banner

শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

মুন্সিগঞ্জে দুই তরুণীকে মারধর: দোষীদের শাস্তির দাবি মহিলা পরিষদের

 

মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সোমবার (১৩ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ মে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী একটি লঞ্চ মুন্সিগঞ্জে সাময়িক যাত্রাবিরতি করলে দুই তরুণী ঘাটে নেমে কিছু কেনাকাটার জন্য বের হন। তখন স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে লঞ্চে হামলা চালানো হয় এবং দুই তরুণীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। প্রকাশ্যে একজন যুবক বেল্ট দিয়ে তাঁদের আঘাত করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মহিলা পরিষদ বলছে, এটি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নারীর প্রতি সহিংসতা, অবমাননা ও বৈষম্যের একটি গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “নারীর নিরাপত্তা, সম্মান ও মৌলিক অধিকারের ওপর এ ধরনের হামলা একটি ভয়ংকর বার্তা দেয়।”
সংগঠনটি নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ ও সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবি

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের প্রেক্ষিতে ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা কমিশনের প্রতিবেদন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বিভাজন ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে।

‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন: বিতর্ক ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে। গবেষণা ও সামাজিক উন্নয়নমুখী সংগঠন ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এ কারণে অবিলম্বে কমিশন ও তাদের প্রতিবেদন বাতিল করতে হবে। তারা সব ধর্ম ও মত-পথের নারীদের সমন্বয়ে নতুন করে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। বিশেষভাবে ইসলামিক চিন্তাবিদদের কমিশনে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা তুলে ধরেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,
“সরকার কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে জানি না। পদে পদে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আবার সরকারও সেসব ষড়যন্ত্রে পা দিচ্ছে। নারী সংস্কার কমিশনও আরেকটি ষড়যন্ত্র। এ জন্য এই কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি।”
তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বলেন,
“কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদন যাচাই না করেই আপনি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে করে সরকার কার্যত জনগণের মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে। আপনারা কি জনগণের সঙ্গে যুদ্ধে নামতে চান?”

ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুর রব বলেন,“কমিশনের প্রস্তাবগুলো জাতিকে চূড়ান্ত বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি উদ্যোগ। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতকে উপেক্ষা করে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাই প্রায় সব মহল থেকেই এগুলোকে পরিত্যাজ্য বলে মনে করা হচ্ছে।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) মো. হাসিনুর রহমান বলেন,“এই কমিশন পরিবারের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করবে। এটি বৃদ্ধাশ্রমকে প্রমোট করার কমিশন। এর মাধ্যমে মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা চলছে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবদুল মান্নান বলেন,“কমিশনের বেশির ভাগ প্রস্তাব ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিন্ন পারিবারিক আইনসহ অনেক প্রস্তাব অন্যান্য ধর্মেরও পরিপন্থী। তাই এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে হবে।”

সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভানেত্রী অধ্যাপক শামীমা তাসনীম বলেন,“কমিশনের প্রস্তাবগুলো দাম্পত্য কলহের নতুন ইস্যু তৈরি করবে। বাস্তবায়িত হলে পরিবারের মহিলা সদস্যদের কাছে পুরুষ সদস্যদের শত্রু করে তুলবে।”

বক্তারা আরও বলেন, যৌনকর্মীদের শ্রমিক নয়, বরং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জুলফিকার হাসান। সঞ্চালনা করেন ওয়ান ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মুহাম্মাদ আবদুল মান্নান।

আরও বক্তব্য রাখেন:বুয়েটের অধ্যাপক মো.ফখরুল ইসলাম,
অ্যাডভোকেট ইকতেদার আহমেদ,মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহীন আরা আনোয়ারী,সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ফেরদৌস আরা খানম,আইপাস বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র অ্যাডভাইজর ডা. শামিলা নাহার,আইনজীবী সাবিকুন নাহার মুন্নি,ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর খলিলুর রহমান মাদানী,মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সের খতিব আবদুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ,ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সংগঠনটির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।