banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

ঢাবিতে ছাত্রীসংস্থার জুলাই প্রদর্শনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের বীরোচিত ভূমিকা স্মরণে আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীটি সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেল তিনটায় শুরু হয়, যেখানে ব্যানার, ফেস্টুন, তথ্যচিত্রসহ নানাভাবে তুলে ধরা হয় নারী শিক্ষার্থীদের অবদান।

প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে, যেখানে ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাইয়ে রাজপথ কাঁপানো সাহসিনী ছাত্রীদের নানা মুহূর্তের চিত্র স্থান পায়। বিশেষ করে আন্দোলনের সময়কার নারী নেতৃত্ব, ব্যানার বহনের দৃশ্য, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে স্লোগানে স্লোগানে এগিয়ে চলা, মাইক হাতে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর—এইসব শক্তিশালী মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তোলা হয় তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনায়। প্রদর্শনীতে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও প্রত্যয়ের কাহিনি উঠে আসে সরাসরি বক্তব্য ও দৃষ্টান্তের মাধ্যমে।

ঢাবি শাখা ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী সাবিকুন নাহার তামান্না বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ছিলো নারীরা। অনেকেই কেবল পুরুষ নেতৃত্বকে সামনে রাখেন, কিন্তু মাঠে-ময়দানে নারীরাও সমানভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই অবদানকে স্মরণ করতেই আমাদের এ আয়োজন।”

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আজকের আয়োজনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। “বৃষ্টির কারণে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও যারা এসেছেন তারা গভীর আগ্রহ নিয়ে প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণাদায়ী সাড়া পেয়েছি,”—বলেন তামান্না।

প্রদর্শনী ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। দর্শনার্থী শিক্ষার্থী মরিয়ম তাবাসসুম বলেন, “এটা খুব ইউনিক একটা উদ্যোগ। জুলাই নিয়ে অনেক সংগঠন কাজ করেছে, কিন্তু নারী শিক্ষার্থীদের অবদানকে কেন্দ্র করে এরকম পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শনী আমি প্রথম দেখলাম। এটা সত্যিই অনন্য।”

আরেক শিক্ষার্থী উর্মি জানান, “ঢাবিতে ছাত্রীসংস্থার তৎপরতা সম্পর্কে আগে তেমন জানতাম না। কিন্তু আজকের এই আয়োজন তাদের দর্শন ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। প্রদর্শনী দেখে ভালো লেগেছে, নারীর কণ্ঠকে এভাবে প্রাধান্য দেওয়া খুব দরকার ছিল।”

প্রদর্শনীটি প্রমাণ করেছে, ইতিহাসের পাতায় যাদের নাম অনুল্লিখিত থেকে গেছে, তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে আনতে আজকের ছাত্রীরা নিজেদের দায়িত্ব সজাগভাবে নিচ্ছে। নারী নেতৃত্ব, অংশগ্রহণ ও সাহসিকতার ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি করতেই ছাত্রীসংস্থার এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ছাত্রীসংস্থা যে স্মৃতিচারণ করেছে, তা কেবল অতীতকে নয়, ভবিষ্যতের নেতৃত্বকেও নিঃসন্দেহে প্রেরণা জোগাবে।