banner

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

‘ফ্যামিলি এইড’-এর আত্মপ্রকাশ: পারিবারিক বন্ধন সুসংহত করতে ইসলামী উদ্যোগ

 

বাংলাদেশ ইসলামিক ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার (BILRC) চালু করেছে একটি নতুন সামাজিক প্রকল্প—‘ফ্যামিলি এইড’, যা পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে ইসলামী শরিয়াহর আলোকে।

শনিবার ঢাকার পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও ‘ফ্যামিলি এইড’ প্রকল্প পরিচালক শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “পশ্চিমা প্রভাব ও সামাজিক অস্থিরতায় আমাদের পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে। ইসলামভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলায় আমরা কাজ শুরু করেছি ২০২৩ সাল থেকে।”
এই প্রকল্পের আওতায় পারিবারিক, মানসিক ও আইনগত সমস্যায় ভুক্তভোগীরা পাবেন বিশেষজ্ঞ সহায়তা। বর্তমানে ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত একটি টিম এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। সেবাগ্রহীতার আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সেবাও প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘একাডেমি টোয়েন্টি ওয়ান’-এর চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, “দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা ভয়াবহ হারে বাড়ছে। এর প্রতিকারে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা মানজুর বলেন, “পারিবারিক সমস্যা সমাধানে শুধু নারী বা শিশুকে কেন্দ্র করে কাজ করলে চলবে না। পুরুষরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। শরিয়াহ সকল পক্ষকে সমান সম্মান দিয়ে দেখে, এটিই ‘ফ্যামিলি এইড’-এর ভিত্তি।”

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে এক ছাদের নিচে আইনজীবী, মনোবিদ ও পারিবারিক পরামর্শদাতারা একযোগে কাজ করবেন। এতে করে সেবা গ্রহণকারীরা পাবেন এককেন্দ্রিক ও সুসমন্বিত সহায়তা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন রাব্বানী, মনোবিদ সুমাইয়া তাসনিম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক মারদিয়া মমতাজ ও লিগ্যাল কনসালট্যান্ট ফাইজা তাবাসসুম।

 

বাংলাদেশি নার্সদের বিশ্বমঞ্চে উত্থান: বিএমইউ ভিসির আশাবাদ

 

বাংলাদেশি নার্সরা বিশ্বজুড়ে নিজেদের গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

বিশ্ব নার্স দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সোমবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “গুণগত নার্সিং শিক্ষার মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি নার্সদের চাহিদা তৈরি করা সম্ভব।”

তিনি জানান, বিএমইউ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নার্সিং শিক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিকুলাম চালু করেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে।

ডা. শাহিনুল আলম বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই। ফিলিপাইন বা ভারতের কেরালার মতো বাংলাদেশও নার্স রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে, যা থেকে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।”

তিনি নার্সদের উদ্দেশে বলেন, “নার্সিং কেবল চাকরি নয়, এটি মানবতার সেবার মহৎ এক পেশা। এই দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। রোগীর কষ্ট লাঘবে নার্সরাই ভরসাস্থল।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন।

গ্র্যাজুয়েট নার্সিং বিভাগের শিক্ষক মো. হারুন অর রশীদ গাজী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নার্স কর্মরত আছেন। তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটবে।

দিনব্যাপী আয়োজনে নার্সিং পেশার গৌরব, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা তুলে ধরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যাতে অংশ নেন নার্সিং শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৫টি দেশে নার্স প্রেরণ করছে। ২০২৪ সালে নার্স রপ্তানি থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক আয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নার্সিং শিক্ষার মান উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে এই আয়ের পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

মেয়েদের আত্মরক্ষা ও প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার

নারীদের আত্মরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এমনটি জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

সোমবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘কথা বলো নারী’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারীর চোখে আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শারমীন মুরশিদ বলেন, “আমরা যেসব মেয়েদের ট্রেইন-আপ করব, সেখানে তাদের জেন্ডার রিলেটেড অ্যাওয়ারনেস থেকে শুরু করে, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, সেলফ ডিফেন্স ট্রেনিং, প্যারামিলিটারি ট্রেনিং—সবটুকুই ভাবা হয়েছে। যেটা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। এটা নারীদের জন্য একটা ক্ষেত্র হবে, যেটাতে তারা মাথা উঁচু করে তাদের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি নিরাপত্তাটা দিতে না পারি, তাহলে নারীর বিকাশ ঘটবে না। মেয়েরা যদি স্কুলে, রাস্তায় বা বাসে নিরাপদ না থাকে, তাহলে কীভাবে একটি সুন্দর পরিবেশে নিজেকে গড়ে তুলবে? এই বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।”

উপদেষ্টা আরো বলেন,‘চব্বিশে যারা যুদ্ধ করেছে, তাদের আমরা কাজে লাগাতে চাই। সোশ্যাল ফোর্স হিসেবে দেখতে চাই। সাইবার সেফটি তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদেরকে দেখতে চাই।’

তরুণদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “তোমরা কী ভাবছো, কী চাইছো—তোমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা আমাদের কৌশল সাজাতে চাই।”

সাইবার বুলিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেজন্য আমাদের আলাদা একটি ইউনিট গঠন করতে হবে।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, ড. রেজওয়ানা কবীর স্নিগ্ধা, উমামা ফাতেমা প্রমুখ।

 

ইসলামে নারীর সম্পত্তিতে অধিকার

ইসলাম ধর্ম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান যা মানবজাতির প্রতিটি দিককে নির্দেশনা দিয়েছে। নারীর মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে এমন এক সময়ে ইসলাম যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে , যখন নারীদেরকে সমাজে অবজ্ঞা করা হতো, সম্পত্তির অধিকার তো দূরের কথা, তাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনাও করা হতো না। অথচ আজ, মুসলিম সমাজে নারীদের সেই ইসলাম-স্বীকৃত অধিকার, বিশেষত সম্পত্তিতে অধিকার, ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে।

সম্পত্তিতে নারীর অধিকার: স্পষ্ট কোরআনিক ঘোষণা
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
“পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে। আর নারীদের জন্যও রয়েছে অংশ তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে—অল্প হোক বা বেশি—এটি একটি নির্ধারিত অংশ।”
(সূরা নিসা: আয়াত ৭)
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, নারীরাও সম্পত্তিতে সমানভাবে অধিকার রাখে। ইসলাম আগমনের পূর্বে আরব সমাজে নারীরা সম্পত্তির কোনো দাবিদার ছিল না। ইসলাম এসে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করে নারীর মর্যাদাকে নিশ্চিত করেছে।

উত্তরাধিকার সূত্রে নারীর অধিকার: কন্যা, স্ত্রী, মা, ও বোনের মর্যাদা
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে (ফরায়েজ) নারীর অংশকে নির্ধারণ করা হয়েছে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক ও অবস্থানের ভিত্তিতে। কন্যা সন্তান বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশের মালিক হয়। যদি সন্তান থাকে, স্ত্রী পায় অষ্টমাংশ; সন্তান না থাকলে পায় চতুর্থাংশ। মা তাঁর সন্তানের সম্পত্তিতে ষষ্ঠাংশ পান, আর বোন নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভাইয়ের সম্পত্তিতে অংশীদার হন।
কোরআনে বলা হয়েছে:
“তোমাদের স্ত্রীদের যদি সন্তান না থাকে, তবে যা কিছু তারা রেখে যায়, তার অর্ধেক তোমরা পাবে। আর যদি সন্তান থাকে, তবে যা কিছু তারা রেখে যায়, তার চতুর্থাংশ তোমরা পাবে।”
(সূরা নিসা: আয়াত ১২)

“পুরুষ দ্বিগুণ পায়” – এই বিধান কেন?
সাধারণভাবে বলা হয়, পুত্র সন্তান দ্বিগুণ পায়, কন্যা পায় অর্ধেক। কোরআনে বলা হয়েছে:
“আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে নির্দেশ দেন—পুরুষ সন্তানকে দুই নারীর সমান অংশ দিতে হবে।”
(সূরা নিসা: আয়াত ১১)
অনেকেই এই আয়াতকে বৈষম্য মনে করেন, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে যৌক্তিকতা। ইসলাম পুরুষের উপর পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রীর খরচ, সন্তানদের শিক্ষা, বোনের বিয়ে, এমনকি বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনার দায়িত্বও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। অর্থাৎ, অধিক সম্পত্তির বিপরীতে পুরুষের উপর আর্থিক দায়িত্বও অধিক। পক্ষান্তরে, নারীকে সম্পত্তি প্রদান করা হলেও তাঁর উপর কোনো বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়িত্ব নেই। সে চাইলে ব্যয় করতে পারে, না চাইলে তা সঞ্চয় করতেও পারে।

দেনমোহর ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি:
ইসলামে নারীর জন্য বিবাহের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক। এটি স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর প্রতি একটি সম্মানসূচক উপহার ও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এটি পরিশোধ না করে স্ত্রীকে তালাক দিলে বা স্বামী মৃত্যুবরণ করলে, স্ত্রী আইনি ও শরয়ি অধিকার অনুযায়ী দেনমোহর দাবি করতে পারে।
কোরআনে বলা হয়েছে:
“তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর আনন্দ সহকারে প্রদান করো। যদি তারা স্বেচ্ছায় মোহরের কোনো অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা খেয়ে ফেলতে পারো আনন্দের সঙ্গে।”
(সূরা নিসা: আয়াত ৪)

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
ইসলাম নারীর উপার্জন ও সম্পত্তির উপর তার একচ্ছত্র মালিকানা স্বীকার করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
“পুরুষ যা অর্জন করে, তা তার জন্য; আর নারী যা অর্জন করে, তা তার জন্য।”
(সূরা নিসা: আয়াত ৩২)
এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নারীর উপার্জন তারই সম্পদ, কেউ জোরপূর্বক তা নিতে পারে না। এমনকি স্বামীও নয়। এটি আধুনিক নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি যুগান্তকারী ভিত্তি।

সামাজিক বাস্তবতা: কেন নারীরা বঞ্চিত?
বিস্ময়ের বিষয় হলো, ইসলাম নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিত করলেও আমাদের সমাজেই নারীরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। গ্রামাঞ্চলে তো বটেই, এমনকি শহরের শিক্ষিত পরিবারেও অনেক নারী তাদের পিতৃসম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। “বিয়েতে অনেক পেয়েছে”, “ছেলেরা তো সংসার চালায়”—এই অজুহাতে ইসলামি অধিকার লঙ্ঘন করা হয়।
এটি একপ্রকার জুলুম। আল্লাহ বলেন:
“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।”
(সূরা বাকারা: আয়াত ১৮৮)
হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো হক আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন সাতবার জাহান্নামে যাবে।”
(সহীহ বুখারী)

এছাড়াও; বর্তমান বিশ্বে ‘নারীর স্বাধীনতা’ ও ‘সমান অধিকার’ স্লোগানে পশ্চিমা নারীবাদীদের একটি অংশ ইসলামকে আক্রমণের অস্ত্র বানিয়েছে। তারা সমতার নামে এমন এক সমাজ গড়ে তুলছে যেখানে একজন নারীকে তার স্বাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক চরিত্র থেকে সরিয়ে অর্থ উপার্জনের যন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

তাদের দাবি, নারী-পুরুষকে সব দিক থেকে এক রকম করতে হবে—এমনকি দায়িত্ব ও শারীরিক কাঠামোর পার্থক্য উপেক্ষা করে হলেও। এর বিপরীতে ইসলাম নারীর সম্মান ও মর্যাদাকে রক্ষা করে ভারসাম্যপূর্ণ দায়িত্ব বন্টন করেছে। ইসলাম সমতা নয়, ন্যায় (Justice) প্রতিষ্ঠা করে—যা প্রকৃত মানবিকতার ভিত্তি।

রাসূল (সা.) বলেন:
“তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

পরিশিষ্ট
ইসলামেই নারীর প্রকৃত অধিকার
ইসলাম নারীকে কেবল সম্পত্তির অধিকার দেয়নি; দিয়েছে সম্মান, মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা। যে সমাজ ইসলামি শরীয়ত মেনে চলে, সেখানে নারী কখনো বঞ্চিত হয় না। বরং যারা ইসলামি জ্ঞান ও ন্যায়বিচার থেকে সরে গেছে, তারাই নারীদের প্রকৃত শত্রু। তাই আমাদের উচিত ইসলাম প্রদত্ত নারীর সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআন-হাদীস অনুযায়ী নারীর অধিকার বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমীন।

 

আছিয়া হত্যা মামলা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, বাকিদের খালাসে মায়ের ক্ষোভ

 

মাগুরায় ৮ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তবে মামলার বাকি তিন আসামি সজীব শেখ, রাতুল শেখ ও রোকেয়া বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা আয়েশা বেগম।

শনিবার (১৭ মে) সকালে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী আয়েশা বেগম বলেন, “আমরা এই রায় মেনে নিতে পারছি না। একজনের ফাঁসি হলেও বাকি তিনজনের খালাসে আমাদের মন ভাঙা।”

২০২৫ সালের ৬ মার্চ, আছিয়া তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৩ মার্চ ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে মারা যায় সে। এ ঘটনায় আছিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১২ কার্যদিবসে মামলার বিচারকাজ শেষ হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম মুকুল জানিয়েছেন, বাদী রায়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে

তথ্যসুত্র ঃবিডি নিউজ,,যুগান্তর,,ইত্তেফাক