banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

শীলা বিয়ের পর থেকে শ্বশুড় বাড়ীতে থাকে

কানিজ ফাতিমা


শীলা বিয়ের পর থেকে শ্বশুড় বাড়ীতে থাকে ৷ শীলার শ্বাশুড়ী জাহানারা বেগম ৷ শীলা বা জাহানারা বেগম কেউই খারাপ মানুষ না ৷ কিন্তু তাদের সম্পর্ক খুব একটা মধুর না ৷ জাহানারা বেগম গোছানো স্বভাবের ৷ সবকিছু, বিশেষ করে রান্না ঘরের জিনিস পত্র তার গোছানো থাকা চাই ৷ রান্না ঘরের প্রত্যেকটি জিনিস যত্ন করে জায়গামত রাখা, সবকিছু ঝকঝকে তকতকে করে রাখার ব্যাপারে তিনি খুবই সচেতন৷ কেউ এগুলো তার মত গুছিয়ে ব্যবহার করতে না পারলে তিনি খুবই বিরক্ত বোধ করেন এবং অভিযোগ করেন৷ অন্যদিকে শীলা স্বভাবে ঠিক উল্টো৷ সে দ্রুত কাজ করে, একেবারেই গোছালো না এবং তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জিনিসপত্রের খুব একটা যত্ন নিতে পারে না৷ ফলে রান্নাঘর ব্যবহার করে সে প্রায়ই এটাকে এলোমেলো করে রাখে৷ তার এ স্বভাব নিয়ে জাহানারা বেগম প্রায়ই অভিযোগ তোলেন ৷ শীলা চেষ্টা করে কিছুটা গুছিয়ে কাজ করতে৷ কিন্তু সে খুব একটা সফল হয়না ৷তাছাড়া শীলা চাকুরী করে বলে তার পক্ষে রান্না ঘরে খুব বেশী সময় দেয়া সম্ভব না ৷ফলে বউ-শ্বাশুড়ী সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে৷ জাহানারা বেগমের অভিযোগ, “বউ একেবারেই কাজের না ৷ খুবই অগোছালো, এলোমেলো ৷পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না ৷” শীলার অভিযোগ, ” শাশুড়ী সকাল-বিকাল তার পিছনে লেগেই থাকে, সবকিছু নিয়ে খ্যাচ খ্যাচ করে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই থাকে৷” এর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয় শীলার মা ও ননদ৷ শীলার মা দুঃখ করে বলে, ” শ্বাশুড়ী টা আমার মেয়েটাকে শুধু জ্বালায়”৷ ননদ বলে, “শীলা আমার মায়ের বদনাম করে বেড়ায়৷”

এ ঘটনায় আমরা যা দেখতে পাই তাহলো, শীলা ও জাহানারা বেগম দু’জনের কারো চাওয়াই (expectation) অযৌক্তিক না এবং দু’জনের অভিযোগই সত্যি৷ শ্বাশুড়ী চাচ্ছেন বউ তার মত গুছিয়ে কাজ করুক৷ অন্যদিকে, বউ চাচ্ছে শ্বাশুড়ী তার বিরুদ্ধে সকাল বিকাল অভিযোগ করা বন্ধ করুক ৷ এক্ষেত্রে দু’জনই ঠিক ৷ তাহলে সমস্যা কোথায় ? সমাধানই বা কি?

সমস্যাটা হলো দু’জনের দু’জনকে বোঝায়৷ জাহানারা বেগম ও শীলা দু’জন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ৷ তাদের Personality type ভিন্ন ৷ তারা একজন আরেকজনের মত হতে পারবে না ৷ জাহানারা বেগম যদি মনে করেন শীলাকে তার মত হতে হবে তবে তিনি ভুল করছেন৷ মানুষ তার Personality type পুরোপুরি বদলাতে পারে না ৷ তাই জাহানারা বেগমকে শীলার অগোছালো স্বভাবকে মেনে নিতে হবে এবং এ নিয়ে অভিযোগ করা বন্ধ করতে হবে ৷ অভিযোগ বন্ধ করে শীলাকে ধীরে ধীরে কাজের পদ্ধতি দেখিয়ে দিলে long term এ শীলার এ যোগ্যতা কিছুটা বাড়বে (skill development)৷ কিন্তু অভিযোগ (বা nag) সম্পর্কের অবনতি ছাড়া আর কিছুই ঘটাবে না ৷

একই সাথে শীলাকেও স্বীকার করতে হবে তার শ্বাশুড়ীর একটি ভালো গুন বা (Skill) আছে৷ যতটা সম্ভব এ গুনটির অনুকরণ করা তার নিজের জন্যই ভালো ৷ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের দু’জনকেই বুঝতে হবে অন্যজন ‘খারাপ মানুষ’ না, সে তার থেকে ‘ভিন্ন প্রকৃতির’ মানুষ৷ আল্লাহ তা’আলাই মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির করে সৃষ্টি করেছেন৷

এর পরও যদি দু’জন দু’জনের এই ভিন্নতা মেনে নিতে না পারে তবে আলাদা থাকাই তাদের জন্য ভালো৷ একসাথে থেকে পরস্পর সম্পর্কে বিরক্ত হওয়ার থেকে ভিন্ন থেকে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা কল্যানকর ৷

 

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন


নারী সংবাদ


মাথাসহ সারা শরীরে ব্যান্ডেজ। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে পোড়া শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আমি মরে যাব, আমার শিশুসন্তানদের তোমরা যত্ন নিও।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূ রেনজিনা বেগম যখন অশ্রুভেজা চোখে এমন আকুতি জানাচ্ছিলেন, তখন হাসপাতালের পরিবেশ নীরব হয়ে উঠেছিল। আশপাশের যারা এ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিলেন, সবার চোখ গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। যৌতুকের দাবিতে স্বামী হাফেজ শাহাদাত হোসেন আফসার সোমবার ভোরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে গতকাল সকালে রেনজিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বড় ভাই তসলিম উদ্দিন সন্দ্বীপ থানায় হাফেজ আফসারের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা করেন। পুলিশ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে

স্থানীয়রা আফসারকে গণধোলাই দেয়। রেনজিনা স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেছেন, দেশে যেন কোনো নারীর এমন পরিণতি না হয়।

হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের নুর রহমানের মেয়ে রেনজিনা বেগম ২০১৩ সালে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর রেনজিনার সঙ্গে হাতিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মুসাপুর গ্রামের সিদ্দিক টেন্ডরের ছেলে হাফেজ শাহাদাত হোসেন আফসারের বিয়ে হয়। তাদের আরাফাত সিদ্দিক বুখারী (৫), খাদিজা নাহার হাফসা (৩) ও আবদুল্লাহ সিদ্দিক তিরমিজি (৬ মাস) নামে সন্তান রয়েছে।

গৃহবধূর বড় ভাই দিদার উদ্দিন ও রহমত উল্যাহ সমকালকে বলেন, বিয়ের পর আফসার সৌদি আরব, কাতার ও আবুধাবি ছিলেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেন। প্রবাসে যাওয়ার সময় তাকে দফায় দফায় রেনজিনার পরিবার আর্থিক সহযোগিতা করে। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি নোয়াখালীর কবিরহাটে একটি মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। এ সময় আফসার রেনজিনার কাছে আবার যৌতুক দাবি করেন। রেনজিনা এর প্রতিবাদ করে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

রেনজিনা ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আফসার প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন। পৌষ মাসের শীতে তাকে কম্বলও গায়ে দিতে দিতেন না। গত রোববার সকালে আফসার রেনজিনাকে বাবার বাড়ি থেকে কম্বল ও টাকা আনার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রাতে খাওয়া শেষে রেনজিনা তিন সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে আফসার তাকে ডেকে তোলেন এবং আগুন পোহানোর প্রস্তাব দেন। রেনজিনা এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে ফের ঘুমাতে যান। এ সময় আফসার তাকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে একটি রুমে নিয়ে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর বোতলভর্তি পেট্রোল এনে রেনজিনার মাথা ও শরীরে ঢেলে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশী কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভায়। ততক্ষণে রেনজিনার মাথা, চোখ, গলা, বুক, পিঠ ও বাঁ হাত সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা সকালেই তাকে সন্দ্বীপ মেডিকেলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাবার পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভাই দিদার উদ্দিন ও রহমত উল্যাহ তাকে মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল আলম চৌধুরী সমকালকে বলেন, ওই গৃহবধূর পুরো মাথা, একটি হাত, পিঠ ও বুক দগ্ধ হয়েছে। রোগীর অবস্থা ভালো নয় বলে তিনি জানান। সুত্র: সমকাল।