banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

বাবা-মায়ের মানসিক প্রস্তুতি


কানিজ ফাতিমা


সন্তান আগমনের সাথে সাথে পরিবারের ওপর একটা চাপের সৃষ্টি হয়। একথা সত্যি যে পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব একটি অসামান্য পাওয়া, কিন্তু এর অভিজ্ঞতা সবসময় রোমাঞ্চকর হয় না। বাবা-মা হবার সাথে সাথে দম্পতিকে মেনে নিতে হবে যে, জীবনটা আর আগের মত থাকবে না; সেই সাথে সামনে যেসব সমস্যা আসবে তার জন্যও নিজেদেরকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানদের স্বার্থে নিজেদের অনেক স্বার্থকেই বিসর্জন দিতে হবে, এমনকি তাদের পিতা -মাতা হবার যোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। বাবা-মা’দের জন্য, বিশেষ করে মা’দের জন্য শিশুর অবিরাম চাহিদা পূরণের ধকল ও ক্লান্তিকে মেনে নেয়া সহজ ব্যাপার হবে না। অপরদিকে বাবারা ঘরে ফিরে হয়তো দেখবেননা স্ত্রীর আনন্দময় মুখ, হাসিখুশী শিশু অথবা গুছালো পরিপাটি ঘরদোর। অনেক বাবাই নিজের স্ত্রীকে অধিক কাজের চাপে বিধ্বস্ত দেখবেন এবং পূর্বের মতো স্ত্রীকে তাদের প্রতি অতটা যত্নশীল পাবেননা।

মাতৃত্বের সাথে যুক্ত থাকে শারীরিক, আবেগ-আনুভূতিক ও মানসিক ক্লান্তি। অল্প ঘুম এবং অবিরত শিশুর যত্ন অনেক মজবুত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

সন্তানের যত্নের পাশাপাশি দম্পতি যখন পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খায় তখন অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিবাহিত জীবনের উপর এসব কিছুর প্রতিকূল প্রভাব পড়তে পারে। ফুল টাইম চাকরী করেন এমন বাবা-মায়েদের জন্য এসময়টা অনেক বেশী কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কিছু বাবা-মা সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে (Child care centre) না রেখে পালাক্রমে ভিন্ন ভিন্ন শিফটে চাকরী করেন যাতে সবসময় কোনো একজন শিশুর সঙ্গে বাসায় থাকতে পারেন। যদিও এটা শিশুর জন্য ভালো, কিন্তু স্বামী স্ত্রীর জন্য সবসময় অনুকুল হয় না। এক্ষেত্রে বাবা মার মধ্যে দ্রুত সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। কার ভাগে ঘর পরিস্কার করা বা বাসন কোসন ধোয়া পড়েছে এ ধরনের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিবাদ এবং অসম্মানজনক মানহানিকর প্রতিদ্বন্দিতা দেখা দিতে পারে। অপরদিকে যেসব বাবা মার মধ্যে সন্তানের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে না পারার অপরাধবোধ কাজ করে – তারা ‘দাম্পত্য সময়’টা কমিয়ে ‘সন্তানের জন্য সময়’কে বর্ধিত করতে পারেন। আবার কিছু মা-বাবা সেটা পুষিয়ে নিতে চান সন্তানদের উপহার, টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড দিয়ে যা পরিনামে বাচ্চাদের নষ্ট করে, আর বাবা-মা আরো বেশী সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পরেন।

এ ধরনের চাপ বৈবাহিক সম্পর্ককেই প্রতিকূলতার মুখে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন দম্পতি তাদের সীমিত সময় আন্তরিক আলাপের চেয়ে পরস্পরের প্রতি অনুযোগ-অভিযোগ করেই অতিবাহিত করে। বাবা-মার মধ্যকার বৈবাহিক দ্বন্দ সন্তানের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। যথেষ্ট পরিমান পারস্পারিক যোগাযোগের অভাবে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং তা তাদের অবিরত দ্বন্দ্বের দিকে ঠেলে দেয়।

নিচে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো- বাবা-মাকে তাদের প্যারেন্টহুড তথা অভিভাবকত্বে উত্তরণের ক্ষেত্রে সাহায্য করবার জন্য: আশা করা যায় স্বামী-স্ত্রী থেকে বাবা-মা হওয়ার পথে পরিবারের গতিময় পরিবর্তনে এই পরামর্শগুলো অনেকটা চাপ কমাবে।

১. দৈনিক কিংবা সপ্তাহে স্বামী-স্ত্রী একসাথে নিজস্ব সময় কাটানোর জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করুন। একসাথে বেড়াতে যান, কিছু কাজ একসাথে করুন, কিংবা রাতের খাবারটা একসাথে খান। দিনের বেলা প্রয়োজনীয় ফোনালাপ সেড়ে ফেলে অথবা সকালে কিছুটা আগে জেগে কিছু সময় সঞ্চয় করুন- যাতে পরষ্পরের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কিছুটা সময় বের করতে পারেন। শিশুর দেখাশুনার দায়িত্বটা অন্য কোনো বিশ্বস্ত বাবা-মার সঙ্গে নেয়াটাও একটা ভালো ব্যবস্থা।(যেমন ধরুন সেই দম্পতির সাপ্তাহিক বেড়াতে যাবার সময়টায় আপনারা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করলেন আবার তারা আপনাদের সময়ে আপনাদের সন্তানদের ভার নিলেন)।

২. জীবনসঙ্গীর সাথে প্রত্যাশাগুলো ভাগাভাগি করে নিন। প্যারেন্ট হিসাবে নতুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যা আপনি লক্ষ্য করছেন সেইসব উদ্বেগের বিষয় তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। আপনার স্বাস্থ্য, পারষ্পারিক সম্পর্ক এবং চাকুরীর উপর প্যারেন্টহুডের প্রভাব নিয়ে কথা বলুন।

৩. জীবনসঙ্গীর সাথে একত্রে খাদ্য গ্রহণ, ইবাদত, যৌন মিলন এবং শরীর চর্চায় সময় দিন। যদিও শিশুর চাহিদা আপনার সময়ের প্রায় সবটুকু নিয়ে নেয় তারপরও জীবনসঙ্গীর জন্য সময় বের করে নিন। এমনকি ময়লা কাপড় অথবা অপরিষ্কার বাসনকোসন ধোয়ার জন্য পড়ে থাকলে তেমন ক্ষতি নেই ।

৪. আপনার মতবিরোধ প্রকাশ করুন; দ্বন্ধকে গুরুত্বহীন ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। কোনো ব্যাপারে বিবাদকে সম্পর্কের মধ্যকার কোন ফাটলের ইঙ্গিত হিসাবে নিন এবং দুজনে মিলে পরামর্শ (counselling) পাবার চেষ্টা করুন।

৫. বিশ্বস্ত বন্ধু বা অভিজ্ঞ সহকর্মীর সাথে কথা বলুন যার- বাবা/মা হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। এটা আপনার বিষন্নতা দূর করতে সাহায্য করবে। কথা বলার জন্য একই লিঙ্গের ব্যক্তি নির্বাচন করুন এবং কোনো অবস্থাতেই আপনার স্বামী বা স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় কোনো বিষয় প্রকাশ করবেন না।

রেফারেন্স অনুবাদ: Parent-child relations.

 

বুড়ি আজ খুশী


দ্য স্লেভ


মবিন শেখ বড় বড় প্যাকেটে বড় বড় রুই,ইলিশ,ইলিশের ডিম,চিংড়ী মাছ,বিলের বড় বড় কৈ মাছ কিনে বাড়ির কাজের ছেলেটার কাধে চাপিয়েছে। নদীর রুইমাছটা আজ বেশ তাজা কিনতে পেরেছে। ভোরে আসলে আসলে সবকিছু ভালোমত পাওয়া যায়,তবে কৈ এর ব্যপারটা আলাদা। বিলের এত বড় বড় কৈ সহসা পাওয়া যায়না। প্রতি পিত কৈ ৫০০ টাকা পড়ল, তা পড়ুক,, সহসা এতবড় কৈ পাওয়া দুষ্কর। আজ দুপুরে বড় জামাই বন্ধুদের নিয়ে খেতে আসবে,,, বড় কৈ তার পছন্দ। ইলিশ মাছও পেয়েছে বড় বড় সাইজের। টাকা একটু বেশী গেছে কিন্তু সম্মানটা তার থাকবে। ৫ কেজী খাসীর গোস্ত কিনেছে। জামাইয়ের সামনে শুধু গরু রাখলে ইজ্জত থাকেনা।
নানান সব তরিতরকারী,মুরগী কিনে আরেক কাজের লোকের ঘাড়ে চাপানো। মবিন শেখ বাজার থেকে বেরোনোর পথে বুড়িকে দেখলো জীর্ণ-শীর্ণ দেহে মলিন পোষাকে,মলিন তরকারী নিয়ে বসে আছে। দেখেই শেখের মনে পড়ল,,আরে কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ তো কেনা হয়নি !
মবিন শেইখ: ওই বুড়ি কি ব্যাচো ?
বুড়ি: এই যে বাবা,,,এইসব বেচী।
:হুমম এ তো ময়লা মাটি,,,বাজার থেকে কুড়াইছো নাকি ??
: না বাজান ,, জিনিস ভালো আছে..
: ভালো না মন্দ সে তো দেখতেই পাচ্ছি। তা পেঁয়াজের ভাগা কত ?
: নেন বাজান,, দশ টাকা করে দেন ভাগা….
: হ্যা !!! কও কি ?? ১০ টাকা ! আহারে বাজার থেকে কিনলেই ভালো করতাম,,,কত সুন্দর চকচকে পেঁয়াজ,,দামেও কম ছিলো,,,নাকি আবার বাজারে যাব !!
: বাজান নেন, কম রাখবানে,,,,আপনি ৮ টাকা করে দেন।
:আরে বুড়ি এই টুকানো পেয়াজ ২টাকাও হয়না,,৫ টাকা করে দেব,,,৩ ভাগা দাও….।
: না বাজান ঠকা হয়,,, আপনি ৭ টাকা করে দেন,,,,আপনারা দাম না দিলে খাব কি কন ? সকাল থেকে বসে আছি,,,কেউ কিনতে চায়না….
:কিনবে ক্যামনে ?? ময়লা মাটি মানুষ কিনে? আর ৫ টাকার জিনিস ১০ টাকা চাইলে জীবনেও বিক্রী করতে পারবা না,,,জুলুম করলে এমনই হয় ! ৫ টাকায় দাও,,,আমি বলে ৫টাকা বলছি,,অন্যরা আরও কম বলত।
: বাজান তাইলে ৪ ভাগা পেয়াজই নেন,,২০ টাকাই দেন।
:এই তো লাইনে আসছো ! তোমাদের আবার আমি চিনিনা,,,,মানুষ চিনতে চিনতে চুল পাকায় ফেলছি….। আচ্ছা মরিচ কত রাখবা ? অর্ধেক তো পচা….
: বাজান নিয়ে যান, ভালো জিনিস,,,। ৫ টাকা করেই রাখব।…
:বুড়ির বুদ্ধি আছে দেখছি,,,৫টাকায় পেয়াজ কিনেছি দেখে একই দাম বলল…..দ্যাখো আমার সময় নেই,,,আর মরিচ কেনার দরকারও নেই,,,কিন্তু তোমার উপকার হবে বলেই কিনছি। ভালো করে দাম কও…
: বাজান ৪ টাকা করে দেন,কিন্তু নিয়ে যান। আচ্ছা নিলাম,,,,অন্য মানুষ হলে নিত না।….টমেটোগুলো কততে দিবা ?
: বাজান আপনি ইজ্জতদার মানুষ ইনসাফ করে দিয়েন। আমার বাড়ির উঠোনে লাগানো টমেটো,,,,আমি দাম জানিনা…। বাজারে যেই দামে কিনেন তার চেয়ে কিছু কমে দেন। বাড়ির জিনিস তো কমে বেচা যাবে……ওষুধ দেওয়া নেই…।
:হুমম টমেটো তো কেনা দরকার না,,,তাও দেখী..আচ্ছা অারও ৫ টাকা দিচ্ছি,,দিয়ে দাও…।
:বাজান মাত্র ৫টাকা ?
: হ্যা,,তোমার বাড়ির জিনিস,,ওইটা কি আর বিকেল পর্যন্ত থাকবে,,,পচে যাবে,,দাও দাও দিয়ে দাও….
মবিন শেইখ বাজার করে আজ ব্যপক খুশী,,,,বড়ই জিতেছে আজ। অবশ্য বুড়ির কথা তার মাথায় নেই,,,,জামাই আর তার বন্ধুরা মাছ,গোস্ত দিয়ে কি মজায় ভাত খাবে সেই দৃশ্য কল্পনা করতে করতে সে বাড়ির পথ ধরল।
বুড়িও আজ খুশী। একজন কাস্টমারের কাছে সে অনেক কিছু বিক্রী করতে পেরেছে। তবে আরও কিছু তরকারী বিক্রী করতে বাকী আছে। সেগুলো বেচা হলেই সে পুরো দেড় কেজী চাল কিনতে পারবে লাভের টাকায়। পেছনের সারের ব্যাগে বাজার থেকে কুড়ানো কিছু পোকা লাগা বেগুন রাখা আছে। কুড়ানো তরকারীতে তাদের পেট চলে। মাঝে মাঝে দু একটা ভালো বেগুনও পায় সে। বাজারে তরকারী কুড়াতে গেলে কিছু লোক ভালো আচরন করে। ওদের কেউ কেউ অল্প পোকা লাগা তরকারীও দিয়ে দেয়। ওসব ঘুমে মুটে খেয়ে ওরা বেঁচে থাকে !
আহা,,,পেটের ভেতরটা চিনচিন করে ওঠে বুড়ির,,, সেই কাকডাকা ভোরে দুটো পান্তা খেয়ে নিস্তেজ দূর্বল শরীর নিয়ে বেরিয়েছে। এরপর আর একটা দানাও পেটে পড়েনি। খালি পেটে পানি খেলে পেটে খিল লেগে ধরে। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি পৌছাতে হবে, নইলে বুড়োর পেটেও ভাত যাবে না। ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে সন্ধ্যার পর পথ চলতে কষ্ট হয়। তবে বুড়ি আজ আশাবাদী,,, তরকারী বিক্রীর টাকায় সে আরেকটু বেশী চাল কিনে বাড়ি যাবে। বুড়োটা আলুভর্তা আর জাও-ভাত পছন্দ করে। আজ রাতে ওরা ভরপেট খাবে , ভাবতেই আনন্দাশ্রুতে বুড়ির চোখ ঝাপসা হয়ে আসে !