banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

আকিজের তিন চাকাওয়ালা ই-বাইক ‘সাথী’, কম দামে অনেক সুবিধা..


অন্যান্য


সাইকেল চালাতে শারীরিক শক্তি আর মোটরসাইকেলে চালাতে জ্বালানি প্রয়োজন। মাঝামাঝি কোনও বাহন নিয়ে নিজের মতো আরাম করে বসে সহজে গন্তব্যে পৌঁছে যেতে চান, আর পয়সাও বাঁচাতে ইচ্ছুক হন, তাহলে ইলেকট্রিক বাইক হবে সহজ সমাধান।
ব্যাটারিচালিত তিন চাকার এমন বাইক নিয়ে এসেছে আকিজ মোটরস। ‘সাথী’ নামের এই বাইকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, সাইকেল বা মোটর বাইক চালানো না শিখেও খুব সহজে এটি চালানো যাবে। তিন চাকার এই বাইকটিতে ভারসাম্য রক্ষা করার কোনও ঝামেলা নেই।

আকিজ মটরসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মুহাম্মাদ আবুল হাশেম বলেন, “যানজটের এই শহরে বাসে ভ্রমণ এক দুঃসহ যন্ত্রণা। কিন্তু ‘সাথী’ থাকলে অফিসে যাওয়া-আসাসহ বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসা কর্মজীবীদের জন্য এখন আর কষ্টের নয়। নেই কোনও বাইক রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা। জীবন হবে অনেক সহজ।” তিনি আরোও জানান, ‘সাথী’তে ৬০০ ওয়াটের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একবার পূর্ণচার্জে ই-বাইকটি শহরে ৫০-৫৫ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ৬০-৬৫ কিলোমিটার যেতে পারে। ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে ই-বাইকটি।

নিরাপত্তার জন্য ‘সাথী’র তিন চাকাতেই রয়েছে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক। ৩০০-১০ সাইজের চাকা এবং যথেষ্ট গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকাতে উঁচু-নিচু বা গতিরোধকগুলোও ‘সাথী’ সহজে টপকে যাবে। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ই-বাইকটির পিছনের দুই চাকাতেই শক অ্যাবসর্ভার রয়েছে।
শব্দ ও জ্বালানিবিহীন এসব ই-বাইকে শক্তিশালী ও উন্নতমানের জেল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘সাথী’তে সিটের মাঝখানে জিনিসপত্র রাখার সুপরিসর জায়গা রয়েছে। এছাড়া সিটের নিচের অংশে অনায়াসে নিজের হেলমেট থেকে শুরু করে আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র লক করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।সিটের হেলান দেয়ার পেছনের অংশেও রয়েছে খাঁচাসদৃশ স্টোরেজ। মোটকথা, নিজের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র অনায়াসে এই ই-বাইকে নিয়ে চলে যেতে পারবেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।ই-বাইকটিতে থ্রটলের নিচে সুইচে রয়েছে গিয়ার। তিন পুশ গিয়ার সমৃদ্ধ এই ই-বাইকটিতে সহজে গিয়ার চেঞ্জ করে যেকোনো প্রতিকুল রাস্তাও অনায়াসে পাড়ি দেয়া যাবে। গিয়ার সুইচের পরেই রয়েছে ব্যাক গিয়ার। সুইচটি চেপে বাইক থেকে না নেমে মোটরের সাহায্যে সহজে ই-বাইকটিকে পেছনে নেয়া যাবে। এই বাইকে পায়ের কোন কাজ নেই। দুই হাতে ব্রেক রয়েছে। কোথাও পার্ক করে রাখার জন্য রয়েছে ব্রেক লকার।

‘সাথী’র ডান হাতে রয়েছে থ্রটল। থ্রটল যত ঘোরানো হবে ততই গতি বাড়বে। থ্রটল ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে বাইকের গতি কমে আসবে। চুরির হাত থেকে ই-বাইকটিকে রক্ষা করতে বাইকটিতে কি লকের পাশাপাশি রিমোট লক ব্যবহার করা হয়েছে। তাই সিটে বসার সময় হাতল ঘুরিয়ে সহজেই বসা যায়। পেছনের যাত্রীর পা রাখার জন্য বাইকটিতে অতিরিক্ত ফুট রেস্ট বা পাদানি সংযোজন করা হয়েছে।ই-বাইকটি সম্পর্কে আকিজ মটরস এর ইলেকট্রিক মটর সাইকেল সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ ফারুক বলেন, ‘পরিবেশ বান্ধব এই ই-বাইকটি ২৫০ কেজি পর্যন্ত ধারণ করতে পারে। সম্পূর্ণ মেইন্টেনেন্স মুক্ত ড্রাইসেলের ব্যাটারি ব্যবহার করাতে ই-বাইকটি আলাদা কোন যত্ন নেবার বিষয় নেই।’
‘কিনুন এবং চালান’ এই থিউরিতেই মূলত আকিজের ই-বাইক বাজরে ছাড়া হয়েছে।

আকিজের এই ই-বাইকটির দাম জানতে এবং এটি কিনতে ভিজিট করুন- https://akijmotors.com
এই ঠিকানায়। ভিজিট করতে পারেন ফেসবুকও: https://www.facebook.com/AkijMotors
হটলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইল ফোন নম্বর: 01770794917
রাজধানীর তেজগাঁও এর আকিজ মোটরস এর প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ সারাদেশে ই-বাইকটি পাওয়া যাচ্ছে। সুত্র: ইন্টারনেট।

 

শিশুদের ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব


নারী সংবাদ


পুরনো ঢাকার অধিবাসী নজরুল ইসলামের পাঁচ বছরের শিশু কন্যা জারা এখন অনেক পাওয়ারী চশমা পরে। চশমা ছাড়া পড়তে সমস্যা হয়, টিভি দেখতে ও সমস্যা হয়।
একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ সারাক্ষণ জারাকে চশমা পড়ার উপদেশ দিয়ে সতর্ক করেছেন নিয়মিত চশমা ব্যবহার না করলে তার চোখের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।
জারার মা ঝর্না বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, দুই-আড়াই বছর বয়স থেকেই জারা মোবাইল ফোনে গেম খেলে। গত কয়েকদিন আগে সে আমাকে জানায় যে,সে ঠিকমত টিভি দেখতে পারে না, অস্পষ্ট দেখে। সেই সময় ওর চোখের নীচে কাল দাগও আমরা লক্ষ্য করি।
চোখের ডাক্তারকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারনেই ওর চোখের এই অবস্থা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের চার্টার বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, স্মাট ফোনের অধিক ব্যবহার চোখের রেটিনা,কর্নিয়া এবং অন্যান্য অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
১৬ বছর বয়সী মেহেদি প্রাঞ্জলের বাবা আব্দুল বারাক বলেন,”সম্প্রতি আমি লক্ষ্য করলাম যে আমার ছেলে আমার মানি ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করা শুরু করেছে। কারণ এবার এসএসসি ফেল করার কারণে আমি ওকে হাত খরচ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”
“সব আমার দোষ, আমি কেন যে ওকে ফোন কিনে দিলাম,” হাহাকার করে ওঠেন বারাক।
তিনি জানান মেহেদি যখন অস্টম শ্রেণিতে পড়ে তখন তিনি ওকে ফোন কিনে দেন।
বারাক জানান, মেহেদি সারাক্ষণ ফোন নিয়ে থাকতেই পছন্দ করে। কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলেনা। ফোন কেড়ে নিলে প্রচন্ড হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ফোন আমাদের জন্য অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে বিবিধ সমস্যা। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কারণ বতর্মান সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
লিটেল জুয়েল স্কুলের শিক্ষিকা সাইদা ইয়াসমিন বাসস’কে জানান, মাঝে মাঝে কিছু বাচ্চা স্কুলে ফোন নিয়ে আসে। এমনকি শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তারা ক্লাসে ফোন ব্যবহার করে।
“ক্লাসে তাদের মন বসেনা, বাড়ির কাজ করে না যার প্রভাব পড়ে তাদের পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক উম্মে কাওসার বলেন “সবচেয়ে খারাপ দিক হল তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা ফোনে মেসেজ, নোটিফিকেশন চেক করতেই ব্যস্ত থাকে। ফোন তাদের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিলে তারা ক্ষেপে যায়।”
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ এ এসএম মাহমুদুজ্জান বলেন, আজকের শিশুরা রেডিও ফ্রেকুয়েন্সি ঘেরা এক পরিবেশের মধ্যে বড় হচ্ছে, ফোন থেকে যে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি নির্গত হয় তা তাদের জন্য ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।
যে সমস্ত শিশুরা ফোন ব্যবহার করে তারা অপেক্ষাকৃত অনিদ্রা এবং অস্থিরতায় ভুগে থাকে।
তবে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে শিশুদের উপর ফোনের কু প্রভাব কমে যাবে। সেগুলো হল, কথা বলার সময় এয়ারফোন ব্যবহার করা, বাচ্চাদেরকে স্কুলে ফোন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দেয়া, শোয়ার ঘরে ফোন নিতে না দেয়া এবং বাচ্চাদের সাথে মোবাইলের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে
কাউন্সেলিং করা। সুত্র: রোকসানা ইয়াসমিন (বাসস)।