banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

চিকেনপক্স: ভুল ধারণায় নয়, সচেতন সিদ্ধান্তে সুরক্ষা দিন শিশুকে

বর্তমানে অনেক এলাকায় চিকেনপক্স বা ভ্যারিসেলা ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী আকারে। শিশুদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা, যার ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
ভ্রান্ত বিশ্বাস:“একবার চিকেনপক্স হলে আর হবে না, তাই শৈশবে হলে ভালো।”
সত্য:“চিকেনপক্স একবারও না হওয়াই ভালো-কারণ প্রথমবারের সংক্রমণই মারাত্মক হতে পারে।”

চিকেনপক্স বা ভ্যারিসেলা (Varicella) ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। যদিও অনেকেই একে “সাধারণ” রোগ বলে মনে করেন, তবে এর জটিলতা একবার শুরু হলে তা ভয়াবহ হতে পারে।

কেন ‘একবার হলে ভালো’-এই ধারণা বিপজ্জনক?
🔸 জীবনের প্রথম সংক্রমণই মারাত্মক হতে পারে — অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
🔸 নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ), ত্বকের মারাত্মক ইনফেকশন, এমনকি লিভারের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
🔸 গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত হলে গর্ভপাত, শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি থাকে।
🔸 ভ্যারিসেলা ভাইরাস শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়, যা পরবর্তী জীবনে শিংলস (Herpes Zoster) নামে ভয়ানক ব্যথাযুক্ত রোগে পরিণত হতে পারে।

💉 একমাত্র প্রতিরক্ষা: ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন

✅ মাত্র একটি নিরাপদ টিকা আপনার শিশুকে দিতে পারে আজীবনের সুরক্ষা।
✅ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), CDC সহ সব স্বাস্থ্য সংস্থাই শিশুর জন্য ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিনের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
✅ সাধারণত ১২–১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ, এবং ৪–৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

আপনার করণীয়:

  • শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকাদান সম্পন্ন করুন।
  • জ্বর, ফুসকুড়ি বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • অন্য শিশুদের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে না দেয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
  • গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে আরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

চিকেনপক্স নিয়ে অসচেতনতা নয়, চাই তথ্যনির্ভর সচেতনতা।
একটি সহজ সিদ্ধান্ত—একটি ভ্যাকসিন—শিশুর সারাজীবনের সুরক্ষার ভিত্তি হতে পারে।
ভুল ধারণা নয়, বেছে নিন বিজ্ঞান ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

📌 সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। শিশু সুরক্ষিত থাকলে, সুরক্ষিত থাকবে সমাজ ও জাতি।

চিকেনপক্স #ভ্যারিসেলা #ভ্যাকসিন #শিশুসুরক্ষা #হেলথএডুকেশন

 

মেয়ের মামলায় পিছু হটে মীমাংসার পথে মা

(শিষ্টাচার হারানো সমাজে এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক বিতর্ক)

কন্যার দায়ের করা মামলায় অবশেষে পিছু হটলেন মা। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নিজ পিতা-মাতার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনে মামলা করে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তরুণী মেহরিন আহমেদ। এবার সেই মায়ের পক্ষ থেকেই এলো মধ্যস্থতার প্রস্তাব।

মামলার এক মাস পর সংবাদ সম্মেলনে মেহরিনের আইনজীবী জানান, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চান তার মা। ইতোমধ্যে মেহরিনের কাছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তাতে মা মেয়েকে ‘মেধাবী’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং পারিবারিক দূরত্বের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।

মায়ের ভাষ্যে উঠে এসেছে-দুজন কর্মজীবী মানুষ হিসেবে সন্তান পালনে পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারার আক্ষেপ। একই ছাদের নিচে থাকলেও, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হলেও সমাজে এমন সম্পর্কচ্যুতি একেবারে নতুন নয়। আমরা অনেক সময় সন্তানদের শুধু ডিগ্রিধারী বানাতে চাই, কিন্তু পারিবারিক মূল্যবোধ আর মানবিক শিষ্টাচারের চর্চা ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক বন্ধনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি নিছক পারিবারিক বিষয় নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক সংকট, যেখানে পরিবার অর্থহীন হয়ে উঠছে প্রযুক্তি আর ব্যস্ততার ভিড়ে।’’

উপমহাদেশে এমন ঘটনা বিরল হলেও সম্পূর্ণ অজানা নয়। ২০১৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে এক তরুণ রাফায়েল স্যামুয়েল “অনুমতি ছাড়া জন্ম দেয়ায়” বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় আসেন।

তবে ঢাকায় এমন মামলা এই প্রথম, যার পরিণতি যদি মধ্যস্থতা ও বোঝাপড়ায় গড়ায়, তবে তা এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত এমন সময়, যখন পরিবার শুধু একটি সামাজিক একক নয়—বরং মানবিক সংবেদনশীলতা গড়ে তোলার শিক্ষার প্রাথমিক ক্ষেত্র।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আমাদের আরও বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: আমরা কি আর সেই পারিবারিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যের সমাজে বাস করছি? যখন সন্তান জন্মদাতার বিরুদ্ধেই আইনি আশ্রয় নেয়, তখন বুঝতে হবে-আমাদের চারপাশের সমাজ কাঠামোতে কিছু একটা ভেঙে পড়ছে। এই বিচ্যুতি শুধু ব্যক্তিগত নয়,এ এক সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
আর সে সমাজে আমরা-আপনি, আমি সবাইই বসবাস করছি।