banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস: একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ

বর্তমানে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। এটি একটি বংশগত ও অটোইমিউন রোগ, যার ফলে শিশুর শরীর প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। অথচ এই রোগ সম্পর্কে আমাদের সমাজে সচেতনতা এখনও পর্যাপ্ত নয়।

এই লেখায় সহজভাবে জানবো—টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী, শিশুদের মধ্যে এর লক্ষণ, চিকিৎসা, করণীয় এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বাস্তব চিত্র।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী?
টাইপ ১ ডায়াবেটিস এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরির কোষগুলিকে আক্রমণ ও ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। ইনসুলিনের অভাবে রক্তের গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে না পেরে রক্তেই জমা হয়, যা নানা জটিলতা সৃষ্টি করে।

শিশুদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ

বারবার ও অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া

সব সময় তৃষ্ণার্ত বোধ করা

ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া

ওজন কমে যাওয়া

ক্লান্তি ও দুর্বলতা

ঘন ঘন সংক্রমণ (যেমন: চামড়ায় ফুসকুড়ি, ফাংগাল ইনফেকশন)

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হঠাৎ প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা

অনেক সময় এসব উপসর্গকে গুরুত্ব না দিয়ে অজান্তে অবহেলা করা হয়, যার ফলে শিশু মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা ডায়াবেটিক কোমায় চলে যেতে পারে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা
বাংলাদেশে টাইপ ১ ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা এখনও সীমিত, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে। অনেক অভিভাবক মনে করেন ডায়াবেটিস শুধুই প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা। ফলে শিশুদের লক্ষণগুলোকে চিহ্নিত করতেই সময় লেগে যায়।

বাস্তবিক কিছু চ্যালেঞ্জ:

ইনসুলিন ব্যবহারে সামাজিক ভয় বা সংকোচ

ইনসুলিন সংরক্ষণ এবং ইনজেকশন প্রয়োগের প্রযুক্তিগত অসুবিধা

স্কুলে ডায়াবেটিক শিশুদের জন্য আলাদা কোনো সহায়তা নেই

দরিদ্র পরিবারের শিশুরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সঠিক খাবার পায় না

চিকিৎসা ও করণীয়

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের এখনো কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে শিশুরা স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ

নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা

স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস

বয়স অনুযায়ী শারীরিক কার্যকলাপ

সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন

বাবা-মা ও শিক্ষকের দায়িত্ব

লক্ষণ বুঝে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

ইনসুলিন ব্যবহারে শিশুকে মানসিক শক্তি দেওয়া

স্কুলে শিক্ষকদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করা

পরিবারে সহানুভূতিশীল ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা

 

নারী: অগ্রযাত্রা, অর্জন আর অবমাননার দ্বৈত বাস্তবতা

একবিংশ শতকের বাংলাদেশে নারী আর ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। তারা এখন শুধু সংসারের দায়িত্ব নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও কাঁধে নিচ্ছেন। আকাশে বিমান চালাচ্ছেন, সমুদ্রপথে জাহাজ চালাচ্ছেন, পাহাড় জয়ের দুঃসাহস দেখাচ্ছেন, আবার প্রশাসনের কড়িকাঠে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান গবেষণা কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চ—সবখানেই নারীর দৃপ্ত পদচারণা আজ এক বাস্তবতা।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করা থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে, রাজনীতি থেকে কূটনীতি, কৃষি থেকে শিল্প, চিকিৎসা থেকে বিচারব্যবস্থা—সবখানেই সমানতালে এগিয়ে চলেছেন বাংলার নারী। বিমান চালনা, ট্রেন চালনা কিংবা শহরের রাইড শেয়ারিং—যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানেই নারী নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস পোশাকশিল্পে সবচেয়ে বড় অবদানও তাদেরই। এভারেস্টসহ বিশ্বের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করেছেন বাংলার নারী। এমনকি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও তাদের অংশগ্রহণ গৌরবময় অধ্যায় রচনা করছে।

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও নারীর অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে। রাজনীতি, গবেষণা ও প্রশাসনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা নারী উদ্যোক্তা যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার অর্জন করেন, তখন প্রমাণ মেলে—আজকের বাংলার নারী চাইলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।

তবু বাস্তবতার আরেকটি মুখ রয়েছে। ঝকঝকে সাফল্যের নিচে লুকিয়ে আছে ঘন অন্ধকার। প্রতিদিন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে চোখে পড়ে নারী নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্র। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ, পাচার, যৌতুকের দাবিতে হত্যা কিংবা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে আত্মহত্যা—এ যেন নিত্যদিনের ঘটনাপঞ্জি। ইয়াসমিন, সীমা রানী, তনু, নুসরাত, মিতু, চাঁপা রানীসহ অগণিত নাম সেই তালিকায় রয়ে গেছে। প্রতিটি ঘটনার সাময়িক প্রতিবাদ হলেও বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতা নারীর বেদনা বাড়িয়ে দেয়।

অথচ নারী নির্যাতন কোনো এক দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৫০০জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা বলছে, প্রতি ছয় নারীর মধ্যে একজন জীবনে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার মুখোমুখি হন, যা ভয়াবহতায় সৌদি আরবকেও ছাড়িয়ে গেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উচ্চস্তর—কোথাও নারী নিরাপদ নন। গির্জার ভেতর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধানের নাম পর্যন্ত নারী নির্যাতনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—একদিকে নারীর সাফল্য আর অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার এই দ্বৈত বাস্তবতা কতদিন চলবে? সমাজ কি সত্যিই নারীর অর্জনকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে শিখেছে? নাকি এখনো গভীরে রয়ে গেছে নারীকে কেবল দুর্বল ও অধীনস্থ ভাবার প্রবণতা?

এই পরিস্থিতি বদলাতে শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন। দরকার শিক্ষা, সচেতনতা, মানবিকতা এবং নারী-পুরুষের সত্যিকারের সাম্যচর্চা। কারণ, নারী মর্যাদার লড়াই কোনো একক সংগ্রাম নয়, এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব।

সেদিনই নারী সত্যিকার অর্থে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবেন, যেদিন আমরা তাকে নারী বলে নয়, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে সম্মান করতে শিখবো।

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

ঢাকা: দুর্যোগ মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন এবং সুইডিশ উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা সিডার সহায়তায় ২ সেপ্টেম্বর ’ ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নতুন প্রকল্প ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইন বাংলাদেশ (জিআরডিআরআরআইবি) এর উদ্বোধনী কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের সদস্য, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “দুর্যোগে প্রাণহানি কমলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি এখনও অনেক বেশি। কার্যকর প্রস্তুতি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুর্যোগ ঝুঁকি বিমা চালু ও যথাযথ অর্থায়ন অপরিহার্য।”

ইউএন উইমেনের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনিতা সিনহা বলেন, “বাংলাদেশকে দুর্যোগ মোকাবিলায় অগ্রণী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নারীরা ইতিমধ্যেই সম্মুখসারিতে আছেন। এখন তাদের নেতৃত্বের স্তরে উন্নীত করতে হবে।”

সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মাতিলদা স্ভেনসন বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় জেন্ডার সমতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি অপরিহার্য। সব পরিকল্পনায় নারীর দৃষ্টিভঙ্গি ও তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ বলেন, “নারীদের নেতৃত্ব দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।” একই সঙ্গে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী—বিশেষত নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, “স্থানীয় প্রেক্ষাপট এবং জনগণের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি শক্তিশালী করা হবে।”

প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  1. জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নীতিমালা ও কার্যক্রমে লিঙ্গভিত্তিক সমতা সংযোজন।
  2. সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
  3. ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
  4. জেন্ডার ইন হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন (জিআইএচএ) ওয়ার্কিং গ্রুপসহ সমন্বয় কাঠামো শক্তিশালী করা।

এই প্রকল্প ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও সাতক্ষীরায় বাস্তবায়িত হবে।

 

পিরিয়ডের ব্যথা : হার্ট অ্যাটাকের মতোই যন্ত্রণাদায়ক

পিরিয়ড বা মাসিক নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি, যা অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু নারীর জন্য এই ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের মতোই যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক জন গুইলেবাউড এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পিরিয়ডের সময় ব্যথা “হার্ট অ্যাটাকের থেকেও খারাপ হতে পারে।” তাঁর মতে, এই ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়; বরং এটিকে নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরেক গবেষক অলিভিয়া গোল্ডহিল জানান, মাসিকজনিত যন্ত্রণার সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ বিষয়ে গবেষণার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

পিরিয়ডের সময় যে তলপেটের তীব্র ব্যথা হয়, সেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিসমেনোরিয়া বলা হয়।
প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় ভোগেন।
তীব্র ব্যথার কারণে অনেক সময় হাঁটা-চলা বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকেই হটব্যাগ, প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন, তবে এটি স্থায়ী সমাধান না।

কেন হয় এই ব্যথা?
পিরিয়ডের সময় শরীর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের একটি রাসায়নিক তৈরি করে। এটি জরায়ুকে সংকুচিত করে এবং রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে জরায়ুর পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস পায়, আর তখনই ব্যথার উদ্ভব হয়।

এছাড়াও, এন্ডোমেট্রিওসিস নামক জটিলতায় অনেকে ভোগেন। এতে জরায়ুর কোষগুলো জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে, যা মাসিককে আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন থাকলে এটি বন্ধ্যাত্বের কারণও হতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, এন্ডোমেট্রিওসিস একমাত্র কারণ নয়— অন্য শারীরবৃত্তীয় ও হরমোনজনিত কারণেও পিরিয়ডের ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে।

মানসিক প্রভাব
অধ্যাপক জন গুইলেবাউড মনে করেন, এই সময়ে নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মেজাজ ও মানসিক অবস্থায় ব্যাপক ওঠানামা হয়। ফলে শারীরিক কষ্টের সঙ্গে মানসিক চাপও যুক্ত হয়।

করণীয়
ব্যথা যদি সহনীয় না হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহমর্মিতা ও বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় মানসিক সহায়তাই শারীরিক কষ্ট কমাতে কার্যকর হয়।

 

“আমার বিড়াল, টিয়া আর কচ্ছপ—ওরাই আমার আত্মা”

দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অবশেষে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। গাজার মানুষ ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা জীবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আবার নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করছে। কেউ ফিরছেন ভগ্ন ঘরে, কেউ নতুন আশ্রয়ে—কিন্তু প্রত্যেকেরই বুকে জমে আছে হারানোর যন্ত্রণা আর স্মৃতির ভার।

এই ভগ্ন জীবনের মাঝেই এক গাজাবাসী নারী তার ভালোবাসা, বেঁচে থাকার প্রতীক হিসেবে আগলে রেখেছেন তার পোষা প্রাণীদের—একটি কচ্ছপ, একটি টিয়া পাখি ‘বিকো’ এবং একটি বিড়াল ‘লুকা’।

“আমার পোষা প্রাণীরা আমার আত্মা,” তিনি বলেন। “যেখানেই যাই, ওরা আমার সঙ্গে থাকে। আমি ওদের আমার সন্তানের মতোই দেখি।”

ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিজের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর এখন তিনি মায়ের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে ছেলে সন্তানসহ বসবাস করছেন। যুদ্ধের সময় বহুবার স্থানচ্যুত হতে হয়েছে, কখনও কয়েকদিন রাস্তায়ও কাটাতে হয়েছে।

তার পোষা প্রাণীদের নিয়েও কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। যুদ্ধের সময় পাখির খাঁচা ভেঙে যায়, খাবারেরও তীব্র অভাব ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, “আমি ওদের কিছু হতে দেব না। বিকো, লুকা, আর আমার কচ্ছপ—ওরা আমার সন্তান, আমার আত্মা। আমি কাঁদলে লুকাও কাঁদে।”

গাজার এই নারীর গল্পটি কেবল একটি পরিবারের নয়—এ যেন সমগ্র প্যালেস্টাইনের সেই মানবিক প্রতিচ্ছবি, যেখানে যুদ্ধ ধ্বংস করে ঘরবাড়ি, কিন্তু ভালোবাসা এখনো বাঁচিয়ে রাখে মানুষের প্রাণ।

 

যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের বিচার দাবিতে দেশজুড়ে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে নারী যৌন হয়রানির ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নারী হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
আয়োজনে বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ধর্ষণের শিকার নারীদেরই দায়ী করা হয়, যা ভুক্তভোগীর প্রতি চরম অন্যায় ও অপমানজনক।
বক্তারা আরও বলেন, “যে সরকারের প্রতি জনগণ আশা রেখেছিল নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সেই সরকারই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। প্রশাসন অনেক সময় ধর্ষণের মামলা রুজুতে গড়িমসি করে, এমনকি ভিক্টিমের বয়স বাড়িয়ে ঘটনা আড়াল করারও চেষ্টা চলে।”

একই দিন বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, রাবি শাখা।
ছাত্রী সংস্থার নবনির্বাচিত সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ফাতেমাতুস সানিহা বলেন, “দেশে চলতি বছর ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি। কালিয়াকৈরের ১৩ বছরের মাদরাসাছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায়ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।”
রাবি শাখার সহ-নেত্রী সাইফুন নাশীদা বলেন, “ধর্ষকের কোনো ধর্ম নেই। অপরাধী যখন ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করতে চায়, তখন সেটি সমাজের নৈতিক পতনের প্রতিফলন।”

পরদিন মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে মানববন্ধন করে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, চবি শাখা।
শাখার সেক্রেটারি ও চাকসুর ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপা বলেন, “রাষ্ট্রের নীরবতা ও সামাজিক উদাসীনতাই নারী নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির মূল কারণ। আমরা কেবল প্রতিবাদ জানাতে নয়, প্রতিকার ও জবাবদিহিতার দাবি নিয়েই আজকে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “নারী নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
চবি শাখার প্রচার সম্পাদক উমাইমা শিবলী রিমা বলেন, “২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ২৭ হাজারেরও বেশি নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৮১ জন নারী। কিন্তু এসব ঘটনার অধিকাংশই বিচারহীন রয়ে গেছে।”

অন্যদিকে সংগঠনের প্রতিনিধি তাওফিকা রহমান বলেন, “কালিয়াকৈরের ঘটনায় পুলিশের বিবৃতি বিভ্রান্তিকর। ১৩ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক কোনোভাবেই ‘প্রেমের সম্পর্ক’ হতে পারে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী এটি স্পষ্ট ধর্ষণ।”

তিনটি শাখার মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করা, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা সমাজে নৈতিক ও মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

নারী_নিরাপত্তা

#যৌনহয়রানি #ধর্ষণবিরোধীপ্রতিবাদ #ইসলামীছাত্রীসংস্থা

ঢাবি #রাবি #চবি

#কালিয়াকৈরধর্ষণ #বিচারচাই
#রাষ্ট্রের_জবাবদিহিতা

 

বিনা মূল্যে ফ্যাশন ডিজাইন ও মার্চেন্ডাইজিংয়ে প্রশিক্ষণ

শান্ত-মারিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি নিয়ে এসেছে দারুণ সুযোগ!
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ, বিজিএমইএ ও এসআইসিআইপি’র সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে তিন মাস মেয়াদি দুটি কোর্সে ভর্তি চলছে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫
কোর্সসমূহ:
১️⃣ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং
২️⃣ থ্রিডি ফ্যাশন ডিজাইনিং

যা পাবেন:
প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট

ভাতা সুবিধা

চাকরির জন্য সহযোগিতা

দরিদ্র, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

আবেদনের জন্য প্রয়োজন:
পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি

এনআইডি কার্ডের ফটোকপি

অনার্স/ডিগ্রি পাসের সার্টিফিকেট

🌐 বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
🔗 https://smuct.ac.bd/
📢 সুযোগ সীমিত—আজই আবেদন করুন!

 

হিফজুল কুরআন অনলাইন ইনস্টিটিউটের প্রীতিমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৫:
হিফজুল কুরআন অনলাইন ইনস্টিটিউট আয়োজিত প্রীতিমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে করেছে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দারস পেশ করেন- হাফিজা ফতেমা।
এরপর পবিত্র কুরআনের উপর নির্মিত একটা ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। যার তথ‍্যের উপর ভিত্তি করে অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতা নেওয়া হয় যা দশর্কদের কাছে খুব ভালো লেগেছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো উস্তাজা ও হাফিজা সংবর্ধনা পর্ব।
উস্তাজা সংবর্ধনা পর্বে সংবর্ধনা প্রদান করেন মুহতারামা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা ও হাফিজা ফাতেমা সুলতানা।
এই সময় স্টেজে হিফজুল কুরআন অনলাইন ইনিস্টিটিউটের উস্তাজারা উপস্থিত ছিলেন—
হাফিজা শাহীনা আক্তার, হাফিজা মাকসুরা মারদিয়া, হাফিজা আফসানা মাসুম, হাফিজা গাজী শামসুন্নাহার, হাফিজা খাদিজাতুল কোবরা, মোয়াল্লিমা রহীমা আক্তার ও মারিয়াম রুম্মানা।
এরপর আল কুরআনের দাবী আমাদের অবস্থান ও করনীয় এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন
প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিন, বিভাগীয় প্রধান, সমাজ কর্ম বিভাগ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ।
“আল কুরআনের মিরাকল” বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রফেসর তাহমিনা ইয়াসমিন, ভাইস প্রিন্সিপাল, মানারাত ঢাকা।

আরেকটি আকর্ষণীয় পর্ব ছিলো হাফিজা সংবর্ধনা।এ পর্বে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রফেসর ড. নাঈমা মোয়াজ্জেম ও ড. জয়নব এম. ডি. সিদ্দিকুর রহমান, এসোসিয়েট প্রফেসর, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

এই পর্বে স্টেজে আসেন হাফিজাগণ—
হাফিজা আফরা আল গালিবা, হাফিজা মীর মুমতাজা ফেরদৌস, হাফিজা মারিয়া আজিমি, হাফিজা আসিফা বিনতে আরশাদ, হাফিজা যয়নব বিনতে হোসাইন, হাফিজা সিরাজাম মুনিরা ফারিহা, হাফিজা তাকিয়া মেহজাবিন আব্দুল্লাহ, হাফিজা ফাতেমা আলম তাকওয়া, হাফিজা মুতহহারা হাফসা, হাফিজা হাফসা বিনতে আনোয়ার, হাফিজা আয়েশা আরীবা, হাফিজা আকিফা ইসলাম, হাফিজা কামরুন্নাহার মীম এবং হাফিজা খুলাইবা রহমান খুশবু।

হাফিজাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সেক্রেটারি, মহিলা বিভাগ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও অধ্যক্ষ দেশিক।

পরবর্তী পর্বে হিফজ ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার প্রদান করেন প্রফেসর ড. নাঈমা মোয়াজ্জেম, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. নাঈমা মোয়াজ্জেম হাফিজা দের মযার্দার কথা তুলে ধরে তাদেরকে অভিনন্দন জানান।


অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হিফাজুল কুরআন অনলাইন ইনিস্টিটিউটের ফাউন্ডার আখি ফেরদৌসী।তিনি হিফজুল কুরআন অনলাইন ইনস্টিটিউটের এই আয়োজন ইসলাম, জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিলো তেলাওয়াত, নাশিদ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। রিদওয়ান
জাইমা নূর, নুসাইবা নিসা, রাহী, নাবিহা নূর সাওদা,এবং নুসরাতের কণ্ঠে পরিবেশিত নাশিদ সমূহ দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। জাইমা নূরের দলের পনের মিনিট ব্যাপী মেশাপের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিলো অতুলনীয় ও ব্যতিক্রমী।আগত দর্শনার্থীদের অনুভূতি ছিলো তারা এ ধরনের আয়োজন আরো দেখতে চায়। ইসলামী সাংস্কৃতির প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করলেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো। তাঁর সঙ্গে এ বছরের পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেড র‌্যামসডেল ও জাপানের শিমোন সাকাগুচি। তারা তিনজন যৌথভাবে এই সম্মান অর্জন করেছেন মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে।

 সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের স্টকহোম থেকে ২০২৫ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। 

নোবেল কমিটির ঘোষণায় জানানো হয়, তারা “পরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স” সম্পর্কিত মৌলিক আবিষ্কারের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। এই আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেছে এবং ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।

মেরি ব্রাঙ্কো ও তাঁর সহগবেষকরা দেখিয়েছেন, দেহে বিশেষ ধরনের প্রতিরোধক কোষ থাকে—রেগুলেটরি টি সেলস, যা আমাদের প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে নিজের শরীর আক্রমণ করা থেকে রক্ষা করে।

মেরি ই. ব্রাঙ্কো ১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজি-তে সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

নারী গবেষক হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর এই অর্জন বিজ্ঞান জগতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর অবদান ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করছে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

উল্লেখ্য, মেরি ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র‌্যামসডেল ও শিমোন সাকাগুচি তিনজন মিলে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা) পুরস্কার অর্থ ভাগ করে নেবেন।

 

বুয়েটের স্বঘোষিত ধর্ষক: কোথায় বাস করছি আমরা?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)—দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তি এখন পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে।
বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ‘শ্রীশান্ত রায়’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে লিখেছে, কীভাবে সে তার এক সহপাঠী মুসলিম মেয়েকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করেছে। আরও অবাক করা বিষয় হলো—সে নিজ অপরাধ নিয়েই নির্লজ্জভাবে গর্ব করেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বুয়েট ক্যাম্পাসে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতভর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে, অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, লজ্জা ও গভীর হতাশা। তারা যেন নিজেদেরই প্রশ্ন করছিল—“আমরা কি সত্যিই মানুষ হয়ে উঠতে পারছি?”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটির পর জরুরি বৈঠক ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে এবং বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দেয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি এই ধরনের অপরাধের কোনো স্থান কোনো ক্যাম্পাসে বা সমাজে হতে পারে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা কেবল একজন অপরাধীর নয়; বরং এটি একটি প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। আমরা শিক্ষা দিচ্ছি, ডিগ্রি দিচ্ছি—কিন্তু মানুষ গড়ার শিক্ষা দিতে পারছি না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু মূল্যবোধের শিক্ষা হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবার ও সমাজ মিলে তরুণদের নৈতিক শূন্যতায় ঠেলে দিচ্ছে।”

তরুণদের একটি বড় অংশ এখন ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও রেডিটের মতো ভার্চুয়াল জগতে নিমগ্ন। সেখানে অশ্লীলতা, সহিংসতা ও বিকৃত আনন্দকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করা হয়। ফলস্বরূপ, বাস্তব জীবনের নৈতিক মূল্যবোধ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিণতিতে বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে হাজারেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের বড় অংশই কিশোরী বা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রী।
শিশু নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার পেতে বছরের পর বছর কেটে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার মেয়েটিই সমাজের কটূ মন্তব্য ও দোষারোপের শিকার হয়। এই অন্যায় সংস্কৃতিই অপরাধীদের সাহস জোগায়, তারা ভাবে—“কেউই কিছু করতে পারবে না।”

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে অন্তত চারটি ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। বুয়েটের ঘটনাটি যেন তারই ধারাবাহিকতা। সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন নীরব, মিডিয়াও অনেক সময় নিরব।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্নভাবে অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তি কার্যকর না হওয়াই আজ ধর্ষকদের সাহস বাড়িয়ে তুলছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন বিচার হয় না? কারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়?

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষা এখন কেবল পেশা ও ডিগ্রির সীমায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা নেই, স্কুলে নেই চরিত্রগঠনের পাঠ, সমাজে নেই দায়িত্ববোধ। ফলে তরুণ প্রজন্ম এক ধরনের অন্ধকারে হাঁটছে, যেখানে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে ‘পুরনো’ মনে করা হয়।
আইন বিশ্লেষক ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান বলেন, “ধর্ষণ এখন শুধু অপরাধ নয়, এটি এক সামাজিক রোগ। এর চিকিৎসা শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে নয়, মূল্যবোধ ও আত্মিক শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব।”

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এখন রাস্তায়। তাদের প্রতিবাদ কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের বিবেকের লড়াই।
সমাজ যদি এখনই না জেগে ওঠে, তবে একদিন এই অন্ধকার আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গ্রাস করবে। এই দেশের মেয়েরা, শিশুরা, মায়েরা—তাদের নিরাপত্তা দান করা আমাদেরই দায়িত্ব। আর যদি আমরা এখনো নীরব থাকি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

 

ইবিতে মেহেদি উৎসবের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার আত্মপ্রকাশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলায় ছাত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী মেহেদী উৎসব।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের (২০১৮-১৯ সেশন) শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার শাখার সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উৎসব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বিভাগের নারী শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। তারা আনন্দঘন পরিবেশে মেহেদি অঙ্কন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক নানা কার্যক্রমে অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিন আক্তার বলেন,
“ছাত্রী সংস্থার এমন আয়োজন দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। বান্ধবীদের নিয়ে মেহেদি দিতে চলে এসেছি। এখানের আপুরা খুব আন্তরিক, চাই তারা এমন আয়োজন আরও বেশি করুক।”

নবনিযুক্ত সভানেত্রী ইয়াসমিন আক্তার বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি ছাত্রীদের জন্য একটি সুস্থ ও ইতিবাচক সংস্কৃতিচর্চার অংশ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এমন আয়োজন সম্ভব হয়নি, কিন্তু এখন আমরা নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।”

উৎসব চলাকালীন সময়ে সংগঠনের সদস্যরা নতুন সদস্য আহ্বান করেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারপত্র বিতরণ করেন। উৎসব প্রাঙ্গণে বন্ধুত্বপূর্ণ, সৌহার্দ্য ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি হয়।

 

প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যে সহিংসতার শিকার প্রতি তিনজনের একজন

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাদের জীবন প্রতিদিনই লড়াইয়ের। শুধু শারীরিক নয়—এই লড়াই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত। একদিকে নারী হওয়ায় লিঙ্গজনিত বৈষম্য, অন্যদিকে প্রতিবন্ধকতা—এই দ্বৈত প্রান্তিকতা তাদের জীবনে সৃষ্টি করছে বহুমাত্রিক বঞ্চনা ও সহিংসতার ঝুঁকি।

বেসরকারি সংস্থা উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (WDDF) পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি তিনজনের একজন কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার। পাশাপাশি ৭৫ শতাংশ নারী শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুতর বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার প্রকাশিত ‘প্রতিবন্ধকতার শিকার নারীদের ওপর যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এই তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ভাস্কর ভট্টাচার্য ও সিনারজি সলিউশনসের প্রধান নির্বাহী মোজাহিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সাতটি জেলায় পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ২ হাজার ১৩২ জন উত্তরদাতা।
গবেষণায় দেখা যায়—
৭৫% নারী শিক্ষা অর্জনে গুরুতর বাধার মুখে

প্রায় ৪৯% নারী কখনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি

৫২% এর বেশি নারী বেকার, আর মাত্র ৪.৮৩% কোনোভাবে চাকরিতে যুক্ত

৭৮% নারী জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র তাদের জন্য প্রবেশগম্য নয়

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী নারীরা নাগরিক অধিকার প্রয়োগ, বিশেষ করে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে, ভয়াবহভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫% নারী বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যই তাদের প্রধান বাধা।
অন্যদিকে, ৪০% নারী জানেনই না যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কী। তবু ৩০.৪৯% নারী স্বীকার করেছেন, তারা কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ছিল শারীরিক নির্যাতন (৭০%), এরপর মানসিক নির্যাতন (৫৬%)।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডব্লিউডিডিএফের চেয়ারপারসন শিরিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। উপস্থিত ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব এবং মানবাধিকার নেত্রী শিফা হাফিজাসহ আরও অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমাজে প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে কোনো নীতি বা প্রকল্পই টেকসই হবে না। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

 

ইইউ কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০ অক্টোবর ২০২৫ সকালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি চীফ বাইবা জারিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দীকার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইইউ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. হাবীবা আক্তার চৌধুরী, এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সুফিয়া জামাল—সবাই কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য; এবং লায়লা মরিয়ম, সদস্য, এডভাইসারি কাউন্সিল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।

বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উভয় পক্ষ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতেও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

গুম কমিশনের মস্তিষ্ক ড. নাবিলা ইদ্রিস

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বলপূর্বক গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে গঠিত “গুম অনুসন্ধান কমিশন” এখন এক ঐতিহাসিক প্রয়াসের প্রতীক। এই কমিশন শুধু অতীতের অন্ধকার উন্মোচন করছে না, বরং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের নতুন এক আলোচনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ড. নাবিলা ইদ্রিস—যিনি বর্তমানে “গুম কমিশনের মস্তিষ্ক” হিসেবে সর্বত্র পরিচিত।

ড. নাবিলা ইদ্রিস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন গবেষক ও নীতিবিশ্লেষক। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের Open University-তে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে তিনি বৈশ্বিক সামাজিক সুরক্ষা (Global Social Protection Fund) বিষয়ক গবেষণায় যুক্ত। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BIGD)-এর খণ্ডকালীন গবেষক হিসেবেও কাজ করছেন।
তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের US State Department IVLP প্রোগ্রামের ফেলো হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। চীন, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে নীতি বিশ্লেষণ, শাসনব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে তার বিস্তৃত কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো বাংলাদেশের ক্ষমতার কাঠামো, নীতি নির্ধারণের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। এই তাত্ত্বিক গভীরতা ও বিশ্লেষণী নেতৃত্বের ফলেই গুম অনুসন্ধান কমিশন আজ একটি প্রমাণনির্ভর, নিরপেক্ষ ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বে কাজ চললেও, কমিশনের দিকনির্দেশনা, গবেষণা পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সুপারিশ প্রণয়নের মূল দায়িত্বে রয়েছেন ড. নাবিলা ইদ্রিস। তার তত্ত্বাবধানে কমিশন ইতোমধ্যে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংঘটিত শতাধিক বলপূর্বক গুমের সত্যতা ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য—গাড়ির ভেতরে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা, বিষ প্রয়োগ, কিংবা লাশ রেললাইনে ফেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের হাতে হ্যান্ডকাফসহ মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এমন অগণিত প্রমাণ কমিশনের প্রতিবেদনে যুক্ত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের নির্মম বাস্তবতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে।

ড. নাবিলার নির্দেশনায় কমিশন শুধু ঘটনাগুলোর তদন্তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভবিষ্যতের জন্য নীতিগত সংস্কারেরও প্রস্তাব দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো হলো—
গুমের শিকার পরিবারদের জন্য “ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স সার্টিফিকেট” প্রবর্তন, যাতে তারা আইনি স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য মানসিক ও আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন।

নাগরিক সমাজের বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. নাবিলা ইদ্রিস এই কমিশনকে কেবল তথ্য-সংগ্রহের কাঠামোতে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তিনি এটিকে এক নৈতিক আন্দোলনে পরিণত করেছেন—যেখানে প্রতিটি সাক্ষ্য, প্রতিটি দলিল, প্রতিটি পরিবারিক কান্না হয়ে উঠছে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার দলিল।

একজন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীর ভাষায়, “নাবিলা ইদ্রিস হচ্ছেন সেই কণ্ঠ, যিনি ভয় নয়, তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ান। তার মতো মানুষের হাতেই জনগণের আস্থা ফিরছে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ায়।”

আজ “গুম অনুসন্ধান কমিশন” শুধু নিখোঁজদের তথ্যভান্ডার নয়, এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যায়, সাহস ও মানবতার নতুন সংলাপ।
আর এই সংলাপের সূক্ষ্ম নকশাকার—ড. নাবিলা ইদ্রিস, যিনি প্রমাণ করছেন, গবেষণা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই সম্ভব সত্যের পুনরুদ্ধার।

রাষ্ট্রের নীরব অন্ধকারের ভিতর থেকে তিনি যেন আলোর রেখা টেনে আনছেন-একজন নারী, এক গবেষক, এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর—বাংলাদেশের গুম ইতিহাসে ন্যায়ের নতুন নির্মাতা, ড. নাবিলা ইদ্রিস।

 

মুক্তি পাওয়া দুই নারী বন্দি: সেহাম আবু সালেম ও মিরফাত খলিল

গাজা | ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন দুই বীর ফিলিস্তিনি নারী বন্দি — সেহাম আবু সালেম ও মিরফাত খলিল। তারা দুজনেই গাজা সিটির বাসিন্দা এবং বহু বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ছিলেন।

সেহাম আবু সালেম (উম খলিল) — বয়স সত্তরেরও বেশি। গাজা সিটির এই প্রবীণ নারী প্রথমবার গ্রেফতার হন ২০১৫ সালে। এরপর একাধিকবার আটক হন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে। তাঁর দুই কন্যা, সুযান ও রাবাব, পূর্বে বন্দি বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেহাম আবু সালেম দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন।
সর্বশেষ তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, এবং আজ, বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি মুক্তি পান।

অন্যদিকে, মিরফাত খলিল গাজারই আরেক সাহসী নারী। তাঁকে ২০২০ সালে গ্রেফতার করা হয়, অভিযোগ ছিল তিনি হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইসরায়েলি কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী অবস্থান এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হন।

এই দুই নারী বন্দি বছরের পর বছর অন্যায় আটক ও নির্যাতনের মধ্যেও অদম্য সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাঁদের মুক্তি গাজার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

রাসায়নিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশের গর্ব অধ্যাপক ড. সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা

অধ্যাপক ড. সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষিকা, যিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রাসায়নিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন।
ড. রাজিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বুয়েটে, যেখানে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টায় পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর আগ্রহ ছিল শিল্প প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে, যা পরবর্তীতে তাঁর গবেষণা ও শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

পিএইচডি শেষ করার পর তিনি বুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি দেশের একজন পরিচিত কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে কেমিক্যাল সেফটি ও সিকিউরিটি, প্রক্রিয়া নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিস্টিলেশন ও সেপারেশন প্রক্রিয়া, এবং শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।
গবেষণা কাজগুলো শুধু একাডেমিক জগতে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দেশের শিল্পখাতেও নিরাপত্তা সংস্কৃতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ড. রাজিয়ার আন্তর্জাতিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি OPCW (Organization for the Prohibition of Chemical Weapons)-এর Scientific Advisory Board-এর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ এবং কেমিক্যাল সিকিউরিটির নীতি ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী হিসেবে এই বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব দেশের জন্য গর্বের।

২০২৩ সালে ড. সৈয়দা রাজিয়া “The Hague Award” লাভ করেন, যা OPCW প্রদত্ত একটি সম্মানজনক পুরস্কার, রাসায়নিক নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী বিজ্ঞানী হিসেবে আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান লাভ করেছেন। এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষাগত জগতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

শিক্ষক এবং গবেষক হিসেবে ড. রাজিয়া শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও নিরাপত্তাবোধ শেখান।
তিনি নিয়মিত কিছু কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন, যেখানে শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী এবং শিল্পকর্মীরা রাসায়নিক ঝুঁকি এবং নিরাপদ প্রক্রিয়া পরিচালনার আধুনিক ধারণা শিখতে পারেন। তাঁর এই উদ্যোগগুলো দেশের শিল্পখাত ও একাডেমিয়ায় নিরাপত্তা সংস্কৃতি গঠনে অমূল্য ভূমিকা রেখেছে।

ড. রাজিয়ার গবেষণা এবং প্রকাশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কেমিক্যাল সেফটি, প্রক্রিয়া নিরাপত্তা, এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ডে দেশকে পরিচিতি দিয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল ও সিম্পোজিয়ামে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ভাগাভাগি করেন এবং বহু বৈজ্ঞানিক বোর্ডে সম্পাদনা দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগতভাবে, তিনি একজন প্রেরণাদায়ী শিক্ষক। তাঁর শিক্ষার্থীরা বলছেন, “ম্যাডাম শুধু ক্লাসে পড়ান না, জীবনেও শেখান কীভাবে দায়িত্বশীল ও নৈতিক গবেষক হওয়া যায়।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বিজ্ঞান তখনই সত্যিকার অর্থে কল্যাণকর, যখন তা মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও সুন্দর করে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর গবেষণা, নেতৃত্ব এবং নৈতিক দৃঢ়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা এবং তরুণ গবেষকদের জন্য এক দৃষ্টান্ত। তার মতে বিজ্ঞান কেবল জ্ঞান নয়, বরং একধরনের মানবিক দায়িত্ব। এই দায়িত্বকে তিনি নীরবে, নিষ্ঠাভরে দেশের ও বিশ্বের কল্যাণে পালন করছেন।

 

নারীদের চারটি আইটি কোর্সে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ

ডিজিটাল দক্ষতায় নারীদের আরও একধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) এবং দ্য এভারেস্ট আইটি একত্রে নিয়ে এসেছে অনন্য উদ্যোগ। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চারটি আইটি প্রশিক্ষণ কোর্সের।

তিন মাস মেয়াদি এই কোর্সগুলোয় নারীরা পাবেন আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ক্লাসে অংশ নিয়ে গড়ে তোলা হবে নতুন প্রজন্মের দক্ষ নারী আইটি প্রফেশনাল।

চারটি প্রশিক্ষণ কোর্স:
১️. কম্পিউটার অপারেশন (লেভেল–৩)
২️.ফ্রিল্যান্সের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং (লেভেল–৩)
৩️. গ্রাফিকস ডিজাইন (লেভেল–৩)
৪.ফ্রিল্যান্সের জন্য গ্রাফিকস ডিজাইন (লেভেল–৩)

যোগ্যতা:
ন্যূনতম এসএসসি পাস বা সমমান।

সুবিধাসমূহ:
কোর্স শেষে সরকারি অনুমোদিত (NSDA) সনদপত্র প্রদান

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজের অগ্রাধিকার

চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ

ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে সহায়তা

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১️পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)
২️ দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
৩️ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
৪️ জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি

ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য:
আসনসংখ্যা সীমিত

প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী

আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে ভর্তি

অনলাইনে আবেদন করুন এখানে:
https://tinyurl.com/ymyt7775

নিজেকে বদলে নিন, নিজের হাতে গড়ে তুলুন নতুন ক্যারিয়ার!

 

ঢাবিতে ছাত্রীসংস্থার উদ্যোগে চারদিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প শুরু

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রীসংস্থা চারদিনব্যাপী একটি মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা রক্ষা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক চিন্তা চর্চার প্রতি উৎসাহ জাগানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ক্যাম্পের প্রথম দিন, সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুফিয়া কামাল হলে সেবা প্রদান করা হয়। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সম্পর্কের সংকট, পরীক্ষার ভয়, মানসিক চাপ এবং ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।

পরবর্তী তিনদিন এই কার্যক্রম চলবে ঢাবির বিভিন্ন হলে। ১৪ অক্টোবর রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলে, ১৫ অক্টোবর বঙ্গমাতা ও কুয়েত মৈত্রী হলে, এবং ১৬ অক্টোবর শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল (লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট)-এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এই ক্যাম্পে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, আত্মহত্যার চিন্তা প্রতিরোধ, ডিভাইস আসক্তি থেকে মুক্তি, অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট, ওসিডি, প্যানিক ডিজঅর্ডার, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD), অনিদ্রা, একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—এসব বিষয়ে পরামর্শ ও কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখানে বিশেষজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে তাদের মানসিক সংকটের সমাধান পাচ্ছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লোপা রহমানা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আত্মহত্যা বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার দিকে ধাবিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় হতে সহায়তা করবে।” অপর এক শিক্ষার্থী মাহমুদা জানান, “দীর্ঘদিনের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা অনেক সময় মনকে ক্লান্ত করে তোলে। এই ক্যাম্প শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি ও নতুন করে পথচলার অনুপ্রেরণা দেবে।”

আয়োজক ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা জানান, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সহনশীল ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সেবা নিতে পারবেন।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সহানুভূতির পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে এটি শিক্ষার্থীদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

গ্রামীণ নারীদের উদ্যোগে মানিকগঞ্জে পরিবেশবান্ধব ‘চুলা মেলা’

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের মান্তা মধ্যপাড়া গ্রামে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হলো এক ভিন্নধর্মী আয়োজন—পরিবেশবান্ধব চুলা ও হাজল মেলা। দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নেন প্রায় দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণী। আয়োজন করে স্থানীয় মান্তা নারী সংগঠন, সহযোগিতায় ছিল গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’।

মেলায় প্রদর্শিত হয় স্থানীয় মাটি দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পরিবেশবান্ধব চুলা। অংশ নেন মোট ৩৫ জন কৃষাণী। তাঁরা তুলে ধরেন ছাবনা চুলা, পদ্ম চুলা, তিন তালা চুলা, তিন ঝিক চুলা, বন্ধু চুলা, ঝিকছাড়া চুলা ও খেলনা চুলা। প্রদর্শনকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এসব চুলা ধোঁয়া কমায়, জ্বালানি সাশ্রয় করে এবং রান্নার সময় চোখে ক্ষতির আশঙ্কা হ্রাস করে।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল আলোচনা সভাও। এতে বক্তব্য রাখেন মান্তা নারী সংগঠনের সভাপতি রেনু বেগম, সহসভাপতি বিউটি আক্তার, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা সুবীর কুমার সরকার, সহযোগী গবেষণা কর্মকর্তা শ্যাময়েল হাসদা ও আলপনা রানী সরকার। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জীবনে পরিবেশবান্ধব চুলা শুধু জ্বালানি সাশ্রয়েই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাতে-কলমে হাজল তৈরির প্রশিক্ষণ। হাজল হলো এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ পাত্র, যা ব্যবহার করে দেশি মুরগির ডিম ফোটানো হয়। প্রশিক্ষণ দেন আদর্শ কৃষাণী রেনু বেগম। তিনি জানান, হাজল ব্যবহারে শতভাগ ডিম ফুটানো সম্ভব, পাশাপাশি মুরগিকে খাবারের জন্য বাইরে যেতে হয় না। ফলে মুরগির সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি খামারিদের জন্য ডিম উৎপাদনও বাড়ে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গ্রামাঞ্চলের আরও অনেক কৃষাণী হাজল তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবান্ধব চুলা ও হাজলের প্রসার ঘটলে তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই জীবনের জন্য একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র -আজকের পত্রিকা

 

ওরিয়ানা ফালাচি: এক সাহসী কণ্ঠের উত্তরাধিকারী

বিশ্ব সাংবাদিকতার ইতিহাসে ওরিয়ানা ফালাচি একটি ব্যতিক্রমী নাম। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, দার্শনিক ও নির্ভীক সাংবাদিক। যুদ্ধক্ষেত্র হোক কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয়—যেখানেই দাঁড়িয়েছেন, সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কলম শুধু খবর পরিবেশনের যন্ত্র ছিল না; বরং একে তিনি ব্যবহার করেছেন অন্যায়, সহিংসতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে।

১৯২৯ সালের ২৯ জুন ইতালির ফ্লোরেন্সে জন্মগ্রহণ করেন ওরিয়ানা ফালাচি। কৈশোরেই তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী, আর কিশোরী ওরিয়ানাও যুক্ত হন নাৎসিবিরোধী আন্দোলনে।
যুদ্ধকালীন এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিক গঠনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতা বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে।

প্রথম জীবনে তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করলেও ধীরে ধীরে সাংবাদিকতাকেই জীবনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন—“একজন সাংবাদিক কেবল তথ্য জানায় না; বরং সত্যকে উদঘাটন করে নির্ভয়ে প্রকাশ করে।”

ফালাচি যুদ্ধক্ষেত্রকে নিজের কাজের পরিসর হিসেবে গ্রহণ করেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মেক্সিকোর ছাত্রবিদ্রোহ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি ছিলেন সরাসরি উপস্থিত।
নারী সাংবাদিকদের জন্য যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে তিনি সাহসের সঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন।

ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন তাঁর রিপোর্টগুলো পশ্চিমা পাঠকদের কাঁপিয়ে তোলে। যুদ্ধের নির্মমতা, সৈন্যদের মানসিক অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যা পাঠকদের চোখে যুদ্ধকে জীবন্ত করে তুলেছিল। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি লেখেন বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Nothing and So Be It’।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন।
শরণার্থীশিবির, হাসপাতাল ও সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা ও নির্যাতনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তাঁর একাধিক প্রতিবেদন পশ্চিমা বিশ্বে আলোড়ন তোলে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে। তিনি নির্দ্বিধায় এই যুদ্ধকে “Massacre” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি সাক্ষাৎকার গ্রহণে তাঁর নির্ভীকতা ছিল অনন্য। ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত, হেনরি কিসিঞ্জার, আয়াতুল্লাহ খোমেনি কিংবা গোল্ডা মেয়ার—প্রত্যেকের সঙ্গেই তিনি এমন প্রশ্ন করেছেন, যা অনেক সময় তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

ফালাচির সাহিত্যকর্মও তাঁর সাংবাদিকতার মতোই গভীর ও প্রভাববিস্তারী। Letter to a Child Never Born মাতৃত্ব ও নারীত্ব নিয়ে লেখা এক আত্মজিজ্ঞাসামূলক উপন্যাস। Inshallah লেবাননের গৃহযুদ্ধ ও ধর্মীয় মৌলবাদের প্রেক্ষাপটে রচিত। আর ৯/১১-পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত The Rage and The Pride পশ্চিমা সভ্যতা ও ইসলামের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ওরিয়ানা ফালাচি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কলম থামাননি। মৃত্যুশয্যায় থেকেও ঘোষণা করেছিলেন—“আমি মৃত্যুর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করব, যেমন আমি অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়েছি।”

ওরিয়ানা ফালাচির জীবন কেবল একজন সাংবাদিকের নয়; এটি সাহস, নির্ভীকতা ও সত্য অনুসন্ধানের এক উজ্জ্বল দলিল। সাংবাদিকতার পেশায় নারীদের অংশগ্রহণের পথ সুগম করার পাশাপাশি তিনি দেখিয়েছেন—প্রশ্ন করা, সত্য বলা এবং ভয়কে অতিক্রম করাই সাংবাদিকতার মূল আত্মা।

 

দলিত নারীর ক্ষমতায়নে চার দফা দাবি

দলিত নারী ফোরাম ও নাগরিক উদ্যোগের আয়োজনে রাজধানীর ধানমন্ডির উইমেন ভলেন্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সম্মিলনীতে দলিত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। একইসঙ্গে উপমহাদেশের দলিত অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বি. আর. আম্বেদকর, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং বাংলাদেশের দলিত আন্দোলনের নেতা বিজি মূর্তির অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, শ্রেণী, বর্ণ ও লিঙ্গের কারণে দলিত নারীরা ত্রিমুখী বৈষম্যের শিকার। সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়।

সম্মিলনীতে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায় তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। দলিত মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার ৭৬ শতাংশ, বিদ্যালয়ে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়া, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া—এসব কারণে তারা আরও পিছিয়ে পড়ছে।

বক্তারা দলিত নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য চারটি মূল দাবি উত্থাপন করেন—
১. ভূমি ও সম্পদের ওপর নারীর মালিকানা প্রতিষ্ঠা।
২. কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক পরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা।
৩. ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
৪. সব স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

দলিত নারী ও কিশোরীদের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশও আসে সম্মিলনীতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
সংবিধানে নারী-পুরুষ সমতা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।

হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা ও বৈষম্যমূলক উত্তরাধিকার আইন বাতিল।

“জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা–২০১১” পুনর্মূল্যায়ন করে দলিত ও প্রান্তিক নারীদের চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করা।

জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য নিরসনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।

কর্মজীবী দলিত নারীদের মাতৃত্বকালীন সকল সুবিধা নিশ্চিত করা।

সম্মিলনীতে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে দলিত নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দলিত নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া নারী নির্যাতন ও বৈষম্য হ্রাস করা সম্ভব নয়।