banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

ডাচ সংসদে ফিলিস্তিন প্রশ্নে প্রতীকী প্রতিবাদ

নেদারল্যান্ডসের সংসদ সম্প্রতি এক ভিন্নধর্মী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। বাজেট আলোচনার দিনে সংসদ সদস্য এস্তের উওয়্যান্ড (Esther Ouwehand), যিনি দেশটির Party for the Animals (Partij voor de Dieren – PvdD) দলের নেতা, সংসদীয় বিতর্কে বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর পোশাককে কেন্দ্র করে সংসদে দেখা দেয় বিতর্ক, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠে।

ঘটনার শুরু হয় যখন এস্তের উওয়্যান্ড সংসদ অধিবেশনে হাজির হন এমন একটি শার্ট পরে, যেটি দেখতে অনেকটা ফিলিস্তিনের পতাকার মতো। শার্টের লাল, সবুজ, কালো ও সাদা রং ফিলিস্তিনি পতাকার প্রতীকী ছাপ বহন করছিল। অধিবেশনের সভাপতি ও কিছু সংসদ সদস্য আপত্তি জানান যে সংসদে নিরপেক্ষ পোশাক পরিধান করা আবশ্যক, এবং তাঁর এই শার্টকে “রাজনৈতিক প্রতীকী পোশাক” বলে অভিহিত করেন।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাঁকে সরাসরি পোশাক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংসদে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নিয়মের কথা উল্লেখ করে স্পিকার তাঁকে ওই শার্ট খুলে ফেলার আহ্বান জানান। ফলে এস্তের কিছু সময়ের জন্য সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন নতুন এক শার্ট পরে। এই শার্টে আঁকা ছিল তরমুজের ছবি ও বীজের ছাপ। এই পছন্দ নিছক কাকতালীয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তরমুজ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ, ফিলিস্তিনের পতাকার মতোই তরমুজের লাল, সবুজ, কালো ও সাদা রঙ মিলে এক অর্থবহ প্রতীক তৈরি করে। ইসরায়েলি সেন্সরশিপ ও নিষেধাজ্ঞার সময়েও ফিলিস্তিনিরা পতাকা ব্যবহার করতে না পারলেও তরমুজকে শিল্প, কার্টুন ও পোশাকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

এস্তের উওয়্যান্ডের এই কৌশল সংসদকক্ষের ভেতর ও বাইরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি শুধু পোশাকের মাধ্যমে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন—“প্রতীকী প্রতিবাদকে দমন করা যায় না, তা অন্যভাবে ফিরে আসে।”

ডাচ সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সমর্থকরা বলছেন, তিনি নৈতিক সাহস দেখিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, সংসদে রাজনৈতিক প্রতীকী পোশাক পরিধান করা শোভনীয় নয়। তবে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো—একটি সাধারণ শার্ট এবং তরমুজের ছবিই ফিলিস্তিনের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

রোবি তে নিকাব খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে অনুষ্ঠিত এক মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ভাইভা রুমে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এক্সটার্নাল পরীক্ষক তাকে মুখ খুলতে বলেছিলেন। শিক্ষার্থী জানিয়েছিলেন, তিনি নিকাব খুলতে পারবেন না এবং এটি তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। এরপর পরীক্ষক বলেন, “এটা কোনো নিয়ম না, এটা অভদ্রতা।” উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকও একই রকম মন্তব্য করেন। এক শিক্ষক বলেন, “তুমি তো চাকরি করতে চাইবে? এভাবে গেলে চাকরি দেবে?” আরেকজন বলেন, “এখানে আসার আগে প্রিপারেশন নিতে হবে, নিয়ম মানতে হবে।”

শিক্ষার্থী জানান, তিনি নিকাব খুলতে অস্বীকার করলে পরীক্ষক বিদেশি শিক্ষার্থীদের উদাহরণ দেন এবং বলেন, “তুর্কি, ইরানি, আফগান মেয়েরা কি ইসলাম মানে না? ওরা কি এভাবে থাকে?” এছাড়া, রুম থেকে বের হওয়ার সময় সতর্ক করা হয় যে, পরের বার এভাবে আসবেন না। একই সঙ্গে, একজন শিক্ষক হুমকি দেন যে, তার এই ড্রেসকোডের কারণে ‘শূন্য নম্বর’ দেওয়া হতে পারে।

পরে জানা যায়, ভাইভা শুরুর আগে সেমিনার রুমে মেয়েদের বলা হয়েছিল, কেউ যেন নিকাব পরে ভাইভা রুমে প্রবেশ না করে। তারপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিকাব পরে প্রবেশ করলে তাদের নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়। যিনি নিকাব খুলতে বাধ্য করেছেন, তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক্সটার্নাল পরীক্ষক নুরুল কাউয়ুম।এ সময় রুমে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেননি। হুমকি দেওয়ার দায়িত্ব মূলত বিভাগের শিক্ষক ইউসুফের।

উল্লেখ্য, ভাইভা বোর্ডে কোনো নারী শিক্ষক ছিলেন না, সব শিক্ষকই পুরুষ ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই ও ভাইভা পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী শিক্ষক রাখা উচিত, যাতে তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ না করা যায়।

এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

 

ব্যাংক খাতে নারী কর্মী হ্রাস: ছয় মাসে কমেছে প্রায় ২ হাজার

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় দুই হাজার, যা মোটের ওপর প্রায় পাঁচ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৯ জন, যা এ বছরের জুন শেষে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৮২ জনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং অফিস-পরবর্তী যাতায়াত সুবিধায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস-পরবর্তী যাতায়াত সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—গত বছরের শেষার্ধে যেখানে ৫২ শতাংশ নারী এই সুবিধা পেতেন, তা কমে বর্তমানে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা মাত্র ১৭ শতাংশ। বাকি ৮৩ শতাংশ পুরুষ কর্মী। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা যায়—সেখানে প্রতি পাঁচজন পুরুষ কর্মীর বিপরীতে নারী কর্মী প্রায় একজন।

নারী কর্মীদের পদোন্নতি ও কর্মমূল্যায়নে বৈষম্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটিকে কর্মমূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ ছাড়া কাজের পরিবেশ, ডে কেয়ার ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধার অভাবে অনেক নারী মাঝপথেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এক নারী কর্মকর্তা জানান, সন্তান প্রতিপালনের অসুবিধার কারণে গত পাঁচ বছরে তার পরিচিত কয়েকজন নারী সহকর্মী চাকরি ছেড়েছেন।
উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মীর উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর উচ্চপদে নারী অংশগ্রহণের হার ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে এই হার প্রায় ১৪ শতাংশ। আর বেসরকারি ব্যাংকে তা মাত্র ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে পরিচালনা পর্ষদে নারী সদস্যের হার সবচেয়ে বেশি বিদেশি ব্যাংকে (১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ), আর সবচেয়ে কম রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে (৪ শতাংশ)।
নারী কর্মীর সংখ্যার দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে। সেখানে কর্মরত নারী কর্মীর সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে কর্মরত আছেন প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন নারী। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে কর্মরত নারী মাত্র এক হাজার ৩২ জন এবং বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে কর্মরত আছেন প্রায় ২ হাজার নারী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকটের কারণে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলো মনোযোগ দিতে পারছে না। অন্যদিকে, ইস্টার্ন ব্যাংকের নারী ব্যাংকিং প্রধান তানজেরি হক জানান, মধ্যবর্তী পর্যায়ে অনেক নারী পরিবার ও সন্তানের কারণে চাকরি ছেড়ে দেন, ফলে নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো নারী কর্মীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সার্বিকভাবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের ব্যাংক খাতে নারীর উপস্থিতি থাকলেও নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারা এখনো পিছিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিকতা পরিবর্তন এবং নারীবান্ধব নীতি কার্যকর না হলে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

 

দিবস উদযাপনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সহিংসতা

সে রাজকন্যা নয়, না কোনো রূপকথার চরিত্র। তবু দক্ষিণ এশিয়ার কোটি শিশুর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে সে। তার কণ্ঠস্বর স্কুলে পাঠিয়েছে মেয়েদের, শিখিয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের উপায়, আর সাহস জুগিয়েছে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। তার নাম মিনা—যে কেবল কার্টুনের কাগুজে চরিত্র নয়, বরং কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে কথা বলার প্রতীক।

মীনার বয়স আমরা জানি না, জানি না তার গ্রাম বা স্কুলের নামও। তবু দক্ষিণ এশিয়ার কোটি শিশু তাকে নিজেদের মতো করে চিনে নিয়েছে। কারণ মীনা কেবল একটি কার্টুন চরিত্র নয়, সে শিশুদের অধিকার নিয়ে সমাজকে ভাবিয়েছে, বিশেষ করে মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও স্বপ্নের কথাই সে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলেছে।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে দক্ষিণ এশিয়ার কন্যাশিশুর দশক ঘোষণা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফ তৈরি করে মীনা কার্টুন, যা বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে শিশুদের সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মীনা দিবস।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর পালন করা হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। লক্ষ্য একটাই—কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা বন্ধ করা, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কন্যাশিশু দিবস বা মীনা দিবস—দুটিই আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বের কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ছবি দেখায়।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, আইন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২২-২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকের বেশি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

শুধু বাল্যবিবাহ নয়, নানা নির্যাতন ও সহিংসতার খবরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৯০১ কন্যাশিশু নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০০ জন, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১৭ জনের ওপর। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র মার্চ মাসে—এ মাসেই ২৪৮ কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার হয়, যাদের মধ্যে ৭৮ জন প্রাণ হারায়।

তবে প্রকাশিত সংখ্যাগুলো পুরো ছবিটা তুলে ধরে না। অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা পরিবার ও সমাজের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। ভুক্তভোগী কন্যাশিশুরা নীরবে যন্ত্রণা সয়ে যায়, আর সমাজে তৈরি হয় এক অদৃশ্য ভয় ও অবিশ্বাসের দেয়াল।

মীনা দিবস বা কন্যাশিশু দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং পরিবারে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

কন্যাশিশুরা কেবল ভবিষ্যৎ নয়, তারা বর্তমানের নাগরিকও। তাদের অধিকার সুরক্ষিত হলে তবেই সমাজ সত্যিকার অর্থে মানবিক হয়ে উঠবে।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারী নেতৃত্বের অঙ্গীকার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ২০২৫-এ নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইয়িদা হাফছা এবং সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন সামিয়া জাহান।

দুই প্রার্থীর ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার উঠে এসেছে।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইয়িদা হাফছা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। তিনি ক্যাম্পাসে হিজাব ও নিকাব ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণ, একাডেমিক ভবনে নামাজরুম, ওয়াশরুম, কমনরুম, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে গাইনী চিকিৎসক নিয়োগ, নারী হলের পাশে ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম, মা শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও চাইল্ড ডে কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা, অমুসলিম শিক্ষার্থীদের উপাসনালয়, নিরাপদ যানবাহন এবং ত্রৈমাসিক ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সহকারী মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী সামিয়া জাহান নারী শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিংয়ে খাবারের মান ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত এবং ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ছাত্রী জিমনেসিয়াম সংস্কার ও আত্মরক্ষা কৌশল প্রশিক্ষণ, হিজাব-নিকাব ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণ, একাডেমিক ভবনে প্রেয়ার রুম ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন, আবাসিক হলে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের উপাসনালয় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দুই প্রার্থীর ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, একাডেমিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা একটি সমতাভিত্তিক, নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

 

ইসলামী ছাত্রীসংস্থা প্রীতিলতা হলে পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা

(চাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সংগঠনটি)চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আবাসিক হলের নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রীতিলতা হল সংসদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রকাশ করে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। এতে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিসবাহুল জান্নাত তারিন। জিএস পদে রয়েছেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা, আর এজিএস পদে মনোনয়ন নিয়েছেন আফরিদা রিমা।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ বলেন, “এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।” তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন এবং শিগগিরই কেন্দ্রীয়সহ সব হলের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

নেত্রীদের আশা-পরিবর্তনের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গেই থাকবেন।

উল্লেখ্য, আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। আগামীকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। বহুল প্রত্যাশিত চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ অক্টোবর।

 

জাকসু নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব:পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত

জাকসু নির্বাচন ২০২৫-এ নারী প্রার্থীদের সরব অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট তাদের প্যানেলে একাধিক নারী নেত্রীকে মনোনয়ন দিয়ে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তাদের ইশতেহারে উঠে এসেছে নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে হিজাব-নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন নারী প্রার্থীরা।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার, কমনরুম, নামাজের স্থান নির্ধারণ এবং আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তাদের ঘোষণায়। ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের জন্য আলাদা মাঠ ও ইনডোর গেমসের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা এই ইশতেহারকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।

এছাড়া সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সাইবার সেল গঠন, টেলিমেডিসিন সেবা চালু ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নারী প্রতিনিধিদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু জাকসুর নির্বাচনী রাজনীতিতেই নয়, বরং পুরো ক্যাম্পাসে নারী নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

জাকসু নির্বাচনে সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের নারী প্রার্থীদের ইশতেহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন ২০২৫-এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ। এ নির্বাচনে সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট তাদের প্যানেলে একাধিক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সবসময় পুরুষ প্রার্থীর আধিক্য থাকলেও এবারের জাকসু নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন, ধর্মীয় অনুশীলনের সুযোগ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে সামনে এনে প্রার্থীরা নিজেদের ভিশন তুলে ধরছেন।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের জন্য বিশেষ আলোচনায় উঠে এসেছেন-

আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী – নারী, ব্যালট নং: ১):
হর্নমুক্ত ক্যাম্পাস, নিকাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা, ডে-কেয়ার সেন্টার, বটতলায় নারীদের জন্য ওয়াশরুম এবং মসজিদে নামাজের জায়গা বরাদ্দ তার প্রধান প্রতিশ্রুতি।

নিগার সুলতানা (সহ-সমাজসেবা সম্পাদক পদ প্রার্থী – নারী, ব্যালট নং: ১):
নারী শিক্ষার্থীদের স্বকীয়তা রক্ষা, বুলিং প্রতিরোধ, জিরো টলারেন্স নীতি, এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন।

নাবিলা বিনতে হারুন (কার্যকরী সদস্য পদ প্রার্থী – নারী, ব্যালট নং: ২):
একাডেমিক ভবনে নারীদের জন্য কমনরুম ও নামাজের স্থান, ছাত্রী হলের নিরাপত্তায় ড্রোন ক্যামেরা, পানীয় জল ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, এবং মহাসড়কে পুলিশ টহল জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফাবলিহা জাহান (কার্যকরী সদস্য পদ প্রার্থী- নারী, ব্যালট নং: ৩):
হিজাব-নিকাব পরা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ, সাইবার সেল গঠন, টেলিমেডিসিন সেবা, এবং উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা দিয়েছেন।

ফারহানা আক্তার লুবনা (সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদ প্রার্থী – নারী, ব্যালট নং: ৫):
নারীদের জন্য পৃথক খেলার মাঠ, কারাতে প্রশিক্ষণ এবং ছাত্রী হলে ইনডোর গেমস ও ক্রীড়া সামগ্রী নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নারী প্রার্থীদের সরব অংশগ্রহণ জাকসু নির্বাচনে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিরাপদ, নারী-সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

জাকসুনির্বাচন২০২৫ #নারীনেতৃত্ব #সম্মিলিতশিক্ষার্থীজোট #জাহাঙ্গীরনগর_বিশ্ববিদ্যালয়

নারী_প্রতিনিধি

 

ঢাবি ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী তামান্না সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শাখা ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী সাবিকুন নাহার তামান্না বিপুল ভোটে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সর্বোচ্চ ১০,০৮৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন।

ফল বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের প্রচারণার শুরুতেই ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ প্রচারণা বোর্ডে তামান্নার ছবি বিকৃত করা হয়, যা তিনি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, “স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামব না।” এর মাধ্যমে নারীর পোশাক স্বাধীনতা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ৮টি কেন্দ্রে, ৮১০টি বুথে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদে ৪৭১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৬২ জন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে ১ জন ও এজিএস পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার ৩৯,৭৭৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০,৮৭৩ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮,৯০২। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

 

নারীর নিরাপত্তা দাবিতে সোচ্চার সাবিকুন্নাহার তামান্না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব নির্বাচন করে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত দেয়। এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর নারী প্রতিনিধি সাবিকুন্নাহার তামান্না।

বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পাসে নারীর নেতৃত্ব এখনো সীমিত হলেও তামান্নার প্রার্থিতা সেই সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে এক সাহসী পদক্ষেপ।

প্রচারণার শুরুতেই তিনি এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নেকাব করা ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা সাইবার বুলিংয়ের ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সহপাঠী ও সহপ্রার্থীরা একযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এমন ঘটনার বিচার না হলে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপদ বোধ করবেন না। তামান্না নিজেও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে না।”

প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও হাল ছাড়েননি তামান্না। তিনি এবং কয়েকজন নারী প্রার্থী মিলে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। তাঁদের দাবি ছিল—ভোটার তালিকায় নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য সীমিতভাবে প্রদর্শন করা হোক। প্রয়োজনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে কারও তথ্য বা ছবি অপব্যবহার না হয়। এই উদ্যোগ শুধু বর্তমান নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পথও প্রশস্ত করছে।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও তামান্না গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাঁর মতে, পরিবারিক বাধা, নিরাপত্তাহীনতা এবং পরীক্ষার সময়সূচির কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী ভোট দিতে আসতে পারেন না। এজন্য তিনি ভোটকেন্দ্র পুনর্বিন্যাস এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—“নারীরা যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে না পারেন, তবে গণতান্ত্রিক চর্চা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”

তামান্নার নির্বাচনী ইশতেহারে উঠে এসেছে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসে সাইবার-সুরক্ষা সেল গঠন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযোগ কমিটি চালু এবং নারীদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন। তাঁর ভাষায়, “নারীরা শুধু দর্শক নয়, তারা নেতৃত্বেও সমানভাবে জায়গা করে নেবে।”

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সবসময়ই অরাজকতা ও সহিংসতার শঙ্কা থাকে। তবুও সাবিকুন্নাহার তামান্নার দৃঢ়তা স্পষ্ট করে প্রতিকূলতার ভেতর দিয়েই নতুন পথ তৈরি করা যায়।

তাঁর লড়াই কেবল একটি নির্বাচনী আসনের জন্য নয়; বরং নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তিনি এক নতুন আশা দেখাচ্ছেন—যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে নারীরা সমান অংশীদার হয়ে উঠবে।