banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

“কৃষ্ণচূড়ার কিশোরী জীবন”


আবু হেনা মোস্তফা কামাল পিন্টু


কৃষ্ণচূড়া গাছ কতদিন বাঁচে? যতটা দিন তাতে কুঠারাঘাত না পড়ে? যে কিশোরী জীবন দেখেছে কৃষ্ণচূড়ার লালে, ফাগুন চিনেছে কৃষ্ণচূড়ার জাগরনে এবং সেই দেখা আর চেনা বয়ে চলেছে গোটা জীবনভর, কৃষ্ণচূড়ারা কি ঐ কিশোরীর জীবনেও বাঁচে না! জীবনকালব্যাপী বাঁচে না! কষ্টে উঁকি দেয়, সুখে দোলা দেয়, স্বস্তিতে দেয় উদাস! প্রথম যেদিন কৃষ্ণচূড়ার লালে অবাক হয় কিশোরী সেই মুহূর্তটি, সেই স্থানটিও কি বাঁচতে থাকে না কিশোরীর জীবনভর? হোক সে মাঠের ধার বদলে পাকা রাস্তা, হোক সে খালের উপরের সাঁকোটি আজ কালভার্টের চেহারায়, থাকলোই বা সে কিশোরী আজ শত ক্রোশ দূরের কংক্রিটের রাস্তার পাশে ন্যাড়া কৃষ্ণচূড়ার দিকে তাকিয়ে.. তবুও আমি নিশ্চিত, সে কিশোরী সেখানে থাকে না; যেখানে সে থাকছে।
এ তো এক অনাদিকালীন অদৃশ্য মনোদূর্ঘটনা। বারবার জিদ আর আবেগের সংঘর্ষ। কৃষ্ণচূড়া ভূপাতিত সেই কবে! জানতেও পারেনি কিশোরী। যখন কিশোরী সংসারে ঢোকার ক’বছর পর নিঃশ্বাস নিতে কৈশোরে ফিরেছিল..। বাস থেকে নেমে ভ্যানে করে পা ঝুলিয়ে মন দুলিয়ে বাড়িতে পৌঁছেই সোজা গিয়ে মাঠের ধারে, খালের পাড়ে। ঘাড় উঁচিয়ে, বাঁকিয়ে বিভিন্ন উপায়ে নোনতা স্বাদের হাহাকার আর ঘন নিঃশ্বাসের পতন নিয়েও খুঁজে কৃষ্ণচূড়াকে পায়নি। খুব মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছিল এই ভেবে যে, কিশোরীবেলাটা কি তবে তার সত্যিই হারিয়ে গেছে? প্রশ্নটা কাকে যে করতে পারা যাবে সে উত্তরও পায় না। বিষন্ন মনে ভাবে কালই শহরে ফিরে যাবে সে। সংসারে ঢুকে যাবে। তাহলে আর কোনো প্রশ্নই জন্মাবে না মাথায় মনে।
গ্রীষ্মের দুপুরে উঁচুতলার জানালার শার্সির ভেতর দিয়ে চোখ ছড়িয়ে দেবে দূরের কোনো শহুরে কৃষ্ণচূড়ায়; ধুলোয় যেখানে লাল কিছুটা বয়সী, ফিকে আর ক্লান্ত। উদাস হবে, আনমন হবে, বুকের ভেতর ঢেউ জাগলে কিছুটা কেঁদেও নেবে। কেউ তো আর দেখছে নাহ্! কিন্তু কোনদিন আর গ্রামে ফিরে গিয়ে কৈশোরের কৃষ্ণচূড়াটিকে খুঁজবে না। স্থিরসংকল্প করে। শুধু কোথায় কোন্ স্থানটিতে সে দাঁড়িয়ে ছিল সেই স্থানটিকে স্মরণের আবরণে যত্নে ঢেকে রাখবে। কোন্ টানে আর গ্রামে ফিরবে সে! কৈশোরের কৃষ্ণচূড়া, যে তাকে অপার মায়ায় রঙ চিনিয়েছিল, যে লালের সাথে মিলেমিশে নিজের রক্তলাল বয়ঃসন্ধি বুঝতে শিখিয়েছিল, সে কৃষ্ণচূড়া আজ আর নেই, সাথে তার কৈশোরবেলাটাও নেই। সব হারিয়ে গেছে!
তবুও কিশোরী কোনো এক অদৃশ্য সামর্থ্যে কল্পলোকে ভাসতে থাকে। ডোবে গহীন ঘোরের অতলে। মানষচোখে স্পষ্টতই দৃশ্যমান কৃষ্ণচূড়া। মূল থেকে শরীর বেয়ে প্রতিটি ডালপালা, পাতার শেষ প্রান্ত অবধি চাহনির ভ্রমন..। টের পেতে থাকে কিশোরী… বুকের ভেতর কালভার্টটি নিমিষেই বিলীন; দিব্যি সাঁকো পার হয়ে পৌঁছে গেছে কৈশোরে.. কৃষ্ণচূড়াটি জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছে, আকাশে ছোপ ছোপ রক্ত বিছিয়ে, অসংখ্য আগুন ছেয়ে আছে আকাশ জুড়ে..। প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া কিশোরীর দিকে হাত বাঁড়িয়ে কাছে ডাকছে আর বলে চলেছে, “ও মেয়ে, আলতা নেবে গো আলতা…”
ঝরঝর করে গড়িয়ে নামা নোনতা চোখের জল মুছতে আঁচল তোলে কিশোরী। ওদিকে উনুনে চাপানো প্রেশার কুকারের সিটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে।

 

স্ত্রীর অপমানের প্রতিশোধে লাঞ্চিত স্বামী, অতঃপর গলায় ফাঁস


নারী সংবাদ


ঢাকার শহরতলী আশুলিয়ায় টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক তৈরীর কারখানায় নারী পোশাক শ্রমিক সাবিনা খাতুন মীম (২০) তার স্বামীকে ফোন করায় কর্মকর্তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। বিষয়টি ওই নারী পোশাক শ্রমিকের স্বামী অনিক মিয়া জানতে পেরে কারখানায় গিয়ে এর প্রতিবাদ করে। পরে কারখানার ৫ কর্মকর্তা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করলে বাসায় গিয়ে সে লজ্জায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ওই কারখানার ৫ কর্মকতার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং ৩২) দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আশুলিয়ার সাধুপাড়া টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় আসামীরা হলো- টর্ক ফ্যাশন লিঃ এর এ্যাডমিন অফিসার পিন্টু (৫০), সহকারি এ্যাডমিন অফিসার রুবেল, ফ্লোর ইনচার্জ হারুন (৪৫), সুপারভাইজার পারভেজ এবং অপারেটর রাকিব (২৫)।

নিহত অনিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন আড়াইসিদা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে এবং সে স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার মনিরের ভাড়া বাড়িতে থেকে রং মিস্ত্রীর কাজ করতো। তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার টর্ক ফ্যাশন লিঃ কারখানার অপারেটর পদে চাকুরী করে।

নিহত অনিকের স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় তার স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলেন। বিষয়টি কারখনার এ্যাডমিন অফিসার পিন্টুসহ পারভেজ, রুবেল, রাকিব ও হারুন দেখতে পেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় মোবাইলে তার স্বামী গালিগালজ শুনতে পান। পরে অনিক কারখানার গেইটে স্ত্রীকে আনতে যায়। এসময় কারখানার ওই কর্মকর্তারা অনিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং হুমকি দেয়।

এতে অনিক অপমানিত হয়ে বাসায় ফিরে যায়। এরপর আবার দুপুর ১টায় পূণরায় তাকে আনতে যায় অনিক। বিষয়টি ওই কর্মকর্তারা জানতে পেরে আবারও তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে অনিক বাসায় গিয়ে ঘরের আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে তুরাগ থানা এলাকার ইষ্ট ওয়েষ্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনায় বুধবার রাতেই আশুলিয়া থানায় ওই কারখানার ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় থানায় হত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সুত্র: নয়াদিগন্ত।