দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অবশেষে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। গাজার মানুষ ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা জীবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আবার নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করছে। কেউ ফিরছেন ভগ্ন ঘরে, কেউ নতুন আশ্রয়ে—কিন্তু প্রত্যেকেরই বুকে জমে আছে হারানোর যন্ত্রণা আর স্মৃতির ভার।
এই ভগ্ন জীবনের মাঝেই এক গাজাবাসী নারী তার ভালোবাসা, বেঁচে থাকার প্রতীক হিসেবে আগলে রেখেছেন তার পোষা প্রাণীদের—একটি কচ্ছপ, একটি টিয়া পাখি ‘বিকো’ এবং একটি বিড়াল ‘লুকা’।
“আমার পোষা প্রাণীরা আমার আত্মা,” তিনি বলেন। “যেখানেই যাই, ওরা আমার সঙ্গে থাকে। আমি ওদের আমার সন্তানের মতোই দেখি।”
ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিজের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর এখন তিনি মায়ের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে ছেলে সন্তানসহ বসবাস করছেন। যুদ্ধের সময় বহুবার স্থানচ্যুত হতে হয়েছে, কখনও কয়েকদিন রাস্তায়ও কাটাতে হয়েছে।
তার পোষা প্রাণীদের নিয়েও কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। যুদ্ধের সময় পাখির খাঁচা ভেঙে যায়, খাবারেরও তীব্র অভাব ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, “আমি ওদের কিছু হতে দেব না। বিকো, লুকা, আর আমার কচ্ছপ—ওরা আমার সন্তান, আমার আত্মা। আমি কাঁদলে লুকাও কাঁদে।”
গাজার এই নারীর গল্পটি কেবল একটি পরিবারের নয়—এ যেন সমগ্র প্যালেস্টাইনের সেই মানবিক প্রতিচ্ছবি, যেখানে যুদ্ধ ধ্বংস করে ঘরবাড়ি, কিন্তু ভালোবাসা এখনো বাঁচিয়ে রাখে মানুষের প্রাণ।


