banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

জ্বর হলে করণীয়: সচেতন হোন, আতঙ্কিত নয়

(বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু ও ভাইরাস জ্বরের সময় যা জানবেন ও করবেন)

জ্বর মানেই আতঙ্ক নয়-সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা!
এই ভাইরাস ও ডেঙ্গুর মৌসুমে শিশুদের জ্বর হলে কোন ওষুধ কবে দিবেন, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, আর কখন শুধু বিশ্রামই যথেষ্ট—জেনে নিন এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো।
নিজে জানুন, শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।❞

ভাইরাস জ্বর কেমন হয়?
ভাইরাস জ্বর সাধারণত ৩–৫ দিন স্থায়ী হতে পারে।

তাপমাত্রা ১০২°F–১০৩°F পর্যন্ত উঠতে পারে এবং ধীরে ধীরে নামতে পারে।

একদিনে জ্বর একেবারে সেরে যাবে—এমন ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।

অযথা এন্টিবায়োটিক নয়
ভাইরাসজনিত জ্বরে এন্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।

যদি শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন গলা ফুলে যাওয়া, কানে ইনফেকশন বা পেটের সমস্যা) দেখা না দেয়, তাহলে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

খাদ্য ও পানি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
জ্বর হলে শিশু বা বড়দের খাওয়া কমে যায়। এতে ভয় পাবেন না।

তরল খাবার যেমন স্যুপ, ভাতের মাড়, ওআরএস, শরবত বা ফলের রস অল্প অল্প করে দিন।

শিশুকে এমন কিছু খাওয়াবেন না যা বমি বা পাতলা পায়খানা ঘটাতে পারে।

দিনে কমপক্ষে ৪ বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। এটি শরীরের পানিশূন্যতা মাপার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

🌡️ জ্বর মাপা ও ওষুধ প্রয়োগ
থার্মোমিটারে জ্বর ১০০°F বা তার বেশি হলে তবেই জ্বরের ওষুধ দিন।

মুখে খাওয়ার সিরাপ সাধারণত ৪–৬ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যায়।

সাপোসিটরি (Suppository) প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়, তবে অন্তত ৮ ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে হবে।

সিরাপ খাওয়ানোর ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে বমি হলে ওষুধটি আবার দিতে হবে।

🚫 ভুল ধারণা থেকে সাবধান:
গায়ে হাত দিয়ে গরম লাগা মানেই জ্বর নয়।

জ্বরের আগে শরীর ঠান্ডা লাগা বা শীত শীত ভাব থাকলেও তা জ্বরের লক্ষণ হতে পারে, তবে তাপমাত্রা না মাপা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

জ্বরের ঔষধ ঘনঘন বা ডাবল ডোজে দেওয়া বিপজ্জনক।

বিশ্রাম ও ঘুম: ওষুধের চেয়েও বড় চিকিৎসা

শিশু বা বড়দের জ্বর হলে বেশি বিশ্রাম নিতে দিন।

ঘুমের সময় জ্বর থাকলেও ঘুম ভাঙিয়ে ঔষধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই, যদি না তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?
জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।

বাচ্চা একেবারেই খাচ্ছে না, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, খিচুনি হচ্ছে বা বারবার বমি করছে।

শরীরে র‍্যাশ উঠলে বা রক্তচাপ কমে যাচ্ছে মনে হলে।

ডেঙ্গু বা করোনা সন্দেহ হলে টেস্ট করান এবং শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান।

🦟 ডেঙ্গু ও করোনা সতর্কতা:
বাসার চারপাশে পানি জমতে দেবেন না, মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

বাচ্চা ও পরিবারের সদস্যদের হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার শেখান।

বাচ্চা জ্বর হলে স্কুলে পাঠাবেন না এবং সবার থেকে আলাদা রাখুন।

সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
জ্বর কোনো রোগ নয় বরং একধরনের লক্ষণ। তাই রোগের মূল কারণ বুঝে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। ভরসা রাখুন, শিশুদের প্রতি সতর্ক থাকুন,যত্ন নিন, অহেতুক অতিরিক্ত ওষুধ সেবন না করে বিশ্রাম, তরল খাবার এবং পরম সেবাযত্নে জ্বর সেরে উঠতে পারে।

সুস্থ থাকুন, শিশুকে নিরাপদে রাখুন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন পোশাকবিধি: পেশাদার পরিবেশ গড়তে ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি তাদের সব স্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন একটি পোশাকবিধি জারি করেছে, যার লক্ষ্য হলো একটি শালীন, পেশাদার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। গত ২১ জুলাই ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয় এবং ২৪ জুলাই তা দেশের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরে পাঠানো হয়।

নতুন পোশাকবিধিতে নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকের ধরন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ধরনের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনার কথাও বলা হয়েছে।

পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) শার্ট—হোক তা হাফ বা ফুলহাতা—ও ফরমাল প্যান্ট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকতে হবে ফরমাল জুতা বা স্যান্ডেল। জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরিহারের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলোকে পেশাদার পোশাকের পরিসরে আনা হচ্ছে না।

নারী কর্মীদের জন্য নির্দেশনা আরও বিস্তৃত। তাঁদের শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ ও ওড়না বা অন্য কোনো শালীন, পেশাদার পোশাক পরতে বলা হয়েছে। এসব পোশাক হতে হবে সাদামাটা ও সংযত রঙের। হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে তা হতে হবে অনাড়ম্বর ও আনুষ্ঠানিক রূপের।
স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছোট হাতার ও ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক (শর্ট স্লিভ ও শর্ট লেংথ ড্রেস) এবং লেগিংস।

নতুন পোশাকবিধির পাশাপাশি নারী কর্মীদের প্রতি আচরণ এবং দাপ্তরিক পরিবেশ সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনাও সংযুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩–এর ৩৯ ধারার আলোকে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ গঠিত কমিটিতে পাঠাতে হবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আগে থেকেই বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সততা, সময়ানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য প্রতিটি বিভাগ, ইউনিট বা দপ্তরে একজন করে মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্দেশনা অমান্য করলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কাউকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়নি, বরং হিজাব পরার সুযোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য যোগদানকারী কিছু কর্মীর পোশাক নিয়ে অনেক সময় সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। আবার পুরুষদের মধ্যে অনেকে টি-শার্ট, জিন্স কিংবা গ্যাবার্ডিন পরে অফিসে আসেন। এ কারণেই সবাইকে একক ও পেশাদার পোশাকধারায় আনতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ শুধু একটি পোশাকবিধি জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও নৈতিক বার্তা বহন করে।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শালীনতা, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এই সিদ্ধান্তের মূলভিত্তি। পোশাক যেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, তেমনই কর্মপরিবেশের উপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে পোশাক নিয়ে কর্মক্ষেত্রে অহেতুক দৃষ্টি বা মন্তব্যের সুযোগ রোধ করা একটি প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য।
অপরদিকে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও এখানে সম্মান জানানো হয়েছে—যেমন হিজাব পরাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা, সৌজন্য ও শালীনতার একটি নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।