banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যে সহিংসতার শিকার প্রতি তিনজনের একজন

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাদের জীবন প্রতিদিনই লড়াইয়ের। শুধু শারীরিক নয়—এই লড়াই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত। একদিকে নারী হওয়ায় লিঙ্গজনিত বৈষম্য, অন্যদিকে প্রতিবন্ধকতা—এই দ্বৈত প্রান্তিকতা তাদের জীবনে সৃষ্টি করছে বহুমাত্রিক বঞ্চনা ও সহিংসতার ঝুঁকি।

বেসরকারি সংস্থা উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (WDDF) পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি তিনজনের একজন কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার। পাশাপাশি ৭৫ শতাংশ নারী শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুতর বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার প্রকাশিত ‘প্রতিবন্ধকতার শিকার নারীদের ওপর যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এই তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ভাস্কর ভট্টাচার্য ও সিনারজি সলিউশনসের প্রধান নির্বাহী মোজাহিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সাতটি জেলায় পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ২ হাজার ১৩২ জন উত্তরদাতা।
গবেষণায় দেখা যায়—
৭৫% নারী শিক্ষা অর্জনে গুরুতর বাধার মুখে

প্রায় ৪৯% নারী কখনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি

৫২% এর বেশি নারী বেকার, আর মাত্র ৪.৮৩% কোনোভাবে চাকরিতে যুক্ত

৭৮% নারী জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র তাদের জন্য প্রবেশগম্য নয়

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী নারীরা নাগরিক অধিকার প্রয়োগ, বিশেষ করে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে, ভয়াবহভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫% নারী বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যই তাদের প্রধান বাধা।
অন্যদিকে, ৪০% নারী জানেনই না যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কী। তবু ৩০.৪৯% নারী স্বীকার করেছেন, তারা কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ছিল শারীরিক নির্যাতন (৭০%), এরপর মানসিক নির্যাতন (৫৬%)।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডব্লিউডিডিএফের চেয়ারপারসন শিরিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। উপস্থিত ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব এবং মানবাধিকার নেত্রী শিফা হাফিজাসহ আরও অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমাজে প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে কোনো নীতি বা প্রকল্পই টেকসই হবে না। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

 

ইইউ কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০ অক্টোবর ২০২৫ সকালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি চীফ বাইবা জারিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দীকার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইইউ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. হাবীবা আক্তার চৌধুরী, এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সুফিয়া জামাল—সবাই কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য; এবং লায়লা মরিয়ম, সদস্য, এডভাইসারি কাউন্সিল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।

বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উভয় পক্ষ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতেও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।