banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী রুথবা ইয়াসমিন

এক সময় যার আকাশচুম্বী স্বপ্ন ছিল, এখন তিনি মহাকাশ ছোঁয়ার দোরগোড়ায়। রুথবা ইয়াসমিন—প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ‘চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ’ শেষ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একজন নারীর নয়, বরং একটি জাতির জন্যও এক ঐতিহাসিক গর্ব। ‘স্পেস নেশন’-এর আয়োজিত ‘মুন পাইওনিয়ার মিশন’-এর প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে রুথবা এখন চাঁদে পা রাখার প্রতিযোগিতায় সামনের সারির একজন।

গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানিয়েছে, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী। সেই গর্বিত তালিকায় একজন হচ্ছেন বাংলাদেশের রুথবা ইয়াসমিন। তাঁর এই যাত্রা যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে একজন নারী নিজের মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন দিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন অজানার দিকে।

ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে শিক্ষা জীবনের সূচনা করেন রুথবা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজ থেকে ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করে নিজের শিক্ষাকে মহাকাশ অভিযানের জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

রুথবার আগ্রহের কেন্দ্র ছিল মহাকাশ আবহাওয়া, বিশেষ করে ভূচৌম্বকীয় ঝড় বা ‘জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম’। এই বিষয়ে তাঁর গভীর গবেষণাই তাকে মহাকাশ ভ্রমণের প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তাঁর প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস।

‘মুন পাইওনিয়ার মিশন’-এ রুথবা প্রশিক্ষণ নেন EVA (Extra Vehicular Activity) স্পেশালিস্ট হিসেবে। এই দায়িত্বের আওতায় তাঁকে মহাকাশসুট পরে চাঁদের পৃষ্ঠে হাঁটার প্রস্তুতি, রেডিয়েশন প্রতিরোধে কার্যক্রম ও ISRU (In-Situ Resource Utilization)–এর প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হয়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের Moon Base ও Mission Control—দুটি দলে ভাগ করা হয়। রুথবা প্রথমে চাঁদের মাটি থেকে সম্পদ আহরণ সংক্রান্ত কাজ করেন, পরে Mission Control ইউনিটে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন। একটি বিপজ্জনক সিমুলেশনে জরুরি পরিস্থিতিতে তার দ্রুত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব প্রশিক্ষণার্থীদের মুগ্ধ করে।

রুথবার মতে, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনও মাত্র ১১ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য দূর করতে তিনি নিজেই হতে চান এক পরিবর্তনের দূত। তিনি বলেন, “NASA-এর নারী বিজ্ঞানীরা অ্যাপোলো মিশনে যেভাবে অবদান রেখেছেন, ভবিষ্যতের মিশনেও নারীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া জরুরি।”

১৪ এপ্রিল, প্রশিক্ষণ ঘোষণার ঠিক দু’দিন আগে, পপ গায়িকা কেটি পেরিও ব্লু অরিজিনের অল-ফিমেল ক্রু নিয়ে মহাকাশে যাত্রা করেন। এই দুটি ঘটনা যেন এক যৌথ বার্তা দেয়—মহাকাশ এখন আর শুধুই পুরুষের একচেটিয়া ক্ষেত্র নয়।

মহাকাশ অভিযানে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিও সমান জরুরি। রুথবা বলেন, মহাকাশে সঠিক ঘুম, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, পানি পান ও পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা—এসবের মাধ্যমেই শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হয়। সেখানে গোসলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয় স্পঞ্জ বাথ ও নন-রিন্স শ্যাম্পু।

এছাড়া মানসিক চাপ মোকাবেলায় ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে রাখা, দলগত অনুশীলন ও ফিটনেস ট্রেনিং অপরিহার্য। তার মতে, “আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।”

রুথবার স্বপ্ন শুধু চাঁদের বুকে পা রাখা নয়, বরং নতুন ইতিহাস রচনা করা। তিনি চান ভবিষ্যতে আর্টেমিস মিশন, লুনার সারফেস অপারেশন এবং চন্দ্র গবেষণায় কাজ করতে। তাঁর লক্ষ্য হলো—চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ, নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সম্প্রসারণ।

তিনি বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে। এটি শুধু আমার স্বপ্ন নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক গৌরবময় অধ্যায় হবে। আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই।”

রুথবা ইয়াসমিন এখন আর কেবল একজন গবেষক বা শিক্ষার্থী নন—তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, সীমা বলতে কিছু নেই, যদি থাকে স্বপ্ন, সাধনা আর সাহস।

বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়তো সেই দিনটি খুব দূরে নয়, যেদিন রুথবার মতো কেউ সত্যিই চাঁদের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরবেন।