banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Monthly Archives: January 2026

 

এক দিনের রেসিপি


ঘরকন্যা


করলা ভাজি

উপকরণ,

১. বড় সাইজের করলা ২টি,
২. কাঁচা মরিচ,
৩. পেঁয়াজ ৪টা,
রসুন কয়েকটি কোয়া,
৫. লবণ স্বাদমতো ও তেল ৪ টেবিল চামচ।

প্রণালি, করলা পাতলা করে কুচিয়ে নিন। এবার চুলায় তেল গরম হলে পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচ দিয়ে একটু ভেজে হালকা লাল হলে করল্লা দিন। লবণ দিয়ে নেড়ে অল্প সময় ঢেকে রাখুন। চুলায় রেখে ভাজা ভাজা হলে তুলে নিন। করলা বেশি নাড়বেন না।

মাছের ভাজি

উপকরণ,
১. ছোট মাছ ৫০০গ্রাম,
২. পেঁয়াজ কুচি ১.৫ কাপ,
৩. কাঁচা মরিচ পরিমাণ মত,
৪. হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ,
৫. মরিচ গুঁড়া হাফ চামচ,
৬. তেল ৩ টেবিল চামচ,
৭. ধনেপাতা ও লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি,  কড়াই গরম হলে তাতে তেল দিন। কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে নাড়ুন। একটু পানিতে মসলাগুলো গুলিয়ে ঢেলে দিন। তারপর একটু পানি দিয়ে মসলা কষিয়ে মাছ ঢেলে দিন। ঢেকে রাখুন। পানি শুকিয়ে গেলে ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিন। আপনি ভাজাভাজা পছন্দ করলে লালসে রং হলে নামিয়ে ফেলতে পারেন।

পোড়া বেগুন ভর্তা

উপকরণ,
১. বেগুন পোড়া ১টি,
২. শুকনা মরিচ ২টি,
৩. পিঁয়াজ হাফ কাপ,
৪. লবণ স্বাদমতো ও সরিষার তেল ১ চা-চামচ।

প্রণালি, পোড়া বেগুন করতে পারেন গ্যাসের চুলাতেই। পোড়া অংশ পরিষ্কার করে ফেলে চটকে নিন। লবণ, মরিচ, পেঁয়াজ ও তেল দিয়ে একসঙ্গে ডলে নিয়ে বেগুন দিন। সব একসঙ্গে মিশিয়ে আবার খানিকটা চটকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে বেগুন ভর্তা।

 

৯ বন্ধু মিলে গলা টিকে হত্যা করল তরুণীকে


নারী সংবাদ


৯ বন্ধু মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করে এক তরুণীকে। ঘটনার ২০ দিন পর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত জুয়েল আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। জুয়েলকে গ্রেফতারের পর গত মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। সে ১৬৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দীতে জুয়েল জানায়, সে এবং তার আট বন্ধু মিলে তরুণীকে হত্যা করেছে। যৌনকর্মের পর টাকা নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা শ্বাসরোধে ওই তরুণীকে হত্যা করে। তবে তরুণীর নাম ঠিকানা জানা যায়নি।

গত ৮ জানুয়ারি অসামাজিক কাজ করার জন্য রাতে রাস্তা থেকে ২২ বছরের এক তরুণীকে ফতুল্লার ভোলাইলের একটি মাঠে নিয়ে যায় জুয়েল ও তার বন্ধুরা। পরে টাকা নিয়ে ওই তরুণীর সাথে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে জুয়েল ও তার বন্ধুরা মিলে মেয়েটিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তরুণীকে হত্যা করে মাঠেই ফেলে রেখে যায় তারা। গত ৯ জানুয়ারি ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার ২০ দিনের মাথায় জুয়েলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জুয়েল জবানবন্দীতে জানান, ওই রাতে তারা ৯ জন ছিল। টাকা নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে একপর্যায়ে সবাই মিলে ওই তরুণীকে খুন করে। জুয়েল আদালতে বাকি আসামিদেরও নাম প্রকাশ করেছে। গ্রেফতার জুয়েল ভোলাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা জানান, আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে ও কিলিংমিশনে থাকা বাকিদের নাম জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সবার নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

করি পুষ্প রে বিকশিত-৩


আফরোজা হাসান


সেটা কিভাবে?

হেসে, এই যে মুসআব আর মাশফিয়া কিছু করার আগে চিন্তা করে তোমার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। এই চিন্তাটাই যদি ওদের আল্লাহকে ঘিরে হত তাহলে ব্যাপারটা কেমন হত ভেবে দেখো! বাবা-মার কাছে চাইলেই কোন কিছু গোপন করা যায়, মিথ্যা বলা যায়। কিন্তু এটা শিশুরাও জানে যে আল্লাহর কাছে কিছুই গোপন রাখা সম্ভব নয়। আল্লাহ সবকিছু জানেন ও দেখেন। আমি তো আসফিনকে এভাবেই ভাবতে শিখিয়েছি। ভাবী এই কথা তো আমরা খুব ভালো করে জানি যে মানুষকে খুশি করা কতটা কঠিন। আর মানুষকে খুশি করার প্রবনতা যে কোন মুহুর্তে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই বাবা-মার উচিত সন্তানদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাতে আল্লাহ থাকেন সেই চেষ্টা করা। কোন কিছু করার আগে যাতে ওদের মনে এই চিন্তার উদ্রেক হয় এরফলে আল্লাহর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে।

হুম…আসলেই আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে এই ব্যাপারে। আমি বাচ্চাদেরকে নিয়ে ভীষণ ভয়ের মধ্যে আছি।

অন্তরা হেসে বলল, সন্তানের শৈশবে বাবা-মার প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ সমূহের মধ্যে প্রথমেই থাকা উচিত ওদের কচি মনে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বীজ বুনে দেয়া। তারপর নিয়মিত আদর-যত্নের মাধ্যমে সেই বীজ থেকে চারা, চারা থেকে পুস্পকে বিকশিত হতে সহায়তা করা। ইনশাআল্লাহ আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো ভাবী। এখন আগে চলো পিজা বানাতে সাহায্য করি তোমাকে। তুমি প্লিজ আমার জন্য একটু চা করো।

হেসে ননদের জন্য চায়ের আয়োজনে মন দিলো নায়লা। কিছুটা স্বস্থি বোধ করছে এখন। ফুপ্পিকে প্রচন্ড ভালোবাসে মুসআব আর মাশফিয়া। আর শুধু নিজের বা পরিবারের বাচ্চারাই না, দুনিয়ার সব বাচ্চাদের ঘিরে অন্তরার মনে বয়ে চলে মায়া-মমতা ও ভালোবাসার নিরবধি ঝর্ণাধারা। আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যে কোন কাজকে অনেক বরকতময় করে দেয়। কারণ তাতে সমন্বিত থাকে আল্লাহর রাহমাহ।

@
নাস্তা করতে এসে টেবিলে পিজা দেখে বিশাল হাসি ফুটে উঠলো মুসআবের চেহারাতে। ছুটে এসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলো। নায়লাও আদর করে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তাশফিন আর মাশফিয়ারও পিজা অনেক পছন্দ। দেরি না করে তিনজনই তাই বসে গেলো নাস্তা করতে। তাড়াহুড়া করে গরম পিজাতেই কামড় বসিয়ে দিলো মুসআব। সাথে সাথেই চিৎকার করে উঠলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, খুব জ্বালা করছে মুখ। মনেহয় আমার জিভ পুড়ে গিয়েছে।

তাশফিন আনন্দিত কণ্ঠে বলল, মুসআব ভাইয়া মামীর কাছে কথা গোপন করে তুমি যে দুষ্টু কাজ করেছিলে সেটা আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ বলো।

কেন এমন করো বাবা? জানোই তো যে অনেক গরম! বলতে বলতে ছেলের দিকে ছুটে যাচ্ছিলো নায়লা কিন্তু তাশফিনের কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেল। হাসি চেপে একরাশ কৌতুক ভরা চোখে অন্তরাও তাকালো ছেলের দিকে।

মাশফিয়া বিরক্ত কণ্ঠে বলল, তাশফিন তুমি সবসময় শুধু বেশি কথা বলো। ভাইয়ার জিভ পুড়ে গিয়েছে আর তুমি বলছো আল্লাহ দুষ্টু কাজ মাফ করে দিয়েছেন। আর দিলেও তুমি কিভাবে জানো? ছোট্ট বয়সে বাচ্চারা অ্যাঞ্জেল থাকে। তুমি এখন আর অ্যাঞ্জেল নাই। তুমি হচ্ছো মহা পাজী।

তাশফিন নিজের স্বপক্ষে প্রবলভাবে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল, আপ্পি আমি সত্যি বলছি। তুমি আম্মুতাকে জিজ্ঞেস করো। আমি মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা বেঁধে গিয়েছিল। আমি অনেক কান্না করছিলাম। আম্মুতা তখন আমাকে বলেছিল, “রাসূল(সঃ বলেছেন, মুসলিমদের যে কোন অসুখ, মনখারাপ, এমনকি কাঁটা বিধলেও সে কারনে আল্লাহ্ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” আমি তখন আর কান্না করিনি। পরে ডক্টর আঙ্কেল আমার কাঁটা বের করে দিয়েছিলেন। ঠিক বলেছি না আম্মুতা?

অন্তরা হেসে বলল, হ্যা বাবা তুমি একদম ঠিক বলেছো। আচ্ছা এখন তোমরা খেয়ে চাপ চুপচাপ। পরে তোমাদের সবাইকে বুঝিয়ে বলবো এই বিষয়ে, ইনশাআল্লাহ। এখনো অনেক গরম তাই আস্তে আস্তে সাবধানে খাও।

চলবে…..

 

প্রেমিক’ ও সহযোগীদের গণধর্ষণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী


নারী সংবাদ


রাজবাড়ী জেলা শহরে ড্রাইআইস ফ্যাক্টরি এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মেয়েটি বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, সুজন খা, আল আমিন ফকির, আকাশ সরকার, ফজলুর রহমান ও বাবু ব্যাপারী। তবে এজাহারভুক্ত আসামি মোস্তফা ফকিরকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদের সকলের বাড়ি জেলা শহরের ড্রাইআইস ফ্যাক্টরি ও বড়লক্ষিপুর গ্রামে।

রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে সুজন খা’র সাথে ওই ছাত্রীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের অংশ হিসেবে গত সোমবার বিকালে সুজন জেলা শহরের ড্রাইআইস ফ্যাক্টরি এলাকার একটি পরিত্যক্ত মেসে নিয়ে যায় ওই ছাত্রীটিকে। সেখানে সে ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সে সময় বাঁচতে মেয়েটি কান্নাকাটি করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেই সাথে রাজবাড়ীর এসপি আসমা সিদ্দিকা মিলির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তারা ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

ধর্ষিতা শিশুর মায়ের আহাজারি


নারী সংবাদ


‘আমার মা কই। তোমরা আমার মায়েরে ফিরায়া দাও। কে আছো আমার পাশে, দেখ আমার মা (ব্যানারের ছবি দেখিয়ে) সবার দিকে তাকিয়ে হাসছে। কোথায় আমার সরকার। আমারে সাহায্য করতে বলো। আমি আমার মায়ের ধর্ষণকারীর বিচার চাই, ফাঁসি চাই। আসামির হয়ে সবাই আমারে হুমকি দেয়, টাকা নিয়া পুলিশও আসামির পক্ষে কথা কয়। আমার কেউ নাই, আমি কী করুম, কার কাছে বিচার চামু।’ এভাবেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ফুটপাথে গতকাল বিলাপ করছিলেন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার দুই বছরের শিশু আয়েশা মনির মা রাজিয়া সুলতানা।

গতকাল দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে ধর্ষকের বিচার দাবি করেন। তিন শিশুসন্তান নিয়ে অবস্থানের পুরো সময়টাই তিনি চিরতরে চলে যাওয়া সন্তানের স্মৃতিচারণ করে পাগলের মতো বিলাপ করছিলেন। অনেকে এসে তার আর্তনাদ থামাতে পারেননি। অবশেষে পুলিশ অনেক বুঝিয়ে রিকশায় তুলে দিয়ে তাকে গেণ্ডারিয়ায় বাড়িতে পাঠায়।

এর আগে রাজিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যাকারী এলাকায় খুব প্রভাবশালী। তাকে পুলিশ আটক করলেও সে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে তার স্বামী মো: ইদ্রিস তাকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। অবশেষে তিনি স্বামীর অগোচরে এখানে এসেছেন। তার ধারণা ধর্ষকের বিচার হবে না। সে যেকোনো সময় বের হয়ে তার এবং সন্তানদের ক্ষতি করবে।

গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের ৫৩/১/ছ নম্বর চারতলা বাড়ির পাশে টিনশেড বস্তিতে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু আয়েশা মণিকে। মা-বাবা ও তিন বোনের সাথে থাকত শিশুটি। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে যেতেন। এ সময় গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে খেলে বেড়াত শিশুটি। অন্য দিনের মতো বিকেলে খেলতে বের হয় আয়েশা। সন্ধ্যার দিকে টিনশেড বস্তির পাশের চারতলা বাড়ির সামনে আয়েশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। আয়েশার পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। চারতলা বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া নাহিদ (৪৫) শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে ভবনের তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ জানুয়ারি শিশুটির বাবা ইদ্রিস আলী বাদি হয়ে গেন্ডারিয়া থানায় একটি মামলা করেন। এরপর নাহিদকে আটক করে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গেন্ডারিয়া থানার এসআই হারুন অর রশিদ। নাহিদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু পরে নাহিদ জবানবন্দী দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম নিবারা খায়ের জেসি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

শিশুদের সাথে সংলাপ


কানিজ ফাতিমা


কথা বলুন! আপনার সন্তানের সাথে আলোচনা করুন যে কোনো বিষয়ে এবং সকল বিষয়ে, আপনি সারা দিনে কী করেছেন তা নিয়ে, বিভিন্ন বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী এবং আপনার সন্তান এটা-সেটা নিয়ে কী ভাবছে সে বিষয়ে। যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিন; আপনার সন্তানকে চিনুন, জানুন। আপনি আপনার চিন্তাকে কিভাবে প্রকাশ করছেন তা আপনার সন্তানের জানা জরুরী। সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো ছাড়াও ভাষার উন্নয়ন এবং স্পষ্টভাষিতার জন্যও কথা বলা জরুরী। আপনাকে যাতে ‘বিরক্ত’ না করতে পারে সেইজন্য দূরে রাখার উদ্দেশ্যে টেলিভিশন, ইন্টারনেট অথবা কম্পিউটার গেম দিয়ে তাকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন কথা বলার অভাবের ফল হলো নির্জীব মেধা এবং জড়তা।

যোগাযোগের মধ্যে যেমন থাকা উচিত গুরুগম্ভীর আলোচনা তেমনি এবং পারস্পরিক হাসি-কৌতুক। মা-বাবার অবশ্যই সন্তানদের সাথে হাসি-কৌতুক এবং খেলাধুলা করা উচিত। কারণ হাসি-কৌতুক সম্পর্ক মজবুত করে এবং একঘেয়েমি ভাব দূর করে। অনেকসময় বাচ্চাদেরকে বড় করার কাজে বাবা-মা এত বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, তারা এ বিষয়টিকে উপভোগ করতে ভুলে যান । এটা একটি বড় ভুল। শিশুদের ভুবন আনন্দ আর খেলায় পরিপূর্ণ। তাদের আনন্দ করার এবং খেলাধুলার চাহিদা অসীম। সেসব বাবা-মা বাচ্চাকে নিয়ে খেলতে বা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বদলে টিভি বা কম্পিউটারে মুখ গুজে পরে থাকতে পছন্দ করেন বাচ্চারা তাদের প্রতি বিরক্ত হয়। জীবন যখন নানামুখী চাপ আর উদ্বেগে পরিপূর্ণ, তখন শিশুরাই পারে কিছুক্ষণের জন্য হলেও চাপ কমানোর সর্বোত্তম ওষুধ দিতে (মা-বাবাকে তাদের শিশুসুলভ জগতে হারিয়ে যেতে সাহায্য করার মাধ্যমে)। কিছু মা-বাবা মনে করেন বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা নিজেদের গাম্ভীর্য ও সিরিয়াস ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর; এর মানে হলো জীবনের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কাজকে অবহেলা করা। বাস্তবতা হলো, আপনি যখন শিশুদের সাথে হাসেন, তখন তারা আপনার সঙ্গে সহজ ও নির্ভয় হতে ভরসা পায়। এতে আপনার সঙ্গে তাদের ভালোবাসার এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরী হয় এবং বাচ্চারা তাদের আত্মপ্রকাশে সাবলীল হয়। কৌতুক এবং হাসি-ঠাট্টা করা যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অনুবাদ Parent Child Relations

 

সন্তানদের জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ


নারী সংবাদ


সাতক্ষীরার তালায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূ ধর্ষনের শিকার হয়েছে। রোববার ভোর রাত ২টার দিকে তালা উপজেলার বালিয়াদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা গৃহবধূকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষক পলাতক রয়েছে।

ধর্ষকের নাম মোঃ মনিরুল সরদার (৩০)। তালা উপজেলার বালিয়াদহ গ্রামের মোঃ আফছার আলী সরদারের ছেলে।

গৃহবধূর চাচা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা করিম সরদার জানান, গৃহবধূর স্বামী বরিশালে একটি ইটভাটায় কাজ করেন। স্বামী বাড়ি না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী লম্পট ও মাদক ব্যবসায়ী মনিরুল তাকে প্রায়ই উত্তক্ত করতো। এরই জের ধরে রোববার ভোর রাত ২টার দিকে মনিরুল লোহার সাবল দিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে গৃহবধূর ঘরে ঢোকে।

এসময় সে গৃহবধূর দুই সন্তান সুমনা (৭) ও সোহানাকে (আড়াই বছর) ছুরি দিয়ে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাক্তারি পরিক্ষা শেষে বর্তমানে সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী আলামিন সরদার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে, এ ঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

সুইসাইড প্রতিক্রিয়া


হাবিবা মৃধা


সুইসাইড নিয়ে অনেক গবেষণা প্রবন্ধ বই বের হয়েছে, প্রতিরোধী অনেক সংগঠন কাজ করছে। তাছাড়া পবিত্র কোরআন ও হাদীস শরীফে অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা বাণী এসেছে।মহান আল্লাহ বলেনঃ
তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা! অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু!
যে কেউই বাড়াবাড়ি ও যুলুম করতে গিয়ে এই হত্যার কাজ করে অচিরেই আমি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিব, আল্লাহর পক্ষে এটা একেবারেই সহজ!
সুরা নিসা(আয়াত আংশিক ২৯ -৩০)

আবু হোরায়রা [রা.] থেকে বর্ণিত মহানবী [সা.] বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে অনুরূপভাবে আত্মহত্যা করতেই থাকবে এবং এটিই হবে তার স্থায়ী বাসস্থান। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ তার হাতে থাকবে, জাহান্নামে সে সর্বক্ষণ বিষ পান করে আত্মহত্যা করতে থাকবে। আর এটা হবে তার স্থায়ী বাসস্থান। আর যে ব্যক্তি লৌহাস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে লৌহাস্ত্রই তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সে তা নিজ পেটে ঢুকাতে থাকবে, আর সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।’ [বোখারি ও মুসলিম]

সুইসাইড প্রতিক্রিয়ায় কেন জানি আমি কিছু লিখতে গেলেই থেমে যাই, আমার কাছে মনে হয় ধর্মীয় চিন্তা, আল্লাহর প্রতি ভরসা বা ভয় কোনটিই থাকেনা তার!শুধু পৃথিবীর অনিয়ম অনাচারের প্রতি ক্ষোভ রেখে নিজেকে সরিয়ে নেয়।

কয়েকমাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাইফকেয়ার হাসপাতালের ছাদ থেকে সন্তান ফেলে দিয়ে, পরে মায়ের ও একই ভাবে আত্মহত্যার ভিডিও দেখেছিলাম ২৪ এর নিউজে।

রিপোর্টে দেখলাম সিজারের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে মা মেয়ের বাকবিতণ্ডা এবং প্রবাসী স্বামীর দ্বায়িত্ব অবহেলায় এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে!
একজন মা একটা সন্তান কত কষ্টে পৃথিবীতে এনে আবার নিজ হাতে শেষ করে দিতে পারেন? যাদের প্রতি ক্ষোভে এরকম করলেন তাদের আদৌ কিছু হবে কি?

কোরিয়ান একটা ভিডিও পাঠিয়েছিল কে যেন, সেখানে দৃশ্য ছিল সদ্যভূমিষ্ট মৃতবাচ্চাটা কোলে নিয়ে আদর করছেন মা! কারণ একজন মা ই কেবল অনুভব  করেন মাতৃত্ব ও এর পিছনের কষ্টের গল্প গুলো!

গত ডিসেম্বরে চাঁদ পুরে ফুটফুটে দুই সন্তান ও স্ত্রী সহ যে যুবক আত্মহত্যা পূর্ববর্তী ভিডিও আপলোড করেন সেখানে বলেন  আমার পরিবারের এ অবস্থার জন্য শশুর বাড়ির লোকজন দায়ী!

আজ আবার একজনকে বলতে শুনলাম তার সহকর্মীকে উদ্দেশ্য করে ভাই আমার কিছু হয়ে গেলে অমুক দায়ী, আপনি সাক্ষী থাকেন!
আমার প্রশ্ন হল মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা
কেন আসছে যে চলে গেলেই কেউ  দায়ী থাকে? আর দায়ী থাকলেও তো যে চলে যায় তার কোনকালে দেখার সুযোগ হলোনা!
সম্প্রতি আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী ও আত্মহত্যা চেষ্টা কারী উভয়ের জন্যই শাস্তির বিধান চালু হয়েছে! কিন্তু সে বিধান কতটুকু কার্যকর তা প্রতিদিন আত্মহত্যার গড় রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায় !

মরে গেলেই কেহ অমর হয়ে যায়? আর যারা সৃষ্টি কর্ম দ্বারা অমর হয়ে আছেন তাদের ই তো এজাতির মনে রাখার সময় নেই! ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ সবার প্রতি ক্ষোভ আর নিজের প্রতি ঘৃণা নিয়ে কেউ চলে গেল তবে সমাজের কি হল?

এনিয়ে যারা কাজ করছেন তারও হয়ত এ প্রশ্ন খুঁজছেন! প্রথমত সমাজ সচেতনতা জরুরী ব্যক্তি স্বার্থে যারা মানুষকে অন্ধকুপে ঠেলে দেয় তাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার
দ্বিতীয়ত মানুষের মধ্যে মৃত্যু পরবর্তী শাস্তি অনুভব করানো।

আত্মহত্যা মহাপাপ একথা সকল ধর্ম স্বীকৃত এমনকি অনেক আত্মহত্যাকারীর শেষ বক্তব্য ও এটা।
প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে কতজন কতভাবে চলে যাচ্ছে, কেউ যে ফিরছেনা এও স্বীকার করছি তবে কেন মৃত্যুকে এত সহজ মনে হয়?
ক্ষনিকের নরক থেকে বাঁচার জন্য মানুষ চিরস্থায়ী জাহান্নামে জায়গা করে নেয়।

মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় কথায় কথায় যারা মরে যাবার কথা বলে তাদের মৃত্যুপরবর্তী শাস্তি দুনিয়ায়  প্রাকটিকাল দিয়ে বোঝানো।
কেউ যেমন নিজের ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসেনি, তাকে যে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা পালনের শেষ চেষ্টা পর্যন্ত তিনি চলে যাবার অধিকার রাখেন না।পৃথিবীতে অনেক মানুষ সর্বহারা হয়েও জীবনযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন কারণ আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পারলে চিরসুখী জান্নাত কি করে অর্জন হবে।

একজন মানুষ যখন ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, ভিতরে ভিতরে  মরে যায় দিনের আলোয় তারাও স্বাভাবিক মানুষ! তখন প্রয়োজন চারপাশের মানুষের সহযোগিতা কিন্তু আমরাই শেয়ার করিনা অথবা শেয়ার করার মত আস্হাবান জায়গা পাওয়া যায়না।

ঢাবি শিক্ষিকা তাওহীদা আপুর প্রতিটা লেখায় তার আত্মহত্যাকারী ভাইয়ের প্রতি করুণ আকুতি প্রকাশ পায়! ভাই কি জানতনা যে তার চলে যাওয়া আপনজনদের অস্বাভাবিক জীবনে ঠেলে দিবে?

হ্যা জানলেও তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের জবাব তিনি এভাবে দিয়েছেন?
আসলে কি তাই হয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র তারকা মেরেলিনা আত্মহত্যা পরবর্তী সময়ে যেমন সেখানকার স্বেচ্ছায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে  গিয়েছিল ঠিক বাংলাদেশেও মিডিয়ায় প্রচার, ফেসবুকে ডিপ্রেশন স্ট্যাটাস,  মৃত্যু পূর্ববর্তী ভিডিও আপলোড আত্মহত্যা প্ররোচনা হিসাবে কাজ করছে! যে সকল মিডিয়া
আত্মহত্যা কারীদের সাহসী হিসাবে তুলে ধরেন তাদের প্রতি ধিক্বার জানাই!

মানুষকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিচার না করে সাধারণ জীবনেও যে বেঁচে থাকার সৌন্দর্য আছে এজায়গা গুলো নিয়ে কাজ করা দরকার, মৃত্যুই শেষ কথা নয়! বেঁচে থাকতে যাদের মুল্যায়ন পাওয়া যায়নি মরে গেলেও তাদের কিছু আসে যায়না।

এমনকি আমাদের সমাজ, বিচার কোন কিছুতে তাদের নুনতম অনুশোচনা ও আসবেনা! সাময়িক জেদ /ক্ষোভ/অভিমানে নিজেকে ধ্বংস করা ছাড়া আর  কিছুই না।

নিজের জন্য বাঁচতে হয় নয়ত পরিবার সমাজের জন্য! সমাজের যে জায়গাগুলো পঁচন ধরছে বেঁচে থেকেই তার প্রতিষেধক হতে হবে! একজনের অনুপস্থিতিতে দিনশেষে কেউই দায়ী থাকেনা ঠিক কবরেও কেহ কারো শাস্তি ভোগ করবেনা।

 

করি পুষ্প রে বিকশিত-২


আফরোজা হাসান


আম্মুকে মন খারাপ করে বড় ভাইয়ার সাথে কথা বলতে দেখে বই নিয়ে পড়তে বসে গেলো মাশফিয়া। কিছুক্ষণ যেতেই মনে মনে অস্থির হয়ে উঠলো। এখনো আসছে না কেন ভাইয়া? কি এত কথা বলছে আম্মুর সাথে? সেকি গিয়ে দেখবে? কিন্তু আম্মু বলে দিয়েছে যখন একজনের সাথে কথা বলা হয় তখন যাতে অন্যজন সেখানে না যায়। মামীমা কি মুসআব ভাইয়াকে মারবে আপ্পি? প্রশ্নটা শুনে পাশে বসে থাকা দুই বছরের ছোট ফুপাতো ভাইয়ের দিকে তাকালো মাশফিয়া। চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে জবাবের অপেক্ষা করছে তাশফিন।

মাশফিয়া বিরক্ত কন্ঠে বলল, আম্মু কখনোই আমাদেরকে মারে না বুঝেছো?

ডানে বামে মাথা নাড়াতে নাড়াতে তাশফিন বলল, আমার আম্মুতাও আমাকে কক্ষনো মারে না। কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলল, আপ্পি মুসআব ভাইয়া পঁচা কাজ করেছে তাই না? আম্মুতাকে সব বলতে হয়। আমি আম্মুতাকে সব বলি।নয়তো আল্লাহ বিরক্ত হন।আর আল্লাহ বিরক্ত হলে মারা যাবার পর আমাদেরকে জান্নাত দেবেন না। জান্নাতে যেতে না পারলে তো সব শেষ। আমি কত কিছু লিখে রেখেছি জান্নাতে গিয়ে আল্লাহর কাছে চাইবার জন্য।

মাশফিয়া বিরক্ত কণ্ঠে বলল, তুমি কথা বেশি বলো, বুঝেছো? মুসআব ভাইয়া আর আমিও আম্মুকে সব বলি। মুসআব ভাইয়া আম্মুকে কষ্ট দিতে চাইনি তাই ক্লাসে মারামারি করার কথা বলেনি।

তাশফিন মনখারাপ করে বলল, আম্মুতা বলেছে কোন কাজ করার আগে ভেবে দেখতে সেটা করলে আল্লাহ খুশি হবেন নাকি কষ্ট পাবেন! কারণ আম্মুতা-বাবা আমাকে সবসময় দেখতে পায় না। কিন্তু আল্লাহ সবসময় আমাকে দেখতে পায়। তাই আমাকেও আল্লাহর খুশি আর কষ্ট দেখতে হবে।তুমি জানো আমাদের দুই কাঁধে দুইটা অ্যাঞ্জেল আছে? তারা সবকিছু লিখে রাখেন। তুমি যদি চুপিচুপি কিছু করো সেটাও লিখে ফেলেন। আর অ্যাঞ্জেলরা কক্ষনো ঘুমায়ও না। বলে লম্বা একটা দীর্ঘাশ্বাস ছাড়ল তাশফিন।

মাশফিয়ার বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে ভাতিজী আর ছেলের কথোপকথন চুপচাপ শুনছিল অন্তরা। ছেলের দীর্ঘশ্বাস শুনে হেসে ফেললো। উঠে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে বলল, অ্যাঞ্জলরা ঘুমায় না বলে কি তোমার মনখারাপ লাগে তাশফিন?

তাশফিন বলল, মাঝে মাঝে একটু একটু লাগে আম্মুতা?

অন্তরা হেসে বলল, তারমানে তো তোমারো অনেক দুষ্টু কাজ করতে ইচ্ছে করে?

মনের ইচ্ছারা আম্মুতার কাছে ধরা পরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে নিজেকে তাড়াতাড়ি সামলে নিলো তাশফিন। কথার মোড় ঘুরিয়ে দেবার জন্য বলল, আজ আমি যে গল্পটা পড়েছি সেটা থেকে কি শিখেছি জানো আম্মুতা?

অন্তরা হাসি চেপে বলল, কি শিখেছো?

কখনোই আমাদের স্বার্থপর হওয়া উচিত না। স্বার্থপর হয়ে অন্যের ক্ষতি করতে গেলে নিজেরই ক্ষতি হয়।

অন্তরা বলল, মাশাআল্লাহ। অনেক সুন্দর কথা শিখেছো তো। আচ্ছা এখন তুমি লিখো যে পুরো গল্পটা থেকে তুমি কি বুঝেছো। রাতে আমরা বাসায় ফেরার পর আম্মুতা দেখবো, ইনশাআল্লাহ।

বিছানা থেকে নেমে মাশফিয়া আর তাশফিনকে আদর করে দিয়ে রুম থেকে বের হলো অন্তরা। করিডোরে মুসআবের সাথে দেখা হলে ফুপ্পিকে জড়িয়ে ধরলো মুসআব।

অন্তরা আদর করে বলল, কি আম্মু বেশি বকা দিয়েছে?

মুসআব বলল, না আম্মু কিছুই বলেনি। তুমি কিন্তু আজ যেতে পারবে না ফুপ্পি। আরো দু’দিন থাকতে হবে তোমাকে।

হাত দিয়ে মুসআবের চুল এলোমেলো করে দিয়ে অন্তরা হেসে বলল, আচ্ছা এই ব্যাপারে আমরা পরে কথা বলবো। তুমি যাও হোমওয়ার্ক সেরে ফেলো। এরপর আমরা সবাই মিলে পার্কে ঘুরতে যাবো।

রান্নাঘরে ঢুকে পিজা বানানোর জন্য সবকিছু তৈরি করছিল নায়লা। দরজায় নক শুনে তাকিয়ে ননদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল, সেকি তুমি উঠে এলে কেন? তোমার না মাথা ব্যথা করছে বলে ঘুমোতে গেলে কিছুক্ষণ!

অন্তরা রান্নাঘরে ঢুকে হেসে বলল, ঘুমিয়েছি কিছুটা। মাথা ব্যথাও কমে গিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। পিজা বানানো হবে বুঝি?

নায়লা বলল, হুম…মুসআবের খুব পছন্দ। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আচ্ছা অন্তরা আমার চেহারাটা কেমন বলো তো?

অন্তরা হেসে বলল, মাশাআল্লাহ একদম পরে না চোখের পলক ধরনের। সাধে তো আর আমার ভাইয়া এমন পাগল না তোমার জন্য।

নায়লা হেসে বলল, ধাৎ, তোমার সবকিছুতেই শুধু দুষ্টুমি। আমি বুঝি না আমার চেহারাতে এমন কি আছে যার কারণে বাচ্চারা আমাকে এত ভয় পায়। তুমি জানো মুসআব ওর কথা গোপন করার পেছনে কি কারণ বলেছে?

আমি জানি ভাবী। মুসআবের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমার তো মনেহয় এখানে তোমার মন খারাপ না করে বরং আনন্দিত হওয়া উচিত তোমার বাচ্চারা তোমাকে এতটা ভালোবাসে যে তোমাকে কষ্ট দিয়ে চায় না। ভাবী বাচ্চাদের মনের এই ভালোবাসাটাই যদি তুমি আল্লাহর দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারতে তাহলেই অনেক সমস্যা কমে যেত।

 

বাচ্চাদের সাথে সক্রিয় সময় কাটান


কানিজ ফাতিমা


মা-বাবা অনেক সময় দাবি করেন যে, তারা তাদের বাচ্চাদের সাথে প্রচুর সময় কাটান। আসলে তারা যেটা বোঝাতে চান, তা হলো তারা তাদের বাচ্চাদের ‘সাথে’ নয়, বরং তাদের কাছাকাছি থাকেন।

অর্থাৎ তাদের বাচ্চারা যে ঘরে আছে, তারাও সে ঘরেই আছেন; কিন্তু টিভি দেখছেন, পড়ায় মগ্ন আছেন, ফোনে আছেন, ই-মেইল চেক করছেন অথবা অন্য মেহমানদের সাথে আলাপ করছেন।

দরকার হচ্ছে বাচ্চাদের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। এ কথার মানে হলো একসাথে পড়া, একসাথে খেলাধুলা করা, একসাথে ধাঁধার সমাধান করা, একসাথে রান্না করা ও খাওয়া, একসাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা, একসাথে কৌতুক করা, একসাথে বাজার করা, একসাথে বিল্ডিং ব্লক খেলা এবং একইসাথে থালা-বাসন পরিষ্কার করা।

অন্য কথায়, বাচ্চাকে একা ছেড়ে দিয়ে বাচ্চার কাছে থাকা নয়; বরং সক্রিয় অংশগ্রহণ করা এবং বাচ্চার কর্মকান্ডে অংশীদার হওয়া।

একেই বলে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দেয়া। যাকে খুব সুন্দর সময় বা good quality of time বলা যায়।

আর হ্যা, বেবি সিটিং বা অন্য কারো সময় দান বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের পারস্পরিক কার্যকলাপের বিকল্প হতে পারে না। সুত্র অনুবাদ- হাসান আল তালিব।

 

ফাইটিং ফোর্সের প্রথম ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক হলেন চার নারী


নারী সংবাদ


সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে গতকাল পদোন্নতিপ্রাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মেজর সানজিদা হোসেন, আর্টিলারি; মেজর সৈয়দা নাজিয়া রায়হান, আর্টিলারি; মেজর ফারহানা আফরীন, আর্টিলারি এবং মেজর সারাহ্ আমির, ইঞ্জিনিয়ার্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের র্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন। ছবি : আইএসপিআর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। চারজন নারী সেনা কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর আর্টিলারি এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পেলেন।

সেনাবাহিনীতে পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনে সফল এই চার নারী কর্মকর্তাকে মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এত দূর পথ হাঁটার গল্পের শুরু ১৯ বছর আগে অর্থাত্ ২০০০ সালে। ওই বছর ৪৭ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে প্রথমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় শুধু পুরুষ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য। পরে এ কোর্সে নারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই কোর্সের জন্য পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মনোনীত হন তাঁরা। পরের বছর জানুয়ারি থেকে তাঁদের দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা নিয়মিত কমিশন লাভ করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অধ্যায়টিকে স্মরণীয় রাখতে গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই চারজন নারী কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন নারী কর্মকর্তা হলেন আর্টিলারির সানজিদা হোসেন, সৈয়দা নাজিয়া রায়হান ও আর্টিলারির ফারহানা আফরীন এবং ইঞ্জিনিয়ার্সের সারাহ্ আমির।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর নারীর ক্ষমতায়নের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নিয়মিতভাবে নারী অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। ৪৭তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে শুরু হওয়া এই নারী অফিসাররা এরই মধ্যে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন। তাঁদের এই সক্ষমতার অংশ হিসেবে চারজন নারী অফিসারকে মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। ’

জানা যায়, ৪৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানের মেয়েও ছিলেন। ওই কোর্সে মোট ৩০ জন মনোনীত

হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ২০ জন তরুণী নিয়মিত কমিশন লাভ করেন। ওই কোর্সের বাকি ১০ জনের মধ্যে কয়েকজন ৪৮তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করার সুযোগ পান। দ্বিতীয় এ কোর্স শেষে ২০০৩ সালের জুলাইয়ে আরো ২১ জন নারী কমিশন লাভ করেন। এরপর ৪৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষে ২২ জন এবং ৫০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স শেষে আরো ১৩ জন নারী কমিশন লাভ করেন। এরপর প্রতি ছয় মাস পরপরই সেনাবাহিনীতে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনী ছাড়াও নারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ছে নৌ ও বিমানবাহিনীতেও।

সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক হয়ে রয়েছে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি। এদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম সংযোজিত ৮৭৯ জন নারী সৈনিকের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীতে মেডিক্যাল কোরে সর্বোচ্চ মেজর জেনারেল পদে রয়েছেন একজন নারী কর্মকর্তা। তিনি হলেন ডা. সুসানে গীতি।

আইএসপিআরের গত বছর ৬ মার্চের তথ্য অনুসারে, সেনাবাহিনীতে ওই সময় নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল চিকিৎসকসহ এক হাজার ২৮০ জনের কাছাকাছি। এ ছাড়া নারী সৈনিকের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৬০ জনের কাছাকাছি। ) সুত্র: কালের কন্ঠ।

 

চ্যানেল ২৪-এর নারী নিরাপত্তাকর্মীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, বাঁচালেন পুলিশ কর্তা


নারী সংবাদ


চ্যানেল ২৪-এর এক নারী নিরাপত্তাকর্মীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে আলমগীর নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোর ৬টায় রাজধানীর মহাখালী এলাকার আমতলী ক্রসিংয়ে ওই তরুণী অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আলমগীর কুপ্রস্তাব দেয়। এতে ওই তরুণী প্রতিবাদ করায় সড়কেই তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ওই বখাটে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়, ওই তরুণীকে পিটিয়ে জখম করে বখাটে আলমগীর। এ সময় আশপাশে অনেক সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক থাকলেও কেউই ওই তরুণীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। অনেকেই এই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, আবার কেউ কেউ দেখে এড়িয়ে চলে যান।

তখনই রাতের ডিউটি শেষে অফিস থেকে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাস। এ সময় ওই তরুণীর চিৎকার শুনে এগিয়ে যান তিনি। তরুণীকে উদ্ধার করেন এবং হাতেনাতে আটক করেন বখাটে যুবককে।

এডিসি তাপস কুমার দাস বলেন, গুলশান ডিভিশনের ছয়টা থানার নাইট রাউন্ডে ছিলাম। ভোরে আমতলী দিয়ে যাওয়ার সময় এক তরুণীর চিৎকার শুনতে পাই। দেখি এক যুবক ওই তরুণীকে লাঠি দিয়ে পিটাচ্ছে। তখন বডিগার্ড ও ড্রাইভারসহ আমি নেমে দৌড়ে আলমগীরকে ধরে ফেলি। ওই তরুণীর ঠোঁট দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠাই।

এ ঘটনায় বনানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আলমগীর নামের এক বখাটে ওই তরুণীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ও তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করতে থাকে। ওই সময় এডিসি তাপস কুমার দাস তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং বনানী থানা পুলিশ আলমগীরকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, আসামি আলমগীর কড়াইল বস্তিতে মাছের ব্যবসায় করে। বস্তির বৌবাজারে তার বাসা। গ্রামের বাড়ি শেরপুর। আলমগীরের বাবার নাম আশরাফ আলী। সুত্রঃ নয়াদিগন্ত।

 

করি পুষ্প রে বিকশিত- ১


আফরোজা হাসান


মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের রুমে ঢুকে কম্পিউটারের সামনে বসে নিজের কাজে মন দিল নায়লা। বাচ্চাদেরকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে যা যা করণীয় সবকিছু করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে সে। বাচ্চারা ভুল করবে, দুষ্টুমি করবে এসব স্বাভাবিক। এসব নিয়ে তাই কোন আপত্তি নেই নায়লার। কিন্তু বাচ্চারা মিথ্যা বলবে বা কোন কিছু গোপন করবে এটাতে প্রচন্ড আপত্তি তার। সবসময়ই স্কুল থেকে ফেরার পর স্কুলে কি কি হয়েছে জানতে চায় বাচ্চাদের কাছে। কিন্তু গতকাল সব কথা বললেও ক্লাসে মারামারি করেছে সেকথা চেপে গিয়েছে মুসআব। আজ স্কুলের টিচারের কাছ থেকে জানতে পেরেছে নায়লা সেই ঘটনা। কেন বাসায় এসে কিছু বলেনি জানতে চাইলে কোন জবাব না দিয়ে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলো মুসআব। সাথে সাথে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো নায়লার। বাচ্চারা মিথ্যা বলে বা গোপন করে যখন বাবা-মাকে সর্বাবস্থায় নিজের আশ্রয় ভাবতে পারে না তখন। কিন্তু সেতো আদর-ভালোবাসা ও মমতার দেবার সাথে সাথে সব ব্যাপারেই ভীষণ রকম আন্তরিক। তাহলে? প্রশ্নের জবাব খুঁজে না পেয়ে তাই রুমে চলে এসেছে।

মায়ের পেছন পেছন মুসআবও রুমে ঢুকলো। এমনিতে আম্মুই তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। কিন্তু আম্মু যখন রাগ করে তখন খুব ভয় লাগে মুসআবের। কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে খুকখুক করে কয়েকবার কাশি দিয়ে মায়ের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ মুসআব বলল, আম্মু আমি সরি তো! আমি আর কখনো তোমার কাছে কিছু গোপন করবো না। আম্মু ও আম্মু তুমি কথা বলছো না কেন? আমি কিন্তু কান্না করে দেব বলছি। এই যে তুমি শুধু রাগ করো সেজন্যই তো আমি তোমার কাছে বলিনি।

এবার ঘুরে ছেলের দিকে তাকালো নায়লা। আমি কি কোনদিন অকারণে তোমার উপর রাগ করেছি?

আমতা আমতা করে মুসআব বলল, নাতো আম্মু।

তাহলে কেন বললে আমি রাগ করি বলে তুমি কথা গোপন করো?

সব কথা গোপন করি না তো। শুধু ক্লাসে মারামারি করেছি সেটা গোপন করেছি।

নায়লা বলল, ক্লাসে মারামারি করে তুমি একটা অন্যায় করেছো আর সেটা গোপন করে করেছো আরেকটা অন্যায়। আম্মু যদি সেজন্য রাগ করি সেটা ভুল হবে?

মুসআব কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, কিন্তু তুমি যখন মুখ কালো করে কথা বলো আমার একটুও ভালো লাগে না।

নায়লা বলল, তাহলে তোমার কাজও তেমন হওয়া উচিত যাতে আম্মু মুখ কালো না করে। ছেলেকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নায়লা বলল, আম্মু যখন তোমাকে আদর করি, কোন উপহার দেই তুমি কি খুব আনন্দিত হও?

মুসআব বলল, হ্যা অনেক বেশি।

আর আম্মু রাগ করলে বা বকা দিলে খুব কষ্ট পাও তাই না?

মুহুর্তে চেহারা আবার কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো মুসআবের। অনেক অনেক অ-নে-ক বেশি কষ্ট পাই আম্মু।

ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করে নায়লা বলল, ঠিক তেমনি তুমি যখন ভালো কাজ করো আম্মু অনেক খুশি হই। আর যখন দুষ্টু কাজ করো আম্মু বিরক্ত হই। এমনটা কেন হয় জানো?

কেন হয় আম্মু?

কারণ ভালো কিছু হলে মানুষ খুশি হবে আর খারাপ কিছু হলে মানুষ কষ্ট পাবে এটা হচ্ছে নিয়ম। আচ্ছা ক্ষুধা পেলে তুমি কি করো?

আমি খাবার খাই।

আর ঘুম পেলে কি করো?

ঘুমাই আম্মু।

একদম ঠিক। এখন দেখো ক্ষুধা পেলে আমরা খাই আর ঘুম পেলে ঘুমাই। আমাদের ঠিক তেমনই আরেকটা স্বভাব হচ্ছে খুশিতে চেহারায় আলো আলো হয়ে উঠে আর রাগে চেহারা কালো হয়ে যায়। বুঝেছো?

হ্যা আম্মু।

কি বুঝেছো?

খুশিতে চেহারায় আলো আলো হয়ে উঠে আর রাগে চেহারা কালো হয়ে যায়।

মাশাআল্লাহ। এই তো তুমি বুঝে ফেলেছো। তারমানে তো এটাও বুঝেছো যে, তোমার দুষ্টু কাজ শুনে আম্মুর চেহারা যে কালো হয় সেটাই স্বাভাবিক?

জ্বী আম্মু।

কিন্তু তুমি যে আম্মুর কাছে কথা গোপন করেছো সেটা অস্বাভাবিক। দেখো সোনা তুমি তো এখনো অনেক ছোট। তুমি দুষ্টুমি করবে, ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তুমি যদি সেসব আমাকে না বলো তাহলে আমি তোমাকে কিভাবে বুঝিয়ে বলবো কোনটা ঠিক আর কোন ভুল? তুমি তো গুডু বয় হতে চাও তাই না?

হ্যা আম্মু।

এখন বলো আম্মুর সাহায্য ছাড়া তুমি কি একা একা গুডু বয় হতে পারবে?

কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে মুসআব বলল, না।

তাহলে তুমি কেন আম্মুকে বলোনি? আম্মু যদি না জানি তাহলে কিভাবে তোমাকে ভুল বুঝিয়ে বলবো?

আমি আর তোমার কাছে কিছু গোপন করবো না আম্মু। প্রমিস।

নায়লা ছেলে কাছে টেনে আদর করে হেসে বলল, ঠিকআছে এখন তুমি যাও পড়তে বোস।

ছেলে চলে গেলে ঘুরে আয়নায় নিজের দিকে তাকালো নায়লা। মনের অনুভূতিগুলো সবসময় চেহারাতে ফুটে ওঠা ঠিক না। বিশেষ করে বাচ্চাদের সাথে কথা বলার সময়। এরআগেও খেয়াল করেছে বাচ্চারা প্রথমেই চেহারার দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে চেষ্টা করে। সুতরাং, এই ব্যাপারে তাকে আরো সতর্ক হতে হবে বুঝতে পারলো। কাজ বন্ধ করে রান্নাঘরের রওনা করলো। বাচ্চাদের জন্য নাস্তা বানাতে হবে। মুসআব পিজা খুব পছন্দ করে। আজ সবার জন্য তাই পিজা বানানোর সিদ্ধান্ত নিলো।

 

মারা গেলেন রাশিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক নারী


নারী সংবাদ


রাশিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক নারী নানু শাওভা ১২৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। দেশটির কাবারদিনো বালকারিয়ার নর্থ ককেশিয়ান রিপাবলিকের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। সোমবার স্থানীয় প্রশাসন একথা জানিয়েছে। খবর তাসের।

রাশিয়া বুক অব রেকর্ডস অনুযায়ী, কাবারদিনো-বালকারিয়ার বকসান জেলার জায়ুকোভো গ্রামের শতবর্ষী নানু শাওভা রাশিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক নারী ছিলেন। তিনি ১২৮ বছর বয়সে মারা যান।

এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মে মাসে তার বয়স ১২৯ বছর হতো। বাকসান জেলা প্রশাসন তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।’

নানুকে ২০১৭ সালে রাশিয়া বুক অব রেকর্ডস সনদ দেয়া হয়।

 

স্বাবলম্বিতা ও সহযোগিতাই ঠেকাতে পারে ডিভোর্স

জান্নাতুন নুর দিশা


অনেকেই মনে করেন ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে ডিভোর্স হওয়া না হওয়ার বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ডিভোর্স নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখতে গেলেও দেখা যায় অনেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের কথা টেনে আনেন, অনেকেই ঢালাওভাবে দোষারোপ করেন নারীদের স্বাধীনচেতা মানসিকতার উত্থানকে।
ডিভোর্স বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া যে মোটেও ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয় তা এই দুটো ছবি থেকেই পরিষ্কার হওয়ার কথা।
বিবাহ, সংসার, বিচ্ছেদ এই বিষয়গুলো যতটা না ধর্ম সম্বন্ধীয়, তার চেয়ে বেশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক। বৈবাহিক বন্ধন টিকে থাকা এবং না টিকে থাকার বিষয়টি একটি সমাজের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক সংস্কার-কুসংস্কারের উপর নির্ভর করে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে কম ডিভোর্স হয় ভারতে। ধর্মীয় দিক থেকে হিন্দু ধর্মালম্বীদের ডিভোর্সের হার অন্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় অনেক অনেক কম।
তারমানে কি এই দাঁড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় অন্য ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসন কম মানেন? বিষয়টা কিন্তু মোটেও তেমন নয়।
হিন্দু ধর্মে গত শতকেও সতীদাহপ্রথার মত ভয়াবহ কুসংস্কার ছিল। ছিল না বিধবাদের বিবাহের অনুমতি। হিন্দু ধর্মের সংস্কারকরাই এসব রদে রেখেছিলেন ভূমিকা।
এখনো হিন্দু ধর্মালম্বীরা বিয়েকে জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন মনে করে। সাত জন্মের জন্য সঙ্গী হবার ধারণাও রয়েছে অনেকের মধ্যে।
ভারতের নাটকগুলো দেখলেই বুঝা যায় পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য কলহ, সাংসারিক অশান্তি নিয়ে এক একটা পরিবার কতটা ভোগে। কিন্তু বিচ্ছেদের কথা তারা ভাবতে পারে না। পারিবারিক কলহ থেকে সহিংসতার পর্যায়ে চলে গেলেও উপমহাদেশে পরিবারগুলো বিচ্ছেদের কথা ভাবতে পারে না।
বিচ্ছেদ হচ্ছে না মানেই একটি সমাজ আদর্শ সমাজ আর বিচ্ছেদ বাড়লেই সমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে এই ধারণা ভ্রান্ত। সাংসারিক কলহ, পারস্পরিক অন্তর্দ্বন্দ্ব, ভুল বুঝাবুঝি, অশান্তি, খুনাখুনি, মেরিটাল রেইপ, পারিবারিক সহিংসতা না কমিয়ে কেবল বিচ্ছেদ ঠেকিয়ে রাখা গেলেই মূল্যবোধ ঠিক থাকে এমনটা ভাবা অনেকটা “উপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট” প্রবাদের মতই হয়ে যায়।
হিন্দু ধর্ম ছাড়া অন্যান্য ধর্মে ডিভোর্সের ব্যাপারে ফ্লেক্সিবিলিটি থাকায় এসব ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী পারিবারিক সংঘাতের চেয়ে বিচ্ছেদকে উত্তম সমাধান মনে করছে। যে কারণে এসব ধর্মের মানুষের ডিভোর্স রেট কাছাকাছিই।
অনেক ধর্ম বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করে নি। তাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের জাতিগতভাবে নিয়ম তৈরি করে নেয় বিভিন্ন দেশে। ইসলাম ধর্মে বিচ্ছেদের ব্যাপারে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম দিয়ে দেয়া হয়েছে।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা সৌদি আরবেও ডিভোর্সের হার খুব যে কম তা কিন্তু নয়। তারাও সংঘাতের চেয়ে বিচ্ছেদকেই বেছে নিতে পছন্দ করে। মোহরানা পরিশোধ বিয়ের সময়ই হয়ে যাওয়ায় তাদের বিচ্ছেদে বিশেষ আইনি জটিলতাও পোহাতে হয় না।
আমাদের দেশে যে বিয়েতে উচ্চ মোহরানা ধার্য করা হয়, এটা কিন্তু বিচ্ছেদ আটকে রাখতেই করা হয়। পাত্রের সামর্থ্যের বাইরে একটি অর্থ ধরা হলে এবং বাকির খাতায় রেখে দেয়া গেলে সহজে ডিভোর্স দেয়া যাবে না, করা যাবে না বহুবিবাহ। অর্থাৎ দিনশেষে বিয়ে অর্থনৈতিক চুক্তিই! এভাবেই আর্থিক চুক্তিনামায় বৈবাহিক সমস্যাদির বিচার-আচার আগে সামাজিক ভাবে এবং এখন কোর্ট-কাচারিতে হয়। মোহরানা বাকি রাখা ধর্মীয় অনুশাসন না হলেও উভয়পক্ষই নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় এই নিয়ম মেনে নিচ্ছে।
তাই দিনশেষে বিবাহবিচ্ছেদ বা বৈবাহিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে উভয়পক্ষের সামাজিক ও আর্থিক স্ট্যাটাসের উপর। খেয়াল করে দেখবেন পত্রিকায় ডিভোর্সি পাত্রীর জন্য “পাত্র চাই” বিজ্ঞাপন দেয়ার সময় “ধনী, প্রবাসী অভিজাত ডিভোর্সি পাত্রী” এইভাবে সামাজিক আর্থিক ব্যাপারগুলো ফলাও করে লেখা হয়। অর্থাৎ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী পাত্রীর ডিভোর্সি হলেও ঠিকই পাত্র মিলছে। অথচ দরিদ্র হলে কুমারীর পিতার কাছেও চাওয়া হচ্ছে যৌতুক।
ছেলের অর্থনৈতিক অবস্থান দেখা তো বিয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য। উপার্জনহীন পুরুষের সংসারে সুখ থাকেনা।
মানুষ যত বাড়ছে, একজনের উপার্জনে একটা সংসার চালিয়ে নেয়া তত চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে। তাই সংসারে প্রাপ্তবয়স্ক উপার্জনহীন নারী বা পুরুষ যত বেশি, সংসারে অন্তঃসংঘাত তত বাড়ছে।
গার্মেন্টস শিল্প গড়ে উঠবার পর দরিদ্র পরিবারগুলোতেও কলহ, সংঘাত কমে গেছে। মধ্যবিত্তের চেয়ে দরিদ্রদের সংসারে এখন টানাপোড়ন কম। নারীদের উপার্জনহীন বসে থাকবার প্রবণতা এদেশে মধ্যবিত্ত সমাজেই বেশি। আর যারা ক্যারিয়ারে আসছে, তাদের হাজবেন্ডের ফেক্সিবল মেনটালিটি না রাখা ও রুলিং মাইন্ড জন্ম দিচ্ছে আরেক ধরণের সংঘাতের। একে বলে ব্যক্তিত্বের সংঘাত।
মধ্যবিত্তের এসব ঘুণে ধরা সেন্টিমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসা খুব জরুরী।
সম্প্রতি ছেলেদের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি নিউজ। “সৌদি নারীদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশী ছেলেরা।” যদিও এই নিউজের কোনো নির্ভরযোগ্য সোর্স খুঁজে পাই নি, তবু কেন এত উৎসাহ নিয়ে এই ফান নিউজ শেয়ার করছেন ছেলেরা?
যদি নিউজটা হত আফ্রিকান কোনো দরিদ্র দেশের মেয়েদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশের ছেলেরা। এত পুলকিত হতো কেউ?
সৌদিআরব, কাতার এসব দেশ এদেশের মানুষের কাছে আর্থিক স্বাবলম্বী হবার একটা নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। তাই সৌদি নারীরা তাদের পছন্দ করলে সেখানে যে বঞ্চনা সহ্য করতে হয় তা আর করতে হবে না। তাই সৌদি নারী মানে কেবল নারী নয়, সৌদি নারী মানে আর্থিক নিশ্চয়তার প্রতীক। তাই এই অনির্ভরযোগ্য খবরটিও এত মুখরোচক।
মজার ব্যাপার হল, সৌদি নারীরা আসলেও বিদেশী বিবাহে ঝুঁকেছেন।তাদের পরিসংখ্যান বলছে ইদানীংয়ে মোট বিয়ের প্রায় দশ ভাগ বিয়ে হয়েছে বিদেশি পুরুষের সাথে।
এর কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে সেখানে প্রচলিত বহুবিবাহ এবং ডিভোর্স হার। অর্থাৎ বিদেশী বিশেষ করে এশিয়ান পুরুষদের আরবদের মত অধিক বিবাহ প্রবণতা কম থাকা ও সৌদি স্ত্রীর প্রতি অনুগত থাকার মনোভাবই এশিয়ানদের প্রতি তাদের আকৃষ্ট করছে।
সবশেষে বলা যায়, পরিবারে প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির আর্থিক উপার্জন ও স্বাবলম্বিতা, পরস্পরের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতামূলক ও সহনশীল আচরণ ও ব্যক্তিত্ব গঠনই পারিবারিক ভাঙন এবং বিবাহ বিচ্ছেদ কমাতে পারে। মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে এসব গুণাবলী আনতে না পারলেও পারিবারিক সংঘাতে প্রতিনিয়ত লিপ্ত থাকার চেয়ে বিচ্ছেদেরই তো উত্তম!

আসলেই কি বিচ্ছেদ উত্তম? নাকি স্বাবলম্বিতা ও সহযোগিতা জরুরী?

সিদ্ধান্ত আপনার!

 

আবার বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী সালমা


নারী সংবাদ


আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ক্লোজআপ ওয়ান খ্যাত কণ্ঠশিল্পী সালমা। তার বর সানাউল্লাহ নূরে সাগর। যিনি ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট। তিনি ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের ছেলে। বর্তমানে লন্ডনে ‘বার অ্যাট ল’ করছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদকর্মীদের ডেকে সালমা তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানান। তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাগর আবার ফিরে গেছেন লন্ডনে।

সালমা জানান, চারমাস পর তার স্বামী ‘বার অ্যাট ল’ শেষ করে দেশে ফিরবেন। তখন ঘটা করে অনুষ্ঠান হবে।

কুষ্টিয়ার মেয়ে মৌসুমি আক্তার সালমা ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ দ্বিতীয় সিরিজের বিজয়ী ছিলেন। এরপর কয়েকটি লোকগীতি দিয়ে সালমা সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন সালমা।

২০১১ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিকের সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার। ২০১৬ সালে বনিবনা না হওয়া সেই সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের সংসারে স্নেহা নামের এক কন্যা রয়েছে। স্নেহা এখন মায়ের কাছেই থাকে।
সুত্রঃ নয়াদিগন্ত।

 

বাবা-মায়ের মানসিক প্রস্তুতি


কানিজ ফাতিমা


সন্তান আগমনের সাথে সাথে পরিবারের ওপর একটা চাপের সৃষ্টি হয়। একথা সত্যি যে পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব একটি অসামান্য পাওয়া, কিন্তু এর অভিজ্ঞতা সবসময় রোমাঞ্চকর হয় না। বাবা-মা হবার সাথে সাথে দম্পতিকে মেনে নিতে হবে যে, জীবনটা আর আগের মত থাকবে না; সেই সাথে সামনে যেসব সমস্যা আসবে তার জন্যও নিজেদেরকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানদের স্বার্থে নিজেদের অনেক স্বার্থকেই বিসর্জন দিতে হবে, এমনকি তাদের পিতা -মাতা হবার যোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। বাবা-মা’দের জন্য, বিশেষ করে মা’দের জন্য শিশুর অবিরাম চাহিদা পূরণের ধকল ও ক্লান্তিকে মেনে নেয়া সহজ ব্যাপার হবে না। অপরদিকে বাবারা ঘরে ফিরে হয়তো দেখবেননা স্ত্রীর আনন্দময় মুখ, হাসিখুশী শিশু অথবা গুছালো পরিপাটি ঘরদোর। অনেক বাবাই নিজের স্ত্রীকে অধিক কাজের চাপে বিধ্বস্ত দেখবেন এবং পূর্বের মতো স্ত্রীকে তাদের প্রতি অতটা যত্নশীল পাবেননা।

মাতৃত্বের সাথে যুক্ত থাকে শারীরিক, আবেগ-আনুভূতিক ও মানসিক ক্লান্তি। অল্প ঘুম এবং অবিরত শিশুর যত্ন অনেক মজবুত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

সন্তানের যত্নের পাশাপাশি দম্পতি যখন পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খায় তখন অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিবাহিত জীবনের উপর এসব কিছুর প্রতিকূল প্রভাব পড়তে পারে। ফুল টাইম চাকরী করেন এমন বাবা-মায়েদের জন্য এসময়টা অনেক বেশী কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কিছু বাবা-মা সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে (Child care centre) না রেখে পালাক্রমে ভিন্ন ভিন্ন শিফটে চাকরী করেন যাতে সবসময় কোনো একজন শিশুর সঙ্গে বাসায় থাকতে পারেন। যদিও এটা শিশুর জন্য ভালো, কিন্তু স্বামী স্ত্রীর জন্য সবসময় অনুকুল হয় না। এক্ষেত্রে বাবা মার মধ্যে দ্রুত সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। কার ভাগে ঘর পরিস্কার করা বা বাসন কোসন ধোয়া পড়েছে এ ধরনের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিবাদ এবং অসম্মানজনক মানহানিকর প্রতিদ্বন্দিতা দেখা দিতে পারে। অপরদিকে যেসব বাবা মার মধ্যে সন্তানের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে না পারার অপরাধবোধ কাজ করে – তারা ‘দাম্পত্য সময়’টা কমিয়ে ‘সন্তানের জন্য সময়’কে বর্ধিত করতে পারেন। আবার কিছু মা-বাবা সেটা পুষিয়ে নিতে চান সন্তানদের উপহার, টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড দিয়ে যা পরিনামে বাচ্চাদের নষ্ট করে, আর বাবা-মা আরো বেশী সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পরেন।

এ ধরনের চাপ বৈবাহিক সম্পর্ককেই প্রতিকূলতার মুখে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন দম্পতি তাদের সীমিত সময় আন্তরিক আলাপের চেয়ে পরস্পরের প্রতি অনুযোগ-অভিযোগ করেই অতিবাহিত করে। বাবা-মার মধ্যকার বৈবাহিক দ্বন্দ সন্তানের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। যথেষ্ট পরিমান পারস্পারিক যোগাযোগের অভাবে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং তা তাদের অবিরত দ্বন্দ্বের দিকে ঠেলে দেয়।

নিচে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো- বাবা-মাকে তাদের প্যারেন্টহুড তথা অভিভাবকত্বে উত্তরণের ক্ষেত্রে সাহায্য করবার জন্য: আশা করা যায় স্বামী-স্ত্রী থেকে বাবা-মা হওয়ার পথে পরিবারের গতিময় পরিবর্তনে এই পরামর্শগুলো অনেকটা চাপ কমাবে।

১. দৈনিক কিংবা সপ্তাহে স্বামী-স্ত্রী একসাথে নিজস্ব সময় কাটানোর জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করুন। একসাথে বেড়াতে যান, কিছু কাজ একসাথে করুন, কিংবা রাতের খাবারটা একসাথে খান। দিনের বেলা প্রয়োজনীয় ফোনালাপ সেড়ে ফেলে অথবা সকালে কিছুটা আগে জেগে কিছু সময় সঞ্চয় করুন- যাতে পরষ্পরের দিকে দৃষ্টি দেয়ার কিছুটা সময় বের করতে পারেন। শিশুর দেখাশুনার দায়িত্বটা অন্য কোনো বিশ্বস্ত বাবা-মার সঙ্গে নেয়াটাও একটা ভালো ব্যবস্থা।(যেমন ধরুন সেই দম্পতির সাপ্তাহিক বেড়াতে যাবার সময়টায় আপনারা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করলেন আবার তারা আপনাদের সময়ে আপনাদের সন্তানদের ভার নিলেন)।

২. জীবনসঙ্গীর সাথে প্রত্যাশাগুলো ভাগাভাগি করে নিন। প্যারেন্ট হিসাবে নতুন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যা আপনি লক্ষ্য করছেন সেইসব উদ্বেগের বিষয় তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। আপনার স্বাস্থ্য, পারষ্পারিক সম্পর্ক এবং চাকুরীর উপর প্যারেন্টহুডের প্রভাব নিয়ে কথা বলুন।

৩. জীবনসঙ্গীর সাথে একত্রে খাদ্য গ্রহণ, ইবাদত, যৌন মিলন এবং শরীর চর্চায় সময় দিন। যদিও শিশুর চাহিদা আপনার সময়ের প্রায় সবটুকু নিয়ে নেয় তারপরও জীবনসঙ্গীর জন্য সময় বের করে নিন। এমনকি ময়লা কাপড় অথবা অপরিষ্কার বাসনকোসন ধোয়ার জন্য পড়ে থাকলে তেমন ক্ষতি নেই ।

৪. আপনার মতবিরোধ প্রকাশ করুন; দ্বন্ধকে গুরুত্বহীন ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। কোনো ব্যাপারে বিবাদকে সম্পর্কের মধ্যকার কোন ফাটলের ইঙ্গিত হিসাবে নিন এবং দুজনে মিলে পরামর্শ (counselling) পাবার চেষ্টা করুন।

৫. বিশ্বস্ত বন্ধু বা অভিজ্ঞ সহকর্মীর সাথে কথা বলুন যার- বাবা/মা হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। এটা আপনার বিষন্নতা দূর করতে সাহায্য করবে। কথা বলার জন্য একই লিঙ্গের ব্যক্তি নির্বাচন করুন এবং কোনো অবস্থাতেই আপনার স্বামী বা স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় কোনো বিষয় প্রকাশ করবেন না।

রেফারেন্স অনুবাদ: Parent-child relations.

 

বুড়ি আজ খুশী


দ্য স্লেভ


মবিন শেখ বড় বড় প্যাকেটে বড় বড় রুই,ইলিশ,ইলিশের ডিম,চিংড়ী মাছ,বিলের বড় বড় কৈ মাছ কিনে বাড়ির কাজের ছেলেটার কাধে চাপিয়েছে। নদীর রুইমাছটা আজ বেশ তাজা কিনতে পেরেছে। ভোরে আসলে আসলে সবকিছু ভালোমত পাওয়া যায়,তবে কৈ এর ব্যপারটা আলাদা। বিলের এত বড় বড় কৈ সহসা পাওয়া যায়না। প্রতি পিত কৈ ৫০০ টাকা পড়ল, তা পড়ুক,, সহসা এতবড় কৈ পাওয়া দুষ্কর। আজ দুপুরে বড় জামাই বন্ধুদের নিয়ে খেতে আসবে,,, বড় কৈ তার পছন্দ। ইলিশ মাছও পেয়েছে বড় বড় সাইজের। টাকা একটু বেশী গেছে কিন্তু সম্মানটা তার থাকবে। ৫ কেজী খাসীর গোস্ত কিনেছে। জামাইয়ের সামনে শুধু গরু রাখলে ইজ্জত থাকেনা।
নানান সব তরিতরকারী,মুরগী কিনে আরেক কাজের লোকের ঘাড়ে চাপানো। মবিন শেখ বাজার থেকে বেরোনোর পথে বুড়িকে দেখলো জীর্ণ-শীর্ণ দেহে মলিন পোষাকে,মলিন তরকারী নিয়ে বসে আছে। দেখেই শেখের মনে পড়ল,,আরে কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ তো কেনা হয়নি !
মবিন শেইখ: ওই বুড়ি কি ব্যাচো ?
বুড়ি: এই যে বাবা,,,এইসব বেচী।
:হুমম এ তো ময়লা মাটি,,,বাজার থেকে কুড়াইছো নাকি ??
: না বাজান ,, জিনিস ভালো আছে..
: ভালো না মন্দ সে তো দেখতেই পাচ্ছি। তা পেঁয়াজের ভাগা কত ?
: নেন বাজান,, দশ টাকা করে দেন ভাগা….
: হ্যা !!! কও কি ?? ১০ টাকা ! আহারে বাজার থেকে কিনলেই ভালো করতাম,,,কত সুন্দর চকচকে পেঁয়াজ,,দামেও কম ছিলো,,,নাকি আবার বাজারে যাব !!
: বাজান নেন, কম রাখবানে,,,,আপনি ৮ টাকা করে দেন।
:আরে বুড়ি এই টুকানো পেয়াজ ২টাকাও হয়না,,৫ টাকা করে দেব,,,৩ ভাগা দাও….।
: না বাজান ঠকা হয়,,, আপনি ৭ টাকা করে দেন,,,,আপনারা দাম না দিলে খাব কি কন ? সকাল থেকে বসে আছি,,,কেউ কিনতে চায়না….
:কিনবে ক্যামনে ?? ময়লা মাটি মানুষ কিনে? আর ৫ টাকার জিনিস ১০ টাকা চাইলে জীবনেও বিক্রী করতে পারবা না,,,জুলুম করলে এমনই হয় ! ৫ টাকায় দাও,,,আমি বলে ৫টাকা বলছি,,অন্যরা আরও কম বলত।
: বাজান তাইলে ৪ ভাগা পেয়াজই নেন,,২০ টাকাই দেন।
:এই তো লাইনে আসছো ! তোমাদের আবার আমি চিনিনা,,,,মানুষ চিনতে চিনতে চুল পাকায় ফেলছি….। আচ্ছা মরিচ কত রাখবা ? অর্ধেক তো পচা….
: বাজান নিয়ে যান, ভালো জিনিস,,,। ৫ টাকা করেই রাখব।…
:বুড়ির বুদ্ধি আছে দেখছি,,,৫টাকায় পেয়াজ কিনেছি দেখে একই দাম বলল…..দ্যাখো আমার সময় নেই,,,আর মরিচ কেনার দরকারও নেই,,,কিন্তু তোমার উপকার হবে বলেই কিনছি। ভালো করে দাম কও…
: বাজান ৪ টাকা করে দেন,কিন্তু নিয়ে যান। আচ্ছা নিলাম,,,,অন্য মানুষ হলে নিত না।….টমেটোগুলো কততে দিবা ?
: বাজান আপনি ইজ্জতদার মানুষ ইনসাফ করে দিয়েন। আমার বাড়ির উঠোনে লাগানো টমেটো,,,,আমি দাম জানিনা…। বাজারে যেই দামে কিনেন তার চেয়ে কিছু কমে দেন। বাড়ির জিনিস তো কমে বেচা যাবে……ওষুধ দেওয়া নেই…।
:হুমম টমেটো তো কেনা দরকার না,,,তাও দেখী..আচ্ছা অারও ৫ টাকা দিচ্ছি,,দিয়ে দাও…।
:বাজান মাত্র ৫টাকা ?
: হ্যা,,তোমার বাড়ির জিনিস,,ওইটা কি আর বিকেল পর্যন্ত থাকবে,,,পচে যাবে,,দাও দাও দিয়ে দাও….
মবিন শেইখ বাজার করে আজ ব্যপক খুশী,,,,বড়ই জিতেছে আজ। অবশ্য বুড়ির কথা তার মাথায় নেই,,,,জামাই আর তার বন্ধুরা মাছ,গোস্ত দিয়ে কি মজায় ভাত খাবে সেই দৃশ্য কল্পনা করতে করতে সে বাড়ির পথ ধরল।
বুড়িও আজ খুশী। একজন কাস্টমারের কাছে সে অনেক কিছু বিক্রী করতে পেরেছে। তবে আরও কিছু তরকারী বিক্রী করতে বাকী আছে। সেগুলো বেচা হলেই সে পুরো দেড় কেজী চাল কিনতে পারবে লাভের টাকায়। পেছনের সারের ব্যাগে বাজার থেকে কুড়ানো কিছু পোকা লাগা বেগুন রাখা আছে। কুড়ানো তরকারীতে তাদের পেট চলে। মাঝে মাঝে দু একটা ভালো বেগুনও পায় সে। বাজারে তরকারী কুড়াতে গেলে কিছু লোক ভালো আচরন করে। ওদের কেউ কেউ অল্প পোকা লাগা তরকারীও দিয়ে দেয়। ওসব ঘুমে মুটে খেয়ে ওরা বেঁচে থাকে !
আহা,,,পেটের ভেতরটা চিনচিন করে ওঠে বুড়ির,,, সেই কাকডাকা ভোরে দুটো পান্তা খেয়ে নিস্তেজ দূর্বল শরীর নিয়ে বেরিয়েছে। এরপর আর একটা দানাও পেটে পড়েনি। খালি পেটে পানি খেলে পেটে খিল লেগে ধরে। সন্ধ্যার আগেই বাড়ি পৌছাতে হবে, নইলে বুড়োর পেটেও ভাত যাবে না। ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে সন্ধ্যার পর পথ চলতে কষ্ট হয়। তবে বুড়ি আজ আশাবাদী,,, তরকারী বিক্রীর টাকায় সে আরেকটু বেশী চাল কিনে বাড়ি যাবে। বুড়োটা আলুভর্তা আর জাও-ভাত পছন্দ করে। আজ রাতে ওরা ভরপেট খাবে , ভাবতেই আনন্দাশ্রুতে বুড়ির চোখ ঝাপসা হয়ে আসে !

 

মাদ্রিদে কাটানো মায়াবী মুহূর্তগুলো …


হালিমা সাদিয়া খাতুন


জীবনের বালুচড়ে চলার পথে সয্তনে কুঁড়িয়ে নেয়া নুড়ি গুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বের মায়াবী নীড়। যে নীড়ের প্রতিটি নূড়ি অমূল্য এবং অনন্য যার ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে আছে, লুকিয়ে আছে বন্ধুত্বের মূল্যবান প্রাপ্তি। যে প্রাপ্তির উপলব্ধি মনে ভালোলাগার দোলা দিয়ে যায়, রেখে যায় গুচ্ছ গুচ্ছ ভালোবাসার সুখের শিশির বিন্দু ..
জানুয়ারীতে আমাদের ভ্যাকেশন উপলক্ষে উড়াল দিয়েছিলাম আফরোজা হাসান পরিবার ডোরে । সেখানে কাটানো সময়গুলো বন্ধুত্বের নীড় কে করেছে সমৃদ্ধ , দিয়েছে চির অমলীন মূল্যবান কিছু মুহূর্ত যা কখনো ভুলবার নয়!
আমাদের এখান থেকে মাদ্রিদ যেতে লেগেছিলো মাত্র দু ঘন্টা। এয়ারপোর্ট থেকে আফরোজার বাসাও খুব কাছে, পূর্ব পরিচিত ভাতিজার সাথে মাদ্রিদ শহরের গল্প শুনে এবং দৃশ্য উপভোগ করতে করতে অল্প সময়েই পৌঁছে গিয়েছিলাম ওদের বাসায় ।
দীর্ঘ বিরতির পর দেখা, কাছে পাওয়া আর মধুর আলিংগনটুকু মুছে দিয়েছিলো সমস্ত ক্লান্তি। গল্প, হাসি কথা মালায় দু পরিবারের পুনর্মিলন মুহূর্তেই জমিয়ে তুলেছিলো গুন গুন কথা -স্মৃতি চারণ সন্মেলন!

ঘুরাঘুরি ১- হেরোন সিটি
সন্ধা বেলায় বেড়িয়েছিলাম হেরোন সিটির উদ্দেশ্যে। মাদ্রিদ শহরটি পুরোটাই পাহাড়ের মাঝে, রাস্তায় বে্রোলেই চোখে পড়বে উঁচু নিচু রাস্তা, কখনো আঁকা বাঁকা মোড় তো আবার কখনো লম্বা টানেল । টানেলগুলো সব পাহাড় কেটে কেটে তৈরি করা হয়েছে। রাত হয়ে গিয়েছিলো, রাস্তার দুপাশের ল্যাম্পপোস্টের আলোর সাথে সাঁ সাঁ করে ছুটে চলা সাথে ছিলো ননস্টপ মধুঝরা গল্প!

ঘুরাঘুরি ২- আতোচা স্টেশন
রাজধানী মাদ্রিদের চমৎকার স্থান গুলোর একটা হলো এই আতোচা স্টেশন । এই স্টেশনটির নির্মান কাজ ১৮৮৯ সালে প্রথম শুরু হলেও পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে আর্কিটেক্ট রাফায়েল মোনেও এর অধীনে স্টেশনটির ডিজাইনে মডিফিকেশন করা হয় । দূর দূরান্তের ক্লান্ত পথিকরা যখন স্টেশনটিতে আসবেন, স্টেশনটির সৌন্দর্য দেখে এক পলকেই মুগ্ধ হবেন । ঘন সবুজ সুউচ্চ প্লাম ট্রি, নানান রকমের পাতাবাহার, বিভিন্ন ধরণের লাগানো গাছগুলোর সজীবতা তো আছেই সাথে কবুতর, ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট মাছ আর কচ্ছপ বাহিনীর লম্ফ ঝম্ফ উপভোগ করার মতোন।
শুধু সুন্দরের দিক থেকেই নয় বরং ইউরোপের প্রথম দশটি সেরা স্টেশন এর মধ্যে স্পেনের মাদ্রিদের এই আতোচা স্টেশন সেরা তিন নাম্বারের গৌরব অর্জন করে আছে সুদীর্ঘ সময় কাল থেকে!

ঘুরাঘুরি ৩- স্টেডিয়াম রিয়েল মাদ্রিদ
বিখ্যাত স্টেডিয়াম রিয়েল মাদ্রিদের নাম শুনেন নি এমন মানুষ কম। নাম আমিও অনেক শুনেছি, সুযোগ যখন পেলাম তাই এবার স্টেডিয়াম এর সামনে দিয়ে ঘুরে কিছু ছবি তুলে চলে আসলাম। স্টেডিয়ামটির মূল নাম হলো Santiago Bernabéu Stadium।

ঘুরাঘুরি ৪- জোয়ান কার্লোস পার্ক স্পেনিশ উচ্চারণে খোয়ান 🙂
মাদ্রিদ এর উত্তর পূর্বকোনে অবস্থিত জোয়ান কার্লোস পার্ক টি প্রায় ১৬০ হেক্টর জায়গা নিয়ে গঠিত, এই পার্কটি মাদ্রিদের সবচাইতে বড় পার্ক গুলোর একটি। শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্য রয়েছে নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা। এতে রয়েছে দশ হাজার ভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং নব্বই হাজার প্রজাতির ফুলের সমাবেশ । বিকেল থাকতেই রওয়ানা হয়েছিলাম আমরা , ঘুরে ফিরে ক্লান্ত হয়ে যখন সবাই বাসায় ফিরছিলাম তাকিয়ে দেখলাম মাদ্রিদ গগনে বিশাল পূর্নিমার চাঁদ মিটি মিটি হেসে আলো ছড়াচ্ছে….

ঘুরোঘুরি ৫- বৃষ্টি ভেজা সন্ধায় চুররোস উইথ কাপুচিনো
আমি, আফ্রু আর সারামণি মিলে বাসার নিচের চুররোস শপে-

ঘুরাঘুরি ৬- হালাল বার্গার এর সন্ধানে
এদিন আমরা দুই পরিবারের সব সদস্যরা মিলে রাটের খাবার খেতে এসেছিলাম আমাদের ভাতিজার হালাল বার্গার শপে।

ঘুরাঘুরি ৭- মাদ্রিদ সেন্টার কাইয়ো
এদিন অবশ্য আমরা শুধু পতি -পত্নী মিলে বের হয়েছিলাম। যেতে হয়েছিলো মেট্রো দিয়ে। ভয় পেতে পেতে অবশেষে ঠিক ভাবে এসে পৌঁছেছিলাম সেন্টারে । আনন্দরা মুঠো মুঠো সুখ ছড়িয়েছিলো সর্বক্ষণ …
ঘুরে ফিরে দুজনে পথ হারিয়েছিলাম তবু টেনশন লাগে নি একটুও! পাশে উনি আছেন এটা ছিলো পরম নির্ভরতার কারণ! তারপর আবার পথ খুঁজে পেয়ে মেট্রো ধরে বাসায় ফিরে এসেছিলাম, স্মৃতিরা কল্পনার বুননে এঁকে নিয়েছিলো নতুন স্বপ্ন কাঁথা!

 

ইরানি বংশোদ্ভুত নারী সাংবাদিককে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র


নারী সংবাদ


যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত শুক্রবার ইরানি টেলিভিশনের এক নারী সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একটি মামলায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন।
খবর বার্তা এএফপি’র।
ইরানি বংশোদ্ভুত ওই সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম মার্জিয়া হাশেমি। তিনি ইরানের ইংলিশভাষী চ্যানেল প্রেস টিভির উপস্থাপিকা।
তার এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে দুদেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।
ওয়াশিংটনে এক শুনানীতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার প্রধান বিচারক বেরিল হোয়েল রায়ে বলেন, হাসেমিকে ওয়াশিংটনের একটি মামলার হুলিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
রায়ে তার আগের নাম মেলানি ফ্রাঙ্কলিন উল্লেখ করা হয়।
‘যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারী আইন লংঘনের’ একটি মামলায় গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেয়া শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।
রায়ে আরো বলা হয়, ‘ফ্রাঙ্কলিনের পক্ষে একজন এটর্নী নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তাকে কোন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়নি।’
হাশেমি একজন ইরানিকে বিয়ে করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি এবং মুসলিম ও আফ্রিকান আমেরিকানদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের সমালোচনা করে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, তাকে রোববার সেন্ট লুইস বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেখানে এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ বুধবার বলেন, ‘মার্জিয়া হাশেমির গ্রেফতার একটি অগ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক আচরণ এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পদদলিত করার প্রমাণ।’
সুত্র: বাসস ডেস্ক।

 

মদ, গাঁজায় মেতে আছে সেই সৌদি তরুণী


নারী সংবাদ


পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এনে বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন সৌদি আরবের মেয়ে রাহাফ মোহাম্মেদ আল-কুনুন (১৮)। পরিবার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপে কানাডায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কানডায় গিয়েই রাহাফ তার ‘নতুন জীবনযাত্রার’ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে দেখা গেছে মদ, শুকরের মাংস আর গাঁজা হয়ে উঠেছে তার জীবনসঙ্গী।

তাকে দেখা গেছে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরিহীত। গায়ে হাঁটু পর্যন্ত উলের পোশাক দেখা গেছে । গত মঙ্গলবার স্ন্যাপচ্যাটে কিছু ছবি শেয়ার করেছেন রাহাফ। এতে তিনি জীবনে প্রথম কানাডিয়ান স্টাইলে বেকন খাচ্ছেন (শূকরের হিমায়িত মাংস) বলে জানিয়েছেন।

এই ছবির সঙ্গেই তিনি মদ এবং সিগারেটের টুকরার ছবি দিয়ে সেগুলো দারুণ উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন। কানাডায় সাধারণ এভাবে গাঁজা ভরে সিগারেট খাওয়া হয়। সম্প্রতি দেশটি গাঁজাকে বৈধতা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশের নিজস্ব রীতি মেনে ১৮/১৯ বছর বয়সী থেকে সবাই গাঁজা সেবন করতে পারেন।

সিগারেট খাওয়ার ও মদের ছবি শেয়ার করেছেন রাহাফ। একটি ছবিতে ক্যাপশন দিয়েছেন, মাইনাস ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বসে ‘বাষ্প’ উড়াচ্ছি।

পরিবারের বিরুদ্ধে নানান নির্যাতন আর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত কানাডায় আশ্রয় পেয়েছে মেয়েটি। ইতোমধ্যে তার নতুন জীবনের এক সপ্তাহ পার হয়েছে। আর এই এক সপ্তাহ জীবনযাপনের চিত্রই পাওয়া গেছে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবি ও অভিজ্ঞতায়। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

সন্তান লালন পালনের চারটি স্টাইল


প্যারেন্টিং


‘প্যারেন্টিং’ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্যারেন্টিং এর ক্ষেত্রে মা-বাবা সন্তানের সাথে কত বেশি সময় পার করছেন তার চেয়ে কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন সেটা অনেক দরকারি। মা-বাবা তাদের সন্তানের লালন-পালনের সময় প্রয়োগ করেন অজান্তে নানান প্যাটার্ন বা স্টাইল। আজকে আমরা প্রধান চারটি স্টাইল নিয়ে জানবো।

প্যারেন্টিং স্টাইল

মা-বাবা’র প্যারেন্টিং স্টাইল সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্যারেন্টিং স্টাইল এর সাথে পড়াশুনা, ব্যক্তিক, সম্পর্ক, সামাজিকতা বিকাশের অনেক ভূমিকা তা জানার চেষ্টা করব আমরা। চলুন আগে আমরা প্যারেন্টিং স্টাইলের ধরণ গুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেইঃ

ডিয়ানা বাউমিন্ড দেওয়া চারটি প্যারেন্টিং স্টাইল নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন।

স্বৈরাচারী স্টাইল

মা-বাবার কাছে সন্তানদের মতামতের গুরুত্ব কম। সন্তানের কাছে বড় কিছু আশা করলেও তাদের প্রতি কম সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তারা সন্তানের কাছ থেকে বিনা শর্তে আনুগত্য পেতে পছন্দ করেন। ছেলে-মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান করেন। তাদের কিছু শক্ত নিয়ম কানুন থাকে এবং তাদের মতের সাথে দ্বিমত হওয়া তারা মোটেও পছন্দ করেন না।

গণতান্ত্রিক স্টাইল
প্যারেন্টিং স্টাইল যা যুক্তিপূর্ণ, পরিমিত নিয়ম ও নির্দেশনা ঠিক করে দেয়। যেখানে সন্তানের চিন্তা-ভাবনা, আচরণকে গুরুত্ব সহকারে বোঝার চেষ্টা করা হয়। এখানে সন্তানের জন্য নিয়ম-কানুনগুলো পরিষ্কার করে দেখানো হয়। সর্বোত্তম, স্টাইল এসময় মা-বাবা সন্তানেরা গ্রহণযোগ্যভাবে আচরণ করতে শেখে।
মা-বাবা সন্তানের কাছে বিভিন্ন প্রত্যাশা করেন আবার সন্তানের প্রতিও সহানুভূতিশীল। সন্তানের দায়িত্ব কি হবে, কিভাবে সমাজে চলাফেরা করবে তা তাদেরকে জানিয়ে দেন এ পরিষ্কার ভাবে সব মা-বাবা।

প্রশ্রয়কারী স্টাইল:
মা-বাবাকে প্রশ্রয়দানকারী মা-বাবা বলা হয়। তারা সন্তানের প্রতি অতি সহানুভূতিশীল হন এবং তার কাছে চাওয়া পাওয়া কম থাকে। এসব মা-বাবা নরম প্রকৃতির অর্থাৎ গতানুগতিক মা-বাবা থেকে আলাদা, এরা সন্তানের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। তারা সন্তানকে যে নির্দেশনা দেন সেগুলো প্রায় অসামজ্ঞস্যপূর্ণ হয়ে থাকে।

উদাসীন স্টাইল:
মা-বাবা সন্তানের প্রতি কম সহানুভূতিশীল এবং তাদের উপর প্রত্যাশাও কম তাকে। সন্তানের উপর কোন আবেগীয় বন্ধন থাকে না বরং ছেলে-মেয়ে অবজ্ঞা, অবহেলার মধ্যে মানুষ হতে থাকে। সন্তানকে শুধু খাদ্য,বস্ত্র, আশ্রয় দেওয়াই তাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন বলে তাদের উপর আগ্রহও কম থাকে। এসব মা-বাবার সন্তান প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহের শিকার হয়।

আপনি আপনার সন্তানের সাথে একটা বিকেল কাটিয়েছেন কিন্তু আপনি নিজের কাজ করলেও সন্তানের দিকে খেয়াল করছেন না।

প্রতিদিন গড়ে সন্তানের সাথে ৩০ মিনিট সময় কাটানো দরকার মা-বাবার। আর ঐ সময়টা শুধুমাত্র সন্তানের জন্য বরাদ্দ থাকা উচিত। বাবা আলাদাভাবে ৩০মিনিট এবং মা আলাদা ভাবে ৩০ মিনিট কাটাবেন।

 

রাস্তা পার হতে গিয়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু


নারী সংবাদ


গতকাল বুধবার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোমা বড়ুয়ার (১৮) মৃত্যবরণ করেন। সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় শিক্ষার্থী সোমা। বাসযোগে কোতোয়ালির মোড়ে নেমে পার হচ্ছিল রাস্তা।

সকাল ১০টার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানার মোড়ে কাভার্ড ভ্যানচাপায় সে প্রাণ হারায়। সোমা চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল এলাকার বড়ুয়াপাড়ার রূপায়ণ বড়ুয়ার মেয়ে। পরিবারে তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। তাদের গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলায়।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সোমার স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।

এ ঘটনায় পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি ও ঘাতক চালক জসিম উদ্দীনকে আটক করেছে। কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সজল দাশ সমকালকে বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে সোমার সহপাঠীরা বন্ধুকে হারিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নগরে দিনের বেলায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধে আইন কার্যকর করতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। প্রশাসনের কাছে আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি। সুত্র ও ছবি :ইন্টারনেট।

 

আকিজের তিন চাকাওয়ালা ই-বাইক ‘সাথী’, কম দামে অনেক সুবিধা..


অন্যান্য


সাইকেল চালাতে শারীরিক শক্তি আর মোটরসাইকেলে চালাতে জ্বালানি প্রয়োজন। মাঝামাঝি কোনও বাহন নিয়ে নিজের মতো আরাম করে বসে সহজে গন্তব্যে পৌঁছে যেতে চান, আর পয়সাও বাঁচাতে ইচ্ছুক হন, তাহলে ইলেকট্রিক বাইক হবে সহজ সমাধান।
ব্যাটারিচালিত তিন চাকার এমন বাইক নিয়ে এসেছে আকিজ মোটরস। ‘সাথী’ নামের এই বাইকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, সাইকেল বা মোটর বাইক চালানো না শিখেও খুব সহজে এটি চালানো যাবে। তিন চাকার এই বাইকটিতে ভারসাম্য রক্ষা করার কোনও ঝামেলা নেই।

আকিজ মটরসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মুহাম্মাদ আবুল হাশেম বলেন, “যানজটের এই শহরে বাসে ভ্রমণ এক দুঃসহ যন্ত্রণা। কিন্তু ‘সাথী’ থাকলে অফিসে যাওয়া-আসাসহ বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসা কর্মজীবীদের জন্য এখন আর কষ্টের নয়। নেই কোনও বাইক রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা। জীবন হবে অনেক সহজ।” তিনি আরোও জানান, ‘সাথী’তে ৬০০ ওয়াটের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একবার পূর্ণচার্জে ই-বাইকটি শহরে ৫০-৫৫ কিলোমিটার এবং হাইওয়েতে ৬০-৬৫ কিলোমিটার যেতে পারে। ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে ই-বাইকটি।

নিরাপত্তার জন্য ‘সাথী’র তিন চাকাতেই রয়েছে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক। ৩০০-১০ সাইজের চাকা এবং যথেষ্ট গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকাতে উঁচু-নিচু বা গতিরোধকগুলোও ‘সাথী’ সহজে টপকে যাবে। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ই-বাইকটির পিছনের দুই চাকাতেই শক অ্যাবসর্ভার রয়েছে।
শব্দ ও জ্বালানিবিহীন এসব ই-বাইকে শক্তিশালী ও উন্নতমানের জেল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘সাথী’তে সিটের মাঝখানে জিনিসপত্র রাখার সুপরিসর জায়গা রয়েছে। এছাড়া সিটের নিচের অংশে অনায়াসে নিজের হেলমেট থেকে শুরু করে আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র লক করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।সিটের হেলান দেয়ার পেছনের অংশেও রয়েছে খাঁচাসদৃশ স্টোরেজ। মোটকথা, নিজের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র অনায়াসে এই ই-বাইকে নিয়ে চলে যেতে পারবেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।ই-বাইকটিতে থ্রটলের নিচে সুইচে রয়েছে গিয়ার। তিন পুশ গিয়ার সমৃদ্ধ এই ই-বাইকটিতে সহজে গিয়ার চেঞ্জ করে যেকোনো প্রতিকুল রাস্তাও অনায়াসে পাড়ি দেয়া যাবে। গিয়ার সুইচের পরেই রয়েছে ব্যাক গিয়ার। সুইচটি চেপে বাইক থেকে না নেমে মোটরের সাহায্যে সহজে ই-বাইকটিকে পেছনে নেয়া যাবে। এই বাইকে পায়ের কোন কাজ নেই। দুই হাতে ব্রেক রয়েছে। কোথাও পার্ক করে রাখার জন্য রয়েছে ব্রেক লকার।

‘সাথী’র ডান হাতে রয়েছে থ্রটল। থ্রটল যত ঘোরানো হবে ততই গতি বাড়বে। থ্রটল ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে বাইকের গতি কমে আসবে। চুরির হাত থেকে ই-বাইকটিকে রক্ষা করতে বাইকটিতে কি লকের পাশাপাশি রিমোট লক ব্যবহার করা হয়েছে। তাই সিটে বসার সময় হাতল ঘুরিয়ে সহজেই বসা যায়। পেছনের যাত্রীর পা রাখার জন্য বাইকটিতে অতিরিক্ত ফুট রেস্ট বা পাদানি সংযোজন করা হয়েছে।ই-বাইকটি সম্পর্কে আকিজ মটরস এর ইলেকট্রিক মটর সাইকেল সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ ফারুক বলেন, ‘পরিবেশ বান্ধব এই ই-বাইকটি ২৫০ কেজি পর্যন্ত ধারণ করতে পারে। সম্পূর্ণ মেইন্টেনেন্স মুক্ত ড্রাইসেলের ব্যাটারি ব্যবহার করাতে ই-বাইকটি আলাদা কোন যত্ন নেবার বিষয় নেই।’
‘কিনুন এবং চালান’ এই থিউরিতেই মূলত আকিজের ই-বাইক বাজরে ছাড়া হয়েছে।

আকিজের এই ই-বাইকটির দাম জানতে এবং এটি কিনতে ভিজিট করুন- https://akijmotors.com
এই ঠিকানায়। ভিজিট করতে পারেন ফেসবুকও: https://www.facebook.com/AkijMotors
হটলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইল ফোন নম্বর: 01770794917
রাজধানীর তেজগাঁও এর আকিজ মোটরস এর প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ সারাদেশে ই-বাইকটি পাওয়া যাচ্ছে। সুত্র: ইন্টারনেট।

 

শিশুদের ওপর মোবাইল ফোনের প্রভাব


নারী সংবাদ


পুরনো ঢাকার অধিবাসী নজরুল ইসলামের পাঁচ বছরের শিশু কন্যা জারা এখন অনেক পাওয়ারী চশমা পরে। চশমা ছাড়া পড়তে সমস্যা হয়, টিভি দেখতে ও সমস্যা হয়।
একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ সারাক্ষণ জারাকে চশমা পড়ার উপদেশ দিয়ে সতর্ক করেছেন নিয়মিত চশমা ব্যবহার না করলে তার চোখের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।
জারার মা ঝর্না বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, দুই-আড়াই বছর বয়স থেকেই জারা মোবাইল ফোনে গেম খেলে। গত কয়েকদিন আগে সে আমাকে জানায় যে,সে ঠিকমত টিভি দেখতে পারে না, অস্পষ্ট দেখে। সেই সময় ওর চোখের নীচে কাল দাগও আমরা লক্ষ্য করি।
চোখের ডাক্তারকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারনেই ওর চোখের এই অবস্থা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের চার্টার বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, স্মাট ফোনের অধিক ব্যবহার চোখের রেটিনা,কর্নিয়া এবং অন্যান্য অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
১৬ বছর বয়সী মেহেদি প্রাঞ্জলের বাবা আব্দুল বারাক বলেন,”সম্প্রতি আমি লক্ষ্য করলাম যে আমার ছেলে আমার মানি ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করা শুরু করেছে। কারণ এবার এসএসসি ফেল করার কারণে আমি ওকে হাত খরচ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”
“সব আমার দোষ, আমি কেন যে ওকে ফোন কিনে দিলাম,” হাহাকার করে ওঠেন বারাক।
তিনি জানান মেহেদি যখন অস্টম শ্রেণিতে পড়ে তখন তিনি ওকে ফোন কিনে দেন।
বারাক জানান, মেহেদি সারাক্ষণ ফোন নিয়ে থাকতেই পছন্দ করে। কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলেনা। ফোন কেড়ে নিলে প্রচন্ড হিংসাত্মক হয়ে ওঠে।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ফোন আমাদের জন্য অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে বিবিধ সমস্যা। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কারণ বতর্মান সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
লিটেল জুয়েল স্কুলের শিক্ষিকা সাইদা ইয়াসমিন বাসস’কে জানান, মাঝে মাঝে কিছু বাচ্চা স্কুলে ফোন নিয়ে আসে। এমনকি শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তারা ক্লাসে ফোন ব্যবহার করে।
“ক্লাসে তাদের মন বসেনা, বাড়ির কাজ করে না যার প্রভাব পড়ে তাদের পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক উম্মে কাওসার বলেন “সবচেয়ে খারাপ দিক হল তারা পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা ফোনে মেসেজ, নোটিফিকেশন চেক করতেই ব্যস্ত থাকে। ফোন তাদের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিলে তারা ক্ষেপে যায়।”
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ এ এসএম মাহমুদুজ্জান বলেন, আজকের শিশুরা রেডিও ফ্রেকুয়েন্সি ঘেরা এক পরিবেশের মধ্যে বড় হচ্ছে, ফোন থেকে যে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি নির্গত হয় তা তাদের জন্য ভয়ংকর পরিণতি নিয়ে আসতে পারে।
যে সমস্ত শিশুরা ফোন ব্যবহার করে তারা অপেক্ষাকৃত অনিদ্রা এবং অস্থিরতায় ভুগে থাকে।
তবে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে শিশুদের উপর ফোনের কু প্রভাব কমে যাবে। সেগুলো হল, কথা বলার সময় এয়ারফোন ব্যবহার করা, বাচ্চাদেরকে স্কুলে ফোন নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দেয়া, শোয়ার ঘরে ফোন নিতে না দেয়া এবং বাচ্চাদের সাথে মোবাইলের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে
কাউন্সেলিং করা। সুত্র: রোকসানা ইয়াসমিন (বাসস)।

 

জোনাক নগরের আঙিনায়…৪


আফরোজা হাসান


চায়ের পানি বসাতে বসাতে আড় চোখে মাহার দিকে তাকালো নূরি। কান্না করে চোখ মুখ ফুলিয়ে লাল করে ফেলেছে মেয়েটা। ছয়মাস হয়েছে মাহার সাথে পরিচয় হয়েছে নূরির। তারপর থেকেই সপ্তাহে অন্তত একদিন কান্না করতে করতে অবশ্যই তার কাছে এসে হাজির হয় মাহা। বাচ্চাদেরকে স্কুল থেকে আনতে যাবার সময় হবার আগ পর্যন্ত চলতে থাকা কান্না আর জীবনকে ঘিরে থাকা দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা। মাহার দিকে তাকিয়ে মায়ায় মনটা ভরে উঠলো নূরির। প্রায় তার সমবয়সীই অথচ চার ও তিন বছর বয়সী দুটি বাচ্চার মা হয়ে গিয়েছে। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় বিয়ে হয়েছিল। নয় মাস পরেই হাজবেন্ডের কাছে প্রবাসে চলে এসেছে। বাবা-মায়ের খুব আদরের ছোট মেয়ে ছিল তাই সাংসারিক তেমন কোন জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। প্রবাসে এসে নিজেই হিমশিম খাচ্ছিলো এমন অবস্থায় আবার নতুন প্রাণেদের আগমন জীবনে। নিজেকে ঠিকমতো গুছিয়ে নেয়ার সুযোগই পায়নি সেভাবে। সবকিছু মিলিয়ে কাজেকর্মে যেমন খুব একটা চটপটে না, স্বভাবেও তেমন গোছানো না মাহা। স্বামীর সাথে ওর খিটপিট লেগে থাকাটা তাই অস্বাভাবিক লাগে না নূরির কাছে। চা বানিয়ে মাহার কাছে বসে নূরি বলল, মাত্র না চোখ-মুখ ধুয়ে এলে তুমি, আবার কেন কান্না করছো? চোখ মোছ তো এখন। চা নাও দেখবে মাথা ধরা ছেড়ে দেবে।
তুমি তো জানো না নূরি কি হয়েছে গতরাতে।
মাহা তোমাকে একটা কথা বলি প্লিজ কষ্ট পেয়ো না। এই যে তুমি তোমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবরদের অন্যায়ের কথা আমাকে বলো এটা কিন্তু ঠিক না। কেননা এটাও গীবতের পর্যায়ে পরে।
গীবতের পর্যায়ে পরবে ক্যান? আমি তো আমার কষ্টের কথা তোমাকে বলি।
দেখো মাহা কষ্টের কথা বলা এক জিনিস আর অন্যের দোষ বর্ণনা করা আরেক জিনিস। তুমি অবশ্যই তোমার কষ্টের কথা আমাকে বলতে পারো কিন্তু সেটা হবে হবে অন্যের সমালোচনা করা ছাড়া।
কিন্তু আমি তো তোমার কাছে পরামর্শের জন্য বলি।
তুমি ভেবে দেখো তো ঠিক কি কি বলো আমাকে? তোমার সাথে কে কি করেছে অতীতে সেসব বলো নয়তো তোমার স্বামী কি বলেছে সেসব বলো। কিন্তু একতরফা কিছু শুনে কি পরামর্শ দেয়া সম্ভব? তুমি সবার ভুল আর দোষ বলো কিন্তু তোমার ভুল ও দোষ গুলো তো আড়ালেই থেকে যায় তাই না? আর নিজের কথা বললেও তোমার কাজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলো। যার ফলে তোমাকে সঠিক আর বাকি সবাইকে বেঠিক লাগাটাই স্বাভাবিক।
মাহা বেশ দৃঢ় কন্ঠে বলল, আমি কখনোই আমার দোষ গোপন করি না। আর মিথ্যাও কথা বলি না আমি আলহামদুলিল্লাহ।
নূরি হেসে বলল, তুমি মিথ্যা বলো বা গোপন করো এমন কথা কিন্তু আমি বলিনি। দেখো আমাদের স্বভাব হচ্ছে নিজেকে বা নিজের কাজকে পজেটিভ ভাবে দেখা। আর এখানে স্বভাবেরও কোন দোষ নেই। সমস্যা হচ্ছে আমাদের চোখ। কারণ আমাদের চোখ নিজেকে ছাড়া আর সবাইকে দেখে। যার ফলে সবার ভুল-অন্যায় গুলো দেখলেও নিজেরটা অদেখাই থেকে যায় তার কাছে। যারফলে আমাদের কাছেও অজানা থাকে যে কিছু ভুল আমারো আছে।
তারমানে তুমি বলতে চাইছো আমার স্বামী ঝগড়া করে এতে আমারো দোষ আছে?
নূরি হাসি মুখে বলল, কিছু না কিছু দোষ তো নিশ্চয়ই আছে। কি মুখ ভার হলো কেন? আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা। তুমি চিন্তা-ভাবনা করে আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব দাও। তুমি কি সত্যিই সুখী হতে চাও জীবনে?
এটা আবার কেমন প্রশ্ন? কে না সুখী হতে চায় জীবনে?
কে না চায় সেটা জানতে চাইনি তোমার কাছে। তুমি চাও কিনা সেটা বলো।
অবশ্যই চাই।
তাহলে খুঁজে বের করে তোমার জীবনে সুখী হবার পথে প্রতিবন্ধকতা গুলো কি কি? তোমরা সুখী হতে পারছো না এতে তোমার ঘাটতি কতটুকু আর তোমার স্বামীর কতটুকু? দাম্পত্য কলহ কেন বাঁধছে তোমাদের? স্বামীর কোন জিনিস গুলোকে তোমার গুণ আর কোন জিনিসগুলোকে দোষ মনেহয়? কতটুকু ভালোবাসো স্বামীকে? তার কষ্ট কি তোমাকে এতটা ব্যথিত করে যে না চাইতেও চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাহা বলল, এসব প্রশ্নের উত্তর আমি কিভাবে জানবো?
প্রতিটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যদি ব্যক্তিকে তার ভালো ও মন্দ দুটি দিক থেকে আলাদা করে দেখতে চেষ্টা করি। তাহলে সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়ন অনেক কমে যায় জানো। আমার জন্য কি করেনি চিন্তা না করে যদি ভেবে দেখি কি কি করেছে, তাহলে মনের অপ্রাপ্তির ঘরে প্রাপ্তির দেখা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বা কষ্ট দিয়েছে এটা ভাবার সাথে সাথে যদি নিজের ভুলটাও অনুসন্ধান করে দেখতে দেখি তাহলে জীবনের অনেক জটিলতা এমনিতেই কমে যায়। তুমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করো। তারপর আমরা এই বিষয়ে কথা বলবো।
তোমার কি এসব প্রশ্নের উত্তর জানা আছে নূরি?

চলবে…..

পর্ব-৩

 

কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন


নারী সংবাদ


মানিকগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাইদুর রহমানকে যাবজ্জীবন সশ্রম করাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন এ রায় দেন। তবে আসামি জামিন নিয়ে পলাতক আছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি একেএম নূরুল হুদা রুবেল জানান, শিবালয় উপজেলার বনদুর্গ এলাকায় ২০০৭ সালে ৯ মার্চ রাতে ওই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে জগৎদিয়া গ্রামের মুদি দোকানদার সাইদুর। এ সময় কলেজছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে সাইদুরকে ধরে ফেলে। ঘটনার দু’দিন পর ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে শিবালয় থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ জুন তদন্ত কর্মকর্তা শিবালয় থানার এসআই রঞ্জিত কুমার দাস আদালতে আসামি সাইদুরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গতকাল রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

 

রেসিপি- “ঝাল মাংস পুলি”


ঘরকন্যা


ঝাল মাংস পুলি

উপকরণ

  • ২ কাপ মাংস সেদ্ধ,
  • ১ কাপ আলু কুচি করে সেদ্ধ করা,
  • ২/১ চা চামচ কাবাব মসলা,
  • ২ টি পেঁয়াজ কুচি,
  • ৫/৬ টি মরিচ কুচি,
  • আধা চা চামচ আদা-রসুন বাটা,
  • লবন স্বাদমতো,
  • টেস্টিং সল্ট সামান্য,
  • তেল ভাজার জন্য,
  • ২ কাপ ময়দা,
  • ২ চিমটি কালোজিরা,
  • পানি পরিমাণমতো।

 

প্রণালি‏

  • পুর তৈরির জন্য একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে গরম করে এতে আদা-রসুন বাটা দিয়ে দিন। ঘ্রাণ ছড়ালে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নেরে নরম করে নিন। এরপর মরিচ কুচি ও বাকি মসলা দিয়ে ভালো করে কষে নিন।
  • মসলা কষে এলে সেদ্ধ মাংস একটি পিষে দিয়ে দিন যাতে আঁশ আলাদা হয়। ভালো করে নেড়ে নিয়ে সেদ্ধ আলু কুচি দিয়ে ভালো করে নেরে ভাজা ভাজা হয়ে এলে নামিয়ে নিন।
  •  ময়দা সামান্য তেল দিয়ে খাস্তা করে নিয়ে লবন ও কালি জিরা দিয়ে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে রুটি বেলার ডো তৈরি করে নিন। এরপর পাতলা ছোট রুটি তৈরি করে মাঝে পুর দিয়ে দুভাজ করে অর্ধচন্দ্রের মতো তৈরি করে দুপাশ আটকে দিন।
  •  কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজার মতো তেল গরম করে লালচে করে ভেজে তুলুন। কিচেন টিস্যুর উপরে তুলে রেখে বাড়তি তেল শুষে নিন। ব্যস, এবার পরিবেশন করুন গরম গরম।

রেসিপি : বাংলাদেশি রেসিপি।

 

সাভারে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক – ২


নারী সংবাদ


সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় এক গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো আল আমিন ওরফে জয় (২২) ও রায়হান (২৫)। রোববার ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় ওই গৃহবধুর স্বামী একটি মোবাইল ফোন ক্রয় করার সূত্র ধরে রায়হানের সাথে টাকা লেনদেন নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে গত শুক্রবার রায়হান নামের ওই যুবক গৃহবধূর স্বামীর নিকট টাকা চাইলে সে টাকা দিতে না পারায় রাস্তা থেকে গৃহবধুকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে যায় রায়হান। পরে ওই গৃহবধুকে কয়েকজন যুবক পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আল আমিন ওরফে জয় ও রায়হানকে আটক করে।

সাভার মডেল থানার (এসআই) প্রাণ কৃষ্ণ রায় বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আটককৃত দুই আসামীতে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

সুখস্মৃতি


রেহনুমা বিনত আনিস


কিছু গন্ধ, কিছু স্বাদ, কিছু স্পর্শ, কিছু মূহূর্ত আবছা অস্পষ্ট অশরীরি স্মৃতি হয়ে ঘুরে বেড়ায় ব্যাস্ত মনের আনাচে কানাচে। অবসরের মূহূর্তে হঠাৎ দুষ্ট শিশুর মত মনের দরজায় এক ঝলক উঁকি দিয়ে পালায়। কিন্তু মন তাকে কিছুতেই হারাতে চায়না, পিছু ধাওয়া করে। কখনো জীবনের ব্যাস্ততা তাকে ফিরিয়ে আনে বাস্তবতায়, কখনো স্মৃতির সাথে চলে লুকোচুরি খেলা, আর কখনো নাছোড়বান্দা মন স্মৃতির পিছু ধাওয়া করে পৌঁছে যায় সেই সোনালী বন্দরে যেখান থেকে জাহাজ ছাড়বেনা আর কোনদিন। কিন্তু সৈকতে বসে মিষ্টি রোদে একটু হাওয়ার পরশ, এক পশলা বৃষ্টি পটে আঁকা ছবির মত তাকে মুগ্ধ করে দিয়ে যায়, এটাই প্রাপ্তি।
এমনই এক স্মৃতির পিছু ধাওয়া করছিলাম গত সাত বছর। আমার স্মৃতির শেলফগুলোতে থরে থরে সাজানো জ্ঞানীদের জ্ঞানের পসরা। নিজের নেই বলে অন্যের জ্ঞানের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করতে লজ্জা করিনি কখনো।

বইগুলোর একেকটার একেক স্বাদ, একেক গন্ধ, একেক মর্ম – ভালো লাগায় ভরপুর অনুভূতির সৃষ্টি করত দিনরাত। তখন পর্যন্ত আমার বিচরণক্ষেত্র সীমিত ছিলো বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, জীবনী এবং বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মাঝে। সাহিত্যের মাঝে ভালো লাগত গোয়েন্দা কাহিনী, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার। একদিন, আমাদের হেডমিস্ট্রেস – যিনি অংক টিচার হিসেবেই সুপরিচিত – তাঁর কন্যা রাকা আপু আমার সাথে নানান বিষয়ে আলাপ হবার পর বললেন, ‘এই বয়সে কি সব কঠিন কঠিন জিনিস পড় তুমি!’ আমাকে ভিন্ন স্বাদের কিছু বইয়ের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ওনার সংগ্রহ থেকে কিছু বই পড়তে দিলেন আপু। অনেকটা ঐতিহাসিক ধাঁচে লেখা হওয়ায় প্রথমেই ঝাঁপিয়ে পড়লাম Prisoner of Zenda বইটির ওপর। একে একে শেষ করলাম আরো কয়েকটি বই। অবশেষে বাকী রইলো একটা। বইটা দেখে এমন আহামরি কিছু মনে হয়নি। পরদিন আপুদের বাসায় দাওয়াত, পরিকল্পনা ছিলো বইগুলো ফিরিয়ে দিয়ে আরো কিছু নিয়ে আসব। কিন্তু না পড়ে বই ফিরিয়ে দেয়া আমার ধাতে সয়না, মনের ভেতর খুঁতখুঁত করতে থাকে না জানি বইটাতে কি অমূল্য জ্ঞান ছিলো, সেটি আহরণের সুযোগ আমি হারিয়ে ফেললাম। আবার browse করে পড়াও আমার মত অপদার্থের দ্বারা হয়না। মনের ভেতর খচখচ করে কোন শব্দ বা কোন লাইন বাদ দিলে যদি মর্মার্থটাই বাদ পড়ে যায়! পড়ার প্রতি এই গন্ডমূর্খের মত মানসিকতার কারণে জীবনে অনেক অখাদ্যই আদ্যোপান্ত গিলে খেয়েছি। কিন্তু অনেক অসাধারন কিছুও খুঁজে পেয়েছি।
যোহরের নামাজ পড়ে বইটা নিয়ে বসলাম। তারপর শুধু নামাজ ছাড়া আর কোন বিরতির কথা মনে পড়েনা। রাত জেগে বই পড়া ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক। কিন্তু সেই প্রথম সারা রাত জেগে পড়া। তারপর বই শেষ করে ফজর নামাজ পড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা। যাক, লেখিকা হবার স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা বোকা মেয়েটা অবশেষে সুখী হবার পথ খুঁজে পেলো!
সে ২৮/২৯ বছর আগের ঘটনা। সাত বছর আগে ক্যানাডা আসার পর থেকে বইটার কথা খুব মনে পড়তে থাকে। কারণ বইয়ের লেখিকা ক্যানাডিয়ান, পটভূমি ক্যানাডা। কিন্তু বইয়ের নাম, লেখকের নাম, নায়িকার নাম, নায়কের নাম কিছুই মনে নেই, মনে আছে শুধু নায়িকার বান্ধবীর নাম আর গল্পটা। বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললাম, বুঝলাম বইটা এমন বিখ্যাত নয় যে গল্পের সার বললে কেউ বলতে পারবে বইটার নাম কি। কেন যেন মনে হচ্ছিলো লেখিকা তিনিই যিনি Anne of the Green Gables লিখে বিখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু সেদিকেও বেশী দূর অগ্রসর হতে পারলাম না। কারণ যাচাই করার মত যথেষ্ট তথ্য আমার স্মৃতিতে সংরক্ষিত নেই।
আজ হঠাৎ মনে হোল তারাটার নাম দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে কেমন হয়? গল্পটার খুব হৃদয়স্পর্শী একটি দৃশ্য ছিলো – ছোটবেলা থেকে একসাথে বেড়ে ওঠা দু’টি ছেলেমেয়ে, ছেলেটি লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে অনেক দূরে, আর কোনদিন ফিরবে কি’না ঠিক নেই; সে মেয়েটিকে বলল, ‘আকাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় তারা Lyre নক্ষত্রমন্ডলীর সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র Vega. এই তারাটির দিকে তাকালেই আমি তোমার কথা স্মরণ করব’। ভেগার সাথে সংশ্লিষ্ট কল্পকাহিনীমতে নায়িকা এবং নায়ক আকাশে এক নদী তারা (মিল্কি ওয়ে/ আকাশগঙ্গা) দ্বারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। ফলে তারাটির তাৎপর্য এখানে কেবল এর ঔজ্জ্বল্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দিলাম ‘Vega of the Lyre in Fiction’ লিখে সার্চ। সাথে সাথে বেরিয়ে এলো আমার স্মৃতি থেকে একটি সবুজ পত্র! বইটির নাম Emily’s Quest! অবশেষে আমার quest সমাপ্ত হোল। বেঁচে থাকো বাবা গুগল! আমি কল্পনাও করতে পারিনা এর প্রতিষ্ঠাতারা কতখানি মেধা এবং অধ্যাবসায়ের অধিকারী, ভাবতেই পারিনা গুগলের আগের যুগে মানুষ কিভাবে তথ্যের অনুসন্ধান করত!
এই বিজয়ে আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। আমার বিয়ের সময় আমার দাদা এক অদ্ভুত উপহার দিয়েছিলো। এক বিরাট বাক্স, এর ভেতর থেকে ক্রমান্বয়ে বের হতে রইলো আরো অনেক অনেকগুলো বাক্স। সবার শেষে বেরোল ছোট্ট একটা বাক্স। অনেক কুচি করা কাগজের মাঝে একটা বড় কাগজে লেখা, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন’। দাদা বলল, ‘দেখ তো বাক্সের ভেতর আর কিছু খুঁজে পাও কি’না!’ বাক্সের নীচে পাওয়া গেল একটা ল্যামিনেট করা চেক, ৫০,০০০ টাকা! দাদার অব্যবহিত ছোটবোন দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন প্রচন্ড মেধাবী, ব্যাক্তিত্বসম্পন্না। সবার ধারণা আমি দেখতে তাঁর মত। যদিও তিনি ছিলেন রত্ন, আমি ছাই, কিন্তু চেহারায় মিল থাকার ফলে দাদার ছিলো আমার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। পরিবারের বড় সন্তানের বড় সন্তান হওয়াটা এখানে বোনাস।
ঘটনাটা এজন্য বললাম, টাকাটা বড় ব্যাপার না, চেহারাটা পাওয়ার ব্যাপারেও আমার কোন হাত নেই, কিন্তু ভালোবাসা একটা অমূল্য সম্পদ, সেটা যেভাবেই পাওয়া যাক না কেন। এই বইটার নাম জেনে আমার কোন লাভক্ষতি নেই, কিন্তু স্মৃতির পেছনে পিছু ধাওয়া করে যে সময়টুকু কেটেছে সুখস্মৃতি রোমন্থন করে সেটাই অমূল্য। কারণ আজকের এই ঘটনাটাই হয়ে উঠবে আগামী দিনের জন্য আরেক সুখস্মৃতি!

 

সুস্থ শিশুর জন্য নিশ্চিত করুন নিরাপদ মাতৃত্ব


নারী সংবাদ


নিরাপদ মাতৃত্ব একজন নারীর অধিকার। সুস্থ সন্তানই আগামী দিনের সুস্থ নাগরিক। একটি সুস্থ শিশুর জন্মের জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ মাতৃত্ব।
একজন নারীর পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে। মা সুস্থ থাকলে সন্তান সুস্থ থাকবে। মা হওয়া একজন নারীর জন্য, পরিবারের জন্য, এক সুখকর অনুভূতি। তবে মা হওয়া নারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে। কারণ, একজন নারী যতবার গর্ভধারণ করে, ততবারই তার জীবনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই, একজন মাকে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে হলে পরিবারের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া খুবই জরুরি।
অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মতে নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ সন্তান নিশ্চিত করার জন্য সুষম খাবার ও চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্বও অপরিসীম। এই সচেতনতা পরিবারের সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
গর্ভবতী মায়ের প্রতি যথাযথ যতœ নিতে হবে। স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে বুঝতে হবে যে, সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেয়া এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের দায়ভার শুধু প্রসূতির ওপর এককভাবে চাপিয়ে দিলে চলবে না। একটি নতুন মুখের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হয় গর্ভাবস্থায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং সুষম খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বাস্থ্য কর্মী আবুল বাশার বলেন, গর্ভাবস্থায় নিজের সম্বন্ধে সচেতন না থাকা বা নিজের যথাযথ যতœ না নেয়ায় অনেক মায়েরই শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় যদি মা অতিরিক্ত মোটা হতে থাকে এবং হাত-পায়ে পানি এসে যায়, ঘন ঘন মাথা ব্যথা হতে থাকে, রক্তচাপ বেড়ে যেতে থাকে। এ সময় দেরী না করে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মাতৃত্ব নিরাপদ করার জন্য প্রথমে নারীকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সে লক্ষেই সরকার জাতিকে ১শ’ ভাগ শিক্ষিত মা উপহার দেয়ার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষা উপ-বৃত্তি দেয়ার পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে সরকার বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবারের যোগান দেয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের মা ও বর্তমান কিশোর-কিশোরীদেরও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে হবে।
গ্রাম পর্যায়ে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে যে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা থেকে জনগণ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের গর্ভবতী মায়েদের কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চেক-আপ করাতে হবে।
বিশিষ্ট ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. ইসমাত আরা বলেন, গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়ের শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, প্রয়োজন হয় বাড়তি যতেœর। গর্ভাবস্থায় একজন মাকে প্রচুর বিশ্রাম নিতে হয় এসময় প্রসূতিকে পর্যাপ্ত সুষম খাবার দিতে হবে।
তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রথমত গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের মধ্যে রক্তক্ষরণ হওয়ার অর্থ হলো গর্ভের ভ্রুণটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার বা গর্ভপাত হবার আশংকা। রক্তক্ষরণ হবার পরপরই যদি ব্যথা শুরু হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, ভ্রুণটি আর গর্ভে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকছে না, জরায়ু থেকে বেরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রকম অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া খুবই জরুরি।
তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এ সময় ভারি কোন কাজ করা একেবারে নিষিদ্ধ। নিজের এবং গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মাঝে মাঝেই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীর কাছে নিয়ে যেতে হবে।
পরিবার থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে মাকে তার স্বাস্থ্যসেবা সম্বন্ধে সচেতন করে তুলতে হবে। নিয়মিত ও পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। রঙীন এবং সবুজ শাক-সবজি তরি-তরকারি খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ সময়ে সেবা, পরিচর্যা ও ভালবাসা পাবার অধিকার আছে প্রতিটি নারীর। এ অধিকার তাকে অবশ্যই দিতে হবে। তাদের এই অধিকার পূরণ হলে, আর অসচেতনতা দূর করে জটিলতার দ্রুত মোকাবেলা করতে পারলে, ঝুঁকিমুক্ত মাতৃত্ব সম্ভব।
সুত্রঃ বাসস।

 

M A R R I A G E (বিয়ে)


দাম্পত্য


বিয়ে হল সমাজের ভাষায় একজন নারী ও একজন পুরুষের একত্রে বসবাসের জন্য অর্থনৈতিক ও দৈহিক সুব্যবস্থাযুক্ত অনুমতি। কি কঠিন বলে তাই না, তবে বিয়েকে একটি সু-সংগঠিত স্কুল বলতে পারো। যেখানে দুজন ব্যক্তি নয় দুটি পরিবার প্রতিনিয়ত নতুনকে মেনে নেবার জন্য সব সময় নতুন নতুন কৌশল শেখবে। জীবনসঙ্গীরা নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে উন্নত আর জাগ্রত করার চেষ্টা অবিরত রাখবে। উভয়পক্ষকে মিলে মিশেই এই বন্ধন মুল রহস্য খুঁজে নেওয়ার জন্য মানুষ বিয়ে করে। বিশ্বাস রাখো।

M A R R I A G E অর্থই হল ‘বিবাহ’ বা বলতে পার ‘বিয়ে’। এখন আসো দেখি বিয়েকে কিভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

ভুলকে সন্মান কর
জীবনসাথীর প্রতি সন্মান দেখানো বলতে
আসলে বুঝায়, একজন মানুষের মধ্যে অনেক দূর্বলতা থাকে বা থাকবেই। আবার অক্ষমতা দেখা যাবে বা যায়। মানুষ সব কাজ করতে পারে না, এটায় সত্য। আবার অনেক কাজ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলো তুমি নিজেও। সাথীর দূর্বলতা ও অক্ষমতার প্রতি সন্মান দেখাও।

জীবনসাথীকে মেনে নাও
মানুষের মাঝে থাকে একটু রুক্ষতা, গম্ভীরতা, কোমলতা, রাগ, স্নেহশীলতা, আন্তরিকতা এবং সহনশীল মন। জান! ছোট বেলায় থেকে কেউ একটু রাগী। কেউ একটু কোমল। কেউ চালাক বা কেউ তুলনা মুলক বোকা। এই সবকিছু মিলেই একজন মানুষের স্বভাব। তাই মেনে নেওয়ার ক্ষমতা এখনই তৈরি কর। কারণ যার যত সুন্দর এবং দ্রুত এই মেনে নেবার ক্ষমতা থাকবে সে তত সুন্দর করে জীবনকে উপভোগ করবে।

পরস্পরের প্রয়োজন বুঝ
দরদ দিয়ে অপরের চাওয়া বুঝার চেষ্টা কর। ভালবেসে অপরের জন্য একটু হাসি দেওয়া। এবং ছোটখাটো সব ধরনের কাজ আন্তরিকতা ও ভালবেসে কর।

সমাধান চেষ্টা কর
একসাথে কিছুটা সময় বা পথ হাটার জন্য নিজেদের মাঝে অক্ষমতা আর দূর্বলতার জন্য সমস্যার সৃষ্টি হবেই। তাই কথা বলে। শেয়ার করে। সমস্যার সুন্দর সমাধানে দিকে হাটার চেষ্টা তোমাকে করতে হবে। যাতে অন্তত রাতে সব কিছু মিটিয়ে আরামের ঘুম দিতে পার।

ভালবাসার তীব্রতা মেপো না
যদি ভালবাসার তীব্রতা কমে গেছে বলে মনে হয় তোমার। আর তুমি দেখছো যে তুমি সেভাবে তাকে ভালবাসতে পারছো না,তাহলে এটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাও। জীবনে তো অল্প সময়ের জন্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যাবে।

ভালবাসো সহজভাবে
ভালবাসাকে এত সহজলভ্য কর। চাইলেই যেন তুমি ভালবাসাময় পরিবেশ বানিয়ে ফেলতে পারো। যেখানে আত্মা, দেহ, মন এবং হৃদয় একত্রে থাকবে নিজেদের।

মতামত বিনিময় কর
মনে রাখতে হবে বিয়ের অন্যতম সুন্দর এবং মূল্যবান বিষয় হল ‘দেওয়া বা বিনিময়’। আপনার পক্ষ থেকে সবটুকু চেষ্টা মাধ্যমে মূল্যবান সময়, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ভালবাসা অঢেল বিলি করুন।

হাটুন কল্যাণের পথে
সৃষ্টিকর্তা সব আমাদেরকে খুব চমৎকার হৃদয় দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং দুইজন দু জনার সাহায্যকারী, দুই জনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যারা দুজনে কল্যাণকর বন্ধন গড়ে তোলার জন্য সবসময় সর্তকভাবে হাটতে ভালবাসে।

বিয়ে হল পরিবার

এই বিষয়টা খুবই সহজ একটা শব্দ ‘পরিবার’! রাষ্ট্রে সবচেয়ে সুন্দর সংগঠন পরিবার। বউ ও জামাই মিলে গড়ে উঠে একটি পরিবার। পরস্পর একত্রে হল একটি রাষ্ট্র।

বিয়ে সম্পর্কিত অজস্র পোস্ট, বিয়ে হচ্ছে পৃথিবীতে নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্ধন। তাই আমাদের সঠিক জ্ঞান নিয়ে হাটা শিখতে হবে।

মুল সুত্রঃ Elika maholy
অনুবাদঃ ফাতেমা শাহরিন।

 

মহেশপুরে সজিব ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

 


নারী সংবাদ


ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা বাজারের সজিব প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনরা জানান, অদক্ষ নার্স ও হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ভুল অপারেশনের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বাঁশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ভৈরবার সজিব প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ক্লিনিকে এক প্রসূতির মায়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহত এই প্রসূতি মায়ের নাম মোসুমী খাতুন। ডেলিভারী করানোর সময় তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

সজীব প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ক্লিনিকের মালিক সামাউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামন্তা গোপালপুর গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী মৌসুমী খাতুনকে সিজার আপারেশন করানোর জন্য আমার ক্লিনিকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে ভর্তি করে একজন নার্সের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করা হয়। তাতে ব্যর্থ হলে রাত ৮টার দিকে ডাঃ সোহেল রানা মৌসুমী খাতুনের সিজার অপারেশন করেন। রাত ৯টার দিকে মৌসুমী খাতুনের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে যশোরে পাঠানো হয়। কিন্তু রাস্তার মধ্যেই মৌসুমী খাতুনের মৃত্যু হয়, তবে প্রসূতির সন্তান জীবিত আছে।

নিহত প্রসূতি মৌসুমী খাতুনের স্বজনরা জানান, ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থা খারাপ হলে আমরা মৌসুমীকে যশোরে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু ক্লিনিক মালিক তাতে বাধা দিয়ে অদক্ষ এক মহিলা দিয়ে ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করে। তারপর সোহেল নামক একজনকে দিয়ে সিজার অপরেশন করানো হয়। এতে প্রসূতির অবস্থা আরো খারাপ হলে ক্লিনিক মালিক তাড়াতাড়ি যশোর নিয়ে যেতে বলে। যশোর নেয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে যে ডাক্তার দিয়ে সিজার করানো হয়েছে সেই ডাক্তারের ফোন নাম্বার চাইলে ক্লিনিক মালিক সামাউল তা দেননি বলে জানান তারা।

মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম জানান, আমি রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি লোক মুখে শুনেছি। ডাক্তার সোহেলের কুকীর্তি সম্বন্ধে আমি মোড়েলগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় অবগত। তার বাড়ি বাগেরহাট। সে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় রোগী অপারেশন করে মর্মে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসতো। প্রসূতির মৃত্যুতে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। সুত্র: নয়াদিগন্ত

 

টাইম ম্যানেজমেন্ট


মেইক ইউরসেলফ


সময়

‘সময় এবং স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’ সময় ম্যানেজমেন্ট টার্ম দিয়ে বুঝানো হয় যে, সুনির্দিষ্ট সময়ে কাজের কার্যকারিতা, নিজের দক্ষতা এবং প্রতিটি কাজের তাৎপরতা বৃদ্ধি করার জন্য সময় প্রতি সচেতন হয়ে সঠিক সময়ে কাজ সম্পাদন। মনে রাখবেন, সময়ের ব্যবহার সঠিকভাবে না করলে জীবনে চলার পথে নানানরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

কাজের তালিকা করুণ
প্রথমে আপনাকে জানতে চাইতে হবে, সারাদিনে আপনি কী কী কাজ করেন।
সকাল, দুপুর, বিকাল & সন্ধ্যায়।

বেশি সময়
খেয়াল করুন দৈনন্দিন কী কী কাজের জন্য বেশির ভাগ সময় চলে যাচ্ছে। উদাহরণ: ফেসবুক ও ইউটিউব ভিডিও দেখতে কয় ঘন্টা।

পদক্ষেপ
আপনার যে প্রতিদিন কিছু সময় নষ্ট হচ্ছে সুতরাং সময় বাঁচাতে আপনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

নিজেই কলম কাগজ নিয়ে বসুন,

১.ঘুম দৈনিক কত ঘন্টা,
২.গোসল,
৩.সাজুগুজু কত ঘন্টা,
৪.রান্না ও খাওয়া ও ক্লিনিং কত ঘন্টা,
৫.কাজ কত ঘন্টা,
৬.ব্রাউজিং, সোশ্যালাইজিং ইত্যাদি ইত্যাদি..

একসপ্তাহের একটি চিত্র নিজের সামনে তুলে ধরুন। সব কিছু মিলিয়ে মোট কত ঘন্টা হয় সেটা যোগ করে। সপ্তাহের মোট যে ১৬৮ ঘন্টা – তার থেকে বিয়োগ করতে হবে।

সময় ধরে লিস্ট করার উদ্দেশ্য
উদ্দেশ্য হচ্ছে হিসাব কষে দেখানো, যে কোন কাজ কত ঘন্টা সময় ব্যয় করবেন। পড়াশুনা করার জন্য বা যে কাজ করা ভীষণ দরকার তার জন্য কত সময় ব্যয় হচ্ছে।

হারিয়ে যাওয়া সময়কে ধরতে একটা সপ্তাহ একটু ট্র্যাক করুন,

সময় জোরা লাগান
কী কী কাজ করছেন।
জিমেইলে ত একটা ক্যালেন্ডার ফ্রি ফ্রি আছেই। সেখানে লিখতে থাকুন পুরো এক সপ্তাহ প্রতি ঘন্টার হিসেব। দেখবেন একটা প্যাটার্ণ খুঁজে পাচ্ছেন। তখন বুঝতে সুবিধা হবে কোথা থেকে সময় কেটে কোথায় জোড়া লাগাতে হবে।

টাইম ম্যানেজমেন্ট অপরিহার্য
এখন কীভাবে সময় কাটাচ্ছি,
আর কীভাবে কাটানো উচিৎ – সেটার মধ্যে সামঞ্জস্য করাই টাইম ম্যানেজমেন্ট। মুসলিমদের জন্য ত টাইম ম্যানেজমেন্ট অপরিহার্য। সূরা আসরে ত আল্লাহ বলেই দিয়েছেন টাইম ম্যানেজমেন্ট না জানা সব মানুষ বিপদের মধ্যে আছে।

মাল্টিটাস্কিং
মাল্টিটাস্কিং (একই সাথে কয়েকটা কাজ করা।) কিন্তু মাল্টিটাস্কিং করা যায় একটা হাল্কা কাজের সাথে একটা প্রিয় কাজকে জোড়া লাগিয়ে।

কঠিন কাজ
সমান গুরুত্বপূর্ণ দু’টো কাজ থাকলে, তাহলে কঠিন আর করতে ভাল লাগেনা এমন কাজটা আগে করা।

রেফারেন্স : গুগল & নুসরাত রহমান লেখা থেকে।

 

চাকরি-বিয়ের প্রলোভন, অতঃপর আটকে গণধর্ষণ


নারী সংবাদ


মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বারে পরিচয়। এরপর কথা বলা। ধীরে ধীরে তা গড়িয়েছে প্রেমের সম্পর্কে। ছয় মাসের মাথায় মা-বাবার সাথে দেখা করার প্রলোভনে ফেনীতে ডেকে এনে তাকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন বখাটে। গতকাল সকালে শহরের রামপুর সৈয়দ বাড়ি সড়কের বাসা থেকে তিন মাস পর রাজধানীর কলেজপড়–য়া ওই তরুণীকে উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর এ তথ্য বেরিয়ে আসে। এ সময় গণধর্ষণের শিকার আরো দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের লোভনীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত প্রতারক প্রেমিকসহ তিন বখাটেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার ১০ নম্বর মোল্লা ভিলার বাসিন্দা মো: মোজাম্মেল হকের কলেজপড়–য়া মেয়ের সাথে পরিচয় হয় রামপুরের সৈয়দ বাড়ি লেনের মো: কাশেম কটেজের বাসিন্দা মো: কাশেমের ছেলে কাওসার বিন কাশেম নিলয়ের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। বিগত বছরের অক্টোবরে ওই তরুণী পরিবারের সদস্যদের সাথে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে যায়। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মা-বাবার সাথে দেখা করবে বলে সুকৌশলে মহিপালে তাকে নামানো হয়। এরপর সৈয়দ বাড়ির কাশেম কটেজ ১২/এ নিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। বাসায় প্রবেশের পরই চক্ষু ছানাবড়া ওই তরুণীর। বাসায় আটক আরো দুই নারী। তারা পরস্পর জানতে পারে লোভনীয় অফারে চাকরি দেয়ার প্রলোভনে তাদের আনা হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর তাদের ওপর নেমে আসে পাশবিক নির্যাতনের খড়গ।

বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় এনে প্রতিদিনই দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে খবর দিলে শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহজাহান মিয়া তালা ভেঙে হানা দেয়। জিম্মি দশা থেকে তিন নারীকে উদ্ধার ও নিলয় ছাড়াও ফেনী সদর উপজেলার মধ্যম কাছাড় গ্রামের আবু ইউছুপের ছেলে সায়েম, সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ব্রামনী বাজার গ্রামের আলী ফরহাজী বাড়ির আবুল কালামের ছেলে আলিফুল ইসলাম আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রী বাদি হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ফেনী মডেল থানার ওসি মো: আবুল কালাম আজাদ তিন তরুণীকে উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত তিন বখাটেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

জোনাক নগরের আঙিনায়…৩


আফরোজা হাসান


আপনি সত্যি সত্যিই এমন করবেন আমার সাথে?

যায়েদ হেসে বলল, আচ্ছা চলো তোমাকে আমার আরো এক ক্লাসমেট দম্পতির গল্প শোনাই। ওরাও পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওদের বিয়েটা টেকেনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেই পরিবারের অমতে ওরা বিয়ে করেছিল সেই পরিবারের কারণেই আবার বিয়েটা ভেঙে দিয়েছিল। ওদের ভালোবাসার কলোকাকলি দাম্পত্য কলহে রূপান্তরিত হয়েছিল একে অন্যের পরিবারের প্রতি বিদ্বেষ আর নিজ নিজ পরিবারের প্রতি সন্তোষের কারণে। পরিবারের কথা উঠলেই দু’জন নিজ নিজ পরিবারের পক্ষে সুপারিশ করতো এবং একে অপরের পরিবারকে দোষারোপ করতো। ফ্যামেলি ইগো যাকে বলে। অর্থাৎ, তোমার পরিবারের চেয়ে কিসে কম আমার পরিবার? তোমার চেয়ে কি আমার যোগ্যতা কোনদিন দিয়ে কম? এই ধরণের মানসিক দৈন্যতায় ভুগতো দুজন। যা ধীরে ধীরে ঘুণ পোকার মত ক্ষয় করে দিয়েছিল সম্পর্কের মধ্যে বিরাজমান মিষ্টতা ও স্বিগ্ধতা। পরিণতিতে দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গেল বেঁকে। গত কয়েক বছরে এমন অসংখ্য কেস এসেছে যেখানে স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না। যাদের মধ্যে বেশ কিছু দম্পতি একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, বিশ্বাসও লালন করতো মনে। একে অপরকে ভালো মানুষ স্বীকৃতিও দিতো। কিন্তু তবুও দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য ও ঝগড়া লেগেই থাকতো। সেই ঝগড়ার বিষয় ছিল দু’জনের পরিবার। কার পরিবার বেশি খারাপ কিংবা দ্বায়িত্বহীন এটা প্রমাণ করাটাই যেন সার্থকতা। একে অন্যের পরিবার দ্বারা কে কতটা বেশি কষ্ট পেয়েছে সেটা খুঁজে বের করাটা পার্ট টাইম জবের মত ছিল তাদের কাছে। যার সেলারি হিসেবে তারা লাভ করতো মানসিক অশান্তি।

নূরি বলল, মানুষ কেন জেনে বুঝেও ছোট থেকে ছোট কারণকে ইস্যু করে নিজেদের জীবনের এভাবে অশান্তি ডেকে আনে?

এই প্রশ্নটা নিয়ে আমিও প্রায়ই ভাবি। মানুষ কেন এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারণে নিজের জীবনের শান্তি ও স্বস্থিকে নষ্ট করে অবলীলায়?! পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কারণে কেন মানুষ নিজের সুখের সংসারে অশান্তি ডেকে আনে?! কেন মনটাকে একটু বড়, একটু উদার করতে পারে না?! কেন সবসময় শুধু অন্যের দোষটাকেই দেখে?! কেন ক্ষমা করে দিতে বা ভুলে যেতে পারে না অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো?! কেন সবসময় নিজেকে সঠিক আর অন্যেকে বেঠিক মনে করে?! কেন ভাবে না যে যদি সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে ধৈর্য্য ধারণ করে তাহলে এর কল্ল্যাণময়তা তাকেই ঘিরে আবর্তিত হবে? এমন আরো অসংখ্য কেন ঘুরতে থাকে মাথায়। মাঝে মাঝে কিছু কিছু ক্যাপলকে দেখে মনেহয় সংসার না বরং কোন একটা প্রতিযোগিতা চলছে। পরিবারের দোহাই দিয়ে কে কাকে হারাতে পারবে বা দাবিয়ে রাখতে পারবে সেই প্রতিযোগিতা। এতে তারা এতটাই হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে যে বুঝিতেই পারে না জিত একজনের হলেও হার মূলত দু’জনেরই হয় এই প্রতিযোগিতাতে।
কিন্তু এর সমাধান কি?
যায়েদ হেসে বলল, তুমি নিশ্চয়ই জানো সবজি রান্নার ব্যাপারে আমার এলার্জি আছে। আমার কথা হচ্ছে তেল, মশলা সবকিছু দিয়ে রান্না করবো। কিন্তু কিছুতেই সবজির রঙ চেঞ্জ হতে পারবে না। রান্না করার পরও প্রতিটা সবজিতে নিজ নিজ রঙ ঠিক থাকবে। এরজন্য অনেক রাঁধুনির সাথে কথা বলেছি, নিজে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেছি। শেষপর্যন্ত এখন রান্নার পরও সবজির রঙ মোটামুটি ঠিক থাকে আলহামদুলিল্লাহ। এই যেমন এখন আমরা বাপীর জন্য মিক্সড সবজি রান্না করলাম। দেখো আগুনের তাপে তেল, মসলা, পানি ইত্যাদি দিয়ে সেদ্ধ করার পরও প্রতিটি সবজির আলাদা রঙ একদম ঠিক আছে আলহামদুলিল্লাহ। এর কারণ সবজির রঙ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য আমি অনেক চেষ্টা ও সাধনা করেছি। এই বিষয়ে যারা পারদর্শী তাদের সাথে আলোচনা করেছি, পরামর্শ নিয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে আমি এই যোগ্যতাটুকু অর্জন করেছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন তুমি জীবন বলো, পারিবারিক জীবন বলো কিংবা দাম্পত্য জীবন। দুঃখ-কষ্ট, হতাশা-নিরাশা, বেদনা অপ্রাপ্তি আসবেই, থাকবেই। এসবের প্রভাব থেকে নিজেকে, নিজের মনকে মুক্ত রাখতে চাইলে চেষ্টা ও সাধনার প্রয়োজন। প্রয়োজন জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী কারো সাহচর্য ও পরামর্শ। এবং প্রয়োজন নিরলস ভাবে লেগে থাকার। এভাবেই আসলে ধীরে ধীরে আয়ত্তে আসে কোন বিশেষ যোগ্যতা। তবে যে কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাহর উপর ভরসা। কেননা আল্লাহ বলেছেন“ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন।”
হুম, সমস্যা বা বিপদে মানুষ এতটাই অস্থির হয়ে যায় যে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেই ভুলে যায়।
আসলে নিজের মনের চাওয়া-পাওয়ার বিপরীত কিছু হলে, প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আমরা মানসিক ভাবে বিক্ষিপ্ত ও এলোমেলো হয়ে পড়বো এটাই স্বাভাবিক। যখন বিরূপ বা নেতিবাচকতা ঘিরে ধরবে বিরক্তি, রাগ, হতাশা মনকে আঁকড়ে ধরতে চাইবে এটাও স্বাভাবিক। নির্ভরতার আশ্রয় পরিবারই যখন জীবনের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে তখন হাল ছেড়ে দিতে চাইতেই পারে কেউ। এই সব অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র পথ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর উপরে ভরসা করা, সাহায্য প্রার্থনা করা। কিন্তু মানুষ বেশির ভাগ সময়ই লেগে থাকে অন্য মানুষের পেছনে। স্ত্রী স্বামীকে বলে সব ঠিক করে দাও। স্বামী স্ত্রীর কাছে দাবী করে শান্তি প্রতিষ্ঠার। একে অন্যের কাছে চাইতে গিয়ে নিজেদের করণীয় তো ভুলে যায়ই, সাথে সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতেও ভুলে যায়। যারফলে মন অতৃপ্ত ও অশান্তির বেড়াজাল ছিঁড়ে বেড়োতে পারে না। তুমি সমাধান কি জিজ্ঞেস করেছিলে।
হুম!
যায়েদ হেসে বলল, একটা বাণী মনে পড়ে গেলো “কিছু কিছু প্রশ্ন অনেক কঠিন কিন্তু তার উত্তরটা খুবই সহজ।” ঠিক তেমনই মনেহয় কিছু কিছু সমস্যা খুব জটিল কিন্তু তার সমাধানটা খুবই সহজ। দাম্পত্য কলহের কারণ যদি পরিবার হয়, একটি সুন্দর সম্পর্ক যদি পরিবারের কারণে টানাপোড়নের স্বীকার হয়, তাহলে বিবেচনা করে দেখতে হবে কে সঠিক। আর সঠিক বেঠিকের মানদন্ড হিসেবে শরীয়ত তো আছেই। মানুষ যখন আল্লাহর বিধান মেনে চলে তখন তাদের মনের আকার এমনিতেই বড় হয়ে যায়। তারা নিজ নিজ স্বার্থের গন্ডিকে পেরিয়ে স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে শেখে। সর্বাবস্থায় আমিই সঠিক এই ক্ষুদ্র ও কলুষিত চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে। আসলে দাম্পত্য সম্পর্কটাকে হওয়া উচিত সকল প্রকার প্রভাব মুক্ত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বোঝাপড়া টুকুন যদি থাকে যে একমাত্র শরীয়ত ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন কিছু বা অন্য কেউ তাদের জীবনের করণীয়-বর্জনীয়র মানদন্ড হবে না। তাহলে পরিবারের কারণে দাম্পত্য কলহ মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। আরেকটা বোঝাপড়া অবশ্যই থাকা উচিত স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কেউ বা কোন কিছুই যেন তাদের মনে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষের বীজ বপন করে দিতে না পারে। পরিবারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যেন আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এখন তুমি আমার একটা কথা মন দিয়ে শোনো।
জ্বি বলুন।
রান্না করতে আমি খুব বেশি পছন্দ করি। তাই তুমি যদি দাম্পত্য কলহ এড়াতে চাও কখনোই এই আনন্দময় কাজটি করার সময় তোমার ঝুড়ি থেকে এইসব সমস্যা বের করবে না। ক্লিয়ার?
নুরি হেসে বলল, অল ক্লিয়ার স্যার।
যায়েদ হেসে বলল, তাহলে সমস্যার ঝুড়ি বন্ধ। গত সপ্তাহে যে তোমাকে আমি এত সময় লাগিয়ে ভেজিটেবল স্টু বানানো শেখালাম। আজ তাহলে পরীক্ষা হয়ে যাক কেমন স্টুডেন্ট তুমি।
ওক্কে স্যার। বলে হাসি মুখে নূরি ভেজিটেবল স্টু বানানোতে মনোযোগ দিলো।

চলবে…

 

শীলা বিয়ের পর থেকে শ্বশুড় বাড়ীতে থাকে

কানিজ ফাতিমা


শীলা বিয়ের পর থেকে শ্বশুড় বাড়ীতে থাকে ৷ শীলার শ্বাশুড়ী জাহানারা বেগম ৷ শীলা বা জাহানারা বেগম কেউই খারাপ মানুষ না ৷ কিন্তু তাদের সম্পর্ক খুব একটা মধুর না ৷ জাহানারা বেগম গোছানো স্বভাবের ৷ সবকিছু, বিশেষ করে রান্না ঘরের জিনিস পত্র তার গোছানো থাকা চাই ৷ রান্না ঘরের প্রত্যেকটি জিনিস যত্ন করে জায়গামত রাখা, সবকিছু ঝকঝকে তকতকে করে রাখার ব্যাপারে তিনি খুবই সচেতন৷ কেউ এগুলো তার মত গুছিয়ে ব্যবহার করতে না পারলে তিনি খুবই বিরক্ত বোধ করেন এবং অভিযোগ করেন৷ অন্যদিকে শীলা স্বভাবে ঠিক উল্টো৷ সে দ্রুত কাজ করে, একেবারেই গোছালো না এবং তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে জিনিসপত্রের খুব একটা যত্ন নিতে পারে না৷ ফলে রান্নাঘর ব্যবহার করে সে প্রায়ই এটাকে এলোমেলো করে রাখে৷ তার এ স্বভাব নিয়ে জাহানারা বেগম প্রায়ই অভিযোগ তোলেন ৷ শীলা চেষ্টা করে কিছুটা গুছিয়ে কাজ করতে৷ কিন্তু সে খুব একটা সফল হয়না ৷তাছাড়া শীলা চাকুরী করে বলে তার পক্ষে রান্না ঘরে খুব বেশী সময় দেয়া সম্ভব না ৷ফলে বউ-শ্বাশুড়ী সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে৷ জাহানারা বেগমের অভিযোগ, “বউ একেবারেই কাজের না ৷ খুবই অগোছালো, এলোমেলো ৷পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না ৷” শীলার অভিযোগ, ” শাশুড়ী সকাল-বিকাল তার পিছনে লেগেই থাকে, সবকিছু নিয়ে খ্যাচ খ্যাচ করে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই থাকে৷” এর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয় শীলার মা ও ননদ৷ শীলার মা দুঃখ করে বলে, ” শ্বাশুড়ী টা আমার মেয়েটাকে শুধু জ্বালায়”৷ ননদ বলে, “শীলা আমার মায়ের বদনাম করে বেড়ায়৷”

এ ঘটনায় আমরা যা দেখতে পাই তাহলো, শীলা ও জাহানারা বেগম দু’জনের কারো চাওয়াই (expectation) অযৌক্তিক না এবং দু’জনের অভিযোগই সত্যি৷ শ্বাশুড়ী চাচ্ছেন বউ তার মত গুছিয়ে কাজ করুক৷ অন্যদিকে, বউ চাচ্ছে শ্বাশুড়ী তার বিরুদ্ধে সকাল বিকাল অভিযোগ করা বন্ধ করুক ৷ এক্ষেত্রে দু’জনই ঠিক ৷ তাহলে সমস্যা কোথায় ? সমাধানই বা কি?

সমস্যাটা হলো দু’জনের দু’জনকে বোঝায়৷ জাহানারা বেগম ও শীলা দু’জন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ৷ তাদের Personality type ভিন্ন ৷ তারা একজন আরেকজনের মত হতে পারবে না ৷ জাহানারা বেগম যদি মনে করেন শীলাকে তার মত হতে হবে তবে তিনি ভুল করছেন৷ মানুষ তার Personality type পুরোপুরি বদলাতে পারে না ৷ তাই জাহানারা বেগমকে শীলার অগোছালো স্বভাবকে মেনে নিতে হবে এবং এ নিয়ে অভিযোগ করা বন্ধ করতে হবে ৷ অভিযোগ বন্ধ করে শীলাকে ধীরে ধীরে কাজের পদ্ধতি দেখিয়ে দিলে long term এ শীলার এ যোগ্যতা কিছুটা বাড়বে (skill development)৷ কিন্তু অভিযোগ (বা nag) সম্পর্কের অবনতি ছাড়া আর কিছুই ঘটাবে না ৷

একই সাথে শীলাকেও স্বীকার করতে হবে তার শ্বাশুড়ীর একটি ভালো গুন বা (Skill) আছে৷ যতটা সম্ভব এ গুনটির অনুকরণ করা তার নিজের জন্যই ভালো ৷ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের দু’জনকেই বুঝতে হবে অন্যজন ‘খারাপ মানুষ’ না, সে তার থেকে ‘ভিন্ন প্রকৃতির’ মানুষ৷ আল্লাহ তা’আলাই মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির করে সৃষ্টি করেছেন৷

এর পরও যদি দু’জন দু’জনের এই ভিন্নতা মেনে নিতে না পারে তবে আলাদা থাকাই তাদের জন্য ভালো৷ একসাথে থেকে পরস্পর সম্পর্কে বিরক্ত হওয়ার থেকে ভিন্ন থেকে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা কল্যানকর ৷

 

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন


নারী সংবাদ


মাথাসহ সারা শরীরে ব্যান্ডেজ। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে পোড়া শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আমি মরে যাব, আমার শিশুসন্তানদের তোমরা যত্ন নিও।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গৃহবধূ রেনজিনা বেগম যখন অশ্রুভেজা চোখে এমন আকুতি জানাচ্ছিলেন, তখন হাসপাতালের পরিবেশ নীরব হয়ে উঠেছিল। আশপাশের যারা এ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিলেন, সবার চোখ গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। যৌতুকের দাবিতে স্বামী হাফেজ শাহাদাত হোসেন আফসার সোমবার ভোরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে গতকাল সকালে রেনজিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বড় ভাই তসলিম উদ্দিন সন্দ্বীপ থানায় হাফেজ আফসারের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা করেন। পুলিশ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে

স্থানীয়রা আফসারকে গণধোলাই দেয়। রেনজিনা স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেছেন, দেশে যেন কোনো নারীর এমন পরিণতি না হয়।

হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের নুর রহমানের মেয়ে রেনজিনা বেগম ২০১৩ সালে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর রেনজিনার সঙ্গে হাতিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মুসাপুর গ্রামের সিদ্দিক টেন্ডরের ছেলে হাফেজ শাহাদাত হোসেন আফসারের বিয়ে হয়। তাদের আরাফাত সিদ্দিক বুখারী (৫), খাদিজা নাহার হাফসা (৩) ও আবদুল্লাহ সিদ্দিক তিরমিজি (৬ মাস) নামে সন্তান রয়েছে।

গৃহবধূর বড় ভাই দিদার উদ্দিন ও রহমত উল্যাহ সমকালকে বলেন, বিয়ের পর আফসার সৌদি আরব, কাতার ও আবুধাবি ছিলেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেন। প্রবাসে যাওয়ার সময় তাকে দফায় দফায় রেনজিনার পরিবার আর্থিক সহযোগিতা করে। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে এসে তিনি নোয়াখালীর কবিরহাটে একটি মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। এ সময় আফসার রেনজিনার কাছে আবার যৌতুক দাবি করেন। রেনজিনা এর প্রতিবাদ করে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

রেনজিনা ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আফসার প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন। পৌষ মাসের শীতে তাকে কম্বলও গায়ে দিতে দিতেন না। গত রোববার সকালে আফসার রেনজিনাকে বাবার বাড়ি থেকে কম্বল ও টাকা আনার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর রাতে খাওয়া শেষে রেনজিনা তিন সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে আফসার তাকে ডেকে তোলেন এবং আগুন পোহানোর প্রস্তাব দেন। রেনজিনা এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়ে ফের ঘুমাতে যান। এ সময় আফসার তাকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে একটি রুমে নিয়ে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর বোতলভর্তি পেট্রোল এনে রেনজিনার মাথা ও শরীরে ঢেলে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশী কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভায়। ততক্ষণে রেনজিনার মাথা, চোখ, গলা, বুক, পিঠ ও বাঁ হাত সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা সকালেই তাকে সন্দ্বীপ মেডিকেলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাবার পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভাই দিদার উদ্দিন ও রহমত উল্যাহ তাকে মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল আলম চৌধুরী সমকালকে বলেন, ওই গৃহবধূর পুরো মাথা, একটি হাত, পিঠ ও বুক দগ্ধ হয়েছে। রোগীর অবস্থা ভালো নয় বলে তিনি জানান। সুত্র: সমকাল।

 

‘ব্যাকবেঞ্চার সবুজ’


মেহেদী আরিফ


আমি আর সবুজ, আমরা একই ক্লাসে পড়তাম। সবুজ খুব দুরন্ত ছিল, তেমন পড়া পারতো না। ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্ট ছেলে হিসেবে ওর সুনাম ছিল। মেধাবী ছিল সে, কিন্তু পড়া করে ক্লাসে আসতো না। ওকে দেখলেই ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিতো, কেউ পাশে বসতে নিত না। এতে ওর অবশ্য মন খারাপ হতো না, সয়েই গিয়েছিল একরকম। আমি ক্লাসে ফাস্ট বয় ছিলাম। বোধকরি সব শিক্ষকরা আমাকে অনেক বেশি আদর করতেন। কিন্তু সবুজের সাথে সখ্যতা তারা মেনে নিতে পারেন নি। আমাকে সবসময় হেড স্যার কাদের মিয়া সংকেত করে দিতেন যাতে আমি সবুজের সাথে না মিশি। কিন্তু কে শোনে কার কথা!
আমার সাথে সবুজের সখ্যতা কিভাবে হয়েছিল তার একটা ছোট্ট ইতিহাস আছে। আমি তখন ফাইভে পড়ি। সাধারণত স্কুল ছুটির পর স্কুলের পাশের কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের মাছ ধরা দেখতাম। কত মাছ! পুটি, টেংরা, শোল, বাইন, চিংড়ি, কৈ। আমরা তন্ময় হয়ে দেখতাম। হঠাৎ একদিন আমার স্কুল ব্যাগ কালভার্টের উপর থেকে পড়ে গেল পানিতে। আমি চিৎকার করে উঠলাম। তখন পুরো বর্ষার মৌসুম চলছে। পানি দুকূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যেন। যে খালে ব্যাগ পড়েছে ওখানে পানির স্রোত খুব বেশি। আমার ব্যাগ ভেসে যাচ্ছে, অথচ কেউ পানিতে নামার কোন ইচ্ছায় পোষণ করছে না। আমি সম্পূর্ণ নিরুপায়। দুচোখ বেয়ে আমার অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছে। হঠাৎ দেখি একজন পানিতে লাফ দিয়েছে। এ কারণে শোরগোল পড়ে গেলো। এত পানিতে যে কেউ ডুবে যাবে, তাই আগে কেউ সাহস করে নামেনি। কিয়ৎক্ষণ পরে উপলব্ধি করলাম এতো আর কেউ নয়, ক্লাসের দুরন্ত ছেলে সবুজ। প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সাঁতরিয়ে আমার ব্যাগ উদ্ধার করেছিল সে। আমার ব্যাগের ভিতরের বইগুলি অনেক ভিজে গিয়েছিল বটে কিন্তু আমি সবকিছু পেয়েছিলাম। এরপর থেকে সবুজের সাথে আমার বন্ধুত্ব। মিতুল নামে আমার এক ক্লাসমেট ছিল যে একদিন আমার একটি কলম চুরি করেছিল। আমি খুব মন খারাপ করে বসে আছি। মিতুল যে কলম চুরি করেছিল তা আমি পরে জেনেছিলাম। সে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ছেলে হওয়াতে কোন বড় ধরনের অপরাধ করেও প্রায়ই মুক্তি পেত। আবার ক্লাসে তার রোল নম্বরও ছিল দুই। কিভাবে তার রোল দুই হতো বারেবারে তার গাণিতিক হিসাব করার মত ক্ষমতা আমার ঐ ক্ষুদ্র বয়সে হয় নি। যাইহোক, কলম চুরির ঘটনা সবুজ জেনেছিলো। মিতুলের কাছে সবুজ ঐ কলম দেখার পর ওকে বলেছিল, ” কিরে, লালমিয়া! কলম পাইলি কই?” মিতুলকে সবুজ লাল মিয়া বলে ডাকতো হরহামেশাই। এর জন্য স্যারদের কাছে কত বকাই না খেয়েছে সে। মিতুল ঢং করে বলল, “আমার কি কওয়া লাগবে নাই তোর?” এই কথা শোনামাত্র মিতুলের কানের নিচে সশব্দে দুইটি চড় বসিয়ে দিল সে। মিতুলের তীব্র কান্নার চিৎকারে হেডস্যার সহ অন্যান্য স্যারেরা দৌঁড়ায়ে আসলেন। কান্নার হেতু আবিষ্কারে তারা অপারেশন সার্চলাইট শুরু করলেন। অবশেষে যখন জানতে পারলেন যে, সবুজই নাটের গুরু তখন হেডস্যার জোড়া বেত দিয়ে তার পিঠে পাঁচটি কসিয়ে দিলেন। সবুজ কাঁতরাচ্ছে মার খেয়ে, অন্যদিকে মিতুল কান্না থামিয়ে পুতুলের মত বসে আছে।
স্কুল ছুটির পর সবাই বাড়িতে চলে গেল, গেল সবুজও। প্রায় এক সপ্তাহ তার কোন হদিস মিলল না। আমাদের বাড়ি আরেক পাড়ায় হওয়াতে তাদের বাড়িতে যাওয়া কষ্টকর হলো। ক্লাসের ফাস্ট বয় হওয়াতে আমাকে অনেক নিয়মনীতি মেনে চলতে হতো পরিবারে। সবার আশা ছিল আমি দেশের সবচেয়ে সেরা মানুষ হই। তাই সবুজদের মত বখাটে ছেলের সাথে আমি মিশি এটা পরিবার কখনও চাইতো না। তারপরও স্কুলের ক্লাস শেষ করে অপুকে নিয়ে চলে গেলাম সবুজদের বাড়িতে। একটা বিশাল বাঁশ বাগানের পর দিঘি, তারপর সবুজদের বাড়ি। বাঁশ বাগানের মধ্য দিয়ে খস খস আওয়াজ করে হেঁটে চলেছি আমি আর অপু। সবুজদের বাসায় কখনও যাই নি আমি। অনেক সময় লাগলো ওর বাসায় পৌঁছাতে। বিছানায় সবুজ কাতরাচ্ছে! দূর থেকে কাতরানোর আওয়াজ অনুসরণ করে তার বাসায় পৌঁছালাম। আহ্ কত ব্যথা পেয়েছে বেচারা ছেলেটা! আমরা যাওয়ার সাথে সাথে ওর মা পিড়ি ঠেলে দিলেন। আমি ভয়ে ভয়ে বসলাম কিন্তু অপু ভীতুর ডিমটা বসলোই না। ও কাঁপছিলো যেন। হঠাৎ করে সবুজ চিৎকার করে অপুকে বলল, “বস্! ভীতুর ডিম, তা না হলি তোরে ভেজি খেয়ি ফ্যালবো।” এ কথা শুনে অপু পালিয়ে চলে যাওয়ার উপক্রম। অমনি আমি আমার ছোট হাত দিয়ে ওর ব্যাগ টেনে ধরলাম, কোনো মতে ওকে বসালাম পিড়িতে। সবুজ বকবক করেই চলেছে, আর ওর মা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। আমি আন্টিকে স্বান্তনা দিয়ে বিদায় নিলাম। ঐ দিন বাড়ি ফেরার পর আমার উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে গেল যেন। ঠিক কি ঘটেছিল তা না জানলেও চলবে। তবে এতটুকু বলে রাখি, আমার নাক দিয়ে অনেক রক্ত পড়েছিল।
প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে আমি আগে খুঁজতাম সবুজকে। দিন পনেরো পর ঘাড়ে ব্যাগ নিয়ে একটা ছেলেকে হাঁটতে হাঁটতে স্কুল অভিমুখে আসতে দেখলাম। সে আর কেউ নয়, সবুজ! অন্য দিনের মত তার মাঝে চঞ্চলতার কোনো চিহ্ন পেলাম না আজ। হেতু না খুঁজে পেয়ে বেশ অবাক হলাম। ক্লাসে সবার পিছনে বসলো সে। বাংলা ক্লাসে হেডস্যার প্রবেশ করেই সবুজের খোঁজ নেওয়া শুরু করলেন। তিনি বললেন,”সেই জানোয়ারটা কোথায়?” সবুজ কোনো উত্তর না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে গেল। হেডস্যার কটাক্ষ করে বললেন,”বসে পড়ো শুদ্ধোধন!” সবুজ একবারও স্যারের দিকে তাকালো না। ওর মনটা খুব খারাপ দেখে আমার মনটা খুব খারাপ হল। কারণ সবুজ যতই দুষ্টামি করুক অন্যদের সাথে, ও আমার খুব প্রিয় বন্ধু। ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে সবুজকে আস্তে আস্তে বললাম,”সবুজ! তোর মন খারাপ?” সবুজ যা শোনালো তাতে আমার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। সবুজের মাকে ওর বাবা খুব মারধোর করে যা সবুজের মোটেও সহ্য হয় না। নিজের বাবা তো, তাই বাবার গায়ে হাত তোলে না ও। কিন্তু ওর হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়, মাথায় খুন চাপে কিন্তু মায়ের দিকে তাকিয়ে ও কিছুই করতে পারে না। সবুজ আমাকে বলল,” দোস্ত, তুই আমার হেল্প করবি? আমাকে তে কেউ ভালবাসে না! তুই আমার পড়ালিখায় হেল্প করবি? আমি বড় হয়ি একজন পুলিশ হবো, আমার আব্বার ধরি নে থানায় বন্দি করি রাখবো”। এ কথা বলে ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি ওকে হেল্প করার আশ্বাস দিলাম।
ক্লাসে চুপচাপ অবস্থায় থাকে সবুজ। খুব দরকার ছাড়া কোন কথা বলে না সে। ক্লাসের সবাই ওকে খুব করে পঁচাতো। কিন্তু ও কাউকে কিছুই বলতো না, শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতো। আমি ওকে পাশে বসাতাম, কিন্তু স্যাররা এসে ওকে শেষ বেঞ্চে বসিয়ে দিতো। আমারও ভীষণ খারাপ লাগতো কিন্তু কিছুই করতে পারতাম না। ওকে শেষ বেঞ্চেই বসতে হবে এমন একটা রীতি হয়ে গিয়েছিলো। আমি ওকে হেল্প করার চেষ্টা করতাম খুব। ছেলেটার মেধা আছে বেশ, পড়লে ও পারবে। কিন্তু মিতুল ওকে দেখলেই মুখ বাঁকা করে একটা কটাক্ষের হাসি হাসতো, ওর গায়ের পরে গিয়ে পড়তো যেন আর বলতো, “আমার বাপ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, আমার যা ইচ্ছা তাই করবো। পারলি তুই কিছু করিস! আর শোন! যদি আমার কিছু করিস তাইলে সান্ডে মান্ডে ক্লোস করি দোবো”। আমার একদম সহ্য হত না মিতুলের কাজকর্ম। কিন্তু সে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ছেলে বলে কথা!
সবুজ সবকিছুকে মুখ বুজে সহ্য করে পড়াশুনা করতে লাগলো। আমি আর সবুজ টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের দোতলা ছাদের পর উঠে সিংগারা খেতে খেতে গল্প করতাম। সবুজ খুব সুন্দর সুন্দর গল্প করতো। ওর নানার বাড়ির গল্প শুনে আমি হতবাক হয়ে যেতাম। সবুজের মা খুব সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে, ভাগ্য দোষে এক টাউটের সংসার করছে জেনে আমার ও খুব খারাপ লাগলো। ওর বাবা একজন মাদকসেবী। জমিজমা বিক্রি করে মদের আড্ডায় পড়ে থাকে। অনেক জমি বেচে এখন তারা নিঃস্ব প্রায়। প্রায়ই তাই ওর মাকে মারধর করে, বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। জামাইয়ের এই অাচরণের কারণে সবুজের মামাবাড়ি থেকে কেউ আসতো না তাদেরকে দেখতে। ওর মা খুব কষ্ট সহ্য করে স্বামীর সংসার করে। সবুজের মনের আকাশের কালো মেঘ সরে না যেন।
ডিসেম্বর মাস। স্কুলের বিজয় দিবসের জন্য ও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাকটিস সেশনে সবুজ মিতুলের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হল। পরে হেড স্যার এসে অন্যায়ভাবে সবুজকে মারলেন। এক বারের জন্যও উনি জানতেই চাইলেন না যে আসল ঘটনা কি! বেধড়ক পিটাতে লাগলেন আর বললেন,” ব্যাকবেঞ্চার কোথাকার! ভালো ছেলেদের গায়ে হাত দিতে পয়সা লাগে না, না?” মিতুলকে হেডস্যার কিছুই বললেন না দেখে স্যারের প্রতি আমার সম্মান ও ভক্তি কমে গেলো, খুব ব্যথিত হলাম। আমি সবুজকে একপাশে নিয়ে ওর কান্না থামানোর চেষ্টা করছি। সবুজের কান্না দেখে আমারও খুব কান্না পেলো। শিক্ষকদের থেকে এমন একপক্ষ সমর্থন করার সংস্কৃতি আমার ভিতরটাকে দারুণভাবে আন্দোলিত করলো। হেডস্যার এর আগেও সবুজকে কত অন্যায়ভাবে মেরেছেন। তাঁর দেখাদেখি অন্যান্য স্যাররাও সবুজকে কত বার ভৎসনা করেছেন। এগুলি আমার কাছে শিক্ষকসুলভ আচরণ বলে মনে হত না। শিক্ষকতা পেশাকে খুব ঘৃণা করতে লাগলাম।
বিনা বেঘে বজ্রপাতের মত এক ঘটনা ঘটে গেলো। সবুজের মা আত্মহত্যা করেছে। আমার ক্লাসমেট কবিরের মায়ের থেকে সংবাদ শুনে সবুজদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম আমি আর অপু। ভীতুর ডিম অপুর হাতে লাইট। রাত তখন সাড়ে নয়টা বাজে। আমি আর অপু বাঁশবাগানের ভিতর দিয়ে দৌঁড়াইতে দৌঁড়াইতে চলে আসলাম সবুজদের বাড়িতে। কান্না আর প্রিয়জনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস মুখরিত যেন। সবুজ নির্বাক! পৃথিবীর কোনো এক অজানা শক্তি তাকে স্থিমিত করে দিয়েছে। কোনো সুমধুর ডাক সবুজকে ওর নির্জীব অবস্থা থেকে সজীব করবে না। আমি আর অপু ওকে জড়িয়ে ধরলাম। সবুজ কান্নার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। আহ! কোন শক্তি বলে আমরা সবুজকে হাসিতে ভরিয়ে রাখবো। এ ব্যথার কি কোন ওষুধ আছে! সবুজের বাবাকে দেখে ভীষণ মেজাজ গরম হলো। সিগারেটে টান দিতে দিতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলে চলেছেন যেন। যেন বাসায় বিয়ের রমরমা আয়োজন চলছে।
সবুজের মায়ের মৃত্যুর তেরো দিন পর ওর নানা এসে ওকে নিয়ে গেলো। ও যাওয়ার সময় একটা চমৎকার কম্পাস দিয়ে গেল আর বলে গেল, “আমাকে মনে পড়লে কম্পাসটির দিকে তাকাবি, দেখবি তুই আর আমি কত কাছাকাছি।” এতটুকু ছেলের এই বয়সে এমন অনুভূতি সেদিন যেমন বিস্মিত করেছিল আজ করে তার চেয়েও বেশি। ও নানাবাড়িতে যাওয়ার পর অনেক দিন ওর কোন খোঁজ খবর পেলাম না। হঠাৎ একদিন একটা চমৎকার চিঠি পেলাম। তার চিঠিটা এমন:
প্রিয় ভদ্র ছেলে,
আশাকরি, ভালো আছিস। তোর পড়াশুনা কেমন চলছে রে? তুই না অসাধারণ শিক্ষক হবি! তবে শিক্ষক হলে হেড স্যারের মত হবি না। আচ্ছা! মিতুল কেমন আছে রে? হেড স্যার, মিতুল, ওদেরকে ভীষণ মিস করি রে। জানিস, এখানে আমার কেউ মারে না, কেউ বকে না, মিতুলের মত কেউ গায়ে ধাক্কা মারে না। ঐ দিন গুলো খুব মিস করি, জানিস? এখানে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কেউ তোর মত করে পাশে বসতে বলে না, কেউ শোনে না সকালে ভাত খেয়েছি কি না, কেউ ভুলেও জিজ্ঞাসা করে না আমার মা কেমন আছে! তোদের অনেক মিস করি। তোকে আমি কখনও ভুলতে পারবো না। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা বন্ধু।
ভালো থাকিস বন্ধু। অনেক ভালো। আচ্ছা আমার কম্পাসটা ঠিকঠাক মত আছে কি?
ইতি———
ব্যাকবেঞ্চার সবুজ।
চিঠিটি পড়ার পর সেদিন অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম আর ভেবেছিলাম সবুজ কত পরিণত হয়েছে আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনায়।
এক যুগ কেটে গেছে সবুজের সাথে আর কোনো যোগাযোগ নেই আমার। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। নতুন পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব পেয়ে আমি সবুজকে ভুলেই গিয়েছিলাম। হঠাৎ একদিন বাক্সের মধ্যে রাখা কম্পাসটার দিকে নজর যেতেই বুক কেঁপে উঠলো। সবুজকে ভীষণ মিস করতে লাগলাম। সবচেয়ে অবাক হলাম যে, জীবনের খেলাঘরে ইতোমধ্যে একটি যুগের বেশি পার হয়ে গেছে অথচ সবুজের কোনো খোঁজ খবর পেলাম না। পড়াশুনা শেষ করে আমি শিক্ষকতা করি রসুলপুর শহীদ স্মৃতি কলেজে। নিজেকে নিয়ে অনেক ব্যস্ত সময় কাটাই। আমাদের স্কুলের হেড স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আমাকে দাওয়াতপত্র পাঠানো হয়েছে। দিনটি ছিল রবিবার। আমি গিয়েছিলাম আমাদের প্রাইমারী স্কুলে হেডস্যার কাদের মিয়াকে বিদায় জানাতে। বিদায় অনুষ্ঠানে জেলার গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তি হাজির হয়েছেন। একজন এএসপি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। খুব স্মার্ট দেখাচ্ছিল তাকে। নেম প্লেটে লেখা আফতাব। আমি একটা বিষয় অবলোকন করলাম যে, হেড স্যার চেয়ারে না বসা পর্যন্ত এএসপি সাহেব চেয়ারে বসছেন না। হেডস্যার ওনাকে চেয়ারে বসতে বললেন কিন্তু উনি বসছেন না, বরং প্রধান অতিথির আসন ছেড়ে উনি বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন। হেড স্যার তখন বললেন,”আমি সামান্য প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, আপনি বড় পুলিশ অফিসার! প্লিজ, বসেন না, স্যার, প্লিজ”। এএসপি আফতাব বললেন,” আপনি না বসলে যে আপনার স্টুডেন্ট বসতে পারে না, স্যার”।
“স্টুডেন্ট! তুমি কে বাবা?” হেডস্যার বললেন।
আফতাব বললেন,” আমাকে চিনতে পারেন নি, স্যার? আমি ব্যাকবেঞ্চার সবুজ”!

 

বংশালের রাস্তায় মহিলার গলাকাটা লাশ


নারী সংবাদ


রাজধানীর পুরনো ঢাকার বংশালে রানী (২৮) নামে এক মহিলাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে সোহাগ (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই যুবক ও নিহত মহিলা দু’জনেই ড্যান্ডি নামক মাদকে আসক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বংশাল থানার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন শেখ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, গত রোববার ভোর রাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে ২১/১ নাজিরাবাজার ওয়ালটন গলির সামনের রাস্তায় পড়ে থাকা রানী বেগম নামে মহিলার লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ হাসপাতাল মর্গে পাঠাই। তার আগে ওই মহিলার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তার কথিত স্বামী সোহাগকে জিপিও এলাকা থেকে গ্রেফতার করি।
সে জানায়, তারা দু’জনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। নিহত রানীর মা তার মেয়ের বিয়ে হয়নি বলে জানালেও সোহাগ দাবি করছে তিন বছর আগেই তাদের বিয়ে হয়েছে। গ্রেফতার সোহাগের বাবার নাম হাফেজ। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, কথিত স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ড্যান্ডি মাদকে আসক্ত। লাশের সুরতহাল করার সময় নিহত মহিলার বুকে মাদক ড্যান্ডির কৌটা পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ স্বীকার করেছে সে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো ব্লেড ছুরি চালিয়েছে। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

চিকেনের মচমচা রেসিপি

চিকেন মোমো

উপকরণ

১. ময়দা ২ কাপ,
২. তেল ২ টেবিল চামচ,
৩. মুরগির কিমা দেড় কাপ,
৪. রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ,
৫. আদা কুচি ৩ চা-চামচ,
৬. পেঁয়াজপাতা কুচি ২টি,
৭. লবণ স্বাদমতো
৮. সয়াসস ২ চা-চামচ,
৯. গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ,
১০. লেবুর খোসা কুচি আধা টেবিল চামচ,
১১. মাখন ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি

  • ময়দার সঙ্গে আধা চা-চামচ লবণ, তেল ও পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে ময়ান দিতে হবে।
    কিমার সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা-রসুন কুচি, সয়াসস, লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে মেখে রাখতে হবে।
  • ফ্রাইপ্যানে মাখন গলিয়ে কিমার মিশ্রণ অল্প আঁচে রান্না করুন।
  • কিমার পানি শুকিয়ে গেলে পেঁয়াজপাতার কুচি দিয়ে নেড়ে আরও ২ থেকে ৩ মিনিট ঢেকে রাখুন।
  • এবার ঢাকনা খুলে কাঁচা মরিচ কুচি ও লেবুর খোসার কুচি দিয়ে নেড়ে আবার ঢেকে দিয়ে মৃদু আঁচে দুই মিনিট রাখুন।
  • এদিকে ময়দার খামি থেকে ছোট আকৃতির রুটি বেলুন। রুটির কিনার বেশি পাতলা থাকবে।
  • রুটির মাঝখানে ১ টেবিল চামচ করে কিমার পুর দিয়ে অর্ধেকটা মুড়ে দিয়ে ও পেঁচিয়ে এনে বাকি অর্ধেক চেপে দিন, যেন মুখ খোলা না থাকে।
  • সব গুলো মোমো তৈরি হয়ে গেলে মাইক্রোওয়েভ কুকারে বা পানি ভর্তি বড় পাতিলের মুখে কাপড় বেধেও ভাপ দিয়ে নিতে পারেন। পাতিলের মুখে ভাপ দিতে হলে মিনিট দশেকই যথেষ্ট।

পরিবেশন

ভালোভাবে ভাপ দেয়া হলে নামিয়ে এন সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার মোমো।

চিকেন অনথন

উপকরণ

১. ১ কাপ ময়দা
২. ১/২ কাপ কর্ন ফ্লাওয়ার,
৩. ২ চা চামচ মাখন,
৪. লবণ স্বাদমতো,
৫. ৩/৪ কাপ গরম পানি,
৬. ১ কাপ মুরগির কিমা,
৭. ১ চা চামচ তিলের তেল,
৮. ১/২ কাপ বাঁধাকপি,
৯. ২টি ডিমের কুসুম,
১০. ১ চা চামচ সয়াসস,
১১. ১ টেবিল চামচ হইসিন সস (ইচ্ছা),
১২. ১ মুঠো ধনিয়া পাতা,
১৩. ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ পাতা কুচি,
১৪. ১ টেবিল চামচ গাজর,
১৫. ১ চা চামচ কাঁচামরিচ কুচি,
১৬. ১ চা চামচ আদাকুচি,
১৭. ১ চা চামচ রসুন কুচি,
১৮. তেল ভাজার জন্য,
১৯. ১/২ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া।

প্রণালি

  • প্রথমে ময়দা, কর্ন ফ্লাওয়ার, মাখন, লবণ এবং গরম পানি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে ডো তৈরি করে নিন।
  • এখন একটি পাত্রে মুরগির মাংস বাটা, তিলের তেল, লবণ, বাঁধাকপি কুচি, দুটি ডিমের কসুম, সয়া সস, হইসিন সস, ধনিয়া পাতা কুচি, পেঁয়াজ পাতা কুচি, গোলমরিচ গুঁড়া, গাজর কুচি, কাঁচামরিচ, আদা কুচি, রসুন কুচি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
  • এখন মাংসের কিমার মাঝে অল্প একটু পানি দিয়ে মিশিয়ে নিন।
  • এখন ময়দার ডো দিয়ে ছোট ছোট রুটির মত পাতলা অন্থন শিট তৈরি করে নিন।
  • শিটের মাঝখানে মুরগির কিমা দিয়ে আঙ্গুলে পানি নিয়ে শিটের চারপাশে লাগিয়ে দিন।
  • এবার শিট একপাশ থেকে ভাঁজ করে কিমার অংশটুকু ঢেকে মুড়িয়ে নিন।
  • এরপর শিটের মাথা দুটোর মুখ মাঝখানে এনে লাগিয়ে দিন।
  • তারপর গরম তেলে চিকেন অনথন দিয়ে দিন।
  • সোনালি রঙ হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন।

পরিবেশন

সোনালি রঙের চিকেন অনথন একটি বাটিতে সস এর সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রেসিপি সুত্র

বাংলাদেশি রেসিপি

 

ব্যাংকক বিমানবন্দরে সৌদি নারী আটক


নারী সংবাদ


ব্যাংকক বিমানবন্দরে আটক এক সৌদি নারী বলেছেন, দেশে পাঠানো হলে তাকে হত্যা করা হবে।
রোববার ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীকে থাইল্যান্ডে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার তদন্তের ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতবছর সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবে বিরুদ্ধে নতুন করে মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে। খবর এএফপি’র।
রাহাফ মাহাম্মদ আল-কুনুন নামের ওই তরুণী বলেন, তিনি সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সৌদি ও কুয়েতি কর্মকর্তারা তাকে থামিয়ে তার কাছ থেকে ভ্রমণ কাগজপত্র জোর করে কেড়ে নেয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারা আমার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তার পুরুষ অভিভাবক তার অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।’
কুনুন বলেন, তিনি তার পরিবারের কাছ থেকে পালাতে চাইছিলেন। তার পরিবারের সদস্য তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি চুল কাটায় আমার পরিবার আমাকে ছয় মাস ধরে একটি রুমে আটকে রাখে।’
সৌদি তরুণী বলেন, তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাকে কারাগারে আটক রাখা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত সৌদি জেল থেকে বেরুবার পর যত দ্রুত সম্ভব আমাকে হত্যা করা হবে।’
থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন প্রধান সুরাচাতে হাকপার্ন বলেন, রোববার কুয়েত থেকে একটি ফ্লাইটে করে থাইল্যান্ডে পৌঁছলে তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ওই তরুণীর রিটার্ন টিকিট অথবা অর্থ নেই।’
তিনি আরো জানান, রাহাফকে বিমানবন্দরের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিয়ে না করার জন্য তিনি তার পরিবার থেকে পালিয়ে এসেছেন।’
থাই কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির ব্যাপারে সৌদি দূতাবাসকে বিষয়টি অভিহিত করেছে।
কুনুন বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার জন্য সেখানে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সুবর্ণ ভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছলে সৌদি ও কুয়েতি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাকে আটক করে।
তিনি টুইটারে জানান, ‘আমি বাঁচতে চাই।’
তিনি জানান, তার একটি অস্ট্রেলীয় ভিসা থাকার পরও তার বাবা সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তাদের জানান যে তিনি একজন মানসিক রোগী।
কুনুন, বলেন- ‘আমি বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।’ অভিবাসন প্রধান সুরাচাতে বলেন, সোমবার সকালে কুনুনকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, থাই কর্তৃপক্ষকে ওই কিশোরীকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর আশ্রয় নিয়ে দিতে হবে। সুত্রঃ বাসস

 

গল্পে গল্পে প্যারেন্টিং : একটি ঘড়ি


কানিজ ফাতিমা


একদেশে একটা ছোট্ট ছেলে ছিল – ওর নাম ছিল রনি। তার বয়স ছিল ছয় বছর। রনির বোনের নাম মিনি। রনির অনেক কিছুর শখ ছিল। যেমন সে খেলতে পছন্দ করত, ছবি আঁকতে পছন্দ করত, বই পড়তে পছন্দ করত; আর সব থেকে বেশী পছন্দ করত বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে। প্রতি গ্রীষ্মের ছুটিতে সে তার বন্ধুদের নিয়ে অনেক অনেক মজা করত। ঈদ ছিল তার খুবই প্রিয়। কারণ ঈদের দিনে তারা সবাই মিলে অনেক মজা করতে পারতো ।

রনি খুব ভাল ছেলে। কিন্তু তার ছোট একটা সমস্যা ছিল- সে তার বাবা-মায়ের টেবিল ঘড়িটা নিয়ে খেলতে চাইত। রনি তার বাবা-মার রুমে গেলেই ঘড়িটির লাল রঙের কাটা দু’টির দিকে তাকিয়ে থাকতো। তার মনে হতো কাটা দু’টি খুবই ধীরে ধীরে ঘুরছে । তাই রনি ঘড়ির চাবি ঘুরিয়ে কাটা গুলোকে জোরে ঘুরিয়ে দিত। রনি প্রায়ই তার বাবা-মায়ের ঘড়ি নিয়ে চাবি ঘুরানো খেলা করত। এই খেলাটি ছিল তার অনেক পছন্দের একটা খেলা। কিন্তু যখন তার বাবা-মা এটা পছন্দ করতেন না, তারা রনির হাত থেকে ঘড়িটি সরিয়ে নিতেন আর বলতেন, “রনি, আর কখনও ঘড়ি নিয়ে খেল না। এটা খেলনা না। এটা কাজের জিনিস। ঘড়ি নিয়ে খেললে আমরা সঠিক সময় বুঝতে পারবো না।”

বাবা-মায়ের সমস্যা হোক তা রনি চাইতো না। কিন্তু সে ঘড়ি নিয়ে খেলতে এতই মজা পেতো যে সুযোগ পেলেই সে এই কাজ করতো।

তখন ঈদের মাত্র দুই দিন বাকী । রনি মিনির সঙ্গে খেলছিল আর তখনই মায়ের ফোন বেজে উঠলো।

মা ফোন ধরলেন। “আস্সালামু আলাইকুম।”

“ও হ্যাঁ জয়নব, কেমন আছো?…. … …আমি ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ। … … … …রনি এটা শুনে খুবই খুশী হবে। ও এখন পাশের রুমে মিনির সঙ্গে খেলা করছে। দাঁড়াও, আমি ওকে ফোন দিচ্ছি।”

একথা শুনে রনি দৌড়ে মায়ের কাছে চলে আসলো।
“মা, জয়নব আন্টি কি বলছেন?” রনি তার মায়ের কাছে জানতে চাইলো।
“ওমর তোমার সঙ্গে কথা বলবে” রনির মা বললেন।
রনি ফোন নিল এবং বললো “আস্সালামু আলাইকুম।”
ওমর উত্তর দিল, “ওয়ালাইকুম আস্সালাম। তোমার জন্য একটি সুসংবাদ আছে।”
“কি সুসংবাদ?” রনি খুবই উত্তেজিত হয়ে বললো।
“দুদিন পরেই ঈদ । আমি ঠিক করেছি এবারের ঈদে স্পেশাল কিছু করবো।” ওমর বললো
“কি করবে?” রনি জিঞ্জাসা করলো।
“Guess করো তো।” ওমর বললো
রনি চিন্তা করে বললো “তুমি কার্টুন দেখবে” “তুমি পার্কে বেড়াতে যাবে’”
”না”
“তুমি কি আমাকে তাহলে গিফট করবে ?”
“না, তাও না”
“আমি পারছি না”- রনি হার মানলো।
“আমি আমার বাসায় সব বন্ধুদের দাওয়াত করবো। তার পরে সবাই মিলে আনন্দ করবো। তুমি আসবে কিন্তু । সিয়াম , তাদভীন, আহমদ সবাই আসবে।”
রনি তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অনুমতি চাইল, “মা, আমি কি যেতে পারি ?”
মা বললেন, “ঠিক আছে, তুমি যেতে পার।”
“আলহামদুলিল্লাহ” রনি খুবই খুশী হল, বললো,” ওমর আমি আসবো। ইনশাল্লাহ”
ওমরও অনেক খুশী হল। রনি ওমরকে সালাম দিয়ে ফোন রেখে দিল। তারপর মাকে জড়িয়ে ধরে বললো , “এবারের ঈদে অনেক মজা হবে। আমরা সব বন্ধুরা একসঙ্গে মজা করবো। খুবই মজা হবে !”

রনির মা হাসলেন।“হ্যাঁ এটা খুবই আনন্দের। তবে এখনও ঈদের দু’দিন বাকী। এখন অনেক রাত হয়েছে। শুতে যাও।”
রনি তার মাকে চুমু দিল এবং বললো “আস্সালামু আলাইকুম।”
মা বললেন, “ওয়ালাইকুম আস্সালাম। তোমার দাত ব্রাশ করতে ভুলে যেও না।”

রনি বাথরুমে গেল, দাত ব্রাশ করলো, হাত-পা ধুয়ে নিজের বেডরুমের দিকে রওনা হল। পথে সে যখন তার বাবা মায়ের রুমের সামনে এল তখন তার চোখ গিয়ে পড়লো টেবিল ঘড়িটির ওপর। সে ঘড়িটির লাল কাটা গুলো ঘুরতে দেখলো। কাটাগুলো খুবই সুন্দর লাগছিল। সে একটু থামলো -তারপর গুটি গুটি পায়ে ঘড়িটির সামেনে এসে দাঁড়ালো । কাটাগুলো খুবই আস্তে আস্তে ঘুরছে। সে ঘড়ির চাবি ঘুরিয়ে কাটাগুলোকে দ্রুত ঘোরাল। এটা খুবই মজার একটা খেলা। হঠাৎ সে শুনতে পেল তার বাবা বাইরে থেকে ফিরে তার আর মিনির নাম ধরে ডাকছেন। সে দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।
“আস্সালামু আলাইকুম বাবা”
বাবাও তাকে চুমু দিলেন, “ওয়ালাইকুম আস্সালাম। তুমি এখনো জেগে আছে ?”
বাবা তাকে কোলে করে তার রুমে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলেন।
বন্ধুদের পার্টির কথা ভাবতে ভাবতে রনি ঘুমিয়ে গেল। ঘোমের মধ্যেও সারারাত সে ঈদের পার্টি নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকলো।
পরের দিন সকালে যখন সে ঘুমিয়ে ছিল তখন খাবার ঘর (ডাইনিং রুম) থেকে সে হুড়োহুড়ির শব্দ শুনতে পেল। সে ঘুম থেকে জাগলো। বিছানায় উঠে বসলো এবং দোয়া পড়ল “আশাহাদু আল্ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্ম্দার রাসুল আল্লাহ”।
তারপর বিছানা থেকে তাড়াতাড়ি নেমে এক দৌড়ে খাবার ঘরে এলো। তার মা-বাবা ছুটোছুটি করছেন রান্নঘর থেকে বসার ঘর পর্যন্ত।
“কি ব্যাপার ? ”-সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো।
বাবা গোসল খানার দরজা বন্ধ করতে করতে বললেন, “আমার অনেক দেরী হয়ে গেল।”
মা রান্নাঘর থেকে বাবাকে বললেন, “তাড়াতাড়ি করো। আমি সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবার টিফিন বক্সে দিয়ে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি করো। নয়তো তুমি তোমার মিটিং এ ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারবে না।”
রনি রান্না ঘরে গিয়ে তার মাকে বললো-‘আস্সালামু আলাইকুম মা’
“ওয়ালাইকুম আসসালাম,” তার মা তার দিকে না তাকিয়েই বললেন, “ঘড়ি নিয়ে খেলা করা তোমার ঠিক হয়নি। আমরা ঠিক সময় মত জাগতে পারিনি। তোমার বাবার অফিসে যেতে দেরী হয়ে গেল। সে সকালে নাস্তাও করতে পারবে না।”
রনির খুব মন খারাপ হল। সে বলল “আমি দুঃখিত”
মা বললেন, ”ঠিক আছে, মুখ ধুয়ে নাস্তা খাবার জন্য তৈরী হয়ে নাও।”

আগামীকাল ঈদ। আজ রনি ও মিনি তাদের মায়ের সাথে মার্কেটে যাবে এবং ঈদের জন্য অনেক কিছু কিনবে- ঈদের নতুন জামা কিনবে,কাল পার্টিতে বন্ধুদের দেবার জন্য ঈদ কার্ড কিনবে,ওমরের জন্যও কিছু কিনবে। তারা নাস্তা সেরে তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নিল।
সারাদিন রনি অপেক্ষা করলো ঈদের দিনের জন্য। “জান, কাল আমরা কি কি করবো?” রনি মিনিকে জিজ্ঞাসা করলো।
মিনি জানতে চাইলো, “কি করবে ?’
“আমরা লুকোচুরি, মিউজিক, চেয়ার, আর মনোপলি খেলবো।”
মিনি বললো, “তাহলে আমিও যাবো।”
রনি বললো, “ওটাতো আমার বন্ধুদের পার্টি। তুমি কি করবে ?”
মিনি জিজ্ঞাসা করলো, “ওমরের কি বোন আছে ? সে আমাদের জন্য একটা পার্টি করতে পারে না?”
“না, ওমরের বোন নেই” রনি বললো।
“তোমাদের ভাগ্য ভালো। ক’টায় পার্টি শুরু হবে ?” মিনি জিজ্ঞাসা করল।
“৫ টায় শুরু হবে আর ৭ টা পর্যন্ত চলবে। তারপর ওমর ওর দাদার বাড়ী বেড়াতে যাবে” রনি উত্তর দিল।

রনি মাকে বলল, “আমি পার্টিতে কিছু কেক নিতে চাই।মা, তুমি কি আমাকে কিছু কেক তৈরী করে দিতে পারবে ?”
মা বললেন, “তুমি তোমার বন্ধুদের জন্য নিজেই কেক তৈরী করে নিয়ে যেতে পারো। আমি তোমাকে সাহায্য করবো”

রনি এ কথা শুনে তো মহাখুশী, “অবশ্যই আমি নিজেই কেক তৈরী করবো। কী মজা !”
তার মা তাকে পরিমাণ মত ময়দা, তেল, কোকো পাউডার, দুধ ও অন্যান্য উপাদান নিতে সাহায্য করলেন। বাটিতে এ গুলোর সঙ্গে ঘী নিয়ে রনি ভাল করে মিশালো। তারপর সে এগুলোকে কেকের ছাঁচে ঢেলে ওভেনে দিল। মা ওভেন অন করে দিলেন।

রনি উৎসাহ নিয়ে ওভেনের দিকে তাকিয়ে আছে। সে অপেক্ষা করতে থাকলো কখন কেক বেক শেষ হবে। ক্লান্ত হয়ে কতক্ষন পরে সে মিনির সঙ্গে খেলতে চলে গেল।

কিছুক্ষন পরেই তার মা তাকে ডাকলেন, “রনি তোমার কেক হয়ে গেছে, দেখে যাও ।”
রনি আর মিনি এক দৌড়ে রান্না ঘরে এলো, কেকটা দেখতে খুবই সুন্দর হয়েছে। সে গন্ধ নিল। খুবই সুন্দর গন্ধ……..! তার বন্ধুরা কেকটি খুবই পছন্দ করবে।

রাতে যখন বাবা বাসায় এলো সে তাকে তার নতুন জামা দেখলো, ওমরের জন্য কেনা গাড়ীটা ও দেখালো।
তার বাবা বললেন, “মাশা আল্লাহ, ওমর গাড়ীটা খুব পছন্দ করবে।”
তার পর সে তার বাবাকে খাবার ঘরে নিয়ে গেল তার কেক দেখানোর জন্য। বাবা খুবই খুশী হলেন। রনিতো খুব ভাল রান্না শিখেছে।
রাতের খাবার এর জন্য তারা সবাই একসাথে খাবার টেবিলে বসলো। রনি পার্টির কথা, খেলার কথা, গিফটের কথা বলতেই থাকলো। খাবারের পর বাবা তাকে সাহায্য করলেন উপহারগুলো প্যাকটে করতে। এরপরে তারা বড় বড় টুকরো করে কেকটা কাটলো ।
রনি খুবই খুশী, আজ সে অনেক কিছু করেছে।
বাবা তাকে শোবার ঘরে দিয়ে ঘুমাতে গেলেন। রনি রাতের কাপড় পরে দাত ব্রাশ করে শুতে এল। কাল ঈদ। সে ভোরে উঠে ঈদের নামাজে যাবে। সারারাত সে স্বপ্ন দেখলো- সে তার বন্ধুদের সঙ্গে অনেক মজা করছে, কেক খাচ্ছে, আর খেলা করছে।

ঈদের দিন সে খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে জাগল- দোয়া পড়ে সে বিছানা থেকে নেমে এল। সে তার বাবা-মায়ের রুমে গিয়ে দেখলো তারা ঘুমিয়ে আছেন। সে খাবারের ঘরে গিয়ে নিজের কেকটা দেখলো। তারপর নিজের রুমে এসে ঈদের জামাটি দেখলো। এটা পরে সে আজকে পার্টিতে যাবে। সে মনে মনে ভাবল আজ সে সবার আগে পার্টিতে যাবে।
আজ বিকালেই পার্টি । কখন যে বিকাল হবে! কখন যে সে পার্টিতে যাবে! তার আর দেরী সইছে না।
তার বাবা-মা ঘুম থেকে উঠলেন। বাবা মিনি ও রনিকে গোসল করিয়ে দিলেন। তারা সবাই নতুন কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়তে গেল। ঈদগাহে নামাজ শেষে রনি তার কিছু বন্ধুদের দেখতে পেল- তারা সবাই সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে কোলাকুলি করল। তারপর তারা গরীব মানুষদের কিছু দান করল। শেষে তারা বাসায় ফিরে এল।

এরপর বাবার কিছু বন্ধু বেড়াতে এল। বাবা তাদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন আর মা তাদের জন্য কিছু মজার খাবার তৈরী করে দিলেন। রনি ও রনির বাবা টেবিলে খাবার সাজাতে তার মাকে সাহায্য করলো। রনির বাবা খুবই ভাল। সে সব কাজে রনির মাকে সাহায্য করে। রনিও তার মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করে। রনিকে তার বাবা বলেছে আমাদের নবীও ঘরের কাজে সাহায্য করতেন।

দুপুরে রনির মায়ের কিছু বান্ধবী এল। মা তাদের দেখে খুবই খুশী হলেন। তাদের সঙ্গে বসার ঘরে বসে গল্প করলেন। রনি ও রনির বাবা তাদের জন্য টেবিলে খাবার সাজালেন। এরপর রনি মিনির সঙ্গে খেলতে চলে গেলো । কিছুক্ষণ খেলার পরে সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো- “এখন কি পার্টির সময় হয়েছে ? আমি কি তৈরী হব ?”
”না রনি, এখনও অনেক সময় বাকী। তোমাকে আরেকুটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। তুমি এই বইটা আমার ঘরে একটু রেখে আস, প্লীজ ।”
সে যখন বই রেখে নিজের রুমের দিকে আসছিল তখন সে তার বাবা-মায়ের ঘড়িটি দেখতে পেল। তার লাল কাটা গুলো টিক্ টিক্ করে ঘুরছে। কিন্তু খুব ধীরে ধীরে ঘুরছে। রনি আস্তে আস্তে করে ঘড়িটির দিকে গেল, আর তারপর ঘড়ির চাবিটি ঘুরিয়ে দিলো।
রনির খুব মজা লাগছে – কাটাগুলো ঘুরছে !
এমন সময় সে মিনির ডাক শুনতে পেলো, “ভাই-য়া- -”
রনি মিনির ঘরে এলো।
”তুমি কি আমাকে এই ফুলটা একটু রঙ করে দিতে পারবা ?”
রনি মিনির জন্য ছবি রঙ করতে লাগল।
কিছুক্ষণ পরে রনি তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, “ মা, আমি কি এখন তৈরী হব ?” রনির মা নিজের রুমে গিয়ে ঘড়ি দেখে বললেন ”না, এখনও সময় হয়নি।”
রনি নিজের রুমে গিয়ে পাঁচটা বাজার জন্য অপেক্ষা করলো। অপেক্ষা যেন শেষই হয়না – কখন সে পার্টিতে যাবে, বন্ধুদের তার কেক দেখাবে, তাদের সঙ্গে খেলা করবে, আর তাদের উপহার গুলো দিবে। রনি আর দেরী করতে পাছিল না।
অবশেষে তার মা ডেকে বললেন, ”এখন রেডি হয়ে নাও, সময় হয়েছে।”
রনি রেডি হল। তারপর কেক, কার্ড ও ওমরের গাড়ী নিয়ে সে তার বাবার সঙ্গে রওনা হয়ে গেল। সারা পথ রনি খুবই আনন্দ লাগছিলো – ঈদের পার্টিতে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে!
অবশেষে সে ওমরদের বাড়ীতে এল এবং বেল বাজালো। সে অপেক্ষা করছিল দরজা খুলেই সে তার বন্ধুদের দেখতে পাবে।
রিয়াদ চাচা দরজা খুললেন-
– আস্সালামু আলাইকুম
– ওয়ালাইকুম আস্সালাম- রনি ও তার বাবা উত্তর দিলেন।
রনি বললো, “আমরা পাটিৃতে এসেছি।”
“পার্টি ?” রিয়াদ চাচা বললেন, “পার্টিতো শেষ। এখন সাড়ে সাতটা বাজে।”
রনির বাবা হাতের ঘড়ির দিকে তাকালেন এবং দেখলেন সত্যিই সাড়ে সাতটা বাজে। সে রনিকে জিজ্ঞাসা করলো- “তুমি কি আমার রুমের টেবিল ঘড়িটা নিয়ে খেলেছিলে?”
রনি দুঃখিত হল, -হ্যাঁ।
“তোমাকে বলেছি ঘড়ি নিয়ে খেলবে না। তুমি ঘড়ির কাটা ঘুরিয়েছিলে। তাই আজ আমরা সঠিক সময় জানতে পারিনি। আর এজন্যই আজ তুমি পার্টিতে ঠিক সময়ে আসতে পারোনি।” বাবা বললেন।
“আমি পার্টির জন্য কেক তৈরী করেছি। ওমরের জন্য উপহার কিনেছি। অমি বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করতে চাই” – রনির চোখ পানিতে ভরে গেল। ওর প্রচন্ড কান্না পেল।
রিয়াদ চাচা বললেন, “আমি দুঃখিত, রনি। তোমার বন্ধুরা পার্টিতে এসেছিল,তারা একসঙ্গে খাবার খেয়েছে, খেলা করেছে, তারপর সবাই বাড়ী ফিরে গেছে। ”
রনি একথা শুনে খুবই কষ্ট পেলো । সে কান্না করে ফেললো, “আমি ওমরকে এই গাড়ীটা দিতে চাই।”
“আমি দুঃখিত রনি। ওমরতো পার্টি শেষে তার দাদা বাড়ী চলে গেছে।”
রনির বাবা রিয়াদ চাচাকে ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে গাড়ীতে উঠলেন বাসায় ফেরার জন্য। রনি চুপচাপ গাড়ীতে বসে থাকল। তার দু’গাল বেয়ে চোখের পানি পড়ছিল। সে ওমরের সঙ্গে, ওর অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করতে চায়। কিন্তু সে আজ সবকিছু থেকে বঞ্চিত হল। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো সে আর কোনদিন ঘড়ি নিয়ে খেলবে না। কাজের জিনিস নিয়ে কখনও দুষ্টুমি করা ঠিক না। কাজের জিনিস আর খেলনা এক কথা না।

এরপরে রনি আর কোনদিন কাজের জিনিস নিয়ে খেলা করেনি।

গল্প শেষে:

গল্প শেষে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন গল্পের শিক্ষা নিয়ে। প্রশ্ন করুন –

১. কাজের জিনিস আর খেলনার মধ্যে পার্থক্য কি?
২. কাজের জিনিস নিয়ে খেলা করা কেন উচিত না ? এতে কি ধরণের সমস্যা হতে পারে?
৩. বাসার কোন কোন কাজের জিনিস নিয়ে বছর খেলতে চাইতে পারে- কয়েকটি উদাহরণ দাও ?
৪. এগুলো নিয়ে খেললে আমাদের কি কি সমস্যায় পড়তে হতে পারে?

গল্পে গল্পে প্যারেন্টিং :কাজের জিনিস নিয়ে খেলতে নেই
একটি ঘড়ি

 

ড্রেনে মিলল নবজাতক শিশু


নারী সংবাদ


টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ড্রেন থেকে এক নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের অধিকতর সেবা ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা নয়া দিগন্তকে বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পেছনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে ওই নবজাতক শিশুকে (ছেলে) পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশুকে উদ্ধার করে তিনি হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের অধিকতর সেবা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে যায়।

তিনি বলেন, একটি সদ্যভূমিষ্ট শিশুর স্বাভাবিক ওজন আড়াই কেজি হলেও উদ্ধারকৃত এই শিশুর ওজন মাত্র এক কেজি ৩০০ গ্রাম। এ ধরনের শিশু খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়। তারপরও আমরা শিশুটির জন্য সবরকম চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। আইন অনুযায়ী এখন এই শিশুটির দায়-দায়িত্ব সমাজ সেবা অধিদপ্তর নিয়েছে বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইল সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ড্রেন থেকে নবজাতক উদ্ধারের খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে যাই। সরকারিভাবে এ ধরনের শিশুর সকল দায়-দায়িত্ব সমাজ সেবা অধিদপ্তরই নিয়ে থাকে। সে মোতাবেক আমরা এই শিশুটির যাবতীয় দেখাশোনা করছি। শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলে আদালতের মাধ্যমে আমরা তাকে ঢাকায় ছোটমনি নিবাসে পাঠিয়ে দেব। এছাড়া আদালত চাইলে অন্য যে কেউ শিশুটিকে নিতে পারবেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে তিনি জানান। সুত্র: নয়াদিগন্ত।

 

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী পলাতক


নারী সংবাদ


রাজধানীর মতিঝিলে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকালে আরামবাগের ১২৪/১ নম্বর বাড়ির একটি রুম থেকে শরিফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

মতিঝিল থানার এস আই জালাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর একটার মধ্যে যে কোনো সময় শরিফা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ উদ্ধারের সময় তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামতও জব্দ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি জানান, নিহত শরিফার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার কাউনিয়া গ্রামে। তিনি ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। আরামবাগের ১২৪/১ নম্বর বাড়ির এক রুম ভাড়া নিয়ে স্বামী মনির হোসেন নয়নকে নিয়ে থাকতেন। শুক্রবার সকালে দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার পর থেকে স্বামী নয়ন পলাতক রয়েছেন। নয়ন পেশায় রিকশাচালক। তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুত্র:ইত্তেফাক।

 

বই পড়া সংক্রান্ত কতিপয় টিপস


মেহেদী আরিফ


বুঝে পড়ুন
বই পড়ুন, যথাসম্ভব বুঝে বুঝে।

দাগিয়ে পড়ুন
বই দাগিয়ে পড়ুন। (আপনার জন্য বই, বইয়ের জন্য আপনি নন।)

অভিধান
বারবার অভিধানে শব্দ খুঁজবেন না। এই বদ অভ্যাস বই পড়াতে বিঘ্ন ঘটায়। যে শব্দগুলি না দেখলেই নয় সেই শব্দগুলির অর্থই কেবলমাত্র খুঁজুন।

নোট
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নোট করুন।

লিখুন
সাথে ডায়েরি রাখুন, গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বাক্যাংশ, বাক্য কিংবা লাইনগুলি লিখে রাখুন।

কলম, পেন্সিল
বিভিন্ন রংয়ের কলম, পেন্সিল, মার্কার কিংবা হাইলাইটার ব্যবহার করুন।

বিরতি
কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে পড়ুন।
দুই-এক দিন বিরতি নিন। চিন্তার সাগরে ডুব দিন।

ভাবুন
যা পড়েছেন তা নিয়ে ভাবুন। ভাবনা আপনাকে সেরা লেখক তৈরি করবে।

আলাপ
বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে অন্যের সাথে আলাপ করুন।

শেষ করুন
কোনো বই অনেক মজার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ হলে তার কোন ক্ষুদ্র অংশ ফেলে রাখবেন না। কষ্ট হলেও শেষ করেই অন্য কাজ করুন।

রিভিউ লিখুন
সময় করে রিভিউ লিখে ফেলুন। বইয়ের রিভিউ একটা চমৎকার দলিল। কোনো বই দ্বিতীয় বার পড়ার সুযোগ না হলে রিভিউ দেখে তার সার সংক্ষেপ উদ্ধার করা সহজ হবে। আগামী দশ/বিশ বছর পর এটা একটা চমৎকার নোট হতে পারে।

লিখুন
বই পড়ে প্রতিদিন কিছু কিছু লিখুন।

নিয়মিত
প্রতিদিন অল্প হলেও পড়ুন। পড়াকে অভ্যাসে পরিণত করুন।

কখন বই পড়বেন না
মন যখন ভীষণ খারাপ থাকে, তখন বই পড়বেন না। মাথায় যখন কিছু ঢুকবে না, তখন বই পড়বেন না।

 

জোনাক নগরের আঙিনায়…২


আফরোজা হাসান


প্রচন্ড রকম ভালো লাগা নিয়ে নূরি যেই কাজগুলো করে তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে যায়েদ যেদিন রান্না করে হেল্পার হিসেবে সাথে থাকা। বিয়ের আগে মামণিকে দেখে প্রায় সব ধরণের রান্নাই শিখে নিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর গত দেড় বছরে যায়েদের হেল্পারের কাজ করে পাকা রাঁধুনি বনে গিয়েছে। তবে যায়েদের সাথে যখন রান্না করতে আসে তখন রাঁধুনির চেয়ে হেল্পার হিসেবেই সাথে থাকতে ভালো লাগে নূরির। অন্যান্য ছুটির দিনের মতো আজও বাড়ির সবার জন্য সকালের নাস্তা বানানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলো যায়েদ। নূরির হাজির হয়ে গেলো হেল্পার হিসেবে। অন্যান্য দিনের তুলনায় কেমন যেন চুপচাপ লাগছিল যায়েদকে নূরির কাছে। কিন্তু এই অনুভূতিটা কি তার নিজের মনের খুঁতখুঁত নাকি সত্যিই যায়েদ আজ চুপচাপ ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না। গতরাতে নিজেকে অনেক শাসন করেছে। এরপর বুঝিয়েও বলেছে আর কখনো অন্যকারো সমস্যার প্রভাব নিজের জীবনে পড়তে দেবে না। অন্যের সমস্যা নিয়ে মশগুল না থেকে বরং যায়েদকে খুলে বলবে। কারণ যায়েদ শুধু বোঝেই না, তাকেও বুঝিয়ে দেয় অনেক সহজ করে সবকিছু। আরো কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আপনার সাথে একটা ব্যাপার শেয়ার করতে চাচ্ছি।

যায়েদ নূরির দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, হুম, বলো।

সমস্যাটা আমার এক ফ্রেন্ড আছে। ওর নাম ইলমা। মাস চারেক আগে বিয়ে হয়েছে ইলমার।

হুম, শুনেছিলাম বিয়ের কথা। তুমি বলেছিলে। কি সমস্যা ইলমার?

সমস্যা ওর শ্বশুরবাড়ির মানুষজন। আমার কাছে ইলমা পরামর্শ চেয়েছিল কিভাবে আপন করে নেবে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে। এমন কি করবে যাতে শ্বশুরবাড়ির সবাইও ওকে আপন করে নেবে। আমি ওকে আমার মতো করে পরামর্শ দিয়েছিলাম। আইমিন, আপনি যেমন আমাদের বিয়ের পর আপনার পরিবারের সবার সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। এবং আমি যেভাবে আম্মি আর বাপীর পছন্দ- অপছন্দ, ভালো লাগা ইত্যাদি জেনে এবং সেই মতো খেয়াল রাখতে চেষ্টা করেছি। জাকিয়া, জারিফা, রাওনাফ ভাবী, মাঈশা ফুপির সাথে যেভাবে বন্ধুত্ব হয়েছিল আমার। সেভাবেই সবকিছু করার পরামর্শ দিয়েছিলাম।

যায়েদ হেসে বলল, এটাকে কি ইলমার শ্বশুরবাড়ির মানুষেরা নেগেটিভ ভাবে নিয়েছে?

জ্বি। আপনি কি করে বুঝলেন?

এক মুহুর্ত সময় নিয়ে যায়েদ বলল, আমাদের পাশের ঐ বাড়িটাকে আগে আমার বড় ফুপি থাকতেন নিশ্চয়ই শুনেছো?

জ্বি আমি শুনেছি।

ফুপির বড় ছেলে মঈন আর আমি প্রায় সমবয়সী। আমরা দুইজন পড়াশোনাও করেছি একই সাবজেক্টে। ফুপির খুব ইচ্ছে ছিল জাকিয়ার সাথে মঈনের বিয়ে দেবার। কিন্তু মঈন আমাদের এক ক্লাসমেট ফারিয়াকে পছন্দ করার কারণে অমত থাকা স্বর্ত্বেও ফুপি বাধ্য হয়ে ওদের বিয়েতে রাজী হয়েছিলেন। বিয়ের পর প্রথম মাস খানেক ফুপি চুপচাপই ছিলেন। কিন্তু এরপর শুরু করেছিলেন কিচেন পলিটিক্স।

নূরি হেসে ফেলে বলল, কিচেন পলিটিক্স?

হুম, হোম পলিটিক্সকে পরিকল্পনা সমূহকে যেখানে আনজাম দেয়া হয়। কাঁটা-ছেঁড়া, জ্বালানো-পুড়ানো, বয়েলড-হাফ বয়েলড ইত্যাদি ইত্যাদি। যাইহোক, ফারিয়া চমৎকার একটি মেয়ে ছিল। ভীষণ আন্তিরক, মানিয়ে চলা স্বভাবের। ওর ফ্যামেলি খুব একটা ইসলামিক ছিল না। কিন্তু যেহেতু আমরা স্কুল থেকেই একসাথে ছিলাম। আমাদের উৎসাহে এবং নিজের চেষ্টায় ফারিয়া যথাসাধ্য চেষ্টা করতো শরীয়তের সবকিছু মেনে চলতে। বিয়ের পরেও ফারিয়া আপ্রাণ চেষ্টা করতো শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, দুই ননদ আর দেবরদের মন জুগিয়ে চলার। মঈন আর ফারিয়ার যখন বিয়ে হয়েছিল তখন আমরা মেডিকেল ফাইনাল ইয়ারে ছিলাম। এত পড়াশোনা চাপ থাকার পরেও যখনই সময় পেত ফারিয়া ছুটে আমাদের বাড়িতে চলে আসতো আম্মির কাছে রান্না শেখার জন্য। ক্লাস থেকে ফেরার পথে ননদদের জন্য চকলেট, কেক বা ওদের পছন্দের কিছু না নিয়ে আসতো না কখনোই। প্রায়ই ফুপির জন্য টুকটাক গিফট নিয়ে আসতো। এসব ফারিয়া করতো শ্বশুরবাড়ির সবাইকে আপন করে নেবার জন্য। তাদের ভালোবাসা পাবার জন্য। প্রায়ই আমার কাছে এসে পরামর্শ চাইতো আর কি করা যায় শ্বশুরবাড়ির মানুষগুলোর জন্য। আমি আমার জ্ঞানানুযায়ী পরামর্শ দেবার চেষ্টাও করতাম। ফারিয়াকে দেখে আমি জীবনে প্রথম জেনেছিলাম কখনো কখনো মানুষের প্রতি অকৃত্রিম আন্তরিকতা দেখানোর অনেক কঠিন প্রতিদান পেতে হয়। কারণ অকৃত্রিম আন্তরিকতা প্রদর্শনের জন্য যেমন বিশাল বড় একটা মনের দরকার হয়। ঠিক তেমনি কারো অকৃত্রিম আন্তরিকতাকে গ্রহণ করার জন্যও অনেক উদার দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী হতে হয়।

ফারিয়া ভাবীর আন্তরিকতাকে কি কেউ সহজ ভাবে মেনে নেয়নি?

মেনে তো নেয়ইনি উল্টো ফারিয়ার আন্তরিকতাকে ওর চালাকি, ধোঁকা দিয়ে মন জয় করার চেষ্টা ইত্যাদি নামকরণ করা হয়েছিল। আইমিন, সামনে সামনে ঠিকই ফারিয়াকে ভালো বলতো কিন্তু আড়ালে ওর উত্তম গুণাবলীর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা হতো। ফুপি যখনই সুযোগ পেতেন মঈনের কাছে ফারিয়ার ভালো কাজগুলোকে মন্দ ভাবে উপস্থাপন করতেন। ফুপির দুই কন্যাও নিষ্ঠার সাথে মায়ের সহযোগী হিসেবে একই ডিউটি পালন করতো।

সবকিছু মিলিয়ে শান্ত, সমঝদার স্বভাবের মঈন কেমন যেন অস্থির স্বভাবের হয়ে যেতে শুরু করেছিল। নিজের ভালো কাজগুলোকে অবমূল্যায়নের পাশাপাশি নিন্দিত হতে দেখে ফারিয়ার মনেও ধীরে ধীরে ক্ষোভের জন্ম হয়েছিল। আর ফুপি এটাই চাইছিলেন। মঈন আর ফারিয়ার মধ্যে সমস্যা তৈরি করতে। তাই ওদের মানসিক অস্থিরতার আগুণে ফুপি বিদ্বেষের ঘি ঢালতেন খুব যত্ন সহকারে। ফলশ্রূতিতে বিয়ের সাত মাসের মাথাতেই ডিভোর্স। ফারিয়া নিজেকে সামলে নিতে পারলেও মঈন পারেনি। সবকিছু মিলিয়ে মঈনের নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। এরপর আর মেডিকেলও কমপ্লিট করলো না। জীবনের প্রতি মঈনের সমস্ত আকর্ষণ, ভালো লাগা সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখনো মঈন ছন্নছাড়া। পরবর্তীতে ফুপি আবার বিয়ে দিয়েছেন মঈনকে। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। কোথায় হারিয়ে গিয়েছে ওর জীবনের উচ্ছলতা, আনন্দময়তা।

আর ফারিয়া ভাবী?

আলহামদুলিল্লাহ ফারিয়া অনেক ভালো আছে। আমার হসপিটালেই জব করছে চাইল্ড স্পেশালিষ্ট হিসেবে। তবে এরপর আর এখন পর্যন্ত বিয়ে করেনি। কিন্তু বদলে গিয়েছে ভীষণ রকম ওর চরিত্র। একমাত্র শিশুরা ছাড়া আর সবার সাথে ফারিয়ার আচরণ খুব বেশি কঠোর। মনেহয় যেন আন্তরিকতার রেশ মাত্র অবশিষ্ট নেই আর ফারিয়ার ভিতরে। কোমলতা, ভালোবাসা এখন ওর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। মঈন আর ফারিয়া আমার জীবনের অনেক বড় একটা শিক্ষা। বড় ফুপি যখন আমাদের বাড়িতে এসে মঈনের কথা বলেন আর আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদেন তখন আমার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কথা মনে পড়ে।

কি কথা?

“মেয়ের সম্মান মেয়েদের কাছেই সব চেয়ে কম। তারা জানেও না যে, এইজন্যে মেয়েদের ভাগ্যে ঘরে ঘরে অপমানিত হওয়া এত সহজ। তারা আপনার আলো আপনি নিবিয়ে বসে আছে”। নূরি একটু চিন্তা করলে তুমিও বুঝতে পারবে আমাদের সমাজে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি ব্যথিত, অপমানিত মেয়েদের দ্বারাই হয়। শ্বাশুড়ি হয়ে বৌকে, বৌ হয়ে শ্বাশুড়িকে, ননদ হয়ে ভাবীকে, ভাবী হয়ে ননদকে, ছেলের মা হয়ে মেয়ের মাকে, প্রতিবেশিনী হয়ে প্রতিবেশিনীকে, মেয়েরাই মেয়েদেরকে ছোট করে। একে অন্যের সুখের ঘরে বিষধর সাপ ঢুকিয়ে দেয়। মেয়েরাই আসলে মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্রু। একজন শ্বশুর বা দেবরের কারণের কোন মেয়ের ঘর ভেঙেছে এমন কথা কিন্তু সচারচর শোনা যায় না। কিন্তু মেয়েরাই যে মেয়েদের ঘর ভাঙে সেই উদাহরণ চোখ মেলে তাকালেই দেখা মেলে। সংসারে তাই মেয়েদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা উচিত অপর মেয়েদের থেকেই। বুঝেছো?

হুম! কিন্তু এমনটা হবার কারণ কি?

যায়েদ হেসে বলল, আচ্ছা তুমি সারাদিন চিন্তাভাবনা করো এই কথাগুলো নিয়ে। তারপরও যদি কারণ খুঁজে বের করতে না পারো আমি রাতে বুঝিয়ে বলবো ইনশাআল্লাহ।

এতটা ক্ষণ আমাকে টেনশন দেবেন আপনি?

হুম, দেবো। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয় সেটা তো জানোই। ঠিক তেমনি জীবনকে নতুন উপলব্ধির রঙে রাঙাতে হলে চিন্তার সাগরে হাডুবুডু তোমাকে খেতেই হবে। সো তুমি হাবুডুবু খেতে খেতে খেতে ভেজিটেবল স্টু রান্না করো।

চলবে…

 

আসুন “জরায়ু ক্যান্সার’ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই


ফাতেমা শাহরিন


জরায়ু মুলত কি?

জরায়ু বা uterus হল, স্ত্রী প্রজনন তন্ত্রের একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গ। জরায়ু একটি হরমোন প্রতিক্রিয়াশীল অঙ্গ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হরমোন ক্ষরণের দ্বারা এর কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হয়। গর্ভধারণ কালে ফিটাস (শিশু) জরায়ুর অভ্যন্তরে বড়ো ও বিকশিত হয়। – উইকিপিডিয়া

জরায়ু ক্যান্সার কি?

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচ. পি. ভি) এর দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ। জরায়ু ক্যান্সারকে মৃত্যুর মুল কারণ মুলত সাইলেন্ট কিলার অর্থাৎ এই অসুখ দেখা দিলে অনেক সময় নারীরাই কোন লক্ষণ বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ সনাক্ত করায় বিলম্বিত হয়।

জরায়ু ক্যান্সার কয় ধরনের হয়?

জরায়ুর ক্যান্সার বা যা গর্ভাশয় ক্যান্সার মুলত জরায়ু কলা থেকে উদ্ভূত। তা অনেক ধরনের ক্যান্সারকেই বোঝায়।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার এন্ডোমেট্রিয়াম (জরায়ুর ভেতরের আবরণ) গ্রন্থিগুলোর কোষ থেকে এন্ডোমেট্রিয়াল কার্সিনোমাসের সৃষ্টি হয়। যার মাঝে সহজে চিকিৎসাযোগ্য এন্ডোমেট্রোয়েড এডেনোকার্সিনোমা, ছাড়াও ইউটেরিন প্যাপিলারি সেরোস কার্সিনোমা এবং ইউটেরিন ক্লিয়ার-সেল কার্সিনোমার মত ভয়াবহ ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত।’ এন্ডোমেট্রিয়াল স্ট্রোমাল সারকোমার উৎপত্তি এন্ডোমেট্রিয়াম (জরায়ুর ভেতরের আবরণ) সংযোজক কলা থেকে, তবে এন্ডোমেট্রিয়াল কার্সিনোমাসের তুলনায় এর বিস্তার অনেক কম।’ ম্যালিগন্যান্ট মিক্সড মুলেরিয়ান টিউমার অত্যন্ত বিরল এন্ডোমেট্রিয়াল টিউমার যেখানে গ্ল্যান্ডুলার (কার্সিনোমাটাস) এবং স্ট্রোমাল (সার্কোম্যাটাস) উভয় বিভাজন লক্ষ্য করা যায়- কার্সিনোসারকোমা উচ্চতর কার্সিনোমার মতো আচরণ করে।’

সার্ভিকাল ক্যান্সার  জরায়ুর নীচের অংশের সাথে যোনির উপরের অংশের সাথে সংযোগ সৃষ্টিকারি জরায়ুমুখের ক্যান্সার।

ইউটেরিন সারকোমা মায়োমেট্রিয়ামের সারকোমা, বা জরায়ুর পেশী স্তর, সাধারণত লেইওমায়োসারকোমাস।

গর্ভকালীন ট্রফোব্লাস্ট রোগ গর্ভাবস্থার কলা থেকে উদ্ভূত নিউপ্লাস্টিক প্রক্রিয়াগুলির সাথে সম্পর্কিত যা প্রায়শই জরায়ুতে অবস্থিত।

কোন বয়সে নারীদের বেশি হয়?

জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রাপ্ত বয়স্ক হলে হওয়ার কথা বলে কেউ কেউ ভাবতে পারেন, এটি ভুল ধারণা । যেকোন বয়সেই নারীদের জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে। জরায়ুর ক্যান্সার সাধারনত ৩০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে বেশী হয়ে থাকে। এবং আরও বলা হয় যে, যৌন সঙ্গম এর পরবর্তীকালীন সময়ে রোগটি হয়ে থাকে।

জরায়ু ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার স্তরসমুহ

চারটি স্তর রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতিও নির্ভর করে এই চারটি স্তরের উপর। মূলত ক্যান্সার কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, তার উপর নির্ভর করে স্তরের বিন্যাস।

স্তর-১: প্রাথমিক পর্যায়, ক্যান্সার শুধুমাত্র জরায়ু মুখে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

স্তর-২: ক্যান্সার জরায়ু মুখের পাশে যোনীপথে কিছুটা ছড়িয়েছে।

স্তর-৩: ক্যান্সার যোনীপথের নিচের দিকে অথবা পাশে ছড়িয়েছে

স্তর-৪: ক্যান্সার সামনে মূত্রথলি, পেছনে অন্ত্রথলি অথবা দূরে যেমন ফুসফুস বা মস্তিষ্কে ছড়িয়েছে।

স্তর অনুসারে চিকিৎসার নিয়ম

অপারেশন এখানে স্তর (১ ও ২) এর প্রাথমিক অবস্থা পর্যন্ত সাধারণত ডাক্তার অপারেশন ও ঔষধ সেবন করতে বলেন। তবে এটি জরায়ুর অনেক বড় একটি অপারেশন।

রেডিওথেরাপী বাকী স্তর (৩ ও ৪) এর জন্য রশ্মি চিকিৎসা (রেডিওথেরাপী) অথবা ক্যান্সার নির্মূল ওষুধ (কেমোথেরাপি) দেওয়া হয়।

সর্তকতা ও সন্তান

রোগী গর্ভবতী থাকাবস্থায় জরায়ু মুখের ক্যান্সার ধরা পড়লে, তখন গর্ভের শিশুর জীবনের নিশ্চয়তা না দিয়ে রোগীকে বাঁচানোর জন্য রশ্মি চিকিৎসা অথবা অপারেশন করা জরুরী হয়।

জরায়ু ক্যান্সারের সাধারণ কারণ

-বাল্য বিবাহ।
-অল্প বয়সে সন্তান হওয়া।
-ঘন ঘন সন্তান হওয়া।
-ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা।
-দীর্ঘদিন সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন।
-একাধিক সেক্স সঙ্গী।

জরায়ু ক্যান্সারের হওয়ার পূর্ববর্তী কিছু লক্ষণ

-তলপেট ও কোমরে ব্যথা
-ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করা ।
-গ্যাস , বদহজম , কোষ্ঠকাঠিন্য।
-হালকা খাবারের পর পেট ভর্তি লাগা , পেটে অস্বস্তি লাগা , ইত্যাদি পেটের কোন সমস্যা খুব বেশি হলে তা জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে ।
-পেটে অতিরিক্ত ব্যথা কিংবা পেট ফুলে থাকা ।
-বমি বমি ভাব কিংবা বার বার বমি হওয়া।
-ক্ষুধা কমে যাওয়া ।
-অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
-ওজন অনেক বেশি কমে যাওয়া।
-সেক্স করার সময় রক্তপাত।
-সেক্স করার সময় ব্যথা পাওয়া।
-অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা ।
-নারীদের মেনোপজ হওয়ার পরেও ব্লিডিং হওয়া ।
-দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব।

বাংলাদেশে এই রোগের অবস্থা

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১১ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আর এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় পাঁচ কোটি নারী। এর মধ্যে নিরক্ষর ও যৌনকর্মীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

“লজ্জা” কি সমস্যা বাংলাদেশের নারীদের

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সি সাম্প্রতিক এক জরীপে বলছে, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি নারী জরায়ু মুখের ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। প্রতি বছর নতুন করে ১২ হাজারের মতো নারীর শরীরে এই ক্যান্সার সনাক্ত হচ্ছে। অথচ অন্য ধরনের ক্যান্সারের তুলনায় জরায়ু মুখের ক্যান্সার খুব সহজে নির্ণয় করা যায়। বাংলাদেশের নারীরা শুধুমাত্র লজ্জার কারণে তাদের সমস্যার কথা বলতে চান না।

জরায়ু ক্যান্সারের সরকারী স্বাস্থ্যসেবা

সরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রাথমিক ধাপটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সার সনাক্ত

– সাধারনত DNA অথবা Pap Test এর মাধ্যমে সম্ভাব্য জরায়ু ক্যান্সার বা Dysplasia সনাক্ত করা হয়
– DNA পরীক্ষার মাধ্যমে HPV সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়
– বায়পসির মাধ্যমে Pre-cencer বা ক্যান্সার কোষ নিশ্চিত করা হয়।

a. Paps smear test.
b. Ultasonography.
c. Biopsy.
d. CT Scan.

জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ

সচেতনতা সচেতনতা থাকলেই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পরিছন্নতা ব্যাক্তিগত পরিছন্নতা রক্ষা করা।
পয়ঃ প্রণালী সাস্থ্য সম্মত পয়ঃ প্রণালীর ব্যাবস্থা করা।
খাবার পচাঁ বাসি, খাবার না খাওয়া।

মনে রাখবেন, বিশ্বে প্রতি ২ মিনিটে একজন মা এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে করুণ ভাবে মৃত্যু বরণ করেন। আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ এই জরায়ুতে ক্যান্সার। একটা কথা মনে রাখা দরকার, জরায়ু ক্যান্সারের রোগীকে সারাজীবন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা দরকার। রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অথবা ক্যান্সারের পুনরুত্থান-ইত্যাদি কারণে রোগীকে নিয়মিত ডাক্তারের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখার নিয়ম।

রেফারেন্স

  • ১. উইকিপিডিয়া
    ২. বিবিসি নিউজ
    ৩. পরিবার পরিকল্পনা পরিষদ
    ৪. ন্যাশনাল ডাক্তার ফোরাম
    ৫. ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
    ৬. ইউনাইটেড হাসপাতাল বাংলাদেশ
  • ছবিসুত্র: ইন্টারনেট

 

ন্যান্সির সংসারে ভাঙনের পদধ্বনি


নারী সংবাদ


ন্যান্সি তার স্বামী নাজিমুজ্জামানের সাথে বর্তমানে থাকছেন না। শুধু তা না তাদের দুই সন্তান দুজনের কাছে দুই মাস ধরেই আলাদা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির সংসারে ভাঙনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ন্যান্সি জানান, স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদের সাথে দুই মাস ধরে থাকা হচ্ছে না। পারস্পরিক আলাপের মাধ্যমেই তারা পৃথক থাকছেন।

জানা গেছে, তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায়ই আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দু’জন মিলেই। ন্যান্সি তার বাসায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা দুই মাস ধরে আলাদা থাকছি। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে দেশে আসার পর থেকেই আমরা একসাথে থাকছি না। জায়েদের বাসায় সে থাকছে আর আমার বাসায় আমি। বড় মেয়ে রোদেলা থাকছেন ন্যান্সির সাথে আর জায়েদের সাথে থাকছেন ছোট মেয়ে নায়লা।

ন্যান্সি বলেন, আমাদের মধ্যে এখনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নিয়মিতই আমাদের কথা হয়। তবে আলাদা থাকার সিদ্ধান্তও আমাদের। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
সুত্র: নয়াদিগন্ত

 

জোনাক নগরের আঙিনায়…১


আফরোজা হাসান


সূর্য না থাকলে মনেহয় আমাদের জানাই হতো না নিজে ডুবে যেতে যেতেও চারিদিকে মুগ্ধময় সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণ ঘটানো যায়, তাই না? ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে আপন মনের প্রশ্নটা করলো নূরি।

নূরির পাশে বসা যায়েদও মুগ্ধ চোখে সূর্যাস্তই দেখছিল। প্রশ্ন শুনে নূরির দিকে তাকালো। একটু ক্ষণ চুপ থেকে বলল, সূর্যাস্তের প্রতীক্ষাতে উন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়। যদি এমনটা না হতো তাহলে কি হতো?

ঘুরে যায়েদের দিকে তাকিয়ে নূরি বলল, জ্বি? আপনার প্রশ্নটা ঠিক বুঝিনি আমি।

যায়েদ হেসে বলল, আমরা জানি আজকের সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে বলেই, আগামীকাল নতুন প্রভাতের আহ্বান নিয়ে হাজির হবে নতুন সূর্যোদয়। কিন্তু যদি এমনটা না হতো তাহলে কি হতো?

এবারো বুঝিনি আপনার প্রশ্ন।

বোঝনি কারণ তোমার চিন্তার ফোকাস এখন আমার কথার দিকে নেই। তুমি এখন অন্য জগতের বাসিন্দা।

এতই যখন বোঝেন তখন না প্যাঁচিয়ে সহজ কথায় বলে দিলেই তো হচ্ছে। হাসি মুখে বললো নূরি।

আমরা যদি আগামীকালের সূর্যোদয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত না থাকতাম, তাহলে কিন্তু সূর্যাস্তের সৌন্দর্য আমাদেরকে মুগ্ধ বা ভাবুক করতে পারতো না। বরং শঙ্কিত ও আতঙ্কিত করতো চির আঁধারে ঢেকে যাবার চিন্তা। তাছাড়া ডুবে যাওয়ার পথে সূর্য তো অনেক সুন্দরের স্বপ্নও দিয়ে যায়।

সেটা কিভাবে?

নক্ষত্রের রাতের স্বপ্ন! আকাশের শামিয়ানায় তারার ফুলদের বিচ্ছুরণ, জোছনার শিশির, জোনাকির টিমটিমে আলো। আরো কতো কি!

তারমানে ডুবন্ত কিছু তখনই আমাদের মনে আনন্দের আবহ তৈরি করতে পারে, যখন তার ফিরে আসার ব্যাপারে নিশ্চয়তা থাকে? যখন তার পরেও সুন্দরের আয়োজন থাকে, এই তো?

হুম, শূন্যতার সৌন্দর্য পূর্ণতার আশায় লুকায়িত।

আপনার সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসাই ঠিক না। অদ্ভুত সব তথ্য দিয়ে মনের মুগ্ধতার বারোটা বাজিয়ে দেন।

কারো সামান্য কথাতেই যে মুগ্ধতার বারোটা বেজে যায়। সেটা আসলেই মুগ্ধতা ছিল কিনা সেটা গবেষণার দাবীদার। তুমি তোমার তথ্যের দ্বারা আমার মনের একটা মুগ্ধতার বারোটা বাজিয়ে দেখাও তো দেখি!

মাফ চাই। আমি নামাজে যাচ্ছি মাগরীবের।

যাচ্ছো যাও। কিন্তু জেনে রাখো, অন্যের কথার স্রোতে যার ভালো লাগা, ভালোবাসা, পছন্দ কিংবা মুগ্ধতা ভেসে যায়। তার শেখা উচিত কিভাবে ভালোবাসতে হয়, মুগ্ধ হতে হয়।

বেশ তো! একটা ইন্সিটিউট খুলে ফেলুন আপনি। তার সামনে বড় বড় করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিন, এখানে সঠিক পদ্ধতিতে ভালো লাগা, ভালোবাসা এবং মুগ্ধ হতে শেখানো হয়।

যায়েদ হেসে বলল, তুমি যদি সেই ইন্সটিউটের ফার্স্ট স্টুডেন্ট হতে রাজী থাকো। তাহলে আজই আমি প্রজেক্ট হাতে নিয়ে নেব ইনশাআল্লাহ।

মাফ চাই।

না না এখনই মাফ চেয়ে কাজ নেই। আমি মসজিদ থেকে মাগরীবের নামাজ আদায় করে আসি। তুমিও ততক্ষণে চিন্তা-ভাবনা করে দেখো। এরপর নাহয় জবাব দিয়ো।

আর কিছু না বলে হাসি মুখে রুমের দিকে পা বাড়ালো নূরি। যায়েদও উঠে মসজিদে রওনা হলো। মাগরীবের নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষণ আম্মি আর বাপীর সাথে বসে গল্প করে যায়েদ। আজও বাপী আর আম্মির সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে রুমে এলো। নূরিকে চুপচাপ জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রচন্ড রকম বিরক্তি ভাব ঘিরে ধরলো মনকে। খানিকটা বিরক্তি মাখানো স্বরে বলল, আমার ভয়াবহ রকমের রাগ হয় কখন জানো?

প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে যায়েদের দিকে তাকালো নূরি।

যায়েদ বলল, যখন তুমি খুব কাছে থেকেও আমার সাথে থাকো না। আইমিন, শারীরিক ভাবে তো পাশে থাকো কিন্তু তোমার চিন্তা-চেতনা ব্যস্ত থাকে অন্য কিছু নিয়ে।

তখন আপনার কি করতে ইচ্ছে করে?

ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে তোমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।

হেসে ফেললো নূরি। যায়েদ চেহারায় গাম্ভীর্য ধরে রেখেই বলল, কি হয়েছে সেটা কি দয়া করে বলবে? হসপিটাল থেকে ফেরার পর থেকেই দেখছি তোমার বসবাস অন্য কোথাও। তোমার মুড যদি এমনই থাকে তাহলে দয়াকরে আমাকে আগে জানিয়ে দিও। আমি সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরবো না।

আপনি রাগ করছেন কেন? মন খারাপের সুরে বললো নূরি।

কারণ তুমি রাগ করার মতোই কাজ করো। আজ নতুন তো নয় এটা। গত আট মাসে একাধিক বার এমন হয়েছে। অন্য মানুষের চিন্তায় তুমি আমাদের সুন্দর সময় গুলোকে নষ্ট হয়ে যেতে দিয়েছো। হ্যা একসময় আমার স্বভাবে এই সমস্যাটি ছিল। এখন কিন্তু আমি বাইরের প্রভাব পড়তে দেই না আমাদের ব্যক্তিগত সময়ে।

আপনি আমার মতো হয়ে গিয়েছেন তো তাই আমি আপনার মতো হয়ে গিয়েছি। এখানে দোষ আমার না। দোষ নিউটনের তৃতীয় সূত্রের। “প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে”৷

যায়েদ হেসে বলল, তোমাকে আসলেই ছুটিতে পাঠাতে হবে বুঝেছো? ব্যাগ গুছিয়ে রাখো আগামীকাল সকালে হসপিটালে যাবার আগে তোমাকে বাবার বাসায় নামিয়ে দেবো।

এত সামান্য কারণে আপনি আমাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেবেন?

অদৃশ্য দুরুত্ব মিটিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো দৃশ্যমান দুরুত্ব অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। কাছাকাছি থেকে একে অন্যের উপর বিরক্ত হবার চেয়ে, কিছু সময়ের জন্য দূরে গিয়ে একে অন্যের ব্যাপারে এবং নিজ নিজ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা সুযোগ তৈরি করে নেয়া উচিত। যাইহোক, তোমার আর আমার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা কি জানো?

কি?

তুমি যখনই আমার কোন দোষ বলো আমি বিনা তর্কে সেটা মেনে নেই। এবং শুধু মেনে নিয়েই বসে থাকি না। সেটাকে রিকোভার করার চেষ্টা করি। কিন্তু তোমাকে কিছু বললে প্রথমত তুমি মনখারাপ করো, এরপর যুক্তি দেখাও তোমার আচরণের পেছনে, সবশেষে গাল ফুলিয়ে বলো, এটুকু তো আপনি মেনে নিলেও পারেন।

ঠিকই তো মেনে নিলেই তো পারেন। আমি তো কখনোই নিজের জন্য অস্থির হই না।

এখানেই তো আপত্তি আমার। অন্যের জন্য তোমার অস্থিরতা আমি কেন মেনে নেবো? দাম্পত্য জীবনে কম্প্রোমাইজ করতে হয় এটা নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই। প্রয়োজনে কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইস করতেও আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এসব আমি করবো আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অমিল বা সমস্যার ক্ষেত্রে। যাতে আমাদের সম্পর্ক আরো সুন্দর ও সহজ হয় সেই উদ্দেশ্যে। বাট অন্যদের সমস্যা কারণে তোমার এলোমেলো মুডের জন্য অবশ্যই আমি কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইস করবো না। কেননা এই ধরণের কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইসই একসময় গিয়ে আমাদের দুরুত্ব ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

হুম্ম!

তোমার হুম্ম বলার ধরণই জানিয়ে দিচ্ছে আমার কথাতে তুমি সন্তুষ্ট নও। তুমি চাও নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা স্বভাবের মানুষদের জন্য তোমার তৈরি ‘দুর্দশা দমন কমিটিতে’ আমিও নাম লেখাই। বাড়ির বাইরে সারাক্ষণ আমি এই কাজটিই করি। সুতরাং, বাড়িতে আমি শান্তি চাই। সাউন্ড স্লীপ শান্তি।

নূরি হেসে বলল, শান্তি আবার সাউন্ড স্লীপ হয় কিভাবে?

যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সমঝদারির বন্ডিংটা এতখানিক দৃঢ় হয় যে, বাইরের মানুষদের অকারণ হৈ-হুল্লোর তাতে কোন প্রভাবই ফেলতে পারে না। সেটাই হচ্ছে দাম্পত্য প্রশান্তি।

আমাদের উপর কবে কার প্রভাব পড়লো? অবাক কন্ঠে প্রশ্ন করলো নূরি।

এখনো পড়েনি। কিন্তু তুমি যে পথে চলছো তাতে খুব শিঘ্রীই যে পড়তে শুরু করবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ তুমি যুক্তি মানি কিন্তু তালগাছ আমার স্বভাবের মানুষ।

হায় আল্লাহ! এক বসাতে আর কত অপবাদ চাপাবেন আপনি আমার উপর? আমি কবে তালগাছ নিয়ে যুক্তিতর্ক করলাম আপনার সাথে?

এই যে তোমাকে যখনই বোঝাতে যাই তুমি হুম্ম বলো। এরপর যা করছিলে সেটাই করতে থাকো। এর মানে কি?

আপনিই বলেন কি এর মানে?

এরমানে আমার যুক্তিতে তোমার কোন আপত্তি নেই। আবার একই সাথে নিজের করণীয়তেও তোমার পূর্ন সম্মতি বিদ্যমান। অন্যেকে নিয়ে চিন্তাভাবনার ফলে আমাদের ব্যক্তিগত সময় নষ্ট হচ্ছে, হয় এটা তুমিও জানো। কিন্তু তাই বলে তুমি অন্যেদের নিয়ে ভাবনা ছেড়ে দেবে না। বরং তুমিও সঠিক সেই ব্যাপারে আমাকে কনভিন্স করার চেষ্টা করবে।

আপনি আমাকে কি করতে বলছেন? আমার সামনে কেউ সমস্যাগ্রস্ত থাকবে, কষ্টে থাকবে আর আমি দেখেও না দেখার ভান করবো?

তোমার সাথে অনর্থক কথা বলার চাইতে ঘুমোনো উত্তম। কথা শেষ করেই হাত বাড়িয়ে রুমের বাতি নিভিয়ে দিয়ে চাদর টেনে নিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো যায়েদ।

অন্ধকারের মাঝেও বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে যায়েদের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলো নূরি। এরপর ধীরে ধীরে বলল, বিরুপ পরিস্থিতিতে আপনজনদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া অনেক সহজ। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যার মোকাবিলায় ভূমিকা রাখাটা হচ্ছে কঠিন। সবসময় হয়তো চাইলেও সম্ভব হয়না কাউকে তার সমস্যা থেকে বের করে নিয়ে আসা। কিন্তু এর ফলে সমস্যায় পতিত ব্যক্তির মনে অন্তত এইটুকু স্বস্থি থাকে যে সে একা নয়। কেউ আছে তার পাশে ঝড়ের মোকাবিলায়। আমরা যদি কোন প্রিয়জনকে বৃষ্টি কিংবা খরতাপ থেকে বাঁচানোর জন্য ছাতা নিয়ে ছুটে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াই। কখনো কি সম্ভব বৃষ্টির কিছু ফোঁটা কিংবা রোদের একটুও তাপ গায়ে না লাগিয়ে এমনটা করা? তাহলে এমন আশা কিভাবে করি যে, কারো মানসিক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধতা সময় পাশে গিয়ে দাঁড়াবো। কিন্তু আমাদের মন থাকবে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত? কন্দনরত কারো পাশে যদি হাসি মুখে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই সেটাই কি অস্বাভাবিক হবে না? আবার বেদনাক্ত কারো পাশ থেকে উঠে এসেই যদি আনন্দ উল্লাসে মগ্ন হয় কেউ, তাকে মুখোশধারী বা হিপোক্রেট ভাবাটাই স্বাভাবিক নয়?

নূরির কথা চুপচাপ শুনছিল যায়েদ। নূরি থামার পর হাত বাড়িয়ে বাতি জ্বালিয়ে উঠে বসে বলল, তুমি ঠিক কি বোঝাতে চাইছো না প্যাঁচিয়ে সহজ করে বলো।

আমি এটাই বলতে চাইছি যে আপনজনদের দুঃখে যদি আমাদের জীবনে কোন প্রভাবই না পড়ে। আমাদের জীবনের সবকিছু যদি স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে। তারমানে আমরা আসলেই তার আপন কেউ কিনা সেটা গবেষণার দাবী রাখে।

আমার কি মনে হয় জানো?

কি?

তোমার কথা মেনে নেবার আগ পর্যন্ত যে পরিমাণ নিষ্ঠার সাথে তুমি আমার পেছনে লেগে থাকো। এতে সন্দেহের কোন অবকাশই নেই যদি নেপোলিয়নের যুগে তোমার জন্ম হতো, তাহলে অধ্যবসায়ের উদাহরণে মাকড়সার বদলে তোমার নাম ব্যবহৃত হতো। ছোট ছোট শিশুরা অধ্যবসায় রচনায় মাকড়সা নয় নূরির পুনঃ পুনঃ চেষ্টার কাহিনী পড়ে উৎসাহিত হতো।

হেসে ফেলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো নূরি। গাল ফুলিয়ে আদুরে কন্ঠে বলল, আমার সম্পর্কে আপনার ধারণা এমন?

যায়েদ হেসে বলল, নূরি মনে আছে তুমিই আমাকে একদিন বলেছিলে যে, কেউ যখন আমাদের পাশে থাকে তখন তার কথা ও কাজের দিকে মনোযোগ না দেয়াটা এক অর্থে তাকে অসম্মান করা। তোমার এই কথাটাকে আমি প্রচন্ড রকম সিরিয়াস ভাবে নিয়েছিলাম। যা আমাকে আমার এই বদভ্যাসটা থেকে বেড়িয়ে আসতে সহায়তা করেছিল। কারণ আমি নিজেও ফিল করেছিলাম আসলেই এটা খুবই অশোভন কিছু। একজন মানুষ আমার পাশে বসে কথা বলছে অথচ আমি সম্পূর্ণ রূপে তাকে ইগনোর করে নিজের ভাবনাতে মশগুল। আর এই ব্যাপারটা সেই ব্যক্তির জন্যও বেদনাদায়ক যে খুব আশা করে তার মনের কথা প্রিয় কারো সাথে শেয়ার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই প্রিয়জন তার কথাটা শুনে দেখার প্রয়োজনও বোধ করেনি।

জ্বি আমি এই বেদনার সাথে পরিচিত।

তাহলে সেই বেদনা অন্যেকে কেন দাও? অভিজ্ঞতা আনন্দময় হোক কিংবা বেদনাদায়ক। জীবনকে সেটা প্রয়োগ করার জন্যই তো, তাই না?

আই এম সরি।

হাত বাড়িয়ে নূরিকে কাছে টেনে নিয়ে যায়েদ বলল, এই বিষয়গুলো খুব সিম্পল নূরি। আমরা তাই তেমন গুরুত্ব দিয়ে ভাবি না অন্যের প্রতি আমাদের এই অবহেলা সমূহকে। অথচ সত্যি কথা হচ্ছে, এমন ছোট ছোট বিষয়গুলোর প্রতি এক্সট্রা কেয়ারই সম্পর্কের মধ্যে মাধুর্য বৃদ্ধি ও অক্ষুণ্ণ রাখে। আমি তাই কখনোই চাই না অন্য কোন ভাবনার গোলকধাঁধায় মগ্ন থেকে আমরা পরস্পরের প্রতি বেখায়ালী আচরণ করি।

আমিও এমনটা চাই না। কখনোই চাই না।

আমি জানি তুমি চাও না। সাথে সাথে আমি এটাও জানি যে, সবসময় নিজের ভাবনার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব নয় আমাদের দ্বারা। তাই আজ আবারো বলছি তোমার যদি কখনো ভালো না লাগে, কথা বলতে ইচ্ছে না করে, এমন কোন বিষয় যদি থাকে যা তুমি আমার সাথে শেয়ার করতেও ইচ্ছুক নও। আমাকে সরাসরি বলবে। আমি তোমাকে সময় দেব এবং তুমি নিজেকে গুছিয়ে নেবার আগ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষাও করবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যখন আমরা একসাথে সময় কাটাবো তখন তোমার কোন ধরণের বিষণ্ণতা, উদাসীনতা আমি মেনে নেব না। যতক্ষণ তুমি আমার সাথে থাকবে হান্ডেড পার্সেন্ট ফোকাস থাকতে হবে তোমাকে। তুমি এমনটা ভেবো না যে আমি তোমার উপর এটা চাপিয়ে দিচ্ছি। কারণ আমি নিজেও তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মূহুর্তে ফোকাস থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করি। সো এই একই নিয়ম আমার জন্যও।

নূরি বলল, আমি বুঝতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ আমি খেয়াল রাখবো।

যায়েদ হেসে বলল, এই তো গুড গার্ল। এখন তাহলে চলো ঘুমোনোর আয়োজন করা যাক!

নূরি হাসি মুখে বলল, জ্বি।

চলবে….

 

নববধূকে ধর্ষণে সহায়তা করলো স্বামী!


নারী সংবাদ


মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক নববধূকে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপর ঘটনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম কোলাপাড়া গ্রামে স্বামীর সহযোগিতায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রায় তিন মাস আগে উপজেলার কোলাপাড়া গ্রামের মৃত বাছের শেখের ছেলে আজিজুলের সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার শ্যামসিদ্ধি গ্রামের ওই নারীর। স্বামী আজিজুলের শারীরিক অক্ষমতার কারণে বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো দৈহিক ও শারীরিক সম্পর্ক হয়নি।

এক পর্যায়ে স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার কারণে সংসার না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিয়ের সময় দেয়া যৌতুকের টাকা ও অন্যান্য উপঢৌকন ফিরিয়ে দিতে বলেন ওই নারী। স্বামী আজিজুল যৌতুক ফিরিয়ে না দেয়া ও তার শারীরিক অক্ষমতা বাইরে যাতে প্রকাশ না হয় সে বিষয়ে ভিন্ন কৌশলের পরামর্শ নেন তার আপন মামা সিদ্দিকের কাছে।

সিদ্দিকের পরামর্শ অনুযায়ী আজিজুল তার আপন খালা ও খালাতো ভাই নুরুল ইসলামকে কোলাপাড়ায় তার নিজ বাড়ির একটি ঘরে রাত্রি যাপন করান। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে নুরুল ইসলামের মা মাথা ব্যাথার মলম নেওয়ার কৌশলে ঘুমন্ত আজিজুল ও তার স্ত্রীকে ঘরের দরজা খুলতে বলে।

পরামর্শ ও পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আজিজুল তার নিজের ঘরের দরজা খুলে দেয়। ঘরের ভিতর ঢুকে নুরুল ইসলামের মা, নুরুল ইসলাম ও আজিজুল সবাই মিলে ওই নারীকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। এরপর নুরুল ইসলাম, ধর্ষিতার স্বামী আজিজুল ও নুরুল ইসলামের মা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন অংশের কাপড় কেটে তাকে উলঙ্গ করে ফেলে। এর পর নুরুল ইসলাম হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতার স্বামী আজিজুল এই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে থাকে।

অপরদিকে একই রাতে উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ পাইকসা গ্রামের এক স্কুলছাত্রী রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে একই গ্রামের মাজেদ শেখের বখাটে ছেলে রাকিব হাসান (২৫) ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। পরে কোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ধর্ষক রাকিব হাসানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইউনুচ আলী জানান, দুটি ঘটনায়ই আলাদা আলাদা ভাবে দুটি মামলা হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য স্কুলছাত্রীকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আর নববধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গৃহবধূর স্বামী ও স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নববধূর ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সুত্র:নয়াদিগন্ত।

 

‘অপরাজিতাবিডি’ ২০১৮ সালের সালতামামি

 


নারী সংবাদ


২০১৮ সালের সালতামামি লেখার চেষ্টা। ২০১৮ সাল কেমন গেল— এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে প্রথমে আমাদের অনলাইন ম্যাগাজিন ‘অপরাজিতাবিডির’ এ বছর সম্পর্কে একটু ছোট্ট ধারণা দিতে চাই।

এ বছর ১৬টি ক্যাটাগরি ঠিক করা হয়।
উল্লেখযোগ্য ক্যাটাগরি গুলো হল, অপরাজিতা/ মেইক ইউরসেলফ/ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স/ঘরকন্যা/ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা/প্যারেন্টিং/নারীর জন্য আইন/স্বাস্থ্যকথা/নারী সংবাদ/ মনের জানালা/সাহিত্য/ দাম্পত্য /কি পড়বেন, অন্যান্য ।

এ বছরের উল্লেখযোগ্য পোস্ট হল,

অপরাজিতা

১.অধ্যাপিকা চেমন আরা

অধ্যাপিকা চেমন আরা

২.বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফরিদা হোসেনের সাক্ষাৎকার

বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফরিদা হোসেনের সাক্ষাৎকার

দাম্পত্য

১.দাম্পত্য জীবনের কিছু কথা

দাম্পত্য জীবনের কিছু কথা

২.বৈবাহিক সমস্যা ও কোরআনের সমাধান

বৈবাহিক সমস্যা ও কোরআনের সমাধান -৫

৩.দাম্পত্য জীবনে দুইটা ব্যাপার

দাম্পত্য জীবনে দুইটা ব্যাপার

প্যারেন্টিং

১.খেলনার বদলে শিশুর মোবাইল চাই!

খেলনার বদলে শিশুর মোবাইল চাই!

২.ভাল প্যারেন্টিং এর জন্য ৫টি টিপস

ভাল প্যারেন্টিং এর জন্য ৫টি টিপস

৩.নবজাতকে দেখতে যাবার সময় কি করবেন

নবজাতকে দেখতে যাবার সময় কি করবেন

মনের জানালা

১.অনাবিল এক প্রশান্তি

অনাবিল এক প্রশান্তি

২.‘গায়ের রঙ এবং আমাদের মানসিকতা’

‘গায়ের রঙ এবং আমাদের মানসিকতা’

৩.জ্ঞানার্জন আমাকে বিনয়ী করছে তো?

জ্ঞানার্জন আমাকে বিনয়ী করছে তো?

স্বাস্থ্যকথা

১.শিশুর ডায়াবেটিকস ঝুঁকি

শিশুর ডায়াবেটিকস ঝুঁকি

২.‘মাথাব্যথা আর সমস্যা নয়’

‘মাথাব্যথা আর সমস্যা নয়’

৩.স্তন ক্যানসার : সচেতনতাই যার প্রতিকার

স্তন ক্যানসার : সচেতনতাই যার প্রতিকার – ২য় পর্ব

৪.‘প্রেগনেন্সি’

‘প্রেগনেন্সি’

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

১.শুধু প্রণোদনা নয়, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণও প্রয়োজন

শুধু প্রণোদনা নয়, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণও প্রয়োজন

২.‘নিজের কাজকে সন্মান করুন’

‘নিজের কাজকে সন্মান করুন’

৩.“আমাকে পারতেই হবে”

“আমাকে পারতেই হবে”

মেইক ইউরসেলফ

১.সুন্দর কথা হল ‘শিল্প’

সুন্দর কথা হল ‘শিল্প’

২.কিভাবে স্মার্ট হবেন?

কিভাবে স্মার্ট হবেন?

৩.ব্যক্তিত্ব প্রকাশে হাসির ভূমিকা

ব্যক্তিত্ব প্রকাশে হাসির ভূমিকা

৪.‘ফটোগ্রাফি নারীদের কি ক্যারিয়ার হতে পারে’

‘ফটোগ্রাফি নারীদের কি ক্যারিয়ার হতে পারে’

সাহিত্য

১.“কৃষ্ণচূড়ার কিশোরী জীবন”

“কৃষ্ণচূড়ার কিশোরী জীবন”

২.সুবহে সাদিক

সুবহে সাদিক

৩.ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

কি পড়বেন

১.বুক রিভিউ – ‘সফলদের স্বপ্নগাথা’

বুক রিভিউ – ‘সফলদের স্বপ্নগাথা’

২.বইয়ের নামঃ জ্ঞানতাপস ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

বইয়ের নামঃ জ্ঞানতাপস ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

৩.কাবিলের বোন

কাবিলের বোন

কয়েকটি পোস্ট জানলে পুরো ম্যাগাজিন সম্পর্কে জানা যাবে। অর্থাৎ ভাতের একটা দানা টিপে সব ভাত সিদ্ধ হয়েছে কিনা দেখা।

এ বছরটি  বিস্তর নারী সাফল্য সম্পর্কে পড়েছি, লেখালেখি করেছি। আশা করি স্বল্প পরিসরে নারীর সাফল্য ও নারী নির্যাতনের একটা চিত্র খুঁজে পাবেন।

নারীর সাফল্য

নারী শিক্ষা

সরকারের গত ৯ বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশে নারী শিক্ষার হার ৫০ দশমিক ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ছাত্রছাত্রীর প্রায় ৫১ শতাংশ, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৪ শতাংশ, এইচএসসি পর্যায়ে ৪৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ ছাত্রী। নারীশিক্ষার হার বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯ নম্বরে।

প্রথম নারী মেজর জেনারেল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী মেজর জেনারেল হয়েছেন সুসানে গীতি। ২০১৮ সালে এটিও নারীর উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে একটি।

টু ফিঙ্গার টেস্ট নিষিদ্ধ

ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য আগে টু ফিঙ্গার টেস্ট ব্যবহৃত হতো। বিগত বছর টু ফিঙ্গার টেস্ট নিষিদ্ধ করেছেন হাইকোর্ট। ধর্ষণ প্রমাণে শারীরিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই টেস্টের কোনো বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। তাছাড়া ধর্ষণের ক্ষেত্রে পিভি টেস্ট নামে বায়ো ম্যানুয়াল টেস্ট করাও নিষিদ্ধ করেছেন হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীর স্বাস্থ্যগত সেবাসহ অন্যান্য সেবা সবার আগে নিশ্চিত করার ব্যাপারটিও ২০১৮ সালেই কার্যকর হয়েছে।

নারী উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

নারী উন্নয়ন ও সমতার লক্ষ্যে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDG) ও দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের (NSAPR) আলোকে নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নকল্পে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

নারী নির্যাতনের চিত্র

২০১৭ সালের চিত্র…..

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০১৭ সালের নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান মতে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৭৯, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫৫, উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ২৫৫ জনকে। এ বছর এ পর্যন্ত নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৭ জন। ২০১৬ সালে ছিল ১ হাজার ৪৫৩ জন। এ বছর তা বেড়েছে। গ্রন্থনা : রীতা ভৌমিক, আবুল বাশার ফিরোজ ও শিল্পী নাগ।

২০১৮ সালের চিত্র….

২০১৮ সালে প্রথম ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৪৬ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছেন ৫৩ জনকে। আর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪১ জন নারী। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র ২০১৮-এর সমীক্ষায় এসব তথ্য তুলে ধরে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৬৫ জন নারী, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১৫ জন নারীকে এবং শ্লীলতাহানির শিকার ৫৫ জন নারী। এ ছাড়া উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ১৪০ জন নারী এবং উত্ত্যক্তে শিকার হওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন নারী।