banner

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রীসংস্থা: ৩টি স্পটে হেল্পডেস্ক চালু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিশেষ হেল্পডেস্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।

মঙ্গলবার, ২৪ জুন থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
স্থান গুলো হলো- কার্জন হল গেটের পাশে, কলা অনুষদের ডিন অফিসের বিপরীতে এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরির পাশে ।

হেল্পডেস্কে বিনামূল্যে স্যালাইন, চকলেট, কলম, টিস্যু, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ভর্তিপ্রত্যাশী ছাত্রীদের তথ্য সহায়তা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে আন্তরিকভাবে।

ঢাবি শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন,
“নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তাদের সহায়তার জন্য আমরা এই হেল্পডেস্ক চালু করেছি। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দিতে প্রতিদিন আমরা এখানে উপস্থিত থাকছি ইনশাআল্লাহ। ছাত্রীসংস্থা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে সদা সচেষ্ট।”

শাখা সেক্রেটারি আফসানা আক্তার জানান,
“অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আমাদের হেল্পডেস্কে এসে উপকৃত হয়েছেন। তাদের মুখে প্রশংসা ও সন্তুষ্টির কথা শুনে আমরা অনুপ্রাণিত।”

প্রসঙ্গত, ঢাবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।এই কার্যক্রম চলাকালীন প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হেল্পডেস্ক পরিচালিত হয়েছে।

এই মহতী উদ্যোগ ছাত্রীবন্ধুদের জন্য যেমন সহায়ক, তেমনি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির দৃষ্টান্তও বটে।

 

চেমন আরা বেগম: আলোকিত সন্তানের গর্বিত জননী

চট্টগ্রামের পটিয়ার নিভৃত গ্রাম নাইখাইনের এক প্রান্তে ছায়াঘেরা একটি বাড়িতে বাস করেন এক অনন্য মা—চেমন আরা বেগম। বয়স ৭৮ বছর। তিনি শুধু ১১ সন্তানের জননী নন, বরং গড়েছেন এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, যেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তা।

চেমন আরার এই জীবনসংগ্রাম কোনো রূপকথা নয়। বাস্তবেই তিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, আরাম, এমনকি প্রয়োজনীয়তাকেও বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে। তাই তো তাঁর এই লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্র তাঁকে সম্মান জানিয়েছে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কারে।

চেমন আরার সন্তানদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ই যেন একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস—
বড় ছেলে মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক।
দ্বিতীয় সন্তান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন: সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
তৃতীয় মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন: লক্ষ্মীপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ।
চতুর্থ পারভীন আকতার: নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত।
পঞ্চম মোহাম্মদ আলমগীর: পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার।
ষষ্ঠ সেলিনা আকতার: বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
সপ্তম মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন: শিশুরোগবিশেষজ্ঞ।
অষ্টম অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ: পটিয়া সরকারি কলেজে পদার্থবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক।
নবম আবু সাদাৎ মুহাম্মদ সায়েম: চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
দশম রেজিনা আকতার: হোসাইন আহমদ সিটি করপোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
একাদশ মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ও রেসিডেন্ট অ্যাডভাইজার।

স্বামী প্রয়াত আবদুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটির কর সংগ্রাহক। সীমিত আয়ের সংসারে থেকেও এই মা সন্তানদের জন্য সঞ্চয় করেছেন স্বপ্ন, আর নিজেকে বিলিয়ে গড়েছেন ভবিষ্যৎ।

চেমন আরা বেগম সমাজের চোখে চোখ রেখে দেখিয়ে দিলেন—একজন মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সীমাহীন ত্যাগ আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা কেমন করে একটি পরিবারকে নয়, গোটা সমাজকেই আলোকিত করতে পারে। তাঁর জীবন শুধুই একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং এটি এক অনন্য মা-মানবীর সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাফল্যের ইতিহাস। এই মায়ের হাত ধরেই বেড়ে ওঠা সন্তানরা আজ দেশের নানা প্রান্তে আলোর মশাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

এমন মায়েরা সমাজের নীরব স্থপতি। তাঁদের প্রতি রইলো আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

 

নারীর অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি মহিলা পরিষদের

জাতীয় বাজেট ২০২৫–২৬ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে নারী অধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা নারীর অবৈতনিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।
‘জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬: জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের প্রতিফলন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা ১৭ জুন রাজধানীর মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। সঞ্চালনায় ছিলেন আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সানেমের ডেপুটি ডিরেক্টর ইশরাত শারমিন, ইউএনডিপি’র জেন্ডার টিম লিডার শারমিন ইসলাম, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের লেকচারার উম্মে মারজানা, নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম এবং দলিত নারী ফোরামের প্রকল্প কর্মকর্তা তামান্না সিং বড়াইক।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “নারীর অবদানকে সম্মান দিতে হলে তাদের অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনতে হবে। বাজেট প্রণয়নে নারী অর্থনীতিবিদদের দৃশ্যমানতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানো জরুরি।”
প্রধান অতিথি ড. মনজুর হোসেন বলেন, “জেন্ডার বাজেটে বরাদ্দ কিছুটা কমেছে, তবে বরাদ্দের গুণগত দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর দক্ষতা যাচাইও জরুরি।”
বিশেষ অতিথি ইশরাত শারমিন বলেন, “জেন্ডার বাজেট বিষয়ে এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। বরাদ্দ কমে যাওয়ায় নারীদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে।”

ইউএনডিপির জেন্ডার টিম লিডার শারমিন ইসলাম বলেন, “বাজেট বরাদ্দের পর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নারীর জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিরীক্ষা জরুরি।”
দলিত নারী প্রতিনিধি তামান্না সিং বড়াইক বলেন, “প্রায় ৬৫ লাখ দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। বিশেষ করে দলিত নারী ও কিশোরীদের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের উল্লেখ থাকা উচিত।”

মালেকা বানু বলেন, “এবারের বাজেটে নারীর অবৈতনিক পারিবারিক শ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে সকল মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট বাস্তবায়ন এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে।”

সভা শেষে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বাজেটে নারীর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

দেয়ালের আঁকা ছবি থেকে আমেরিকার স্কলারশিপ জয়

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক পুরনো বাড়িতে জন্ম নেওয়া মুমতাহিনা করিম মীম ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অন্যরকম। বাইরের খেলাধুলার চেয়ে বেশি ভালো লাগত দেয়ালে ছবি আঁকতে। রাজকন্যা, প্রকৃতি কিংবা নিজের কল্পনার চরিত্র-প্রতিদিনই কিছু না কিছু আঁকতেন ঘরের দেয়ালে।
“আমার ঘরের দেয়াল ছিল আমার প্রথম ক্যানভাস,” বললেন মীম।

শৈশবে তাঁর হাতে রঙতুলির হাতেখড়ি হয় মায়ের মাধ্যমে। মীমের মা ছিলেন একজন হোম-বেইজড ফ্রিল্যান্সার। কাজ করতেন ল্যাপটপে। ছোট্ট মীম সেখানেই প্রথম প্রযুক্তির জগৎকে আবিষ্কার করেন।
একদিন মা যখন Microsoft Paint-এ কিছু দেখাচ্ছিলেন, মীম বলেই ফেললেন, “এইটাও তো আঁকার জায়গা!” সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যানভাসের যাত্রা।

মাত্র ক্লাস থ্রিতে থাকা অবস্থায় ইউটিউব দেখে নিজেই শিখে ফেলেন HTML আর CSS।
প্রথমবার কোডে যখন “Hello World” লিখে স্ক্রিনে দেখেন-তাঁর ভাষায় “তখনই বুঝে গিয়েছিলাম,এই ট্যাপাট্যাপি করাটাও এক ধরনের শিল্প।”

নবম শ্রেণিতে গিয়ে মীম প্রতিষ্ঠা করেন নিজের স্কুলে একটি প্রোগ্রামিং ক্লাব। শুরুতেই ক্লাবের সদস্য হয় ৬৫ জন শিক্ষার্থী।
প্রথমদিকে অনেকে বলেছিল,
“‘মেয়ে হয়ে এসব করছো কেন?’—এই কথাটা বহুবার শুনেছি। কিন্তু আমি জানতাম, দক্ষতা আর আগ্রহের কাছে লিঙ্গ কখনোই বাধা হতে পারে না।”

করোনা মহামারির সময়, যখন সবাই ঘরবন্দি, তখন মীম ইউটিউব দেখে দেখে তৈরি করেন রোবটিক্স প্রজেক্ট। নিজের জমানো টাকায় কেনেন Arduino কিট ও নানা সেন্সর।
নিজের ঘরটিই হয়ে ওঠে ক্ষুদ্র ল্যাবরেটরি।
সেখানেই তৈরি করেন ফুড-সার্ভিং রোবট ‘কিবো’। বন্ধুরা বলত,
“‘এসব করে সময় আর টাকার অপচয় করছো।’ কিন্তু আমি এগুলো করতাম ভালোবেসে।”

এইচএসসি পাশের পর চারপাশে সবাই যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন মীম নিরবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য।
কারো কোনো গাইডলাইন ছিল না, ছিলো না কোনো বড় ভাইবোন বা সিনিয়র। ইউটিউব, ব্লগ, ওয়েবসাইট ঘেঁটে ঘেঁটে নিজেই শিখে ফেলেন -কীভাবে ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করতে হয়,কীভাবে স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SOP) লিখতে হয়,কীভাবে স্কলারশিপ পাওয়া যায়।

SAT এবং TOEFL-এর প্রস্তুতির জন্য রাত জেগে পড়াশোনা করতেন। নিজের খরচ চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক কোম্পানিতে পার্টটাইম অনলাইন চাকরি করতেন।
তবে রাত জাগা নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অনেক কথা শুনতে হয়েছে।
“অনেকেই বলত, বিদেশে পড়া আমাদের পরিবারের জন্য না। কেউ কেউ হাসতও। কিন্তু আমি জানতাম-ভালো স্কলারশিপ ছাড়া আমেরিকা যাওয়া সম্ভব না।”

এই পুরো পথচলায় একমাত্র শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন মিজানুর রহমান স্যার—যিনি শুধু স্কুলের শিক্ষকই ছিলেন না, বরং নিঃস্বার্থভাবে মীমকে SAT পরীক্ষার জন্য গাইড করেছিলেন।
“স্যার ছিলেন ছায়ার মতো। তাঁর মতো মানুষ না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না।”

অবশেষে দিনের পর দিন রাত জেগে কষ্ট করার ফল আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে অ্যাডমিশন ও স্কলারশিপ অফার। কিন্তু তার মধ্য থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অফার আসে Hendrix College থেকে—Hays Memorial Scholarship, যা পুরোপুরি টিউশন, থাকা-খাওয়াসহ সব খরচ কভার করে।

আজ মীম প্রস্তুত তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের জন্য। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক ছোট্ট বাড়ি থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার আসনে।

 

ইতিহাস গড়লেন কুমিল্লার প্রথম নারী ওসি নাজনীন সুলতানা

কুমিল্লা জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্ব পেলেন। লাকসাম থানার বর্তমান ওসি নাজনীন সুলতানা গড়েছেন এই অনন্য ইতিহাস।

১৭টি উপজেলা ও ১৮টি থানার কুমিল্লা জেলায় আগে কখনো কোনো নারী ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর নাজনীন সুলতানা লাকসাম থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বদলে যায় এই দীর্ঘদিনের চিত্র।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা নাজনীন সুলতানা চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বাংলা ভাষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। এছাড়া তিনি এলএলবিও সম্পন্ন করেছেন। ২০০৭ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন এবং কর্মজীবন শুরু হয় ফেনী জেলা থেকে। ২০১৬ সালে তিনি পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার দক্ষতার প্রমাণ দেন।

লাকসাম থানার ৪০তম ওসি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নাজনীন সুলতানা শুধু প্রথম নারী ওসি নন, বরং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবেও ইতোমধ্যে প্রশংসিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে পেয়েছেন ইতিবাচক সাড়া।

তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের প্রতি নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করছি। মানুষ থানায় আসলে আমি মন দিয়ে তাদের কথা শুনি, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই। এখানকার মানুষ আমাকে খুব সহযোগিতা করছেন।”

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, “মাঠপর্যায়ে আমি বহু ওসির সঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু নাজনীন সুলতানা সবচেয়ে পেশাদার ও মানবিক ওসি বলেই মনে হয়েছে।”

নারীর ক্ষমতায়নে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কুমিল্লার নারীনেত্রী দিলনাশি মোহসেন বলেন, “আরও থানায় নারী ওসি নিয়োগ দিতে হবে। সেইসঙ্গে নারী কর্মকর্তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।”

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, নাজনীন সুলতানা তার দক্ষতার প্রমাণ ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। সামনে আরও কয়েকটি থানায় নারী কর্মকর্তাকে ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

মহাকাশে নারীর পদচিহ্ন: হর্স হেড নেবুলার আবিষ্কারক উইলিয়ামিনা ফ্লেমিং

উইলিয়ামিনা প্যাটন ফ্লেমিং-একজন নারী যিনি পরিচারিকা থেকে হয়ে উঠেছিলেন মহাকাশবিজ্ঞানী। ১৮৫৭ সালের ১৫ মে, স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী কেবল নিজের জীবন বদলাননি, বদলে দিয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানে নারীর অংশগ্রহণের ধারণাকেও।

জীবনের এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং এক অধ্যাপকের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। কিন্তু তাঁর সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে সেই অধ্যাপক উইলিয়ামিনা ফ্লেমিংকে হার্ভার্ড কলেজ অবজারভেটরিতে কাজের সুযোগ করে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার অনন্য যাত্রা।

তিনি তারার বর্ণালির শ্রেণিবিন্যাসের একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা সে সময়কার অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় ছিল অনেক উন্নত। পরবর্তী কালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁর এই পদ্ধতির ভিত্তিতেই আরও উন্নত গবেষণা চালিয়ে যান।

উইলিয়ামিনা ছিলেন একাধারে আবিষ্কারক ও পথপ্রদর্শক। তাঁর অর্জনের তালিকায় আছে-
১০টি নতুন নোভা (উজ্জ্বল বিস্ফোরণ তারকা),৫২টি নতুন নেবুলা (মহাকাশের ধূলিকণা ও গ্যাসের মেঘ),
৩১০টি নতুন পরিবর্তনশীল তারা।

তবে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় আবিষ্কার হলো—হর্স হেড নেবুলা। এই বিস্ময়কর নেবুলাটি দেখতে ঠিক ঘোড়ার মাথার মতো, যা তাঁকে বিশ্ববিজ্ঞানে অমর করে রেখেছে।

উইলিয়ামিনার প্রবন্ধ ‘A Field for Women’s Work in Astronomy’-তে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—নারীদের বিজ্ঞান গবেষণায় আরও সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

১৯০৬ সালে তিনি সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটিতে যুক্ত হন—প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে।

৫৪ বছর বয়সে ১৯১১ সালের ২১ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর কাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি বিজ্ঞানপ্রেমীর মনে আলো জ্বালায়।

 

প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে অগ্রণী নারীরা

প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। জাতিসংঘ ১৯৭২ সালে এই দিবসের ঘোষণা দেয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে এটি বিশ্বব্যাপী পালন শুরু হয়। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়াই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় এ দিবসটি। ২০২5 সালের প্রতিপাদ্য- #BeatPlasticPollution, অর্থাৎ ‘প্লাস্টিক দূষণ রোধ করুন’।

প্লাস্টিক দূষণ আজ বৈশ্বিক সংকট। প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়, যার একটি বিশাল অংশ গিয়ে পড়ে আমাদের নদী, সমুদ্র এবং জমিতে। কিন্তু এই দূষণের বিরুদ্ধে যাঁরা নীরবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বড় একটি অংশ হলেন নারী। আজ তুলে ধরছি এমন কিছু সাহসী নারীর কথা, যাঁরা তাঁদের নিজ নিজ অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসাতু সিসে, গাম্বিয়া: রিসাইক্লিংয়ের রানী
আফ্রিকার গাম্বিয়ায় ১৯৯৭ সালে ইসাতু সিসে চারজন নারীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন Recycle Centre of N’jau। তাঁরা প্লাস্টিক ব্যাগ সংগ্রহ করে তা ধুয়ে, কেটে সুতো বানান ও সেখান থেকে তৈরি করেন ব্যাগ, পার্স, ম্যাট ইত্যাদি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীরা যেমন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি প্লাস্টিক বর্জ্যও রূপ নিচ্ছে পরিবেশবান্ধব পণ্যে। ইসাতুর এই উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তাঁকে এনে দিয়েছে “Queen of Recycling” উপাধি।

ক্রিস্টাল অ্যামব্রোস, বাহামাস: সাগর রক্ষার সংগ্রামী
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ক্রিস্টাল অ্যামব্রোস ২০১৩ সালে ‘Plastics Camp’ কর্মসূচি চালু করে সমুদ্র তীর থেকে ৫ হাজার পাউন্ডের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৮ সালে তিনি একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন, যার ভিত্তিতে ২০২০ সালে বাহামাস সরকার সেইসব প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

শিলশিলা আচার্য, নেপাল: পাহাড় বাঁচানোর দূত
Avni Center for Sustainability প্রতিষ্ঠা করে নেপালের শিলশিলা আচার্য স্কুল, হোটেল ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। তিনি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করছেন।

লরনা রুট্টো, কেনিয়া: প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে নির্মাণসামগ্রী
কেনিয়ার উদ্ভাবক লরনা রুট্টো তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা EcoPost এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করে তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী। এতে যেমন বর্জ্য কমছে, তেমনি কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।

এমিলি পেন, যুক্তরাজ্য: সমুদ্র প্লাস্টিক গবেষণার নায়িকা
Emily Penn ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Exxpedition, যা নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রম। এ অভিযানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক শতাধিক নারী অংশ নেন। তিনি একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্লাস্টিক দূষণ বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথে যেতে পারে।

সেল ক্লিভ, যুক্তরাষ্ট্র: সচেতনতার সৈনিক
Sea Hugger নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে Sel Cleave সাধারণ মানুষকে সমুদ্র পরিচ্ছন্নতায় সম্পৃক্ত করছেন। তাঁর উদ্যোগে আমেরিকার উপকূলবর্তী বহু এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহার কমেছে এবং পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহ বেড়েছে।

এই নারীরা প্রমাণ করেছেন-উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সচেতনতা থাকলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। তাঁরা শুধু নিজেরাই কাজ করছেন না, অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী করছেন, নেতৃত্বে আনছেন। তাঁদের সাফল্য আমাদের শেখায়, ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

 

নারী শিল্পীদের জন্য বিশ্বের প্রথম জাদুঘর

আপনি কি জানেন, শিল্প জগতের ইতিহাসে এক সময় নারীদের অবদান প্রায় অদৃশ্য ছিল? আর সেই অনুচ্চারিত কণ্ঠস্বরকে জায়গা করে দিতে এক নারী গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের প্রথম নারী শিল্পীদের নিবেদিত জাদুঘর—যুক্তরাষ্ট্রের National Museum of Women in the Arts।

২০০০ সালের পর সংস্কারের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া এই জাদুঘর আবার নতুনভাবে ফিরে আসে ২০২৩ সালে, এক চমৎকার প্রদর্শনীর মাধ্যমে—”The Sky’s the Limit”। এই শিরোনামের প্রদর্শনীটি চলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৩ জন নারী শিল্পীর ইনস্টলেশন আর্ট ও ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়।

এই জাদুঘরের পেছনে যার স্বপ্ন, সংগ্রাম ও শ্রম—তিনি Wilhelmina Cole Holladay। সত্তরের দশকে স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন জাদুঘর ভ্রমণের সময় তিনি বুঝতে পারেন, নারী শিল্পীদের শিল্পকর্ম সেখানে প্রায় অনুপস্থিত। ভিয়েনায় এক নারী শিল্পী Clara Peeters-এর একটি ছবি দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে-নারী শিল্পীরা কোথায়?

সেই প্রশ্নই তাকে নিয়ে আসে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে। ১৯৮০ সালের মধ্যে তিনি সংগ্রহ করেন প্রায় ৫০০টি শিল্পকর্ম, তৈরি করেন নারী শিল্পীদের জীবনী, ফটোগ্রাফ ও ক্যাটালগের বিশাল আর্কাইভ। এই সংগ্রহশালাকে জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য তিনি সংগ্রহ করেন ২০ মিলিয়ন ডলার, এবং অবশেষে ১৯৮৭ সালের ৭ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী Barbara Bush উদ্বোধন করেন এই অসাধারণ জাদুঘর।

আজ এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ১ হাজার নারী শিল্পীর ৫,৫০০-এর বেশি শিল্পকর্ম। ৫০ জন কর্মী ও ২১ দেশের দাতা সংস্থার সহায়তায় জাদুঘরটি নারী শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে কাজ করে চলেছে।

এই জাদুঘর শুধু শিল্প সংরক্ষণের জায়গা নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ, এক সমতা প্রতিষ্ঠার চিত্রশালা।

 

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বায়োটিন:যেসব খাবারে পাবেন এই উপাদান

চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি অন্যতম কারণ। এর মধ্যে বায়োটিন (Biotin) হলো এমন একটি ভিটামিন যা চুল, ত্বক এবং নখের সুস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ভিটামিন বি-৭ নামেও পরিচিত, যা শরীরের চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে এবং কেরাটিন উৎপাদন বাড়িয়ে চুলকে করে তোলে মজবুত ও স্বাস্থ্যবান।

নিচে বায়োটিন সমৃদ্ধ কিছু খাবার এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:

যেসব খাবারে বায়োটিন পাওয়া যায়:
১. ডিমের কুসুম – সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎসগুলোর একটি। তবে কাঁচা না খেয়ে সিদ্ধ খাওয়া উত্তম।
২. বাদাম ও বীজ – যেমন: বাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি।
৩. সোয়াবিন ও ডালজাতীয় খাবার – উদ্ভিজ্জ উৎস হিসেবে ভালো।
৪. মিষ্টি আলু – অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োটিন সমৃদ্ধ।
৫. কলা ও অ্যাভোকাডো – সহজলভ্য ফল যা হেয়ার কেয়ার-এ কার্যকর।
৬. মাছ (বিশেষ করে স্যামন ও টুনা) – ওমেগা-৩ এর পাশাপাশি বায়োটিন সরবরাহ করে।
৭. দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য – যেমন: দই, ছানা ইত্যাদি।

চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় টিপস:

১. সুষম খাদ্যগ্রহণ নিশ্চিত করুন – শুধু বায়োটিন নয়, আয়রন, জিংক, প্রোটিন ও ওমেগা-৩-ও চুলের জন্য জরুরি।
২. অতিরিক্ত হিট এড়ান – হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের অতিরিক্ত ব্যবহারে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. জলীয় পদার্থের গ্রহণ বাড়ান – শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখলে টক্সিন বের হয় ও চুল সতেজ থাকে।
৪. চুলের পরিচর্যায় কেমিক্যালমুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন – সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত পণ্য বেছে নিন।
৫. হেয়ার মাস্ক ও তেল ম্যাসাজ করুন নিয়মিত – নারিকেল বা আমন্ড অয়েল বায়োটিন সংরক্ষণে সাহায্য করে।
৬. প্রয়োজনে ডাক্তারি পরামর্শে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন – তবে তা অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শে।

বায়োটিন চুলের জন্য একটি গোপন জাদুর মতো কাজ করলেও এটি একা যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যবান চুলের জন্য প্রয়োজন ভেতর থেকে পুষ্টি, বাইরে থেকে পরিচর্যা এবং নিয়মিত অভ্যাসের পরিবর্তন।

 

রোমেনা আফাজ: বাংলা সাহিত্যের এক সাহসিনী কিংবদন্তি

বাংলা সাহিত্যে যখন নারী লেখকদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা, তখনই একজন নারী কলম ধরেছিলেন অপরাধ ও অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি লেখার সাহস দেখিয়ে। তিনি হলেন রোমেনা আফাজ—‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের স্রষ্টা। ষাট ও সত্তরের দশকে যাঁদের ‘আউট বই’ পড়ার অভ্যাস ছিল, তাঁদের শৈশবে রোমাঞ্চ জুগিয়েছেন এই লেখিকা। অথচ সেই লেখিকা আজ প্রায় বিস্মৃত।

রোমেনা আফাজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম কাজেম উদ্দিন ও মায়ের নাম আছিয়া খাতুন। বাবা ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতা শহরের একজন পুলিশ পরিদর্শক। সেই পেশাগত জীবনের গল্প শুনে ছোটবেলা থেকেই রোমেনার মধ্যে অপরাধ ও থ্রিলারের প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘বাংলার চাষী’ নামে একটি ছড়া প্রকাশিত হয় কলকাতার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘মোহাম্মদী’তে। এটিই ছিল তাঁর ছাপা হওয়া প্রথম লেখা।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে রোমেনা বিয়ে করেন বগুড়ার ফুলকোর্ট গ্রামের চিকিৎসক আফাজ উল্লাহকে। বিয়ের পর তাঁর নাম হয় রোমেনা আফাজ—যে নামে তিনি পরিচিত হন সারাজীবন।

পরবর্তীতে ১৯৬০ সালের দিকে তাঁরা বসবাস শুরু করেন বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায়, যেখানে রোমেনা আফাজের সাহিত্যিক জীবনের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে।

লেখালেখিতে তাঁর পেশাদার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। সেই বছর ‘সাহিত্য কুঠির’ নামের এক স্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বই—‘রক্তে আঁকা ম্যাপ’। এটি ছিল একটি নারী চরিত্রকেন্দ্রিক অ্যাডভেঞ্চার লসিরিজ ‘দস্যুরানী’-এর সূচনা।

এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি শুরু করেন তাঁর বিখ্যাত ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজ। এই সিরিজের বই সংখ্যা ১৩৮টি, যা একক নারীনামধারী লেখকের পক্ষে এক বিরল কীর্তি।

যেখানে কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ ছিল সাহসী গোয়েন্দা, সেখানে রোমেনা আফাজের ‘দস্যু বনহুর’ ছিল সাহসী, চৌকস এক ডাকাত, যার দস্যুবৃত্তির আড়ালে ছিল ন্যায়বোধ ও রোমাঞ্চ। তাঁর লেখা সহজ ভাষায়, টানটান উত্তেজনাময় প্লটে ভরপুর—যা সাধারণ পাঠকদের কাছে ছিল সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয়।

রোমেনা আফাজের উপন্যাসের কাহিনি কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর লেখা অবলম্বনে ছয়টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

রোমেনা আফাজ ছিলেন কাজেম-আছিয়া দম্পতির বড় সন্তান।
তিনি সাত পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জননী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সন্তানের মৃত্যু ঘটে আগেই। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের কেউ বগুড়ায়, কেউ প্রবাসে বসবাস করছেন। ছোট ছেলে মন্তেজার রহমান আঞ্জু বর্তমানে বগুড়া শহরে থাকেন।

নাতনি উম্মে ফাতেমা লিসার উদ্যোগে জলেশ্বরীতলার বাড়িকে ‘রোমেনা আফাজ স্মৃতিঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা স্থানান্তরিত হয় শহরের আলতাফুনেছা খেলার মাঠসংলগ্ন একটি ক্লাবে।

সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রোমেনা আফাজ জীবদ্দশায় পেয়েছেন ২৭টি পুরস্কার ও সম্মাননা এবং মৃত্যুর পরে ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কারে’ ভূষিত করে—যা দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা।

বগুড়া পৌরসভা তাঁর সম্মানে তাঁর বাড়ির সামনের সড়কটির নামকরণ করে ‘রোমেনা আফাজ সড়ক’ হিসেবে।

২০০৩ সালের ১২ জুন, ৭৭ বছর বয়সে বগুড়ার জলেশ্বরীতলার নিজ বাসভবনে রোমেনা আফাজ মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর সেই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে আছে—যেন এক সময় সাহিত্যে ঝড় তোলা এক নারীচরিত্র আজ নিঃশব্দে বিশ্রামে।

রোমেনা আফাজ ছিলেন সাহিত্যে নারীর সাহসী পথচলার প্রতীক। একাই লিখে গেছেন দুই শতাধিক বই—উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, সিরিজ—সব মিলিয়ে তাঁর সাহিত্যভাণ্ডার বিস্ময়কর।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন, থ্রিলার বা অ্যাডভেঞ্চার শুধু পুরুষ লেখকদের ক্ষেত্র নয়-নারীর কলমও পারে পাঠককে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় বেঁধে রাখতে।

আজ যখন সাহিত্যজগতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়, তখন রোমেনা আফাজকে স্মরণ করা আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অলিখিত রাণী—যাঁর সৃষ্ট দস্যু বনহুর, আজও পাঠকের মনে চিরজাগরুক।

 

১১৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান এমআই৬-এ, দায়িত্ব নিচ্ছেন ব্লেইস মেট্রেওয়েইলি

যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স-৬ (এমআই৬)-এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান পদে একজন নারী নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এমআই৬-এর বর্তমান প্রধান রিচার্ড মুর-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন ব্লেইস মেট্রেওয়েইলি।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ব্লেইস মেট্রেওয়েইলি ১৯৯৯ সাল থেকে ব্রিটিশ সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস-এ কর্মরত। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। পেশাগত জীবনের বড় একটি অংশ তিনি কাটিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে। এর আগে তিনি এমআই৫-এর পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর নিয়োগকে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “যখন জাতীয় নিরাপত্তার কাজ স্মরণকালের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তখন এমন নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী।”

ব্লেইস মেট্রেওয়েইলি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০২৪ সালের ‘কিংস ওভারসিস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অনারস লিস্ট’-এ তাঁকে যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক নীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সিএমজি (কম্প্যানিয়ন অব দ্য অর্ডার অব সেইন্ট মাইকেল অ্যান্ড সেইন্ট জর্জ) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২০২১ সালে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে (তখন তিনি ছিলেন এমআই৫-এর পরিচালক) তিনি বলেছিলেন,“যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিগুলো এখন বহুস্তরবিশিষ্ট।
রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, এমনকি নাগরিকদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে।”

তিনি আরও বলেন “রাশিয়া নয়, বরং রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তৎপরতাই বড় হুমকি। আর চীন এমনভাবে বৈশ্বিক কাঠামো পাল্টে দিচ্ছে, যা যুক্তরাজ্যের জন্য একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনা আনছে, তেমনি তৈরি করছে বড় ঝুঁকিও।”

প্রসঙ্গত, এমআই৬ মূলত যুক্তরাজ্যের বাইরের দেশগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়। সংস্থাটির প্রধানকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘সি (C)’ নামে ডাকা হয়। ব্লেইস মেট্রেওয়েইলি হবেন সংস্থার ১৮তম প্রধান এবং প্রথম নারী ‘সি’।

 

এক আসবাবেই বহু কাজ, জায়গা ও খরচ বাঁচানোর জাদু!

শহুরে জীবনে জায়গার সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বুদ্ধিমানের মতো বাসা গোছানো এখন একরকম আর্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছোট ফ্ল্যাট, সীমিত বাজেট আর নিত্যদিনের ব্যবহারে সহজ-সরল সমাধান খুঁজতে গিয়ে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন মাল্টিপারপাস ফার্নিচার, অর্থাৎ বহুমুখী আসবাব। এক আসবাবেই যখন দুই -তিনটি কাজ হয়ে যায়, তখন আলাদা আলাদা ফার্নিচার কেনার দরকার পড়ে না-এটাই এক চরম লাইফ হ্যাক!

একটা সোফা যদি খাট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, বা একটি টেবিল যদি পড়ার টেবিল আর খাবার টেবিল দুটোই হয়, তাহলে আপনি অর্ধেক জায়গায় পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন।
বিশেষ করে ৮০০–১০০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটে থাকা ব্যাচেলর, নতুন দম্পতি কিংবা ছোট পরিবারগুলোর জন্য এটি এক দারুণ সল্যুশন।

বাংলাদেশে এখন হাতিল, আকতার, পারটেক্স, ইশো, অটবি, নাভানা সহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড এই ধরনের আসবাব তৈরি করছে। যেমন, হাতিলের স্টোরেজ সোফা—বসে গল্পও হবে, আবার ভেতরে রাখা যাবে কম্বল বা বই। এমনকি বাচ্চাদের পড়ার টেবিল থেকেও রাতের বেড হয়ে যাচ্ছে এক ক্লিকে! আর নন–ব্র্যান্ডেড দোকানগুলো থেকেও অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নেওয়া যায় পছন্দমতো আসবাব।

মূলত ইউরোপীয় ডিজাইনের ছোঁয়ায় তৈরি এসব আসবাব দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি হালকা ও সহজে সরানো যায়। ডিজাইনগুলো মিনিমাল, কিন্তু ব্যবহারভিত্তিক—একটা তাক, আবার সেটাই বিছানা। অথবা ড্রেসিং টেবিল, যার নিচে স্টোরেজ বক্স!

মূল্য? ১০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ পর্যন্ত, তবে ইএমআই সুবিধায় ৩–১২ মাসের কিস্তিতে সহজেই কেনা যায়, বাড়তি চার্জ ছাড়াই। একটু বেশি দামের হলেও, কাজের দিক থেকে এটি পুরোটাই স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট।

যারা নতুন বাসা নিচ্ছেন বা পুরোনো বাসা নতুনভাবে গোছাতে চাইছেন-বহুমুখী আসবাব হতে পারে আপনার পরবর্তী স্মার্ট সিদ্ধান্ত। জায়গা কম, কিন্তু ফাংশনালিটি চাই? এই লাইফস্টাইল হ্যাক আপনার জন্যই!

 

একজন নারীর সত্যিকারের সৌন্দর্য: আত্মার ১০টি অনন্য গুণ

সৌন্দর্য মানে শুধু বাহ্যিক রূপ নয় বরং একজন নারীর আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, ও হৃদয়ের উষ্ণতায়ই তাঁর প্রকৃত সৌন্দর্য প্রতিফলিত হয়। চলুন জেনে নিই এমন দশটি গুণাবলি যা একজন নারীর আত্মিক সৌন্দর্যকে অনন্য করে তোলে।

১. মমত্ববোধ ও সহানুভূতির প্রকাশ
তিনি শুধু দুঃখ দেখা পর্যন্ত থেমে থাকেন না, যতটুকু পারেন ততটুকু সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তাঁর মমত্ববোধ নিঃস্বার্থ ও আন্তরিক।

২. আশাবাদী মনোভাব
জীবনের কঠিন সময়েও তিনি আশার আলো খুঁজে নেন এবং অন্যদের সেই আলো দেখাতেও চেষ্টা করেন।

৩. অকৃত্রিমতা ও আত্ম-গ্রহণযোগ্যতা
তিনি যেমন, তেমনভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

৪. জীবের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতা
মানুষ, প্রাণী, প্রকৃতি—সবকিছুর প্রতিই থাকে তাঁর শ্রদ্ধা। তিনি বিশ্বাস করেন, সৃষ্টির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া মানে মানবিক হওয়া।

৫. গভীর সহানুভূতি ও হৃদয়ের সংযোগ
তিনি কেবল অনুভব করেন না, অন্যের ব্যথা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। এই সহানুভূতিই তাঁকে করে তোলে এক শক্তিশালী মানবিক ব্যক্তিত্ব।

৬. নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
তাঁর ভালোবাসা হয় শর্তহীন। পরিবার, বন্ধু, সমাজ—সব জায়গায় তিনি ভালোবাসার রূপ ছড়িয়ে দেন। নিজের প্রতিও থাকে এক গভীর সম্মান ও স্নেহ।

৭. সাহস ও দৃঢ়চেতা মনোভাব
ভয়ের উপস্থিতিতেই তিনি সাহস খুঁজে নেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে জানেন।

৮. কৃতজ্ঞতাপূর্ণ মন
তিনি জীবনের প্রতিটি আশীর্বাদের জন্য কৃতজ্ঞ থাকেন—ছোট বিষয়েও খুঁজে নেন প্রশান্তির উপলক্ষ।

৯. অন্তর্দৃষ্টি ও আত্মিক শান্তি
বাহ্যিক সাফল্য নয়, তিনি অভ্যন্তরীণ প্রশান্তিতেই তৃপ্ত। বর্তমানে বাঁচেন, জীবনের রূপ-রস উপভোগ করেন সম্পূর্ণভাবে।

১০. অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা
তিনি নিজে শুধু ভালো থাকেন না, বরং অন্যদেরও জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেন। তাঁর কর্ম, কথা এবং উপস্থিতিই হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস।

এই গুণাবলিগুলো কাউকে নিখুঁত করে না, বরং একজন নারীর মানবিক ও আত্মিক সৌন্দর্যকে আলোকিত করে তোলে। এমন নারীরা সমাজে নীরবে আলো ছড়িয়ে দেন—নিজের মতো করে, নিজের বিশ্বাসে।

রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের ভাষায়, “সৌন্দর্য মুখে নয়, হৃদয়ের আলোয়।”
আমাদের চারপাশে এমন হৃদয়ের আলোকিত মানুষ হোক প্রতিদিনের প্রেরণা।

 

গাজার পথে গ্রেটা থুনবার্গের সাহসী অভিযান

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের দামামা বেজে চলেছে, তখন কেউ কেউ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও দাঁড়াচ্ছেন মানবতার পক্ষে। তাদেরই একজন হলেন সুইডিশ মানবাধিকার ও পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। জলবায়ু আন্দোলনের কিশোরী কণ্ঠ থেকে যুদ্ধবিরোধী সাহসী প্রতিবাদী হিসেবে তার বিবর্তন বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।

২০২৫ সালের ৯ জুন, ‘ম্যাডলিন’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজ গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য, ওষুধ, স্যানিটারি সামগ্রীসহ মানবিক সহায়তা বহন করছিল জাহাজটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রমের সময় ইসরায়েলি বাহিনী এটি জবরদখল করে। জাহাজে থাকা ১৩ জন মানবাধিকার কর্মীর মধ্যে ছিলেন গ্রেটা থুনবার্গও। অপহরণের ঠিক আগে গ্রেটা একটি ভিডিও বার্তায় বিশ্ববাসীকে জানান, “আমাদের আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের অপহরণ করেছে।”

জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছিল গাজার প্রথম নারী মৎস্যজীবী ম্যাডলিন কুল্লাবের নামে। আশা ছিল, এ জাহাজ একদিন মানবিক বার্তা নিয়ে গাজার উপকূলে পৌঁছাবে। কিন্তু যুদ্ধ সেই আশা স্তব্ধ করে দেয়।

গ্রেটা থুনবার্গ মাত্র ১৫ বছর বয়সে ২০১৮ সালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেন এবং সুইডিশ সংসদ ভবনের সামনে ‘জলবায়ুর জন্য স্কুল ধর্মঘট’ শুরু করেন। তার আন্দোলনে পরে দশ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসেন তিনি।

২০১৯ সালে কার্বনমুক্ত নৌযান করে ইংল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে যান। সেখানে বিশ্বনেতাদের প্রশ্ন করেন: “মানুষ মারা যাচ্ছে, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে, আমরা গণবিলুপ্তির মুখে—তোমাদের সাহস কীভাবে হয়?”

তার স্পষ্টভাষী প্রতিবাদ বিশ্বনেতাদের অনেকেরই বিরাগভাজন করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে “রাগী কিশোরী” বলেও কটাক্ষ করেন। জলবায়ু, মানবাধিকার এবং যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে গ্রেটাকে বারবার হুমকি ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এমনকি জেলও খাটতে হয়েছে।

বর্তমানে গ্রেটা রাশিয়া, ইসরায়েল, আজারবাইজান ও মরক্কোর যুদ্ধনীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সক্রিয়। ইউক্রেন, ফিলিস্তিন ও আর্মেনিয়ার মতো যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলে তার ভূমিকা শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং সরাসরি মানবিক সহায়তায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমেও স্পষ্ট।

গ্রেটার পরিবেশসচেতন জীবনধারাও প্রশংসনীয়। তিনি উড়োজাহাজে যাত্রা এড়িয়ে চলেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-এ তার বিমানযাত্রার ছবি প্রকাশ করে বিতর্ক তোলে।

২০০৩ সালে জন্ম নেওয়া গ্রেটার মা অপেরা শিল্পী মালেনা এরম্যান এবং বাবা অভিনেতা সভান্তে থুনবার্গ। TEDx-এ গ্রেটা বলেন, “আমি আট বছর বয়সে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা জানতে পারি, কিন্তু বুঝতে পারিনি কেন কেউ কিছু করছে না।”

তার লেখা দুটি বই—Scenes from the Heart (২০১৮) এবং No One is Too Small to Make a Difference (২০১৯)—বিশ্বজুড়ে আলোচিত। দ্বিতীয় বইয়ের বিক্রিত অর্থ তিনি মানবতার কাজে ব্যয় করবেন বলেও জানান।

গ্রেটার কণ্ঠ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-বিশ্বে ন্যায়, মানবতা ও পরিবেশের পক্ষে দাঁড়ানোর এখনই সময়। যুদ্ধ, নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তার মতো মানুষ যতদিন থাকবেন, ততদিন পৃথিবীর সৌন্দর্য বেঁচে থাকবে।

Photo Credit: BBC Bangla

Loading

 

শোনো, বন্ধু হও! প্যারেন্টিং মানে আদেশ নয়, সহযাত্রা

বাসায় ফিরে এসে যখন দরজায় আপনার ছোট্ট সন্তান ছুটে আসে, কিংবা বৃদ্ধ মা-বাবা এক কাপ চায়ের অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকেন—তখন আপনি কি ভাবেন? আপনি কি শুধু নির্দেশ দেন, নাকি একটু নরম সুরে, সহমর্মিতায় কথা বলেন? পরিবার মানে শুধু কর্তৃত্ব নয়, পরিবার মানে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বোঝাপড়ার সম্পর্ক, যেখানে সবাই একে অপরের বন্ধু।

অনেকেই মনে করি, সন্তান জন্ম দিলেই আমরা “ভালো” বাবা-মা হয়ে যাই। কিন্তু সন্তানের জন্য সত্যিকারের ভালো পিতামাতা হয়ে ওঠা আলাদা ব্যাপার। এটা দায়িত্ব, ধৈর্য ও দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়।

❝আমার সন্তান আমার স্বপ্ন নয়, সে নিজের স্বপ্ন নিয়ে জন্ম নিয়েছে❞
প্যারেন্ট হিসেবে, আমি আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারি না। আমি তাকে শুধু দেখাতে পারি ভালোটা কী, মন্দটা কী। আমি পার্থক্য চিনতে শেখাতে পারি যাতে সে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কিন্তু আমাদের সমাজে কী ঘটে? ছেলেমেয়েদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বাবা-মার ইচ্ছার গদি। তারা যদি আকাশে উড়তে চায়, আমরা তাদের পাখা কেটে দেই। যদি তারা সমুদ্রে ভাসতে চায়, আমরা বলি—না, তোমাকে শুধু ডাক্তার হতে হবে। জাহাজের নাবিক হওয়া মানেই জীবন নষ্ট।

এই যে চাপ, এই ডমিনেশন—আমি এর ঘোর বিরোধী। আমরা কখনো তাদের জিজ্ঞেস করি না, “তুমি কী হতে চাও?” “তোমার স্বপ্ন কী?” বরং আমরা নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো তাদের উপর চাপিয়ে দিই। এটা কি পিতামাতার দায়িত্ব? নাকি এক ধরণের মানসিক আগ্রাসন?

শুধু নম্বর নয়, জীবনটাও গুরুত্বপূর্ণ
আমরা সন্তানদের এমনভাবে লালন পালন করি, যেনো তারা আমাদের কর্মচারী। পরীক্ষায় ভালো নাম্বার আনতে বলি, মানে আনতেই হবে। পাশের বাসার মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার, সুতরাং আমার মেয়েকেও হতে হবে। কিন্তু পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে কি আমরা কখনো জানতে চেয়েছি—সে আসলে কী হতে চায়?
সে কি উড়তে চায়, না ডুবতে চায়? তার চোখের স্বপ্নগুলো কি আমরা সত্যিই দেখি?

আমরা এই জটিল প্রতিযোগিতামূলক সমাজে আমাদের সন্তানদের এমন একটা দৌড়ে নামিয়ে দিচ্ছি, যেখানে তারা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। এক সময় দেখা যায়—চাপ নিতে না পেরে একটা শিশু আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। তখন আমরা কেবল বলি—“ও খুব দুর্বল ছিলো।” আসলে, আমরা কি তার পাশে ছিলাম?

🌱 বন্ধু হোন, বোঝার চেষ্টা করুন
একজন আদর্শ অভিভাবক মানে “বন্ধু” হওয়া। তার সাথে হাঁটা, তার স্বপ্ন শুনা, ভুল করলে ভালোবেসে শেখানো। একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া—কীভাবে সে ভালো মানুষ হতে পারে। তাকে এমন পরিবেশ দেওয়া, যেখানে সে ভয় নয়, ভালোবাসা নিয়ে বড় হতে পারে।

আমার সন্তান, আপনার সন্তান, আমাদের বাবা, আমাদের মা—প্রতিটা জীবনই মূল্যবান। ইনডিভিজুয়াল জীবন মানেই আলাদা এক জগৎ। চলুন না, প্রতিটা জীবনের প্রতি সম্মান রাখি।

📌 সন্তান কোন ‘প্রজেক্ট’ নয়-সে একজন মানুষ
সন্তান আমাদের “প্রজেক্ট” না যে ঠিক করে দেওয়া যাবে কোথায় পৌঁছাবে। সে একজন স্বতন্ত্র মানুষ। তারও অনুভূতি আছে, চিন্তা আছে, স্বপ্ন আছে। তাকে বোঝা, তাকে ভালোবাসা, তাকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেওয়াটাই পিতামাতার দায়িত্ব।

শুধু বলবেন না, “আমি তোমার জন্য সব করেছি।” বরং এমন কিছু করুন যাতে সে নিজে বলতে পারে, “আমার মা-বাবা আমার জন্য একটা বেঁচে থাকার জায়গা ছিলেন।”

Photo Credit: Sahlah

 

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে করণীয় ও বর্জনীয়

শিশুদের শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক বিকাশে সচেতনতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছর হলো শিশুর মস্তিষ্ক গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়টাতেই স্মৃতিশক্তি প্রভাবিত হওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়। তাই অভিভাবক হিসেবে কিছু কাজ নিয়মিত করলে শিশুর মনে রাখার ক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে।

করণীয়
১. খেলাধুলার মাধ্যমে শেখানো:
শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে খেলাধুলা ও গেম-ভিত্তিক শেখানো কার্যকর। মেমোরি গেম, ধাঁধা, শব্দজট, চিত্রপরিচিতি—এসব খেলার মাধ্যমে শিশুর শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং শেখা বেশি সময় ধরে মনে থাকে।

২. কল্পনা করার অভ্যাস গড়ানো:
শিশুকে গল্প শোনানোর পর বলা যেতে পারে, “এবার চোখ বন্ধ করে ভাবো, তুমি কী দেখলে?”—এভাবে কল্পনাকে সক্রিয় করলে স্মৃতিও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৩. শেখা বিষয় অন্যকে শেখাতে উৎসাহ:
যে জিনিসটা সে শিখেছে, তা যদি কাউকে (যেমন ছোট ভাই/বোন, দাদি-নানি) শেখাতে পারে, তাহলে বিষয়টি তার মনে আরও ভালোভাবে গেঁথে যায়। এতে তার আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

৪. ভেঙে ভেঙে শেখানো:
বড় কোনো তথ্য বা অধ্যায়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে শেখালে শিশুর পক্ষে তা সহজে মনে রাখা সম্ভব হয়। প্রতিটি ধাপকে বোঝার সুযোগ দিলে তার ধারণা আরও পরিপক্ব হয়।

৫. হাইলাইট এবং রঙের ব্যবহার:
শিশুদের জন্য পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বা বাক্য রঙিন কলম দিয়ে হাইলাইট করে দেওয়া যেতে পারে। শিশুরা রঙের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, যা তার মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. দৈনন্দিন রুটিনে শেখার সময়:
শিশুর জন্য একটি নির্দিষ্ট পড়ার ও শেখার সময় নির্ধারণ করলে সে অভ্যাস গড়ে তুলতে শেখে। শেখার সময়টা যেন চাপমুক্ত ও আনন্দদায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গল্প বলার অভ্যাস গড়ে তোলা:
ঘুমানোর আগে গল্প বলা শিশুর কল্পনাশক্তি ও শব্দভাণ্ডার বাড়ায়। পাশাপাশি, গল্পের ধারাবাহিকতা মনে রাখার চেষ্টা করাও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

৮. শরীরচর্চা ও খেলাধুলা:
দৌড়, লাফঝাঁপ, বল খেলা, সাইকেল চালানো—এসব শারীরিক কসরত শিশুর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, মানসিক চাপ কমায় এবং শেখার আগ্রহ বাড়ায়।

৯. পুষ্টিকর খাদ্য:
শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন ডিম, মাছ, দুধ, বাদাম, তাজা ফল, সবজি এবং যথাসম্ভব প্রাকৃতিক খাবার। চকলেট, সফট ড্রিংকস বা ফাস্টফুড কমিয়ে দিলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

১০. পর্যাপ্ত ঘুম:
বয়স অনুযায়ী শিশুকে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে দিতে হবে। গভীর ঘুমই তার মস্তিষ্ককে পুনরায় সজীব করে এবং শেখা মজবুত করে।

১১. আবেগিক নিরাপত্তা:
শিশু যেন তার ভুল বলার ভয়ে ভীত না থাকে বা প্রশ্ন করতে সংকোচ না করে, সেজন্য তাকে সহানুভূতির সঙ্গে বড় করতে হবে। এতে শেখার আগ্রহ বাড়ে।

১২. নিয়মিত বইপড়া:
কমিক বই, ছবি সহ গল্পের বই বা ইসলামিক শিশুতোষ বই পড়ার অভ্যাস গড়লে সে শব্দ চিনতে শেখে, ভাষা রপ্ত করে এবং কল্পনা শক্তি বাড়ায়—যা সবকিছু মিলিয়ে স্মৃতিকে জোরদার করে।

বর্জনীয়
শিশুকে অতিরিক্ত পড়ার চাপ দেওয়া যাবে না। এতে শেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়।

তার প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হওয়া বা উত্তর না দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এতে সে ভবিষ্যতে জিজ্ঞেস করতে ভয় পায়।

“অমুকের মতো হতে হবে” বলে তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন। এতে শিশুর আত্মসম্মানবোধ নষ্ট হয়।

প্রতিযোগিতা বা পরীক্ষার চাপে না রেখে শেখার আনন্দটা উপভোগ করতে দিন।

টিভি, মোবাইল, ট্যাব—এসব ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুর মনোযোগ ও স্মৃতির বড় ক্ষতি করে।

বড়দের ঝগড়া বা চিৎকার শিশুর মানসিক স্থিতি নষ্ট করে; তাই ঘরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ
যদি উপরের সব কৌশল অনুসরণ করেও শিশুর মধ্যে স্মরণশক্তি, মনোযোগ বা আচরণগত সমস্যা লক্ষ করা যায়, তাহলে শিশুবিশেষজ্ঞ বা মনোবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কখনো কখনো সমস্যার পেছনে শারীরিক বা নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল কারণও থাকতে পারে।

এই পরামর্শগুলো শুধু শিশুদের মেধা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তাদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথও তৈরি করে।

 

এক ডিমে শুরু,এক মহীয়সীর মসজিদ নির্মাণ ইতিহাস

বাংলাদেশের হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো স্থাপত্যশিল্প। এই ভূখণ্ডের নয়নাভিরাম মসজিদগুলো যুগে যুগে বিমোহিত করেছে অগণিত দর্শনার্থী আর ইতিহাসপ্রেমী মানুষকে। তবে এমন একটি মসজিদের কথা কি শুনেছেন, যার গোড়াপত্তন হয়েছিল মাত্র একটি ডিম দিয়ে?
হ্যাঁ, হবিগঞ্জ জেলার এক নিভৃত পল্লী প্রজাতপুরে দাঁড়িয়ে আছে এমনই এক মসজিদ—যার পেছনে লুকিয়ে আছে এক মহীয়সী নারীর অতুলনীয় ত্যাগ, ধৈর্য ও একাগ্রতা।

সরাসরি গল্পে আসা যাক। হবিগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরের এই প্রজাতপুর গ্রামের এক নারী, যিনি ‘বেঙ্গির মা’ নামে পরিচিত, নিয়ত করেছিলেন নিজের উপার্জিত অর্থেই গড়ে তুলবেন একটি মসজিদ। স্বামীর অঢেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি সে অর্থ স্পর্শ করেননি।

ঘটনা ১৯০২ সালের। প্রজাতপুর ও লালাপুর গ্রামের মাঝামাঝি একটি স্থানে এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। শুরুটা ছিল একটি মাত্র ডিম দিয়ে! সেই ডিম মানত করে একটি মুরগির নিচে রাখেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই ডিম থেকে ছানা, ছানা থেকে ডিম—এভাবে একসময় একটি মুরগির খামার গড়ে তোলেন বেঙ্গির মা।
খামারের মুরগি বিক্রি করে জমাতে থাকেন টাকা। এক সময়, নিজ চেষ্টায় এক লাখ টাকা জোগাড় করেন এবং তা দিয়েই নির্মাণ করেন মসজিদ। তিনি প্রথমে এর নাম রাখেন ‘এক আন্ডার মসজিদ’। সময়ের সাথে মসজিদটির আসল নাম হয়ে ওঠে—‘বেঙ্গির মায়ের মসজিদ’।

আজও শতবর্ষ পেরিয়ে সেই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। মসজিদের মূল ভবন এখনো অক্ষত রয়েছে, যদিও ২০০৯ সালে এলাকাবাসী এর বর্ধিত অংশ সংস্কার করেন এবং সম্প্রতি আবার রং করা হয়।
মসজিদের খতিব মাওলানা আলমাছ উদ্দিন বলেন, “আমি মসজিদের ইতিহাস শুনে বিস্মিত। নিয়ত থাকলে মানুষ কী না করতে পারে!”

বেঙ্গির মার উত্তরপুরুষ রাকিল হোসেন বলেন, “আমার দাদির দাদি বেঙ্গির মা শুধুমাত্র একটি ডিম থেকেই যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা এখনো আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে আছেন বেঙ্গির মার বংশধর রূপ উদ্দিন, লন্ডনপ্রবাসী আবদুল হারিছ, ব্যবসায়ী হেলিম উদ্দিন, রাকিল হোসেন ও শামীনুর মিয়া।
এলাকাবাসীর দাবি, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়া হোক সরকারের পক্ষ থেকে।

এক ডিম থেকে শুরু হয়ে গড়ে ওঠা এই মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, আত্মনিবেদনের এক চিরন্তন স্মারক।

 

৩৫ থেকে ৩৯ বয়সী নারীদের মধ্যে এইচপিভি সংক্রমণ সর্বাধিক

সম্প্রতি ‘ইলেকট্রনিক ডাটা ট্রাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচআর-এইচপিভি) সংক্রমণের হার অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা স্পষ্ট,৩৫-৩৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।

সিলেট অঞ্চলে এই হার সবচেয়ে বেশি (৬.৪%), যেখানে গ্রামীণ এলাকায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.১ শতাংশে। সবচেয়ে কম সংক্রমণ পাওয়া গেছে রাজশাহীতে (১.৭%)। গবেষণার আওতায় থাকা ৩,৮৫৬ জন নারীর মধ্যে মোট ১৩৮ জন এইচপিভি পজিটিভ ছিলেন, অর্থাৎ গড় হার ৩.৬%।

উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠি, কক্সবাজার ও বাগেরহাটে পরিচালিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়, বিবাহিত নারীদের মধ্যে সংক্রমণের গড় হার ২.৫৬% হলেও ঝালকাঠিতে তা ছিল ৩%। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ভাইরাস ধরন ছিল এইচপিভি-১৬, যা ক্যানসার সৃষ্টির ক্ষেত্রে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ।

স্ক্রিনিং পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, ভায়া + এইচপিভি পরীক্ষার সমন্বিত পদ্ধতি একক পরীক্ষার তুলনায় রোগ শনাক্তকরণে বেশি কার্যকর। এ গবেষণায় ৪,৭৯২ জন নারী অংশ নেন এবং ফলাফল অনুযায়ী, যৌথ পদ্ধতিতে পজিটিভ পাওয়া যায় ৫.৯% নারীর, যেখানে শুধুমাত্র এইচপিভি স্ক্রিনিংয়ে তা ছিল ৩.৭%।

জাতীয় পর্যায়ের গবেষণায় ৩০-৬০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত আরেক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এইচআর-এইচপিভি সংক্রমণের হার ছিল ৩.২%। এর মধ্যে ১% ছিলেন এইচপিভি-১৬ পজিটিভ এবং ০.২% ছিলেন এইচপিভি-১৮ পজিটিভ।

এছাড়াও, ডিএইচআইএস২ ভিত্তিক ই-হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম (ই-এইচআইএস) ব্যবহারের মাধ্যমে স্ক্রিনিং ও ট্র্যাকিং কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ১৪,২১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক এই সিস্টেম ব্যবহার করছে। যদিও ইন্টারনেট সংযোগ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা আগামীতে আরও কার্যকর স্ক্রিনিং কার্যক্রম গড়ে তুলতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যেমন:
উপকূলীয় ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্ক্রিনিং জোরদার

৩৫-৪৪ বছর বয়সী নারীদের অগ্রাধিকার

জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ই-স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তকরণ

ল্যাব ও হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্টের ডিজিটাল সংযুক্তি

ভায়া ও এইচপিভি’র যৌথ ট্রাইএজ পদ্ধতি নিশ্চিতকরণ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এই স্ক্রিনিং কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিল এবং ভবিষ্যতে নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট গঠনের পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের এই ধরণের উদ্যোগ নারীস্বাস্থ্য সচেতনতা, ক্যানসার প্রতিরোধ ও দ্রুত রোগ শনাক্তকরণে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

📌পাঠকদের জন্য পরামর্শ:
৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর সকল নারীর উচিত নিয়মিত এইচপিভি ও জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

 

মন্থর জীবনের আহ্বান: ক্লান্ত পুঁজিবাদের যুগে ‘কিছু না করা’র বিপ্লব

ধীরে চলা, বিশ্রামের জন্য সময় বের করা: এ কি শুধু বিলাসিতা, নাকি এক জরুরি প্রয়োজন?

আজকের ব্যস্ত, প্রযুক্তি-নির্ভর জীবনে, যেখানে মানুষ প্রতিদিন ‘আরো করো’ সংস্কৃতির শিকার, সেখানে ‘কিছু না করা’ হয়ে উঠছে এক নিঃশব্দ প্রতিবাদ! এক নতুন জীবনদর্শন!

একটি বছর শুধু বিশ্রামে কাটানো, কেমন শোনায়?
নেই অফিস, নেই ইমেইল, নেই ক্যারিয়ারের দৌড়ঝাঁপ-শুধু নিজেকে সময় দেওয়া।
এক সময় এটা ছিল “ব্যর্থতা”র প্রতিচ্ছবি, কিন্তু আজ তা হয়ে উঠেছে আত্মউপলব্ধির পথ। এই ধরণের ধীর জীবনচর্চা এখন পুঁজিবাদী ব্যস্ততার বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লবের রূপ নিচ্ছে।

ব্রিটিশ লেখিকা এমা গ্যানন একসময় ক্যারিয়ার-ভিত্তিক ‘গার্লবস’ কালচারের প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক চরম বার্নআউট তাঁর জীবন পাল্টে দেয়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, স্ক্রিনের দিকে তাকাতেও কষ্ট হতো, হাঁটতে গেলেও ক্লান্তি ছাপিয়ে যেত। এই অবস্থায় তিনি এক বছর কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরতি নেন।

এই অভিজ্ঞতাই জন্ম দেয় তাঁর আত্মজীবনীমূলক দুই খণ্ডের বই “A Year of Nothing”। বইটিতে তিনি বলেছেন কীভাবে দিনগুলো কাটিয়েছেন পাখি দেখা, শিশুদের কার্টুন দেখা, জার্নাল লেখা আর ঠান্ডা পানিতে সাঁতার কাটার মতো সহজ কিন্তু শান্তিপূর্ণ অভ্যাসে। তাঁর মতে, “ঘুম, আকাশ দেখা, হাঁটাহাঁটি -এগুলো বিলাসিতা নয়, বরং আমাদের মানসিক সুস্থতার অপরিহার্য অংশ।”

‘কাজই যদি জীবনের মানদণ্ড হয়’ – এই বিশ্বাসে ধাক্কা
আজকের সমাজে ‘ব্যস্ততা’কে সাফল্যের মাপকাঠি ধরা হয়। কিন্তু এই ধারণার বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে নতুন প্রজন্ম। অনেক লেখক-চিন্তক এখন বলছেন, বিশ্রামও এক ধরনের হতে পারে অগ্রগতির চালিকাশক্তি।

জেনি ওডেলের “How To Do Nothing” বইটি দেখিয়েছে, কীভাবে প্রযুক্তি আমাদের মনোযোগ চুরি করছে, এবং ‘কিছু না করাও’ এক রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে।

অলিভার বার্কম্যানের “Four Thousand Weeks” মনে করিয়ে দেয়, আমাদের জীবনের সময় সীমিত, তাই তা যেন আমরা ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে না ফেলি।

“নিকসেন” নামে এক ডাচ ধারণা বলছে – ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু না করাটাই নিজেকে সময় দেওয়ার একটি পদ্ধতি।

অক্টাভিয়া রাহিম তাঁর বই “Pause, Rest, Be”–তে যোগব্যায়ামের মাধ্যমে নিজের সঙ্গে সংযোগ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ক্লডিয়া হ্যামন্ডের “The Art of Rest” বইয়ে দেখা যায় গবেষণালব্ধ প্রমাণ – বিশ্রাম আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কতটা জরুরি।

এই ‘মন্থরতার’ ঢেউ কোথা থেকে এলো?
এক কথায়- আমরা ক্লান্ত,খুব বেশি ক্লান্ত।
নিত্যদিনের কাজের চাপে, সোশ্যাল মিডিয়ার অপূর্ণতার প্রতিযোগিতায়, স্ক্রিনে আটকে থাকা জীবনে আমরা হাঁপিয়ে উঠেছি। কোভিড-প্যান্ডেমিক অনেককে প্রথমবারের মতো বাধ্য করেছে থামতে, নিজেকে সময় দিতে। সেখান থেকেই অনেকেই বুঝেছেন-ধীরে চলা মানে পিছিয়ে পড়া নয়।

তবে, ‘কিছু না করা’ কি সবার জন্য সম্ভব?
সমালোচকেরা বলেন, এই “বিশ্রামের জীবন” মূলত সেইসব মানুষের জন্য, যাদের আর্থিক সুরক্ষা আছে। সবকিছু ছেড়ে শুধু নিজের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ কি সবার আছে?

এই প্রশ্ন থেকেই স্পষ্ট হয় – ধীরে চলার পথও এক ধরনের প্রিভিলেজ। কিন্তু তাই বলে এই বার্তা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না। বরং এটি মনে করিয়ে দেয় – যতটা সম্ভব, আমাদেরও দরকার কিছুটা থেমে যাওয়া, কিছুটা বিশ্রাম, কিছুটা নিজের খেয়াল রাখা।

‘কিছু না করা’ এখন আর অলসতার প্রতীক নয়। বরং এটি হয়ে উঠছে এক সচেতন সিদ্ধান্ত -প্রযুক্তি, ব্যস্ততা, আর অকারণ চাপের বিরুদ্ধে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।
বই পড়া, গাছপালায় পানি দেওয়া, কিছু সময় নীরবে বসে থাকা-এসব আজকের দুনিয়ায় এক ধরনের বিপ্লব।

ক্লান্ত এই সময়ে, আপনি কি প্রস্তুত একটু থামতে!

 

ঈদের ভোজের পর পেট ভার? দূর করুন সহজ উপায়ে!

কুরবানির ঈদ মানেই মাংসের বাহার -রোস্ট, কাবাব, কোরমা কিংবা বিরিয়ানি! কিন্তু এতসব মজাদার খাবারের পর অনেক সময় পেট ভার, গ্যাস্ট্রিক কিংবা অস্বস্তি দেখা দেয়। মূলত ফাইবারজাতীয় খাবার কম খাওয়া ও অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত মাংস হজমে সমস্যা তৈরি করে। তাই খাওয়ার আনন্দ ঠিক রেখে, পেট সুস্থ রাখার জন্য মেনে চলুন এই সহজ ৫টি উপায়:

১.পর্যাপ্ত পানি পান করুন (তবে সময়মতো)
খাওয়ার সময় একসাথে বেশি পানি পান না করে, খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে পানি পান করুন। এতে হজমপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় না, বরং খাবার ভালোভাবে ভাঙতে সহায়তা করে। ঈদের ব্যস্ততায় পানি পানের কথা একদম ভুলে যাবেন না।

২.এক বাটি টক দই খান
মাংসজাতীয় খাবার খাওয়ার পর এক বাটি টক দই পেটের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা প্রো-বায়োটিক উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজমে সহায়তা করে। ফলে পেট ভার ভাব অনেকটাই কমে আসে।

৩. আদা-লেবুর মিশ্রণ
আদা কুচি, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও হালকা গরম পানি মিশিয়ে খেলে হজমে সহায়তা হয় এবং পেটের অস্বস্তি দূর হয়। চাইলে আদা দিয়ে হালকা চা তৈরি করে খেতেও পারেন। এটি পেটের গ্যাস দূর করতে বেশ কার্যকর।

৪. হাঁটা বা হালকা চলাফেরা করুন
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া উচিত নয়। অন্তত ১৫–২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজম ভালো হয়, খাবার পাকস্থলীতে জমে থাকে না এবং পেট ফাঁপা কিংবা ভার ভাব কমে।

৫. পুদিনাপাতা বা জিরা পানি পান করুন
ঈদের মসলাদার খাবার খাওয়ার পরে এক গ্লাস পুদিনা পাতা বা জিরা ভেজানো হালকা গরম পানি পান করলে হজমে আরাম মেলে। এগুলো প্রাকৃতিক হজম সহায়ক এবং পেট ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে।

ঈদের আনন্দের সঙ্গে যেন হজমের অস্বস্তি না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এই সহজ ৫টি স্বাস্থ্য টিপস মেনে চললে কুরবানির ঈদের মজাদার খাবারের আনন্দ নষ্ট না করেই পেটকে রাখা যাবে সুস্থ ও হালকা।

ঈদ মোবারক! 🌙🍖

 

মাতৃত্ব হোক নিরাপদ, অধিকার হোক সুরক্ষিত

 

‘মা’ এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে বিশাল এক পৃথিবী। মা শুধু একটি সম্পর্ক নয়, ভালোবাসা, মমতা, ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের অপর নাম। একজন নারীর জীবনে মাতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। আর এই মাতৃত্বকাল যেন নিরাপদ হয়, সে দায়িত্ব সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র-সবার।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ২১ কোটি নারী গর্ভধারণ করেন। তাদের মধ্যে দুই কোটির বেশি নানা ধরনের জটিলতায় ভোগেন, এবং প্রায় ৮০ লাখ নারীর জীবন প্রসবজনিত কারণে হুমকির মুখে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৮০০ নারী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। এর বাইরেও ৭০ লাখ নারী প্রসব পরবর্তী গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং আরও প্রায় ৫ কোটির বেশি নারী ভোগেন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায়।

বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার নারী গর্ভধারণ ও সংশ্লিষ্ট কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি লাখ জীবিত সন্তানের জন্মে ১২৩ জন মায়ের মৃত্যু হয়। আর প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন মা প্রাণ হারান প্রসবজনিত জটিলতায়।

দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোর চিত্র আরও করুণ—প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী এখনও বাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন, যেখানে নিরাপদ ও মান-সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি দুর্লভ। এছাড়া নবজাতকের মৃত্যুহারও উদ্বেগজনক—প্রতি এক হাজার নবজাতকের মধ্যে ২১ জন মারা যাচ্ছে।

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে নাইরোবিতে প্রথম বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবছর ২৮ মে ‘জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো—
মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস,

নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা,

গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ,

নারীর মাতৃত্বকালীন অধিকার প্রতিষ্ঠা।

২০২৫ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: “মাতৃস্বাস্থ্যে সমতা; বাদ যাবেনা কোনো মা”। এটি একটি সময়োপযোগী বার্তা, যা সকল শ্রেণি-পেশার নারীদের জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

মাতৃত্বকালীন সংকটের কারণসমূহ
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে দেশে কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে:

দক্ষ মিডওয়াইফ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীর অভাব

জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি

প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের অভাব ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বেড়ে চলা

গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদানের প্রতি উদাসীনতা

দরিদ্রতা ও পুষ্টিহীনতা

কর্মজীবী নারীদের উপর গর্ভকালেও কঠিন শ্রমের চাপ

পরিবার ও সমাজের অসচেতনতা

বর্তমানে দেশে প্রায় ২২ হাজার প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ প্রয়োজন, অথচ রয়েছেন মাত্র এক হাজারের মতো। ফলে নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে করণীয়
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

✅ গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
✅ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
✅ প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধ গ্রহণ
✅ ভারী কাজ ও মানসিক চাপ থেকে বিরত থাকা
✅ গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ
✅ দক্ষ মিডওয়াইফ ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব
✅ প্রসব-পরবর্তী পর্যাপ্ত সেবা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা

সঙ্গে থাকতে হবে পরিবার ও সমাজের সহানুভূতি, সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।

মাতৃত্বকালীন সময়ে নিরাপত্তা নারীর অধিকার—এটি যেন বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। নিরাপদ মাতৃত্ব কেবল একজন মায়ের জীবন নয়, একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করে। তাই ‘মাতৃত্ব হোক নিরাপদ, অধিকার হোক সুরক্ষিত’—এই শ্লোগান হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার একত্রিত হয়ে যদি সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এ নামিয়ে আনা সম্ভব।

আমরা চাই, প্রতিটি মা যেন তার মাতৃত্বকালীন সময়টি কাটাতে পারেন সম্মান, সেবা ও নিরাপত্তার সঙ্গে।

 

ঢাকা মেডিকেলে নিকাবধারীদের জন্য আলাদা নারী শিক্ষক

 

দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজেও পরীক্ষার সময় নিকাব পরিহিত ছাত্রীদের চেহারা শনাক্তের জন্য আলাদা নারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট)-এও একই রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, “নিকাব পরিহিত ছাত্রীদের পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে আলাদা নারী শিক্ষক নিয়োগ একটি যৌক্তিক, শালীন ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল ব্যবস্থা। এটি নারীদের ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রসঙ্গত, নিকাব পরিহিত অনেক ছাত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রে চেহারা শনাক্তের সময় নানা ধরনের বিড়ম্বনা বা হেনস্তার মুখে পড়েন। অথচ আলাদা নারী শিক্ষক থাকলে সেই প্রক্রিয়া সম্মানজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হয়, যা পরীক্ষার্থীর জন্য মানসিক প্রশান্তি এবং শিক্ষা জীবনের স্বাভাবিকতাকে বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আশা প্রকাশ করে যে, দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই উদ্যোগকে অনুসরণ করে পর্দানশীন নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

 

আরাফাহ দিবসের গুরুত্ব-ফজিলত, জানুন কেন দিনটি এত মর্যাদাপূর্ণ!

 

ইসলামের মহিমান্বিত দিনগুলোর মধ্যে যিলহজ্জের ৯ তারিখ, অর্থাৎ আরাফাহ দিবস অন্যতম। এটি শুধুমাত্র হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকনই নয়, বরং এই দিনকে ঘিরে রয়েছে অগণিত বরকত, ফজিলত ও রহমত। এই দিনে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, দো‘আ কবুল করেন এবং অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আসুন জেনে নিই, কেন আরাফাহ দিবস এত গুরুত্ববহ এবং আমাদের কী করণীয়।

🕋 আরাফাহ দিবস : মর্যাদা ও ফজিলত
🔹 ১. ইসলামের পূর্ণতা লাভের দিন

এই দিনে কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত নাজিল হয়:

> “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থা হিসাবে মনোনীত করলাম।”
📖 [সূরা মায়েদা: ৩]

এ আয়াতটি আরাফাহ দিবসে, শুক্রবার, হজ্জের সময় নাজিল হয়েছিল। এক ইহুদি বলেছিল, “এমন আয়াত আমাদের উপর নাজিল হলে আমরা তা ঈদের দিন হিসেবে পালন করতাম।” খলীফা উমর (রাঃ) জবাবে বলেন, “আমরা জানি এটি কবে, কোথায় এবং কী অবস্থায় নাজিল হয়েছে।”
📚 বুখারী: ৪৫, ৪৬০৬

🔹 ২. এটি ঈদের দিনের অন্তর্ভুক্ত

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

> “আরাফাহ দিবস, কুরবানির দিন এবং তাশরীক-এর দিনগুলো মুসলিমদের ঈদের দিন। এগুলো খাওয়া ও পান করার দিন।”
📚 আবু দাঊদ: ২৪১৯

আরাফাহ দিবসের ফজিলত
🟢 ১. দু’বছরের গুনাহ মাফ হয়

আরাফাহ দিবসে রোযা রাখা অ-হাজীদের জন্য সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

> “আমি আশা করি এই দিনের রোযা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।”
📚 মুসলিম: ১১৬৩

তবে হাজীরা এদিন রোযা রাখেন না, বরং আরাফাতে অবস্থান করে দো‘আ, যিকর ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেন।

🟢 ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তির সবচেয়ে বড় দিন

> “আল্লাহ তাআলা আরাফার দিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তিনি ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, ‘দেখো, আমার বান্দারা ধুলায় ধূসরিত হয়ে এসেছে, তারা কী চায়?’”
📚 মুসলিম: ১৩৪৮, ইবনু মাজাহ: ৮১

🟢 ৩. দো‘আ কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

> “সবচেয়ে উত্তম দো‘আ হল আরাফাহ দিবসের দো‘আ। আর আমি ও আগের নবীরা যেটা বলেছি তা হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ”
📚 তিরমিযী: ২৮৩৭

এই যিকর বারবার বলা, আল্লাহর প্রশংসা করা ও নিজের জন্য এবং উম্মাহর জন্য দো‘আ করা এই দিনে অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ।

আমাদের করণীয়
🔸 যারা হজ্জ করছেন না, তারা এদিন রোযা পালন করবেন।
🔸 যিকর-আযকার বেশি বেশি করবেন।
🔸 তওবা ও ইস্তিগফার করবেন।
🔸 দো‘আ ও কান্নাকাটি করে আল্লাহর রহমত চাইবেন।

আরাফাহ দিবস শুধু হজ্জ পালনকারীদের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য এটি এক অপার ফযীলতের দিন। আসুন আমরা এই দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে, যথাযথ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।

 

কুরবানির ইতিহাস ও গুরুত্ব

ইসলামে কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয় বরং আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ। কুরবানি ঈদুল আজহার মূল ভিত্তি, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা নিয়ে আসে।

কুরবানির ইতিহাস
কোরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদায় হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে:
“তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের কাহিনী যথাযথভাবে শুনাও, যখন তারা উভয়ে কুরবানি করেছিল। তাদের একজনের কুরবানি কবুল হল এবং অন্যজনেরটা কবুল হল না। সে বলল- অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব।
অপরজন বলল -আল্লাহ শুধু মুত্তাকীদের কাছ থেকেই কবুল করেন।” (সূরা মায়েদা: ২৭)

পরবর্তী সময়ে কুরবানির চূড়ান্ত রূপ ও তাৎপর্য প্রকাশ পায় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনে। আল্লাহ তাকে আদেশ করেন স্বপ্নে পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি করতে।
“অতঃপর যখন সে (ইসমাইল) পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন সে বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি। এখন তুমি চিন্তা করো, তোমার মত কী? সে বলল, হে পিতা! আপনি যা আদেশ পাচ্ছেন তাই করুন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের একজন পাবেন।” (সূরা ছাফফাত: ১০২)
“আর আমি তার পরিবর্তে একটি মহান কোরবানি দান করলাম।” (সূরা ছাফফাত: ১০৭)

কুরবানির শরয়ী গুরুত্ব
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি একটি ওয়াজিব ইবাদত। ঈদুল আজহার দিনগুলোতে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য এটি আদায় করা অপরিহার্য। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” (মুসনাদে আহমাদ)

কোরআনে আল্লাহ বলেন,
“তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কুরবানি করো।” (সূরা কাউসার: ২)
এই নির্দেশ থেকে বোঝা যায়, কুরবানি নিছক একটি সামাজিক উৎসব নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে এটি আজও বহাল আছে। হাদিসে এসেছে, “এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।” (ইবনে মাজাহ)

কুরবানির ফজিলত
রাসুল (সা.) বলেন:
“আল্লাহর কাছে কুরবানির দিন মানবজাতির কোনো আমলই কুরবানির চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। পশুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। তাই তোমরা খুশিমনে কুরবানি করো।” (তিরমিজি)

যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বর্ণনা করেন, সাহাবারা জিজ্ঞেস করেন, “হে আল্লাহর রাসুল! কুরবানি কী?” তিনি বলেন, “এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।” সাহাবারা আবার জিজ্ঞেস করেন, “এতে আমাদের কী পুরস্কার আছে?” তিনি বলেন, “প্রতিটি পশমের জন্য একটি করে নেকি।” (মিশকাত)

তাকওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক:
আল্লাহ বলেন,
“তাদের গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ: ৩৭)
আরও বলেন,
“বল, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবকিছুই বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (সূরা আন’আম: ১৬২)

এই ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুমিন তার আত্মাকে খাঁটি করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ভালোবাসার বস্তু ত্যাগ করে এবং জীবনের প্রতি মোহ কমিয়ে তাকওয়ার পথে অগ্রসর হয়। এটি কেবল পশু জবাই নয়, বরং আত্মিক পশুত্ব জবাইয়ের এক প্রকৃত ইবাদত।

কুরবানির সামাজিক প্রভাব
কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সামাজিক প্রভাব। কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে বণ্টন করার মাধ্যমে সমাজে সহানুভূতি, সাম্য ও ঐক্যের চর্চা হয়। ধনী ও গরিবের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে কিছু মানুষ কুরবানিকে কেবল সামাজিক রেওয়াজ, স্ট্যাটাস দেখানো বা পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে দেখে। কিন্তু ইসলাম কুরবানিকে ত্যাগ, সহানুভূতি ও তাকওয়ার উৎসব হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে গরিবের মুখে হাসি ফোটে, ধনী-গরিবের মাঝে বন্ধন সৃষ্টি হয় এবং মুসলিম সমাজে সাম্যবোধ জাগ্রত হয়।

কুরবানির শর্ত ও মাসআলা
১. কুরবানি শুধুমাত্র ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত করতে হবে।
২. যে ব্যক্তির কাছে কুরবানির তিনদিনে (১০-১২ জিলহজ) যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।
৩. পশু হতে হবে নির্ধারিত বয়সের: গরু ও মহিষ দুই বছর, ছাগল ও ভেড়া এক বছর।
৪. কুরবানির পশু যেন দৃষ্টিগোচর ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ হয়।
৫. কুরবানি নিজ হাতে করা উত্তম, না পারলে উপস্থিত থেকে অন্যের মাধ্যমে করানো।
৬. কুরবানির গোশত গরিব, আত্মীয় ও নিজের মধ্যে বণ্টন করা সুন্নত।
৭. যে ব্যক্তি কুরবানির নিয়ত করবে সে যেন কুরবানির আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নখ,চুল বা শরীরের পশম না কাটে

কুরবানি একটি বহুমাত্রিক ইবাদত, যার ভেতর আছে ইতিহাস, শিক্ষা, আত্মিক শুদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ। এটি পালন করতে হবে বিশুদ্ধ নিয়তে, শরিয়তের নির্দেশনা মেনে। বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং অন্তরের খাঁটি ইমান ও তাকওয়ার সঙ্গে কুরবানি করলে তবেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে।

আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যথাযথভাবে কুরবানি আদায় করি, তাকওয়ায় পরিপূর্ণ জীবন গঠন করি, এবং আমাদের পরিবার, সমাজ ও উম্মাহকে কুরবানির মাধ্যমে ঐক্য ও সহানুভূতির পথে পরিচালিত করি।

আরওয়াহ আনাম

 

কোরবানির ঈদে ঝামেলা কমাতে আগেই সংরক্ষণ করুন সবধরনের মসলা

কোরবানির ঈদ মানেই ঘরে ঘরে মাংসের নানা পদ রান্না। আর এইসব সুস্বাদু রান্নার আসল রহস্য লুকিয়ে থাকে সঠিক মসলা ব্যবহারে। তবে সময় বাঁচাতে ও রান্নার ঝামেলা কমাতে মসলা আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা অত্যন্ত কার্যকর। মসলা যদি ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে তার গন্ধ, স্বাদ ও কার্যকারিতা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অটুট থাকে। তাই রান্নাঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো কীভাবে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়, তা জানা জরুরি।

শুকনা মসলা সংরক্ষণ
১. বাতাসরোধী কাঁচের বোতলে রাখুন।
শুকনা মরিচ গুঁড়া, ধনে, জিরা, গরম মসলা ইত্যাদি কাঁচের বা ফুড-গ্রেড প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষণ করুন।

➡️ টিপস: মসলা ব্যবহারের সময় চামচ অবশ্যই শুকনো রাখবেন।

২. শুকনা ও ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন।
রান্নাঘরের চুলার পাশে রাখবেন না। আলো ও গরমে মসলার ঘ্রাণ ও গুণ নষ্ট হয়।

৩. ফ্রিজে রাখা যায় কিছু মসলা।
গরমের সময় মরিচ গুঁড়া বা হলুদ গুঁড়া ফ্রিজের ড্রায়ার বক্সে রাখা যায়। এতে পোকামাকড় বা ঘাম জমে না।

🧄 বাটা মসলা সংরক্ষণের পদ্ধতি।
১. আদা-রসুন বাটা সংরক্ষণ
সম পরিমাণ আদা ও রসুন বেটে হালকা তেলে ভেজে নিন।

ঠাণ্ডা হলে কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন।

৭-১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।

২. মরিচ বাটা
কাঁচা মরিচ বেটে সামান্য লবণ দিয়ে ছোট কন্টেইনারে রাখুন।

আলাদা আলাদা ভাগে ফ্রিজে রাখলে প্রতিবার পুরোটা বের করতে হয় না।

৩. ফ্রিজিং (আইস কিউব ট্রিক)
আদা, রসুন, পেঁয়াজ বা কাঁচা মরিচ বেটে আইস কিউব ট্রেতে রেখে ফ্রিজে দিন।

জমে গেলে বের করে জিপলক ব্যাগে রেখে দিন।

ব্যবহারের সময় একটি কিউব বের করলেই হবে।

✅ সংরক্ষণের সময় কিছু অতিরিক্ত টিপস:

যেকোনো পাত্রে রাখার আগে অবশ্যই তা শুকনো ও পরিষ্কার রাখবেন।

বেশি সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে একটু তেল বা ভিনেগার মিশিয়ে নিলে ভালো থাকে।

ব্যাচ ধরে মসলা বানান, যেন পুরোনোটা শেষ না করে নতুনটা খোলা না হয়।

মসলা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। তাই মসলাগুলো যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা দরকার, যাতে সময়, পরিশ্রম ও খরচ—তিনটিই সাশ্রয় হয়। উপযুক্ত উপায়ে সংরক্ষিত মসলা আপনার রান্নাকে করে তুলবে আরও সুস্বাদু ও প্রাণবন্ত। আশাকরি এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে আপনি কুরবানির পরও দীর্ঘদিন মসলার আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।

 

ডা.তাসনিম জারা:নেতৃত্বের মঞ্চে নতুন মাত্রা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি ব্যতিক্রমধর্মী নাম বারবার আলোচনায় আসছে—ডা. তাসনিম জারা। চিকিৎসক, শিক্ষক, স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ও এখন একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তার উত্থান শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং অনুপ্রেরণাদায়কও।

ডা. তাসনিম জারার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে, যেখান থেকে তিনি MBBS ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার” বিষয়ে MSc ডিগ্রি অর্জন করেন ডিস্টিংকশনের মাধ্যমে। এরপর যুক্তরাজ্যের RCOG থেকে DRCOG ও Royal College of Physicians থেকে MRCP ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি Higher Education Academy UK-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো হিসেবেও স্বীকৃত।

বর্তমানে ডা. জারা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ম ও ৬ষ্ঠ বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়ান। এই বৈশ্বিক পর্যায়ের ক্যারিয়ারের মাঝেও তিনি বাংলা ভাষাভাষী জনগণের জন্য কনটেন্ট নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তার তৈরি স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিওগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি “সহায় হেলথ” নামে একটি প্ল্যাটফর্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা বাংলাভাষায় প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা তথ্য সহজভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। কোভিড-১৯ এর সময় তার সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি ২০২১ সালে ব্রিটিশ সরকারের ‘ভ্যাক্সিন লুমিনারি’ স্বীকৃতি লাভ করেন।

এই ব্যতিক্রমী মেধাবী মানুষটি এখন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সময় থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম সারিতে রয়েছেন।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি যখন নিজ দলেরই উত্তরাঞ্চলের এক নেতার বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, অনেকেই বিষয়টি হালকা ভাবে নিয়েছিলেন। কিন্তু এতে প্রকাশ পেয়েছে—ডা.জারা দলগত রাজনীতির ভেতর থেকেও জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার পক্ষে অবস্থান নিতে সাহস রাখেন। এমন অবস্থান সচরাচর দেখা যায় না।

অনেকেই বলে থাকেন, রাজনীতি সবার জন্য নয়। কিন্তু ডা. তাসনিম জারা যেভাবে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন, তা নিঃসন্দেহে এক নতুন ধারার সূচনা করছে।

একজন তরুণী, যিনি ইউকের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের বাইরে এসে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কাজ করছেন, তার প্রতি আমাদের সমর্থন থাকা উচিত। তাকে নিয়ে কুৎসা রটানো বা ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে তার কাজ ও উদ্দেশ্যকে মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।

আমরা আশা করি, ডা. তাসনিম জারার এই যাত্রা নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার পথেই চলবে। তিনি যেন হয়ে ওঠেন এক অনন্য উদাহরণ—যেখানে একজন নারী, একজন চিকিৎসক ও একজন শিক্ষকের সম্মিলিত রূপে দেশ ও জাতির জন্য কিছু করে যেতে পারেন।

#DrTasnimJara #বাংলাদেশের_নারী #রাজনীতিতে-নারী #WomenInLeadership #HealthcareToPolitics #womensupportingwomen #InspiringBangladeshi #OxbridgeToPolitics

 

ঢাবিতে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার আত্মপ্রকাশ: নারীদের অধিকার আদায়ে নতুন পদক্ষেপ

 

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা করেছে। ২০২৫ সালের ২৮ মে, সংগঠনটির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের কাছে এক স্মারকলিপি পেশ করেন, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।

স্মারকলিপিতে যেসব দাবিগুলো তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের সহজলভ্যতা

পর্যাপ্ত কমনরুম, নামাজরুম ও ওজুখানার ব্যবস্থা

মাতৃত্বকালীন সময়ে সহযোগিতা প্রদান

আবাসন সংকট নিরসন ও জরুরি প্রয়োজনে হলে প্রবেশাধিকার

যৌন হয়রানিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ

মেডিকেল সহায়তা এবং হলভিত্তিক ওষুধের প্রাপ্যতা

ঢাবি শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নতুন করে কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমরা শাখা পর্যায়ে কাঠামো গঠন করতে সক্ষম হয়েছি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছি। ইসলামী ছাত্রীসংস্থা অতীতেও নারীদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

ইসলামী মূল্যবোধ, নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা ও নারী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সংগঠনের এই নতুন যাত্রা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না—
আপনি কি মনে করেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামভিত্তিক সংগঠনগুলোর কার্যকর উপস্থিতি শিক্ষাঙ্গনে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে?

বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নারী শিক্ষার্থীরা কোন কোন সমস্যায় বেশি ভুগছেন বলে আপনি মনে করেন? সমাধানে কী কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত?

একটি ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্বে নারী শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরা কি সময়ের দাবি নয়? আপনি কি এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন?

আপনি কি মনে করেন, নামাজরুম, কমনরুম, মাতৃত্বকালীন সহায়তা ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা উচিত?

একজন সচেতন মুসলিম নাগরিক হিসেবে আপনি নারী নেতৃত্বে ইসলামী সংগঠনের এমন উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

 

দাসত্বের শিকল ছিঁড়ে যারা স্বপ্ন দেখে:ছোট্ট ইকবাল মাসীর গল্প

 

পৃথিবীতে কিছু গল্প থাকে, যেগুলো উপন্যাস নয়, সিনেমাও নয়—তবু সেগুলো বাস্তবতার এমন নির্মম অধ্যায় হয়ে ওঠে, যা পাঠক বা শ্রোতার মনজগত কাঁপিয়ে দেয়। তেমনই এক ছোট্ট বালকের নাম ইকবাল মাসী— বয়স ছিল মাত্র বারো, অথচ লক্ষ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখার মত সাহস বুকে নিয়ে যার বেড়ে উঠা।

ইকবালের জন্ম ১৯৮৩ সালে পাকিস্তানের লাহোরে। মা মারা যাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক টানাপড়েন চরমে ওঠে। তার বাবা মাত্র ৮০০ রুপি বা ৮ ডলারের বিনিময়ে মাত্র চার বা পাঁচ বছর বয়সেই ইকবালকে এক কার্পেট কারখানায় বিক্রি করে দেন। শুরু হয় দাসত্বের জীবন—দিনে ১৪-১৬ ঘণ্টা কাজ, হাতের ছোট আঙুল দিয়ে গাঁথতে হতো সূক্ষ্ম সুতো, পায়ে পড়তো শিকল যাতে পালাতে না পারে। খাবার অপ্রতুল, নিদ্রা সীমিত, স্বাস্থ্যহীনতা নিত্যসঙ্গী।

কিন্তু মানুষ শুধু মাংস আর হাড়ের কাঠামো নয়, মনের ভিতর একটি আশ্চর্য আলো থাকে। ১০ বছর বয়সে ইকবাল সেই আলোকে সঙ্গী করে পালিয়ে যায় বন্দিদশা থেকে। দুর্ভাগ্যবশত ধরা পড়ে আবারও বিক্রি হয়। এবার মূল্য ১০ ডলার, আর কাজ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি সপ্তাহে ১৪০ ঘণ্টা।

তবুও ইকবালের মনের আগুন নিভে যায় না। একদিন আবারও পালিয়ে যায়, সিনেমার মতই এক মানব-ময়লার নালার ভিতর দিয়ে। আশ্রয় নেয় একটি এতিমখানায়, সেখান থেকে একজন সদয় মানুষ, হাফেজ ইব্রাহিম, তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। অসাধারণ মেধাবী ইকবাল মাত্র দুই বছরে প্রাইমারি শিক্ষার পাঁচ বছরের পাঠ শেষ করে।

স্কুল জীবনেই সে যুক্ত হয় Bonded Labour Liberation Front (BLLF) নামের এক সংগঠনের সঙ্গে। এই সংগঠনের হয়ে ইকবাল নিজের কণ্ঠকে করে তোলে হাজার হাজার শিশুর কণ্ঠস্বর। বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে শিশুদের মুক্ত করার জন্য কাজ করে। তার নেতৃত্বে প্রায় ৩,০০০ শিশু শ্রমিক মুক্তি পায় দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে।

ইকবালের কণ্ঠ বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Reebok Human Rights Award তাকে সম্মানিত করে। সেখানে ইকবাল বলে “আমার স্বপ্ন হলো, বিশ্বের কোনো শিশু যেন আর দাসত্বে বন্দি না থাকে। কোনো শিশু যেন স্কুলের জায়গায় কারখানায় কাজ করতে বাধ্য না হয়।”

ইকবালের এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতো যেখানে শিশুরা বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাবে, কাঁটা-সুতোয় নয়। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে যখন তার আন্দোলন তুঙ্গে, যখন সে বোস্টন থেকে লাহোরে ফিরে আসে—১৯৯৫ সালের ১৬ এপ্রিল, দুর্বৃত্তদের গুলিতে চিরতরে থেমে যায় ইকবাল। মাত্র ১২ বছর বয়স,হ্যাঁ মাত্র ১২।

এই ছোট্ট কিশোরটি যদি বেঁচে থাকত, আজ তার বয়স চল্লিশ পেরিয়ে যেতো। হয়তো আরও ৪০ হাজার শিশু মুক্তি পেতো তার হাত ধরে। তার অকালমৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, একটি সম্ভাবনার মৃত্যু।

তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর প্রবর্তন করে “The Iqbal Masih Award for the Elimination of Child Labor”—যা প্রতিবছর শিশু শ্রম প্রতিরোধে অবদান রাখা সাহসী কর্মীদের দেওয়া হয়।

আজ যেখানে আমরা এক মিনিটের কাল্পনিক বিনোদন চিত্রে মেতে উঠি অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিনেমা,অথচ সবচেয়ে সাহসী স্ক্রিপ্ট জন্ম নেয় বাস্তবের বুক চিরে।
এই ছোট্ট নীরব হিরোর আত্মবলিদান যেন ভুলে না যাই।ইকবালের এই ত্যাগ বয়ে যাক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

 

গর্বিনী মা সম্মাননায় ভূষিত ১২ জন মা

 

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ‘গরবিনী মা ২০২৫’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন ১২ জন গর্বিনী মা। সন্তানদের গঠন ও সফলতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান করে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

রোববার (১১ মে) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি ছিল ‘গরবিনী মা’ সম্মাননার দশম বার্ষিক আয়োজন।
সম্মাননায় ভূষিত মায়েরা হলেন—
মনোয়ারা বেগম (নাসরীন আফরোজের মা), রেজীয়া বেগম (বিচারক রেজাউল করিমের মা), রেজিয়া খাতুন (তানজীমউদ্দিন খানের মা), আয়েশা আক্তার (হুসনে আরা শিখার মা), ফরিদা আফরোজা (কাজী নুসরাত এদীবের মা), রাজিয়া কাদের (সরদার এ নাঈমের মা), হাজেরা বেগম (প্রকৌশলী সাইফুল বারির মা), রাজিয়া খাতুন (মাহফুজুর রহমানের মা), লুৎফুন্নাহার লুৎফা (সংগীতশিল্পী কনার মা), লায়লা রহমান (অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর মা), কানিজ ফাতেমা (অভিনেতা আবদুন নূর সজলের মা) এবং শ্রীমতী শৈল বালা (বর্ষা রানীর মা)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি, সব মায়ের দোয়ায়। মা বেঁচে থাকলে আজকের এই অবস্থানে আমাকে দেখে গর্ব করতেন।”

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “প্রতিটি দিনই মা দিবস। নারীরা এখন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছেন।”
সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ বলেন, “আমার জীবনের সব অর্জনের পেছনে মায়ের ত্যাগ রয়েছে। খুব কম বয়সে মা আমাদের বড় করার দায়িত্ব নেন।”
বিচারক রেজাউল করিম অনুষ্ঠানে বলেন, “মায়ের পাশাপাশি বাবাদেরও সম্মানিত করা উচিত।”
তানজীমউদ্দিন খান মাকে “সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক” আখ্যায়িত করেন।
ছাত্রবৃত্তিপ্রাপ্ত বর্ষা রানী জানান, তাঁর মা সংসার চালাতে মানুষের বাসায় কাজ করতেন, অনেক সময় নিজে না খেয়ে তাঁকে খাওয়াতেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “সব মাকে সম্মান জানানো সম্ভব না হলেও তাঁদের ত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।”
সঞ্চালনায় ছিলেন শান্তা জাহান। বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সম্মাননার প্রধান উদ্যোক্তা আশীষ কুমার চক্রবর্তী। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর এই সম্মাননা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।