সঙ্গে হয় না। আর সেই কারণেই, যখন শিশুটি কোনো মানসিক চাপে পড়ে, তখন প্রথমেই সেই অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় মায়ের প্রতি। মা-ই হয়ে ওঠেন তার আবদার, অভিমান এমনকি রাগ প্রকাশের ‘নিরাপদ জায়গা’। অনেক সময় সন্তান মায়ের সঙ্গে যতটা অবাধ্য, অন্যদের সঙ্গে ততটা নয়—এটিও সেই মানসিক সংযুক্তির কারণেই হয়।

শিশু থেকে কিশোর বয়সে পা রাখার মধ্যবর্তী সময়টিও বেশ সংকটপূর্ণ। শারীরিক ও মানসিকভাবে তখন তারা নতুন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এই বয়সে নিজেদের মতামত প্রকাশের চেষ্টা, স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠা এবং নিজের একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করার ইচ্ছা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রয়াসটি অনেক সময় রাগ, বিরক্তি বা মা–বাবার কথার বিরুদ্ধাচরণ হিসেবেই প্রকাশ পায়। অনেক সময় এটিকে ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে বাবা–মা শাসনের পথ বেছে নেন, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।

এর বাইরেও কিছু মানসিক জটিলতা, যেমন ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder), ODD (Oppositional Defiant Disorder), বা বুদ্ধিবিকাশজনিত অন্যান্য সমস্যা শিশুর আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি যদি পারিবারিক পরিবেশ অশান্ত হয়, বাবা–মায়ের মধ্যে কলহ থাকে, অথবা সন্তানের প্রতি অতি শাসন বা অবহেলা করা হয়, তাহলেও তার মনের ওপর চাপ তৈরি হয়। এসব কারণেই আচরণে দেখা দেয় হঠাৎ রাগ, জেদ বা বিরক্তি।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক প্রথমেই যা করেন, তা হলো বকা দেওয়া, মারধর বা আরও কঠোর হওয়া। অথচ, এভাবে সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং শিশু আরও দূরে সরে যায়।
বকাঝকা না করে বরং সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন, সময় দিন। বোঝার চেষ্টা করুন, তার ভেতরে কী চলছে। হয়তো সে কোনো কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে, যা প্রকাশ করার ভাষা সে খুঁজে পাচ্ছে না। তখন তার রাগটাই হয়ে উঠছে সেই ভাষা। এই ভাষাকে ভুল না বুঝে বরং সহানুভূতির সঙ্গে গ্রহণ করুন। ধৈর্য ধরে পাশে থাকুন।

সবচেয়ে বড় কথা, সন্তান বড় হওয়ার মানে শুধু তাকে ভালো খাবার, ভালো স্কুল আর ভালো জামাকাপড় দেওয়া নয়। তার মন, তার অনুভূতি, তার বিকাশ—সবই যত্নের দাবি রাখে। আর এই যত্নের বড় অংশ জুড়ে আছে আপনার সহানুভূতি, বোঝার চেষ্টা আর সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত।

সন্তান হঠাৎ অবাধ্য হলে বলবেন না—”বাচ্চারা তো এমনই হয়!” বরং ভাবুন—”সে এমন করছে কেন?” তাহলেই আপনি পারবেন তার মন বুঝতে, এবং তাকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে।

 

নিউজিল্যান্ডে সম্পূর্ণ ফ্রি পিএইচডি স্কলারশিপ!

University of Otago ঘোষণা দিয়েছে ২০২৫ সালের জন্য পূর্ণ অর্থায়নে PhD Research Scholarship—এই সুযোগটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত!

ডেডলাইন: আবেদন সারা বছরজুড়েই খোলা থাকবে

বৃত্তির সুবিধাসমূহ:

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে
  • গবেষণার জন্য বার্ষিক স্টাইপেন্ড প্রদান করা হবে
  • অতিরিক্ত গবেষণা সহায়তাও দেওয়া হবে
  • বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন

এখনই আবেদন করুন: https://tinyurl.com/4rvya275

University of Otago PhD Scholarships 2025

 

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত সুদান, মৃত্যুর মিছিলে আফ্রিকা

সুদানে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাতে আজ দেশটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের কেন্দ্রে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, প্রায় এক কোটি বিশ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, এবং পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসযজ্ঞ। পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহর সম্প্রতি আরএসএফ বাহিনীর দখলে চলে গেছে, যেখানে তারা গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বের বিবেক আজ সুদানের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু যুদ্ধের আগুন যেন নিভছেই না।

এই গৃহযুদ্ধের সূচনা ২০১৯ সালে, প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের মধ্য দিয়ে। তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বশিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বৈরাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যখন জনরোষ তীব্র হয়, তখন সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। কিন্তু এতে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ চলতে থাকে, যার ফলে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। কিন্তু দুই বছর না যেতেই, ২০২১ সালের অক্টোবরে আবারও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এবার অভ্যুত্থানের পেছনে ছিলেন দুই সেনানায়ক—জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো, যিনি “হেমেডটি” নামে পরিচিত।

এক সময় ঘনিষ্ঠ এই দুই সামরিক নেতা ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। মূল বিরোধ ছিল আরএসএফ বাহিনীর সৈন্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন বাহিনীর নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে—এ নিয়েই। সেনাবাহিনী আশঙ্কা করেছিল, আরএসএফকে একীভূত করা হলে দাগালোর ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল দুই বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজধানী খার্তুমসহ বড় বড় শহরে বন্দুকের গুলি আর বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে সুদান।

আরএসএফ বাহিনীর জন্ম ২০১৩ সালে, যার মূল শিকড় দারফুর অঞ্চলের কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়ায়। ওমর আল-বশির শাসনামলে এই মিলিশিয়া বিদ্রোহীদের দমন করতে ভয়াবহভাবে নিপীড়ন চালায়—হত্যা, ধর্ষণ ও গণঅগ্নিসংযোগ তাদের নিত্যকার কৌশল ছিল। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে বশির এই মিলিশিয়াকে বৈধতা দেন এবং তাদের র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস নামে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। দাগালো বা হেমেডটির নেতৃত্বে আরএসএফ খুব দ্রুত একটি শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনীতে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে আরএসএফ ইয়েমেন ও লিবিয়ার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং সুদানের বিভিন্ন সোনার খনি দখলে নেয়। এই অর্থনৈতিক শক্তি দাগালোর হাতে ব্যাপক প্রভাব এনে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরএসএফ সেনাবাহিনীর সমান শক্তি অর্জন করে, এমনকি রাজধানী খার্তুমের একাংশও তারা দখল করে নেয়। বর্তমানে আরএসএফ সুদানের পশ্চিমাঞ্চল দারফুর, কোর্দোফানসহ বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের দাবি—এই অঞ্চলগুলো নিয়ে তারা একটি নতুন সরকার গঠন করবে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদানের মতো আবারও দেশটি বিভক্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল। সেনাপ্রধান জেনারেল আল-বুরহান এখন লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত পোর্ট সুদানকে নিজের প্রধান ঘাঁটি ঘোষণা করেছেন। এখান থেকেই জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধারণা করা হয়, সেনাবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে মিসর, কারণ নীলনদ ও সীমান্তসংলগ্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ দুই দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করেছে। তবে যুদ্ধের আগুন এখানেও ছড়িয়ে পড়েছে—২০২৫ সালের মার্চে আরএসএফ ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় পোর্ট সুদানে, যেখানে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়।

দারফুর অঞ্চল আজ পরিণত হয়েছে মৃত্যুর উপত্যকায়। আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ, ইউনিসেফ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য—শিশু, নারী, বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি এক বছর বয়সী শিশুদেরও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। দারফুরের অনারব মাসালিট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আরএসএফ সেনারা বলেছে, “তোমাদের গর্ভে আরব সন্তান দেব।” এসব অপরাধে শুধু আরএসএফ নয়, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন এল-ফাশের অঞ্চলে থাকা আড়াই লাখের বেশি অনারব নাগরিক বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছে।

সুদান উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ। প্রায় উনিশ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশের সীমানা সাতটি আফ্রিকান রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত, এবং লোহিত সাগরের তীরঘেঁষা অবস্থান এটিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নীলনদও এই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। জনসংখ্যার অধিকাংশই মুসলিম, ভাষা আরবি ও ইংরেজি। অথচ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র রাষ্ট্র। গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে নাগরিকদের গড় বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৭৫০ ডলার। যুদ্ধের পর তা আরও কমে গেছে, রাষ্ট্রীয় আয় প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, লাখ লাখ মানুষ অনাহার ও রোগে ভুগছে।

সুদানের এই সংঘাত এখন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়; এটি ধর্ম, জাতি, সম্পদ ও ক্ষমতার সংঘর্ষ।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহল একে “মানবসভ্যতার অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি” হিসেবে দেখছে।
তবে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—উভয় পক্ষই এখনো সমঝোতায় আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

এক সময় যে দেশ ইসলামি ঐতিহ্য, সোনার খনি আর নীলনদের জন্য গর্ব করত—
আজ সেই সুদান রক্ত, ধ্বংস আর ক্ষুধার রাজ্যে পরিণত হয়েছে।