banner

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

করোনাকালে ঢাকায় নারী ও শিশু নির্যাতনের দুই শতাধিক মামলা

করোনাভাইরাসের মহামারিতে থমকে গেছে বিশ্ব। থমকে গেছে দেশ। এই মহামারি রোধে ৬৬ দিন ছিল সাধারণ ছুটি। এ সময়ে অনেককে থাকতে হয়েছে নিজ পরিবার-পরিজনের সাথে। এ পরিস্থিতিতেও থেমে নেই নারী ও শিশু নির্যাতন।

করোনাকালে ঢাকা শহরে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে ২০০টি। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ধর্ষণ, তারপর যৌতুক ও অপহরণের।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার হিসাব মতে, গত ২৬ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগের ২০০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এগুলোর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে ৫৮টি, গণধর্ষণের আটটি, ধর্ষণচেষ্টার ১৬টি, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে অভিযোগে হয়েছে ৫৩টি, অপহরণের অভিযোগে ৩৭টি, শ্লীলতাহানির অভিযোগে ১৯টি, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ৯টি মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে- এই তিন মাসে সারাদেশে ৪৮০ জন নারী ও শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬৭ জন নারী ও ২১৩ জন শিশু। এর মধ্যে ২০৬ ঘটনায় ৯০ নারী ও ১১৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

 

অপরাজিতাবিডি/রবি

প্রথমবারের মতো মহাকাশে লোক পাঠানোর নেতৃত্বে নারী


প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মনুষ্যবাহী মহাকাশযান (হিউম্যান স্পেসফ্লাইট) পরিচালনার নেতৃত্ব দেবেন এক নারী। নাসার হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড অপারেশনস মিশনের (এইচইও) প্রধান হিসেবে ক্যাথি লুয়েডার্সকে নিয়োগ দেওয়ার পর এই ইতিহাস তৈরি হলো। গত শুক্রবার নাসার প্রধান জিম ব্রাইডেনস্টাইন টুইটারে এই নিয়োগের ঘোষণা দেন। খবর এএফপির।

গত মাসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠানোর মিশনের নেতৃত্ব দেন লুয়েডার্স। সেই সফলতার সূত্র ধরেই তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নাসার প্রধান জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশচারী ও কার্গো পাঠানো—উভয় প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন ক্যাথি। তাই ২০২৪ সালে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এইচইওকে পরিচালনার জন্য তাঁকেই আমরা উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি।’

১৯৯২ সালে নাসায় যোগদান করেন লুয়েডার্স। গত ৩০ মে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি মহাকাশযানে দুজন মহাকাশচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মহাকাশে যান নভোচারীরা।

কৃষ্ণাঙ্গ নারীর নামে হেডকোয়ার্টারের নাম পাল্টাচ্ছে নাসা

শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্বর নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। জনগণের ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পুলিশে সংস্কার আনতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক জাতিগত অসমতা নিয়ে বিতর্কের কারণে ত্বক ফর্সা করার ক্রিম বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক হেলথকেয়ার কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন।

তবে দেশটির বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)। সংস্থাটি তাদের হেডকোয়ার্টার বিল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন করে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীর নামে নামকরণের ঘোষণা দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাসার হেডকোয়ার্টার বিল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিল্ডিংটির নাম রাখা হবে ‘মেরি উইলিয়াম জ্যাকসন’।

মেরি মার্কিন এই মহাকাশ সংস্থার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান-আমেরিকান নারী প্রকৌশলী। বুধবার সংস্থাটির প্রশাসক জিম ব্রিডেনস্টাইন এ ঘোষণা দেন।

’৫০-এর দশকে ভার্জিনিয়ার হ্যাম্পটনে অবস্থিত নাসার ল্যাংলে রিসার্চ সেন্টারে কর্মজীবন শুরু করেন মেরি জ্যাকসন।

এর আগে গতবছর নাসার এই প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম পাল্টিয়ে নাম রাখা হয় ‘হিডেন ফিগারস ওয়ে’। মূলত নাসায় আগে যেসব আফ্রিকান-আমেরিকান নারী কর্মরত ছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নাম রাখে নাসা।

তবে মহাকাশ সংস্থা নাসা এমন এক সময়ে তাদের হেডকোয়ার্টারের নাম পরিবর্তনের কথা জানাল, যখন মিসিসিপিতে অবস্থিত তাদের ‘স্টেনিস স্পেস সেন্টারের’ নাম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছিল বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা। একই সময় জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বৈষম্যমূলক বিভিন্ন স্মৃতিস্মম্ভ নামিয়ে ফেলার হিড়িক চলছে।

নাসার এই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে মিসিসিপির দীর্ঘসময় ধরে সিনেটর থাকা জন সি.স্টেনিসের নামানুসারে। কঠোর জাতিবিদ্বেষী বলে পরিচিত এই সিনেটর।

অপরাজিতাবিডি/রবি

বাংলাদেশে প্রথম অনুষ্ঠিত হলো ‘নারী প্রকৌশলী সম্মেলন’

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘নারী প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২০’। মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিট-১৯) কারণে অনলাইনে এই সম্মেলন হয়। ২৩ জুন রাত ৮টায় দ্য ইঞ্জিনিয়ার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই সম্মেলন শুরু হয়ে রাত ১১টায় শেষ হয়।

এটি দেশে প্রথম নারী প্রকৌশলী সম্মেলন। প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সম্মেলনের সমাপনী করেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ।

১৯১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের উইমেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি ২৩ জুনকে নারী প্রকৌশলী দিবস হিসেবে পালন করত। পরে ২০১৭ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আর্ন্তজাতিক নারী প্রকৌশলী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। তবে আইইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৭ মে ’ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ হিসেবে পালন করা হয়।

এবারের নারী প্রকৌশলী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘শেপ দ্য ওয়ার্ল্ড’।

অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রওশন মমতাজ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নীরা মজুমদার, এলজিইডি প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রকৌশলী সালমা শহীদ, রাজউকের ডিরেক্টর সরকারের উপসচিব, আইবির সেন্ট্রাল কাইন্সিল মেম্বার প্রকৌশলী তানজিলা খানম।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রকৌশলীদের মধ্য আরও বক্তব্য দেন প্রকৌশলী মৌসুমী সালমীন, প্রকৌশলী সোনিয়া নওরীন এবং অধ্যাপক প্রকৌশলী সালমা আখতার। অনুষ্ঠানের মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্যা ইঞ্জিনিয়ারস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং আইইবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সেক্রেটারি প্রকৌশলী শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, ’চাকরি জীবনে নারী প্রকৌশলীরা কর্তব্যনিষ্ঠ ও সৎ হিসেবে পরিচিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা নেবার পর থেকেই বিভিন্ন পদে নারীদের পদায়ন করেছেন। প্রথম মহিলা বিচারপতি, প্রথম মহিলা সচিব, প্রথম মহিলা স্পিকার এবং এসবের ধারাবাহিকতায় প্রথম প্রধান প্রকৌশলীও বঙ্গবন্ধু কন্যার শাসন আমলের অবদান। এই সম্মেলনেও একজন প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত আছেন। শেখ হাসিনা মনে করেন, ‘নারীদের উন্নয়নের বাইরে রেখে কখনও প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়’।

তিনি আরও বলেন, নারী প্রকৌশলীরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিকল্পনা করবেন কীভাবে আমাদের এ পৃথিবীটা আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ, আরও সৃজনশীল ও আনন্দদায়ক করা যায়। আইইবি সবসময় নারী প্রকৌশলীদের সাথে থাকবে- আইইবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি। সেই সাথে আইইবি থেকে নারী প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরসহ সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।

এর আগে নারী প্রকৌশলীরা নারীদের প্রকৌশলী পেশার যেসব প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজমান সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া নারী প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন নারী প্রকৌশলীরা। নারী প্রকৌশলীরা মনে করেন, নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারলে নারীরা প্রকৌশল পেশায় আগ্রহ হবেন। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশল পেশায় বাংলাদেশের নারীদের আরও এগিয়ে নিতে আইইবি’র সহযোগিতা কামনা করেন নারী প্রকৌশলীরা।

 

অপরাজিতাবিডি/রবি