banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

ইসরায়েলি সংসদে পশ্চিম তীর ও মসজিদে আকসা দখলের আইন অনুমোদন

(আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ‘ডি ফ্যাক্টো’ অধিগ্রহণের পথে ইসরায়েল)

আন্তর্জাতিক আইনের চোখে স্পষ্টভাবে অবৈধ হলেও, ইসরায়েলি সংসদ ‘নেসেট’-এ গত বুধবার(২৩ জুলাই) ৭১-১৩ ভোটে একটি বিতর্কিত বিল পাশ হয়েছে, যার মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইসরায়েল “ইহুদি, সামারিয়া ও জর্ডান উপত্যকায়” সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এই অঞ্চলগুলো মূলত পশ্চিম তীরের অংশ, যেগুলো ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধভাবে অধিকৃত বলে বিবেচিত।
এই বিল ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর দখলকে এখন থেকে ‘বৈধ’ বলে গণ্য করবে। যদিও আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে একপেশে জবরদখল এবং দখলদারিত্বের শামিল বলেই আখ্যা দিচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—পশ্চিম তীরের অন্তর্গত পবিত্র শহর বায়তুল মাকদিস (জেরুজালেম) এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলা, মসজিদে আকসার উপর এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আরও দৃঢ় হতে যাচ্ছে।

মূলত ‘ডি ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন’—অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও, বাস্তবে ভূখণ্ড দখল করে ফেলা—এই নীতিকে কার্যকর করতেই আইনটি পাশ করানো হয়েছে। ইসরায়েল এখন থেকে পশ্চিম তীরে তাদের বসতি নির্মাণ, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘আইনি’ কাঠামোর ভেতরেই চালাতে পারবে।

ইসরায়েলের ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম তীর ও আল-আকসা মসজিদ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে সক্রিয় ছিল। এই আইন পাশের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই আরেকটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী অস্থিরতা ডেকে আনার মতো ভয়াবহ উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি একটি উপনিবেশবাদী পদক্ষেপ, যা পশ্চিম তীরে বর্ণবাদী বা ‘আপারথেইড’ শাসনব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে।” তারা আরও বলেছে, এই প্রস্তাব জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজল্যুশন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) উপদেষ্টা রায়েরও অপমান।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন আগেই পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি কার্যকলাপকে অবৈধ দখল হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেসব আন্তর্জাতিক অবস্থানকে উপেক্ষা করে ইসরায়েল এবার সরাসরি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় একে আইনিভাবে অনুমোদন দিয়ে চরম এক পূর্বপরিকল্পিত দখলনীতির বাস্তবায়ন করলো।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অংশ করে নিলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিতে গৃহীত দুই-রাষ্ট্র সমাধান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করেন। বসতির সংখ্যা ও প্রভাব প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

তাদের মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি গভীর ধর্মীয় ও ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করে। মসজিদে আকসা মুসলিমদের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক অনন্য প্রতীক। এই স্থানকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল বহু বছর ধরে সহিংসতা ও বৈষম্যের রাজনীতি চালিয়ে আসছে।

বর্তমানে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরব লিগ, ওআইসি (OIC) এবং অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জরুরি হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনিদের জমি ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ হ্যাশট্যাগ #FreePalestine ও #SaveAlAqsa ব্যবহার করে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে

 

গাজা নিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিবাদে শাস্তির মুখে মেহরিন ফারুকি

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে সম্প্রতি এক উত্তপ্ত মুহূর্ত তৈরি হয় যখন গ্রিনস পার্টির সাহসী মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল —
“গাজা ক্ষুধার্ত, শব্দ তাদের খাওয়াবে না। ইসরায়েলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিন।”

এই বার্তা তিনি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজি-এর সামনেই প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সিনেটরদের অনেকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

এরপর অস্ট্রেলিয়ান সিনেট ৫০-১১ ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়, সেনেটর ফারুকির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিনেট প্রেসিডেন্ট সু লাইনস বলেন,“সেনেটর ফারুকি সংসদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, কারণ তিনি রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করেছেন—যা গভর্নর-জেনারেল ও প্রধান বিচারপতির মতো পদগুলোকেও রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অধিকার কতটুকু একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি রাখেন -সেটি।

📌 আপনার ভাবনা কী? আপনি কি মনে করেন, একজন সিনেটর হিসেবে ফারুকির এমন প্রতিবাদ ন্যায্য ছিল?

 

জ্বর হলে করণীয়: সচেতন হোন, আতঙ্কিত নয়

(বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু ও ভাইরাস জ্বরের সময় যা জানবেন ও করবেন)

জ্বর মানেই আতঙ্ক নয়-সচেতনতাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা!
এই ভাইরাস ও ডেঙ্গুর মৌসুমে শিশুদের জ্বর হলে কোন ওষুধ কবে দিবেন, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, আর কখন শুধু বিশ্রামই যথেষ্ট—জেনে নিন এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো।
নিজে জানুন, শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।❞

ভাইরাস জ্বর কেমন হয়?
ভাইরাস জ্বর সাধারণত ৩–৫ দিন স্থায়ী হতে পারে।

তাপমাত্রা ১০২°F–১০৩°F পর্যন্ত উঠতে পারে এবং ধীরে ধীরে নামতে পারে।

একদিনে জ্বর একেবারে সেরে যাবে—এমন ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।

অযথা এন্টিবায়োটিক নয়
ভাইরাসজনিত জ্বরে এন্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।

যদি শরীরে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন গলা ফুলে যাওয়া, কানে ইনফেকশন বা পেটের সমস্যা) দেখা না দেয়, তাহলে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

খাদ্য ও পানি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
জ্বর হলে শিশু বা বড়দের খাওয়া কমে যায়। এতে ভয় পাবেন না।

তরল খাবার যেমন স্যুপ, ভাতের মাড়, ওআরএস, শরবত বা ফলের রস অল্প অল্প করে দিন।

শিশুকে এমন কিছু খাওয়াবেন না যা বমি বা পাতলা পায়খানা ঘটাতে পারে।

দিনে কমপক্ষে ৪ বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। এটি শরীরের পানিশূন্যতা মাপার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

🌡️ জ্বর মাপা ও ওষুধ প্রয়োগ
থার্মোমিটারে জ্বর ১০০°F বা তার বেশি হলে তবেই জ্বরের ওষুধ দিন।

মুখে খাওয়ার সিরাপ সাধারণত ৪–৬ ঘণ্টা অন্তর দেওয়া যায়।

সাপোসিটরি (Suppository) প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়, তবে অন্তত ৮ ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে হবে।

সিরাপ খাওয়ানোর ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে বমি হলে ওষুধটি আবার দিতে হবে।

🚫 ভুল ধারণা থেকে সাবধান:
গায়ে হাত দিয়ে গরম লাগা মানেই জ্বর নয়।

জ্বরের আগে শরীর ঠান্ডা লাগা বা শীত শীত ভাব থাকলেও তা জ্বরের লক্ষণ হতে পারে, তবে তাপমাত্রা না মাপা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

জ্বরের ঔষধ ঘনঘন বা ডাবল ডোজে দেওয়া বিপজ্জনক।

বিশ্রাম ও ঘুম: ওষুধের চেয়েও বড় চিকিৎসা

শিশু বা বড়দের জ্বর হলে বেশি বিশ্রাম নিতে দিন।

ঘুমের সময় জ্বর থাকলেও ঘুম ভাঙিয়ে ঔষধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই, যদি না তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?
জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।

বাচ্চা একেবারেই খাচ্ছে না, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, খিচুনি হচ্ছে বা বারবার বমি করছে।

শরীরে র‍্যাশ উঠলে বা রক্তচাপ কমে যাচ্ছে মনে হলে।

ডেঙ্গু বা করোনা সন্দেহ হলে টেস্ট করান এবং শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান।

🦟 ডেঙ্গু ও করোনা সতর্কতা:
বাসার চারপাশে পানি জমতে দেবেন না, মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

বাচ্চা ও পরিবারের সদস্যদের হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার শেখান।

বাচ্চা জ্বর হলে স্কুলে পাঠাবেন না এবং সবার থেকে আলাদা রাখুন।

সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
জ্বর কোনো রোগ নয় বরং একধরনের লক্ষণ। তাই রোগের মূল কারণ বুঝে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। ভরসা রাখুন, শিশুদের প্রতি সতর্ক থাকুন,যত্ন নিন, অহেতুক অতিরিক্ত ওষুধ সেবন না করে বিশ্রাম, তরল খাবার এবং পরম সেবাযত্নে জ্বর সেরে উঠতে পারে।

সুস্থ থাকুন, শিশুকে নিরাপদে রাখুন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন পোশাকবিধি: পেশাদার পরিবেশ গড়তে ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি তাদের সব স্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন একটি পোশাকবিধি জারি করেছে, যার লক্ষ্য হলো একটি শালীন, পেশাদার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। গত ২১ জুলাই ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয় এবং ২৪ জুলাই তা দেশের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরে পাঠানো হয়।

নতুন পোশাকবিধিতে নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকের ধরন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ধরনের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনার কথাও বলা হয়েছে।

পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) শার্ট—হোক তা হাফ বা ফুলহাতা—ও ফরমাল প্যান্ট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকতে হবে ফরমাল জুতা বা স্যান্ডেল। জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরিহারের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলোকে পেশাদার পোশাকের পরিসরে আনা হচ্ছে না।

নারী কর্মীদের জন্য নির্দেশনা আরও বিস্তৃত। তাঁদের শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ ও ওড়না বা অন্য কোনো শালীন, পেশাদার পোশাক পরতে বলা হয়েছে। এসব পোশাক হতে হবে সাদামাটা ও সংযত রঙের। হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে তা হতে হবে অনাড়ম্বর ও আনুষ্ঠানিক রূপের।
স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছোট হাতার ও ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক (শর্ট স্লিভ ও শর্ট লেংথ ড্রেস) এবং লেগিংস।

নতুন পোশাকবিধির পাশাপাশি নারী কর্মীদের প্রতি আচরণ এবং দাপ্তরিক পরিবেশ সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনাও সংযুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩–এর ৩৯ ধারার আলোকে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ গঠিত কমিটিতে পাঠাতে হবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আগে থেকেই বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সততা, সময়ানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য প্রতিটি বিভাগ, ইউনিট বা দপ্তরে একজন করে মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্দেশনা অমান্য করলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কাউকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়নি, বরং হিজাব পরার সুযোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য যোগদানকারী কিছু কর্মীর পোশাক নিয়ে অনেক সময় সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। আবার পুরুষদের মধ্যে অনেকে টি-শার্ট, জিন্স কিংবা গ্যাবার্ডিন পরে অফিসে আসেন। এ কারণেই সবাইকে একক ও পেশাদার পোশাকধারায় আনতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ শুধু একটি পোশাকবিধি জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও নৈতিক বার্তা বহন করে।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শালীনতা, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এই সিদ্ধান্তের মূলভিত্তি। পোশাক যেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, তেমনই কর্মপরিবেশের উপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে পোশাক নিয়ে কর্মক্ষেত্রে অহেতুক দৃষ্টি বা মন্তব্যের সুযোগ রোধ করা একটি প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য।
অপরদিকে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও এখানে সম্মান জানানো হয়েছে—যেমন হিজাব পরাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা, সৌজন্য ও শালীনতার একটি নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।

 

সৌদিতে নারী যাত্রীদের জন্য নারী চালক সেবা চালু করছে উবার

সৌদি আরবে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবার নারী চালকদের মাধ্যমে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা রাইড সেবা চালু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত রাইড-শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার।

সোমবার (১৪ জুলাই) রিয়াদে আয়োজিত “For Women, By Women”— অর্থাৎ “নারীদের জন্য, নারীদের দ্বারা”—শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উবার এই নতুন সেবার ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সৌদির বিভিন্ন শহরে পর্যায়ক্রমে এ সেবা চালু হবে।

উবার জানিয়েছে, নতুন সেবার আওতায় নারী যাত্রীরা তাদের রাইডের জন্য নারী চালক বেছে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে তারা আগে থেকেই নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ বুক করার সুবিধাও পাবেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়। সেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের সাত বছর পর এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে নারী চালকদের যুক্ত করে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা এই রাইড সেবা চালু করতে যাচ্ছে উবার।

বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ট্রিপ পরিচালনা করেছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি ইরাক ও ইরানে এর আগেই নারী চালকদের মাধ্যমে এমন সেবা চালু করেছে, যা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া চলাচলকারী নারীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

উবার কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটি গুরুত্ব দিয়েই এই বিশেষ রাইড সেবা চালু করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে দেশটির প্রধান প্রধান শহরজুড়ে সেবাটি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

উত্তরায় যুদ্ধবিমান ক্রাশে নিহত শতাধিক: শিশুশিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ

২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার। সময় তখন দুপুর ১টা ৬ মিনিট। ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (F-7 BGI) মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন কলেজ ভবনের ঠিক ওপরেই বিধ্বস্ত হয়। তখনই শুরু হয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির। স্কুল ছুটির মুহূর্তে শিশুদের ক্লাসরুমে আছড়ে পড়া বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই দুতলা ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র অগ্নিকাণ্ড। এতে ঘটনাস্থলেই বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক দগ্ধ হন। শেষরক্ষা হয়নি বিমানের একমাত্র পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোঃ তৌকির ইসলামেরও।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিশুদের স্কুল প্রাঙ্গণ মুহূর্তে পরিণত হয় এক বিভীষিকাময় মৃত্যুপুরীতে।

মাইলস্টোন কলেজের প্রভাষক তাসলিমা আক্তার, যাঁর সন্তান চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, ঘটনার সময় কলেজেই ডিউটিতে ছিলেন। ঘটনার মুহূর্তে তাঁর নিজের চোখেই দেখা আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনের দৃশ্য আজও তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন,
“আমি ফোনে ছেলের ফর্ম মাস্টারের সঙ্গে কথা বলার এক মিনিট পরই বিকট বিস্ফোরণ শুনি। দৌড়ে গিয়েই দেখি আমার ছেলের ক্লাস ভবনের সামনে আগুন। পুড়ে যাওয়া তিনটি শিশুর দেহ মাটিতে পড়ে আছে, পোড়া শরীর, কাপড় কিছুই নেই।”
তিনি আরও জানান, তাঁর সন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও, একই ক্লাসের বাকি শিশুরা কেউ আর বেঁচে নেই। সবাই দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।

এ দিনের সবচেয়ে সাহসী চরিত্র হয়ে উঠে এসেছেন শিক্ষিকা মেহরীন চৌধুরী। তিনি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উদ্ধারে নিজের জীবন বাজি রাখেন। সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন,
“ম্যাডাম ভিতরে ঢুকে একে একে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিচে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজে আর বের হতে পারেননি।”
এক উদ্ধারকারী সেনা সদস্য চোখের জল সংবরণ করতে না পেরে বলেন,”এইযে মা! এইযে মা হয়ে গেসে, আরেকটু পরই বের হইতে পারত!”

৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। দেশবাসী আজ তাঁর এই আত্মত্যাগে শোকাভিভূত, কিন্তু গর্বিতও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুতলা ওই ভবনের নিচতলায় ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির এবং উপরতলায় ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। দুপুর ১টা থেকে ১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসেই অবস্থান করছিল। তারা বেঞ্চে বসা অবস্থায়ই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জানালা ভেঙে বের হবার প্রাণান্ত চেষ্টা করেও অনেকেই বের হতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালার গ্রিল ভেঙে যখন ঢুকছিলেন, তখন দেখা গেছে কিছু শিশুর অর্ধগলিত হাত জানালার ফাঁকে আটকে আছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোঃ তৌকির ইসলামের প্রথম একক উড্ডয়ন (Solo Flight)। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই তিনি কন্ট্রোল রুমে জানান বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, বিমান ভাসছে না এবং বারবার নিচে পড়ে যাচ্ছে। কন্ট্রোল টাওয়ার তাকে জরুরি ইজেক্টের নির্দেশ দিলেও, তিনি তা না করে বিমানটিকে জনবসতি এড়িয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বিমানটি মাইলস্টোন কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়।
তাঁকে সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো দুর্ঘটনার সময় ও পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজন হারানো মা-বাবা, দগ্ধ শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার ক্যামেরা তাক করা, ট্রমাটাইজড শিশুদের কাছ থেকে ‘অনুভূতি’ জানতে চাওয়ার ঘটনায় অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এক অভিভাবক বলেন,
“ভাই, আপনারা এগুলা রাস্তায় গিয়ে করেন, এখন আমার সন্তানকে খুঁজে পাই না।”
এছাড়া উৎসুক জনতা ও কিছু অসচেতন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় ভিড় করে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ISPR জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের বেশি আহত এবং একাধিক শিশুসহ প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় মানুষদের সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। বার্ন ইউনিট, ঢাকা মেডিকেল, সিএমএইচ সহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বার্ন ইউনিটে জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে: 📞 ০১৯৪৯০৪৩৬৯৭

২১ জুলাই ২০২৫-বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি, একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান, আর হারিয়ে যাওয়া শতাধিক শিশুর প্রাণ। যারা এই শিশুগুলোর স্কুল ব্যাগ আর জুতা গুছিয়ে দিয়েছিল সকালে, তারাই বিকেলে পুড়ে যাওয়া পোড়া ব্যাগের চিহ্ন খুঁজে ফিরেছে।
মায়েরা তাদের সন্তানের শেষ খাওয়ানোর কথা স্মরণ করে কাঁদছেন। বাবারা হাসপাতালের করিডোরে দৌড়ে ফিরছেন সন্তানকে একবার দেখার আশায়।
দেশ কাঁদছে আজ, শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, অপরিচিত ছোট্ট হাতগুলোর জন্যও।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আল্লাহ শহীদ শিশুদের জান্নাত দান করুন এবং সকল আহত ও স্বজনদের ধৈর্য ও সান্ত্বনা দিন। আমিন।

 

গাজায় দুর্ভিক্ষ: অনাহারে ৩৫দিন বয়সী শিশুর মৃত্যু

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ, মানবিক সহায়তার বাধা এবং লাগাতার সামরিক হামলার মধ্যে এবার অনাহারে প্রাণ হারাল মাত্র ৩৫ দিনের এক নবজাতক। শনিবার (১৯ জুলাই) গাজার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর জানায়। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১৬ জন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ৩৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত “গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন” (জিএইচএফ)-এর একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- চরম খাদ্য সংকট চলছে, হাসপাতাল গুলোতে জরুরি বিভাগগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অন্তত ১৭ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।
আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, “শুধু শনিবারই আমাদের হাসপাতালে অনাহারে মারা গেছে দুজন, যার একজন ছিল সদ্যজাত শিশু।”

গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে অসংখ্য মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, “মানুষ একটু খাবারের আশায় লাইনে দাঁড়ায়, কিন্তু ফেরে লাশ হয়ে।”

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের মহাসচিব জগন চাপাগাইন সতর্ক করে বলেছেন, “গাজা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।” একই বক্তব্য দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান এগেল্যান্ড, যিনি বলেন, “গত ১৪২ দিনে আমরা একটি ত্রাণবাহী ট্রাকও গাজায় ঢোকাতে পারিনি।”

জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, মিশর সীমান্তে তাদের যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুত রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো গাজার ভেতরে প্রবেশ করানো যাচ্ছে না। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “সীমান্ত খুলুন, অবরোধ তুলে নিন এবং আমাদের মানবিক সহায়তার কাজ করতে দিন।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্ব বিবেকের জন্য এক কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গাজায় দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 

সমাজের এক নির্মম অভিশাপ যৌতুক

যৌতুক এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। আধুনিক যুগে আমরা প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে যতই এগিয়ে যাচ্ছি, ততই যেন পিছিয়ে পড়ছি মানবিকতা ও নারীর মর্যাদার ক্ষেত্রে। এখনও অনেক পরিবারে বিয়ের পর মেয়েটিকে পিতার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা, ফার্নিচার বা জমিজমা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই দাবি পূরণ না হলে নারীর ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়্গ।

এই নির্যাতনের রূপ কখনও শারীরিক, কখনও মানসিক, আবার কখনও আর্থিক বা সামাজিক হয়। স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, দেবর—এই চক্র সবাই মিলে একটা নারীর জীবনকে তছনছ করে দিতে পারে।

যৌতুকের বিরুদ্ধে কী কী আইন আছে?
🔹 যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮
এই আইনে বলা হয়েছে, যৌতুক চাওয়া, দেওয়া বা নেওয়া—সবই অপরাধ।

এই অপরাধের সাজা:
✅ সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছরের জেল
✅ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা

🔹 নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (ধারা ১১)
যদি যৌতুকের জন্য নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়, তাহলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

ধারা ১১(ক):
👉 যৌতুকের কারণে নারীর মৃত্যু ঘটলে
🔸 সাজা: মৃত্যুদণ্ড অথবা আজীবন কারাদণ্ড

ধারা ১১(খ):
👉 যৌতুকের জন্য গুরুতর শারীরিক আঘাত করলে
🔸 সাজা: যাবজ্জীবন বা সর্বোচ্চ ১২ বছর জেল + জরিমানা

ধারা ১১(গ):
👉 সাধারণ শারীরিক আঘাত করলে
🔸 সাজা: সর্বোচ্চ ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড + জরিমানা

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হলে কী করবেন?
ভুক্তভোগী নারীর উচিত দ্রুত ও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

✅ ১. অভিযোগ করুন থানায়:

নিকটস্থ থানায় গিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এফআইআর করুন। এতে মামলা রেকর্ড হয়।

✅ ২. কোর্টে মামলা করুন:

বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তায় আদালতে মামলা দায়ের করুন।

✅ ৩. লিগ্যাল এইড নিন:

বিনামূল্যে আইনগত সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন—
🔸 জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা (জাতীয় লিগ্যাল এইড)
🔸 জেলা লিগ্যাল এইড অফিস

✅ ৪. নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে:
আপনি যদি ভয়ের মধ্যে থাকেন বা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর অথবা নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তা নিন।

আপনার পক্ষে প্রমাণ জোগাড় করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
আইন প্রয়োগ তখনই সম্ভব, যখন আপনি নির্যাতনের প্রমাণ দিতে পারবেন। তাই—

🔸 চিকিৎসার কাগজপত্র
🔸 নির্যাতনের ছবি বা ভিডিও
🔸 প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের সাক্ষ্য
🔸 মোবাইল মেসেজ, কল রেকর্ড
🔸 সামাজিক মাধ্যমে পাঠানো বার্তা
এগুলো যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করুন।

মনে রাখবেন, প্রত্যক্ষ ঘটনার পরে দ্রুত অভিযোগ করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

সন্তান থাকলে কী করবেন?
আপনার যদি সন্তান থাকে, তাহলে তাদের অভিভাবকত্ব, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনে শিশুদের জন্য পৃথক আবেদন করে কোর্টে নিরাপত্তা চাওয়া যায়।

  • সহায়তা কোথায় পাবেন?

🔹 [ ] BLAST (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট)
🔹 [ ] নারীপক্ষ
🔹 [ ] বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
🔹 [ ] জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা (www.nlaso.gov.bd)
🔹 [ ] মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর (www.dwa.gov.bd)

✊ মুখ খুলুন, সাহস রাখুন-আইন আপনার পাশে

যৌতুকের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিরোধ হলো সচেতনতা, শিক্ষা, এবং আইন প্রয়োগ। মুখ বন্ধ করে সহ্য করলে অপরাধীরা আরও সাহস পায়। মনে রাখবেন, আপনি একা নন—আইন, সমাজ, এবং নানা মানবাধিকার সংগঠন আপনার পাশে আছে।

নারীর অধিকার রক্ষায় প্রতিটি মানুষকেই সচেতন হতে হবে। যৌতুক শুধু আইনের নয়, মানবিকতা, বিশ্বাস এবং ভালোবাসারও অবমাননা। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

চিকেনপক্স: ভুল ধারণায় নয়, সচেতন সিদ্ধান্তে সুরক্ষা দিন শিশুকে

বর্তমানে অনেক এলাকায় চিকেনপক্স বা ভ্যারিসেলা ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী আকারে। শিশুদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসজনিত রোগ নিয়ে রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা, যার ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
ভ্রান্ত বিশ্বাস:“একবার চিকেনপক্স হলে আর হবে না, তাই শৈশবে হলে ভালো।”
সত্য:“চিকেনপক্স একবারও না হওয়াই ভালো-কারণ প্রথমবারের সংক্রমণই মারাত্মক হতে পারে।”

চিকেনপক্স বা ভ্যারিসেলা (Varicella) ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। যদিও অনেকেই একে “সাধারণ” রোগ বলে মনে করেন, তবে এর জটিলতা একবার শুরু হলে তা ভয়াবহ হতে পারে।

কেন ‘একবার হলে ভালো’-এই ধারণা বিপজ্জনক?
🔸 জীবনের প্রথম সংক্রমণই মারাত্মক হতে পারে — অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
🔸 নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ), ত্বকের মারাত্মক ইনফেকশন, এমনকি লিভারের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
🔸 গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত হলে গর্ভপাত, শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি থাকে।
🔸 ভ্যারিসেলা ভাইরাস শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়, যা পরবর্তী জীবনে শিংলস (Herpes Zoster) নামে ভয়ানক ব্যথাযুক্ত রোগে পরিণত হতে পারে।

💉 একমাত্র প্রতিরক্ষা: ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন

✅ মাত্র একটি নিরাপদ টিকা আপনার শিশুকে দিতে পারে আজীবনের সুরক্ষা।
✅ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), CDC সহ সব স্বাস্থ্য সংস্থাই শিশুর জন্য ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিনের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
✅ সাধারণত ১২–১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ, এবং ৪–৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

আপনার করণীয়:

  • শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকাদান সম্পন্ন করুন।
  • জ্বর, ফুসকুড়ি বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • অন্য শিশুদের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে না দেয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
  • গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে আরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

চিকেনপক্স নিয়ে অসচেতনতা নয়, চাই তথ্যনির্ভর সচেতনতা।
একটি সহজ সিদ্ধান্ত—একটি ভ্যাকসিন—শিশুর সারাজীবনের সুরক্ষার ভিত্তি হতে পারে।
ভুল ধারণা নয়, বেছে নিন বিজ্ঞান ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

📌 সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। শিশু সুরক্ষিত থাকলে, সুরক্ষিত থাকবে সমাজ ও জাতি।

চিকেনপক্স #ভ্যারিসেলা #ভ্যাকসিন #শিশুসুরক্ষা #হেলথএডুকেশন

 

মেয়ের মামলায় পিছু হটে মীমাংসার পথে মা

(শিষ্টাচার হারানো সমাজে এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক বিতর্ক)

কন্যার দায়ের করা মামলায় অবশেষে পিছু হটলেন মা। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে নিজ পিতা-মাতার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইনে মামলা করে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তরুণী মেহরিন আহমেদ। এবার সেই মায়ের পক্ষ থেকেই এলো মধ্যস্থতার প্রস্তাব।

মামলার এক মাস পর সংবাদ সম্মেলনে মেহরিনের আইনজীবী জানান, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চান তার মা। ইতোমধ্যে মেহরিনের কাছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তাতে মা মেয়েকে ‘মেধাবী’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং পারিবারিক দূরত্বের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।

মায়ের ভাষ্যে উঠে এসেছে-দুজন কর্মজীবী মানুষ হিসেবে সন্তান পালনে পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারার আক্ষেপ। একই ছাদের নিচে থাকলেও, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল না বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ঘটনাটি ব্যতিক্রমী হলেও সমাজে এমন সম্পর্কচ্যুতি একেবারে নতুন নয়। আমরা অনেক সময় সন্তানদের শুধু ডিগ্রিধারী বানাতে চাই, কিন্তু পারিবারিক মূল্যবোধ আর মানবিক শিষ্টাচারের চর্চা ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক বন্ধনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি নিছক পারিবারিক বিষয় নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক সংকট, যেখানে পরিবার অর্থহীন হয়ে উঠছে প্রযুক্তি আর ব্যস্ততার ভিড়ে।’’

উপমহাদেশে এমন ঘটনা বিরল হলেও সম্পূর্ণ অজানা নয়। ২০১৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে এক তরুণ রাফায়েল স্যামুয়েল “অনুমতি ছাড়া জন্ম দেয়ায়” বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় আসেন।

তবে ঢাকায় এমন মামলা এই প্রথম, যার পরিণতি যদি মধ্যস্থতা ও বোঝাপড়ায় গড়ায়, তবে তা এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত এমন সময়, যখন পরিবার শুধু একটি সামাজিক একক নয়—বরং মানবিক সংবেদনশীলতা গড়ে তোলার শিক্ষার প্রাথমিক ক্ষেত্র।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপট আমাদের আরও বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়: আমরা কি আর সেই পারিবারিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যের সমাজে বাস করছি? যখন সন্তান জন্মদাতার বিরুদ্ধেই আইনি আশ্রয় নেয়, তখন বুঝতে হবে-আমাদের চারপাশের সমাজ কাঠামোতে কিছু একটা ভেঙে পড়ছে। এই বিচ্যুতি শুধু ব্যক্তিগত নয়,এ এক সামাজিক ও নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
আর সে সমাজে আমরা-আপনি, আমি সবাইই বসবাস করছি।

 

ঢাবিতে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ উদযাপন আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ উদযাপন করছে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’। ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অডিও-ভিডিও প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মনোমুগ্ধকর ড্রোন শো।

রবিবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা–২০২৫’-এর অংশ হিসেবেই এই দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পুরো জুলাই মাস জুড়ে নানা আয়োজনে মুখর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

প্রতিটি অনুষদে ‘জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান’ বিষয়ক সেমিনার

হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসমূহের উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা

‘জুলাই অভ্যুত্থান: তারুণ্যের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক আন্তঃবিভাগ বিতর্ক উৎসব

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা

এছাড়াও আগামী ১৭ জুলাই আয়োজিত হবে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নেবেন শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। culminating বা সমাপনী আয়োজন হিসেবে আগামী ৫ আগস্ট বড় পরিসরে উদযাপিত হবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’।

এই মহতী আয়োজনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি তিনটি উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস-সচেতনতা বাড়াবে এবং নারী নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের গুরুত্বকে সামনে আনবে।

 

ভিটামিন ‘কে’ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়

ভিটামিন ‘কে’—নামটি হয়তো আমাদের দৈনন্দিন আলোচনায় খুব একটা আসে না। অথচ এই ভিটামিনটি শরীরের রক্ত জমাট বাঁধা থেকে শুরু করে হাড়ের গঠন এবং হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে এক নীরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত, নবজাতকদের জন্য এই ভিটামিনের গুরুত্ব জীবন রক্ষাকারীও হতে পারে।

ভিটামিন কে কী?
ভিটামিন ‘কে’ হলো একটি ফ্যাট-সলিউবল (চর্বিতে দ্রবণীয়) ভিটামিন, যার মূলত দুটি রূপ রয়েছে:

ভিটামিন কে১ (ফিলোকুইনোন): এটি প্রাকৃতিকভাবে সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়।

ভিটামিন কে২ (মেনাকুইনোন): অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং কিছু প্রাণিজ ও ফার্মেন্টেড খাদ্যে থাকে।

ভিটামিন কে কেন প্রয়োজন?
✅ রক্ত জমাট বাঁধা: শরীরে কোথাও কাটা-ছেঁড়া হলে যে রক্তক্ষরণ থামে, তা ভিটামিন ‘কে’র কারণে। এটি রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনগুলোকে সক্রিয় করে।
✅ হাড়ের গঠন: ভিটামিন কে ‘অস্টিওক্যালসিন’ নামক প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা ক্যালসিয়ামকে হাড়ে স্থিত হতে সাহায্য করে। ফলে হাড় হয় মজবুত ও স্থায়ী।
✅ হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ: ভিটামিন কে ধমনিতে ক্যালসিয়াম জমা প্রতিরোধ করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।
✅ অতিরিক্ত উপকারিতা: গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন কে পাকস্থলী, কোলন, প্রোস্টেট ও মুখগহ্বরের কিছু ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ভিটামিন কে-এর ঘাটতি হলে কী হয়?
যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ঘাটতি কম দেখা যায়, তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তা হতে পারে, যেমন:

দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন

অন্ত্র বা পিত্তজনিত রোগ

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ

ঘাটতির লক্ষণ:
সহজে রক্তপাত হওয়া, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া

দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া

নাক বা মুখ দিয়ে রক্তপাত

মেয়েদের অতিরিক্ত ঋতুস্রাব

হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা অস্টিওপোরোসিস

ক্লান্তি, হাড় বা পেশীতে ব্যথা

নবজাতকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Intracranial bleeding) এর ঝুঁকি

শিশুদের জন্য কেন ভিটামিন কে জরুরি?
নবজাতকদের শরীরে জন্মের সময় ভিটামিন কের পরিমাণ খুব কম থাকে। ফলে তাদের ‘নিউবর্ন হেমোরেজ ডিজঅর্ডার’ বা জন্ম-পরবর্তী রক্তপাতজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। তাই অনেক দেশে জন্মের পরপরই শিশুদের ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়া হয়।

ভিটামিন কে-এর প্রাকৃতিক উৎস

  • ভিটামিন কে১:
    সবুজ শাকসবজি—পালং শাক, কচু শাক, বাঁধাকপি, সরিষা শাক, ব্রকলি, লেটুস, ধনেপাতা, শালগম শাক, হেলেঞ্চা ও কলমি শাক ইত্যাদি।
  • ভিটামিন কে২:
    ডিমের কুসুম, যকৃত, ঘরে তৈরি দই, কিছু ফার্মেন্টেড খাবার (যেমন: জাপানি ন্যাটো), নির্দিষ্ট কিছু চিজ।
  • অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া:
    স্বাস্থ্যকর অন্ত্রব্যবস্থার মাধ্যমে ভিটামিন কে২ উৎপন্ন হয়।
  • শিশু খাদ্য:
    অনেক ইনফ্যান্ট ফর্মুলা ভিটামিন কে দিয়ে সমৃদ্ধ করা থাকে। তবে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভিটামিনের ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে যতক্ষণ না অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সঠিকভাবে গড়ে ওঠে।

কীভাবে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে নিশ্চিত করবেন?
প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় অন্তত এক কাপ রান্না করা সবুজ শাক রাখুন।

পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ান এবং হজমজনিত সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের পর হাসপাতাল প্রদত্ত ভিটামিন কে ইনজেকশন গ্রহণ নিশ্চিত করুন।

যারা প্রাণিজ পণ্য বা শাকসবজি কম খান, তারা প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

ভিটামিন ‘কে’ আমাদের শরীরের জন্য এক জরুরি অনুষঙ্গ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতাই পারে আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখার পথে এক নির্ভরযোগ্য সাথী হতে।

 

চিচিঙ্গা ও ঝিঙা: অবহেলিত এই সবজিগুলোতে আছে অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ!

গরমকালে হালকা, সহজপাচ্য আর পানিসমৃদ্ধ সবজির চাহিদা বাড়ে। আমাদের দৈনন্দিন খাবারে সহজলভ্য এমন দুটি সবজি হলো—চিচিঙ্গা ও ঝিঙা। অনেকেই এই সবজিগুলোকে একটু কম গুরুত্ব দেন, কেউ কেউ তো খেতেই চান না! অথচ এই দুটি সবজিতেই রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিগুণ, যা শরীর সুস্থ রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

চিচিঙ্গা
চিচিঙ্গা মূলত পানি-সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম চিচিঙ্গায় আছে মাত্র ১৭ কিলোক্যালরি এবং প্রায় ৯৫% পানি। অর্থাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় নেই, বরং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ‘ভিটামিন এ’, ‘ভিটামিন সি’ ও ফাইবার, যা একে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ করে তোলে।

চিচিঙ্গার ‘ভিটামিন এ’ চোখের জন্য উপকারী, আর ‘ভিটামিন সি’ ত্বককে রাখে উজ্জ্বল ও তরতাজা। এতে থাকা আঁশ হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে রাখে হাইড্রেটেড। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিচিঙ্গা বিশেষ উপকারী, কারণ এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এছাড়া কিডনি রোগীদের জন্যও উপযোগী—শুধু দানাগুলো বাদ দিয়ে রান্না করলেই চলে।

ঝিঙা
ঝিঙা একটু গাঢ় সবুজ রঙের, গ্রীষ্মকালে প্রচুর পাওয়া যায় এবং এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। প্রতি ১০০ গ্রাম ঝিঙায় পাওয়া যায় প্রায় ২০ কিলোক্যালরি ও ৯৪-৯৫% পানি। এতে রয়েছে আঁশ, ‘ভিটামিন এ’, ‘ভিটামিন সি’ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ভেতরের পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।

ঝিঙা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং পাইলসের রোগীদের জন্যও উপকারী। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি একটি প্রাকৃতিক “ইমিউনিটি বুস্টার”। ঝিঙা শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপযোগী। উপরন্তু, শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) ঝিঙা দূর করতে পারে, ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও ক্লিন।

চিচিঙ্গা ও ঝিঙা—এই দুই সবজিই খুব সাধারণ হলেও এতে লুকিয়ে আছে অসাধারণ উপকারিতা। সঠিকভাবে রান্না করলে এগুলোর স্বাদ যেমন ভালো, তেমনি শরীরও রাখে সজীব ও সুস্থ। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন এই স্বাস্থ্যকর সবজিগুলো।

 

চট্টগ্রামের মেয়ে শারমিন রিমার অসাধারণ আন্তর্জাতিক সাফল্য

চট্টগ্রামভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিভয়েস-এর সাংবাদিক শারমিন রিমা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক গৌরবময় স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিশ্বের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Columbia Journalism School থেকে তিনি গ্রীষ্মকালীন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কোর্সের জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।

আগামী ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া তিন সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করা হয়েছে মাত্র ২১ জনকে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র স্থান করে নিয়েছেন শারমিন রিমা, যা দেশবাসীর জন্য এক গর্বের বিষয়।

তাঁর এই অর্জন সাংবাদিকতার জগতে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শারমিন রিমা এর আগে সাংবাদিকতা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজের জন্য পেয়েছেন রাধুনি কীর্তিমান সম্মাননা-২০২৪, ইন্টারন্যাশনাল ওমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশনের রিপোর্টিং গ্রান্ট, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফেলোশিপ, এবং ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ-সচেতন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতা ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর এই সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ।

ফিলিস্তিনপন্থী জারাহ সুলতানার নতুন রাজনৈতিক ঘোষণা

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন এক বামপন্থী ধারা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক লেবার পার্টি এমপি ও ফিলিস্তিনপন্থী নেতা জারাহ সুলতানা। জেরেমি করবিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার কথা জানান সুলতানা।

সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে সুলতানা বলেন, “ওয়েস্টমিনস্টার ভেঙে পড়েছে। তবে সংকটটা এর চেয়েও গভীর। আজকের যুক্তরাজ্যে মাত্র ৫০টি পরিবার দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক।”
তাঁর মতে, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

সুলতানার ভাষায়, তাঁদের এই নতুন দলটি হবে লেবার, কনজারভেটিভ এবং রিফর্ম ইউকের মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ব্যর্থতা ও বিশ্বাসভঙ্গের’ বিরুদ্ধে কার্যকর একটি বিকল্প। তবে দলটির কাঠামো ও নীতিমালা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নীতিমালা ঘোষণা করা না হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সুলতানার বক্তব্য থেকে দলটির অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট।

জারাহ সুলতানা জানিয়েছেন, তাঁদের দলের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের বাইরে একটি শক্তিশালী বামপন্থী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তাঁর অভিযোগ, “এই তিন দলই ধনকুবেরদের পক্ষেই কাজ করছে।” তিনি বলেন, নতুন দলটি দারিদ্র্য বিমোচন এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেবে।

বিশেষভাবে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের অনীহার সমালোচনা করেন সুলতানা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সরকারের বাজেট যেন ‘অবিরাম যুদ্ধের জন্য নয়, বরং জনসেবায় ব্যয় করা হয়’। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কমিয়ে সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পক্ষপাতী।

সুলতানা বরাবরই ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার। নতুন দলটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ফিলিস্তিনপন্থা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টারমার সরকারের বিরুদ্ধে ‘গাজায় গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ’ করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ জনগণ চায় সরকার যেন যুদ্ধের পরিবর্তে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনকল্যাণে বেশি ব্যয় করে।

জেরেমি করবিনও এ বিষয়ে সুর মিলিয়ে বলেন, “দারিদ্র্য, বৈষম্য ও যুদ্ধ অপরিহার্য নয়। আমাদের এখনই দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন।”

সুলতানা নিশ্চিত করেছেন, জেরেমি করবিন এই নতুন দল গঠনের আলোচনায় যুক্ত আছেন। যদিও প্রথমদিকে করবিন এ বিষয়ে মন্তব্য না করায় তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তবে পরে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “দল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।”

সুলতানা আরও জানান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন কর্মসূচিকেন্দ্রিক সংগঠকেরা এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এমন অনেক লেবার কর্মী ও সমর্থকও এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন, যাঁরা মনে করেন স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি অতিমাত্রায় ডানপন্থী হয়ে পড়েছে।

নতুন দলটির প্রতি জনসমর্থনের চিত্র এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে ঘোষণা দেওয়ার পর মাত্র এক রাতেই জারাহ সুলতানার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সাইন আপ করেছেন।

এর আগে ‘মোর ইন কমন’ নামের এক জরিপ সংস্থা জানায়, জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে একটি নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে ১০ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। ওই জরিপে লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির জন্য সমর্থন ২০ শতাংশ এবং রিফর্ম ইউকের জন্য ২৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

ফলে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দলটি বড় দুই দলের ভোট ভাগ করে দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে হলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব অপরিহার্য হবে।

 

চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী রুথবা ইয়াসমিন

এক সময় যার আকাশচুম্বী স্বপ্ন ছিল, এখন তিনি মহাকাশ ছোঁয়ার দোরগোড়ায়। রুথবা ইয়াসমিন—প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ‘চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ’ শেষ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একজন নারীর নয়, বরং একটি জাতির জন্যও এক ঐতিহাসিক গর্ব। ‘স্পেস নেশন’-এর আয়োজিত ‘মুন পাইওনিয়ার মিশন’-এর প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে রুথবা এখন চাঁদে পা রাখার প্রতিযোগিতায় সামনের সারির একজন।

গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানিয়েছে, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী। সেই গর্বিত তালিকায় একজন হচ্ছেন বাংলাদেশের রুথবা ইয়াসমিন। তাঁর এই যাত্রা যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে একজন নারী নিজের মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন দিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন অজানার দিকে।

ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে শিক্ষা জীবনের সূচনা করেন রুথবা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজ থেকে ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করে নিজের শিক্ষাকে মহাকাশ অভিযানের জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

রুথবার আগ্রহের কেন্দ্র ছিল মহাকাশ আবহাওয়া, বিশেষ করে ভূচৌম্বকীয় ঝড় বা ‘জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম’। এই বিষয়ে তাঁর গভীর গবেষণাই তাকে মহাকাশ ভ্রমণের প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তাঁর প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস।

‘মুন পাইওনিয়ার মিশন’-এ রুথবা প্রশিক্ষণ নেন EVA (Extra Vehicular Activity) স্পেশালিস্ট হিসেবে। এই দায়িত্বের আওতায় তাঁকে মহাকাশসুট পরে চাঁদের পৃষ্ঠে হাঁটার প্রস্তুতি, রেডিয়েশন প্রতিরোধে কার্যক্রম ও ISRU (In-Situ Resource Utilization)–এর প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হয়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের Moon Base ও Mission Control—দুটি দলে ভাগ করা হয়। রুথবা প্রথমে চাঁদের মাটি থেকে সম্পদ আহরণ সংক্রান্ত কাজ করেন, পরে Mission Control ইউনিটে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন। একটি বিপজ্জনক সিমুলেশনে জরুরি পরিস্থিতিতে তার দ্রুত সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব প্রশিক্ষণার্থীদের মুগ্ধ করে।

রুথবার মতে, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনও মাত্র ১১ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য দূর করতে তিনি নিজেই হতে চান এক পরিবর্তনের দূত। তিনি বলেন, “NASA-এর নারী বিজ্ঞানীরা অ্যাপোলো মিশনে যেভাবে অবদান রেখেছেন, ভবিষ্যতের মিশনেও নারীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া জরুরি।”

১৪ এপ্রিল, প্রশিক্ষণ ঘোষণার ঠিক দু’দিন আগে, পপ গায়িকা কেটি পেরিও ব্লু অরিজিনের অল-ফিমেল ক্রু নিয়ে মহাকাশে যাত্রা করেন। এই দুটি ঘটনা যেন এক যৌথ বার্তা দেয়—মহাকাশ এখন আর শুধুই পুরুষের একচেটিয়া ক্ষেত্র নয়।

মহাকাশ অভিযানে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিও সমান জরুরি। রুথবা বলেন, মহাকাশে সঠিক ঘুম, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার, পানি পান ও পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতা রক্ষা—এসবের মাধ্যমেই শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হয়। সেখানে গোসলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয় স্পঞ্জ বাথ ও নন-রিন্স শ্যাম্পু।

এছাড়া মানসিক চাপ মোকাবেলায় ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে রাখা, দলগত অনুশীলন ও ফিটনেস ট্রেনিং অপরিহার্য। তার মতে, “আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।”

রুথবার স্বপ্ন শুধু চাঁদের বুকে পা রাখা নয়, বরং নতুন ইতিহাস রচনা করা। তিনি চান ভবিষ্যতে আর্টেমিস মিশন, লুনার সারফেস অপারেশন এবং চন্দ্র গবেষণায় কাজ করতে। তাঁর লক্ষ্য হলো—চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ, নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সম্প্রসারণ।

তিনি বলেন, “আমি চাই বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে। এটি শুধু আমার স্বপ্ন নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক গৌরবময় অধ্যায় হবে। আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই।”

রুথবা ইয়াসমিন এখন আর কেবল একজন গবেষক বা শিক্ষার্থী নন—তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, সীমা বলতে কিছু নেই, যদি থাকে স্বপ্ন, সাধনা আর সাহস।

বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়তো সেই দিনটি খুব দূরে নয়, যেদিন রুথবার মতো কেউ সত্যিই চাঁদের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরবেন।

 

জুলাই নারী শহীদ পরিবারের পাশে সরকার

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত নারী ও শিশুদের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
আজ নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটিতে গুলিতে নিহত শিশু রিয়া গোপের বাড়ি এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে নিহত গৃহবধূ সুমাইয়ার পরিবার পরিদর্শনকালে তিনি এই বার্তা দেন।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—তাদের হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাঁদের তথ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী, তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ পরিবারের বর্তমান অবস্থা, তাদের চাহিদা ও সংকট জানার চেষ্টা করছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে যতটুকু সামর্থ্য ও সম্পদ আছে, সবটুকু দিয়েই আমরা এই পরিবারগুলোর পাশে থাকব। আমরা শুধু নীতি-নির্ধারণে নয়, মানবিক সহানুভূতিতেও বিশ্বাস করি। শহীদ পরিবারের চোখের জল মুছে দিতে চাই আমরা।”

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, চলমান জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাধারণ মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার শহীদ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

পবিত্র মহররম ও আশুরা: কলুষিত হৃদয়ের জন্য এক আত্মশুদ্ধির আহ্বান

হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম আমাদের সামনে হাজির হয় এক আত্মমূল্যায়নের বার্তা নিয়ে। এটি শুধু বছরের সূচনা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যেখানে পবিত্র কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে, “আল্লাহর বিধানে মাস বারোটি, তার মধ্যে চারটি সম্মানিত (আরবা’আতুন হুরুম)” (সূরা আত-তাওবা, ৯:৩৬)। সেই সম্মানিত মাসগুলোর অন্যতম হলো মহররম, আর এরই দশম দিন – আশুরা, ইসলামী ইতিহাসে এক বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং অতল গুরুত্ববাহী দিন।

পবিত্র কুরআনের ঘোষণা মতে ‘আরবাআতুন হুরুম’—চার সম্মানিত মাসের একটি। সেই মাহাত্ম্যপূর্ণ মাসে প্রতিটি মুহূর্ত যেন আল্লাহর নৈকট্যের সন্ধানে একটি সুযোগ।

মহররম মাসের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে হাদিস শরীফে স্পষ্টভাবে এসেছে, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই মাসে নফল রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান এবং আশুরার দিন যত গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো দিন এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০০৬)।

নবীজি (সা.) আশুরার রোজা সম্পর্কে বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এই রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দিবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)। তাই নবীজি শুধু নিজেই রোজা রাখেননি, বরং সাহাবাদেরও উৎসাহিত করেছেন এদিন রোজা রাখতে। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রমজানের পর যদি রোজা রাখতে চাও, তবে মহররমে রাখো। কেননা, এ মাস আল্লাহর মাস।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৪০)।

হজরত হাফসা (রা.) বলেন, “নবীজী চারটি আমল কখনো বাদ দিতেন না—আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, প্রতি মাসের তিনটি রোজা এবং ফজরের আগের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ।” (সুনানে নাসায়ি: ২৪১৫)
কিন্তু আশুরার রোজা কেবল একটি দিনে সীমাবদ্ধ নয়। নবীজির নির্দেশনায় পাওয়া যায়, ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য পরিত্যাগ করার জন্য তিনি আশুরার আগের বা পরের দিন একটি অতিরিক্ত রোজা রাখতে বলেছেন। “তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং একদিন আগে বা পরে আরেকটি রোজা রেখো।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২১৫৪)। এমনকি তিনি বলেন, “আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে ৯ তারিখেও রোজা রাখব।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩৪)।

আশুরা কেবল রোজা পালনের দিন নয়, বরং ইসলামী ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত রয়েছে, এই দিনেই আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদেরকে সমুদ্র পার করিয়ে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করেছিলেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪০১)। এই উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা রেখেছিলেন কৃতজ্ঞতা স্বরূপ, এরই ধারাবাহিকতায় ইহুদি সম্প্রদায় এই দিন রোজা রাখতো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমি মুসার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।” অতঃপর তিনি রোজা পালন করেন এবং সাহাবাদেরও তা করতে বলেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৩০)।

অনেক বর্ণনায় এসেছে, এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়, হজরত নূহ (আ.)-এর কিসতী জুদী পাহাড়ে অবতরণ করে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আগুন থেকে মুক্ত হন, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে নিঃসরণ হন, হজরত ঈসা (আ.) আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়। যদিও এসব ঘটনার স্পষ্ট সহিহ সনদ নেই, তথাপি বহু সালাফ থেকে এব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস না করেও এই দিনটিকে বরকতময় হিসেবে বিবেচনায় রাখা যায়।
তবে আশুরা নিয়ে যেসব ভিত্তিহীন কাহিনি চালু রয়েছে—যেমন, এই দিনে কিয়ামত হবে, হজরত ইউসুফ জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, কিংবা হজরত ইয়াকুব দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন—এগুলোর কোনো সহিহ প্রমাণ নেই।

কারবালা
মহররম মাসে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত। সত্য ও অন্যায়ের মুখোমুখি অবস্থানে তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেন। এ ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য বেদনার হলেও ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—শোক পালন হবে আত্মিক ও আত্মোন্নতিবিধান সাপেক্ষে, জাহেলি যুগের আদলে হবেনা।
নবীজি (সা.) বলেন, “আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, যে বুক চাপড়ায়, কাপড় ছিঁড়ে বা জাহেলি যুগের কথা বলে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৯৪)। তাই শোক র‌্যালি, মাতম, তাজিয়া বের করা, শরীর রক্তাক্ত করা এসব ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড। এগুলো এ মাসের মাহাত্ম্য ও উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে এখনো অনেকে মহররমকে ‘অশুভ মাস’ মনে করে। কেউ কেউ এ মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়। অথচ ইসলাম এই মাসকে ফজিলতের মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে। নবীজির যুগে এ ধরণের ভয়-ভীতির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তাই এসব কুসংস্কার বর্জন করে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনচর্চা জরুরি।

এই মাসে করণীয়
এই মহররম মাস যেন শুধু একটি দিন বা ঘটনার স্মরণে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা হয়ে উঠুক আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা। রোজা, তাওবা-ইস্তিগফার, কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদের নামাজ ও দান-সাদকার মাধ্যমে এই মাসকে আমরা পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারি। পাশাপাশি কুসংস্কার, বিদআত, অপসংস্কৃতি ও লোকদেখানো কর্মসূচি থেকে নিজেকে দূরে রাখা অপরিহার্য।

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের এই সম্মানিত মাসের হক আদায় করার তাওফিক দেন।
আল্লাহুম্মা আমিন।

 

স্ত্রীর কিডনিতে বেঁচে ফেরা স্বামী পরকীয়ায়, প্রতারণা-নির্যাতনে ভাঙলো সংসার

সংসার মানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর ত্যাগের বন্ধনে গড়া এক জীবনের নাম। স্ত্রী যখন কেবল সঙ্গী নন, হয়ে ওঠেন জীবনের পরমছায়া-তখন তাঁর প্রতি স্বামীর কৃতজ্ঞতা থাকা তো স্বাভাবিক।
কিন্তু বাস্তবতা আমাদের সামনে এক ভয়াবহ, অমানবিক চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে স্ত্রী নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীকে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন, আর সেই স্বামী সুস্থ হয়ে প্রথমেই যেটা করলেন তা হলো স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, এরপর শুরু করলেন পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ার জীবন।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের কলমা এলাকায়, যেখানে উম্মে সাহেদীনা টুনি নামের এক সংগ্রামী নারী আজও লড়ছেন স্বামী মোহাম্মদ তারেকের প্রতারণা, নির্যাতন ও সমাজের অবিচারের বিরুদ্ধে।

২০০৬ সালে টুনির বিয়ে হয় মালয়েশিয়া ফেরত তারেকের সঙ্গে। বিয়ের এক বছর পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সব ঠিকঠাক চলছিল, হঠাৎ করেই ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে জানা যায় তারেকের দুটি কিডনিই প্রায় অচল। চিকিৎসকেরা ডায়ালাইসিস শুরু করার পরামর্শ দেন। সদ্য সন্তানের মা হওয়া টুনি ভয় পেয়ে গেলেও দমে যাননি। সিদ্ধান্ত নেন স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাবেন। শুরু হয় এক লম্বা সংগ্রাম।

টুনি নিজের বাড়িতে হোম বিউটি পার্লার ও বুটিক ব্যবসা শুরু করেন। মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করে পুরোটাই স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেন। নিজের গহনা বিক্রি করেন, মায়ের পেনশনের টাকা খরচ করেন, এমনকি একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেও চিকিৎসা চালিয়ে যান। প্রতি বছর তিনবার করে স্বামীকে ভারতে নিয়ে যেতে হতো, প্রতিবার ব্যয় হতো প্রায় তিন লাখ টাকা।

শেষ পর্যন্ত, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে স্ত্রী টুনি নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দান করেন। অপারেশনের পরই শুরু হয় জীবনের নতুন ট্র্যাজেডি। সুস্থ হয়ে হাসপাতালের কেবিনেই প্রথমবার চিৎকার, অপমান ও দুর্ব্যবহার শুরু করেন তারেক। ঢাকায় ফিরে এই নির্যাতন বেড়ে যায়। টুনিকে উপার্জনের সব টাকা তার হাতে তুলে দিতে বাধ্য করা হয়, শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এরপরই সামনে আসে আরও ভয়াবহ এক সত্য—তারেক জড়িয়ে পড়েন ডিভোর্সি এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায়। জড়িয়ে পড়েন অনলাইন জুয়ার আসক্তিতেও।

টুনির জীবন ধ্বংস হতে শুরু করে। শারীরিকভাবে দুর্বল টুনি সহ্য করতে না পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগের পর মুচলেকা দিয়ে অভিযোগ তুলিয়ে নেন তারেক। পরে নির্যাতন বাড়লে অবশেষে আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করেন টুনি। এক মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তারেক সোজা চলে যান প্রেমিকার বাড়িতে এবং সেখান থেকে টুনিকে চাপ দিতে থাকেন বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ও ডিভোর্স দেওয়ার জন্য।

এখানে থেমে থাকেনি নির্মমতা। টুনি জানান, কিডনি দেওয়ার পর তার শরীর ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরাও সতর্ক করেছেন ভবিষ্যতে বড় বিপদ ঘটতে পারে। অথচ টুনি সব ভয় পেছনে ফেলে যেই মানুষটির জীবন বাঁচিয়েছেন সেই তাঁকে নিঃস্ব করে ফেলেছেন। এমনকি অপারেশনের স্থানে লাথি মেরে শারীরিকভাবেও আঘাত করেছেন।

টুনির মা ও প্রতিবেশীরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন, কীভাবে এক তরুণী নিজের জীবন উজাড় করে স্বামীর জীবন রক্ষা করেছেন, অথচ সেই মানুষটি সুস্থ হয়ে পরিণত হয়েছেন নির্যাতক ও প্রতারকে।

এ ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি আমাদের সমাজে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি। যেখানে নারীর ত্যাগ, ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে পদদলিত করে এক পুরুষ অনায়াসে জুয়া, পরকীয়া ও লোভের পথে হাঁটেন। একজন নারী কেবল স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন মানবদাত্রী হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, বিশেষত যখন সে স্বামীর প্রাণ রক্ষায় নিজের অঙ্গ উৎসর্গ করে। অথচ তার প্রতিদান হয় মারধর, ত্যাগ আর ঘৃণা।

সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণ
এই ঘটনার পেছনে আমাদের সমাজে বিদ্যমান কয়েকটি গভীর সংকট দায়ী:

১. পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব: এখনও সমাজের অনেক পরিবারে নারীর অবস্থান ‘সহায়ক’ বা ‘ত্যাগী’ হিসেবে কল্পনা করা হয়, অধিকারভিত্তিক নয়। ফলে স্বামীর প্রতারণা, নির্যাতন কিংবা ঔদ্ধত্যকেও অনেক সময় সহনীয় বলে মেনে নেওয়া হয়।

২. নৈতিক অবক্ষয়: পারিবারিক মূল্যবোধ, সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার জায়গাগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে। ভোগবাদী ও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা পারস্পরিক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে প্রতিস্থাপন করছে।

৩. আইন প্রয়োগে শৈথিল্য: অনেক সময় নারী নির্যাতন ও প্রতারণার মামলাগুলো সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয় না। জামিনের সুযোগে অভিযুক্তরা ভিকটিমের ওপর পুনরায় অত্যাচার করে।

৪. নারীর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা: অধিকাংশ নারী আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হলেও সামাজিকভাবে এখনও তাঁরা এক ধরনের ঝুঁকিতে থাকেন। বিশেষ করে একক মায়ের ক্ষেত্রে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ।

উত্তরণের উপায়
সাভারের কলমা এলাকায় উম্মে সাহেদীনা টুনির ওপর যা ঘটেছে, তা কেবল একটি নারীর গল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের হাজারো নারীর মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিচ্ছবি। এমন সামাজিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় আমাদের করণীয় হতে হবে বহুমাত্রিক, বাস্তবভিত্তিক এবং ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নিচে কিছু স্পষ্ট ও কার্যকর উত্তরণ কৌশল তুলে ধরা হলো:

১. আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর করতে হবে

টুনির ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনের কিছু ধারা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি:
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩): এই আইনের ১১(গ) ধারায় শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তারেকের নির্যাতন এ ধারায় বিচারযোগ্য।

দণ্ডবিধি ৪৯৮এ ধারা: স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করলে এ ধারায় সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য।

মানবদেহের অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন, ১৯৯৯ (সংশোধিত ২০১৮): প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গ সংগ্রহ করা হলে এ আইনে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৭-১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ঘরোয়া সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০: টুনির মতো নির্যাতিত নারীরা এই আইনে বিচার চাইতে পারেন এবং আদালত থেকে ‘Protection Order’ বা ‘Rescue Order’ চাইতে পারেন, যা তার শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এছাড়া;আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়িত্ব নিতে হবে জামিনপ্রাপ্ত আসামির ওপর নজরদারি, নির্যাতিতার নিরাপত্তা এবং দ্রুত চার্জশিট প্রদান নিশ্চিত করতে।

২. ইসলামের আলোকে নারীর সম্মান ও অধিকারের প্রতিফলন

ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নারীর মর্যাদা, ত্যাগ ও অধিকার সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে।

সুরা আন-নিসা ৪:১৯ এ বলা হয়েছে:
“তোমরা নারীদের প্রতি জুলুম করো না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করো।”

স্ত্রী নির্যাতন ও প্রতারণা ইসলামে কবীরা গুনাহ।
রাসূল (সা.) বলেন, “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে।”
— (তিরমিযী, হাদীস: ১১৬২)

টুনির স্বামী যেমন জীবন রক্ষাকারী স্ত্রীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা দেখিয়ে অমানবিক আচরণ করেছেন, ইসলাম সে কাজকে ধর্মীয়ভাবে হারাম এবং নৈতিক বিচারে ঘৃণিত অপরাধ আখ্যা দিয়েছে।

৩. নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষার সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে

শিশুকাল থেকে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা শুরু করতে হবে। ভালোবাসা মানে কেবল ভোগ নয়, বরং দায়িত্ব, ত্যাগ ও সহানুভূতি — এই শিক্ষা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিতে হবে।

বিয়ের আগে নৈতিকতা ও পারিবারিক সচেতনতা বিষয়ক কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। যেখানে যৌনতা নয়, সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মূলনীতি শেখানো হবে।

বিনোদনের নামে অসামাজিক কনটেন্ট ও জুয়ার প্রচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ জরুরি। তরুণদের পর্ন, অনলাইন জুয়া ও বিকৃত রুচির হাত থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর আইন প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

৪. নারীর জন্য আর্থিক ও আইনি সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা

নারী কল্যাণ তহবিল ও আইনি সহায়তা কেন্দ্র-এর মাধ্যমে নির্যাতিতাদের দ্রুত চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্যাতিত নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও হেল্পলাইন সার্ভিস আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে হবে।

নারীর নামে সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং নারীর সম্মতিবিহীন কোন সম্পত্তি হস্তান্তরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশিষ্ট
উম্মে সাহেদীনা টুনির গল্পটি আমাদের সমাজের এক নির্মম প্রতিবিম্ব—যেখানে নারীর ভালোবাসা, ত্যাগ, বিশ্বাস সবকিছু নস্যাৎ করে তাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় প্রতারণা আর নির্যাতনের মুখোমুখি। কেবল আইন নয়, দরকার একটি বোধসম্পন্ন, নৈতিক, ধর্মভীরু এবং দায়বদ্ধ সমাজ, যেখানে পুরুষ শিখবে কৃতজ্ঞতা, নারী পাবে মর্যাদা, পরিবার হবে সহমর্মিতা আর বিশ্বাসের আধার।

একজন টুনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে বলার-আর নয়!এ সমাজে নারীর চোখের জল,ভালোবাসার অপমান আর সইব না।

 

শিশুর বিকাশ:শুরুর প্রথম দশকে যা সবচেয়ে জরুরি

একটি শিশু যখন এই পৃথিবীতে আসে,যেন এক পবিত্র খাতা—যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে অভিজ্ঞতা, ভাষা, অনুভব ও আচরণ দিয়ে লেখা হয় তার ভবিষ্যতের মানচিত্র। জন্ম থেকে নয়/দশ বছর বয়স পর্যন্ত এই সময়টি শিশুর মানসিক, সামাজিক, ভাষাগত ও আবেগগত বিকাশের ভিত্তি গড়ে তোলে। একজন অভিভাবক হিসেবে এই সময়ে আপনি যা করবেন বা যা এড়িয়ে চলবেন, তার প্রভাব থাকবে বহু বছর ধরে।

এই লেখায় আমরা আলোচনা করব সেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা একজন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে।

১. ভালোবাসার নিরাপদ আশ্রয়।
প্রথমত, একটি শিশু চায় নিরাপত্তা—শুধু শারীরিক নয়, মানসিক নিরাপত্তাও। মা-বাবা বা যত্নশীল অভিভাবকের ভালোবাসাপূর্ণ উপস্থিতি শিশুর ব্রেইনের নিউরাল কানেকশন তৈরি করে। বার বার চোখে চোখ রাখা, হেসে সাড়া দেওয়া, কাঁধে জড়িয়ে ধরা—এসব ছোট ছোট আচরণ শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।

২. দৈনন্দিন রুটিন এবং পূর্বাভাসযোগ্যতা।
শিশুরা অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। খাবার, ঘুম, খেলা -প্রতিদিনের নিয়মিত রুটিন তাদের মানসিক স্থিতি নিশ্চিত করে। এতে তারা নিয়মানুবর্তিতা, সময়জ্ঞান এবং নিজের শরীর ও চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা শেখে।

৩. খেলার মাধ্যমেই শেখা।
খেলাই শিশুদের প্রকৃত শিক্ষা। ৩-৭ বছর বয়সে ফর্মাল পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও কল্পনাপ্রবণ খেলা (imaginative play) অনেক বেশি কার্যকর। খেলনার দোকানের দামি জিনিস নয়, বরং ঘরের গৃহস্থালি জিনিসপত্র দিয়েও তারা গঠন, সংখ্যা, শব্দ আর সম্পর্কের ধারণা শিখতে পারে।

৪. শব্দ ও গল্পের জগতে পরিচয়।
ভাষা শেখা হয় শোনার মধ্য দিয়ে। শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, ছড়া শোনানো, বই পড়া—এই সবকিছু তার ভাষার ভিত্তি গড়ে তোলে। এমনকি কথা বলতে না পারলেও বইয়ের ছবি দেখিয়ে গল্প বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।

৫. পর্দার পেছনে থাকুক পর্দাজগৎ।
শিশুর বিকাশে স্ক্রিন টাইম একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দুই বছর বয়স পর্যন্ত যেকোনো ধরনের মোবাইল, ট্যাব বা টিভি একেবারে পরিহার করা উচিত। তার পরে সীমিত এবং মানসম্মত কনটেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচয় করানো যেতে পারে। শিশু যত কম স্ক্রিনে থাকবে, তত বেশি তারা বাস্তব জগৎকে অনুভব করতে পারবে।

৬. অনুভূতির ভাষা শেখানো।
শিশুরা তাদের অনুভূতিকে প্রকাশ করতে শেখে পরিবারের কাছ থেকেই। “তুমি রেগে গেছ?”, “তুমি দুঃখ পেয়েছো?” এই ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য তাদের শেখায় অনুভূতির নাম। পরিণত বয়সে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সহানুভূতির ভিত্তি এখানেই তৈরি হয়।

৭. শিশুকে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলা।
ছোট কাজেও শিশুকে যুক্ত করা জরুরি। নিজের প্লেট তুলে রাখা, খেলনা গুছিয়ে রাখা, মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ডাল নাড়া—এসব ছোট ছোট দায়িত্ব শিশুকে নিজের ওপর আস্থা রাখতে শেখায় এবং আত্মমর্যাদা বাড়ায়।

৮. প্রশংসার ভাষা হোক আচরণভিত্তিক।
“তুমি অনেক ভালো ছেলে” বলার চেয়ে “তুমি ওর সঙ্গে খেলনাটা ভাগ করে নিয়েছ, এটা খুব ভালো কাজ”—এই ধরনের নির্দিষ্ট প্রশংসা শিশুদের শেখায় কোন কাজের জন্য তারা বাহবা পেয়েছে। এতে তাদের আচরণগত বুদ্ধি বাড়ে।

৯. প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশি সময় দিন।
গাছপালা, বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক—প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা মানসিকভাবে স্থিতিশীল হয়। নিয়মিত পার্কে যাওয়া, বাগানে খেলা, বা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো তাদের কল্পনা ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়।

১০. শিশুর কথা শোনার মানসিকতা।
সবচেয়ে বড় ভুল আমরা তখনই করি, যখন শিশুর কথা গুরুত্ব দিই না। শিশু যদি কোনো ভয়, কষ্ট বা আগ্রহ প্রকাশ করে, সেটিকে ছোট না ভেবে গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। এতে সে শেখে তার আবেগ -অনুভূতি মূল্যবান, তার কথা শোনার মতো মানুষ আছে।

শেষ কথা
মানবশিশু পরিণত বয়সে কেমন হবে তার ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে উঠে জীবনের এই প্রাথমিক সময়টুকুতে। এই সময়ে আমরা যদি তাদের সাথে ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, কল্পনা, শেখা এবং আত্মমর্যাদার চর্চা করতে পারি—তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে মানবিক, সচেতন ও স্বাধীনভাবে চিন্তাশীল।

শিশুর বেড়ে উঠার জন্য প্রযুক্তি/বাহারি খেলনার চেয়ে বেশি জরুরি আমাদের সময়, মনোযোগ ও হৃদয়।
এটাই শিশুর শৈশবের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।