banner

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ইং, ,

Daily Archives: January 16, 2026

 

প্রতিবেশিনী…৫


আফরোজা হাসান


বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকা মাহামের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেললো আয়ান। ইচ্ছে করেই খানিকটা লম্বা ও শব্দ করে দীর্ঘশ্বাসটা ফেললো যাতে মাহামের ধ্যানভঙ্গ হয়। কিন্তু তাতেও ধ্যানমগ্নতায় বিন্দুমাত্র বিঘ্ন না ঘটলো না। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বইয়ের সাথে এমন বন্ধনে জুড়েছে যে বইয়ের ঘটনাপ্রবাহের রেশ ফুটে উঠছে চেহারা জুড়ে। কাজ করতে করতে অনেকক্ষণ থেকেই মাহামের চেহারার বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি খেয়াল করছিল আয়ান। সাথে সাথে আরেকটা জিনিসও খেয়াল করলো আজ আবারো। কোন কিছুতেই মাহামের কোন অভিযোগ নেই। বাসায় ফিরতে দেরি হবে বলে যাবার পর যেমন হাসিমুখে অভ্যার্থনা জানায়, না বলে দেরি করে ফিরলেও একইরকম হাসিমাখা চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। এই যেমন আজ বাসায় ফিরেই ঘোষণা দিয়েছিল অনেক কাজ সাথে করে নিয়ে এসেছে। এখন সেসব করতে হবে। তাদের বাইরে যাবার প্ল্যান ছিল। আয়ান ভেবেছিল সামান্য হলেও মনখারাপ করবে মাহাম। কিন্তু হাসি মুখে চা-নাস্তা দিয়ে চুপচাপ বই নিয়ে পাশে বসে গিয়েছে। কোন অভিযোগ নেই, অভিমান নেই। ভালো লাগে, খুব বেশি ভালো লাগে যে কোন পরিস্থিতিতেই মাহামের সাপোর্টিভ আচরণ। কিন্তু মাঝে মধ্যে কেমন যেন পানসা পানসাও মনেহয়। দাম্পত্যজীবনে অল্পস্বল্প অভিযোগ, অনুযোগ, অভিমান থাকাটা মন্দ না। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করা, স্পেস দেয়ার অর্থ এমনটা আবার নয় যাইকিছু করা হবে চুপচাপ মেনে নিতে হবে সর্বদাই। মেনে নেবার সাথে সাথে পরস্পরের তরে মানিয়ে চলার অপশনও রাখা উচিত। গিট তখনই মজবুত হয় যখন দুইপাশ থেকে টানা হয়। সম্পর্কের বন্ধনের মজবুতির জন্যও উভয় পক্ষেরই সরব অংশগ্রহণ জরুরি। একজনের নিশ্চুপ স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজ বন্ধনের প্রাণচাঞ্চল্য, উচ্ছ্বলতা হ্রাস করে দিতে পারে। এই ব্যাপারটা নিয়ে অতি দ্রুত কথা বলতে হবে মাহামের সাথে। আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, তারপর..

গভীর মনযোগ সহকারে আয়ানের আনা নতুন বইটা পড়ছিল মাহাম। ‘তারপর’ শব্দটা কানে আসতেই বই থেকে চোখ তুলে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, তারপর কি?

আয়ান হেসে বলল, তোমাদের দুই বোনের প্রতিবেশিনী প্রতিবেশিনী খেলা শেষ তাহলে? আমি কিন্তু বেশ উপভোগ করছিলাম তোমাদের দুজনের প্রতিবেশিনী মূলক কর্মকান্ড।

মাহাম হেসে বলল, এই কথা যদি শাবাবের কানে যায় নির্ঘাৎ আবারো বোন থেকে প্রতিবেশিনীতে রুপান্তরিত হয়ে যাবে। তবে আমিও কিন্তু বেশ এনজয় করেছি। শাবাবের সাথে হাসি-আনন্দের ছলে প্রতিবেশীর হক আদায় সহ ইত্যাদি সবকিছু খেয়াল রাখতে যেয়ে একটা পরিকল্পনাও নিয়েছি গত কয়েকদিনে। তোমার সাথে শেয়ার করবো করবো করেও করা হয়ে ওঠেনি।

এখন করে ফেলো শেয়ার তোমার পরিকল্পনা।

মাহাম হেসে বলল, শাবাবের স্বভাব তো তোমার জানাই আছে। মানুষ সামাজিক জীব। একা একা বাস করতে পারে না। এর জীবন্ত উদাহরণ হচ্ছে শাবাব। আমাদের এপার্টমেন্টের প্রায় সব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সাথেই কম বেশি পরিচয়, যোগাযোগ, যাতায়াত আছে শাবাবের। ওর সাথে সাথে আমারও সৌজন্যমূলক পরিচয়, দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা হয়েছে, হয় অনেকের সাথেই। মানুষের দোষ অনুসন্ধানের অভ্যাস আমার নেই। সবার মধ্যে থেকে ভালো কিছু খুঁজে নেবার চেষ্টাই করি সবসময়। কিন্তু না চাইতেও অনেকের মাঝেই কিছু না কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। আমি কি দু’একটা উদাহরণ দেবো তোমার বোঝার সুবিধার্থে?

আয়ান হেসে বলল, হ্যা দাও।

যেমন, এক বোন আছেন সারাক্ষণ ই বাচ্চাদেরকে অকারণ শাসন-শোষণের মধ্যে রাখেন। উনার বাচ্চাদেরকে দেখলেই বোঝা যায় মাকে প্রচন্ড ভয় পায়। বাবা-মা সন্তানের তরে প্রশান্তির অপর নাম। বাবা-মাকে দেখে যদি সন্তানরা আতঙ্কিত বোধ করে তাহলে কোথায় যাবে প্রশান্তির সন্ধানে? তাছাড়া বাবা-মার সাথে সন্তানদের সুন্দর সম্পর্কের উপর নির্ভর করে সন্তানদের সুন্দর আগামী। কিন্তু ঐ বোনটি হয়তো না বুঝেই কিংবা সন্তানদের কল্ল্যাণের নিয়্যাতে নিজের অজান্তেই উনার সন্তানদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ব্যহত করছেন চরমভাবে। আরেকজন মাকে দেখেছি একেবারেই উদাসীন বাচ্চার ব্যাপারে। প্রায়ই দেখি উনার বারো বছর বয়সী মেয়েটাকে বাসায় একা রেখেই এদিক ওদিক চলে যান। উনার বাসায় আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা খুব। এমন না যে সবাইকেই অবিশ্বাস করতে হবে। কিন্তু সচেতন থাকাটাও জরুরি বাচ্চার ব্যাপারে। আমার মনে হয়েছে এই দুই বোনকে হেলদি প্যারেন্টিং সম্পর্কে বুঝিয়ে বলাটাও প্রতিবেশীর হকের মধ্যে পরে। ছোট্ট একটা ছেলে আছে আরেক বোনের। দেখা হলেই বাচ্চাকে বলে আন্টিকে হ্যালো বলো। শুনলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদেরকে সালামের অভ্যাস করতে হয়। যে শিক্ষাটা পরিবার থেকে পাচ্ছে না বাচ্চাটা। তারপর আমাদের মতোই নিউলি ম্যারেড এক ক্যাপল আছে। মাঝে মাঝেই মেয়েটাকে দেখি বারান্দায় বসে উদাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ওকে সুখী দাম্পত্য জীবনের টুকটাক টিপস দেয়াটাও নিজের দায়িত্ব বলে মনেহয়।

আচ্ছা।

আচ্ছা মানে কি?

আচ্ছা মানে হচ্ছে, আমরা তাহলে নিউলি ম্যারেড ক্যাপল?

মাহাম হেসে বলল, কেন মনে নেই বুঝি?

কিভাবে থাকবে বলো? মনে থাকার মতো কিছু তো আমার নিউলি ম্যারেড ওয়াইফ করে না।

যেমন?

যেমন, কোন ব্যাপারে কোন আবদার নেই, কোন বিষয়ে কোন অভিমান নেই, অভিযোগ নেই। হাজবেন্ডের ব্যস্ততাকে বিশেষ করে বাসায় এসে কাজ করাকে মেয়েরা নাকি সতীনের মতো ভাবে। কিন্তু আমার নিউলি ম্যারেড ওয়াইফ তো তার হাজবেন্ডের কাজকে নিজের সখী ভেবে নিশ্চিন্তে তার পাশে বসে লাভস্টোরি পড়ছে।

মাহাম হাসতে হাসতে বলল, আসলেই যে যা পায় তা চায় না। যা পায় না সেটা নিয়েই আপসোস, আহাজারি করে। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ বড়ই অতৃপ্ত প্রাণী। কোন অবস্থাতেই মানুষ তৃপ্ত হতে পারে না সম্পূর্ণ রূপে। একটা যাওয়া পূরণ হতে না হতেই আর না পাওয়ার হিসাব কষতে শুরু করে আবারো অপ্রাপ্তিতে গা ভাসায়।

হুম, সেটা ঠিকআছে। কিন্তু তোমার আমার মধ্যে হঠাৎ করে পুরো মনুষ্যজাতি চলে এলো কেন?

উপযুক্ত কারণেই এসেছে।

যেমন?

যেমন, আজ সকালেও ইলমা ফোন করে কান্নাকাটি করেছে কিছুক্ষণ। ওর হাজবেন্ড গতরাতে আবারো ওর গায়ে হাত তুলেছে। কারণ সেই একটাই। দেরি করে বাসায় ফিরেছে কেন এই প্রশ্ন করা মাত্রই ইলমার হাজবেন্ড রেগে গিয়েছে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গায়ে হাত তুলেছে। ইলমা খুব ভালো করেই জানে ওর হাজবেন্ড দেরি করে ফিরেছো কেন? ফোন দিয়েছিলাম রিসিব করোনি কেন? ম্যাসেজের জবাব দাওনি কেন? আমাকে সময় দাও না। ইত্যাদি ধরণের অভিযোগ পছন্দ করে না। বিয়ের পর থেকেই এই একটা ব্যাপারে ওদের ঝগড়াঝাঁটি লেগেই আছে। এখন তো ঝগড়া গায়ে হাত তোলার পর্যায়েও চলে গিয়েছে। দুজন তো চাইলেই পারে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সরে এই সমস্যাটার সমাধান করতে। কিন্তু তারচেয়ে ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি ওদের কাছে সহজ। অথচ দেখো মানুষ হিসেবে কিন্তু ইলমা, নাজমুল ভাই দুজনই ভালো। একজন অভিযোগ করা ছাড়তে পারছে না, অন্যজন অভিযোগ শোনা মাত্র মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। শুধুমাত্র এই একটা কারণে নিত্য দ্বন্দ্ব লেগেই আছে দুজনের মধ্যে। মানুষ কেন এমন অবুঝের মতো আচরণ করে সত্যিই আমার বুঝে আসে না। যাকে ভালোবাসার দাবী করে তাকে আঘাত কিভাবে করে? যার সাথে জীবনের সুখ-দুঃখ বাঁধা তার অপছন্দীয় একটা কাজ বর্জন করতে এত কিসের আপত্তি? কতবার বলেছি ইলমাকে যেহেতু পছন্দ করে না প্রশ্ন করো না। কখনো যদি প্রশ্ন নাও করে তখন গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। এতে আরো বেশি রেগে যায় ওর হাজবেন্ড।

আয়ান হেসে বলল, সারাদিন পর বাইরে থেকে ফিরে বৌয়ের ভোঁতা মুখ দেখলে রাগ করাটা স্বাভাবিক। অবশ্য ঘরে ফিরে যাতে বৌয়ের হাসিমুখের দেখা মেলে সেজন্যও ভূমিকা থাকা জরুরি। যাইহোক, এখন মানুষের কথা থাক।

মোটেই না। এই ব্যাপারেও আমি কথা বলতে চাচ্ছিলাম। আমাদের দুই ব্লিডিং পরেই থাকে ইলমারা। তারমানে ওরাও আমাদের প্রতিবেশি। শুধু আমি একা একা প্রতিবেশির হক আদায় করবো তাতো হবে না। তোমাকেও আদায় করতে হবে প্রতিবেশির হক।

ছিঃ মাহাম এসব তুমি কি বলছো? তুমি আর আমি বুঝি আলাদা? আমি করি আর তুমি করো একই কথা।

মাহাম হেসে ফেলে বলল, জ্বিনা মোটেই এক কথা না। আগামীকাল ছুটি। আমি ইলমা আর নাজমুল ভাইকে দাওয়াত দিয়েছি। ইলমাকে বুঝিয়ে বলে আমি আমার হক আদায় করবো। নাজমুল ভাইয়ের সাথে কথা বলে প্রতিবেশির হক আদায়ের দায়িত্ব তোমার।

আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে তুমি কোথায় যাচ্ছো?

দুপুরে যা রান্না করেছিলাম আমার প্রতিবেশিনী ভগ্নী তার দুই বান্ধবী নিয়ে এসে খেয়ে দেয়ে হাঁড়িপাতিল ধুয়ে রেখে গিয়েছে। রাতের রান্না করতে হবে এখন।

তারচেয়ে চলো এক কাজ করি। তোমার প্রতিবেশিনী ভগ্নীকেও সুযোগ দেই প্রতিবেশির হক আদায়ের। ওদের দরজা নক করে বলবো, আমাদের ঘরে রান্না করা কোন খাবার নেই। অভুক্ত প্রতিবেশিদের রেখে আপনারা মজাদার খাবার খেয়ে গোনাহগার হবেন সেটা আমরা চাই না। তাই আপনাদের বাসায় দাওয়াত খাওয়ার মাধ্যমে আপনাদেরকে নেকী অর্জনের সুযোগ করে দিতে চলে এসেছি আমরা দুজন।

হেসে ফেললো মাহাম। হাসিতে যোগ দিলো আয়ানও। হাসতে হাসতে দুজন রওনা দিলো শাবাব আর আরিফীর বাসায়।

পর্ব-৪

 

কিশোর-কিশোরীদের জন্য ‘কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা’ কর্নার


নারী সংবাদ


ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রায়পুরা গ্রামের দশ বছর বয়সী রুবায়েত হোসেন প্রায়ই অসুস্থ থাকে। মূলত কিছুদিন পরপরই সে ডায়রিয়া আর জ্বরেও ভোগে। যার ফলে প্রতি মাসেই স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে হয় তাকে।
একই এলাকার নবম শ্রেণীর ছাত্রী সালমা বেগম। মেয়েটি সব সময় ক্লাসের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কখনোই স্কুলে সে অনুপস্থিত থাকতো না। কিন্তু গত কয়েক দিন যাবত সে স্কুলে আসছে না। কারণ প্রথমবারের মত পিরিয়ড হয়েছে তার। খবর পেয়ে স্থানীয় এক নারী এনজিও কর্মী দেখা করতে যায় তার সাথে। ওই এনজিও কর্মী সালমাকে নিয়ে আসেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে। সেখান হতে সালমাকে দেওয়া হয় পিরিয়ডকালীন পরিচর্যার পরামর্শ এবং কিছু আয়রন ট্যাবলেট।
বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অন্যান্য সব খাতের মতই স্বাস্থ্য সেবাও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। আর সরকারের এ সকল উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)।
স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ভোলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা।
ফলে এ অঞ্চলের সকল স্তরের কিশোর-কিশোরীরা এসব কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এসে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা, বাল্য বিয়ের কুফল, পুষ্টি, আয়রন ট্যাবলেট খাবার নিয়ম, পিরিয়ডকালীন পরিচর্যা, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয় সেবা পেয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে ভোলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার একেবারে গ্রাম পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীরা। আর এ কেন্দ্র পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
সালমা বলে, পিরিয়ড হওয়ার পর আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম আমার খুব বড় কোন অসুখ হয়েছে। ভয়ে মাকেও কিছু বলতে পারিনি। নোংরা কাপড় ব্যবহার করতাম। এরফলে আমি আরো অসুস্থ হয়ে যাই। পরে এই সেবা কেন্দ্রর কিশোরী কর্নারে গিয়ে পিরিয়ডকালীন সময়ের পরিচর্যা এবং করণীয় সম্পর্কে জেনে অনেকটা হাল্কা হলাম।
সালমার বান্ধবী ফিরোজা আক্তারও জানায়, তার অভিব্যক্তি। ফিরোজা বলে, প্রথমবার যখন পিরিয়ড হয় তখন আমি ভেবেছিলাম আমার অনেক বড় কোন অসুখ হয়েছে। আমি হয়ত আর বেশি দিন বাঁচব না। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে বাড়ীর পাশের এক বড় আপাকে সব জানালে তিনি আমাকে এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের কিশোরী কর্ণারে নিয়ে আসেন। এখন আমি নিয়মিতই এখানে আসি। আবার কেউ সমস্যায় পড়লে তাকেও এখানে নিয়ে আসি পরামর্শের জন্য।
অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রফিক উদ্দিন বলে, আমি প্রায় সময় ডায়রিয়াতে ভুগতাম। মাসে একবার দু’বার আমার ডায়রিয়া হত। পরে এক বন্ধু আমাকে এই সেবা কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এখান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য পরামর্শ পাওয়ার পর থেকে আমি অনেকটা সুস্থ। এখন আমি খাওয়ার আগে এবং পরে ভালো করে হাত ধুঁেয় নিই। এছাড়াও অন্যান্য কাজ করার পরেও আমি হাত ধুঁেয় নিই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা রাহেলা বেগম জানান, আগে সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে কিশোরীদের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে গেছে কয়েক গুন। মূলত এই কেন্দ্রে কিশোরী কর্নার হওয়ায় তাদের সেবা নেয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
এখানে কিশোর-কিশোরীদের আমরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়ে যেমন স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বয়:সন্ধিকালে করনীয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়াও কিশোরীদের স্যানিটারি প্যাডের ব্যাবহার, বয়ঃসন্ধি সময়ের খাবার-দাবার, বয়ঃসন্ধিকালসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এই সেবা কেন্দ্রের সাথে জড়িত স্থানীয় এক ক্লিনিকের ডা. সাইদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিশোরী কর্নার হওয়ায় কিশোরীরা এখানে নিয়মিত সেবা নিচ্ছে। ফলে এলাকায় অসুস্থ কিশোর-কিশোরীর হার কমে যাচ্ছে।

সুত্রঃ বাসস